ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন আড়ালে

৮ম পর্ব

লেখক: তানজিলা আনিম

#মন_আড়ালে (কাজিন রিলেটেড)

#পর্ব_৮
#তানজিলা_আনিম
 বাইরে তখনও অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে।ধীরমন্দ গতিতে সাবধানে এগোচ্ছে গাড়িটা।কাব্য সামনে তাকিয়ে ড্রাইভ করছে একমনে।পেছনে গুম হয়ে বসে আছে দিব্য।ওকে খুঁজতে গিয়ে ওর সাথে সাথে নীলাও ভিজে একসা হয়ে গেছে। রাগে তাই নীলাও কথা বলছেনা ওর সাথে।
ঝড়ো হাওয়া শেষ হতেই ভিতু মেহু তার চঞ্চল স্বত্তায় ফিরে গেছে।খোলা জানলা দিয়ে হাত বের করে পানি জমাচ্ছে হাতে।বৃষ্টির ঝাপ্টায় শরীরের একাংশ ভিজে গেছে।হাঁচিও দিচ্ছে একটু পরপর।তবে সেদিকে খেয়াল নেই তার।।কাব্য আড় চোখে বারকয়েক দেখেও কিছু বললোনা।
নীলা পেছন থেকে বললো," কাচটা লাগিয়ে দে মেহু।তুই ভিজছিস, আমাদেরও ভিজাচ্ছিস।
মেহু মাথা নেড়ে বললো ,"করবোনা।"
আবার হাঁচির শব্দ আসতেই কাব্য নিঃশব্দে কাচ তুলে দিয়ে লক করে দিলো জানালা।নীলা হো হো করে হেসে উঠলো। মেহু ওর দিকে ঠোঁট উলটে তাকালেও চুপ করে রইলো। 
গেইটের সামনে জমা পানিতে ছপাত শব্দ তুলে থামলো গাড়িটা।বৃষ্টি এখন কুয়াশার মতো রুপ নিয়েছে।দিব্য সাথে সাথে নেমে চলে গেলো।নীলা যাওয়ার আগে বললো," তাড়াতাড়ি ভেতরে চলো,নির্ঘাত আজ জ্বর হবে সকলের।"
মেহু একবার পাশ ফিরে কাব্যকে দেখলো।চুলগুলো এখনো অল্প ভিজে আছে।ধীরেধীরে নেমে দাঁড়ালেও চলে গেলোনা।ইতস্তত করলো।পুরোটা রাস্তা কাব্য একটা কথাও বলেনি।
তবে এবার কাব্য ধমকে উঠলো," যাচ্ছিস না কেনো?"
কাব্য ধমকে উঠলেও কথা বলার সুযোগ পেলো মেহু।বললো," আপনি আসবেন না?চোখ লাল হয়ে গেছে আপনার।"
গমগমে গলায় জবাব দিলো কাব্য," কাজ আছে আমার।তুই ভেতরে যা।"
মেহু অনুনয় ভরা চোখে তাকিয়ে ভাবলো,"আপনি রেগে আছেন কেনো কাব্য ভাই?একটু আগেই তো সব ঠিক ছিলো।হঠাৎ কি হয়েছে আপনার?"
কাব্য গম্ভীর হয়ে রইলো।মেহুও নড়লোনা।কাব্যকে দেখে মনে হচ্ছে এখনই জ্বর চলে আসবে।
 আবার পরপর হাঁচি দিলো মেহু।তবুও কাব্যকে রেখে যাওয়ার লক্ষণ নেই।ওই অনড়,ফ্যাকাসে মুখটা দেখে আর বসে থাকতে পারলোনা কাব্য। বেরিয়ে এসে বললো," আয়।"
__________
বাসার সবাই জেগেই ছিলো।দিব্যর ধুপধাপ পায়ের আওয়াজে সকলে ব্যস্ত হয়ে ছুটে এলো।শাফায়াত পেছনে হাত বেঁধে থমথমে মুখে এসে দাঁড়ালেন।মেহু কাচুমাচু হয়ে এগিয়ে গিয়ে নিজেই বলে উঠলো," বেশি ভিজিনি বড় আব্বু।"
শাফায়াত থমথমে মুখে ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলেন শুধু, কিছু বললেন না।
কাব্য চুপচাপ উঠে যাচ্ছিলো সিঁড়ি দিয়ে।
রাবেয়া ইতোমধ্যে কফির পানি বসিয়ে দিয়েছেন।ছেলেকে যেতে দেখে বললেন," গিজার অন করে রেখে এসেছি।গোসল করে বৃষ্টির পানি ধুয়ে ফেল।আমি কফি নিয়ে আসছি।"
মেহু বলে উঠলো," আমাকে দাও আমি নিয়ে যাচ্ছি।"
রাবেয়া বললেন," তুই ও তো ঘরে ঢুকেই হাঁচি দিয়েছিস শুনলাম।যা তুই ও ঘরে যা।ওই দুটোকেও বল গোসল সেড়ে নিতে।"
কাব্য ভাই ঘুরতে নিয়ে গিয়েছেন।এতোটা সময় একসাথে কেটেছে আজ।বকাঝকা,রাগের মাঝেও হুটহাট অন্য এক কাব্য ভাইকে দেখেছে মেহু।এসবের কাছে সামান্য হাঁচি-কাশি কিছুই না।মেহু নাক ঘষতে ঘষতে বললো," আমার কিছুই হয়নি, বড় মা।"
হাতের খরগোশটা দেখিয়ে বললো," ও আজ থেকে আমার সাথে থাকবে।তোমরা কিন্তু আমার মতো ওকেও খুব আদর করবে।"
নাফিসা কিছু বলতে নিচ্ছিলেন আগেই শাফায়াত মুখ খুললেন।ভারী গলায় বললেন," এভাবে হুটহাট বেরিয়ে কি হলো দেখলেতো?কখন ঝড় বাদলের কবলে পড়বে তার কোনো ঠিক আছে?মেহু নাহয় বোঝেনা,বাকিরা তো নিজেদের বেশ লায়েক মনে করে।"
ছেলে শুনুক সেভাবেই বলেছেন শাফায়াত।কাব্য শুলোও।তবে না শোনার মতো চুপচাপ ঢুকে গেলো রুমে।
নাফিসা মেয়েকে ধমকে উঠলেন," এখনো যাসনি?মার খাবি মেহু।"
বকায় কাজ হলো।তড়তড় করে ছুট লাগালো মেহু। 
____________ 
গোসল সেড়ে বেরিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো কাব্য।পাশের বারান্দার দিকে চোখ রাখলো।রুমের ভেতর থেকে মেহুর কাশির শব্দ আসছে।সাথে আসছে নাফিসার বকাবকির আওয়াজ।ঔষধ খাবেনা বলে চিল্লিয়ে যাচ্ছে।
কাব্য চলে এলো রুমে।রাবেয়া ঢুকলেন কফির মগ হাতে নিয়ে।কাব্যের পাশে বসে ওর চুলগুলো গুছিয়ে দিতে দিতে বললেন,"বাবার কথায় রাগ করিস না, আব্বা।মেহুটা কত খুশি হয়েছে দেখেছিস?"
কফিতে নিশ্চুপ চুমুক দিলো কাব্য।প্রসঙ্গ পালটে বললো," কাল থেকে হসপিটালে জয়েন করছি, আম্মু।এক সপ্তাহের ফ্রি ক্যাম্পেইন আছে একটা।ওখানেই ডিউটি পড়েছে।"
রাবেয়া আর কথা বড়ালেন না।ছেলের মুখটা মন ভরে দেখতে দেখতে বললেন,"আচ্ছা।"
________
তিনজনের জ্বর না হলেও গা কাঁপিয়ে জ্বর এলো দিব্যর।সারারাত রাবেয়া ছেলের পাশে বসে রইলেন।নীলাও চুপসানো মুখে বসে রইলো। সুযোগ পেলেই কপালের ভেজা কাপড়টা উল্টে পালটে দিলো।ওদিকে ঠাণ্ডায় গলা ব্যাথা করছে মেহুর।ঢোক গিললেই ব্যাথাটা বাড়ছে।কিন্তু যখন থেকে শুনেছে কাব্য কাল থেকে ওর কলেজে বেশ কয়টা দিন যাবে তখন থেকে ওর খুশি আর ধরছেনা।যেভাবেই হোক কাব্য ভাইয়ের সাথে যেতেই হবে।তাই রাত না জেগে শুয়ে পড়লো গিয়ে চুপচাপ।
_________
আজ নাফিসা ডেকে তোলার আগেই কলেজ ড্রেস পরে একেবারে রেডি হয়ে গেলো মেহু।কাব্যের রুমে সাড়াশব্দ নেই।নিচে নেমে ব্যাগটা চেয়ারে রেখে প্রথমেই গিয়ে ফ্রিজ খুললো।প্রতিদিন বরফ ঠান্ডা পানি নিয়ে যায় কলেজে।
আজ খুলতেই দেখলো একটা বোতলও নেই।চেঁচিয়ে উঠলো মেহু," আম্মু, ফ্রিজে পানি রাখোনি কেনো?"
- আমি রেখেছিলাম। কিন্তু সকালে উঠে দেখি সব বাইরে রাখা।
-কে রেখেছে?
-জানিনা।আর তুই কোন সাহসে পানি চাইছিস?কাল বিকেলে অভ্যেস মতো রেখেছিলাম।আমারই তো বের করে রাখা উচিত ছিলো ।"
মেহু চুপ মেরে গেলো ।যেই বের করে রাখুক একদিকে ভালোই হয়েছে।ঠাণ্ডা পানি পেলেই খেয়ে ফেলতো সে।গলা ব্যাথাটা এখনো যায়নি পুরোপুরি। 
খাবার টেবিলে নীলা বসে আছে ঘুমঘুম চোখে।মেহু চুপচাপ বসে গেলো ওর পাশে।
______________
সকাল থেকে মেহুর রেডি হওয়ার তোড়জোড় নিজের রুম থেকে শুনেছে কাব্য।নিজেও তৈরি হয়ে, এপ্রোন হাতে বেরিয়ে এলো।মেহু রুমে নেই জেনেই হাট করে খোলা রুমটার ভেতরে চোখ রাখলো।পুরো রুম এলোমেলো হয়ে আছে।।বিছানায়, চেয়ারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কাপড়-চোপড়।
দরজার মুখে উল্টে পড়ে আছে একজোড়া হিল জুতো।মেহুর এমন অগোছালো রুপ নতুন নয়।কাব্য অদেখা হাসলো।নিচু হয়ে জুতো জোড়া সোজা করে রাখলো।তারপর দরজাটা টেনে চাপিয়ে দিয়ে নেমে গেলো নিচে।
__________
আশেপাশে মেহুকে দেখলোনা কাব্য।খাবার টেবিলে বসে আছেন শাফায়াত।মাত্রই এসে বসেছেন।সবগুলো ছেলেমেয়ে ভিজে বাড়ি ফিরেছে গতকাল।দিব্য তো জ্বরে একেবারে কাবু হয়ে গেছে।শাফায়াত সারারাত এপাশ ওপাশ করেছেন।এই না আবার বাকিরাও জ্বরে পড়ে!ইনিয়েবিনিয়ে কাব্যের কথাও বারবার জেনে নিয়েছেন রাবেয়ার থেকে।
কাব্যকে মূল দরজার দিকে যেতে দেখে স্ত্রীর আগে শাফায়াত নিজেই বাবা সুলভ নরম কন্ঠে বললেন," নাস্তা খেয়ে বের হও।"
কাব্য জবাব দিলো রাবেয়ার দিকে তাকিয়ে, "বাইরে খেয়ে নেবো,আম্মু।"
কাব্য বেরিয়ে গেলো। কটমট করে স্ত্রীর দিকে তাকালেন শাফায়াত," এ ছেলে কি কখনো শুধরাবেনা?"
রাবেয়া উনার পাতে খাবার তুলে দিয়ে বললেন,"তুমি সে সুযোগ দিচ্ছো কোথায়?"
________
আগে আগে খেয়ে গ্যারেজের কাছে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলো মেহু।কাব্যকে বেরোতে দেখেই এগিয়ে এলো।কাব্য একপলক দেখেও না দেখার মতোন এগিয়ে গেলো।মেহু যা বলতে এসেছিলো তা বেমালুম ভুলে গেলো।ফরমাল প্যান্ট,ফরমাল ইন করা শার্ট, হাতে সাদা এ্যপ্রোন,স্টেথোস্কোপ ! এ কাব্য ভাই একেবারে নতুন ঠেকলো মেহুর চোখে !
কাব্যকে গাড়িতে বসতে দেখেই ভাবনা ছুটলো মেহুর। দৌড়ে গিয়ে বললো," কাব্য ভাই,আপনি যেখানে যাচ্ছেন আমি ওই কলেজেই পড়ি।"
- তো?
কাব্যের এরুপ ডোন্ট ক্যায়ার প্রশ্ন শুনেও দমলোনা মেহু ," তারমানে আমরা একই জায়গায় যাচ্ছি।তাই বলছিলাম,আমি আপনার সাথে আসি?"
- না। 
এককথায় নাকচ করে দিয়ে গাড়ি টেনে বেরিয়ে গেলো কাব্য।তবুও মেহু দাঁড়িয়ে রইলো।ভাবলো শেষ পর্যন্ত ওকে সাথে নেবে কাব্য।কিন্তু তেমন কিছু হলোনা। বাড়ির গাড়িতে ওঠার সময়, মেহুর গোমরা মুখটা কাব্যের গাড়ির ফ্রন্ট মিররে ভেসে রইলো অনেক্ক্ষণ। 
______________
শিহাব এগারোটার দিকে বাসায় ফিরলো। আজ চাচার বাসায় চলে যাবে বলে গত দুইদিন বন্ধুদের সাথে ছোট্ট একটা ট্যুর দিয়ে ফিরেছে।এসেই দিব্যকে দেখতে ছুটলো।নীলা স্যুপ বাটি হাতে বসে আছে।দিব্য চোখ মেলছেনা। খাচ্ছেওনা।নীলার সাথে কাল থেকেই কথা বলছেনা।অথচ এখন পর্যন্ত হাজারটা গার্লফ্রেন্ড নামক ন্যাকাগুলোর সাথে ঠিকই হাহাহিহি করেছে।
শিহাব ঢুকতেই নীলা বললো,"আমাকেও তোমার সাথে চাচ্চুর বাসায় নিয়ে চলো, ভাইয়া।রোগীদের ঢং আমার আর ভালো লাগছেনা।"
দিব্য উঠে বসলো। শিহাবকে বললো," রোগের ভাইরাসকে আগে সড়াও আমার সামনে থেকে।নিয়ে যাও এটাকে।"
শিহাব হেসে ফেলে বললো," শুনলাম জ্বরের জন্য কথা বলতে পারছিলি না।আমার বোন সেবাটেবা করে সুস্থ করে তুলেছে? "
দিব্য অবাক হওয়ার ভান করে বললো," কে দেয় তোমাকে এসব খবর?সেবার কি পারে তোমার বোন?দেখো, হাতে বাটি নিয়ে বসে আছে অথচ আমাকে খেতে বলছেনা।"
নীলা বাটি রেখে দিয়ে বললো," নিজে খেয়ে নাও।আমি আসলেই চলে যাবো।"
- চলে যা।
শিহাব হাত নাড়িয়ে থামালো দুজনকে। বললো," আমি চলে গেলে পরে ঝগড়া করিস, ভাই।এখন আমার কথা শোন।"
বলে তাকালো দিব্যর দিকে," নীলাকে ফেলে ক্যাম্পাসে যাবিনা।একদিনও না।মনে থাকবে?"
- থাকবেনা।
-বড় মামা,বড় মামি,কাব্য ভাই নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।কিন্তু নীলুর দায়িত্ব আমি তোকে দিলাম।তুই ওকে দেখে রাখবি।"
এবারেও ঘাড়ত্যাড়া জবাব দিব্যর,"পারবোনা।"
শিহাব হাসতে হাসতে বিদায় নিলো।নীলাও পেছন পেছন যেতে যেতে বললো," তোমাকে পারতেও হবেনা।আমি সত্যি ভাইয়ার সাথে চলে যাচ্ছি।"
দরজা পেরোনোর আগেই দিব্য বলে উঠলো," আমার এসাইনমেন্ট শেষ না করে একবার বেরিয়ে দেখ,তোর পা দুটো ভেঙে আমি বট গাছে ঝুলিয়ে রাখবো।"
__________
আজ যেনো সময় কাটছেইনা।সেই কখন থেকে ক্লাস চলছে মেহুর।কলেজে ঢুকেই আরেকবার এপ্রোন পরিহিত কাব্য ভাইকে দেখার জন্য পিপাসু দুচোখ মেলে তাকিয়ে ছিলো ক্যাম্পেইনের দিকটায়।কিন্তু ভীড়ের মধ্যে কাব্য ভাইয়ের দেখা পাওয়া দুষ্কর।
সারি সারি অনেকগুলো তাঁবু পড়েছে মাঠে।শিশু,মহিলা,পুরুষের আনাগোনায় আজ কলেজ মাঠ সরগরম।মেহু জানালা দিয়ে সেদিকে তাকিয়েই এসব ভাবছিলো।টিফিনের ঘণ্টা পড়তেই বেরিয়ে এলো ক্লাস থেকে।ওদিকেও লোক কমে এসেছে সকালের তুলনায়।
মেহু দূর থেকে একটা একটা করে তাঁবু দেখতে দেখতে এগোলো।শার্ট জড়ানো চওড়া কাঁধটা দেখেই হাসি ফুটলো মুখে।কাব্য দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো কলিগের সাথে।কথা শেষ করে ফিরতেই দেখলো মেহু তাকিয়ে আছে।সেই ড্যাবড্যাব করা চাউনি।কাব্য ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এসে বললো," এখানে কি?"
এতো মানুষের সামনে কাব্য কিছু বলবেনা বুঝতে পারে মেহু অবাধ্য হলো।জবাব না দিয়ে মনে মনে বললো," আগে আপনাকে একটু দেখতে দিন, কাব্য ভাই।প্রশ্নের উত্তর পরে দিচ্ছি।"
হলোও তাই।আশেপাশে পরিচিত মানুষ।নয়তো এক্ষুনি কষে একটা ধমক ছুড়তো কাব্য।একে তো কাজের জায়গায় এসে জ্বালাচ্ছে, এখন আবার দিনদুনিয়া ভুলে তাকিয়ে আছে!চোখ বন্ধ করে লম্বা করে শ্বাস টানলো কাব্য,চাপা কণ্ঠে বললো ," বলবি নাকি এভাবেই গবেটের মতো দাঁড়িয়ে থাকবি?"
প্রশ্নটা এবার করলো মেহু,"আপনি কখন বাসায় ফিরবেন?"
- যখন কাজ শেষ হবে তখন।
মেহু নাছোরবান্দা,"সেটা কখন কাব্য ভাই?"
কাব্য একটু নরম হতেই পেয়ে বসলো মেহু।জবাব না দিলে এই প্রশ্ন করা চলতেই থাকবে।কাব্য বুঝলো, তাই সোজা জবাব দিলো,"আর এক দেড় ঘন্টা লাগবে।হয়েছে?এবার যা।"
মেহু চলেও এলো।সকালে আসতে না পারলে কি হবে,যাওয়ার সময় সবার সামনে এমন ভাবে আবদার করবে যে কাব্য ভাই ফেলতেই পারবেনা।
________
টিফিনের পর কোনোমতে ধৈর্য্য নিয়ে একটা ক্লাস করেই বেরিয়ে এলো মেহু। অনেক্ক্ষণ খুঁজেও পেলোনা কাব্যকে।এক জনকে জিজ্ঞেস করতেই বললো কাব্য চলে গিয়েছে।সাথে সাথে চোখে পানি চলে এলো মেহুর।সে হয়তো সাথে যাওয়ার কথা মুখে বলেনি,কিন্তু ওর প্রশ্নের মানে বুঝতে পারা কি এতোই কঠিন ?
মেহু আর ফিরে গেলোনা ক্লাসে।গেইটের মামাকে বুঝিয়ে বেরিয়ে এলো।বাড়ির গাড়ি এখোনো আসেনি।একটা রিকশা নিয়েই বাড়ি ফিরলো।নিচতলায় কেউ নেই।রাগ, অভিমানে ফোঁসফোঁস করতে করতে যখন রুমে এলো, আরেকদফা ধক করে উঠলো বুকটা।ওর খোরগোশ টা নেই!বিছানার ওপর বালিশ দিয়ে ঘিরে রেখে গিয়েছিলো।নাফিসাকে বলেছিলো দেখে রাখতে।
মেহু দোতলা থেকেই চেঁচিয়ে মাকে ডাকলো।সাড়া না পেয়ে নীলার কাছে গেলো।নীলা,দিব্য দুজনেরই রুম বন্ধ। শুধু আধখোলা হয়ে আছে কাব্যের টা।
অনেক ভেবে উঁকি দিলো রুমের ভেতর।টেবিলে কাগজপত্র ছড়িয়ে চেয়ারে বসে আছে কাব্য।হাতের পেপার গুলোতে চোখ রেখেই বললো," তোর কি উঁকিঝুঁকি দেয়া ছাড়া কাজ নেই?"
খরগোশটা কে চোখে পড়লো মেহুর।কাব্যের পায়ের কাছে বসে গাজর খাচ্ছে টুকটুক করে।মেহু ধুপধাপ করে ঢুকে মোটা গলায় বললো," ওকে নিতে এসেছি।"
-নিয়ে যা।
ভোঁতা মুখ করে এগিয়ে গেলো মেহু ।কাব্যের পায়ের কাছে বসে খরগোশ টার দিকে ঝুঁকতেই ওর মাথার ওপর হাত রাখলো কাব্য যেনো টেবিলে আবারও মাথা ঠুকে না যায়।কাগজে চোখ রাখলেও মেহুর নড়াচড়ার সাথে সাথে হাতটাও জায়গা বদল করে যাচ্ছে।খরগোশটা ঝেড়ে মুছে হাতে নিতেই কাব্য বললো," এরপর থেকে বাইরে গেলে মেকুকে ছেড়ে রেখে যাবিনা।পড়ে গিয়ে ঠোঁটের কাছটা কেটে গেছে ওর।"
মেহু আঁতকে উঠে ওর কেটে যাওয়া জায়গাটা পরখ করলো।মৃদু ঔষধের ঘ্রাণ আসছে।এবার মনটা আরও খারাপ হয়ে এলো মেহুর।বিড়বিড়িয়ে বললো," আমি ছাড়া বাকি সবকিছুর খেয়াল থাকে আপনার।"
বলতে বলতে উঠে দাঁড়ালো।কাব্য হাত সড়িয়ে নিলো সাথে সাথে।আর একটা কথাও বলবেনা ভেবে চলে যেতে নিতেই থমকে দাঁড়ালো মেহু।কাব্য ভাই একটু আগে খোরগোশ টাকে 'মেকু' বলে ডেকেছে!
কাব্য আবার পেপার দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।সব অভিমান ভুলে বসে মেহু অবাক হয়ে বললো," আপনি ওর নাম রেখেছেন, কাব্য ভাই?"
কাব্য যেনো জানতোই প্রশ্ন টা করবে মেহু।তাই না ফিরেই কড়া গলায় জবাব দিলো,"বিরক্ত না করে চুপচাপ বিদেয় হ।"
মেহু কানেই তুললো না ওই ধমক।মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে রইল কাব্যের গম্ভীর, নিরেট মুখের দিকে।পিছু না ফিরেও সেই চাউনির গভীরতা অনুভব করলো কাব্য।উষ্ণ শ্বাস ফেলোলো আলগোছে।মেহুর এমন চাউনিতে প্রতিবারই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠতে মন চায় তার।
কাব্যের ভেতরে চলা অশান্ত ঝড়ের আভাস মেহু পেলোনা।কাব্যকে চুপ থাকতে দেখে নিজেই বললো, " অনেক ধন্যবাদ, কাব্য ভাই।নামটা মেহু আর মেকু দুজনেরই খুব পছন্দ হয়েছে।"
তারপর মেকুকে জাপ্টে ধরে বেরিয়ে যেতে যেতে বিড়বিড়ালো, "আমাকে কখোনো নাম ধরে ডাকেন না কেনো,কাব্য ভাই?।আমার নামটা কি আপনার পছন্দ নয়?"
#চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন