ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুই শুধু আমারই

২য় পর্ব

লেখক: জান্নাত ইসলাম ইনায়া
কিন্ত তুমি এই কথা কই থেকে শুনলা ?সেরকম কেউই তো যানে না,এই ব্যাপারে 
ফারজানা আপুর বিয়ের পরে,এই বিষয়টা ক্লিয়ার করা হবে,তুহিন ভাইয়ার আর আমার বিয়ে হবে না আপু। 
ইনায়ার কথা শেষ না হতে হতেই আয়না গিয়ে ইনায়াকে জরিয়ে ধরে। হঠাৎ করে আয়না জরিয়ে ধারায়,ইনায়া টাল সামলাতে পারে না। ইনায়া পরে যেতে নিয়েও নিজেকে সামলে নেয়।
-আপু কি হলো তোমার! 
আয়না ইনায়াকে ছেরে দিয়ে বলে
"কিছু না। তুমি যাও এখন। 
ইনায়া আর কথা বাড়ায় না,রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। 
ইনায়া চলে যাওয়ার পর আয়না দরজা বন্ধ করে ডুকরে কেদে ওঠে।
এটা কিসের কান্না খুশির নাকি কষ্টের? হয়বা খুশির। 
ইনায়া সেই বিকেল পাঁচটা থেকে সাজ শুরু করেছে। 
ইনায়া একটু খুতখুতে মেয়ে,সবকিছু যদি পরিপাটি না হয় তাহলে ওর ভালো লাগে না।
ইনায়া আজকে বাংলা শারি পরেনি,মর্ডান মেয়েদের মতোই শারি পরছে। 
ইনায়া আসলে শারি পরতে পারে না ভালো ভাবে,শাহানাজ বেগম ইনায়াকে সুন্দর ভাবে শারি পরিয়ে দিয়েছেন।
ইনায়া হালকা সেজেছে,তাও যেন ওকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
আর যদি বলা হয় ফারজানার কথা তাহলে তো কমই হবে।
ফারজানার ব্রাইড তাই ওকে ভারি সাজ দেয়া হয়েছে। 
ফারজানা সেই চারটা বাজে পার্লারে গিয়েছে,বাসায় ফিরেছে সন্ধা সাতটায়। 
ইনায়ারা সবাই রেডি হয় আরিফদের বাসায় যাওয়ার জন্য,ওরা আরিফদের বাসায় হলুদের ডালা নিয়ে যাবে। 
ওরা আরিফদের বাসায় হলুদের ডালা দিয়ে আসলে,আবার আরিফরা এই বাসায় আসবে। 
তাই সবাই তারাতারি বের হওয়ার চেষ্টা করছে। 
আয়না,তুহিন,রিহান,ইনায়া সবাই একই গাড়িতে ওঠে। 
গাড়ি পৌঁছে যায় খান বাড়ি। 
বিশাল তিন তলা খান বাড়ি। ইনায়ার এত বড় বাড়ি দেখে ভালো লাগলো না। 
ইনায়াদের বাসা দুই তালা কিন্ত কারণটা এইখানে ছিল না,ইনায়া কেন বড়োলোকদের অতটা পছন্দ করে না,সেটার কারণ অন্য কিছু। 
আরিফদের হলুদের স্টেজ সাদে করা হয়েছে,ইনায়ারা সেখানেই যাচ্ছে। আরিফদের ড্রয়িং রুম পার হতেই যেন ইনায়ার দম ফুরিয়ে যাচ্ছে। 
"এত বড় ড্রয়িং রুম দিয়ে কি করে! 
এখানে তো একশো মানুষ বসতে পারবে,ওনাদের বাসায় কি এত মানুষ থাকে?
আনমনেই একা একা বিরবির করতে করতে ইনায়া সাদে যায়। 
আরিফের পাস ঘিরে সবাই বসে আছে,,ইনায়া আরিফের সাথে কৌশল বিনিময় করে। চারপাশটা ভালো ভাবে দেখছে ইনায়া। একটু পর পরই নানা রকম খাবার ইনায়াদের জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে। 
ইনায়া একটু হাটাহাটি করছি, ইনায়া দেখে তুহিন আর আয়না নেই,সবাইকেই ইনায়া দেখছে কিন্ত তুহিন আর আয়না নেই।
ইনায়ার অস্থিরতা টা হুট করেই বেড়ে গেল। তুহিন হয়তবা কোথাও গেছে কিন্ত আয়না? ইনায়ার মনে হলো আয়নাকে খোঁজা উচিত।
ইনায়া চিন্তা করে,নিচের দিকে খোঁজা যাক। 
ইনায়া আবার তিনতলা বেয়ে নিচে আসে। 
আরিফদের বাসার বাইরে বিশাল এক বাগান,বাগানে ফুলের গাছ ফলের গাছ দিয়ে বাগান পরিপূর্ণ।
ইনায়া বাগান টা ঘুরল,বাগানের জায়গায় জায়গায় লাইট,কিন্ত চারিদিক নিস্তব্ধ।
আয়নাকে না পেয়ে ইনায়া বাসার ভেতর যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। 
ইনায়ার হুট করেই সেদিনের কথাটা মাথায় আসে। আয়না ইনায়ার সাথে সেদিন এমন করল কেন?
ইনায়া তো ভালো মনে করে আয়নাকে শারিটা দিতে গিয়েছিল,কিন্ত আয়না কেমন করল,এসব চিন্তা করতে করতেই ইনায়া ড্রয়িং রুম টা পার হতে থাকে। 
ইনায়া প্রথম সিরিতে পা রাখতেই বলিষ্ঠবান শক্ত পোক্ত পুরুষালী শরীরের সাথে ধাক্কা খায়। 
ধাক্কা খেয়ে ইনায়া আর ব্যালেন্স রাখতে পারে না। 
ফ্লোরে ধপাস করে পরে। ইনায়া বিরবির করতে থাকে,
"ওফ কি ব্যাথা টা পেলাম।
ইনায়া চোখ তুলে লোকটার দিকে তাকায়,লম্বা ছয় ফুট,এক বা দুই হবে। ছেলে হিসেবে গায়ের রং একটু বেশিই ফর্সা। চোখ দুটো যেন তীক্ষ্ণ তীর। এই লোক কে ? আর হলুদ অনুষ্ঠানের মধ্যে এমন কালো সুট প্যান্ট পরে আছে কেন! 
লোকটা একবার ইনায়ার দিকে তাকায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। 
লোকটার বয়স কত হবে? বেশি হলে সাতাশ। 
কিন্ত যাই হোক ছেলেটা সুন্দর আছে। 
জীবনের প্রথম বারের মত ইনায়ার কাউকে ভালো লাগল।
ইনায়া কি ছেলেটার উপর Crush খাইছে ? না এটা হতে পারে না। কিন্ত ইনায়ার ছেলেটাকে ভালো লাগছে। 
ইনায়া যখন এসব চিন্তায় ব্যাস্ত,তখনই আরিফের কন্ঠ ভেসে আছে,
"আরিয়ান দ্বারা,কই যাস তুই ? 
এটা কিন্ত ঠিক না ভাই,আজকে আমার হলুদ,আমার শশুর বাড়ি থেকে লোকজন আসছে দেখতাছোছ না তুই! 
তখনই আরিফ খেয়াল করে ইনায়া ফ্লোরে পরে আছে। 
"কি একটা অবস্থা ইনায়া তুমি কিভাবে পরে গেলা? 
ইনায়া ওই অবস্থায় কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। জীবনের প্রথম বার আরিফদের বাসায় আসছিল কিন্ত কি একটা ঘটনা ঘটে গেল। লজ্জায় ইনায়ার মরে যেতে মন চাইছে। ইনায়া উঠে দ্বারায় 
তারপর থতমত কন্ঠে বলে
"আমি ওপরে যাই ওপরে সবাই আছে না ? 
"হ্যা,হ্যা ওপরেই সবাই।
ইনায়া যে কি করবে, কি বলবে বুঝতে পারছে না,তাই দ্রুত সাদের দিকে পা বাড়ায়। 
আরিফ হতাশ কন্ঠে বলতে থাকে 
"আরিয়ান তুই কি পাগল? টাকা কামাতে কামাতে তো টাকার পাহাড় বানায় ফেলছছ,আর কত? 
এখন কি অফিসে যাওয়ার টাইম?
আমাদের সাথে কি তুই ওই বাসায় যাবি না ? 
ছেলেটি ঘুরে তাকায় আরিফের দিকে,
-এই Stupid আমি টাকার জন্য ছুটি না আমি আমার কাজ কে ভালোবাসি,Language ঠিক কর বেয়াদব। 
তর মত অলস আমি,যে কাজ বাদ দিয়ে সারাদিন মেয়েদের পেছন ঘুরব। তোর বউ ফারজানার পেছন তুই কম ঘুরছছ। 
আরিফ বলে ওঠে
"বাপ বাদ দে তাও আর এই কথা গুলো বলিস না প্লিজ। 
"কোন জন্মের বাপ তোর আমি? বাপ বললি কেন? 
"আচ্ছা ভুল হয়ে গেছে বাদ দে। 
তুই কি যাবি না আমার সাথে ওই বাসায়? 
আরিয়ান যেতে যেতে বলে
"তোর ওই নাটকের থেকে আমার কাজ বেশি important
আরিফ সাথে সাথে বলে
"নাটক মানে? আমি কি বলছিলাম নাকি অনুষ্ঠান করব,সবার জোরাজুরিতেই তো হলো, তুই পছন্দ করিস না তাই আমি বলছিলাম দরকার নেই। 
আরিয়ান আরিফের কথায় কিছু না বলে সামনে দিকে হাটতে থাকে। 
ইনায়া মনে মনে ভাবতে থাকে,আচ্ছা আয়না আপু সেই সময় আমার সাথে খারাপ ব্যবহার কেন করল ,আমি কি আয়না আপুকে হার্ড করে কোন কথা বলে ফেলছি নাকি !
