#এ_দেখা_শেষ_না_হোক #পর্ব - (০৫)
#writer_sumaiya_akter_sathi
--
রাত একটায় মাহিরার ঘুম ভেঙ্গে যায়। এমনিতেই নতুন জায়গা। তার উপরে বিছানা পরিবর্তন হওয়ায় মাহিরার ঘুম আসছেনা। মাহিরা হাত বাড়িয়ে টেবিল ল্যাম্প জালায়। আলো ছড়িয়ে পরে চারপাশে। মাহিরা উঠে বসে। পাশে তাকিয়ে দেখে মুসকান শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। সে আর মুসকান আজ মুসকানের রুমে ঘুমিয়েছে। যদিও মাহিরাকে আলাদা রুম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুসকানের চাওয়াতে মাহিরা আজ মুসকানের রুমে ঘুমিয়েছে। মাহিরা চোখ ঘুড়িয়ে আশে পাশে কিছু খুজলো। কিন্তু সে কাংক্ষিত জিনিসটা খুঁজে পেলো না।
মাহিরার বেশ পানির তৃষ্ণা পেয়েছে। ভেবেছিলো পানি খেয়ে গলাটা ভিজাবে। তারপর আবার ঘুমিয়ে পরবে। কিন্তু ঘরের কোথাও মাহিরা পানি দেখতে পেলো না। মুসকানের দিকে তাকিয়ে ভাবলো একবার মুসকানকে ডেকে তুলবে। পরক্ষণে ভাবলো মুসকানকে ডাকার প্রয়োজন নেই। বেচারি শান্তিতে ঘুমাচ্ছে ঘুমাক। মাহিরা হাতে ফোন নিয়ে ফোনের ফ্ল্যাস লাইট জালায়। তারপর বিছানা থেকে নেমে ফোন হাতে নিয়ে বের হয়ে যায় রুম থেকে।
আয়ান মাত্র বাড়ি ফিরেছে। যদিও সে এতো রাত করে বাড়ি ফিরেনা। জরুরি কাজ না থাকলে আয়ান তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে আসে। আজ পিকনিক বলে বন্ধুদের পাল্লায় পরেছিলো সে। তাই এতো রাত হলো তার বাড়ি ফিরতে। আয়ানের কাছে বাড়ির এক্সটা চাবি ছিলো। দরজা খুলে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো আয়ান। নিজের রুমের দিকে যাওয়ার জন্য সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালে আয়ানের চোখ পরে ডাইনিং টেবিলের দিকে। আয়ান সিঁড়ি বেড়ে উঠতে চেয়েও উঠলো না। ফিরে আসলো ডাইনিং টেবিলের কাছে। তাকিয়ে দেখলো তার মা তার জন্য খাবার রেখে দিয়েছে।
আগে আয়ান দুই একদিন দেরি করে বাসায় ফিরলে তার মা বসে থাকতো খাবার নিয়ে। আয়ান এতে বেশ বিরক্ত হতো। এতো রাত পর্যন্ত তার মা কেনো জেগে থাকবে? তার মা অসুস্থ হয়ে পরলে কি করবে সে তখন? তাই আয়ান বার বার মালিহা বেগম কে বলেছেন তার জন্য রাত না জাগতে। বুঝিয়ে বলেছে সে মাঝে মধ্যে কাজে আটকে যায়।তাই তার বাসায় ফিরতে দেরি হয়। তার জন্য আর যেনো মালিহা বেগম অপেক্ষা না করে। তারপর থেকে আয়ানের বাড়িতে ফিরতে দেরি হলে মালিহা বেগম খাবার বেড়ে রাখেন আয়ানের জন্য।
আয়ান মৃদু হেসে খাবার গুলো নিয়ে রান্না ঘরের দিকে চলে যায়। আয়ান পিকনিক থেকে খেয়ে এসেছে। এখন তার পক্ষে খাবার খাওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। আয়ানের মনে হলো খাবার গুলো নষ্ট না করে ফ্রিজে রেখে দিবে। তাই সে সব খাবার নিয়ে রান্নাঘরর দিকে যায়।
মাহিরা হাতে ফোন নিয়ে সিঁড়ি বেড়ে নিচে নামছে। সন্ধ্যায় মুসকান তাকে এ বাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছে। মাহিরা যতোদূর জানে এ বাড়ির রান্না ঘর নিচে। তাই মাহিরা ভাবছে নিচে গিয়ে পানি খেয়ে চলে আসবে সে। মাহিরা সিঁড়ি বেড়ে নেমে রান্না ঘরের দিকে যেতে নিলে হঠাৎ মাহিরার কানে কিছু টুং টাং শব্দ ভেসে আসে। মাহিরার কান দুটো খাড়া হয়ে যায়। মাহিরা কান পেতে শোনার চেষ্টা করে শব্দটা কোথা থেকে আসছে?
মাহিরা কিছুক্ষণ পরর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারে শব্দটা রান্না ঘর থেকে আসছে। ভয়ে মাহিরার হাত মুখে চলে যায়। মাহিরা হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখে নিজের মুখ । তার নিশ্বাসের শব্দটুকু যেনো বাহিরে আসতে না পারে তাই সে চেপে ধরে রেখেছে। মাহিরা এক হাত দিয়ে ফোন চেপে ধরলো তার জামার সাথে। ফোনের আলো জেনো চারপাশে না ছড়ায় তাই সে এমনটা করলো। মাহিরা ভুত ভেবে ভয় পাচ্ছে।
মাহিরা বিরবির করল, যদি ভুত হয়? তাহলে তো ভুত তার নিশ্বাসের শব্দ পেয়ে চলে আসবে তার কাছে। এসে যদি তার ঘাড়টা মটকে দেয়? ওমা গো। মাহিরা মনে মনে বারবার পরতে থাকে, লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায য-লিমীন।
মাহিরা শুকনো ঢোক গিললো। এমনিতেই তার গলা পানির তৃষ্ণায় শুকিয়ে ছিলো। আর এখন ভুতের ভয়ে তা শুকিয়ে একদম মরুভূমি হয়ে গিয়েছে। মাহিরা কি করবে ভেবে পেলো না। সে ভাবলো সিঁড়ি বেড়ে উপরে চলে যাবে। তারপর আবার ভাবলো এতো রাতে তো চোর ডাকাতও হতে পারে। এতো বড় বাড়ি। কতো নামি দামি জিনিস এ বাড়িতে। চোর ডাকাত তো আসতেই পারে।
মাহিরা ভাবলো সে চুপিচুপি গিয়ে দেখে আসবে রান্নাঘরে চোর ডাকাত কি করছে। এ বাড়িতে এতো কিছু থাকতে চোর কেনো রান্নাঘরে গেলো? মাহিরা সেটা বুঝতে পারলো না। মাহিরা এবার তার ওড়নার কিছুটা অংশ মুঠো করে তার নাক মুখ আলতো ভাবে চেপে ধরলো। যেনো চোর বা ডাকাত তার চেহারা দেখতে না পারে। মাহিরার চোখ আর কপালের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে শুধু। এভাবেই মাহিরা পা টিপে টিপে রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ায়।
আয়ান রান্নাঘরে এসে ফ্রিজ খুললে দেখতে পায় ফ্রিজে কোনো যায়গা নেই। অলরেডি ফ্রিজ খাবার দিয়ে ভর্তি। আজ তার ফুপ্পিরা আসায় অনেক রান্না করা হয়েছে বাড়িতে। বেঁচে যাওয়া খাবার গুলো রেখে দিয়েছে ফ্রিজে। আয়ান ভেবে পেলো না সে কি করবে। খাবার গুলো ফ্রিজে না রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে। আয়ান কিছু একটা ভেবে ফ্রিজের সব খাবার বের করতে শুরু করে। সব খাবার বের করে আবারো একটা একটা করে সব খাবার ফ্রিজে সাজিয়ে রাখতে লাগলো সে। আয়ানের মনে হলো খাবার গুলো গুছিয়ে রাখলে জায়গাটা কম লাগবে। হলোও তাই। এখন সব খাবার ফ্রিজে এটে গিয়েছে ।
এদিকে মাহিরা পা টিপে টিপে রান্নাঘরের দরজার সামনে এসে দাড়ায়। মনে মনে দোয়া ইউনুস পরছে সে। মাহিরা রান্নাঘরের দরজায় দাড়িয়ে ভেতরে উঁকি দেয়। দেখতে পায় পুরো রান্নাঘর অন্ধকার হয়ে আছে। কিন্তু ফ্রিজ খোলা। ফ্রিজের আলো পরছে রান্নাঘরের এক কোনায় মেঝেতে। মাহিরা চারপাশে চোখ বুলিয়ে আবারও ফ্রিজের দিকে তাকায়। ভালো ভাবে খেয়াল করলে দেখতে পায় ফ্রিজের আলোতে কারো ছায়া ফ্লোরে পরে আছে। ফ্রিজ খোলা থাকার কারনে মাহিরা অপর পাশের মানুষটিকে দেখতে পায় না।শুধু সে দেখতে পায় কারো ছায়া মেঝেতে পরে আছে।
মাহিরা আবারো শুকনো ঢোক গিলে। সে শুনেছে ভুতের ছায়া হয়না। মুভিতেও দেখেছে। তাই মাহিরা নিশ্চিত হলো এটা কোনো মানুষের ছায়া। হয়তো চোর। ডাকাত হলে আরো বেশি মানুষের ছায়া থাকতো। মাহিরা ঘাপড়ি মেরে দাঁড়িয়ে আছে চোরের পরবর্তী পদক্ষেপ দেখার জন্য। মনে মনে ভাবছে চোর ফ্রিজ খুলে কি করছে? এসেছে চুরি করতে। চুরি করে চলে যাবে না? ফ্রিজ খুলেছে কেনো? পরক্ষনে ভাবলো হয়তো চুরি করতে এসে খুদা পেয়ে গেছে বেচারার। বেচারা চোর। খুদা লাগার কারনে ফ্রিজ খুলে খাবার খাচ্ছে।
মাহিরার ভাবনার মাঝেই হঠাৎ থাস হয়ে ফ্রিজের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মাহিরা কিছুটা কেঁপে ওঠে। পুরো রান্নাঘর অন্ধকারে ছেয়ে যায়। মাহিরা ভয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে,
- চোর..চোর..কে কোথায় আ..
মাহিরার আর কিছু বলতে পারে না। তার আগেই কেউ এসে মাহিরার মুখ চেপে ধরে। আয়ান মাত্রই সব খাবার ফ্রিজে রেখে উঠে দাঁড়ায়। এমন সময় শুনতে পায় কোনো মেয়ে চোর চোর বলে চিৎকার করছে। আয়ান বিরক্ত হয়। অন্ধকারে এসে মেয়েটির মুখ চেপে ধরে। অন্য হাতে মেয়েটিকে হেঁচকা টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে রাখে।
হঠাৎ টানে মাহিরার হাত থেকে তার ফোন পরে যায়। ফোনটা উল্টো হয়ে পরায় ফোনের ফ্লাস লাইট এখনো জ্বলে আছে । আয়ান বিরক্ত চোখে তাকায় মেয়েটির দিকে। এতো রাতে চিল্লানোর জন্য ইচ্ছে করলো এক্ষনি মেয়েটিকে থাপ্পড় দিয়ে তার সব দাঁত ফেলে দিতে। ফোনের ফ্লাস লাইট থেকে হালকা আলো আসায় আয়ান বিরক্ত চোখে তাকায় মেয়টিকে দিকে। মেয়েটির চোখের দিকে তাকাতেই আয়ান এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। থমকে যায় আয়ানের পৃথিবী। মেয়েটির চোখে তাকিয়ে আয়ান ভুলে যায় তার সমস্ত পৃথিবীকে। আয়ান মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে মেয়েটির চোখে। তার মন অজান্তেই বলে ওঠে, "এ দেখা শেষ না হোক"।
মাহিরার মুখ চেপে ধরায় মাহিরা বোবা মানুষের মতো মুখ দিয়ে শব্দ করতে থাকে। নিজেকে ছাড়াতে চায়। কিন্তু মাহিরা নিজেকে ছাড়াতে পারে না। তার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে। সে চাইলেও সরতে পারছে না। মাহিরার এক হাত তার মুখে। যেটা সে ওড়না দিয়ে চেপে ধরে রেখেছিলো। সেভাবেই আয়ান তাকে চেপে ধরে রেখেছে। ফলে মাহিরার এক হাত আটকা পরে গিয়েছে ।সে অন্য হাতে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। এদিকে আয়ান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়েটির চোখের দিকে। তার মন আজ বারবার একই কথা বলছে "এ দেখা শেষ না হোক"। শেষ না হোক..।
মাহিরা আপছা আলোয় দেখলো তার সামনে দানবের মতো একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। লোকটি তার দানবের মতো হাত দিয়ে মাহিরার মুখ চেপে ধরে রেখেছে। মাহিরা নড়তেও পারছে না। পুরুষটি তার অনেকটাই কাছে। মাহিরার মনে হচ্ছে সে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাবে। আয়ান খেয়াল করলো মেয়েটির শুধু চোখ আর কপাল দেখা যাচ্ছে। মেয়েটির মুখ ওড়না দিয়ে ডাকা। সে বুঝলো না মেয়েটি মুখ ঢেকে রেখেছে কেনো।
পরক্ষনে আয়ানের মনে হলো মেয়েটির তো মুখ ঢাকা। আর সেও মেয়েটির মুখ চেপে ধরে রেখেছে।তাতক্ষণিক কিছু একটা ভেবে আয়ান মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। মেয়েটির থেকে দু কদম পিছিয়ে পাশে থাকা সুইচ বোর্ট থেকে রান্না ঘরের লাইট অন করে। ঘুরে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলে, আর ইউ ওকে?
মাহিরা ছাড়া পেয়ে হাঁপাতে থাকে। আর একটুর জন্য তার দম আঁটকে যাচ্ছিলো। মাহিরা হাটু গেড়ে বসে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। আয়ান মেয়েটিকে অস্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে দেখে তাড়াতাড়ি এক গ্লাস পানি নিয়ে আসে। মেয়েটির সামনে গ্লাসটি বাড়িয়ে দিয়ে বলে, টেক ইট ।
মাহিরা কোনো কথা ছাড়াই পানির গ্লাসটা নিয়ে এক চুমুকে গ্লাসের সবটুকু পানি শেষ করে ফেলে। খালি গ্লাসটা না তাকিয়েই আবারো আয়ানের দিকে ফিরিয়ে দেয়। আয়ান কিছুটা ভ্রু কুচকায়। কিন্তু মুখে কিছু বলে না। আয়ান বাড়িয়ে দেওয়া গ্লাসটা তার হাতে নেয়।
মাহিরা পানি খেয়ে গলা ভিজিয়ে সস্তির নিশ্বাস ফেলে। উঠে দাঁড়িয়ে গলা চেঁচিয়ে বলে,
- আপনি কি মানুষ? নাকি জানোয়ার?
মাহিরাকে দেখা মাত্রই আয়ান তব্দা খেয়ে চেয়ে থাকে মাহিরার দিকে। তার কানে কোনো শব্দই পৌঁছাচ্ছে না। এতক্ষণ মাহিরাকে সে স্পষ্ট দেখতে পায়নি। কিন্তু এখন সে মাহিরাকে স্পষ্ট ভাবেই দেখতে পাচ্ছে।
মেয়েটির গায়ের রং তুলনামূলক অনেক ফর্সা। কালো হরিনী চোখ দুটো। কি সুন্দর ডেঁপডেঁপ করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। খাড়া নাক। গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট দুটো। ঠোঁটে এসে আটকে যায় আয়ান। মেয়েটির নিচের ঠোঁটে বা দিকে ছোট্ট কালো কিছু একটা। সেই বরাবর ঠোঁটের নিচেও থুতনিতে সেইম কালো ছোট্ট কিছু একটা আছে।
তিল..। কালো তিল। আয়ান মনে মনে বিরবির করল, আচ্ছা এটা কি সত্যিই তিল? হ্যা এটাকে তো তিল বলা হয়। ঠোঁটের নিচের টা যদি তিল হয়। তাহলে তো ঠোঁটের টাও তিল। আয়ানের মাথা কাজ করছে না। আয়ান ভাবনায় পরে যায়।
একটা মেয়েকে আল্লাহ কতোটা সুন্দর আর নিখুঁত ভাবে তৈরি করলে মেয়েটির ঠোঁটে আর ঠোঁটের নিচে তিল দেয়? আয়ান মনে মনে বিরবির করে, মাশাল্লাহ..। মাহিরা লোকটিকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আবারো বলে ওঠে,
- দেখে তো মানুষই মনে হয়। জানোয়ারদের মতো আচরণ করছেন কেনো?
আয়ান এবার শুনতে পায় মাহিরার বলা কথাটা। রাগে আয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। আয়ান হুংকার দিয়ে ওঠে,
- হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ? কে জানোয়ার?
মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,
- আপনি যদি জানোয়ার না হন। তাহলে আমাকে জানোয়ারদের মতো চেপে ধরলেন কেনো?
মাহিরার মুখে আবার জানোয়ার শব্দটা শুনে আয়ানের রাগ বেড়ে দিগুণ হয়। আয়ান রেগে দাঁতে দাত চেপে বলে,
- ইডিয়েট। তুমি ষাঁড়ের মতো চিল্লাছিলে কেনো?
মাহিরা হা হয়ে চেয়ে থাকে আয়ানের দিকে। এই লোক তাকে ষাঁড় বলছে? মাহিরা নিজেও এবার রেগে গিয়ে বলে,
- ওহো..আপনি লোকের বাসায় চুরি করতে আসবেন। আর তারা কি তাকিয়ে থেকে আপনার চেহারা দেখবে? সেটা ভেবে চুরি করতে এসেছেন? দেখে তো ভালো ঘরের ছেলেই মনে হয়। লোকের বাসায় চুরি করেন কেনো?
মাহিরা কথা শুনে আয়ানের রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে যায়।এই মেয়ে একটু আগেই তাকে জানোয়ার বলেছে। এখন আবার চোর অপবাদ দিচ্ছে। চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে আয়ানের। মনে হচ্ছে এক্ষনি মাহিরাকে টুপ করে গিলে খেয়ে ফেলবে।আয়ান তার হাতে থাকা গ্লাসটা নিয়ে মাহিরার দিকে এগিয়ে আসে। গ্লাসটা মাহিরার গলা বরাবর উঠিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে কটমট করে বলে,
- আর একটা ফালতু কথা বললে এই গ্লাসটা সম্পূর্ণ গলায় বসিয়ে দিবো।
আয়ানের চিবিয়ে বলা কথায় মাহিরা কিছুটা কেঁপে উঠে। লোকটি তার গা ঘেসে দাড়িয়ে আছে। আর গ্লাসটাও তার গলার একদম কাছে। মাহিরা গ্লাসের থেকে চোখ সরিয়ে লোকটির দিকে তাকায়। লোকটির চোখ অসম্ভব লাল। দেখে মনে হচ্ছে চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে।
মাহিরা শুকনো ঢোক গিলে। সে এখন লোকটিকে ভয় পাচ্ছে। সে তো লোকটির চুরি করাতে বাধা দিয়েছে। লোকটি যদি সত্যিই এখন তার গলায় কাঁচের গ্লাস ঢুকিয়ে দেয়? সর্বনাশ। মাহিরা বুঝতে পারে সে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে দাড়িয়ে আছে। মাহিরা এবার একটু সাহস নিয়ে আমতা আমতা করে বলে, আ.. আমি আর কিছুই বলবো না। আ..আপনি প্লিজ দূরে সড়ুন।
আয়ান মাহিরার ভয়ার্ত চোখ দেখে মনে মনে হাসে। তারপর মাহিরার থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ায়। মাহিরা এবার সস্তির নিশ্বাস ফেলে। ভাবে এ যাত্রায় সে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছে। মাহিরা আর কিছু বললো না। একবার তাকালোও না আয়ানের দিকে। ফ্রিজ খুলে একটা পানির বোতল বের করে হাতে নিলো মাহিরা।
আয়ান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মাহিরার সমস্ত কার্জ কলাপ দেখছে। মাহিরা পানির বোতল হাতে নিয়ে ঘুরে দরজার দিকে তাকাতেই আয়ানের সাথে চোখাচোখি হয় তার। আয়ান আগে থেকেই তাকিয়ে ছিলো মাহিরার দিকে। মাহিরা ভয়ে আর লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয়। আয়ান তা দেখে মৃদু ঠোঁট বাকায়। মনে মনে বিরবির করে, মেয়েটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
মাহিরা চেয়েছিলো সে পানি নিয়ে রুমে চলে যাবে। কিন্তু এই লোকটা তো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সরছেও না। মাহিরা কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। কখন আবার ভুল কিছু বলে ফেললে লোকটি আবারো গ্লাস নিয়ে তেড়ে আসবে। বলা তো যায়না লোকটি কেমন। এমনিতেই সে লোকটার চুরি করাতে ব্যাগড়া দিয়েছে। মাহিরা আর আয়ানের দিকে তাকানোর সাহস পেলো না। মাথা নিচু রেখে মিনমিনিয়ে বলল,
- আপনি দরজা থেকে সড়ুন প্লিজ। আমি রুমে চলে যাচ্চি। আপনি আবার শান্তিমতো চুরি করুন।
মাহিরার শেষ কথা শুনে আয়ান বিরক্ত হলো।বলল,
- ইডিয়েট এটা আমার বাড়ি। আমার বাড়িতে আমি চুরি করবো কোন দুঃখে?
মাহিরা অবাক চোখে তাকায় আয়ানের দিকে। কি বলল এই লোক? এটা নাকি তার বাড়ি? এটা না তার মামার বাড়ি? পরক্ষনে মাহিরা বলে ওঠে, কিহ..? এটা সত্যিই আপনার বাড়ি?
আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে সহসাই জবাব দেয়, হ্যা। মাহিরা কোমরে এক হাত রেখে কিছু একটা ভেবে বলে, এটা আপনার বাড়ি কি করে হয়? এটা তো আমার মামার বাড়ি।
আয়ান মাহিরার দিকে তাকিয়ে আবারো বিরক্ত হয়। এই মেয়ের মাথায় কি কিছুই নেই নাকি? বিরবির করর, ইডিয়েট একটা। মাহিরার দিকে বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলে, তোমার মামা কে? মাহিরা বলতে শুরু করে, আমার চার মামা। শাজাহান মামা, আনোয়ার মামা, জয়নাল মামা,আরমান মামা। আয়ান কিছু একটা ভেবে মাহিরাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার মায়ের নাম কি? মাহিরা ছোটো করে জবাব দেয়, পরী।
আয়ান বুঝলো এটা তার ফুপ্পির মেয়ে। সন্ধ্যায় তার সাথে ফুপ্পির সাথে তার দেখা হয়েছিলো। আয়ান মনে মনে বিরবির করে, সুন্দরী মায়ের সুন্দরী মেয়ে এটা। মাহিরার দিকে তাকিয়ে আবারো জিজ্ঞেস করে,
- আর তোমার নাম ?
মাহিরা আয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নিচু করে বলে,
- আমি অপরিচিত কাউকে আমার নাম বলি না।
আয়ান মাহিরার মুখে এমন কথা শুনে নিঃশব্দে হাসলো। পরপর বলল,
- আসো তাহলে আমরা পরিচিত হই? আমিও তো চাইছি তোমার সাথে পরিচিত হতে।
মাহিরা এবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে জোর গলায় বলে, আমি এখন ঘুমাবো। দরজা থেকে সড়ুন তো। বখাটে ছেলে কোথাকার।
আয়ান ভ্রু কুচকায়। বলে, আমি বখাটে ছেলে? মাহিরার সহসাই জবাব দেয়, তা নয় তো কি? রাত বিরাতে এক অচেনা মেয়ের সাথে পরিচিত হতে চাইছেন। এগুলো তো বখাটে ছেলেদেরই লক্ষন।
আয়ান হা হয়ে চেয়ে আছে মাহিরার কথা শুনে। সে তো কখনো কোনো মেয়ের আশেপাশেও ঘেষেনি। পরিচয় তো অনেক দূরের কথা। আর এই মেয়ে তাকে একটার পর একটা অপবাদ দিয়েই যাচ্ছে ? আয়ান এবার ধমক দিয়ে বলে,
- ইডিয়েট। আমি মোটেও বখাটে ছেলে না।
মাহিরা এবার শান্ত ভাবে আয়ানের চোখে চোখ রেখে বলে,
- আর আমি মোটেও ইডিয়েট না।
আয়ান নিজেও মাহিরার চোখে চোখ রাখে। তার মন বলছে এই চোখ তাকে শেষ করে ফেলবে। আয়ান মনে মনে ভাবছে, কেউ একজন বলেছিলো চোখে চোখ রাখার মতো রোমান্টিক কিছু হয় না। আয়ানের এখন মনে হচ্ছে, সে একদম ঠিক কথা বলেছে।
মাহিরা চোখ নামিয়ে নেয়। বলে, সড়বেন আপনি? আয়ান এখনো মাহির দিকে তাকিয়ে আছে। শান্ত গলায় বলে, নো ? মাহিরা আয়ানের দিকে আশ্চর্য চোখে চেয়ে বলে, মানে ? আয়ানের আবারো শান্ত গলা শোনা যায়।
- নাথিং। কেনো এসেছিলে এখানে?
মাহিরা নিচু গলায় বলে, পানি খেতে। আয়ান তৃক্ষন্ন দৃষ্টিতে মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার রুমে পানি নেই ? মাহিরা সহসাই জবাব দেয়,
- খুজলাম তো, পেলাম না। মুসকান হয়তো ওর রুমে পানি রাখতে ভুলে গিয়েছে।
আয়ান এবার রেগে বলে ওঠে, তুমি ওই ইডিয়েটার রুমে ঘুমিয়েছো? মাহিরা বিরক্ত হয় এই লোকের উপর। মুসকানের মতো ভালো একটা মেয়েকে এই লোক ইডিয়েট বলছে? মাহিরা বলে ওঠে , হ্যা ঘুমিয়েছি। কিন্তু আপনি মুসকানকে ইডিয়েট বলছেন কেনো? আয়ান সহসাই বলে,
- ইডিয়েট কে ইডিয়েট বলবো না তো কি বলবো?
মাহিরা এবার বেশ রেগে যায় আয়ানের উপর। রেগে বলে,
- মুসকান মোটেও ইডিয়েট না। বুঝেছেন আপনি? আর কখনো মুসকানকে ইডিয়েট বলবেন না।
আয়ান মাহিরার দিকে চেয়ে দেখলো মেয়েটা রাগে ফুসছে। রাগে মেয়েটার নাক লাল হয়ে গিয়েছে। গোলাপি ঠোঁট দুটো মৃদু কাপছে। আয়ান মনে মনে হাসলো। এই মেয়ে তার বোনের জন্য তারই সাথেই ঝগড়া করছে? ইন্টারেস্টিং।
আয়ান আর কথা বাড়ালো না। দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে বলল, রুমে যাও। মাহিরা এখনো রাগে ফুসছে। সে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,
- হ্যা যাচ্ছি। আপনার মতো বখাটে ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার আমারও কোনো ইচ্ছে নেই।
আয়ান পিছন থেকে ধমক দিয়ে বলে ওঠে, কি বললে তুমি? মাহিরা সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে পিছন ঘুরে আবারো বলে,
- যা বলেছি একদম ঠিক বলেছি। আপনি আসলেই একটা বখাটে ছেলে। বজ্জাত লোক। খাড়ুস লোক।
বলেই মাহিরা সিঁড়ির দিকে দৌড় দেয়। আয়ান হা হয়ে চেয়ে থাকে মাহিরার যাওয়ার পানে। মেয়েটা অন্ধকারে দৌড়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। পরে গেলে কি হবে এখন? আয়ান বিরবির করল, ইডিয়েট একটা।
মাহিরা এক দৌড়ে মুসকানের রুমে চলে আসে। কিভাবে আসলো সে নিজেও জানেনা। এসেই হাঁপাতে থাকে মাহিরা। বিছানার পাশে বসে হাতে থাকা পানির বোতল থেকে পানি খায়। মনে মনে বলে, ভালোয় ভালোয় এ যাত্রায় বেঁচে গিয়েছে। তাকে ধরতে পারলে এবার নির্ঘাত ওই লোক তার গলায় কাচের গ্লাস ঢুকিয়ে দিতো। কি সাংঘাতিক লোক বাবা।
মাহিরা মনে মনে ভেবে নিলো, সকালে উঠেই সে তার মামার কাছে বিচার দিবে ওই লোকের নামে। কিন্তু কে ওই লোকটা? নিজেকে আবার বাড়ির মালিক দাবি করছে। মাহিরা মুখ ভেঙ্গচালো। বিরবির করলো, মালিক না ছাই। নিশ্চয়ই তার সাথে ফাপড় নিয়েছে। বখাটে ছেলে বলে কথা।
মাহিরা ভেবেই নিয়েছে সকালে মুসকানের কাছে জিজ্ঞেস করবে ওই ছেলের ব্যাপারে । তারপর তেল মশলা মাখিয়ে তার বড় মামার কাছে বিচার দিবে। মাহিরা শুনেছে তার বড় মামা নাকি খুব রাগী মানুষ। মাহিরা বিচার দিলে নিশ্চয়ই তার মামা ওই ছেলেকে ইচ্ছে মতো ধোলাই দিবে। মাহিরা মনেমনে খুশি হলো। সকালে দেখে নিবে সে ওই লোককে। আর কিছু না ভেবে লাইট অফ করে শুয়ে পরলো মাহিরা।
আয়ান রান্নাঘরের লাইট অফ করে রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। লাইট অফ করায় পুরো রান্নাঘর অন্ধকার হওয়ার কথা। কিন্তু রান্নাঘরের এক কোনায় কিছুটা আলো জ্বলে আছে। আয়ান সেদিকটায় যায়। দেখতে পায় ফ্লোরে একটা ফোন পরে আছে। ফোনের ফ্লাস লাইট এখানো জালানো। সেখান থেকেই আলো আসছে মূলত।
আয়ান ফোনটা হাতে তুলে নেয়। ফোনটা উল্টো ঘুড়িয়ে দেখতে পায় ফোনের উপরের গ্লাস ফেটে গিয়েছে। আয়ান সাইড বাটনে টিপ দিয়ে দেখলো ফোনটা অন হয় কিনা। ফোন অন হলো। তার মানে ফোনের কাচটা ফেটেছে শুধু।
কিন্তু আয়ান থমকে যায় ফোনের উপরের ওয়াল পেপার দেখে। ওয়াল পেপারে মাহিরার পিক দেওয়া। ছবিটিতে মাহিরা নীল রংয়ের ফুল হাতার একটা শীতের জ্যাকেট পরে আছে। তার কোলে একটা সাদা বিড়াল গাপটি মেরে বসে রয়েছে। মাহির মৃদু ঘাড় বাকিয়ে দু হাত তুলে বিড়ালের মতো মেঞ পোজ দিয়ে ছবিটা তুলেছে। মনে হচ্ছে মাহিরা ফোন থেকে বেরিয়ে এক্ষনি খামচি দিবে কাউকে।
মাহিরার নীল জ্যাকেটটা একটু ওভার সাইজ হওয়ায় দেখতে বেশ কিউট লাগছে তাকে। আয়ান পিকটা দেখে মুচকি হাসে। পরপর পকেট থেকে তার ফোন বের করে মাহিরার মোবাইল সহ পিকটার একটা ছবি তুলে নেয়।
_________
সকাল আটটায় মাহিরার ঘুম ভাঙ্গে। মাহিরা ওঠে আশে পাশে তাকালে মুসকানকে রুমে দেখতে পায় না। মাহিরা হাত বাড়িয়ে বালিশের কাছে নিজের ফোন খুঁজতে থাকে। ফোন পায় না। বেড সাইড টেবিলে খুঁজলো। ফোন নেই।
মাহিরা ওঠে বসে। ফোন কোথায় গেলো তার? সে তো রাতে এখানেই ফোন রেখে ঘুমিয়েছিলো। রাতের কথা মনে পরতেই মাহিরার সব ঘটনা মনে পরে যায়। তখন মাহিরার হাত থেকে ফোন পরে গিয়েছিলো। আর সে তো রান্নাঘর থেকে ফোন আনেনি । নিশ্চয়ই ফোনটা এখনো রান্নাঘরে পরে আছে।
মাহিরা বিছানা থেকে নেমে দাড়ায়। তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায়। ফ্রেশ হয়ে তাকে নিচে যেতে হবে। মাহিরা মনে মনে একশো একটা গালি দেয় ওই অচেনা লোককে। ওই লোকটার জন্যই সব কিছু হয়েছে। এখন ভালোয় ভালোয় ফোনটা তার পেয়ে গেলেই হয়।
তিনদিন পর আজ বাসায় ফিরেছে অর্নব। অফিসের কাজে তিনদিন আগে সিলেট গিয়েছিলো সে। অর্নব রুমে এসেই ফ্রেশ হতে চলে যায়। লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখে মুসকান তার রুমে বসে আছে। বিছানায় পা ঝুলিয়ে আড়ামছে বসে আছে মুসকান। অর্নব ভ্রু কুচকায়। বিরবির করে, এই মেয়ে সকাল সকাল তার রুমে কি করছে?
অর্নব কাশি দেয়। মুসকান ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকায় অর্নবের দিকে। অর্নব মুসকানকে দেখে বলে, কিছু বলবি? মুসকান সহসাই বলে, কিছু না বলার থাকলে কি তোমার রুমে আসতাম অর্নব ভাই?
অর্নব মুসকানের দিকে চেয়ে বলে,
- এসব পেঁচানো কথা না বলে কি বলতে এসেছিস বল।
মুসকান এবার অর্নবের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, দাও। অর্নব ভ্রু কুচকে বলে, কি দিবো? মুসকান বলে ওঠে, আমার চা পাতা দাও। অর্নব বলে, কিসের চা পাতা? মুসকান বাড়িয়ে রাখা হাত গুটিয়ে নিয়ে বলে, কিসের চা পাতা মানে? জানো না কিসের চা পাতা? সিলেট যখন গিয়েছিলে? তখন তোমাকে বারবার বলিনি আমার জন্য চা পাতা নিয়ে আসতে?
অর্নব না জানার ভান করে বলে, ওহ আচ্ছা। মনে ছিলো না। মুসকান কিছুটা রেগে যায়। বলে, মনে ছিলো না মানে কি? তুমি জানোনা চা আমার কতোটা প্রিয়?
অর্নব এবার কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে, বললাম তো মনে ছিলো না। পরের বার নিয়ে আসবো। মুসকান বলে ওঠে, তোমার কবেও বা কি মনে থাকে অর্নব ভাই ?
অর্নব ভ্রু কুচকে বলে, আর কি মনে নেই আমার?
মুসকান অর্নবের দিকে তাকিয়ে বলে, কি মনে আছে তোমার? অর্নব সহসাই জবাব দেয়, সবকিছুই তো মনে আছে আমার। মুসকান এবার অর্নবের চোখে চেয়ে বলে,
- কতোগুলো কল আর মেসেজ দিয়েছি তোমাকে? মনে আছে?
অর্নব কিছু বললো না। মুসকান আবারো বলল, এতোগুলো কল দিলাম। একটা কলও ধরলে না কেনো অর্নব ভাই? অর্নব চেয়ারে বসে বলে, ব্যাস্ত ছিলাম। তাই তোর কল রিসিভ করতে পারেনি। মুসকান উঠে দাঁড়িয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে বলে, ব্যস্ততা শেষে নিশ্চয়ই ফোন চেক করারও সময় পাওনি? তাই না অর্নব ভাই?
অর্নব আর কিছু বলতে পারলো না। কি বলবে সে? যে সে ইচ্ছা করই মুসকানের কল রিসিভ করেনি? অর্নব মুসকানের দিকে তাকিয়ে রইল। মুসকান তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। কোনো কিছু না বলেই চলে যায় অর্নবের রুম থেকে। অর্নব শান্ত চোখে দেখে সেটা। মুসকান বের হয়ে যেতেই অর্নব দীর্ঘশ্বাস ফেললো। বিরবির করল, তুই যেদিকে হাটছিস সেদিকে তোর ধ্বংস মুসকান।
মাহিরা নিচে নেমে রান্নাঘরে এসেছে। রান্নাঘরে এসে দেখে তার মামীরা রান্না করছে। মাহিরা রান্নাঘরে উঁকি ঝুঁকি মেরে তার ফোন খুঁজছে। মালিহা বেগম মাহিরাকে দেখে জিজ্ঞেস করেন, কিছু লাগবে মা? মাহিরা হেসে বলে,
- না মামুনি কিছু লাগবে না। আচ্ছা মামুনি তোমরা কি রান্নাঘরে এসে কিছু পেয়েছিলে?
মালিহা বেগম মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলেন, না তো। কি পাবো? মাহিরা আর কিছু বললো না। রাতের ঘটনা সে আগে মুসকানকে জানাতে চায়। তার আগে জানা দরকার ওই লোকটা কে। মাহিরা হেসে বলে, কিছু না মামুনি। আমি আসছি।
মালিহা বেগম এবার বলেন, আচ্ছা যাও। আর মুসকান কে বলবে নিচে আসতে। আজকে স্পেশাল চা বানিয়েছি ওর জন্য। তোমার আর মুসকানের চা উপরে পাঠিয়ে দিবো।
মাহিরা স্পেশাল চায়ের কথা শুনে মালিহা বেগমের কাছে এসে বলে, মামুনি। আজকের চা স্পেশাল কেনো? মালিহা বেগম হেসে বলেন, তোমার মেঝো মামার ছেলে আছে না অর্নব? সিলেট থেকে অনেক গুলো চা পাতা এনেছে। সেটা দিয়েই আজকের চা বানিয়েছি।
মাহিরা খুশি হলো। তারও চা প্রিয়। বলল, মামুনি মুসকানের আসতে হবেনা। আমাকে দাও। আমি চা নিয়ে যাচ্ছি। মালিহা বেগম মাহিরার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি নিতে পারবে না মা। হাতে পরে যাবে তোমার। মুসকানকে বলো ও এসে নিয়ে যাবে।
মাহিরা জেদ ধরলো। বলল, না মামুনি প্লিজ প্লিজ আমাকে দাও। আমি নিয়ে যাচ্ছি। প্লিজ মামুনি। মালিহা বেগম না পেরে মাহিরাকে হাতে চায়ের ট্রে দিলেন। বললেন, সাবধানে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠবে কেমন? মাহিরা সম্মতি জানিয়ে চায়ের ট্রে নিয়ে উপরে চলে যায়।
চলবে..