উপন্যাস : ভয়ংকর ভালোবাসা
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব- ১
আহহহহ.....
তাসফিক এহসান বিরক্ত মুখে তার গাড়ির সামনে তাকিয়ে আছে, কারণ গাড়ির সামনে একটি মেয়ে পরে আছে।
মায়া অনবরত নিজের বাম হাতে ফু দিচ্ছে, হাতের বেশ কিছু তা কেটে গিয়েছে, যেখানে রক্ত বিন্দু উপস্থিত দেখা যাচ্ছে।
তাসফিক এহসান গাড়ি থেকে নেমে যেই না মায়া কে কিছু বলবে তখনই মায়া মাথা তুলে তাসফিক এহসানের দিকে তাকায়।
তাসফিক এহসান কিছু খনের জন্য মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে থমকে যায়।
মায়ার টানা টানা ঘন পিসি যুক্ত হরিনী চোখে কিছু তো এক টা ছিল যা তাসফিক এহসানক কে থকে দিতে বাধ্য করেছে।
হঠাৎ মায়ার চোখে পানিরা চিক চিক করে উঠলো, যা দেখে তাসফিক এহসানেরর বুক টা চিন চিন করে উঠলো। অজান্তেই তাসফিক এহসান তার হাত টা মায়ার দিকে বারিয়ে দিল।
তাসফিক এহসানেরর ঘর ভাঙ্গল মায়ার রাগী কন্ঠ শুনে,
প্রয়োজন নেই আমার আপনার সাহায্যে, আমি একাই উঠতে পারবো।
গাড়ি দেখে চালাতে পারেন না, দেখতে পাননি আমি যে রাস্তা পার হচ্ছি এত স্প্রিট দিয়ে কে গাড়ি চালায়?নাকি বড় লোক বলে সব নিজের মনে করেন। বলতে বলতেই মায়া উঠে দারালো।
ঠাসসস...
তাসফিক এহসান নিজের হিতা হিত গেন হারিয়ে মায়াকে কসিয়ে ডান গালে একটা থাপড় মেরেছে।
মায়া হুমরি খেয়ে তাসফিকের গাড়ির উপরে পরে।
মায়া বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হলো কেন হলো।
মায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তাসফিক এহসান মায়ার উপর কিছু টাকা মেরে গাড়িয়ে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
মায়া গালে হাত দিয়ে থ-মেরে রাস্তায় দারিয়ে রইল।
কিছু খন আগে...
মায়া তার বান্ধবি রুপার বাসায় থেকে নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য রাস্তায় রিশকার জন্য দারিয়ে ছিল একটা রিশকা পেয়ে ছিল কোন কিছু না ভেবে দৌড়ে রিশকার সামনে যেতে গিয়ে ঠিক তখনই তাসফিক এহসানের গাড়ির সাথে দাককা খায়। রিশকা ওলা মামা তাসফিক এহসান কে দেখেই চলে গিয়েছে।
কারন তাসফিক এহসান কে কেই বা না চিনে?
আজকে তাসফিক রাগ করে বাসা থেকে বের হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে আরো ক্ষীপ্ত করে তোলে। তাসফিক সোজা তাদের অফিসে গিয়ে তার কক্ষে তার নিধারিত চেয়ারে গা টা এলিয়ে দিল সাথে সাথে চোখে ফুটে উঠেছে মায়ার অই চোখ দুটো।
তাসফিক এহসানরা এখন জয়েন্ট family সুমন আর সুজন এহসান হচ্ছে দুই ভাই।
সুমন এহসানের স্ত্রী সুরমিতা আর সুজন এহসানের স্ত্রী সুভা।
ছোট ভাই সুজন এহসান, বড় ভাই সুমন এহসানের আগে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য, এহসান পরিবারের বড় মেয়ে সামিয়া এহসানের জন্ম হয়। সুজন এহসান পালিয়ে বিয়ে করলেও তা নিয়ে এহসান পরিবারের কোন সমস্যা ছিল না। তার পর জন্ম নেই পরিবারের রাগী ঘম্বির সুমন এহসানের বড় ছেলে তাসফিক এহসানের, তার পর জন্ম নেই সুজন এহসানের ছেলে সিয়াম এহসানেরর তাসফিক আর সিয়াম ২ বছরের ছোট বড়।
আর সব শেষে জন্ম হয় সুমন এহসানের ছোট মেয়ে তায়েবা এহসানের। সামিয়ার এখন ২৮ বছর চলছে সামিয়ার বিয়ে হয়ে এখন তার ১০বছরের একটা ছেলে ও আছে।
তাসফিকের এখন ২৬ বছর, সিয়ামের ২৩ বছর আর তায়েবার ১৯ বছর।
কিরে মায়া তোর হাতে কি হয়েছে..?
মায়া যেই ভয়টা পেয়েছে সেটাই হলো,
না আম্মু মানে
কি মানে মানে লাগিয়ে রাখছিস.. কি হয়েছে দেখি সামনে আনতো।
মাসুমা বেগম মায়ার হাত দেখে আঁতকে ওঠেন, কি হয়েছে? কি ভাবে হয়েছে? দেখি দেখি ইসসস..কত খানি জাগা ছিলে গিয়েছে দারা আমি সেবলন নিয়ে আসি।
আম্মু কিছু হয়নি তো
তকে এখানে চুপ করে দারাতে বলেছি না, এখানেই থাকবি এক পা ও নারাবি না।
মাসুমা বেগম গিয়ে সেবলন নিয়ে আসলেন দেখি।
উফফফ..আম্মু আসছে লাগছে তো
মাসুমা বেগম বিরক্ত মুখে মেয়ের দিকে তাকালেন।
এখন বল কি ভাবে হলো আরে আম্মু রুপার বাসায় থেকে আসার সময় একজন খুব তারা হুর করে সিরি দিয়ে নামছিল তখন তার সাথে গা টা যাতে না লাগে তাই দেওয়ালেন পাআহে দারিয়েছি তখন দেয়ালের সাথে লেগে ছিলে গিয়েছে।
একটু সাবধানে চোলবি তো নাকি।
মায়া সত্যিই কথা টা এরিয়ে গেল তার মা যানতে পারলে তাকে আর কথাও যেতে দিবে না। মনে মনে মায়া তাসফিক এহসান কে গালি দিতে ভুলল না।
মায়াদের পরিবারে মায়ার বাবা, মা, মায়া আর মায়ার ছোট একটা ভাই যে এই বছর ssc দিবে মায়ার বয়স ২১ বছর আর মায়ার ভাইয়ের বয়স ১৭ বছর। মায়ার বাবা একজন সরকারি চাকরি জিবি
মায়ার ইচ্ছা সে চাকরি করবে তাই মায়া বিভিন্ন চাকরি পরিক্ষা দেয়।
দিনের আলো ফুরিয়ে ধরণীতে রাতের অন্ধকার নামে তবে চাঁদের আলোয় চারপাশ বের আলোকিত তখন তার ৯ টা মায়া আর তার ভাই মারুফ ছাদে সুয়ে সুয়ে জসনা বিলাস করছে।
তারা ২ ভাই- বোন প্রায় সময় ছাদে ঘুমায় ।
সূর্য তখন পূর্ব পাশ থেকে পৃথিবীতে আলো দিচ্ছে। মায়া পিট পিট করে চোখ খুললো বেলা তখন সকাল ৮ টা সকালের হাওয়া মায়ার গায়ে আসরে পরল। মায়ার বেশ ভালো লাগে সকালের শহর দেখতে। এই মারুফ উঠ বলছি স্কুলে যাবি না চল।
মারুফ বিরক্ত মুখে চোখ খুললো..
উফফফফ আপু সর আর একটু ঘুমাব বলেই কাথা মুরি দিয়ে পরে রইল।
মায়া বেশ বিরক্ত হলো। মায়া মনে মনে এক দুষ্টু পরিকল্পনা করল, মায়া তার মুখ নিয়ে মারুফের কানে কাছে জোরে চেচিয়ে উঠলো। মারুফ দরফরিয়ে উঠলো, তা দেখে মায়া উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো ।
খাওয়া দাওয়া শেষে মারুফ স্কুলে চলে গেল আর মায়া আরু কিছুক্ষণ পর চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাবে।
এহসান পরিবাদের প্রত্যেকে ডাইনিং টেবিলে বসে নাস্তা করছিল তখন উপর থেকে নিঃশব্দে নিচে নামল তাসফিক এহসান।
নিচে এসেই তার বরাদ্দগত চেয়ারে বসলো। সুরমিতা বেগম ছেলের পাতে খাবার তুলে দিল।
খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়ির পুরুষেরা অফিসে চলে গেল।
সুরমিতা বেগম সিয়াম কে পিছু ডেকে বললেন বাবা তায়েবা কে ভার্সিটি তে নামিয়ে দিও তুমি তো অই দিক দিয়েই যাবে
তাসবিক কে বলিনি জানোয় তো ও কতটা রাগী না আবার রাস্তাই নামিয়ে দেয় তায়েবাকে।
ঠিক আছে বড় আম্মু, বলেই সিয়াম গাড়ি বের করতে গেল।
তায়েবা খাওয়া দাওয়া করে বের হতে দেখতে পাই সিয়াম তার জন্য দারিয়ে আছে।
তায়েবা যেই না পিছে বসতে যাবে তখন সামনে থেকে ভারী পুরুষালী ঘম্বির কন্ঠ সোনা যায়।
আমি তোর ড্রাইভার না সামনে এসে বস
তায়েবা তারা হুরো করে সামনে কিয়ে বসল।
তার পর নিঃশব্দে গাড়ি চলতে শুরু করল।
গাড়িতে কোন শব্দ নেই। হঠাৎ নীরবতার চাদর ছিড়ে সিয়াম বলল ভার্সিটি ছুটি হবে কখন? তায়েবা তারা হুর করে বলল চায়ায়ার ৪ টাই। তুই কি নার্ভাস? কয় নায়ায়া না তো
ঠিক আছে ছুটির সময় ওয়েট করিস আমি নিয়ে যাবো। না মানে আমি তো একা যেতে পারব।
আমি যা বলছি সেটা করবি।
ঠিক আছে।
নে এখন নাম। তায়েবা দেখলো তার ভার্সিটির গেটের সামনে গাড়ি থেমে রয়েছে। তায়েবা তারা হুর করে গাড়ি থেকে নামলো। সামনে পা বারানোর আগে সিয়াম আবার ও পিছু ডাকলো..
শোন..তায়েবা পিছু ফিরে তাকালো
নে এই টাকা গুলা রাখ, না ভাইয়া আছে।
সিয়ামের তাকানো দেখে তায়েবা আর কিছু বলল না নিঃশব্দ টাকা নিয়ে ভার্সিটির ভেতরে চলে গেল। তায়েবা কে যতখন দেখা গেল রিয়াম নিঃশব্দে তাকিয়ে ছিল তার পর অফিসে জন্য চলে গেল।