#মন_আড়ালে
#পর্ব_২৪
#তানজিলা_আনিম
শিহাব, অবনী আগে রওনা হবে।এখান থেকে সোজা অবনীদের বাসায় ফিরবে ওরা।সবার থেকে বিদায় নিয়ে রাস্তায় উঠেই শিহাব বাইকের গতি বাড়ালো ।অবনী চুপচাপ বসে আছে।গভীর ভাবনায় ডুবে আছে এমন হাবভাব!এ মেয়ে কথা বললে মাথা ধরে যায় আবার একেবারে চুপ থাকলেও চিন্তা হয় শিহাবের। ফ্রন্ট মিররে ওর ভাবুক মুখটা দেখে নিয়ে তাই জিজ্ঞেস করলো,"কি হয়েছে?"
সাথে সাথে জবাব এলো," ভাবছি। "
অবনীর স্বাভাবিক জবাব শুনে শিহাব বুঝলো যে ওর অন্তত মনখারাপ নয়।তাই আর কিছু জিজ্ঞেস করলোনা।কিন্তু অবনী এক শব্দে থেমে গেলোনা।আরেকটু এগিয়ে এসে চিবুক ঠেকিয়ে দিলো শিহাবের কাঁধে।সেভাবেই বললো,," নীলাপুর বিয়ে হয়ে গেলেইতো চাচিমনি আপনার বিয়ের জন্য তাড়া দেবে তাইনা?"
বিয়ের কথায় অন্যসময় মুখ ভার হয় অবনীর অথচ এখন অতিরিক্ত হাসিখুশি দেখে শিহাব ভ্রু কুঁচকালো,"হঠাৎ এসব নিয়ে পড়লে কেনো?"
- কাল পুরোটা রাত নীলাপু মিটিমিটি হাসছিলো।কারণ জিজ্ঞেস করলাম।জবাব তো দিলোই না বরংচ আরও লজ্জা পেয়ে গেলো।প্রেমে পড়ার লক্ষন বুঝেছেন? আমিও যখন আপনার প্রেমে পড়েছিলাম, শুরুতে ঠিক এমনই ভেবলার মতো হাসতাম শুধু।"
- গাল বরাবর এক চড় পড়লেই সব ভেবলাগিরি বের হয়ে যাবে।তোমাকে জিজ্ঞেস করাই ভুল হয়েছে।আগের মতো চুপ করে বসো।
অবনী শুনলেতো।সে হিসেবনিকেশ করে বহু কিছু বের করে ফেলেছে।সেটাই বলে উঠলো,"তবে যার প্রেমেই পড়েছে বিয়ে দিয়ে দিন বুঝেছেন।তারপর আপনার জন্য আমিতো আছিই।আগে হয়তো শুধু আমি একা ভালোবাসতাম এখনতো আপনিও আমাকে ভালোবাসেন।তাহলে আর বিয়েতে দেরি কেনো!"
কোনো রাখঢাক নেই এই মেয়ের।ভালোবাসি শব্দটা মনে মনে বললেওতো জিহবা জড়িয়ে যায় শিহাবের!তবে অবনীর কথায় স্পষ্ট যে, সে পুরোদস্তুর আত্মবিশ্বাসী শিহাবের ফিলিংস নিয়ে।তাই কথা শেষে শিহাবের কোনোরুপ জবাবের বা রিয়েক্ট এর অপেক্ষা সে করেনি। থুতনী সরিয়ে কাত হয়ে গাল ঠেসে ধরেছে কাঁধে।পুনরায় ডুবে গিয়েছে নিজের ভাবনায়।
এদিকে অবনীর এই আত্মবিশ্বাসী হাবভাব দেখে শিহাব নিজের উপরেই হতাশ হলো।দিনে হাজারবার ঠিক করে এই মেয়ের সামনে নিজের ফিলিংস বের হতে দেবেনা।সময় হলে বলবে।অথচ এই কাজে সে একশো ভাগের মধ্যে একশো ভাগই ফেল।বিড়বিড় করলো শিহাব," ভুল বললে অবনী,আসল ভেবলাতো আমি। ভেবলাকান্ত শিহাব!"
______________
জড়াজড়ি করে ঘুমাচ্ছিলো নীলা আর মেহু।দরজায় ঠকঠক শব্দ হলো কয়েকবার।উঠবেনা উঠবেনা করেও আলসি রেখে উঠলো নীলা।দরজা খুললো আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে।দরজা ফাঁক হতেই দিব্যকে দেখা গেলো। উশখোখুশখো চুলে নির্ঘুম লাগছে দেখতে!নীলা পূর্ণ চোখে তাকাতেই বললো," সারারাত ভেবে দেখেছি।এসব ঠিক না।তুই চল আমার সাথে।"
নীলা বিভ্রান্ত গলায় বললো, " তোমার চোখ লাল কেনো দিব্য ভাই?ঘুমাওনি রাতে?"
দিব্য সেসব শুনেইনি তেমন ভাবে বললো," পুকুর পাড়ে চল।একটু পরই আমরা চলে যাবো।যাওয়ার আগে পুকুরের টলটলে পানিতে নেমে দুটো ডুব দিবি।দিয়ে এখানে এসে যত ফালতু চিন্তা মাথায় ঢুকিয়েছিস সব ধুয়েমুছে রেখে যাবি।আয়।"
নীলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো," কাল চকলেট দেইনি বলে এই সকাল সকাল এসে জ্বালাচ্ছো তাই না?দাঁড়াও একটু।"
নীলা ভেতর থেকে চকলেট এনে বললো, " নাও। পুরোটা তোমার। "
দিব্য কেমন নাকমুখ কুঁচকে বলে উঠলো , " এই বিষ এখোনো খাচ্ছিস তুই? ওরে বেকুব,চিনিসনা জানিস না একটা ছেলে চকলেট দিলো আর তুই ও নাচতে নাচতে খেতে শুরু করে দিয়েছিস!জীবনে চকলেট খাসনি?"
নীলা নাক ফুলিয়ে বললো," অচেনা বলছো কেনো?কত ভালো মানুষটা।"
মানুষটা!দিব্য খটমটিয়ে আরও কিছু বলতো নিশ্চিত।তবে আগেই রাবেয়া চলে এলেন।একরাশ উচ্ছাস নিয়ে বললেন," কাল এত চিন্তার মধ্যে মনেই ছিলোনা বলতে।ওই রাহাত ছেলেটা, ডাক্তার যে, সাফিয়ার মায়ের কাছ থেকে নাকি আমাদের সকলের নাম্বার নিয়েছে।নীলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।নীলা,তোকে কিছু বলেছে ছেলেটা?মানে কোনো কথা হয়েছে?"
রাহাতের কথা শুনেই মিইয়ে গেলো নীলা।কত কিছুই তো বলেছে!কিন্তু সেসব জানালেই সবাই ঘিরে ধরবে ।উনি নিজে জানাক যা জানানোর।নীলা দরজা আঁকড়ে ধরে এপাশওপাশ মাথা নাড়লো।
রাবেয়া আফসোস করে বললেন," ইশ আমার আব্বাটা থাকলে ভালো হতো।বন্ধু সম্পর্কে এখুনি সব বলে দিতে পারতো।আমরা যেটা ভাবছি সেটা হলেতো ভালো না খুব ভালো হয়।
রাহাতকে নিয়ে আহ্লাদ করার আরও একজন বেড়ে গিয়েছে দেখেই মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেলো দিব্যের।ওই ডাক্তার বেটা তবে সবাইকেই বশ করে ফেলেছে!দাঁতে দাঁত চাপলো দিব্য।
রাবেয়া এবার ছেলের দিকে ফিরে বললেন," তোরা তো দুদিন একসাথে কাটালি, আড্ডা দিলি।কি মনে হয় তোর?ছেলেটা কেমন?"
দুদিন দেখেই একটা ছেলেকে নিয়ে এতো গদগদ! নীলার বাচ্চার নাহয় বোধবুদ্ধি নেই।তাই বলে এখন মা ও!
রাগী মুখটায় যতটা হাসি ফুটিয়ে তোলা যায় ততটুকুই তুললো দিব্য।দাঁত চেপে রেখেই বললো,"একদম সাধু সন্ন্যাসী লেভেলের লেগেছে।যাও নিয়ে এসো এখুনি।পা ধুয়ে পানি খাই।নীলার বাচ্চাকে সবার আগে খাওয়াই।"
গটগট পায়ে চলে গেলো দিব্য।রাবেয়া ছেলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন সরু চোখে।
__________
একটু পর বেরিয়ে পড়লেন রাবেয়ারাও।অউরো রাত নির্ঘুম কাটিয়ে সকালের দিকে ঘুমিয়েছিলো মেহু।চোখ খুলে কোনোমতে জামা পাল্টেছে শুধু।মাত্র তিন ঘণ্টার মতো ঘুম হয়েছে।চোখ এখোনো ভারি ঠেকছে।গাড়িতে বসেই মায়ের কোলে মাথা দিয়ে আবার শুয়ে পড়লো,"ঘুম পাচ্ছে আম্মু।"
রাবেয়া ওর পা দুটো নিজের কোলে টেনে নিয়ে বললেন," ঘুমিয়ে পর।"
মেহু সত্যি ঘুমিয়ে গেলো কয়েক মিনিটের মধ্যে।ওর শ্বাস ভারি হতেই নাফিসা বলে উঠলো, " আমার ভয় করছে,আপা।ভাইজানের উপর রাগ করে কাব্যটা আবার না বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো কিছু করে বসে।"
কাল থেকে কাব্যের চিন্তায় সকলে তটস্থ।ছেলেটা রাগের বশে হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।নাফিসার কথায় রাবেয়া অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।চিন্তার ছাপ তার চোখেমুখে।কিন্তু তা সরতে সময় নিলোনা।নাফিসার দিকে তাকিয়ে দৃঢ়ভাবে বলে উঠলেন,"একই ভুল দুবার করবে না আমার আব্বা।যদি করতেও চায় আমাদের মেহু দেবেনা।কখনোই না।"
____________
নদীর মাঝখানে মাঝারি গোছের একটা চর।আধুনিক জীবনযাপন থেকে বিচ্ছিন্নই বলা চলে।অর্ধশতাধিক জেলে আর কুমোড়দের ঘর নিয়ে মূলত এই চর।ওরা একেরপর এক হুট করে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।এর পর্যবেক্ষণের জন্য আট সদস্যের মেডিক্যাল টিম এসেছে ।
গতকাল রাতেই চরে এসে পৌঁছেছে কাব্য।আজ সকাল থেকে চলছে ওদের ক্যাম্পেইন।একটানা খাটুনির পর দুপুরে আধঘণ্টা বিশ্রামের জন্য বরাদ্দ হলো।তাঁবু থেকে বেরিয়ে খোলা হাওয়ায় দাঁড়ালো কাব্য।চারদিকে পানি,ফুরফুরে বাতাস।
এখানে বিদ্যুৎ নেই।নেট এর অবস্থাও শোচনীয়।
এতোক্ষণে মেহুদের পৌঁছে যাওয়ার কথা।নেটের দুরুহ অবস্থার মাঝেই কাব্য কল করলো মেহুর নাম্বারে।একবার দুবার করে চারবারেও বেজে বেজে স্থির হয়ে গেলো সেটা।রাবেয়ার নাম্বারে কল ঢুকলোইনা।অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও বিফল কাব্য হঠাৎ কেমন অস্থির বোধ করলো ।মেহুর ভেজা চোখ দুটো বুক ভার করে তুলছে তার।ফাঁকা ফাঁকা লাগছে ভেতরটা।
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই নিজের এমন বেহাল দশায় নিজেই নিজের উপর হাসলো কাব্য।ফোন পকেটে ঢুকিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,"তোকে মিস করছি মেহেরজান,ভীষণভাবে!ম্যাডলি!"
_________
- আমি হোস্টেলে যাবোনা আম্মু।বড় আব্বুকে একটু বুঝিয়ে বলোনা প্লিজ।কেনো পাঠাচ্ছো আবার?ক্লাস টেস্টে তো ভালো মার্ক পেয়েছি।এতেও যদি না হয় আরও ভালো করে পড়বো।তবুও আমাকে ওখানে পাঠিয়োনা প্লিজ।
কয়েকঘণ্টা আগে বাড়িতে পৌঁছাতেই শাফায়াত জানিয়েছেন কালকেই মেহুকে হোস্টেলে দিয়ে আসবেন।আজকেই যেনো সব গুছিয়ে রাখা হয়।"
ব্যস!আর কাউকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে রুমে গিয়ে দরজা দিয়েছেন।
প্রথমে মেহু এতো গুরুত্ব দেয়নি।কিন্তু বুয়া গিয়ে যখনই ওর কাপড় ব্যাগে ভরতে শুরু করেছে তখনই কাব্যকে ফোন করেছে।না পেয়ে মায়ের পেছন পেছন ছুটছে।কেঁদেকুটে চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছে এরইমধ্যে।
নাফিসা খাবারের পাত্র গুলো রান্নাঘর থেকে এক এক করে এনে রাখছেন টেবিলে।মেহু ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে।নাফিসা অসহায় বোধ করছেন।মেয়ের কান্নারত মুখটার দিকে ইচ্ছে করেই তাকাচ্ছেন না।নিজের অপারগতা ঢাকতে এযাত্রায় জোরে ধমকে উঠলেন," জ্বালাচ্ছো মেহু।বেশি করলে মার খাবে বলে দিচ্ছি।"
মেহু থেমে গেলো।রাবেয়া রান্নাঘর থেকে বেরোলেন না ওকে কাঁদতে দেখেও।অসহায় হয়ে মেহুর ছটফটানো দেখলেন সেখান থেকেই।হুট করে স্বামীর এমন সিদ্ধান্তের কারণ বুঝতে তার বেগ পেতে হয়নি।কাব্য থেকে দূরে রাখতেই....
মেহু এবার রাবেয়ার দিকে ফিরে তাকালো আকুল চোখে।গাল মুছে এগোতে নিতেই শাফায়াতের গলা ভেসে এলো।রুম থেকে বেরিয়ে এসে সোফায় বসেছেন তিনি," বড় বাবার পাশে এসে বসো মেহের।"
এই প্রথমবার মেহুর ভয় হচ্ছে শাফায়াতকে।মন খুলে না যাওয়ার কথাটা বলতে বুক কাঁপছে।মেহু গিয়ে বসলো শাফায়াত সাহেবের পাশে।
শাফায়াত নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রেখে স্বাভাবিক স্বরেই বললেন," বেরোবো এখন।কি খেতে ইচ্ছে হচ্ছে বলো।আসার সময় নিয়ে আসবো।"
শাফায়াতের ওসব কথায় মন নেই মেহুর।সাহস করে থেমে থেমে নিজের আর্জি জানালো নিচু স্বরে," আমি বাড়িতে থাকতে চাই বড় আব্বু।"
ভেতরে ঠিক কতটা অসহায় বোধ করছেন শাফায়াত তার একটুও বাইরে বুঝতে দিচ্ছেন না কাউকে।তার ভাইয়ের একমাত্র আমানতকে আগলে রাখার জন্য, এই পরিবারকে ধরে রাখার জন্য সামনে আরও কত কত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেখানে মেহুকে হোস্টেলে পাঠানোতো কিছুই না!
মেহু রাজি হবেনা তিনি জানেন।তবে কাব্য সাথে থাকলে ওকে আটকানোর ক্ষমতা তার নেই।তাই ছেলের অনুপস্থিতিতেই....
শাফায়াত ,আরও নরম হলেন।বললেন," হোস্টেলে থাকলেতো তোমারই সুবিধা।ম্যামদের গাইডলাইন্স নিয়ে পড়লে আরও ভালো করবে পরীক্ষায়। তাইনা?"
মেহু চুপ করে রইলো।হঠাৎ মুখ তুলে তাকিয়ে বললো,"গতকালের জন্য রাগ করে আমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছো তাইনা?"
মেহুর টলমলে চোখ দুটো দেখে ভেতরটা ভেঙে এলো শাফায়াতের। এক হাত মাথায় রাখলেন মেহুর।বললেন," কোনো রাগ নেই।ওসব ভুলেও মাথায় আনবেনা।সামনে পরীক্ষা আসছে।তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আর কিছুনা।"
- কিন্তু বড় আব্বু আমি হোস্টেলে যেতে চাইনা।
মেহুর না যেতে চাওয়ার পেছনে এখন একটা বড় কারণ তারই ছেলে,কাব্য!কাব্যের দিকে মেহুর ঝোঁক আরও অসহায় করে দিচ্ছে শাফায়াতকে।বললেন," বড় বাবা তোমার ভালো চায় মেহের।কথা শোনো।হোস্টেলে কথা বলে ফেলেছি আমি।ওরা সব ব্যবস্থা করে রাখবে।"
আর কিছু বলা হয়ে উঠলোনা মেহুর।ধীরেধীরে সিঁড়ি ভাঙলো উপরের।মেহু আড়াল হতেই নাফিসা এগিয়ে এলেন।মেয়েটাকে ছাড়তে তারও মন চাইছেনা।কিন্তু মুখ খোলার আগেই শাফায়াত নিজেই বলে উঠলেন," মেহেরের জন্য যেটা ভালো সেটাই করেছি আমি।"
নাফিসা কথা গিলে নিলেও রাবেয়া চাপা গর্জে উঠলেন," আর ওর ভালোমন্দ কে ঠিক করবে?আপনি আর আপনার ভাই?"
শাফায়াত শ্বাস টেনে গলায় কিঞ্চিৎ উষ্মা ঢেলে বললেন," তোমার ছেলে অন্তত নয়।"
_______
মেহু নিজের রুমে ফিরলোনা।কাব্যের রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো।পুরো রুম জুড়ে ছড়িয়ে আছে তার কাব্য ভাইয়ের একান্ত সুবাস।ফাঁকা বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে সেই সুবাস টুকুর সাথে নিজেকে আরও মাখিয়ে নিতেই বালিশে মুখ ডুবিয়ে দিলো মেহু। অঝোরে কেঁদে উঠলো।মুখ চেপে রেখেই অস্ফুটে বলে উঠলো," বাধ্য মেয়ে হয়ে থাকতে পারবোনা আমি, কাব্য ভাই।এই ক্ষানিক দূরত্বেই মন পুড়ছে আমার।আরও দূরে গেলে নিশ্চিত দম বন্ধ হয়ে মরে যাবো !আপনি এখুনি আসুন কাব্য ভাই।আপনাকে ভীষণ প্রয়োজন আমার!"
#চলবে,,