আর আয়না অপু আমাকে জরিয়েই দরল কেন? 
ইনায়া বিরবির করে,
ধুর এই কথা ভাবতে ভাবতে একজনের সাথে ধাক্কা খেয়ে মানসম্মান সব গেল নতুন আত্মীয়ের বাড়িতে। আবার সেই একই কথা কেন যে ভাবছি,আয়না আপুর কাছ থেকে পরে জিজ্ঞেস করে নিব। ও হাটতে হাটতে আবারও ভাবতে থাকে
"ওই লোকটার সাথে ধাক্কা খাইলাম,কিন্ত ওই লোকটা আমায় sorry ও বলল না,আর আমি পড়ে গেছি আমাকে ওঠালো ও না। 
এ আবার কেমন টাইপের লোক,আর এ লোক আরিফ ভাইয়ের কি হয়? 
এত কিছু ভাবতে ভাবতেই ইনায়া দেখল আয়না আর তুহিন সাদের এক কোণে দ্বারিয়ে আছে,হয়তবা কোন কথা বলছে দুজন। 
ইনায়া যায় সেখানে, 
-আয়না আপু তোমাকে আমি পুরো বাড়ি খুজেছি,এমন কি বাসার বাইরেও। 
তুহিন বিস্ময় নিয়ে বলে 
"বাসার বাইরে মানে গেটের বাইরে চলে গিয়েছিলি?
"আরে না ভাইয়া বাসার বাইরে বাগানের দিকে,গেটের বাইরে যাওয়ার সাহস আমার নেই। 
"চুপ চাপ থাকবি আর আমাকে না যানিয়ে কোথাও যাবি না। আমি কিন্ত ভালোর ভালো খারাপের খারাপ।  
তুহিন ইনায়াকে এত শাসন করছে তা দেখে আয়নার খুব বেশি ভালো লাগল না। 
রাত নয়টা বাজে ওরা তালুকদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
ইনায়া,রিহান,আয়না,তুহিন সবাই এক গাড়িতেই ছিল। 
রিহান ইনায়াকে জিজ্ঞেস করে
" কিরে তুই কই ছিলি?তোকে তো দেখলাম না! 
"আমিতো সবার সাথেই ছিলাম,আর তোমাকেও দেখছি,তুমি আমায় দেখো নাই?
-শোন মেয়ে মানুষদের এত চঞ্চল হতে নেই। 
রিহানের কথায় ইনায়ার মাথায় যেন বাজ পরে।
কি! ও চঞ্চল? 
সবাই তো ওকে শান্ত প্রকৃতির মেয়ে বলে,তাহলে তারা কি ভুল বলে!? 
আর রিহান তো ইনায়ার সম্পর্কে যানে,তাহলে এ কথা কেন বলল!? 
-ভাইয়া তুমি কি বললা আমি চঞ্চল? আমিতো সেরকম কারো সাথেই কথা বলিনি,তাহলে এ কথা কেন বললা? 
তুহিন একবার পেছন দিকে ঘুরে তাকায়,তুহিনের দৃষ্টিতে ইনায়া ভয় পায়। যতই হোক বড় ভাই তো।
ইনায়া আসলে কি করছে তা সে বুঝে উঠতে পারছে না। 
-রিহান ভাইয়া তুমি এইসব বইলো না,তুহিন ভাই আমাকে ভুল বুঝে আব্বুর কাছে বিচার দিবে! 
ইনায়ার কথায় রিহান একটু বাকা হাসে
-তাহলে তোকে দেখলাম না কেন? 
-আমি তো আয়না আপু আর তুহিন ভাইয়ের সাথেই ছিলাম,আমি তো আর কোথাও যাইনি। 
ইনায়া কথার মধ্যেই মারিয়া বলে ওঠে
"সবাই চুপ করো
 অয়ন ভাইয়া কই ? অয়ন ভাইয়াকে তো দেখলাম না! 
" তুই অয়ন কে দিয়ে কি করবি ?
তুহিনের গম্ভীর কন্ঠ। 
সেই গম্ভীর কন্ঠ কানে যেতেই মারিয়া একটা ঢোক গিলে,সে বুঝে গেছে ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলছে।  
মারিয়ার এখন নিজেকেই নিজের থাপ্পড়াইতে মন চাচ্ছে। ও এতটা বোকা কিভাবে হলো! 
এখানে যে ওর বড় ভাই তুহিন তা তো ও ভুলেই বসেছে। 
- ইয়ে না মানে ভাইয়া, অয়ন ভাইকে তো দেখলাম না তাই বললাম। 
তুহিনও আর কিছু বলে না,সবাই চুপ হয়ে যায়। 
ফারজানার হলুদ স্টেজ সাদে করা হয়েছে। বাসায় গিয়ে ইনায়া সাদে যায়,তখনও ফারজানা স্টেজে বসে বসে আরিফের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিল। 
ফারজানা ইনায়াকে দেখে বলে 
"কিরে এত দেরি করলি কেন !
"আরে এখানে ফলের বাটি নেই কেন,বাসায় যারা ছিল, তারা কি এখানে ফলের বাটি গুলো সাজাতে পারে নাই ! ইনায়ার কন্ঠে বিরক্ততা। 
আস্তে আস্তে সবাই ফলের বাটি এনে টেবিলে সাজায়,প্রতিটি ফলের বাটি সুন্দর করে ডেকোরেট করা। 
কই থেকে যেনো রিহান এসে একটা কালো মিষ্টি হাতে নেয়,তারপর ইনায়াকে বলে,
" নে খা 
"তুমিই খাও তোমার তারাতারি বিয়ে হয়ে যাবে। 
"তুই মিষ্টি খেলে তোর মুখ থেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনতে পারবো। 
"কেন আমি কি তোমাদের সাথে তেতো করে কথা বলি !
"তোর যেই তেজ,আমি অনেক সময় চিন্তায় থাকি তোকে বিয়ে করবে কে ?
"যে বিয়ে করার সে করবে,তোমাকে চিন্তা করতে হবে না,আর এখন এখান থেকে যাও তুমি,আমাকে জ্বালিয় না, আমার কাজ আছে।
ইনায়া যায় ফারজানার কাছে, 
"তোমার হবু husband কখন আসবে হ্যা। 
"ওনারা আসবে না। 
ফারজানার কথা শোনা সাথে সাথে ইনায়া যেন শক খেল। 
ইনায়া যখন ওই বাসা থেকে বের হচ্ছি,তখন ও আরিফ বলল,আমরা সবাই আসছি। 
কিন্ত এখন কেন আসছে না ! 
- কি হইছে আবার আসবে না কেন ? 
- যানি না। কালকে'ই আসবে একবারে। 
ফারজানার মনটা একটু খারাপ, সেটা ফারজানার কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছে। 
-আরে আপু মন খারাপ করো কেন, কালকে তো আসবেই! 
-না মন খারাপ না। 
আয়না একটুকরো আপেল নেয় হাতে। সেই আপেলটা নিয়ে যায় তুহিনের কাছে। আপেল তুহিনের পছন্দ সেই ছোটবেলা থেকে। তুহিনের কি পছন্দ কি অপছন্দ তা বোধহয় তুহিনের থেকে আয়নাই ভালো যানে। 
-ভাইয়া নাও,তুমি না আপেল খাও। 
তুহিন হাসি মুখে আয়নার হাত থেকে আপেলের টুকরো টা নেয়। 
ইনায়া ফারজানাকে বলে,
" তারা তো আসবে না, তাহলে আমাদের এইখানে হলুদ অনুষ্ঠান শুরু কারা হোক। 
" হ্যা একটু পরেই শুরু করা হবে। 
নয়টা ৪০ মিনিট থেকে ফারজানাকে হলুদ দেয়া শুরু করা হয়। মারিয়া আর ইনায়া একসাথে যায় হলুদ দিতে,একটা আপেলের টুকরো নিয়ে ইনায়া অনেক দুষ্টামি করে মারিয়ার সাথে। 
হলুদ শেষে একটু গান বাজনা করা হয়। 
সেদিন রাতে ওরা অনেক মজা করে, রাত একটা বাজে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ হয়। 
ইনায়া রুমে এসে মেকাপ তুলে ফ্রেস হয়ে,ব্যালকনিতে যায়। 
রাতের মিষ্টি হাওয়া ছুয়ে দিচ্ছে ইনায়াকে। ইনায়া এক দৃষ্টিতে তারা গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আকাশের জ্বল জ্বলে রাতে গুলো যেন ওকে কিছু বলতে চায়। 
তখনই ফারজানার ডাক আসে
"ইনায়া রুমে আয়,কালকে সকাল সকাল উঠতে হবে। 
"আসছি তুমি ঘুমাও
" না এখনই আয় তারাতারি। 
বাধ্য হয়ে ও রুমে এসে ঘুমিয়ে পরে। 
সকাল ছয়টা ৩০ মিনিটে দুবোন ঘুম থেকে ওঠে। 
পাখিদের কিচির মিচির ডাক,আর সকালের স্নিগ্ধ হওয়া ছুয়ে দিচ্ছে ইনায়াকে। ইনায়া গিয়ে ব্যালকনিতে দ্বারায়। কত সুন্দর আবহাওয়া,মিষ্টি বাতাস,ভোরের মিষ্টি আলো,যেন সবকিছুই নতুন লাগছে। 
ইনায়ার মনে আজ অন্যরকম একটা অনুভূতি। ইনায়ার হঠাৎই কার কথা যেন মনে আসলো। 
ওই লোকটার যার সাথে ওর ধাক্কা লেগেছিল,কিন্ত এই সময় ইনায়ার ওই লোকটার কথা কেন মনে পরল তা ও বুঝতে পারলো না। 
পাখি গুলো উরে উরে যাচ্ছে,মনে হয় খাবারের সন্ধানে ঘর থেকে মাএ বের হলো। ইনায়া যদি পাখি হতো তাহলে তো ও উরে উরে বেরাতো সারাদিন, এসব চিন্তা করতে করতেই ও রুমে গিয়ে,ফ্রেস হয়ে নিচে যায়। 
সকাল দশটার দিকে ফারজানা যায় পার্লারে, ইনায়া পার্লারে যাবে না। ওর অত পার্লারের সাজ ভালো লাগে না বাসায় সাজবে ও। 
তালুকদার বাড়ি উৎসবে আজ মৌ মৌ করছে,চারিদিকে কোলাহল আর মেহমান দিয়ে পরিপূর্ণ, বাচ্চাদের চিৎকার চেঁচামেচি, হৈ-চৈর মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের আনন্দ'টা দ্বিগুণ হয়ে গেল।
দুপুর একটা বাজে ইনায়া রেডি হতে শুরু করে,সেই গাউনটা সাথে কানের ঝুমকা, ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করা পাথরের চুরি। সাজতে সাজতে প্রায় দুইটা বেজে যায়। মাথার চুল গুলো স্ট্রেইট করা,ইনায়ার কোমর ছাপানো নজর কারা চুল।
তখনই ইনায়ার রুমে আসে আয়না।
- ইনায়া তোমাকে দেখতে মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে। 
- আপু তোমাকেও অনেক সুন্দর লাগছে। 
পেছন থেকে মারিয়া এসে বলে,
"আমাকে সুন্দর লাগছে না? 
আয়না হাসতে হাসতে বলে,
"তোকে তো সবসময়ই সুন্দর লাগে। 
মারিয়ার আর ইনায়ার গাউন সেম,দুজনকেই পুতুলের মত লাগছে। মারিয়া একটু হতাশ কন্ঠে বলে, 
"আব্বু চাচ্চু কি বলে যানিস! আমাদের নাকি বিয়ের গেট ধরতে দিবে না! এরকম করলে কি হয়। 
আমার কি বিয়ের মধ্যে একটু মজা করব না! 
- সবই হবে তুই চিন্তা করিস না। ইনায়ার চিন্তা মুক্ত কথা
দুপুর দুইটা ৩০ মিনিটে ফারজানা আসে পার্লার থেকে। ফারজানার গায়ে ছিল একটা লাল টুকটুকে শারি সাথে স্বর্ণের গহনা,ফারজানাকে অনেক বেশিই সুন্দর লাগছিল। 
বিকেল তিনটা বাজে মারিয়া,ইনায়া আর আয়না বসে শরবত বানাতে, বরযাত্রা অর্ধেক রাস্তায় আছে। মারিয়া একটা গ্লাসে শরবত গোলানো শুরু করে,সেখানে শুধু পানি আর লবণ। আরেকটা গ্লাসে শুধু পানি আর মরিচ গুরা দেয়া হয়। ইনায়া বার বার বলতাছে,
"এমন করিস না,এক গ্লাস অন্তত ভালো শরবত বানা।
"আরে তুই কি বোকা? বিয়ের মধ্যেই তো মানুষ একটু মজা করে। 
তারপর মিষ্টি থেকে কিছু অংশ মিষ্টি বের করে,ওখানে বেশি করে লবণ দিয়ে দেয়। ইনায়াও আর কিছু বলে না এসব দেখাও। তারপর ওরা চলে যায় ওদের কাঙ্খিত স্থানে মানে বিয়ের গেটের সামনে। ইনায়ার হাতে একটা ট্রে যেখানে শরবত মিষ্টি,ফুল,আর কাচি। তার কিছুক্ষনের মধ্যেই বরের এন্ট্রি হয়,আরিফের ঠিক পাশেই আরিয়ান। আরিফের থেকে আরিয়ান বেশ লম্বা,আরিফের উচ্চতা পাচ ফুট দশ হবে,আরিয়ানের উচ্চতা ছয় ফুট এক বা ছয় ফুট হবে। আরিয়ানকে দেখা মাএই ইনায়ার বুকে অজানা এক ঝর বয়ে যায়। 
আরিফের সাথে আশা আরিফের কিছু বন্ধু বলে,
"কি ফিতা বাধা কেন? 
মারিয়া বলে 
"কেন আপনারা কিছু যানেন না? টাকা ছারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না,আর বউ ও দেখতে পারবেন না বুচ্ছেন দুলাভাই। 
আরিফ একটু হাসে। সাথের ছেলে গুলো বলে,
"কত টাকা লাগবে শুনি। 
"বেশি না আমারা এক কথার মানুষ ত্রিশ হাজার দিলেই হবে। আপনাদের কাছে লাখ টাকা চাইবো না। ছেলে গুলো বলে ওঠে,
"আপনারা কি ডাকাতি করতাছেন দেখি, চাঁদাবাজি শুরু করলেন নাকি বেয়াইন ? ছেলে গুলোর কন্ঠে রসিকতা। 
- আপনারা যা মনে করেন। 
মারিয়ার সোজা সাপটা কথা। ইনায়া চুপ করে ছিল,ইনায়া একবার আরিয়ানের দিকে তাকায়,ছেলেটার মুখে বিরক্ত স্পষ্ট। ইনায়া খেয়াল করে তার সাথে সেরকম কেউই নেই,রিহান আয়না,মারিয়া আর ইনায়া নিজে আসছে গেট ধরতে, মাএ একজন মানুষ এত মানুষের সাথে কথা বলে পেরে উঠছে না।
অয়ন আর তুহিন থাকলে হয়ত গেট ধরতেই দিতে না, তারা তো সবসময়ই বেশি বেশি করে।
 দুই পক্ষের মানুষের সাথে তর্কা তর্কি বাড়ছে বইকি কমছে না। মাঝখানে আরিফ ভরপুর মাজা নিচ্ছে। হঠাৎই আরিয়ান গম্ভীর আর বিরক্তমাখা কন্ঠে বলে ওঠে,
" আরিফ ওদের টাকা কেন দিয়ে দিচ্ছিস না? এতসব নাটক আর দেখতে ভালো লাগছে না। তুই কি এখন টাকা দিবি নাকি আমি চলে যাব ? 
আরিয়ানের কথা কানে যেতেই ইনায়া রাগে বলতে শুরু করে,
" কি বললেন? আমারা নাটক করি! 
আরিয়ান ঘার ত্যারা ছেলে,সেই ঘার ত্যারামো নিয়েই আরিয়ান বলে 
"হ্যা নাটক'ই তো করছেন,না হলে মেহমান কে কি কেউ এভাবে দ্বার করিয়ে রাখে! 
"এটা তো বিয়ে,বিয়ের মধ্যে তো মানুষ মজা করেই, এখানে নাটকের কি হলো বুঝলাম না! ইনায়ার কন্ঠে ঝাঁজ। 
আয়না যখন বুঝতে পারলো এখনই দুই পক্ষের মাঝে ঝামেলা শুরু হবে,তখনই আয়না বলে উঠল,
" সমস্যা নাই আমাদের পঁচিশ হাজার টাকা দিলেই হবে। 
আরিফ একটু হেসে বলে,
" সমস্যা নাই তোমারা যা চেয়েছ তাই পাবে। 
"আরিফ তারাতারি টাকা দিয়ে এসব বন্ধ কর। 
আরিয়ানের কথায় ইনায়ার রাগ তর তর করে বাড়তে থাকে। এই লোক কি তাদের অপমান করছে!
আরিফ ইনায়ার হাতে ত্রিশ হাজার টাকাই দেয়। যখন আরিফকে শরবত খাওনোর জন্য শরবত এগিয়ে দেয়,আরিফ খাবে না বলে না করে। ইনায়া বা কেউই এটা নিয়ে জোরাজুরি করে না, কারণ শরবত খেলে পরে আরো বিরাট এক ঝামেলায় পরতে হতো। শরবত তো এক গ্লাস ও খাওয়া মত বানাইনি।
ইনায়া রুমে গিয়ে বসে আছে। আয়না বলে, 
"জুতো চুরি করবা না চলো,আর হাত ধোয়ানো তো বাকি আছে,আরো অনেক টাকা নিব আমরা। 
" যাও তোমরা আমি যাব না। 
" কেন কি হইছে তোমার! এইটুকু বিষয় নিয়ে তো আর রাগ করা যায় না ইনায়া! 
" এখন যদি জুতো চুরি করতে যাই তাহলে বলবে চোর। দেখলাই তো তখন বলল আমারা নাকি নাটক করি। আর যদি কিছু করতে চাও তাহলে হাও ধোয়াও জুতো চুরি স্কিপ কর। 
" আচ্ছা যাই করি,আসো তুমি। 
বড় একটা সাগরানার প্লেট সাজানো, মাঝখানে পুরো একটা খাসি রাখা। আরিফের পাস ঘিরে অনেক মানুষ,আর আরিফের পাশেই আরিয়ান বসা। ইনায়া একটু চিন্তা করে সে কি যাবে? তখনই আরিফ ইনায়াকে ডাকে,
" এদিকে এসো আমার পাশে এসে বসো।
আয়না আর মারিয়া অন্য পাসে গিয়ে বসে। ইনায়া ভাবতে থাকে, তখন যদি আরিফ ভাইয়া শরবত টা খেত কি একটা অবস্থা হতো,তখন ওই ছেলেটা ওদের আরো দু একটা কথা শোনাত। 
খাওয়া শেষে ইনায়া বলে, 
" এখন কিন্ত আমারা হাত ধোয়াবো আর টাকা লাগবে। টাকা না দিলে কিন্ত হাত ধোয়া চলবে না। 
আরিফ বলে,
" আচ্ছা আগে হাত ধোয়াও।
সাথের ছেলেগুলো বলে,
" আপনাদের সাবানের কয় টাকা দাম আমরা দিয়ে দিব।
 পাস থেকে মারিয়া একটু নাটকীয় ভাবে বলে,
" আমাদের সাবান স্পেশাল এই সাবানের দাম আপনারা দিতে পারবেন না। আমাদের মাএ ১০ হাজার টাকা দিলেই হবে। 
"বুচ্ছি বেয়াইনরা ডাকাতি শুরু করছে। 
আরিফ বলে, 
" তোরা থাম। আরিফ আরিয়ান কে নিয়ে ভয় পাচ্ছে, কে যানে কখন আবার কি বলে বসে। আর কোণ ঝামেলা না করে আরিফ টাকা দিয়ে দেয়। জুতো চুরি টা আর হয় না,এটা ইনায়া'ই করতে দেয় না।
কাজী বিয়ে পড়ানোর কাজ শেষ করেন। 
সবাই আয়না ধরে জিজ্ঞেস করে, আয়নায় কি দেখেন? 
" আমার সূর্য কে দেখি, যেটা না দেখলে আমার জীবন অন্ধকার।
সবাই বেশ মজা পাচ্ছে আরিফের কথায়। 
যখন বিদায় নেওয়ার সময় আসলো তখন ফারজানা একটু বেশিই ইমোশনাল হয়ে পরল। ফারজানার বিয়েটা রিলেসনের ছিল,কেউ মনে করেনি ফারজানা এতটা কান্না করবে। 
মোজাম্মেল তালুকদার ইনায়াকে আদেশ করে বলেন,
"ইনায়া তুমি যাও ফারজানার সাথে। 
" না আব্বু আমি যাব না,কালকে তো তোমারা যাবে, আমি তোমাদের সাথে যাবে। 
মোজাম্মেল তালুকদার এবার চোখ গরম করে তাকান ইনায়ার দিকে। 
" যেতে বলছি যাও, নতুন বাসা ফারজানার একা একটা ভালো লাগবে না। আর তুমি তোমার জামা নিয়ে যাও,ওখানেই সেজে রেডি হয়ে থেকো। 
ইনায়ার যে কতটা বিরক্ত লাগছে, এটা তার চোখে মুখে ফুটে ওঠছে। 
" আব্বু মারিয়াকে বলো আমার সাথে যেতে,না হয় আমি যাব না। 
ইনায়া কথা শুনে মারিয়া বলে, 
" আমি যাব না তুই যা। 
ফারজানা ইনায়াকে বলে,
" আয় আমার সাথে। কালকে তো এসেই পরবি 
ফারজানার কথা ইনায়া আর ফেলতে পারে না।
ওরা যে গাড়িতে ওঠে সেখানে ছিল,আরিফ ফারজানা,আরিয়ানের ছোট বোন আফিয়া, আরিফের ছোট ভাই মাহিন, আর ইনায়া নিজে। আফিয়ার বসয় পনেরো চলে,আর মাহিনের ও। মাহিন আর আফিয়া সমবয়সি। 
গাড়ি গিয়ে থামে খান বাড়ি। মুহূর্তেই গাড়ির সামনে মানুষ দিয়ে ভরে যায়, নতুন বউ নিয়ে আসছে,সবার মধ্যে উৎফুল্লতা। 
সকল ভির পেছনে রেখে,আরিফ ফারজানা,ইনায়া বাসার মধ্যে প্রবেশ করে। 
 তখনই দেখা যায়,ফারজানার শাশুরি আয়শা বেগমকে। তিনি ফারজানার মাথায় হাত রাখেন,সবাই যখন ফারজানাকে দেখার জন্য ভির করছিল, তখন আয়শা বেগম বলেন, 
"আগে বউ রুমে যাক,ফ্রেস হোক তারপর সবাই দেখবেন। 
  ফারজানার হাতটা ধরে আয়শা বেগম, নিয়ে যান আরিয়ানের মার কাছে। 
" এটা হচ্ছে তোমার চাচি শাশুরি।
আরিয়ানের মা'র নাম আরমিণ, আরমিণ বেগম। 
এরপর নিয়ে যান আরিয়ানের বাবার কাছে, 
উনি তোমার চাচা শশুর, মিজান খান। 
ফারজানা সবাইকে সালাম জানায়। 
ইনায়াকে নিয়ে একটা রুমে বসানো হয়, একটু পর পর নানান পদের নাস্তা, ফল, পিঠা ইনায়ার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ইনায়া কালকে পড়ার জন্য শুধু একটা জামা এনেছে, এখন এই পরনের জামাটা পরেই থাকতে হবে। 
ফারজানা ফ্রেস হয়ে নিচে যায়। ফারজানাকে দেখতেই আয়শা বেগম বলেন,
" নতুন বউ নিচে কেন আসছো! যাও রুমে যাও, আমি তোমাদের জন্য খাবার পাঠাচ্ছি। 
ফারজানা বলে, 
"আমি আপনাকে হেল্প করি আম্মু।
" নতুন বউ কাজ করার দরকার নেই উপরে যাও।
   ফারজানাও বাধ্য বউমার মত চলে যায়। 
ইনায়া রুমে বসে ছিল,সেই সময় রুমে যায় আফিয়া। 
   মেয়েটি খুবই সুন্দর আর মুখে একটা মায়া মায় ভাব আছে। 
" তোমার নাম কি? 
" আমার নাম ইনায়া। তোমার নাম কি ? 
" আমার নাম আফিয়া। তোমাকে আমার অনেক ভালো লাগে তুমি অনেক সুন্দর।  
   মেয়েটির নিষ্পাপ কন্ঠ মনে হলো।
ইনায়া মুখে হাসি নিয়ে বলে
" ধন্যবাদ। তুমিও অনেক সুন্দর। 
" চলো নিচে যাই, এখানে একা বসে থেকে কি করবে। 
  ইনায়ারও একা ভালো লাগছিল না,তাই সম্মতি যানায়।
ড্রয়িং রুভে সকলে বসা। ইনায়া সবাইকে সালাম দেয়, সবাই ইনায়ার নাম,কিসে পরে বয়স কত, এসব জিজ্ঞেস করে, ইনায়া এতে বিরক্ত না হয়ে, নরম কন্ঠে সবকিছুর উওর দেয়।
কিছু সময়ের মধ্যে যে যার রুমে চলে যায়। একটু পর রাতের খাবার খেতে নিচে আসতে হবে। তাই ফ্রেস হতে গেছে সবাই। 
বিয়ে বলে কথা,সরাদিনই কাজ থাকে বাড়ির বউদের ওপর। 
ইনায়া আর আফিয়া তখনও ড্রয়িং রুমেই বসে ছিল। 
এবার আফিয়া ইনায়াকে জিজ্ঞেস করে, 
" আচ্ছা তুমি কি আমায় চিনতে পারছো? 
" না 
" আমি আরিফ ভাইয়ার চাচাতো বোন, তুমি আরিয়ান ভাইয়াকে চিনো না, আমি আরিয়ান ভাইয়ার ছোট বোন। 
    ইনায়া ছোট করে বলে 
" ওহ
তখনই দেখা যায়,আরিয়ান মেন দরজা দিয়ে বাসার মধ্যে প্রবেশ করছে,ফোনের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে,কি যেন স্ক্রল করছে আর দ্রুত পায়ে সামনের দিকে এগোচ্ছে। 
আরিয়ান একবার চোখ তুলে তাকায় সোফায় বসে থাকা ইনায়া আর আফিয়ার দিকে, আবার সাথে সাথে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিয়ে,সামনের দিকে হাটতে থাকে। 
আফিয়ার সাথে ইনায়া বেশ গল্প জমিয়েছে, তাদের স্কুল লাইফের বিষয় নিয়ে কথা বলছে। 
আয়শা বেগম রাতের খাবার খাওয়ার জন্য সবাইকে নিচে আসতে বলেন। ইনায়া চোখ যায়, সিরি দিয়ে নেমে আসতে থাকা,অর্ধ'বয়সি মহিলা আর তার সাথে থাকা যুবতি একটা মেয়ের দিকে। এ বাসার কম বেশি সবার সাথেই ইনায়ার কথা হয়েছে, কিন্ত ওনাদের সাথে দেখা বা কথা কোনটাই হয়নি। 
   ইনায়া কৌতুহল নিয়ে,মহিলা'টির দিকে চোখ দিয়ে ইশারা করে আফিয়াকে জিজ্ঞেস করে, 
" ওনারা কে ? 
" উনি হচ্ছেন আমার ফুপু, আর ওইটা ওনার মেয়ে নাম আনিশা। ইনায়া মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে, মেয়েটির বয়স আঠারো হবে দেখতে বেশ সুন্দর, চুল গুলো কোমর পর্যন্ত।
 একে একে সবাই ডাইনিং টেবিলে এসে বসে। বিশাল ডাইনিং টেবিল, চেয়ার শুধু একটা ফাকা আছে, মানুষ আরো অনেক। ফারজানা আর আরিফ রুমে খাবার খাচ্ছে। 
সিরি বেয়ে নেমে আসছে আরিয়ান, পরনে কালো টাউজার কালো সার্ট। দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। ইনায়া আরিয়ানের দিক থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকায়। 
ইনায়ার অপর পাসের টেবিলেই আরিয়ান বসে। আয়শা বেগম আরিয়ানকে জিজ্ঞেস করেন, 
" আরিয়ান আব্বু তুমি কি ভাত খাবে নাকি অন্য কিছু করে দিব..?
আরমিণ বেগম তার ছেলের দিকে তাকিয়ে নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করেন,
" তোমাকে কি অন্য কিছু করে দিবে আরিয়ান? 
আরিয়ান বলে, 
" না অন্য কিছুর দরকার নেই।
ইনায়ার মনে হচ্ছিল আরিয়ানকে মেহমানদের মত ট্রিট করা হচ্ছে। যেমনটা তাকে করা হচ্ছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন