#The Black Player
#Miju.Sheikh
#পর্ব_সংখ্যা_৩
আলো নিভে যাওয়ার পর ঘরটা যেন হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মেহরিন কয়েক সেকেন্ড নিঃশ্বাস নিতেও ভুলে গেল। আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকা চোখ দুটো ধীরে ধীরে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করল। কিন্তু এবার আয়নায় সেই নারীটাকে দেখা যাচ্ছে না। শুধু তার নিজের অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব।
মেহরিন কাঁপা হাতে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালাল। আলোটা সরাসরি আয়নার ওপর পড়তেই সে এক ঝটকায় পেছনে সরে গেল।
কেউ নেই।
"এটা সম্ভব না..."
তার গলা কেঁপে উঠল।
ঠিক তখনই দরজায় আবার শব্দ হলো।
ঠক... ঠক...
"মেহরিন?"
আরিশের কণ্ঠ।
মেহরিন কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
"আপনি এখানে কীভাবে এলেন?"
"দরজা খোলো।"
"না।"
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
"কেন?"
মেহরিন ডায়েরিটা বুকের সঙ্গে চেপে ধরল।
"কারণ আপনি বলেছিলেন, এই ডায়েরি আপনার নয়।"
"ঠিক বলেছি।"
"আর বলেছিলেন, যে লিখেছে সে বেঁচে আছে।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে কে সে?"
আরিশ উত্তর দিল না।
মেহরিনের সন্দেহ আরও বেড়ে গেল।
"আপনি কি তাকে চেনেন?"
"চিনি।"
"কে?"
"দরজা খোলো, তারপর বলব।"
মেহরিন কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে লক খুলল।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আরিশ ভেতরে ঢুকে পড়ল। তার চোখ প্রথমেই মেহরিনের মুখে গেল, তারপর ঘরের চারপাশে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার দৃষ্টি থেমে গেল আয়নার ওপর।
তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।
"তুমি আয়নায় কী দেখেছিলে?"
মেহরিন চমকে উঠল।
"আপনি কীভাবে জানলেন?"
আরিশ আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
"কারণ তুমি ভয় পেলে সবসময় তোমার ডান হাতের আঙুল মুঠো করে রাখো।"
মেহরিন নিজের হাতের দিকে তাকাল। সত্যিই তার আঙুলগুলো শক্ত হয়ে মুঠো করা।
"আপনি আমাকে এতটা লক্ষ্য করেন কেন?"
আরিশ আয়না থেকে চোখ না সরিয়ে বলল,
"কারণ তোমাকে না লক্ষ্য করে থাকার চেষ্টা করেও পারিনি।"
মেহরিনের বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল।
সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের মনকে শক্ত করল।
"আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।"
আরিশ এবার তার দিকে তাকাল।
"কী দেখেছিলে?"
"একজন নারীকে।"
"কেমন দেখতে?"
"সাদা পোশাক। লম্বা চুল।"
আরিশের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
"আর কিছু?"
"সে বলেছে আপনাকে বিশ্বাস না করতে।"
ঘরের বাতাস যেন এক মুহূর্তে ভারী হয়ে গেল।
আরিশ ধীরে ধীরে মেহরিনের দিকে এগিয়ে এল।
"সে তোমাকে আর কিছু বলেছে?"
"না।"
"ভালো।"
"ভালো?"
মেহরিন অবাক হয়ে তাকাল।
"আপনি ভয় পাচ্ছেন?"
আরিশ থেমে গেল।
"আমি খুব কম জিনিসকে ভয় পাই।"
"তাহলে?"
"কিন্তু তোমাকে হারানোর ব্যাপারটা আমার কাছে ভয়ের।"
মেহরিন কিছু বলতে পারল না।
আরিশ তার কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। দুজনের মধ্যে দূরত্ব খুব কম। মেহরিন তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বুঝতে পারল, এই মানুষটার চোখে এমন কিছু আছে যা তাকে একই সঙ্গে টানে এবং সতর্ক করে।
"ডায়েরিটা আমাকে দাও।"
মেহরিন সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গেল।
"কেন?"
"কারণ এটা তোমার জন্য নিরাপদ নয়।"
"আমার জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?"
আরিশ শান্ত গলায় বলল,
"কেউ দেয়নি।"
"তাহলে?"
"আমি নিজেই নিয়েছি।"
"আপনি সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো করেন?"
"যখন বিষয়টা তোমাকে নিয়ে হয়, হ্যাঁ।"
মেহরিনের চোখে রাগ ফুটে উঠল।
"আপনি ভীষণ অহংকারী।"
আরিশের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটল।
"এটা নতুন কিছু বললে না।"
"আর বিপজ্জনকও।"
"সেটাও জানি।"
"আপনাকে বিশ্বাস করা যায় না।"
এই কথায় আরিশের হাসি মিলিয়ে গেল।
সে কিছুক্ষণ মেহরিনের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে বলল,
"তবুও একদিন তুমি আমাকে বিশ্বাস করবে।"
"কখনো না।"
"দেখা যাবে।"
আরিশ ঘুরে দরজার দিকে যেতে লাগল।
মেহরিন হঠাৎ বলল,
"এক মিনিট।"
আরিশ থামল।
"আপনি বলেছিলেন আমার মা মারা যাওয়ার রাতে আপনি তাকে দেখেছিলেন।"
"হ্যাঁ।"
"আমার বাবা কোথায় ছিলেন?"
আরিশের মুখ আবার কঠিন হয়ে গেল।
"তোমার বাবা সেদিন এই বাড়িতে ছিলেন না।"
"তাহলে কোথায় ছিলেন?"
"জানি না।"
"আপনি মিথ্যা বলছেন।"
"আমি মিথ্যা বলছি না।"
"তাহলে আমার মায়ের মৃত্যুর সত্যিটা কী?"
আরিশ ধীরে ধীরে তার দিকে ফিরে তাকাল।
"তোমার মা মারা যাননি।"
মেহরিনের মুখের রং মুহূর্তেই বদলে গেল।
"কি?"
"আমি বলেছি, তোমার মা মারা যাননি।"
"কিন্তু আমি নিজে তার কবর দেখেছি।"
"কবর দেখেছ।"
আরিশের গলায় অদ্ভুত একটা ভারী সুর।
"কিন্তু কবরের ভেতরে কে ছিল, সেটা কি তুমি জানো?"
মেহরিনের ঠোঁট শুকিয়ে গেল।
"আপনি বলতে চাইছেন..."
"আমি কিছু বলতে চাইছি না।"
আরিশ দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
"আমি শুধু চাই তুমি প্রশ্ন করার আগে প্রমাণ খুঁজে দেখো।"
"আপনি কোথায় যাচ্ছেন?"
"নিচে।"
"আর আমি?"
"তুমি ঘরে থাকবে।"
"আপনি আমাকে আদেশ করছেন?"
আরিশ পেছনে ফিরে তাকাল।
"হ্যাঁ।"
"আমি আপনার কথা শুনব না।"
"শুনবে।"
"কেন?"
আরিশের চোখ এবার ভয়ংকরভাবে স্থির হয়ে গেল।
"কারণ এই বাড়ির যে মানুষটা তোমাকে এখানে ডেকেছে, সে এখন তোমার ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।"
মেহরিনের বুক কেঁপে উঠল।
সে দ্রুত দরজার বাইরে তাকাল।
কেউ নেই।
"আপনি কোথায় দেখলেন?"
আরিশ উত্তর দিল না।
"আরিশ!"
কোনো সাড়া নেই।
মেহরিন ঘুরে তাকাতেই দেখল—আরিশ চলে গেছে।
সে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
তারপর বিছানায় বসে ডায়েরিটা আবার খুলল।
প্রথম কয়েকটা পৃষ্ঠা ফাঁকা।
তারপর একটা পাতায় লেখা—
"মেহরিন, যদি তুমি এই লেখা পড়ো, তাহলে ধরে নাও আমি আর তোমার কাছে ফিরতে পারিনি। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো—আরিশ তোমার শত্রু নয়।"
মেহরিন থমকে গেল।
কয়েক পৃষ্ঠা আগেই লেখা ছিল আরিশকে বিশ্বাস না করতে।
এবার লেখা—আরিশ তার শত্রু নয়।
একই ডায়েরিতে এত বিপরীত কথা কেন?
সে পরের পৃষ্ঠা উল্টাল।
"যে তোমাকে আমার থেকে দূরে রাখতে চায়, সে-ই আসল Black Player."
মেহরিনের আঙুল থেমে গেল।
তারপর নিচে একটা নাম লেখা।
"S."
শুধু একটা অক্ষর।
মেহরিন ভাবতে লাগল—S কে?
শাহরিয়ার?
সায়রা?
সামির?
নাকি অন্য কেউ?
ঠিক তখনই তার মোবাইলে একটা মেসেজ এল।
অজানা নম্বর।
"ডায়েরিটা পড়ো না।"
মেহরিন কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল।
তারপর আরেকটা মেসেজ।
"কারণ শেষ পাতায় তোমার নিজের মৃত্যুর তারিখ লেখা আছে।"
মেহরিনের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
সে সঙ্গে সঙ্গে ডায়েরির শেষ পাতাগুলো উল্টাতে শুরু করল।
একটা।
দুটো।
তিনটে।
শেষ পৃষ্ঠায় এসে তার হাত থেমে গেল।
পাতাটা ছেঁড়া।
শুধু নিচের অংশটা আছে।
কালো কালিতে লেখা—
"মেহরিন—৩১ অক্টোবর..."
এরপরের অংশ ছিঁড়ে ফেলা।
মেহরিনের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
আজ ২৮ অক্টোবর।
আর মাত্র তিন দিন পর ৩১ অক্টোবর।
সে ডায়েরিটা বন্ধ করে বিছানার ওপর ছুড়ে ফেলল।
ঠিক তখনই বাইরে করিডোরে কারও পায়ের শব্দ হলো।
ঠক...
ঠক...
ঠক...
মেহরিন দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
শব্দটা তার দরজার সামনে এসে থেমে গেল।
তারপর দরজার নিচ দিয়ে একটা কাগজ ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে এল।
মেহরিন কয়েক মুহূর্ত নড়ল না।
তারপর ধীরে ধীরে কাগজটা তুলে নিল।
তাতে লেখা—
"তুমি ভুল মানুষকে ভয় পাচ্ছ।"
মেহরিনের চোখ আটকে গেল নিচের লাইনে।
"আরিশ তোমাকে বাঁচাতে চাইছে। আমি তোমাকে মেরে ফেলতে চাই না। আমি শুধু চাই তুমি তোমার মায়ের সত্যিটা জানো।"
মেহরিন কাগজটা উল্টে দেখল।
পেছনে আরেকটা লাইন—
"আজ রাত বারোটায় লাইব্রেরিতে এসো। একা।"
তার নিচে—
"কাউকে বললে তোমার মায়ের শেষ ছবিটা আর কখনো দেখতে পাবে না।"
মেহরিনের চোখ বড় হয়ে গেল।
তার মায়ের শেষ ছবি?
ছবিটা কোথায়?
সে নিজের ব্যাগ খুলে আগের সেই পুরোনো ছবিটা বের করল, যেটা চিঠির সঙ্গে এসেছিল।
ছবিটা হাতে নিয়ে হঠাৎ তার বুক কেঁপে উঠল।
ছবিতে তার মা দাঁড়িয়ে আছেন শাহরিয়ার ম্যানশনের সামনে।
তার পাশে একজন পুরুষ।
মুখটা ছবিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া।
কিন্তু পুরুষটির হাতে একটা কালো দাবার ঘুঁটি।
কালো রাজা।
মেহরিন ছবিটা আরও কাছে এনে দেখল।
তারপর হঠাৎ ছবির একেবারে নিচে ছোট্ট একটা লেখা চোখে পড়ল।
"যে মানুষটাকে তুমি খুঁজছ, সে তোমার সবচেয়ে কাছেই আছে।"
মেহরিনের মাথায় একটাই মুখ ভেসে উঠল।
আরিশ।
সে কি সত্যিই তাকে বাঁচাতে চাইছে?
নাকি—
পুরো খেলাটার শুরু থেকেই আরিশ তাকে নিজের কাছে টেনে আনছে?
রাত বাড়তে লাগল।
ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে গেল ১১টা ৪৫ মিনিটে।
মেহরিন শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিল।
সে লাইব্রেরিতে যাবে।
কিন্তু একা নয়।
সে চুপচাপ দরজা খুলে করিডোরে বেরিয়ে এল।
বাড়িটা অস্বাভাবিক নীরব।
নিচতলায় যাওয়ার সময় হঠাৎ তার চোখ পড়ল সিঁড়ির নিচে রাখা একটা কালো জ্যাকেটের ওপর।
জ্যাকেটটা আরিশের।
মেহরিন থেমে গেল।
জ্যাকেটের পকেট থেকে একটা ধাতব জিনিস বেরিয়ে আছে।
সে টেনে বের করল।
একটা চাবি।
চাবির সঙ্গে ছোট্ট একটা ধাতব প্লেট।
তাতে খোদাই করা—
ROOM 13
মেহরিনের ভ্রু কুঁচকে গেল।
এই বাড়িতে তো সে কোনো তেরো নম্বর ঘর দেখেনি।
ঠিক তখনই পেছন থেকে কণ্ঠ ভেসে এল।
"ওটা তোমার হাতে থাকার কথা নয়।"
মেহরিন চমকে ঘুরে দাঁড়াল।
আরিশ।
অন্ধকার সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখ সরাসরি মেহরিনের হাতে থাকা চাবির দিকে।
"আপনি এখানে?"
"তোমাকে প্রশ্ন করার অধিকার আমার আছে।"
"আর আমার?"
"তোমার হাতে কী?"
মেহরিন চাবিটা মুঠোয় লুকিয়ে ফেলল।
"কিছু না।"
আরিশ ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
"মেহরিন।"
তার কণ্ঠ এবার আগের চেয়ে নিচু।
"মিথ্যে বলো না।"
"আপনিও তো আমাকে সব সত্য বলেননি।"
আরিশ থেমে গেল।
দুজনের চোখে চোখ পড়ল।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য চারপাশের সবকিছু যেন হারিয়ে গেল।
তারপর আরিশ খুব ধীরে মেহরিনের হাতের মুঠো খুলে চাবিটা বের করে নিল।
"এটা কোথায় পেলে?"
"আপনার জ্যাকেট থেকে।"
আরিশের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।
"তুমি আমার জিনিসপত্র ঘাঁটছিলে?"
"না। নিজে থেকেই পেয়েছি।"
আরিশ চাবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।
"তুমি এটা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলে?"
মেহরিন উত্তর দিল না।
আরিশ তার মুখের দিকে তাকিয়ে সব বুঝে গেল।
"লাইব্রেরি?"
মেহরিনের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
"আপনি কীভাবে জানলেন?"
আরিশ কোনো উত্তর দিল না।
তারপর মেহরিনের খুব কাছে এসে নিচু গলায় বলল,
"কারণ আমিও একই চিঠি পেয়েছি।"
মেহরিন স্তব্ধ।
"কী?"
আরিশ নিজের পকেট থেকে একটা কাগজ বের করল।
মেহরিন কাগজটা খুলে দেখল।
একই লেখা।
"আজ রাত বারোটায় লাইব্রেরিতে এসো। একা।"
মেহরিন ধীরে ধীরে আরিশের দিকে তাকাল।
"তাহলে আমাদের দুজনকেই ডাকা হয়েছে?"
"হ্যাঁ।"
"কিন্তু কেন?"
আরিশের চোখে এবার এমন একটা দৃষ্টি ফুটে উঠল, যা মেহরিন আগে কখনো দেখেনি।
"কারণ Black Player এবার নিজের মুখ দেখাতে চায়।"
ঠিক তখনই পুরো বাড়ির সব ঘড়ি একসঙ্গে বারোটা বাজিয়ে উঠল।
ঢং...
ঢং...
ঢং...
তেরোবার।
মেহরিন আরিশের দিকে তাকিয়ে রইল।
আরিশের মুখে কোনো বিস্ময় নেই।
যেন সে আগে থেকেই জানত।
"তেরোবার কেন?"
আরিশ ধীরে ধীরে লাইব্রেরির দিকে তাকাল।
"কারণ এই বাড়িতে বারোটা কখনো শেষ ঘণ্টা নয়।"
তারপর সে মেহরিনের হাত ধরে ফেলল।
"চলো।"
"কোথায়?"
আরিশের চোখ অন্ধকার হয়ে গেল।
"Room 13-এ।"
চলবে......