#মন_আড়ালে
#পর্ব_১৫
#তানজিলা_আনিম
নাতাশারা চলে গেলেও শাফায়াত থামছেনই না।লিভিং রুমে আরাম করে বসে নাতাশার পুরো বায়োডাটা মুখস্থের মতোন বলে চলেছেন।রুনা ভাইয়ের কথায় হুহা করলেও টু শব্দটাও করছেন না রাবেয়া।ছেলের ভাবনাচিন্তা উনি জানেন।তবুও কখনও কখনও ভেবে বসেন যে এই হয়তো ছেলের মন বদলালো।কিন্তু এখনও কানে বাজছে একটু আগে তাকে বলা ছেলের অটল কণ্ঠটা,"বুঝেও কেউ যদি না বোঝার ভান করে থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নেই মা।কিন্তু তোমাকে ওই দলে দেখতে চাইনা।মেয়ে বিষয়ক চ্যাপ্টার যেনো এখানেই ক্লোজ হয়।"
ব্যাস! এর পর থেকে রাবেয়া যা একটু আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তাও একবারে ঝেরে ফেলেছেন।
কাব্যকে নামতে দেখে রাবেয়া সচল হলেন।দ্রুত শাফায়াতকে থামিয়ে দিয়ে বললেন," আচ্ছা,এসব রাখো এখন।এসব পরে দেখা যাবে।"
তারপর নীলার নাম ধরে ডাকলেন," কই রে নীলু।কি কি শপিং করলি কিছুই তো দেখা হলোনা।নিয়ে আয়।দেখি। "
নীলা ফোন ঘাটছিলো।সব জামাকাপড় এলোমেলো হয়ে আছে।ডাক শুনেই হুড়মুড় করে সবকিছু জড়ো করতে ব্যস্ত হলো।
একটু দূরে টিভির সামনে বসে আছে শিহাব।নিউজ দেখছে মন দিয়ে।কাব্য একবার মায়ের দিকে দেখে শিহাবের পাশে গিয়ে বসলো।সাথে চোখ ঘুরিয়ে আনলো রান্নাঘর থেকে।মেহু কিছু একটা করছে সেখানে।
নীলার পেছন পেছন অবনী নেমে এলো শুকনো মুখে।রুনার পাশে বসেই জড়িয়ে ধরে মুখ গুজে ফেললো উনার কোলে।
নীলা টেবিলে ব্যাগ গুলো রেখে বললো," অবনীকে একটা ধমক দাও তো আম্মু।হুট করে বলছে আমাদের সাথে যাবেনা।কালকে বাসায় চলে যাবে।"
রুনা অবনীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন," যাবিনা কেনো?কি হয়েছে?"
অবনী জবাব না দিয়ে মুখটা আরেকটু গুঁজে বসলো।
টিভি দেখার ফাঁকে শিহাব চাইলো একবার এদিকে।তখন সে যায়নি বলে সত্যি সত্যি নিজে কিছু কেনেনি অবনী।নীলা,নাফিসা মিলে যা বেছে দিয়েছে তাতেই মাথা নেড়েছে শুধু।
নাফিসা বাড়ির সবার জন্য পোষাক কিনেছেন।কাব্য,দিব্য,শিহাবের একই রকম সবকিছু।নীলা নিজের গুলো ধরে ধরে দেখাচ্ছে শাফায়াত কে।
ওদের আলাপচারিতার মাঝে টুকটুক করে ট্রে হাতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো মেহু।কাব্য চোখ তুলে চাইলেও মেহু তাকালোনা।কাব্যের সামনে দিয়ে সোজা গিয়ে শিহাবের কাছে দাঁড়ালো।মিষ্টি হেসে বললো,"তোমার জন্য কফি বানিয়েছি শিহাব ভাই।"
শিহাব পাশ ফিরে কাব্যকে দেখলো।সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বেশ আয়েশ করে বসে আছে। মনোযোগ টিভির স্ক্রিনে।একটু কেশে গলা পরিষ্কার করে শিহাব মগ নিলো। বললো," কফির ক্রেভিং হচ্ছিলো ভীষণ।থেনক্স মেহু।"
মেহু চট করে দেখে নিলো কাব্যকে।শুনিয়ে শুনিয়ে বললো," স্পেশাল কফি ফর মাই স্পেশাল ব্রাদার।থেনক্স দেয়ার কিছু নেই।"
বলে আবার ঠিক কাব্যের সামনে দিয়ে গিয়ে ওপাশের সোফাটায় বসলো।যাওয়ার পুরোটা সময় কাব্যের চোখ দুটো মেহুতে আটকে রইলো!মেহু বসতেই শিহাব বললো," কাব্য ভাইকে দিলিনা?আরেকটা কফি কার জন্য?
পায়ের উপর পা তুলে মেহু হাতে নিলো মগটা।চুমুক দিয়ে বললো," আমার জন্য।আমার হাতের কফি আবার সবার জন্য নয়।স্পেশাল তো।"
শিহাব আলতো হেসে আর কিছু বললোনা।মেহু আরও একবার কাব্যের দিকে তাকালো।কাব্য আগেরমতোই নির্বিকার।মনে মনে একটু হতাশ হলো মেহু।ভেবেছিলো কাব্য ধমকে উঠবে।কফি কেনো দেয়নি জানতে চাইবে।কৈফিয়ত চাইলে কি বলবে সেই জবাব টা পর্যন্ত ভেবে রেখেছে সে।কিন্তু কাব্য ভাইতো কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাচ্ছেন না।পরপরই ভাবলো- তারমানে আমার হাতের কফির আলাদা করে কোনো গুরুত্ব নেই উনার কাছে?
ভেবেই মনটা খারাপ হলো মেহুর। চোখে বিষাদ ফুটিয়ে কাব্যের দিকে তাকাতেই শাফায়াত ডাক দিলেন ওখানে বসে," এদিকে এসো মেহের।"
মেহু মগটা রেখে ধীর পায়ে উঠে গেলো।শাফায়াত বললেন," আজকেও ঠিকঠাক খাওনি শুনলাম।এভাবে চললে তো শরীর খারাপ করবে।না খেয়ে অসুখ করলে তোমার বাবাকে কি জবাব দেবো আমি?"
নাফিসা সাথে সাথে আরও অভিযোগের পাতা খুলে বসলেন," ইদানীং বেশি জ্বালাচ্ছে ভাইজান।এমন করলে আবার হোস্টেলে পাঠিয়ে দেবো ওকে।তখন দেখবো কে ওর এতো জ্বালাতন সহ্য করে।"
মেহু কাঁদোকাঁদো হতে হতে কেঁদেই ফেললো।সব অভিমান জড়ো হয়ে ভারি হয়ে এলো গলার স্বর," হ্যাঁ, পাঠিয়ে দাও হোস্টেলে।এমনিতেও এ বাড়িতে আমায় কেউ ভালোবাসেনা।দেখতেও পারেনা।"
রাবেয়া টেনে নিলেন ওকে।আদর করে বললেন," কেউ পাঠাবেনা আমাদের মেহুকে।ও ছাড়া বাড়িটা কেমন ফাঁকা লাগে।"
নাফিসাকে বললেন," তুই একদম ওকে ভয় দেখাবিনা উল্টাপাল্টা বলে।"
নাফিসা লম্বা শ্বাস ফেলে চুপ করে গেলেন।মেহুর কান্না থামাতে রাবেয়া প্রসঙ্গ বদলে বললেন," তুই কি কি কিনেছিস দেখাসনিতো বড় মাকে।"
নীলা বলে উঠলো, " ও আমাদের কাউকেই দেখায়নি জানো।দেখেছিতো অনেক কিছু কিনেছে।কিরে, আমাদের জন্য কিছু কিনেছিস নাকি সব নিজের জন্য?"
মেহু চোখ মুছে বললো," দেখাবোনা।কাউকে দেখাবোনা।কারোর জন্য কিছু কিনতে বয়ে গেছে আমার।"
শাফায়াত রুমের দিকে যেতে যেতে বললেন,"আহ,মেয়েটাকে রাগিয়োনা।যাও,সবাই ঘুমিয়ে পড়ো গিয়ে।সকাল সকাল সব গুছিয়ে রওনা দিতে হবেতো। "
শাফায়াত যেতেই রাবেয়াও ওই পথ ধরলেন।রুনার সাথে নাফিসা যেতেই ,অবনীও উঠে বসলো।বললো," রুমে যাচ্ছি আপু, ঘুম পাচ্ছে।"
বলে শিহাবের দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলো মুহুর্তের জন্য।শিহাব তাকিয়েই ছিলো।তবে অবনী চোখ সড়িয়ে নিলো সাথে সাথে।চুপচাপ চলে গেলো সেখান থেকে।
মেহুও উঠে দাঁড়ালো।কফিটার কথা ভুলেই গিয়েছিলো।ঠান্ডা হয়ে গেছে এতোক্ষণে।ফেলে দিয়ে আসবে ভেবে ঘুরে দাঁড়াতেই শক্ত বুকের সাথে নাক ঠেকে গেলো মেহুর। তাকাতেই খালি কফির মগটা ওর সামনে ধরলো কাব্য।সাথে শোনা গেলো ওর শান্ত স্বর," স্পেশাল কফি স্পেশাল মানুষের পেটেই গিয়েছে। ওটা তোর হজম হতোনা।"
মেহু কটমট করে তাকালো।কিন্তু কাব্য ততক্ষণে ওকে পাশ কাটিয়ে চলে গেছে সিঁড়ির গোড়ায়।
__________
রাত বেড়েছে অনেকটা।আকাশে ঘন মেঘের ছড়াছড়ি।।সবাই যার যার রুমে নিজের কাজে ব্যস্ত থাকলেও ওয়াহিদ ম্যানশনের দুটো মানুষের চিন্তা জুড়ে এখন দিব্য।খাবার বেড়ে রাবেয়া বসেছিলেন।কখন চোখ লেগে গেছে খেয়ালই করেন নি।নীলা ওড়নার কোনা মুড়িয়ে রুমের এপাশ থেকে ওপাশে যাচ্ছে।এমন রাত করে ফেরা দিব্যর জন্য নতুন নয়।আর ওর জন্য খাবার নিয়ে বসে থাকার কাজটা অলিখিত নিয়ম হয়ে গিয়েছিলো নীলার জন্য।সেই অভ্যাসের সূত্রেই হয়তো আজও নীলার ঘুম আসছেনা।
বিছানায় বেঘোরে ঘুমাচ্ছে অবনী আর মেহু।দোতালা থেকে উঁকি দিয়ে যখন দেখলো রাবেয়া হাতে ভর দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন, তখন আর থাকতে না পেরে ছটফটিয়ে নেমে নেমে এলো নীলা।
মৃদু স্বরে ডেকে উঠলো," বড় মামি,তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।আমি আছি এখানে।"
রাবেয়া চোখ খুলে উঠে বসলেন।রেগে বললেন," না, আজ আসুক ওই বাঁদর ছেলে।ওর লম্বা পা দুটো আমি কাটবো।ওর বাবাকে জানাইনা বলে বড় বাড় বেড়েছে।"
নীলা নিচু গলায় বললো,"আচ্ছা।কাল সকালে বলো যা বলার।এখন তুমি যাও।বসে থেকে তোমার কোমড় ব্যাথাটা আরও বাড়বে।"
রাবেয়া দিব্যকে বকতে বকতেই রুমে গেলেন।
ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরিয়েছে।অভ্যাস মতো নীলা জানে এক্ষুনি আসবে দিব্য।তাই প্লেটে ভাত দিয়ে, বাটিতে তড়কারি দিলো।মাছ খেতে পারেনা দিব্য।কাঁটা বেছে দিতে হয়।নীলা তাই করলো।কাটা বেছে রাখলো মাছটার।কাজগুলো করতে করতে জল এলো নীলার চোখে।দিব্য ভাইটা একটু শুধরায় না কেনো?এই যে ও কষ্ট পেয়েছে, তারপরেও একটাবার স্যরি বলেনি।উল্টো মেরেছে আর বকা তো আছেই।
একটু পরেই মৃদু শব্দ হলো দরজায়।নীলা বুঝলো দিব্য এসেছে।দরজা খুলে দিয়ে মুখ ফিরিয়ে রেখে বললো,"খাবার রাখা আছে খেয়ে নাও।"
দিব্য চোখের কোণ তুলে নীলাকে একবার দেখে নিয়ে সোজা পা বাড়ালো রুমের দিকে।নীলা দৌড়ে ওর পথ আটকালো,"বড় মামি এতোক্ষণ বসে ছিলো তোমার জন্য খাবার নিয়ে।না খেলে কষ্ট পাবেন। তুমি জানোনা সেটা?"
দিব্য ঠেলে সড়িয়ে দিলো ওকে।চাপা ক্ষোভ নিয়ে বললো," তোকে এতো দরদ দেখাতে কে বলেছে?একদম ঢং করবিনা।"
নীলা কেঁদে ফেললো।কান্নার জন্য বুজে এলো ওর গলা," আমি ঢং করছি?তোমার জন্য আমাকে কথা শুনতে হয়েছে বাইরের একটা ছেলের থেকে। অপমানিত হতে হয়েছে।তা সত্যেও আবার তুমিই রাগ দেখাচ্ছো আমার উপর।তুমি কি আমাকে মানুষ মনে করোনা?নাকি বারবার আঘাত করে মনে করিয়ে দাও যে আমরা তোমাদের বাড়ির আশ্রিতা?"
মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠলো নীলা।কি বলতে কি বলেছে খেয়াল না করলেও দিব্য অনেক্ক্ষণ থম ধরে দাঁড়িয়ে রইলো।চোখের সাদা অংশে লালিমা এসে ঘিরে বসেছে।সেভাবেই নীলার ক্রন্দনরত মুখটা এক ঝলক দেখে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেলো নিজের রুমে।
____________________
সকাল হতেই সবাই ব্যাগ গোছাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে।অবনী একটা শপিং ব্যাগ বুকে আঁকড়ে ধরে রীতিমতো খুশিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে বিছানায়।নীলা বললো,"যাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে এখন?আর মন খারাপ নেই?"
অবনী উচ্ছল হাসলো।মনে মনে আওড়ালো," সকাল সকাল আমার চাশমিশের কাছ থেকে যেই সারপ্রাইজ পেয়েছি তাতে আর মন খারাপ থাকে নাকি?"
মেহুকে নতুন জামাটা দেখাবে বলে লাফাতে লাফাতে যেইনা নীলার রুম থেকে বের হলো,শিহাবকে দেখে পায়ের গতি ধীর করলো তখুনি।দাঁত বের করে হাসি হাসি মুখ করে তাকালো ওর দিকে।শিহাব যেতে যেতে নিরব হুমকি ছুঁড়ে দিলো," এখানে লাফাচ্ছো লাফাও।ওখানে ভালো মেয়ের মতো ধীরস্থির হয়ে চলবে।আর ভুলেও আমার আশেপাশে আসবেনা।উল্টাপাল্টা কাজ করার কথা তো কল্পনাতেও আনবেনা।মনে থাকে যেনো।"
___________
গতকাল রাতে যাও একটু দেখা গিয়েছে,কিন্তু সকাল থেকে মেহু একটাবারের জন্যও বের হলোনা রুম থেকে।কাব্যের আজ যাওয়া হবেনা।তাই শিহাব আর দিব্যও জানিয়েছে কাল ভোর ভোর তিনজনই চলে যাবে ওখানে।এটা শুনে মেহুর যাওয়ার আনন্দ আরও মরে গেলো।
কাব্য ক্লিনিকের জন্য বেড়িয়েছে বুঝতে পেরে মেহু দ্রুত নেমে এলো নিচে।তবে বেশি এগোলোনা।গ্যারেজের বড় পিলারটার পেছনে দাঁড়িয়ে রইলো চুপ করে।কাব্য গাড়িতে উঠতে নিয়েও হঠাৎ পেছনে ফিরলো।মেহুকে থতমত খাইয়ে দিয়ে এগিয়ে এলো ধীর কদমে।একেবারে ওর মুখ বরাবর এসে থামতেই চলে যেতে চাইলো মেহু।কাব্য দিলোনা।বাহু আঁকড়ে ধরে টেনে এনে একেবারে নিজের সাথে লাগিয়ে ধরলো।অন্য হাত তুলে মেহুর গালের দুপাশে আঙুল দিয়ে চেপে ধরলো।চাপ আরেকটু বাড়াতেই ফোলা ফোলা রক্তিম ঠোঁট দুটো সড়ে গিয়ে আলতো ফাঁক হলো সেখানে।সেদিকে চোখ রেখে কাব্য প্রশ্ন ছুড়লো, " গাল ফুলিয়ে রেখেছিস কেনো?"
মেহু মৃদু আর্তনাদ করে বললো," ব্যাথা পাচ্ছি।"
কাব্যের ঠাণ্ডা স্বর ভেসে এলো," আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছিস কেনো?"
কাব্যকে এইমুহূর্তে পাষাণ ছাড়া আর কিছু লাগছেনা মেহুর।এই যে সে অভিমান করে ঘুরছে, সেটাকি কাব্য ভাইয়ের চোখে পরছেনা?
কিন্তু এই কঠোর মুখটার সামনেও নিজে কঠিন হয়ে থাকতে পারলোনা মেহু।ভাঙা ভিজে এলো গলা, বললো," বড় মা বলেছে শাড়ি পড়ে মেয়েটাকে আপনার পাশে সুন্দর লাগছিলো।"
কাব্যের দৃষ্টি তখনও কাঁপতে থাকা দুটো ঠোঁটে,বললো," শুধু শাড়ি পড়েছে বলেই আমার পাশে মানাচ্ছিলো?"
চোখ সড়িয়ে নিলো মেহু।বললো," শাড়ি পরায় বেশি মানাচ্ছিলো।"
কাব্য ফটাফট বলে উঠলো, "তাহলে তুই শাড়ি পড়ে মায়ের ভাবনাটুকু ভুল প্রমাণ করে দিচ্ছিস না কেনো?"
অসহায়ের মতো কালো হলো মেহুর মুখটা। নাক টেনে বললো," আমি শাড়ি পরতে পারিনা।"
অনেক্ক্ষণ কেটে গেলেও যখন কাব্য জবাব দিলোনা মেহু আড় চোখে একবার তাকালো।কাব্য ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।কপালে ভাঁজ পড়েছে।চুপচাপ ভাবছে কিছু একটা।মেহু আবারও চোখ সড়িয়ে নিলো।
সাথে সাথে আদেশ ভেসে এলো," আমার দিকে তাকা।"
মেহু শুনলো। তাকালো সোজাসুজি।ছলছল চোখে ভাবলো কাব্য ভাই হয়তো এখন বলবে যে, "ওই মেয়েটা কেউ না। মা হাজার বললেও কিচ্ছু যায় আসেনা।আমার পাশে কেবল তোকে মানায়।"
কিন্তু ওর ভাবনা ছুটোলো সম্পূর্ণ অন্য প্রশ্নে," আমার পাঞ্জাবি এনেছিস?"
আশা ভঙ্গ হওয়ায় চটে গেলো মেহু।বললো," এনেছি।কিন্তু আপনাকে দেবোনা। "
- তাহলে কি করবি ওটা দিয়ে?
মেহু আরও মেজাজ দেখিয়ে বললো,"বিয়ে বাড়িতে গিয়ে পছন্দ মতো কোনো হ্যান্ডসাম যুবককে দিয়ে দেবো।"
কাব্যের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্যই চোখের পলক না ফেলে তাকিয়ে ছিলো মেহু।তবে কোনো হেলদোল হলোনা কাব্যের।হঠাৎ ওকে ছেড়ে দিয়ে শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে বলল," ওহ! তুই শিওর?"
কাব্যের এমন নিরুত্তাপ ভাবটা কিছুতেই সহ্য হলোনা মেহুর। তেঁতে উঠে ভেতরে
যেতে যেতে বলল," ওই পাঞ্জাবি নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবেনা।ওটা আমি যাকে ইচ্ছা তাকে দেবো।পারলে নিজে পড়ে বসে থাকবো।তাও আপনাকে দেবোনা বুঝেছেন?"
#চলবে,,