ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুই শুধু আমারই

১ম পর্ব

লেখক: জান্নাত ইসলাম ইনায়া
ইনায়ার ছোট্ট হৃদয়ে আজকে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে,দ্রুত একটি দরখাস্ত লিখে অফিস রুমের দিকে পা বাড়ায় ইনায়া। 
হেড স্যারের থেকে অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। 
ইনায়ার হাতে দরখাস্ত দেখে হেড স্যার জিজ্ঞেস করেন,
"কিসের জন্য দরখাস্ত? 
ইনায়া বলে, বড় আপুর বিয়ের জন্য ছুটির আবেদন।  
স্যার ইনায়ার হাত থেকে দরখাস্তটা নেয়,,
সেখানে দেখা যায়, ৩/৮/২০২৩ থেকে ৮/৮/২০২৩ পর্যন্ত ছুটির আবেদন। 
স্যার ইনায়াকে জিজ্ঞেস করেন,
"এতদিন কেন ছুটি নিতে হবে ? 
ইনায়া বলে, তিনদিন প্রোগ্রাম আছে,আবার কেনাকাটা করতে হবে,সব মিলিয়েই এ কদিন ছুটির প্রয়োজন। 
স্যার আর কিছু বলেন না,দরখাস্তে সাইন করে দেন।  
ইনায়া স্যারকে সালাম জানিয়ে অফিস রুম থেকে বেড় হয়ে দ্রুত ক্লাস রুমের দিকে পা বাড়ায়। 
মারিয়াকে জরিয়ে ধরে ইনায়া বলে,স্যার আমাকে ছুটি দিয়ে দিছে,,তুই এই ক্লাস পর যাবি দরখাস্ত নিয়ে। 
মারিয়া বলে,
"যদি স্যার আমায় ছুটি না দেয় তাহলে ? 
-ছুটি দিবে না কেন ? আজব! 
আপুর বিয়ে আমারা কি ছুটি নিতে পারবো না। 
ইনায়ার কথায় মারিয়া একটু সাহস পায় । 
পরবর্তী ক্লাসে মারিয়া যায় দরখাস্ত নিয়ে । 
স্যার মারিয়াকে বলেন ,
"একটু আগে একটা মেয়ে আসছিল তার দরখাস্ত আর তোমার দরখাস্ত তো একই,আর তোমারা একই ক্লাসে পড়। 
মারিয়ার আমতা আমতা করে বলে,
স্যার ও আর আমি বোন, আর আপনাদের আপুরই বিয়ে । 
এবার ও স্যার কিছু না বলেই দরখাস্তে সাইন করে দেন। 
মারিয়া অফিস রুম থেকে বেড় হওয়ার আগে স্যার মারিয়াকে বলেন,তোমাদের আগে কখনো ছুটি চাইতে দেখি নি,সেই জন্য জন্য ছুটি দিলাম,কিন্ত সামনে মেট্রিক পরীক্ষা,অযথা কখনোই ছুটি নিবে না । 
-জ্বী স্যার  
স্কুল ছুটি হওয়ার পর,মারিয়া আর ইনায়া গল্প করতে করতে যায় ,ওরা ওদের বোনের বিয়ের মধ্যে কি করবে না করবে।
মারিয়া আর ইনায়া চাচাতো বোন,
ইনায়ার বাপ চাচা দুজন, আপন কোন ফুফু নেই। 
ওরা হচ্ছে জয়েন্ট ফ্যামিলি,এখন অবশ্য তত জয়েন্ট ফ্যামিলি দেখা যায় না । 
কিন্ত ওরা জয়েন্ট ফ্যামিলিতে শান্তিপূর্ণ ভাবে মিলেমিশে আছে ।
বাসায় গিয়ে ইনায়া,মারিয়া ফ্রেস হয়ে রেডি হয়, ঢাকা নিউ মার্কেটের উদ্দেশ্যে। 
   আজকে তারা মার্কেট করতে যাবে,সাথে যাবে এই বাড়ির বড় ছেলে তুহিন। 
যার বিয়ে তার নাম ফারজানা , ইনায়ার আপন বড় বোন। ফারজানাও চাইছে ওদের সাথে মার্কেটে যেতে। 
প্রথমে বড়'রা বারণ করেছিল যেতে,কিন্ত ফারজানা তার হবু husband থেকে অনুমতি নিয়ে নিয়েছে। 
ফারজানা সবাইকে বলছে আমি আমার বোনদের পছন্দ করে কেনাকাটা করে দিব,আমাকে যেতে দাও। 
ওরা চারজন মার্কেটে পৌঁছায় প্রায় সন্ধ্যা সাতটায়।
তুহিন নিজের জন্য কেনাকাটা করে, এবং ইনায়া আর মারিয়া পছন্দ মত কেনাকাটা করে।
মারিয়া আর ইনায়া সেম ড্রেস নেয়,বিয়ের জন্য ওরা দুটো গাউন নেয়।
   গাউন দুটো পিংক কালারের মধ্যে ছিল,দেখতেও অনেক সুন্দর ছিল এটা ফারজানার পছন্দ। রিসিপশনের জন্য মারিয়া চাইছিলো থ্রিপিছ নিতে ,
         কিন্ত ফারজানা বার বার বলছি আরো দুটো গাউন নিতে,
ইনায়া তাই চাইছিল, কারণ ইনায়াকে দেখতে একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগে।
ইনায়া বয়স ১৭ ,ওরা তালুকদার বংশ,,তালুকদার বংশের তিন মেয়েই অসম্ভব সুন্দর,সবথেকে আকর্ষণীয় হচ্ছে ইনায়া। 
  ওরা আরো দুটো এস কালারের মধ্যে গাউন নেয়। আর এই দুটো গাউন পছন্দ করে দিয়েছিল তুহিন। 
  তুহিন মারিয়ার বড় ভাই,,তুহিনকে সবাই ভয় পায়,সবাই বলতে ওরা তিন বোনই ভয় পায়। 
জামা কাপড় কেনা শেষে ওরা একটা জুতোর দোকানে যায়,,ইনায়া খুজতে ছিল হিল জুতো। 
ইনায়ার উচ্চতা ৫ ফুট,মারিয়ার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি,আর ফারজানাও ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি।  
ওরা সব জামার সাথে ম্যাচিং করে জুয়েলারি কিনে, মার্কেট করতে করতে প্রায় রাত ৯ টা বেজে যায় । 
    তারপর ওরা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয় । 
গাড়িতে থাকাকালীন ইনায়া মারিয়ার অনেক খিদে পায়,তুহিন একটা রেস্টুরেন্ট থেকে মিটবক্স আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিনে নিয়ে আসে ।
  বাসায় ফেরার সাথে সাথে রোকেয়া বেগম ইনায়াকে জরিয়ে ধরে বলে ,
  " কিরে এত সময় কেন লাগল ? 
রোকেয়া তালুকদার এই বাড়ির বড় বউ,শাহজাহান তালুকদারের স্ত্রী।
আর ইনায়ার মা হালিমা তালুকদার মোজাম্মেল তালুকদারের স্ত্রী,এই বাড়ির ছোট বউ । 
হালিমা বেগম বলেন,,ফ্রেস হয়ে এসে খেতে বস তারাতারি। 
ইনায়া বলে ,,
   " আম্মু আমি খাব না আমি গাড়িতে খেয়ে আসছি। 
রোকেয়া বেগম বলেন,না খেলে তো অসুস্থ হয়ে যাবি ,
-কাকি মা কিছু হবে না 
রোকেয়া বেগম ইনায়াকে আর ফারজানাকে অনেক ভালোবাসেন নিজের মেয়ের মতোই । 
ইনায়া সিরি বেয়ে উপরের তলায় উঠতে থাকে,পেছন থেকে তুহিন বলে,
   "তোর না কিছুদিন পর মেট্রিক পরীক্ষা,প্রাইভেট পড়বি কারো কাছে ?
   -না ভাইয়া স্কুলে প্রাইভেট পরি ওটাতেই হয়ে যাবে । 
তুহিন ও আর কিছু বলে না,ইনায়া চলে যায়। 
ইনায়া রুমে গিয়ে দেখে ফারজানা আরিফের সাথে কথা বলতাছে,আরিফ হচ্ছে ফারজানার হবু জামাই 
-আপু আস্তে কথা বলো না,ঘুম আসতেছে আমার ঘুমাবো আমি,আর আমি অনেক ক্লান্ত। 
ফারজানা বলে,
 " আর মাএ কিছুদিন তারপর তোকে আর জ্বালাবো না।
-না আপু এভাবে বলো না,আমি সেই ভাবে বলি নাই। 
ইনায়ার কথায় ফারজানা বলে,,
  "একটু কষ্ট কর । 
তারপর ইনায়া কোনোমত ঘুমিয়ে যায় । 
পরদিন সকালে সাতটা বাজে,ইনায়া ঘুম থেকে উঠে,ফ্রেস হয়ে,ব্যালকনিতে গিয়ে বসে থাকে,,
সকাল ৯ টা বাজে নিচে যায় ইনায়া খাবার খেতে। 
ফারজানা রোকেয়া বেগম আর হালিমা বেগমের পাসে বসে , তুহিনের পাসের টেবিলে ইনায়া বসে।
ইনায়া আর তুহিন খাবার শেষ করে দ্রুত চলে যায়, তুহিন মূলত কোথাও যাবে। ইনায়া আর তুহিন চলে যাওয়ার পর,
রোকেয়া বেগম বলেন,,
   ফারজানার বিয়েটা হয়ে যাক,তারপর ওদের ব্যবস্থা ও করব,বিয়ে এখন না দিলেও,কথা 
বলে রাখব । 
 ফারজানা অবাক করা কন্ঠে বলে,,
"বুঝলাম না কাকি কি বললা ? 
রোকেয়া বেগম বলেন, 
  "তোরা তো জানিস না,আমারা চাচ্ছি তুহিনের আর ইনায়ার বিয়েটা হোক,কিন্ত এখন না।
ফারজানা বলে, 
   "এত তারাতারি কথা বলার দরকার কি,ইনায়ার বয়স মাএ ১৭ এখন।  
ফারজানা এ খবর শোনে খুশি হতে পারেনি একটুও।
ফারজানা সারাদিন এই বিষয় নিয়ে ইনায়ার সাথে কোন কথা বলেনি। 
প্রায় বিকেল পাঁচটার সময় ফারজানা ইনায়াকে ডাক দেয়,,
-শোন তোকে একটা কথা বলতাম।
- কি বলবা আপু ? 
-সকালেই কাকিমার মুখ থেকে শুনলাম তোর সাথে নাকি তুহিন ভাইয়ের বিয়ের কথা চলছে। 
তুই কি আবার কাউকে পছন্দ করিস ? 
ফারজানা মুখ থেকে এই কথা শোনার সাথে সাথে ১৭ বর্ষীয় ইনায়ার বুকে ঝর ওঠে। 
জীবনেও না । 
 সে জীবনেও পারবে না তুহিন কে বিয়ে করতে। 
সেখানে আর এক মুহূর্ত না দ্বারিয়ে ইনায়া দৌড় লাগায়। 
ফারজানা বলে
"কিরে কই যাস ? 
ইনায়া দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে তুহিনের ঘরের সামনে গিয়ে দ্বারায়। 
সচরাচর ইনায়া তুহিনের সামনে যায় না,কথাও বলে না খুবই ভয় পায়,কিন্ত আজকে গিয়েই ডাক দেয় ,
তুহিন ভাইয়া।
    "তুহিন হয়তবা কোথাও যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। 
-ভাইয়া সবাই কি বলে এসব ? 
তোমার আর আমার নাকি বিয়ের কথা চলতেছে ? 
পুরো পৃথিবী উল্টে গেলেও এটা সম্ভব না । 
   তুহিন কিছুটা অবাক হয় ! 
কি? বিয়ে ? 
তাও আবার ইনায়ার সাথে ? 
-তুই কই থেকে এসব উল্টা পাল্টা কথা শুনছছ? 
তোর সাথে হয়তবা কেউ ফাইজলামি করছে।
-না ভাইয়া ফারজানা আপু বলছে,
ফারজানা আপু সিরিয়াস ছিল।
আর ফারজানা আপু তো ফাইজলামি করার মানুষ না। 
এসব সিরিয়াস বিষয় নিয়ে তো করবেই না,বিশ্বাস কর। 
ইনায়ার কথায় তুহিন বলে,,
"আগে তুই সিউর হয়। 
আর তুই চিন্তা করিস না,বিয়ে হবে না। আমি তোকে ছোট বোনের নজরে দেখি।
ইনায়া বলে,এই বিষয় নিয়ে তুমি দ্রুত আব্বু-আম্মুর সাথে কথা বলো প্লিজ । 
-আচ্ছা আমি পরে কথা বলে দেখব।
-না এখনই কথা বল। 
-আচ্ছা ঠিক আছে।
ইনায়া রুম থেকে বেড়িয়ে গিয়ে,ছাদে গিয়ে রেলিং ঘেসে বসে থাকে আছে।
ফারজানা সেখানে যায়।
-কিরে কি হইছে তোর? 
ফারজানার প্রশ্ন এরিয়ে ইনায়া বলে,
"তুহিন ভাইয়াকে আমি যা বলার বলছি আপু । 
এখন এখান থেকে যাও,আমাকে একা থাকতে দাও। 
ইনায়ার যেন জীবন,দম সব ফুরিয়ে যাচ্ছে,
তুহিনের সাথে বিয়ে অসম্ভব। 
তুহিন যায় শাজাহান তালুকদারের কাছে,
-আব্বু এসব আমি কি শুনতেছি? 
ইনায়ার সাথে নাকি আমার বিয়ের কথা চলতেছে ! 
ইনায়ার বয়স কত ? মাএ ১৭ ! 
আর আমার ২৫। 
পাগল হইছো তোমরা ? আর ইনায়াকে আমি আমার ছোট বোনের চোখে দেখি। 
শাহজাহান তালুকদার বলেন,
"কে বলছে তোমাকে এগুলা ?  
আর তোমাদের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছুই করা হবে না।
    তুমি যদি না চাও ইনায়াকে বিয়ে করতে তাহলে বিয়ে হবে না। 
আমরা কি বলছি যে, বিয়ে দিয়ে দিব তোমাকে জোর করে ! 
তুহিন বলে,
"তুমি জোর করে বিয়ে দিলে তো আমি আর বিয়ে করবো না। 
সবাই কে যানিয়ে দাও ইনায়া আর আমার বিয়ে হবে না । 
-আচ্ছা সবাই কে জানিয়ে দিব,,আগে ফারজানার বিয়েটা শেষ হোক,শাহজাহান তালুকদারের গম্ভীর কন্ঠ।  
তুহিন বলে আচ্ছা ঠিক আছে,
কিন্ত একটা কথা মনে রেখো যাই হয়ে যাক,ইনায়াকে কিন্ত আমি বিয়ে করবো না। 
তুহিন চলে যায়,শাহজাহান তালুকদার ও আর কিছু বলেন না ।
ইনায়াকে খুঁজতে,খুঁজতে তুহিন ছাদে যায়,,তুহিন দেখে ইনায়া একা বসে আছে। 
-শোন আব্বুকে আমি বলছি,তোর আমার বিয়ে হবে না।
এসব ফালতু চিন্তা করিস না। 
   আর তোর কি কোন পছন্দ আছে ? যে এত অমত করতেছিস? 
দেখ বিয়ে তো হবেই না,
তুহিন কে কথা শেষ না করতে দিয়ে ইনায়া বলে,
"ভাইয়া তুমি কি আমায় চিনো না,
এসবের মধ্যে আমি কখনোই ছিলাম না,আর থাকবো ও না ।
আর কোন কথা না বলে তুহিন ওখান থেকে চলে যায়। 
ইনায়া যেন দম ছেরে বাচলো। 
ইনায়ার দিন কাল ভালোই যাচ্ছে। দেখতে দেখতে ৬ তারিখ এসে পরছে। 
ফারজানার মেহেদি অনুষ্ঠান খুব বড় করে করা হবে না,ধরতে গেলে শুধু মেহেদিটা দেয়া হবে। 
৬ তারিখ সকালে ইনায়াদের বাসায় অনেক মেহমান আসে। 
শাহজাহান তালুকদারের সৎ বোন শাহানাজ বেগম ও আসেন। 
শাহানাজ বেগমের এক ছেলে এক মেয়ে,ছেলে বিয়ে করেছেন অনেক আগে,তার মেয়ের বয়স ১৬। 
তুহিনের একমাত্র খালা,জমুনা বেগম আসেন,জমুনা বেগমের এক ছেলে এক মেয়ে ।
ছেলের বয়স ২৫ মেয়ের বয়স ১৭। 
তার ছেলের নাম অয়ন আর মেয়ের নাম আয়না।
হালিমা বেগমের একমাএ ভাই,ভাইয়ের বউ,ছেলে মেয়ে সবাই আসে।
তার ভাইয়ের এক ছেলে এক মেয়ে। 
ছেলের নাম রিহান,বয়স ২৬।
আর ছোট একটা মেয়ে আছে,যার বয়স ১০।
 রিহানে সাথে ইনায়ার সম্পর্ক ভালোই,রিহান সব সময়ই ইনায়ার খোজ খবর রাখে। 
শাহানাজ বেগম,জমুনা বেগম,রোকেয়া বেগম,এবং হালিমা বেগম সবাই বসে ছিল ড্রয়িং রুমে। তারা সবাই মিলে অনেক কথাই বলছিল। 
তাদের সাথে আয়নাও বসে ছিল।
ইনায়া আজকে একটু বেশিই ব্যাস্ত,বড় বোনের মেহেদি অনুষ্ঠান বলে কথা।
রোকেয়া বেগম কথার মধ্যে বলে ওঠেন,
"আপনাদের তো বলা হয়নি,আমারা ইনায়ার আর তুহিনে বিয়ের সম্পর্কে কথা বলছি। এখন তো বিয়ে হবে না দু-এক বছর পর বিয়ে হবে। 
এই কথা শোনার পর,আয়না অস্থির হয়ে উঠল ,আয়নাকে দেখতে অসুস্থ অসুস্থ লাগছিল। কেমন যানি একটা বিশ্রী অনুভূতি হতে শুরু করল। 
এটা খেয়াল করলেন জমুনা বেগম।
-কিরে আয়না কি হইছে ? অসুস্থ লাগছে ?
আয়না আর কিছু না বলে ওখান থেকে উঠে যায়। রুমে গিয়ে সাথে সাথে দরজার বন্ধ করে দেয় আয়না। 
আয়নার এতটা অসস্তি হচ্ছিল যে আয়না এখনই মরে যাবে।
ঠিকই তখনই করা নারে ইনায়া,
-আপু রুমে আসলাম কিন্ত।
আয়না ইনায়ার সাথে সময়ই ভালো ব্যবহার করে,আর আয়নার ইনায়াকে পার্সোনালি পছন্দ করে। 
কিন্ত তখন ইনায়াকে দেখে খুশি হতে পারে না আয়না। 
-আপু তোমার জন্য একটা শাড়ি নিয়া আসছি দেখো তো তোমার পছন্দ হয় না কি।
আয়না কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলে,
"প্লিজ এখান থেকে যাও।
হঠাৎ আয়নার এই ব্যাবহারে ইনায়া চমকে যায়। 
-আপু তোমার কি শরীর অসুস্থ? তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?
ইনায়ার কথায় আয়না বলে,
"এখান থেকে যাও প্লিজ ! 
ইনায়া খাটে শাড়িটা খাটে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
প্রায় সন্ধ্যা ছয়টা বাজে মেহেদি অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সবাই একসাথে সাদে গোল হয়ে বসে মেহেদি দিচ্ছে।  
মেহেদির জন্য তিনটে মেহেদি আর্টিস্ট আনা হয়েছে।
ইনায়া খেয়াল করে আয়না এখনও আসেনি। 
ইনায়া ভাবে আয়নাকে গিয়ে ডেকে আনবে,তখনই দেখে আয়না সিরি বেয়ে ছাদে উঠছে,আয়না সবার মাঝে এসে বসে।
একটা মেহদি আর্টিস্ট ইনায়াকে জিজ্ঞেস করে,
"হাতে কি কোন নাম লিখবেন ? 
"না না কিছু লিখা দরকার নেই ।
কিছুক্ষন পর আয়নাকে যে মেহেদি আর্টিস্ট মেহেদি দিচ্ছিল সে জিজ্ঞেস করে আয়নাকে,
"আপনার হাতে কি কারো নাম লিখবেন ? 
"আমার হাতে "T" লিখে দেন।
আয়নার উওর শোনার সাথে সাথে ইনায়া মনে মনে ভাবতে থাকে,
"T আবার কার নাম? আয়না আপুর কি আরো নাম আছে ? 
ইনায়া এত কিছু আর মাথায় নেয় না। 
প্রায় ১২ বাজে ওদের অনুষ্ঠান শেষ হয়,,অনুষ্ঠান বলতে হাতে মেহেদি দেয়া আর একটু গান বাজনা করছে। 
রাত ১ বাজে আড্ডা গল্প শেষ করে ইনায়া যায় ঘুমাতে।
ইনায়া দেখে তখনও ফারজানা আরিফের সাথে কথা বলছে। 
-আপু ঘুমাও কালকে আরো বেশি রাত জাগতে হবে,আর কালকে আমরা আরো বেশি মজা করব,এখন তুমি ভাইয়ার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দাও প্লিজ একটু ঘুমাই। 
ইনায়ার কথায় গুরুত্ব না দিয়ে ফারজানা ব্যালকনিতে চলে যায়।
ইনায়া একটা হাতাশার নিঃশ্বাস ফেলে,তারপর ঘুমিয়ে যায়। 
পরদিন সকালে দশটা বাজে সবাই সকালের খাওয়া দাওয়া করে। 
বাসায় অনেক মেহমান রান্না করতেও দেরি হয়েছে। রোকেয়া বেগম আর হালিমা বেগম যেন দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। 
সাথে শাহজাহান বেগম আর ঝমুনা বেগম ও কাজে সাহায্য করছেন । 
বিকেল তিনটা বাজে,ইনায়া যায় আয়নার কাছে একটা হলুদ শারি নিয়ে,আজকে অনুষ্ঠানে সবাই ম্যাচ করে একই রকম শারি পাঞ্জাবি পরবে। 
"আপু ভেতরে আসবো ?
আয়নার গম্ভীর কন্ঠ,
" আসো। 
"আপু এইযে এইরকম শারি আমরা সবাই পরব। 
আর তুমি পার্লারে যাবে,আমারা কিন্ত পার্লারে যাবো না,,পার্লারে মহিলাদের সাজ আমার সেরকম ভালো লাগে না,আমাকে হালকা মাতলা সাজলেই ভালো লাগে। 
ইনায়ার এত বক বক শুনতে একদমই ভালো লাগছে না আয়নার। 
আয়না বিরক্তি নিয়ে বলে 
"যাও শারি রেখে চলে যাও। 
ইনায়া শারিটা খাটের উপর রেখে বাইরে বের হওয়ার জন্য পা বাড়ায়,ঠিক তখনই আয়না ইনায়াকে পেছন থেকে ডাকে।
-শোন একটা কথা বলতাম 
-হ্যা আপু কি বলবে বল। 
-তোমার আর তুহিন ভাইয়ের নাকি বিয়ে ঠিক হইছে একটা কি সত্যি ?
ইনায়া হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে বলে,
আপু এটা পরিবার ঠিক করেছিল,কিন্ত আমরা রাজি না।
তুহিন ভাইয়া বড় কাকুর সাথে কথা বলছে,আমাদের বিয়ে হবে না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন