ফন্ট সাইজ:
থিম:
অদৃশ্য_মায়া

৪র্থ পর্ব

লেখক: নুসরাত জাহান আয়রা

#অদৃশ্য_মায়া

#নুসরাত_জাহান_আয়রা
#পর্ব_৪
দরজার ওপাশ থেকে আবারও সেই মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো, “জিনিয়া... দরজা খোলো।” জিনিয়া ভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেল। কিছুক্ষণ আগেও যে কণ্ঠটা স্বাভাবিক মনে হয়েছিল, এখন কেন যেন সেটার মধ্যে অদ্ভুত একটা শীতলতা অনুভব হচ্ছে। সে একবার দরজার দিকে তাকাল, তারপর ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা রহস্যময় লোকটার দিকে। লোকটা স্থির দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখের লাল আভা অন্ধকারের মধ্যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জিনিয়া ফিসফিস করে বলল, “ও কে?”
লোকটা এবার তার দিকে তাকাল। “আমি জানি না।”
জিনিয়া অবাক হয়ে বলল, “আপনি জানেন না?”
“না।”
“কিন্তু সে আমার নাম জানে কীভাবে?”
লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীর কণ্ঠে বলল, “সেটাই তো ভাবছি।”
দরজার ওপাশ থেকে আবার শব্দ এলো। এবার আগের চেয়ে জোরে, “জিনিয়া, আমি জানি তুমি ভেতরে আছো। দরজাটা খোলো।”
জিনিয়ার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে নিজের অজান্তেই লোকটার একটু কাছে সরে এলো। লোকটা সেটা লক্ষ্য করলেও কিছু বলল না।
হঠাৎ দরজার হাতলটা নড়তে শুরু করল।
জিনিয়া ভয় পেয়ে ফিসফিস করে বলল, “ও দরজা খোলার চেষ্টা করছে!”
লোকটা এবার সামনে এগিয়ে গেল। তার হাঁটার ভঙ্গিতে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, বরং অদ্ভুত এক নিশ্চিন্ততা। দরজার সামনে গিয়ে সে হাত বাড়িয়ে হাতলটা শক্ত করে ধরে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে হাতলটা নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেল।
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর একটা চাপা হাসির শব্দ শোনা গেল।
লোকটার চোখ সরু হয়ে এলো।
“চলে যাও।”
দরজার ওপাশ থেকে এবার কোনো মেয়ের কণ্ঠ নয়, বরং কর্কশ একটা পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এলো, “তুমি এখনো আগের মতোই বদমেজাজি।”
জিনিয়া অবাক হয়ে লোকটার দিকে তাকাল। তার মুখের কঠিন ভাব আরও গাঢ় হয়েছে।
“এখান থেকে চলে যাও,” লোকটা আবার বলল।
ওপাশের মানুষটা হেসে উঠল। “তোমার বাড়িতে ঢুকতে হলে তোমার অনুমতি লাগবে—এটা আমি ভুলে যাইনি। কিন্তু মেয়েটাকে তো তুমি চিরকাল লুকিয়ে রাখতে পারবে না।”
জিনিয়ার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
মেয়েটা?
কোন মেয়ের কথা বলছে?
সে কি তাকে বোঝাচ্ছে?
জিনিয়া লোকটার দিকে তাকিয়ে দেখল, তার চোখ দুটো এবার ভয়ংকর লাল হয়ে উঠেছে।
লোকটা নিচু গলায় বলল, “ওর নাম মুখে নিও না।”
“কেন? ভয় পাচ্ছ?”
কথাটা শেষ হতেই দরজার ওপাশ থেকে একটা বিকট শব্দ হলো। মনে হলো কেউ দরজায় প্রচণ্ড আঘাত করল। জিনিয়া চমকে উঠল।
লোকটা এক মুহূর্তও নড়ল না।
বরং খুব শান্ত গলায় বলল, “শেষবারের মতো বলছি, চলে যাও।”
কিছুক্ষণ পর বাইরে আবার নীরবতা নেমে এলো।
তারপর পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে লাগল।
জিনিয়া অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইল।
“সে চলে গেল?”
লোকটা দরজা থেকে সরে এসে বলল, “হ্যাঁ।”
জিনিয়া একটু সাহস করে জিজ্ঞেস করল, “ও আমাকে কেন খুঁজছিল?”
লোকটা তার দিকে তাকাল। “আমি জানি না।”
“আপনি মিথ্যা বলছেন।”
লোকটা ভ্রু তুলল। “তুমি কীভাবে এত নিশ্চিত?”
“কারণ আপনার আচরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে আপনি কিছু একটা জানেন।”
লোকটা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর মৃদু হাসল। “তুমি বেশ তীক্ষ্ণ।”
“আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।”
“সবকিছুর উত্তর এখনই পাবে না।”
জিনিয়া বিরক্ত হয়ে বলল, “আপনি সবসময় এই একই কথা বলেন!”
লোকটা এবার হাসল। “কারণ তোমার প্রশ্নের সংখ্যা অনেক।”
জিনিয়া মুখ ঘুরিয়ে নিল। “আমি আপনাকে একদমই পছন্দ করি না।”
লোকটা শান্তভাবে বলল, “সেটা আমার জন্য খুব দুঃখের।”
জিনিয়া তার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, লোকটা যেন ইচ্ছে করেই তাকে বিরক্ত করছে।
হঠাৎ লোকটা বলল, “তুমি ক্ষুধার্ত।”
জিনিয়া চমকে উঠল। “আপনি কীভাবে জানলেন?”
“তোমার মুখ দেখেই।”
সে ঘরের পাশের একটা ছোট দরজা খুলে দিল। ভেতরে ছোট্ট একটা ঘর। সেখানে টেবিলের ওপর খাবার সাজানো।
জিনিয়া কিছুক্ষণ খাবারের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সন্দেহভরা চোখে লোকটার দিকে তাকাল।
“এতে কিছু মেশানো নেই তো?”
লোকটা ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে বলল, “তুমি চাইলে না খেয়েও থাকতে পারো।”
জিনিয়া কিছু না বলে ধীরে ধীরে টেবিলের কাছে গেল।
অনেকক্ষণ কিছু না খাওয়ায় সত্যিই তার প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে। তবু অপরিচিত বাড়ি, অপরিচিত মানুষ—সবকিছু মিলিয়ে তার ভয় কাটছে না।
লোকটা দূরে দাঁড়িয়ে তাকে লক্ষ্য করছিল।
জিনিয়া খাবার মুখে দেওয়ার আগে আবার বলল, “আপনার নামটা অন্তত বলবেন?”
লোকটা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল, “ক্যাসিয়ান।”
জিনিয়া নামটা মনে মনে উচ্চারণ করল।
“ক্যাসিয়ান...”
লোকটা জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, “পুরো নাম জানার প্রয়োজন এখনো নেই।”
জিনিয়া মৃদু বিরক্ত হয়ে বলল, “আপনি সত্যিই অদ্ভুত।”
ক্যাসিয়ান এবার তার দিকে তাকাল।
“এই বাড়িতে অদ্ভুত জিনিসের অভাব নেই, জিনিয়া।”
জিনিয়া চুপ করে গেল।
ঠিক তখনই দূরের করিডোর থেকে একটা ভারী শব্দ ভেসে এলো।
ধাম!
দুজনেই একসঙ্গে সেদিকে তাকাল।
ক্যাসিয়ানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
জিনিয়া আস্তে বলল, “আবার কী হলো?”
ক্যাসিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
জিনিয়াও তার পেছনে হাঁটতে শুরু করল।
করিডোরে এসে দেখা গেল, দেয়ালের একটা পুরোনো ছবি মেঝেতে পড়ে আছে। কিন্তু ছবিটা দেখে জিনিয়ার বুক কেঁপে উঠল।
ছবিতে একটা বিশাল কালো প্রাসাদ আঁকা।
প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন মানুষ।
তাদের মধ্যে একজনের চোখ অস্বাভাবিকভাবে লাল।
জিনিয়া ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলল, “এরা কারা?”
ক্যাসিয়ান ছবিটা তুলে দেয়ালে লাগিয়ে দিল।
“পুরোনো কিছু মানুষ।”
“ভ্যাম্পায়ার?”
শব্দটা মুখ থেকে বের হতেই ক্যাসিয়ান থেমে গেল।
জিনিয়া তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
ক্যাসিয়ান ধীরে ধীরে বলল, “তুমি এই শব্দটা কোথা থেকে জানলে?”
জিনিয়া কাঁপা গলায় বলল, “আমি জানি না... শুধু মনে হলো।”
ক্যাসিয়ান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব ধীরে বলল, “সবকিছু মনে করার চেষ্টা করো না।”
জিনিয়া অবাক হয়ে তাকাল।
“কেন?”
ক্যাসিয়ান এবার কোনো উত্তর দিল না।
শুধু করিডোরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল।
দূরে আবার সেই পায়ের শব্দ শোনা গেল।
ধাপ...
ধাপ...
ধাপ...
ক্যাসিয়ানের চোখ মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল।
সে জিনিয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়ে নিচু গলায় বলল,
“আমার পেছনে থাকো।”
জিনিয়া কিছু বলার আগেই করিডোরের অন্ধকারে দুটো লাল চোখ জ্বলে উঠল।
আর সেই চোখগুলো ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল...
চলবে..... 🖤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন