ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন আড়ালে

১৮তম পর্ব

লেখক: তানজিলা আনিম

#মন_আড়ালে

#পর্ব_১৮
#তানজিলা_আনিম
বাইক রেখে দিব্য আগে আগে ভেতরে ঢুকলো বাড়িতে।মেজাজ বিগড়ে আছে তার।নীলার বাচ্চা আইস্ক্রিম খেয়েছে কম তার শার্টের পেছনে মাখিয়েছে বেশি।পেছন পেছন চোরের মতোন মুখ করে আসছে নীলা।পুরো রাস্তা চুপ থাকলেও এবার মিনমিনিয়ে বলে উঠলো," তোমাকে কে বলেছিলো কিনে দিতে?আবার খাওয়ার সময়ও দাওনি।নিজেই বলেছো চলতে চলতেই খেয়ে নিতে। আমি সেটাই করছিলাম।কিন্তু একটু পরপর ব্রেক কষলে এমনতো হবেই।"
দিব্য গজগজ করে উঠলো ," মুসিবতের বাচ্চা।তুই সাথে থাকলে এ জীবনে আমার সাথে ভালো কিছু হবেনা।"
নীলা আঙুল তুলে মুখ খুলতে নিয়েও থেমে গেলো।দিব্যর দিকে এগিয়ে এসেছে একটা মেয়ে।এসেই ওর হাত আঁকড়ে ধরলো। উচ্ছাস ঝরে পড়লো মেয়েটার কথায়," তোমাকে এখানে দেখবো একদমই ভাবিনি।আ'ম সারপ্রাইজড।"
হুট করে কলেজ লাইফের এক্স রিমি কে দেখে বেশ থতমতই খেয়েছে দিব্য।আসেপাশে অনেকেই তাকিয়ে দেখছে ওদের।দিব্য হাতটা ছাড়িয়ে নিলো।স্বাভাবিক ভাবেই বললো," কেমন আছো রিমি?"
রিমি হেসে বলল," বাহ একদম জেন্টেলম্যান এর মতো কথা বলছো!বাট আই উড লাভ টু মিট দ্যাট জোলি,ফানি,সুইটহার্ট দিব্য মোর।"(আমুদে,সুইটহার্ট দিব্যকে পেলেই বেশি খুশি হবো)
দিব্য বারবার দেখছিলো নীলাকে ।তবে নীলার তেমন ভাবাবেগ নেই।যেখানেই যাবে সেখানেই দিব্যর গার্লফ্রেন্ড, এক্স জুটে যাবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা এমন নির্লিপ্ত সে ।ওদের রেখে নীলা পা বাড়ালো সামনে।তবে ওকে থামিয়ে দিলো দিব্য।নিজেও এগিয়ে এসে বললো," কোথায় পালাচ্ছিস?সকালের টা আম্মু ধুয়ে দিলেও এটা তুই পরিষ্কার করবি। চল।"
তারপর রিমির দিকে ফিরে ভাসা গলায় 'বললো, "একটু বিজি আছি।আসছি।"
বলে একরকম দ্রুত চলে গেলো নীলার সাথে।নীলা বেশ অবাক হয়েই বললো," চলে এলে যে?তোমার পছন্দের সাবজেক্ট এসে গেছে।যাও।কথা বলো।এমনিতেও তোমার আর কাজ কি!"
দিব্য সাথে সাথে জবাব দিলোনা। পাশাপাশি হাঁটছে চুপচাপ।মেয়েটাকে দিব্য এড়িয়ে এসেছে এটা বিশ্বাস হচ্ছেনা নীলার।দিব্যর হাবভাবও কেমন অন্যরকম লাগছে।অনেক্ক্ষণ চুপ থেকে দিব্য আড় চোখে নীলাকে দেখে নিয়ে ধীরে ধীরে বলে উঠলো," আমি ভালো হওয়ার চেষ্টা করছি।"
- অ্যাহ?
হাঁটা থামিয়ে থমকে দাঁড়ানো নীলা। চোখ বড়বড় হয়ে গেছে তার।
দিব্য ফ্লোরের দিকে আরেকবার নীলার দিকে দেখে আগের মতোই বেচারা ভঙ্গিতে বললো," এমন রিয়েকশান দিচ্ছিস কেনো?আমি ভালো হতে পারিনা?"
নীলার গলা দিয়ে কথা বেরোলোনা সহজে।আটকে আটকে বলল,"এমন কথা তুমি বলছো এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা, দিব্য ভাই।"
দিব্য নিজের ফোনটা এগিয়ে দিয়ে সাফাই দেওয়ার মতো করে বললো," না করার কি আছে?দেখ,নিজেই ম্যাসেজ চেক করে দেখ।যত মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করেছি সবাইকে স্যরি বলেছি।অনেকের সাথে তো দেখা করেও মাফ চেয়েছি।এরপর সবাইকে ব্লক করেছি।ফ্রেন্ড লিস্ট এখন শুধু শ্রদ্ধেয় আপু,আন্টি দিয়ে ভরে আছে।"
 আরও বলল," ওইদিন যে নোটস করে দিয়েছিলি?দুইটা চ্যাপ্টার পড়েও ফেলেছি।চাইলে জিজ্ঞেস করে দেখ,সবগুল ইকুয়েশান গড়গড় করে বলে দেবো।"
দিব্য উদগ্রীব হয়ে বলে যাচ্ছিলো।নীলা এর মধ্যেই প্রশ্ন ছুড়লো," এসব আমাকে বলছো কেনো?
তুমি কি করবে,করছো সেসব কিছুই আমাকে বলতে হবেনা দিব্য ভাই।আমি জানতে চাইনা।"
দিব্য কথা বলা থামিয়ে চাইলো।চোখেমুখে হঠাৎ কেমন অভিমান খেলে গেলো।তেমনই নাজুক চোখে কয়েকপল তাকিয়ে থেকে চলে গেলো সেখান থেকে। 
_______________
রোদ পড়তেই গায়ে হলুদের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেলো।সাফিয়াকে শাড়ি পড়িয়ে দেয়ার ভার পড়লো নাফিসার উপর।এরপরেই শাড়ি পড়বে বলে বসে আছে নীলা।অবনী এদিকে সবার চেয়ে এগিয়ে।সবার আগে রাবেয়ার কাছ থেকে শাড়ি পড়ে, সেজে গুজে নিয়েছে।আয়নায় আরেকবার নিজেকে দেখে নিয়ে বেরিয়ে এলো।শিহাব ভাইকে না দেখালে এতোসব সাজাগোজার কোনো মানেই নেই।
ক্লান্ত শিহাব একটা রুম ফাঁকা পেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে ছিলো।চুড়ির টুংটাং আওয়াজ কানে যেতেই মাথা তুলে তাকালো।নিভুনিভু চোখে লজ্জা মেখে দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে অবনী।এই প্রথম শাড়ি পড়ে শিহাবের সামনে এসেছে সে।একটু আগেও সহজ থাকলেও এখন বেশ লজ্জা লাগছে ।অবনী শাড়ির আঁচল আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে এসে দাঁড়ালো শিহাবের সামনে।পাঞ্জাবি টা পাশে রেখে বললো," পড়ে নিন।"
ক্লাস নাইনে পড়ুয়া মেয়েটা ওর উল্টাপাল্টা কাজকর্ম দিয়ে শিহাবকে সবসময় জ্বালিয়ে মারে।মেজাজের বারোটা বাজিয়ে রাখে।এই প্রথম শিহাব অন্যরকম অস্বস্তি বোধ করলো বুকের ভেতর।সেই অস্বস্তি টুকু ঢাকতেই বোধহয় শক্ত করলো গলার স্বর," শাড়ি পড়েছো কেনো?যেভাবে ছুটোছুটি করো কখন পায়ে বাজিয়ে পড়ে যাবে বুঝতেও পারবেনা।"
অবনী নাক ফুলিয়ে বললো," আজকেও বকতে হবে আপনার?"
-বকার মতো কাজ করলে বকবোনা?
- নাহ!বকা যাবেনা।মেয়েরা শাড়ি পড়লে যেটা করতে হয় তা হলো প্রশংসা, প্রশংসা আর প্রশংসা।দেখি এবার বলুন কেমন লাগছে আমায়?
শিহাব ওসবে গেলোই না।পায়ের দিকে তাকিয়ে বলল," আবার এতো উঁচু হিলও পড়েছো?এক্ষুনি খুলে রাখো বলছি।"
নাচার প্ল্যান এখোনো বাদ দেয়নি অবনী।ভুলিয়ে ভালিয়ে কোনোমতে শিহাব ভাইকে নিয়ে একটু দাঁড়াতে পারলেই সে খুশি।কিন্তু মানুষটার হাইটের সাথে মানাতে গেলে হিল তো পড়তেই হবে।মাস্ট।
অবনী পিছিয়ে গেলো তড়তড় করে,"উঁহু।খুলবোনা।"
শিহাব উঠে এগিয়ে এলো।হাত ধরে টেনে কাছে এনে বললো," কথা শোনো,অবনী।"
অবনী উল্টো শিহাবের দুটো হাত টেনে নিজের কোমড়ে রেখে নিজে ওর কাঁধে হাত রাখলো।শিহাব ছাড়িয়ে নিতে চাইলেও হাত দিয়ে চেপে ধরে বললো,"আমার সঙ্গে একটু নাচুনতো, শিহাব ভাই।"
শিহাব জোর করে ছাড়িয়ে নেয়ার আগে অবনীই ছেড়ে দিলো।দ্রুত পিছু হটে গেলো হঠাৎ। শিহাব তাকাতেই দেখলো রুনা আস্তে-ধীরে ঢুকছে রুমে।সাথে অচেনা একজন মহিলা।এসেই বললেন," এই যে আমার একমাত্র ছেলে,শিহাব।মাস্টার্স শেষ করেই জবে ঢুকে পড়েছে।ছেলেটা আমার যেমন মেধাবী তেমনই আল্লাহ দ্রুত ওর পড়াশোনার ফল দিয়েছে।"
মায়ের কথা মাথার উপর দিয়ে গেলো শিহাবের।এবার ওই মহিলাই এগিয়ে এলো।বললো," ভালো আছো?সেই ছোট বেলায় দেখেছিলাম।"
শিহাব নম্র হেসে সালাম দিলো।এখনো কিছু বুঝে আসছেনা তার।
রুনা বললেন," উনি তোর আসাদ আঙ্কেলের আত্মীয়।এই পাশেই থাকেন। উনার মেয়ে এবার এইচএসসি দিয়ে অনার্সে ভর্তি হয়েছে।"
এতোক্ষণে ঘটনা বুঝে এলো শিহাবের।তবে ব্যাপার খানা আগেই বুঝে গেছে অবনী।তাই তটস্থ হয়ে রইলো সে।মহিলাটা রুনাকে নিচু গলায় বললো,"ওদের এখানে আলাদা করে একটু কথা বলার ব্যাবস্থা করে দিলে ভালো হয়না আপা?"
বলেই অবনীর দিকে তাকালো। অবনী শুকনো মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে উঠলো," শাড়ি পড়লেও আমি আসলে ছোট্ট একটা মেয়ে আন্টি।ভালো করে দেখুন,একদম মাসুম আর পিচ্চি লাগছেনা?এই পাশেই আমি চুপচাপ বসে থাকবো।"
রুনা বললেন," ও আমার দেবরের মেয়ে।থাকুক।তুমি মেয়েটাকে নিয়ে এসো।"
মহিলা বেরিয়ে যেতে নিয়ে বললেন," এতো লাজুক আমার মেয়েটা।এতো ডাকছি তাও আসছেনা।বলে কিনা একেবারে অনুষ্ঠান শুরু হলে আসবে।"
মহিলাটা বেরিয়ে যেতেই শিহাব মায়ের দিকে হতাশ চোখে তাকালো।রুনা যাওয়ার আগে বললেন," দেখলেই কি বিয়ে করতে হবে নাকি?পাঞ্জাবিটা পড়ে চুপচাপ বস এখানে।"
অবনীর চোখ দুটো এরইমধ্যে নিস্প্রাণ হয়ে গেছে।শিহাব ফোঁস করে শ্বাস ফেলে পাঞ্জাবি বদলে নিলো।তারপর বেরিয়ে এলো রুম থেকে।অবনীও ছুটলো পিছু পিছু," আমি দেখেছি মেয়েটাকে।আমার চেয়েও লম্বা,নাকটাও খাড়া।আপনার কি এমন মেয়ে পছন্দ, শিহাব ভাই?"
- হ্যাঁ।অন্নেক পছন্দ।
শিহাব অতিষ্ঠ হয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো।হুট করে আর্তনাদ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখলো অবনী মেঝেতে বসে আছে।পা য়ে চেপে ধরে চিৎকার করছে।শিহাব এগিয়ে নিচু হয়ে বসতেই অবনী ওর হাত আঁকড়ে ধরলো,কাঁদোকাঁদো হয়ে বললো," পা টা বোধহয় মচকে গেছে শিহাব ভাই।ভীষণ ব্যাথা হচ্ছে।আমাকে ধরে তুলুন।তাড়াতাড়ি। "
শিহাব হকচকিয়ে তাই করলো।রাগ ভুলে ধরে তুললো ওকে।রুমের দিক যেতে নিতেই অবনী বাধা দিয়ে বললো,"ওদিকে নিচ্ছেন কেনো?বাইরে নিয়ে চলুন।একটু পরই হলুদ শুরু হবে।আমি কি পরে একা একা যেতে পারবো নাকি?মিস হয়ে যাবেনা?"
শিহাব উদ্বিগ্ন হলো," পায়ে বরফ দিতে হবে আগে।"
সটান দাঁড়িয়ে পড়লো অবনী," না না। একটু বসে থাকলেই ঠিক হয়ে যাবে।আপনি ওখানেই নিয়ে চলুন।"
অগত্যা ওকে হহলুদের ওখানটায় বসিয়ে দিলো শিহাব।বললো," নাচার শখ মিটেছে?"
অবনী জবাব দিলোনা।শিহাব উঠতে নিতেই বললো,"আমার সাথে বসে থাকুন আপনি।মেহু আপু,নীলা আপু সবাই কতো ব্যাস্ত দেখছেন না? কিছু প্রয়োজন হলে আমি কাকে ডাকবো বলুনতো!"
_______________
সাদা ঝরঝরে কাপড়ের স্কার্ট আর বাগানবিলাস রঙা ফতুয়া পড়ে, গাজরা দুটো পড়ে নিলো মেহু।চুলগুলো ছেড়ে দিতেই রঙিন, উড়ন্ত প্রজাপতির মতো দেখালো তাকে।যেমনটা ভেবে রেখেছিলো ঠিক তেমনটাই দেখতে লাগছে।ফুরফুরে মনে মেহু এবার কাব্যের পাঞ্জাবি বের করতে ব্যাগ হাতে নিলো।হলুদে সকলের রঙবেরঙের পাঞ্জাবির মাঝে সে তার কাব্য ভাইয়ের জন্য কিনেছে সাদা।প্রথমবার মানুষটাকে সাদা পাঞ্জাবিতে দেখার লোভ টা সামলাতে পারেনি।একেবারে ম্যাচিং ম্যাচিং করে কাপল ড্রেস পড়া সম্ভব নয়।তাই মাথা খাটিয়ে নিজের স্কার্ট এর রঙ আর পাঞ্জাবির রঙ সাদা রেখেছে।ব্যাস!হয়ে গেলো সিক্রেটলি ম্যাচিং ম্যাচিং!
উপরের কাপড় গুলো সড়িয়েও পাঞ্জাবির প্যাকেট টা পেলোনা মেহু।আরও ভালো করে খুঁজেও পেলোনা।মেহু এবার কাবার্ড সহ একে একে অন্য ব্যাগ গুলোও খুঁজে দেখলো।পুরো রুম তছনছ করে ফেললো মুহুর্তেই।উদ্ভ্রান্তের মতোন খোঁজাখুঁজির মাঝে নীলা ডাকতে এলো।এসেই অবাক হয়ে বললো," ওহহো!তোকে কি সুন্দর লাগছে রে মেহু।!একেবারে অন্যরকম।এইজন্যেই আগে দেখাসনি?"
মেহুর সেসবে নজর নেই।বলল," একটা শপিং ব্যাগ খুঁজে পাচ্ছিনা নীলাপু।আমার কাপড়ের সাথেই ছিলো।তুমি দেখেছো?বাদামী রঙের শপিং ব্যাগ।"
- নাহ।কি আছে ওটায়?
- আছে...আরকি
নীলা তাড়া দিয়ে বললো,"ওসব ছাড় এখন।তুই তাড়াতাড়ি আয়।সাফিয়া আপুকে স্টেজে বসিয়ে দিয়ে এসেছি।"
নীলা চলে গেলো।মেহু এলোমেলো ভাবতে ভাবতে রুমের বাইরে আসতেই নাফিসাকে দেখলো।নাফিসা এসে বললেন," কি সুন্দর লাগছে আমার মেয়েটাকে।হাতে এগুলো কী?তুই বানিয়েছিস?"
মেহু মাথা নাড়লো শুধু।নাফিসা বললেন,"বড় মা ওই রুমে আছে।যা,দেখিয়ে আয়।"
তারপর হাতের পাঞ্জাবিটা দেখিয়ে বললেন," কাব্যটাকে পাচ্ছিনা কোথাও।সবাই রেডি অথচ ওর পাঞ্জাবি এখনো আমার কাছে।"
নাফিসা চলে গেলেন।কাব্যকে মেহুও অনেকক্ষণ দেখেনি।সেই সকাল বেলার সাক্ষাৎ টুকুই।
_________
চেয়ার জুড়ে সবাই বসতে শুরু করেছে।সাফিয়ার আশেপাশে মেয়েদের ঢল।নীলা হাসাহাসি করছে সকলের সাথে।শিহাবের পাশের চেয়ারটায় গা এলিয়ে বসতে বসতে দিব্য বললো," তোমার বোনের কান্ডটা দেখেছো?কনের থেকে বেশি সেজে বসে আছে!হুট করে কেউ বুঝতেই পারবেনা আসলে বিয়েটা কার! কোনো কমন সেন্স নেই।গাধী কি এমনি এমনি বলি?"
অবনী টিস্যু চাইতেই শিহাব ওকে টিস্যু এগিয়ে দিলো।এরপর দিব্যর দিকে ফিরতেই দিব্য বলে উঠলো ," ওদিকে যত্ন নেয়া হয়ে গেলে আমাদের মতো অধমের দিকেও তো একটু আধটু তাকাতে পারো ভাই।"
শিহাব চোখ রাঙাতেই দিব্য হাত উঁচিয়ে বললো," কিচ্ছু বলিনি আমি। কিছু বুঝিওনা।দিব্য ইজ আ নাদান বাচ্চা।"
__________
অবনীকে জিজ্ঞেস করেও মেহু কোনো হদিস পেলোনা ব্যাগটার।যতই দেবেনা বলুক ও তো ঠিক করে রেখেছিলো হলুদের আগে আগে কাব্য ভাইকে নিজে গিয়ে দিয়ে আসবে শখ করে কেনা জিনিসটা।মেহু সামনে এগোলোনা।সবার পেছনে এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো আড়াল হয়ে।বুক ভেঙে কান্না পাচ্ছে তার।আটকে রাখতে না পেরে সত্যি নিঃশব্দে ফুঁপিয়ে উঠোলো হঠাৎ।গাল বেয়ে পানি গড়াতেই মনে হলো কেউ এসে দাঁড়িয়েছে পাশে। আস্তে করে ভেজা চোখ তুলে তাকাতেই ধাক্কার মতো খেলো মেহু।ড্যাবড্যাব হয়ে গেলো চোখদুটো।ওর কেনা পাঞ্জাবিটা পড়ে দাঁড়িয়ে আছে কাব্য।হাতা দুটো গোটানো, একটু এলোমেলো চুলে বলিষ্ঠ দেখের মানুষটাকে নিজের কল্পনার চেয়েও সুন্দর ঠেকলো মেহুর।হাঁ হয়ে দেখতে দেখতে যখন কাব্যের বুক পকেটের কাছে সকালের সেই চুলের ক্লিপ্টা লাগানো দেখলো, অজান্তেই অস্ফুটে ডেকে উঠলো মেহু।বড্ড ফিসফিসে শোনালো সেই শব্দটা," কাব্য ভাইইই...!"
কাব্য আলগোছে একটু ফিরলো বোধহয় তবে বেশিক্ষণ তাকানোতো দূর কিছু না বলে এগিয়ে গেলো সামনের দিকে।কাব্য কে দেখে হইহই করে উঠলো ছেলেদের দল।কেউ কেউ সিটি বাজালো।অন্যসময় কাব্যের সাথে ফাজলামো না করলেও একজন সাহস করে এবার বলেই উঠলো," আপনার বিষয়টাতো বেশ সিরিয়াস লাগছে কাব্য ভাই।সারাদিন মেয়েলি ক্লিপটা লাগানো ছিলো আপনার শার্টে।এখনও অন্যরকম বেশভূষায় আবারও সেই ক্লিপটা লাগিয়ে এসেছেন।মুখে না বলেও হিন্ট দিচ্ছেন নাকি যে আপনি প্রি-বুকড!"
কাব্য ওদের খোঁচাতে কোনো গা করলোনা।সবসময়ের মতো নিজের গম্ভীর ভাব বজায় রেখে ছোট্ট করে বললো," হুঁ।ফর লাইফটাইম!"
মেহু তখনও ঘোর নিয়ে তাকিয়ে ছিলো।ছেলেটার কথায় এবার আরেকটু ভালো করে খেয়াল করে দেখলো সকালের সেই ক্লিপটা যেটা কাব্যের বুকে লেপ্টে আছে সেটা একমুহূর্তে ওর পরনে থাকা জামার রঙেরই! 
#চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন