ফন্ট সাইজ:
থিম:
পথচলা

২য় পর্ব

লেখক: ফারিয়া ইসলাম ইসপা

#পথচলা

#ফারিয়া_ইসলাম_ইসপা
#পর্বসংখ্যা_০২
মুসফীকা বেগম বেরোতেই তাফসী কি বলবে বুঝতে পারছিল না তার জীবনে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে ঠিক নাট্যশালার মতো। দরজায় খট করে শব্দ হলো তাফসী তড়িৎ পেছন ঘুরে গেল কারণ সে বুঝতে পারে যে এসেছে।সামির বুঝতে পারছে তাফসীর মনের অবস্থা সে গিয়ে তাফসীর পেছনে দাঁড়ালো।তার ভাইয়ের প্রতি কিছুটা ঘৃণা লাগলো অতপর নিজেকে সামলে বলল—
" আমি বুঝতে পারছি আপনার মনের অবস্থা তাফসী আর তার পেছনে আমার ভাইয়ের  অপরাধ থাকায় আমি তার হয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি।আপনি হয়তো ইতোমধ্যেই শুনতে পেয়েছেন যে বাহিরে বড়রা মিলে আপনার আমার বিয়ের কথা বলাবলি করছে।আমি এই বিয়ে টা তে সম্পূর্ণ মত দিয়েছি কিন্তু শুধু কি আমার মতামত দিতে হবে।বিয়েটা যেহেতু দু জনের সম্মতিতে হয় তাই আমি আমার একপাক্ষিক মতামত আপনার উপর চাপিয়ে দিবো না।আপনার কাছে আমার একটাই প্রশ্ন আপনি কি এই বিয়ে টা তে রাজি তাফসী?"
একদম কথাগুলো বলে থামলো সামির। তাফসীর কাছে সামিরের বলা কথাগুলো খুব ভালো লেগেছে একটা মানুষ এত সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বললে  কারই বা ভালো না লেগে পারে। তাফসী আর কি বলবে এত সুন্দর মনের/দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ কে কি না করা যায়।তাফসীর সামিরের কথা শুনে  মনে হলো ভুলটা উনার ভাই না উনি করেছেন।তাই সে পেছন থেকে মাথা নাড়ালো।সামির মাথা ঘুরিয়ে হালকা হাসলো বোধহয়।তারপর আবারও বলল—
"আমি মুখে শুনতে চাই।মুখে বলুন আপনি কি রাজি?"
তাফসী বুঝতে পারল লোকটা তার সাথে ইচ্ছা করেই এমন করছে কিছু লজ্জা লাগলো বটে তবুও সে মিনমিন করে কাপাকাপা কন্ঠে বলল—
"র- রাজি।"
সামির মুচকি হেঁসে তাফসীর কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল—
"সামির সিকদার এর অর্ধাঙ্গিনী হওয়ার জন্য আপনি প্রস্তুত তো তাফসী।"
তাফসীর নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড় সাথে ঘাম দিচ্ছে।এত কাছে এসে কে কথা বলে এই পুরো জীবনে কোনো পুরুষ তার এতো কাছে এসে কথা বলেনি।
"হ্ হুমম।"
সামির ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো আর সাথে তাফসীর মনোভাব বুঝতে পেরে সে যেতে যেতে বলল—
"তাহলে পরবর্তীতে হালালভবে দেখা হচ্ছে মিসেস সিকদার।"
বলেই চলে। গেলো।এইদিকে তাফসীর মনের ভেতর কেমন ধুকধুক করছে আর সামিরের এই সম্বোধনে তাফসীর পেটে প্রজাপতি উড়তে লাগল। তাফসী আবার ভাবলো লোকটা এমন করলো কেনো আমার তো লজ্জা করে নাকি নিজের ভাবনাকে নিজেই আবার বকতে লাগলো সে কেনো লজ্জা পাবে আজব।
কিছুক্ষণ পরে তাফসী আর সামির কে সামনা-সামনি বসানো হলো আর তাদের মাঝে ছিল একটা ফুলের বেড়া যেটা আগে থেকেই করা ছিল।এইবার কাজী সাহেব বললেন—
" মোহাম্মদপুরবাসী তাসফিক আহম্মেদ এর একমাত্র কন্যা তেজস্প্রিয়া তাফসী কে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েও রাজি থাকলে কবুল বলো বাবা।"
সামির বলল—
"কবুল"
কাজী সাহেব বললেন—
" আবার বলো।"
সামির এইবার বলল—
"কবুল,কবুল,কবুল।"
কাজী সাহেব এইবার তাফসী কে বলল—
"মা তুমি আরিফুল সিকদারের ছোট পুত্র সামির সিকদার কে নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিলে কবুল বলো।"
তাফসী কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো আর জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলো। মুসফিকা বেগম এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলো আর সাথে সাথে তাফসী কেদে দিলো। মুসফিকা বেগম মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল—
"কান্না করিস না মা কবুল বলে দে দেখ সবাই অপেক্ষা করছে তোর জবাবের জন্য।"
তাফসী চোখ মুছে কিছুক্ষণ সময় নিয়ে কাপা কাপা গলায় বলল—
"কবুল কবুল কবুল।"
এইবার সবাই একসাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠল আর বেয়ায়রা একে অপরকে কোলাকুলি করলো তারপর সামির আর তাফসীর রেজিস্ট্রি টা সেরে ফেলল।এইবার তাদের মাঝখানের ফুলের বেড়াটা সরানো হলো।সামির এগিয়ে গিয়ে সদ্য নববধূর ঘোমটা টা সরিয়ে দিলো তারপর দেখলো নিজের অর্ধাঙ্গিনী কে যার পরণে লাল খয়েরি মিশেলের শাড়ি আর সাজগোজ একদমই হালকা যেটা সামিরের ভালো লেগেছে।কিছুক্ষণ অনিমেষ তাকিয়ে রইলো অতপর সামির বলে উঠল—
"মাশাআল্লাহ।"
সামিরের কণ্ঠ শুনে তাফসী মুখ তুলে তাকাল আর দেখলো সাদা পাঞ্জাবি পরা নিজের স্বামী কে।লোকটা একটু উজ্জ্বল রঙের আর নাকটা সরু চুলগুলো মাঝারি সাইজের গোছানো।লোকটার গালে হালকা হালকা চাপ দাড়ি আর পর্যবেক্ষণ করা গেলো না তড়িৎ মুখটা নামিয়ে ফেলল।
খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ করে আনন্দমুখর পরিবেশে নেমে এলো বিদায়ের সেই করুন সুর। তাফসী তার মা কে ধরে কান্না করতে লাগলো আর ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল—
"আমি যাব না মা।"
মেয়ের কথা শুনে হাসবে না কাদবে তিনি তাফসীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল —
"এইরকম কথা বলতে নেই মা।বিয়ের পর সব মেয়েকেই শশুর বাড়িতে যেতে হয় তোর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন হয়নি তাই কান্না বন্ধ কর।"
তাফসীর বাবা তাসফিক আহম্মেদ এসে তাসফির হাত টা সামিরের হাতে দিয়ে বললেন—
"আমার মেয়েটা অনেক অবুঝ আর ছোট তাই একটু খেয়াল রেখো বাবা কষ্ট পেতে দিও না আমার মেয়ে একটু আহ্লাদী তাই আর কখনও যদি ওর সাথে সংসার করতে মন না চাই তবে তাকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিও তবুও কষ্ট দিও না।"
সামির তাফসির হাতটা শক্ত করে ধরে বলল—
" আমি কথা দিচ্ছি বাবা ও কে ভালো রাখার যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করব।"
ছেলের কথায় আরিফুল সিকদার খুশি হলে আর তিনি জানতেন সামির তার দায়িত্ব থেকে কখনও পেছবে না সেই ভরসা আছে তার উপর।অতপর একেএকে সবাই গাড়িতে উঠে পড়ল।সামির আর তাফসীও গাড়িতে উঠে পড়ল অতপর গাড়িটি ছুটে গেলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
চলবে___
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠিকারা। গল্পে কিছুটা অমিল থাকতে পারে আমি বলছি আসলে আমি গল্পের মেইন ক্যারেক্টার এহসান নেওয়াজ এর নাম টা পরিবর্তন করে সামির সিকদার করেছি তাই একটু সমস্যা হতে পারে কারণ আমার প্রথমের নাম টা থেকে দ্বিতীয় বা বর্তমানে যে নামটা দিয়েছি ওইটা বেশি ভালো লাগছে।আপনারা কি বলেন কোনটা ভালো মতামত দিন।অবশ্যই আমার ফেসবুক পেইজ ফলো করে পাশে থাকুন।ধন্যবাদ।
ফেসবুক পেইজ :] Fariya's Storyline— ফারিয়া Islam Ishpa 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন