ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভয়ংকর ভালোবাসা

২য় পর্ব

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : ভয়ংকর ভালোবাসা 

লেখিকা : শেখ হালিমা 
পর্ব - ২ 
তায়েবা কে যতক্ষন দেখা গেল সিয়াম নিঃশব্দে তাকিয়ে ছিল তার পর অফিসে জন্য চলে গেল।
 মায়া এক বিশাল অফিসের সামনে দারিয়ে আছে। অফিসের নাম A, মায়া ভিতরে ঢুকেই অবাক হয়ে গেল বাহির থেকে অফিস টা দেখতে যেমন সুন্দর তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি সুন্দর ভেতরে। মায়া এমনিতেই বেশ দেরি করে ফেলেছে তাই আর বেশি কিছু না ভেবে কাউন্টারে গিয়ে ইন্টারভিউ কথার জিজ্ঞেস করল। কাউন্টারে থাকা মেয়েদের মায়াকে বলল ইন্টারভিউ সময় শেষ। মায়া খুব অনুরোধ করলো তার ইন্টারভিউ টা নেওয়ার জন্য কিন্তু মেয়ে টি জানালো তার কিছু করার নেই। মায়া মন খারাপ করে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লো। কিছু দূর গিয়ে মায়া দেখতে পেল একজন লোক মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে। যাকে দেখে তার বয়স আন্দাজ করা যাবে না। তবে মায়া মোটামুটি ধারণা করল লোকটির বয়স ৪৬ বছর। লোক টি আর কেউ না তাসফিক এহসানের বাবা সুমন এহসান। মায়া দূরে লোক টার কাছে গিয়ে ডাকতে থাকলো। আশে - পাশে তাকিয়ে দেখতে পারল কোন মানুষ নেই। মায়া কোন উপায় খুজে না পেয়ে লোক টির নাম ঠিকানা খুজতে থাকল। লোক টির কাছে কিছু খুজে না পেয়ে গাড়ির ভিতরে খুজতে শুরু করল। অবশেষে একটি কার্ড খুজে পেল। মায়া কোন কিছু না ভেবে ফোন দিল। ওপাশ থেকে তাসফিকের সহর্কমী তামিম ফোন ধরলেন।মায়া কোন কিছু না ভেবে সব কিছু খুলে বলল।সাথে সাথে তামিম গাড়ি নিয়ে রওনা দিল মায়ার বলা ঠিকানাই। 
তামিম এসে সাথে সাথে সুমন এহসান কে গাড়ির পিছনের দিকে বসিয়ে দিল। তখন সুমন এহসান মায়ার হাত ধরে রেখেছে। তামিম কোন কিছু না ভেবে মায়া কে গাড়িতে উঠে বসতে বলল।মায়া গাড়িতে বসতেই গাড়ি টি হাস্পাতালের উদ্দেশ্যে রউনা দিল। ঢাকার সব চেয়ে ভালো আর বড় হাস্পাতালের সামনে গাড়ি থামলো। তামিম আর মায়া সুমন এহসান কে ভেতরে নিয়ে গেল। ডাক্তার সুমন এহসান কে দেখে কিছু টেস্ট করতে দিল। আর বলল চিন্তার কোন কারন নেই কিছু ক্ষন পর গেন ফিরে আসবে বেশি চাপ নেওয়ার জন্য এমন হয়েছে । মায়া সুমন এহসানের পাশে বসে রইল। তামিম মায়াকে বলে খাবার আনতে গেল। কিছু ক্ষন পর সুমন এহসানের গেন ফিরে আসল। সামনে মায়া কে দেখে তিনি চিনতে পারলেন না। মায়া সামান্য ইতস্তত করে বলে, আঙ্কেল আপনি কি এখন ঠিক আছেন। সুমন এহসান মায়ার কথার জবাব দিল আর বলল আমি এখানে কি ভাবে আসলাম? মায়া সকল ঘটনা খুলে বলল।মায়ার কথা শুনে সুমন এহসান মুগ্ধ হলেন। ঠিক তখনই তামিম খাবার নিয়ে কক্ষে ঢুকলো। আরে বস আপনি উঠে গিয়েছেন? আপনি গেন হারালেন কি ভাবে? আরে অফিস থেকে বের হয়ে হঠাৎ করে মাথা টা চক্কর দিল।তাই গাড়ি ঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনি।  আচ্ছা আমি এখন যায়, মায়ার কথা শুনে তামিম আর সুজন এহসান মায়ার দিকে তাকালেন। আম্মা আপনার এই ঋণ কিভাবে শোধ করবো। আঙ্কেল আমাকে এই কথা বলে লজ্জা দিবেন না। তোমার কখন কোন সমস্যা বা সাহায্য লাগলে এই বাবা টাকে মনে করবে ঠিক আছে। মায়া কিছু না বলে নিঃশব্দ হাসলো। মায়া সুমন এহসানের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনই সুমন এহসান কিছু ভেবে বলে উঠলো তুমি ওই দিকে কেন গিয়েছিলে?মায়া পিছু ঘুরে উত্তর দিল আসলে আঙ্কেল আমি চাকরি খুজছি আর আজকে আমার A অফিস এ ইন্টারভিউ ছিল কিন্তু আমি দেরি করে যাওয়ায় আমি ইন্টারভিউ টা মিস করি। সুমন এহসান সামান্য হাসলেন, মায়া কে কাছে ডেকে তামিমের কাছে থেকে একটা কার্ড নিয়ে মায়ার হাতে দিয়ে বলল এইটা তুমি  A অফিসে ম্যানেজার কে দেখাবে তাহলেই তোমার চাকরি হয়ে যাবে। মায়া সুমন এহসান কথা শুনে বেশ খুশি হলো। 
মায়া রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আবার ও  A কোম্পানি তে কালকে যাওয়ার কথা ভাবলো। সূর্য তখন পশ্চিমা আকাশে ডেকে দিয়েছে পৃথিবীতে চাঁদের আলোয় চারপাশ ঘিরে আছে। মায়া সপ্নে হঠাৎ তাসফিক এহসান কে দেখে ধরফুরিয়ে উঠলো। মায়া এতে বেশ বিরক্ত হলো। বেলা সবে ৭ টা মায়া ঘুম থেকে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে অফিসের উদ্দেশ্যে রউনা দিল। আজকে মায়া সময় মত পৌছে গিয়ে ম্যানেজারের হাতে সুমন এহসান দেওয়া কার্ড দিল। ম্যানেজার কার্ড নিয়ে কার যেন নাম্বারে ফোন দিল ওপাশ থেকে কি বল তা মায়া শুনতে পায় না। তবে এত টুকু বুঝতে পেরেছে যে তার চাকরি হয়ে গিয়েছে। মায়া খুশি মনে ম্যানেজারের কথা শুনলো। মায়া কে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে মায়া কে কালকে থেকে অফিসে আসতে বলল। মায়া খুশি মনে বাসায় গেল। মায়ার আম্মু মায়া কে এত খুশি হওয়ার কারন জিগ্যেস করলেন। মায়া তাকে সমস্তটা খুলে বল।মায়ার আম্মুও এ কথা শুনে বেশ খুশি হলো। আগের দিনের মত আজকেও মায়া বেশ খুশি মনে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলো। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে অফিসের উদ্দেশ্যে রউনা দিল। আজকে অফিসে মায়ার প্রথম দিন। মায়া মনে মনে ভেবে নিল সে তার বেষ্ট টা দিয়ে কাজ করবে। মায়া অফিসে এসে নিজের কাজ করা শুরু করল কয়েক দিন তার কোন সমস্যা হয় নি ঠিক মত সকল কাজ শেষ করেছে । হঠাৎ পেছন থেকে ম্যানেজার মায়া কে উদ্দেশ্য করে বলল মায়া তুমি এই ফাইল গুলো বসের কেবিনে দিয়ে আসো। মায়া নিঃশব্দে ফাইল গুলো তুলে বসের কেবিনে গেল। স্যার আসবো? ফাইল এর জন্য মায়ার মুখ দেখা জাচ্ছে না। ফাইল  গুলা টেবিলের উপর রেখে যেই না সামনে তাকালো ঠিক তখনই মায়ার নিঃঃশ্বাস আটকে আসলো। সামনে বসা মানুষ টা আর কেউ না সয়ং তাসফিক এহসান। 
তাসফিক এখন নিরলিপ্ত তার মুখ দেখে ভিতরে কি চলছে বুঝা মুসকিল।তাসফিক এহসান শান্ত দৃষ্টি দিয়ে মায়ার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে। এতে মায়া বেশ ভরকে যায়। মায়া আমতা আমতা করে যে না কিছু বলবে, তখনই তাসফিকের শান্ত কন্ঠ সোনা যায়। যাও.. মায়া কিছু না বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করে... মানে?  
তাসফিক এবার একটু রেগে বলল। আমি তোমাকে যেতে বলেছি। মায়া তারা হুর করে বাহিরে গেল। বাহিরে এসে একজন কর্মচারি মেয়ে কে ডেকে মায়া জিজ্ঞেস করল বস কে তখন কর্মচারি মেয়ে টি উত্তর দিল কেন তুমি জাননা? সুমন এহসানের এক মাত্র বড় ছেলে তাসফিক এহসানই হচ্ছে বস আর সুজন এহসানের ছোট ছেলে সিয়াম এই কোম্পানির ডায়রেকটোর। মায়া এই কথা শুনে যেন সাত আসমান থেকে পরল। মায়ার এই অবস্থা দেখে মেয়ে টি জিজ্ঞেস করল তুমি কি ঠিক আছো?  মায়া হ্যাঁ সূচক মাথা নারাল। 
কী হচ্ছে এখানে? পিছু থেকে ভারী পুরুষালী কন্ঠ শুনে মায়া দূর ফুরিয়ে উঠলো। তাসফিক কিছু টা সামনে এসে সকলের সামনে এনাউন্সমেন্ট করলো আজ থেকে মিস মায়া আমার  personal accesten । মায়ার মুখ সাথে সাথে হা হয়ে গেল। মায়া কিছু বলার আগে তাসফিক সেখান থেকে চলে গেল। মায়াকে সকল কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হলো। এক দিকে মায়া খুশি হলেও ওই দিনের কথা মনে পরতেই মায়ার গা টা কেপে উঠে। 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন