ফন্ট সাইজ:
থিম:
এদেখা শেষ না হোক

৪৯তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া আক্তার সাথী

#এ_দেখা_শেষ_না_হোক #পর্ব - (৪৯)

#writer #sumaiya_akter_sathi 
--
সকাল আটটা, আয়ান রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ড্রয়িং রুমে। রহমত চাচা আয়ানের লাগেজ গাড়িতে তুলছেন। শাজাহান শিকদার গম্ভীর মুখে বসে আছেন সোফায়। আয়ান আজ সকালে জানিয়েছে সে আমেরিকা যাচ্ছে। হঠাৎ আয়ান আমেরিকার যাচ্ছে কেনো শাজাহান শিকদার জানেন না। 
শাজাহান শিকদার আয়ানের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলেন, তুমি হঠাৎ আমেরিকা যাচ্ছো কেনো আরিয়ান? আয়ান দাঁড়িয়ে থেকে ছোট করে বলে, কাজ আছে। শাজাহান শিকদার বলে ওঠেন, কি এমন কাজ পরলো যে তোমার আমেরিকা যেতে হচ্ছে? আয়ান দাঁড়িয়ে থেকে বলে, পার্সনাল কিছু কাজ আছে বাবা। শাজাহান শিকদার বলে ওঠেন, 
- তোমার আবার কিসের পার্সনাল কাজ? তুমি কি বিয়ে করেছো নাকি? যে তোমার পার্সনাল কাজ থাকবে?
আয়ান হ্যা না কিছুই বললো না। শাজাহান শিকদার আবারো বলে ওঠেন, বাড়ি ফিরবে কবে? আয়ান ছোট করে বলে, তিনদিন পর। শাজাহান শিকদার আর কিছু না বলে বললেন, ঠিক আছে যাও। সাবধানে যাবে আর পৌঁছে আমাকে কল করবে। আয়ান ছোট করে বললো, ওকে। শাজাহান শিকদার আবারো বলেন, তোমার সঙ্গে অর্নবকে নিয়ে যাও। অর্নব তোমাকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত দিয়ে আসবে। আয়ান আর কিছু বললো না। অর্নব এসে আয়ানের পাশে দাড়িয়ে বললো, চলো ভাইয়া দেরি হয়ে যাচ্ছে। 
আয়ান এবার একঝলক উপরের সিঁড়ির দিকে তাকায়। পরপর চোখ ঘুড়িয়ে উপরে তাকিয়ে কাউকে খুঁজে। কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে দেখতে না পেয়ে আয়ানের মেজাজ আরো বেশি খারাপ হয়। আয়ান আর কিছু না বলে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। অর্নবও আয়ানের পিছু পিছু যায়। 
আয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ির কাছে এসে গাড়ির দরজা খুলে গাড়িতে উঠতে নিলে তার পা থেমে যায়। অর্নব পেছন থেকে বলে ওঠে, কি হলো ভাইয়া? থেমে গেলো কেনো? আয়ান অর্নবকে কিছু বললো না। গাড়ির দরজা সযোরে আঁটকে আবারো হনহনিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো। অর্নব ভ্রু কুঁচকে তাকায় আয়ানের যাওয়ার পানে। পরপর আবারো সে আয়ানের পিছু পিছু বাড়ির ভেতরে যায়। 
শাজাহান শিকদার এখনো ড্রয়িং রুমে বসে আছেন।আয়ানকে আবারো বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেখে তিনি বলে ওঠেন, কি হলো আরিয়ান? কিছু ফেলে গেলে নাকি? আয়ান সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে বলে ওঠে, 
- লাইফের সবচেয়ে দামি কিছু ফেলে যাচ্ছি। 
আয়ানের কথা শাজাহান শিকদার বুঝলেন না। কিন্তু অর্নব আয়ানের পিছু পিছু এসে আয়ানের কথা শুনে মিটিমিটি হাসে। কাল রাতে ফাহিম তাকে ফোন করে জানিয়েছিলো আয়ানের অবস্থার কথা। তখন অর্নব ছাদে এসে সে আর ফাহিম মিলে আয়ানকে ধরে ঘরে নিয়ে গিয়েছিলো। অর্নবের ধারনা মাহিরার সাথে আয়ানের কোনো ঝামেলা হয়েছে। তার জন্য আয়ান রাতে ওইভাবে ছাদে পরে ছিলো।
মাহিরা বসে আছে নিজের রুমে। কাল রাতের ঘটনার পর থেকে তার সাথে আর আয়ানের দেখা হয়নি। আর না মাহিরা নিজের রুম থেকে বেরিয়েছে। সকালে মুসকান তার রুমে এসে জানিয়েছে আয়ান দেশের বাইরে যাচ্ছে। তাই মাহিরা নিজেকে আরো বেশি ঘড় বন্ধি করে রাখছে। 
মাহিরা খাটে পিঠ ঠেকিয়ে হাটু গুজে বসে আছে। বসে বসে আনমনে কিছু ভাবতেই তার চোখ বেড়ে নিঃশব্দে পানি গড়িয়ে পরে। লোকটা তাকে একবারও বললো না সে চলে যাচ্ছে। আর না তার সাথে দেখা করতে আসলো। লোকটা সত্যিই বোধহয় তাকে বিয়ে করা খুব বড় ভুল করে ফেলেছে। মাহিরাও চায় ওই লোক যেহেতু ভুল করেছে তাহলে তাকে ছেড়ে দিক। সে কারো লাইফে আফসোসের কারণ হয়ে থাকতে চায় না। মাহিরার ভাবনার মাঝেই হঠাৎ তার রুমের দরজায় নক পরে। 
মাহিরা এক হাতে নিজের চোখের পানি মুছে ডেকে বলে, কে? ওপাশ থেকে কোনো জবাব আসলো না। আবারো দরজা নক করার শব্দ ভেসে আসলো কানে। মাহিরা এবার বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায়। আবারো বলে, কে মুসকান? কারো সারা শব্দ নেই। মুসকান কিছুক্ষণ আগে তার রুম থেকে গিয়েছে। তাই মাহিরার ভাবনা হয়তো মুসকান এসেছে। মাহিরার কথায় এবারো দরজা নক করার শব্দ ভেসে আসলো। 
মাহিরা এবার বিরক্ত হয়ে দরজা খুলতে যায়। দরজা একটু খুলে সামনে তাকাতেই আয়ানকে দেখে সে তাড়াতাড়ি আবারো নিজের রুমের দরজাটা আটকাতে নেয়। কিন্তু তার আগেই আয়ান মাহিরার রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পরে। 
মাহিরা আয়ানকে দেখে কয়েক পা পিছিয়ে যায়। আয়ান মাহিরার রুমে ঢুকে দরজা আঁটকে এক পা এক পা করে মাহিরার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এদিকে মাহিরা আয়ানকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে তার হাতের কাছে যা পায় তাই ছুড়ে মারতে থাকে আয়ানের দিকে।
আয়ান কিছু বললো না। এক পা, এক পা করে মাহিরার দিকে এগিয়ে যেতে থাকলো। মাহিরা তার হাতের কাছে বই, খাতা, কলম যা পাচ্ছে তাই ছুড়ে মারছে আয়ানের দিকে। আয়ানের এতে কোনো হেল দোল নেই। মাহিরা পেছাতে পেছাতে তার পরার টেবিলের সাথে গিয়ে ধাক্কা খায়। আয়ান এসে মাহিরাকে সেখানেই চাপ্টে ধরে শক্ত করে মাহিরাকে জড়িয়ে ধরে। ছোট করে বলে,
- আই'ম সরি সানফ্লাওয়ার।  
মাহিরা কিছু না বলে দু হাতে ধাক্কা দিয়ে আয়ানকে নিজের থেকে ছাড়াতে চায়। কিন্তু পারে না। আয়ান বেশ অনেকক্ষণ মাহিরাকে সেভাবে জড়িয়ে রাখলো। মাহিরারও ছটফট করতে করতে আয়ানের নিজের থেকে ছাড়াতে চাইলো। কিন্তু পারলো না। কেউ কোনো কথা বললো না। আয়ান লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে মাহিরাকে এবার ছেড়ে দেয়। ছোট করে বলে, 
- আসছি। নিজের যত্ন নিবি। খাওয়া দাওয়াত ঠিক ভাবে করবি। আর প্রতিদিন সন্ধ্যায় মুসকানের সাথে গিয়ে পরতে বসবি। 
বলেই আয়ান দরজার দিকে কয়েক পা এগোতেই মাহিরা ঝড় ঝড় করে কেঁদে দেয়। কান্নার শব্দ কানে আসতেই আয়ানের পা জোড়া থেমে যায়। সে পেছন ঘুরে তাকিয়ে মাহিরাকে কাঁদতে দেখে আবারো ফিরে আসে মাহিরার কাছে। মাহিরার কোমড় ধরে উঁচু করে মাহিরাকে টেবিলের উপর বসিয়ে দেয়। নরম গলায় বলে, হোয়াট হেপেন্ট মাহি? কাঁদছো কেনো? 
মাহিরা কিছু না বলেই হুট করে আয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে আরো জোরে জোরে কেঁদে দেয়। আয়ান বুঝলো না এই মেয়ের কান্নার কারন। এই মেয়ে কিছুক্ষণ আগে ছটফট করছে সে জড়িয়ে ধরেছে বলে। এখন আবার নিজেই জড়িয়ে ধরে কেঁদে ভাসাচ্ছে? আয়ান মাহিরার মাথায় এক হাত বুলিয়ে নরম গলায় বললো, ডোন্ট ক্রাই।
মাহিরা থামলো না। আয়ান আবারো একই সুরে বললো, তুই কাঁদলে আমি যেতে পারবো না মাহি। প্লিজ ডোন্ট ক্রাই। মাহিরা কেঁদে কেঁদে বলে, আপনি সত্যিই আমাকে ছেড়ে দিবেন তাই না? আয়ান বুঝলো মাহিরা কাল রাতের কথা বলছে। আয়ান নরম গলায় ছোট করে বললো, নো। মাহিরা আবারো বললো, 
- মিথ্যা বলছেন কেনো? আমি জানি আপনি আমাকে ছেড়ে দিবেন। আপনি কাল রাতে বলেছেন, আপনি আমাকে বিয়ে করে খুব বড় ভুল করে ফেলেছেন। তাই তো আমাকে ফেলে রেখে আপনি সারাজীবনের জন্য চলে যাচ্ছেন। আমি জানি আপনি আর কখনো ফিরে আসবেন না। আপনি আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
একনাগাড়ে কথা গুলো বলে মাহিরা থামলো। আয়ান মাহিরার কথা গুলো শুনে মুচকি হাসলো। পরপর গম্ভীর গলায় বললো,
- এই পৃথিবীতে যদি মুল্যবান বলতে আমার লাইফে কিছু থেকে থাকে? সেটা একমাত্র তুই সানফ্লাওয়ার। আর আমি তোকে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। না তোকে কোথাও যেতে দিচ্ছি। মৃত্যু ছাড়া তোকে আমার কাছ থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না মাহি। 
মাহিরা আবারো কেঁদে কেঁদে বলে, তাহলে কেনো দূরত্ব বাড়াচ্ছেন? আয়ান বলে ওঠে,
- সারাজীবন একসাথে থাকতে ক্ষনিকের দূরত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। 
মাহিরা এবার বলে ওঠে, না আমি আপনার মতো লোকের সাথে সারাজীবন থাকতে চাই না। আয়ান বলে ওঠে, না চাইলে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিস কেনো? ছেড়ে দে? মাহিরা নাক টেনে বলে, যতোদিন জেলে না যাচ্ছেন ততদিন থাকবো শুধু। আয়ান বাঁকা হাসলো। বলল, তারপর? মাহিরা বলে ওঠে, তারপর আমি আপনাকে চিনি না। আপনিও আমাকে চিনেন না। আয়ান বলে ওঠে, 
- ওহ নিজের স্বামীকে ভুলে যেতে চাচ্ছিস? বুকে সাহস কি বেশি বেড়ে গেছে? নাকি কলিজা বেশি বড় হয়ে গেছে? কোনটা?
মাহিরা নাক টেনে বলে, আপনাকে আমি পুলিশে দিবো। আয়ান বলে ওঠে, পারলে দিস। মাহিরা এবার বলে, খুনের মামলায় জেলে না গেলেও নারী নির্যাতনের মামলায় আপনি ঠিকই জেলে যাবেন। আয়ান বুঝলো না মাহিরার কথা। জোরে বলে ওঠে, হোয়াট? কিসের নির্যাতনের মামলা? মাহিরা নাক টেনে আবারো বলে, নারী নির্যাতনের মামলা। 
আয়ান এবার ধমক দিয়ে ওঠে, ইডিয়েট আমি কাকে নির্যাতন করেছি? মাহিরা সাথে সাথে বলে ওঠে, আমাকে করেছেন। আপনি আমার গায়ে হাত তুলেছেন। এটা নারী নির্যাতন। আপনার কোনো রাইট নেই আমার গায়ে হাত তোলার। আপনাকে আমি নারী নির্যাতনের মামলায় জেলে দিবো। আয়ান হা হয়ে যায়। একটা থাপ্পড়ের জন্য এই মেয়ে তাকে নারী নির্যাতনের মামলা দিতে চাইছে?আয়ান বলে ওঠে, ইডিয়েট একটা থাপ্পরের জন্য তুই আমাকে নারী নির্যাতনের মামলা দিবি? মাহিরা বলে ওঠে, 
- অবশ্যই দিবো। আজকে একটা দিয়েছেন কালকে যে দুইটা দিবেন না তার কি গ্যারান্টি আছে? 
আয়ান বলে ওঠে, এতো আইন কোথ থেকে শিখেছিস? মাহিরা বলে ওঠে, সেটা আপনার জানার দরকার নেই। বলেই সে আয়ানকে ছেড়ে দেয়। আয়ানের দিকে তাকিয়ে আবারো বলে ওঠে, আপনাকে আমি জেলের ভাত খাইয়েই ছাড়বো। আয়ান এবার মাহিরার দিকে নেশা ভরা চোখে তাকিয়ে বলে ওঠে, 
- বাট আমি তো অন্য কিছু খেতে চাচ্ছি। 
মাহিরা বুঝলো না আয়ানের কথা। আয়ানের দৃষ্টি দেখে সে আমতা আমতা করে বললো, ক.. কি খেতে চাচ্ছেন? আয়ান কিছু না বলে তার হাতের বুড়ো আঙ্গুল মাহিরার ঠোঁটে ছোঁয়ায়। নেশা ভরা চোখে মাহিরার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, 
- এটা খেতে চাচ্ছি। ইটস ভেরি সুইট।
মাহিরা আয়ানের অনুসন্ধান বুঝতে পেরে ঝাড়া মেরে আয়ানের হাত ফেলে দেয়। বলে ওঠে, অসভ্য লোক দুর হন আমার রুম থেকে। আয়ান কিছু না বলে এক হাতে মাহিরার কোমড় আকড়ে ধরে। মাহিরাকে নিজের আরো কাছে নিয়ে এসে ফিসফিসিয়ে বলে,
- ইউ নো বেইবি? ইউর লিপ ইজ মাই পার্সোনাল ডেজার্ট।
মাহিরা হতভম্ব হয়ে চেয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান আবারো বলে ওঠে, আই নো টু মাচ সুইটনেস ইজ হার্মফুল টু হেলথ। বাট আই ওয়ান্ট টু ইট দিস সুইট এভরি ডে। বলেই সে মাহিরাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে মাহিরার ঠোঁট জোরা আঁকড়ে ধরে। মাহিরা হতভম্ব হয়।তার ধম বন্ধ লাগে। সে এই লোককে নিজের থেকে ছাড়াতে চায় কিন্তু পারে না। মাহিরা খামচে ধরে আয়ানকে। আয়ান পাত্তা দেয় না। নিজের কাজে মনোযোগী হয়। সে আজ অনেকটা সময় নেয়। মাহিরার সত্যিই ধম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। সে যেভাবেই পেরেছে আয়ানকে খামচে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও আয়ানকে ছাড়াতে পারছে না নিজের থেকে। 
আয়ান বেশ কিছুক্ষণ পর মাহিরাকে ছেড়ে দিলে মাহিরা হাঁপিয়ে ওঠে। আয়ান বলে ওঠে, 
- কাল রাতে দুই বোতল অ্যালকোহল খেয়েও মাথায় নেশা চড়লো না। অথচ তোর ঠোটের এই নেশা আমাকে কাবু করে ছাড়ছে। 
মাহিরা জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ায় আয়ানের কথাটা শুনলো কিনা কে জানে? আয়ান মাহিরাকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে দেখে আবারো বললো, তিন দিনের এনার্জি নিয়ে যাচ্ছি। ফিরে এসে সব শুধে আসলে ফেরত দিবো।মাহিরা এবার কটমট দৃষ্টিতে তাকায় আয়ানের দিকে। আয়ান তা দেখে বলে ওঠে, বেইবি এভাবে তাকাস না প্লিজ। তুই এবাবে তাকালে মন চায় তোকে একদম কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলি। মাহিরা আয়ানকে দু হাতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে বলে, অসভ্য লোক যান এখান থেকে। 
আয়ান এক পাও নড়লো না নিজের যায়গা থেকে। বললো, আমি চলে গেলে কাঁদবি না তো? মাহিরা সাথে সাথে বলে ওঠে, জীবনেও কাঁদবো না। আপনি আমাকে মেরেছেন। তাই আপনাকে আমি জেলে দিবো। আয়ান বলে ওঠে, মারার কাজ করেছিস কেনো? কতো দিন বলেছি আমার নামের সাথে অন্য কারো নাম জুড়বি না? মাহিরা বলে ওঠে, তাহলে সত্যি টা বলছেন না কেনো? আয়ান কিছু না বলে মাহিরার কপালে একটা শব্দ করে চুমু খায়। মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, সময় হলে সব বলবো। এখন আসছি? মাহিরা হ্যা না কিছুই বলেনা। আয়ান আবারো বললো, পারমিশন দে যাওয়ার?
মাহিরা আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আমি কি আপনাকে আটকিয়ে রেখেছি নাকি? আপনি যেখানে মন চায় সেখানে যান। আমার কাছে পারমিশন চাচ্ছেন কেনো? আমি কে পারমিশন দেওয়ার? আয়ান এবার মাহিরার গালে নিজের এক হাত রাখে। নরম মোলায়েম কন্ঠে বলে,
- তুই আমার সব। এই পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তুই। পৃথিবী এপাশ থেকে ওপাশ হয়ে গেলেও তুই শুধু আমারই থাকবি। তাই নিজেকে কখনো তুচ্ছ ভাববি না মাহি।
মাহিরা কিছু না বলে চেয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান আবারো বলে, আসছি। এসে তোর লাল শাড়ি পরার ইচ্ছে টা পূরণ করে দিবো। মাহিরা বুঝলো না আয়ানের কথা। ভ্রু কুঁচকে বললো, কিসের ইচ্ছে? আয়ান বলে ওঠে,
- তোর না ইচ্ছে ছিলো লাল শাড়ি পরে বিয়ে করার? 
মাহিরা বলে ওঠে, সে তো আপনার জন্য লাল শাড়ি পরতে পারিনি। আপনি তো আমাকে কালো শাড়ি পরিয়ে বিয়ে করেছেন। খাড়ুস একটা। আয়ান মুচকি হেসে বলে, 
- এইবার পারবি। আমি তোকে এইবার লাল শাড়ি পরিয়ে বিয়ে করবো। 
মাহিরা ভ্রু কুঁচকে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, মানে? আয়ান আর কিছু না বলে মাহিরার গালে একটা চুমু খায়। যেই গালে সে কাল রাতে মাহিরাকে থাপ্পড় দিয়েছিলো। ছোট করে বলে, নাথিং। বলেই আয়ান আর কিছু না বলে চলে যায়। মাহিরা চেয়ে থাকে আয়ানের যাওয়ার পানে। এই লোক কি সত্যিই তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে?
______________
আয়ান এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে ফাহিম ও অর্নব। ফাহিম আয়ানের লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আয়ানের ফ্লাইট আর কিছুক্ষণ পরে। অর্নব জানে না আয়ান কেনো হঠাৎ আমেরিকা যাচ্ছে। সে এবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, হঠাৎ তুমি আমেরিকার যাচ্ছে কেনো ভাইয়া? আয়ান ছোট করে বলে, কাজ আছে। অর্নব বলে ওঠে, কি এমন কাজ তোমার? যেটা আমাকে বলা যাচ্ছে না? 
আয়ান অর্নবের কথার জবাব না দিয়ে উল্টো বলে, শোন তোকে কিছু দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি আমি। সেগুলো সুন্দর ভাবে মনোযোগ দিয়ে পালন করবি। অর্নব ভ্রু কুঁচকে তাকায় আয়ানের দিকে। বলে, কিসের দায়িত্ব ভাইয়া? আয়ান এবার বলতে থাকে,
- প্রতিদিন সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা তিন বেলা বাসায় ফুচকা নিয়ে যাবি। সাথে মাহি আরো কিছু খেতে চাইলে সেগুলোও নিয়ে যাবি। মাহি ঘুরতে যেতে চাইলে মুসকানকে সাথে নিয়ে ওকে ঘুরতে নিয়ে যাবি। খেয়াল রাখবি মাহির গায়ে যেনো একটা ফুলের টোকাও না পরে। ফুপ্পি মাহিকে পড়তে না বসলে বকে। তাই ফুপ্পিকে বকতে নিষেধ করবি। আমি বলে এসেছি মুসকানের সাথে মাহি ঠিক পরতে বসবে। আর মাহির পিজ্জা খুব পছন্দ। তাই প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ি যাওয়ার সময় মাহির জন্য তুই মনে করে পিজ্জাও নিয়ে যাবি। আমি না আশা পর্যন্ত এই তিনদিন মুসকানকে বলবি মাহির সাথে ঘুমাতে। মাহি যদি শপিংয়ে যেতে চায় তাহলে ওকে শপিংয়ে নিয়ে যাবি। মাহি ফুসকা, আইসক্রিম, চকলেট যখন যা খেতে চায় এনে দিবি। যদি শুনেছি কিপ্টামি করেছিস? তাহলে বাংলাদেশে এসে সবার আগে তোর পিঠের ছাল চামড়া সব উঠিয়ে ফেলবো আমি। 
অর্নব হা করে চেয়ে থাকে আয়ানের দিকে। আয়ান তাকে এ কোন লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে গেলো? অর্নব বলে ওঠে, তুমি কি তিনদিনের জন্য দুরে যাচ্ছো? নাকি তিন বছরের জন্য? আয়ান ছোট করে বলে, নো তিনদিন পর ফিরে আসবো। অর্নব বলে ওঠে, তাহলে আমাকে তিন বছরের লিস্ট ধরিয়ে দিলে কেনো? আয়ান এবার কটমট দৃষ্টিতে তাকায় অর্নবের দিকে। বলে ওঠে, ইডিয়েট একটা কাজও যদি ভুল করেছিস? তাহলে দেশে এসে ফিরে সবার আগে তোর জন্য করব খুড়বো আমি। 
অর্নব মুখ মলিন করে আর কিছু বললো না। আয়ান আবারো বললো, টাকা তোর ব্যাংকে পাঠিয়ে দিবো আমি। মাহির পেছনে টাকা খরচ করতে তোর যেনো কোনো হিসাব কষতে না হয়। অর্নব বলে ওঠে, টাকার প্রয়োজন নেই আমার। তুমি নিশ্চিন্তে যেতে পারো। আয়ান সাথে সাথে বলে ওঠে, মাহির স্বামী ভিক্ষারী না। যে অন্যর টাকায় নিজের বউকে খাওয়াবে। অর্নবও সাথে সাথে বলে ওঠলো, আর মাহিরার দেবরও ভিক্ষারী না। যে তার ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাইয়ের বউয়ের পেছনে খরচ করবে। 
আয়ান থতমত খেয়ে যায়। নিজের কথার জালে নিজেই ভেসে গিয়ে বিরবির করে, গাধা একটা। অর্নব এবার বলে, একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিলো। আয়ান তার হাতে থাকা ঘড়িতে টাইম দেখে বলে, তাড়াতাড়ি বল হাতে সময় নেই। অর্নব এবার বলে ওঠে, আজকের নিউজটা শুনেছো তুমি ভাইয়া? আয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে, কিসের নিউজ? 
অর্নব বলে ওঠে, রেজওয়ানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।পুলিশ যেদিন ওকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো? সেদিন মাঝ রাস্তায় পুলিশের গাড়ি কেউ গাছ ফেলে আঁটকে দিয়েছে। তারপর রেজওয়ান কে কিছু লোক ধরে নিয়ে গিয়েছে। পুলিশের ধারনা কিছু ডাকাতের লোক এসে রেজওয়ান কে তুলে নিয়ে গিয়েছে। আয়ান ভ্রু কুচকে বলে, তো এসব কথা আমাকে বলছিস কেনো? 
অর্নব বলে ওঠে, না মানে তুমি কিছু জানো কিনা এই বিষয়ে? তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম আরকি। আয়ান বলে ওঠে, না আমি কিছু জানিনা। আর তুই এসব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে মাহির দিকে খেয়াল রাখ। মাহির গায়ে একটা ফুলের টোকা পরলেও তোর কিন্তু খবর আছে। আসছি। বলেই আয়ান যেতে নিলে অর্নব বলে ওঠে, তুমি তো তিনদিন বাংলাদেশ থাকবে না। তাই মাহিরা যদি আবারো কিড..। 
এতোটুকু বলতেই আয়ান পেছন ঘুরে বলে ওঠে, আমি তিনদিন না, তিন বছরও বাংলাদেশে না থাকলে মাহির কিছু হবে না। মাহি পাখির মতো নির্দ্বিধায় উড়ে বেড়াতে পারবে এই বাংলাদেশের মাটিতে। অর্নব বুঝলো না আয়ানের কথা। ভ্রু কুঁচকে বললো, মানে? কি বলতে চাচ্ছো তুমি? আয়ান বলে ওঠে, এতো মানে টানে বাদ দিয়ে যেগুলো বলেছি সেগুলো মন দিয়ে পালন কর। এসে যদি দেখেছি একটা কাজও ভুলও করেছিস? তাহলে থাপ্পড় দিয়ে তোর দাঁত সব ফেলে দিবো আমি। 
অর্নব বলে ওঠে, তুমি কি সত্যিই জানো না রেজওয়ান কোথায় আছে ভাইয়া? আয়ান বলে ওঠে, মাহির গায়ে যেনো বাড়ির কেউ হাত দিতে না পারে অর্নব। সেটা সবসময় খেয়াল রাখবি। আর ফুপ্পিকে..। এতোটুকু বলতেই অর্নব বলে ওঠে, আমার কথার এন্সার দাও ভাইয়া। রেজওয়ান কোথায় তুমি কি সত্যিই জানো নক? আয়ানের এবার মেজাজ খারাপ হয়। আয়ান অর্নবকে ধমক দিয়ে চিবিয়ে বলে ওঠে, 
- বারবার রেজওয়ান রেজওয়ান কেন করছিস?রেজওয়ান কি তোর বাপ লাগে? 
অর্নব বলে ওঠে, রেজওয়ান আমার কিছুই লাগে না। কিন্তু তোমার অনেক কিছুই লাগে। আয়ান এবার অর্নবকে কিছুটা ধাক্কা দিয়ে বলে ওঠে, কি লাগে রেজওয়ান আমার? অর্নব এক পা পিছিয়ে যায়। আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে, রেজওয়ান তোমার বন্ধু লাগে। সাথে ভাই..। এতোটুকু বলতেই আয়ান হুংকার দিয়ে ওঠে, 
- ওই কুত্তার বাচ্চা আমার কিচ্ছু লাগে না। মুখ সামলে কথা বল অর্নব। আরেকদিন ওই কুত্তার বাচ্চাকে আমার ভাই বললে তোর জিহ্বা টেনে ছিড়ে ফেলবো আমি। 
বলেই আয়ান আর এক সেকেন্ডও না দাড়িয়ে হনহনিয়ে চলে যায়। অর্নব তাকিয়ে থাকে আয়ানের যাওয়ার পানে। তার কেনো জানি মনে হচ্ছে আয়ান জানে রেজওয়ান কোথায় আছে। কিন্তু রেজওয়ান আসলে কোথায়?
______________
সকাল গড়িয়ে বিকেল হতে চললো। মাহিরা তারপরও নিজের রুম থেকে বের হলো না। পরী বেগম এসে মাহিরাকে খাইয়ে দিয়ে গেছেন। তার মেয়ের শরীর এমনিতেই ভালো না। হাতে গুলি লাগায় এখনো হাত বেন্ডেজ করা। মাহিরা খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে। আয়ান চলে যেতেই তার কেমন যেনো এক শূন্যতা অনুভব হচ্ছে নিজের মাঝে। আরো বেশি খারাপ লাগছে তাকে এই অবস্থায় ফেলে লোকটা চলে গিয়েছে তাই। মানুষটা যেমনই হোক, তার সাথে থাকতে থাকতে মাহিরা কেমন যেনো অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে।
মাহিরার ভাবনার মাঝের মুসকান নিজের হাতে করে কতোগুলো ফুচকা নিয়ে আসে। মাহিরার পাশে বসে বলে, মাহিরা দেখো তোমার জন্য ফুচকা নিয়ে এসেছি। তুমি না ফুচকা খেতে পছন্দ করো? মাহিরা তাকালো না মুসকানের দিকে। আর না তাকালো মুসকানের আনা ফুচকা গুলোর দিকে। বলল, আমি এসব খাবো না মুসকান। প্লিজ এসব নিয়ে যাও তুমি। মুসকান জানে তার ভাই চলে যাওয়ায় মাহিরার মন খারাপ। 
মুসকান জোর করলো না। বললো, ঠিক আছে এসব খেতে হবে না। চলো তাহলে আমরা ছাদে গিয়ে ঘুরে আসি। বলেই মুসকান মাহিরার এক হাত টেনে ধরলে মাহিরা বলে ওঠে, প্লিজ মুসকান। আমি কোথাও যাবোনা। মুসকান বলে ওঠে, তা বললে হবে না। সকাল থেকে তুমি এই ঘরের মধ্যে বসে আছো। চলো আমার সাথে ছাদে চলো। 
বলেই মুসকান মাহিরাকে নিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। পরপর মাহিরার হাত ধরে দরজার দিকে যেতে নিলে মাহিরা ঝাড়া মেরে মুসকানের হাত ফেলে দেয়।বলে, মুসকান এখান থেকে যাও প্লিজ। আমার কিছু ভালো লাগছে না। মুসকান এবার মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, 
- তুমি ভুলে যাবে না আমি তোমার ননদ হই মাহিরা। আমি যা বলব তাই তোমাকে করতে হবে। আমার সব কথা তোমাকে শুনতে হবে। আমাকে বাধ্য করবে না কুটনি ননদ হতে। তাই চুপচাপ আমার সাথে চলো। 
বলেই মুসকান আবারো মাহিরার হাত ধরে হাঁটা দেয়। মাহিরা হা হয়ে চেয়ে থাকে মুসকানের দিকে। মুসকান মাহিরার আড়ালে মিটিমিটি হাসে। তার থ্রেট টা কাজ করেছে।
মুসকান মাহিরাকে নিয়ে ছাদে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। মাহিরার একটু হলেও ভালো লাগবে সেই ভাবনায় মুসকান মাহিরাকে ছাদে নিয়ে এসেছে। ছাদে গাছ গাছালী থাকায় একটু হলেও প্রকৃতির ছোয়া পাওয়া যায়। এদিকে ছাদ ঘুরে ফিরে সন্ধ্যা হতে চললো। মুসকান মাহিরাকে নিয়ে সন্ধ্যার আগে ছাদ থেকে চলে যেতে নিলে মুসকান হটাৎই খেয়াল করলো আয়ানের লাগানো চেরি গাছটায় আজ বেশ অনেকগুলো চেরি ফল পেঁকে আছে। 
মুসকান তা দেখে হেসে মাহিরাকে বললো, মাহিরা দেখো চেরি গাছটায় কতোগুলো চেরি ফল পেঁকে আছে? মুসকানের কথা মতো মাহিরা তাকায় চেরি গাছটার দিকে। সবুজ গাছটায় লাল চেরি ফল গুলো ঝলমল করছে। মুসকান গাছটির দিকে এগিয়ে গিয়ে গাছের থাকা পাকা চেরি ফল গুলো তুলতে শুরু করে। মাহিরাকে বলে, আজ এই গাছের সব চেরি তোমার। তোমাকে তো আমি এই গাছের প্রথম চেরি ফলটা খাওয়াতে পারিনি। তাই সেই সুধ হিসেবে আজ এই গাছের সবগুলো চেরি ফল তোমাকে দিলাম।
বলেই মুসকান মাহিরার দিকে তার তোলা সবগুলো চেরি ফল বাড়িয়ে দেয়। মাহিরা তা দেখে বলে ওঠে, আমি এই গাছের প্রথম চেরি ফল খেয়েছি মুসকান। মুসকান ভ্রু কুচকে তাকায় মাহিরার দিকে। বলে, কি বলো? কবে খেলে? এই গাছের প্রথম চেরি ফলটা তো ভাইয়া নিয়ে গিয়েছিলো। মুসকানের কথায় মাহিরার মনে পরে যায় সেদিনের চেরি ফল খাওয়ার বিষয়টা। মাহিরা ছোট করে বলে, তোমার ভাই'ই খাইয়েছে আমাকে।
মুসকান এবার মুচকি হাসে। বলে, দেখেছো মাহিরা আমার ভাই তোমাকে কতো ভালোবাসে? আমার ভাই আমাকে বলে গিয়েছে তার গাছের চেরি ফল মাহিরা খাবে কেনো? অথচ তলে তলে তোমাকে ঠিকই চেরি ফল খাইয়েছে। আমার ভাইয়ের মতো এমন লক্ষী একটা বর, আর কোথায় খুঁজে পাবে তুমি বলো? 
মুসকানের কথায় মাহিরার মুখটা কালো হয়ে যায়। ছাদে এসে যদিও মনটা একটু ভালো হয়েছিলো কিন্তু আয়ানের কথা মনে পরতেই মাহিরার মনটা আবারো খারাপ হয়ে গেরো। মাহিরা আর কিছু না বলেই ছুটে চলে যায় ছাদ থেকে। মুসকান পেছন থেকে ডেকে বলে, কি হলো মাহিরা? চেরিফল গুলো নিয়ে যাও?
মাহিরা ছাদ থেকে ছুটে নিজের রুমে এসে দরজা আঁটকে বিছানায় উবুড় হয়ে বালিশে মুখ গুজে কেঁদে দেয়। ওই লোকের সৃতি বারবার তাকে পিছু করছে। মুসকান মাহিরার পিছু পিছু এসে মাহিরার দরজায় অনবরত নক করে মাহিরাকে ডাকে, মাহিরা কি হয়েছে তোমার? দরজা খোলো? এভাবে ছুটে আসলে কেনো তুমি? মাহিরার রুমের ভেতর থেকে আর কোনো জবাব আসলো না।
রাত দশটা, পরি বেগমে খাবার ও ঔষধ খাইয়ে দিয়ে গিয়েছেন মাহিরাকে। সে খেতে না চাইলেও পরি বেগম জোর করে তাকে খাইয়ে দিয়ে গিয়েছেন। মাহিরা কেঁদে কেঁদে নিজের চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। মুসকান বসে আছে মাহিরার পাশে। সে এসেছে মাহিরার সাথে ঘুমাতে। কিন্তু মাহিরা নিজের সাথে মুসকানকে ঘুমাতে নিচ্ছে না। 
মুসকান অসহায় গলায় মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলে, মাহিরা প্লিজ আমি তোমার সাথে ঘুমাই? আমাকে এভাবে তাড়িয়ে দিয়ো না। মাহিরা সাথে সাথে বলে ওঠে, আমি তোমার সাথে ঘুমাবো না মুসকান। প্লিজ তুমি নিজের রুমে গিয়ে ঘুমাও। মুসকান বলে ওঠে, কেনো এমন করছো মাহিরা? আমি তোমার সাথে ঘুমালে কি হবে? মাহিরা বলে ওঠে, আমি অন্য কারো সাথে বেড শেয়ার করতে পারবো না। প্লিজ তুমি আমার রুম থেকে চলে যাও মুসকান। মুসকান মুখ কালো করে মাহিরার রুম থেকে চলে যায়। 
রাত গভীর হয়। মাহিরার চোখে ঘুম নেই। সে বেডে হেলান দিয়ে সেই কখন থেকে বসে আছে। কিন্তু ঘুমাতে পারছে না। মাহির কিছু একটা ভেবে নিজের বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। পরপর ড্রয়ার থেকে একটা চাবির গুচ্ছ নিয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
মাহিরা আয়ানের রুমের দরজা খুলে আয়ানের রুমের ভেতরে ঢোকে। আয়ানের রুমের ভেতরে ঢুকেই প্রথমেই সে আয়ানের বেডের দিকে তাকায়। আয়ানের বেড খালি। মাহিরা গতবার এসে আয়ানকে বেডে বসে থাকতে দেখলেও আজ সে আয়ানকে বেডে দেখতে পেলো না। কিভাবে দেখবে? মানুষটা তো বাড়িতেই নেই।
মাহিরা আয়ানের রুমে ঢুকে আয়ানের পুরো রুমে চোখ বুলায়। আয়ানের পুরো রুম খালি দেখে মাহিরার মনটা আরো বেশি খারাপ হয়। মাহিরা কিছু না ভেবে আয়ানের আলমারির কাছে চলে যায়। হাতে থাকা চাবির গুচ্ছো থেকে আলমারি খুলে আয়ানের জামাকাপড় এলোমেলো করতে শুরু করে। সে এসেছে আয়ানের একটা শার্ট অথবা টি-শার্ট নিতে। যেটাতে আয়ানের গন্ধ পাওয়া যাবে।
মাহিরা আলমারি তল্লাশি করতে করতে তার চোখে পরে যায় আলমারির সবচেয়ে উপরের থাকে সযত্নে রেখে দেওয়া একটা ব্ল্যাক টি-শার্টের দিকে। মাহিরা টি-শার্ট টা দেখে ভ্রু কুঁচকায়। এই লোক একটা মাত্র টি-শার্ট এইভাবে আলাদা করে রেখে দিয়েছে কেনো মাহিরার জানা নেই। আলমারির সেই থাকটা একটু উপরে থাকায় মাহিরা হাত সেখানে পৌছালো না। মাহিরা একটা চেয়ার টেনে এনে আলমারির সামনে রেখে সেটাতে উঠে দাঁড়ায়।
পরপর সেই ব্লাক টি-শার্ট টা হাত দিয়ে টান দিতেই কাপড়ের নিচ থেকে একটা ফোন ঠাস করে নিচে পরে যায়। হঠাৎ ফোন পরার শব্দে মাহিরা ভয়ে হেঁচকি দিয়ে কেঁপে ওঠে। পরপর বুকে ফুঁ দিয়ে নিচে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখে একটা ফোন ফ্লোরে পরে আছে। মাহিরা টি শার্ট টা হাতে নিয়ে চেয়ার থেকে নেমে যায়। পরপর কিছু না ভেবে ফোনটা তার হাতে তুলে নেয়। 
মাহিরা ফোনটা ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে দেখে ফোনের উপরের গ্লাসে অনেক গুলো ফাটল ধরেছে। কিছু ফাটল মাত্র ধরেছে, আর বাকি গুলো পুরনো ফাটল। মাহিরা ফোনটা ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকলে তার কাছে এই ফোনটা একটু চেনা চেনা লাগে। মাহিরা আর কিছু না ভেবে ফোনের পাশে থাকা বাটন চাপ দিয়ে ফোনটা অন করে। 
ফোন অন হতেই ফোনের স্ক্রিনে থাকা পিকটা দেখে মাহিরা আৎকে উঠে আবারো হাত ফসকে ফোনটা নিচে ফেলে দেয়। একহাতে নিজের চুপ চেপে দু'কদম পিছিয়ে যায়। ফোনটা ফ্লোরে সোজা হয়ে পরে থাকায় স্ক্রিন এখনো ছবিটা ভেসে আছে। এটা মাহিরার ছবি। আর ফোনটাও মাহিরার। 
মাহিরা চেয়ে থাকে ফ্লোরে পরে থাকা ফোনটার দিকে। ফোনের স্ক্রিনে নিজের ছবি দেখে মাহিরার আর বুঝতে বাকি নেই এটা তার সেই হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন।কিন্তু এটা আয়ানের আলমারিতে কি করছে? মাহিরা তা বুঝলো না। আয়ান তো বলেছিলো তার মোবাইলটা কাজের লোকরা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। সেই মোবাইল আয়ানের আলমারিতে কিভাবে এলো? তার মানে কি আয়ান সেদিন তাকে মিথ্যা বলেছিলো? ফোন তো ওই লোকের কাছেই ছিলো। কিন্তু ওই লোক তাকে তার ফোনটা দেয়নি কেনো সেদিন? মাহিরা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ফোনটার দিকে। এই লোক তার ভাঙ্গা ফোন আলমারিতে তুলে রেখেছে কেনো মাহিরার জানা নেই। 
মাহিরা আর কিছু না ভেবে আবারো আয়ানের জামাকাপড় এলোমেলো করতে শুরু করে। ওই লোক আর কি কি লুকিয়ে রেখেছে নিজের আলমারিতে সেটাই দেখার বাকি আছে তার। মাহিরা আয়ানের আলমারি তল্লাশি চালাতে চালাতে একটা লকার খুজে পায়। লকারটা লক করা। মাহিরা তার হাতের চাবি গুলো দিয়ে এক এক করে লকার খোলার চেষ্টা যায়। 
কিন্তু তার হাতের চাবিগুলো দিয়ে এই লকার খোলা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। কারন তার হাতে থাকা চাবি গুলোর মাঝে লকারের চাবি নেই। মাহিরা বুঝলো না, আয়ান তাকে নিজের ঘরের সব চাবি দিয়েছে। কিন্তু এই লকারের চাবি দেয়নি কেনো? কি এমন আছে এই লকারে? যার চাবি আয়ান তাকে দেয়নি? মাহিরার আরো বেশি কৌতুহল বেড়ে যায় লকারটার প্রতি। সে অনেক চেষ্টা করেও লকারটা খুলতে পারে না। বারবার চেষ্টা করে কিন্তু প্রতিবারই সে ব্যার্থ হয়। মাহিরা বুঝলো এই লক চাবি ছাড়া খুলবে না। আর এই লকারের চাবি শুধু মাত্র আয়ানের কাছে আছে।
মাহিরা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে তার ভাঙ্গা ফোনটা আবারো আলমারিতে তুলে রাখে। এই ভাঙ্গা ফোন দিয়ে তার কোনো কাজ নেই। তার চেয়ে বরং ওই লোক আসলে সে জিজ্ঞেস করবে ওই লোক কেনো নিজের কাছে তার ভাঙ্গা ফোন রেখে দিয়েছে? আর সেদিন কেনো ওই লোক তাকে মিথ্যা বলেছে? ফোন তো তার কাছেই ছিলো। তাহলে তাকে কেনো তার ফোন দেয়নি?
মাহিরা আয়ানের আলমারি আঁটকে তার হাতে থাকা টি শার্টের দিকে তাকায়। ওই লোক এই টি শার্ট টাও আলাদা করে রেখে দিয়েছে। কিন্তু কেনো? কি আছে এই টি শার্টে? মাহিরার তা জানা নেই। মাহিরা কিছু না ভেবে তার হাতে থাকা আয়ানের টি শার্টটা নিজের নাকের কাছে ধরে। টি শার্ট থেকে সে আয়ানের গাঁয়ের গন্ধ পায়। মাহিরা মুচকি হাসে। পরপর হাতে থাকা ব্ল্যাক টি শার্টটা নিয়ে বেরিয়ে যায় আয়ানের রুম থেকে। 
মাহিরা নিজের রুমে এসে রুমের লাইট অভ করে জিরো লাইট জালায়। পরপর এগিয়ে গিয়ে বেলকনির দরজার সামনে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে পরে। হাতে থাকা টি শার্ট থেকে গন্ধ নিতে নিতে বারবার মুচকি হাসে। লোকটা নেই তাতে কি? তার গায়ের গন্ধ তো মাহিরার কাছে আছে। মাহিরার সেটা হলেই চলবে।
মাহিরা ভাবতে ভাবতে বার কয়েক আয়ানের টি শার্টের ঘ্রান শুকে মুচকি মুচকি হাসে। কিন্তু তার ভাবনার মাঝেই হঠাৎ তার মিথিলার কথা মনে পরে যায়। মাহিরা থমকে যায়। তার হাতদুটোও থেমে গিয়েছে। ওই লোক কেনো মিথিলাকে খুন করেছে মাহিরার সেটা এখনো জানেনা। 
আয়ান খুন করেছে এটা ভাবতেই মাহিরা তার হাতে থাকা টি শার্টটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পরপর দেয়ালের সাথে মাথা ঠেকিয়ে দুর আকাশে তাকিয়ে থাকে। রাত গভীর থেকে গভীর হয়। মাহিরা সেভাবেই দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বেলকনির দরজার সামনে ঘুমিয়ে পরে। 
কেটে যায় অনেকটা সময়। মাহিরা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বেঘোর ঘুমাচ্ছে। এমন সময় কারো গম্ভীর কন্ঠস্বর মাহিরার কানে ভেসে আসে, মাহি? মাহিরার কোনো সারা শব্দ নেই। আবারো ভেসে আসে সেই গম্ভির কন্ঠস্বর, এই মাহি? মাহিরা জানে কে ডাকছে তাকে। এই নামে তাকে একজন ছাড়া আর কেউ ডাকেনা। মাহিরা ঘুমু ঘুমু গলায় বললো, 
- ওফফ খাড়ুস লোক, আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না। আমাকে ঘুমাতে দিন। 
আবারো মাহিরার কানে একই কন্ঠ স্বর ভেসে আসলো, এখানে ঘুমাচ্ছিস কেনো? বেডে গিয়ে ঘুমা? মাহিরা ঘুমু ঘুমু গলায় চোখ বন্ধ রেখে বলে, 
- আপনি নেই আমি কাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো? আপনাকে জড়িয়ে না ধরলে ঘুম আসেনা আমার জানেন না?
আবারো সেই কন্ঠস্বর ভেসে আসলো মাহিরার কানে, আমি এসেছি। চল বেডে গিয়ে ঘুমাবি। মাহিরার কানে বার বার বাজলো কথাটা। আয়ান এসেছে? সত্যি? মাহিরা লাফ দিয়ে তাড়াতাড়ি চোখ মেলে তাকায়। রুম অন্ধকার থাকায় সে জিরো লাইটের আলোয় চারপাশে চোখ বোলায়, আয়ানকে খোঁজে। কিন্তু সে আশে পাশে কাউকে দেখতে পায় না। মাহিরা ভাবে অন্ধকার বলে সে হয়তো আয়ানকে দেখতে পাচ্ছে না। তাই মাহিরা ঝড়ের বেগে তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে রুমের লাইট জ্বালায়। 
রুমে আলো জ্বলতেই মাহিরা আবারো তার পুরো রুমের চারপাশে চোখ ঘুড়িয়ে আয়ানকে খোঁজে। আয়ানকে এবারও দেখতে না পেয়ে সে ডেকে ওঠে, খাড়ুস লোক? কোথায় আপনি? মাহিরার কথায় কারো কোনো জবাব আসলো না। মাহিরা আবারো তার পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে বললো,
- আপনি কি কোথাও লুকিয়ে আছেন খাড়ুস লোক? 
এবারেও কারো কোনো জবাব নেই। মাহিরা তার খালি রুমে বাবার চোখ ঘুড়ায়। বলে, 
- প্লিজ বেরিয়ে আসুন। আমার সাথে লুকোচুরি খেলবেন না। আমার খুব ঘুম পেয়েছে, আসুন ঘুমাবো।
আয়ান নেই, তার রুমে নেই। এই বাড়িতে নেই, এই দেশে নেই। মাহিরা বুঝলো তার হ্যালুসিনেশন হয়েছে। অথবা সে সপ্নে আয়ানকে দেখেছে। দুইটার যেকোনো একটা হবে। আয়ান আসেনি। মাহিরা তা বুঝতে পেরে ফ্লোরে পরে থাকা আয়ানের টি শার্টের দিকে তাকায়। কোনো কথা ছাড়াই ঝড়ের বেগে ফ্লোরে আছড়ে পরে আয়ানের টি শার্টটা বুকের সাথে মিশিয়ে হু হু করে কেঁদে দেয়। 
বুকের ব্যাথা দেখানো যায় না। আর না মুখে বলে প্রকাশ করা যায়। ব্যাথা শুধু মাত্র অনুভব করা যায়। ওই লোক কেন বোঝে না তার জন্য মাহিরার বুকে ব্যাথা হয়? তাকে ফেলে কেন গেলো ওই লোক? তার সাথে কেন দূরত্ব তৈরি করলো? সে নাহয় একটু কষ্ট দিয়ে কথা বলে ফেলেছে। তাই বলে কি তাকে ছেড়ে যেতে হবে? সে কিভাবে থাকবে ওই লোককে ছাড়া? 
মাহিরা আয়ানের টি শার্টটা বুকে চেপে অঝোড়ে কেঁদে যাচ্ছে। সে না পারছে ওই লোককে সম্পুর্ন ভাবে ভালোবাসতে। আর না পারছে ওই লোককে সম্পুর্ন ভাবে ঘৃণা করতে। ওই লোকটাকে বুঝতে পারে না মাহিরা। ওই লোককে না সম্পুর্ন ভালোবাসা যায়। আর না সম্পুর্ন ঘৃণা করা যায়। কেমন এক দোটানায় ফেলে রাখে ওই লোক তাকে। সে যতোবার ওই লোকের দিকে পা বাড়াতে চায়। ততোবার ওই লোক এমন কিছু করে যার জন্য মাহিরার পা থেমে যায়। সে ওই লোককে হারাতে চায়না। আবার ওই লোকের সাথে বাঁচতেও চায়না।
মাহিরা সত্যিই আজ দোটানার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে । সে না পারছে ওই লোককে ছাড়া থাকতে। আর না পারছে ওই লোককে কাছে টেনে তার সাথে সুন্দর একটা সংসার করতে। আর যাই হোক মাহিরা এটা বুঝে গিয়েছে ওই লোকের সাথে তার কখনোই সুন্দর একটা সংসার হবে না। খুনীর সাথে আবার কিসের সংসার? মাহিরার কান্না বাড়ে। মাহিরা আয়ানের টি-শার্ট শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলে..
"আমাকে কেনো হায়"
"আনালে দো-টানায়" 
"বানালে এমন বালিঘর"
"এ মনে কে থাকে" 
"পরেছি বেপাকে"
"করি কি এসে গেলে ভয়"
আয়ান মাত্র হোটেল রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে কোমড়ে টাওয়ার পেঁচিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরুতে বেরুতে গেয়ে উঠে, 
"চাইলে চলে যা যদি, না থাকে উপায়"
এক লাইন গাইতে গাইতে আয়ান এসে তার বিছানার ওপরে থাকা ল্যাপটপের সামনে দাড়ায়। ল্যাপটপের ওপাশে থাকা ব্যক্তির মরা কান্না দেখে মুচকি হেসে আরো এক লাইন গায়,
"সুতোয় বাঁধা জীবন ছেড়ে, পালাবি কোথায়"..?
চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন