🚫ডার্ক রোমান্স🚫
#আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে
লেখা: #রুদ্র_রায়_রূপায়ন
পর্ব সংখ্যা - ০৬
.
⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️
তখন বিকাল ৫টা বাজে !
শাওন রেডি হয়ে গেটের সামনে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফোন চাপতেছে । অপেক্ষা চিত্রার আসার। খানিকটা সময় পর চিত্রা রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে । শাওনের সামনে এসে দাড়ায় ।
শাওন ফোন থেকে মাথা তুলে একবার চিত্রার দিকে তাকাতেই তার দৃষ্টি পুরো থমকে যায় ।
চিত্রা একটা গাঢ় নীল রঙের থ্রী-পিচ পড়েছে, সাথে গলায় জোরানো সাদা ওরনা । আর লম্বা চুল গুলো কাঠির সাহায্যে কিছুটা শক্ত করে মাথার উপরের দিকে পেচিয়ে রেখেছে।
চিত্রার পড়নের থ্রী-পিচটা একেবারে সিম্পল । শুধু গলা আর নিচে পাড়ের অংশে একটু কাজ করা । তবে ভীষণ গর্জিয়াস। গলা আর পাড়ের অংশটাতে হীরার মতো চকচকে স্টোন বসানো। যেগুলো বেশ চকচক করতেছে। জামাটাতে বেশ মানিয়েছে চিত্রাকে।
মুখের মধ্যেও তেমন কোনো সাজ নেই । চোখে কাজল নেই, ঠোঁটে লিপস্টিক নেই, মুখে মেকাপ নেই । তবুও অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে চিত্রাকে । একেবারে ন্যাচারাল লুক । আর ভীষণ মায়াবী।
চুল গুলো কাঠি দিয়ে উপরের দিকে পেচিয়ে রাখলেও, দুই পাশ বেয়ে কিছু অবাদ্ধ চুল ঠিকই চিত্রার কপাল বেয়ে গাল বরাবর নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। তবে তারা যেন আরও অন্য রকম একটা সৌন্দর্য এনে দিয়েছে চিত্রার মুখটাতে ।
তখন থেকে শাওনের এভাবে মুখ মেলে হা করে চিত্রার দিকে তাকিয়ে থাকার কারনে চিত্রা কিছুটা বিরক্ত প্রকাশ করে। আরেকটু এগিয়ে আসে। আর ডেকে উঠে,
-ভাইয়া ! ”
শাওনের ঘোর কাটে । সে চিত্রার দিক থেকে চোখ সরিয়ে মোবাইলটা পটেকে পুড়ে । এরপর তার ভীষণ পচ্ছন্দের আর শখের ব্ল্যাক কালারের R1-5 বাইকটার উপরে চড়ে বসে । চিত্রার উদ্দেশ্য হাক ছাড়ে,
-এদিকে আয়। ”
চিত্রা নিরবে শাওনের কাছে এগিয়ে যায় । শাওন কালো রঙের হেলমেটটা চিত্রাকে পড়িয়ে দিয়ে বাইকে উঠতে বলে। চিত্রা শাওনের কাঁধে ভর করে বাইকে উঠে বসে। তবে শাওন আর তার মাঝে বেশ কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখে । শাওন বাইক স্টার্ট দেয় । চিত্রার উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
-ধরে বস। ”
চিত্রা শাওনের কথায় তার কাঁধে আলতো করে নিজের একহাত রাখে। মাঝখানের দূরত্বটা সেই আগের মতোই থাকে।
শাওন এবার সামনে থেকেই দু'হাতে চিত্রার কোমড় বরাবর ধরে একেবারে নিজের দিকে টেনে আনে । চিত্রার এক হাত কাঁধের নিচ দিয়ে তার বুকে রাখে আর বলে উঠে,
-এভাবে ধরে বসতে হয় । ”
শাওনের করা কাজে চিত্রা তেমন কোনো অনুভূতিই প্রকাশ করে নাহ ।
শাওন গাড়ি ছাড়ে। ঢাকা শহরের কোলাহল আর যানজট পেরিয়ে বেশ কিছুটা দূরে একটা নির্জন নদীর ধারে আসে তারা । চিত্রা এর আগে এদিকে কখনো আসেনি । শাওন গাড়ি থামালে চিত্রা নেমে পড়ে। শাওন গাড়িতে থাকা অবস্থাতেই চিত্রার হাত ধরে তার কাছে টেনে আনে। তারপর হেলমেটটা খুলে দেয় । শাওন নিজেও গাড়ি থেকে নেমে পড়ে।
চিত্রা সামনের দিকে তাকায়। তার চোখ জোড়া প্রশান্তিতে স্থির হয়ে যায় । নদীর দু-ধারে অনেকটা জুড়ে বালুচর । আর তার মাঝখানে স্বচ্ছ জলধারা । পশ্চিমাকাশে লাল টকটকে সূর্যটা অস্ত যাচ্ছে। যার প্রতিবিম্বটা নদীর স্বচ্ছ পানিতে দেখা যাচ্ছে । সূর্যের লাল তেজকিয় আলোর ছটা নদীর পানিতে বারবার ঝিলিক দিচ্ছে । চারপাশে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আর ঝিঁঝি পোকার ডাক ছাড়া কোনো কিচ্ছু শোনা যাচ্ছে নাহ।
উত্তর পূর্ব কোণা থেকে ভেসে আসা এক দমকা হাওয়া বারবার চিত্রার শরীরে এসে বাড়ি খায়। চিত্রা প্রশান্তিতে চোখ জোড়া বুঝে নেয়। আর বন্ধ করা চোখেই কিছুটা সামনের দিকে এগোয়। হঠাৎ হাঁটা বন্ধ করে চোখ জোড়া খুলে । পেছন ফিরে শাওনের দিকে তাকায়। শাওন পকেটে দু-হাত ভরে গাড়িতে হেলান দিয়ে চিত্রার দিকেই তাকিয়ে আছে ।
শাওন আজকে সাদা রঙের শার্ট সাথে কালো রঙের ফর্মাল প্যান পড়েছে । শার্টের হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত মোড়ানো । বুক বরাবর দুটো বোতাম খোলা আর সেখানে কালো রঙের সানগ্লাসটা ঝুলতেছে। হালকা বড় চুল গুলো বরাবরের মতোই কপাল বেয়ে বা চোখের ভ্রু’র নিচ পর্যন্ত পড়ে আছে ।
চিত্রার কাছে এবার প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যও ফিকে মনে হয়। তার কাছে গ্রীক গড খ্যাত শাওনের সৌন্দর্যটাই সকল সৌন্দর্যের উর্ধ্বে মনে হয় । সে অপলক তাকিয়ে থাকে শাওনের দিকে । শাওন এগিয়ে যায় চিত্রার কাছে । চিত্রার চুলে গুজে দেওয়া কাঠিটা টেনে খুলে দেয়। সাথে সাথে লম্বা চুল গুলো চিত্রার পিঠ বেয়ে কোমরের নিচ পর্যন্ত অবস্থান করে । হালকা শীতল হাওয়ায় চিত্রার চুল গুলো থেকে থেকে উড়া শুরু করে । লম্বা চুল গুলো বাতাসের তোড়ে বারবার শাওনের চোখে মুখে গিয়েও আঁচড়ে পরে । চিত্রার চুলের মাতাল করা ঘ্রাণে শাওন চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয় ৷
চিত্রা শাওনের চোখের দিকে তাকায় । যেই তাকানোতে প্রশান্তির সাথে সাথে একঝাঁক মায়া লুকানো ছিল। শাওন-ও চোখ জোড়া খুলে চিত্রার চোখে চোখ রাখে । নীরবে চিত্রার হাতের আঙ্গুলের ভাজে নিজের পাঁচটি আঙ্গুল গুঁজে আকড়ে ধরে। সামনের দিকে হাঁটা শুরু করে। চিত্রা তখনো অপলক শাওনের দিকে তাকিয়ে থাকে । শাওন হাঁটার মাঝেই, মিষ্টি করে হেঁসে চিত্রার উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
-আমাকে আপনি পরেও দেখতে পাবেন প্রিয় বেগম ! আমাকে দেখার অনেক সময় আছে । এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে না থেকে, তার থেকে ভালো হবে, মনভরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করুন ৷ ”
শাওনের কথায় চিত্রা লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয় ।
মাথা নিচু করে রেখেই শাওনের পায়ের সাথে পা মেলায়। তারা এবার নদীর একেবারে কাছে এসে দাঁড়ায় । কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পশ্চিমাকাশে সূর্য ডোবা দেখে ।
চিত্রা লক্ষ করে নদীর ধারের কাছে বালুর উপর দিয়ে ঝকঝকে পরিষ্কার জলরাশি বয়ে যাচ্ছে ৷ যা তাকে বেশ আকর্ষিত করে । সে নদীর পানিতে পা ভেজানোর লোভ কিছুতেই সামলাতে পারে নাহ ৷
চিত্রা শাওনের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয় । দু-পা এগিয়ে পায়ের জুটা জোড়া খুলে রাখে। পড়নের জামা আর পায়জামাটা দু’হাত দিয়ে হালকা উঁচু করে ধরে নেমে পড়ে নদীর পানিতে । শাওন সেদিকেই তাকিয়ে থাকে । এগিয়ে এসে চিত্রার জুটা জোড়া নিজের একহাতে তুলে নিয়ে আরেক হাতে চিত্রার এক হাত ধরে। চিত্রা নদীর পানির মধ্য দিয়ে পা ভিজিয়ে আর শাওন নদীর ধারের বালুর উপর দিয়ে হাঁটতে থাকে।
আশেপাশে কোনো মানুষ নেই বললেই চলে। তাদের থেকে বেশ কিছুটা সামনে ঘাটে বাঁধানো দু'টো নৌকা দেখা যায়। কিন্তু সেখানেও কোনো লোকের দেখা মিলে নাহ । তবে নদীর ওপাশের ধারে দু'টো টং দোকান দেখা যাচ্ছে । যাতে দুটো হলদেটে বাতির আলোর ঝিলিক নদীর পানিতে এসে পড়েছে । সেখানে হয়তো কোনো মানুষের সমাগম থাকলেও থাকতে পারে ।
চারপাশটা তখন মোটামুটি মুখ কালো করা অন্ধকারে ঢেকে যেতে শুরু করেছে ।
শাওন আর চিত্রা পাশাপাশি হাতে হাত রেখে বেশ কিছুটা পথ হাঁটে ।
এরপরে তারা ফিরে আসার জন্য আবারও উল্টো পথে হাঁটা শুরু করে। তবে এবার চিত্রা পানির মধ্য দিয়ে নয়! এবার শাওন আর সে বালুর উপর দিয়েই হেঁটে যাচ্ছে ।
চিত্রার হাঁটার ভঙ্গি লক্ষ্য করে শাওন বুঝতে পারে, চিত্রা হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে । শাওন কোনো বাক্য বিনিময় ছাড়াই চিত্রাকে পাঁজাকোলে তুলে নেয়। আকস্মিক ঘটনায় চিত্রা ভয় পেয়ে যায় । ভয়ে শাওনের গলা জরিয়ে ধরে । শাওন চিত্রার দিকে একপলক তাকিয়ে হাঁটা শুরু করে । চিত্রা শাওনের মুখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলে উঠে,
-আমাকে নামিয়ে দিন ভাইয়া ! আমি হেঁটেই যেতে পারবো । ”
শাওন চিত্রার কথায় কোনো ভ্রু’ক্ষেপ করে নাহ। সে তার মতো হাঁটা চলমান রাখে। চিত্রা এবার নামার জন্য একটু নড়াচড়া করতে করতে কিছুটা জোরে বলে উঠে,
-নামিয়ে দিন আমাকে ।”
শাওন চিত্রাকে কোলে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই ভ্রু-জোড়া উঁচিয়ে তার মুখের দিকে তাকায়। ভরাট গলায় বলে উঠে,
-চুপচাপ যেভাবে আছিস ওভাবেই থাক। নয়তো শুধু শুধু তোর স্বাদের কোমরটা হারাবি! ”
শাওনের বলা শান্ত হুমকিতে চিত্রা চুপ হয়ে যায় । গুটিশুটি মেরে শাওনের কোলেই পড়ে থাকে।
এরপর আবারও তাদের মধ্যে নীরবতা বিরাজ করে ।
আজকে এখানে আসার পর থেকে তারা পুরো সময়টা প্রায় নিরবতাতেই কাটিয়ে দিছে । কেউ কাউকে তেমন কোনো কথা বলেনি। শাওন অন্যদিনের মতো আজকে নিজেও খুব একটা কথা বলেনি চিত্রার সাথে ।
তবে তারা দুজনে অনুভব করেছে অনেক কিছু ৷ এই সুন্দর নির্জন মনোরম প্রকৃতির মাঝে বুক ভরে শ্বাস নিয়েছে । শীতল হাওয়ায় গাঁ জুড়িয়েছে । প্রশান্তিতে চোখ বুজেছে ।
কিছু কিছু নীরবতার মাঝেও অনেক তৃপ্তি আর প্রশান্তি লুকিয়ে থাকে ! যা শুধু নিরবে অনুভব করে নিতে হয়। চিত্রা আর শাওন এতোটা সময় ধরে এটাই করে এসেছে ।
এরিমধ্যে চারিপাশে বেশ অন্ধকার নেমে এসেছে। শাওন গাড়ির কাছে এসে চিত্রাকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়। এরপর নিজে বাইকে উঠে আর চিত্রাকে উঠতে বলে। চিত্রা বাইকে উঠে বসলে শাওন নিরবে বাইক চালানো শুরু করে ।
শহরের বাইরের সেই নিস্তব্ধতা পেরিয়ে আবারও কোলাহল পূর্ণ শহরের মধ্যে চলে আসে তারা। হঠাৎ চিত্রা শাওনের কাঁধে হালকা চাপ দিয়ে বেশ উচ্ছাস নিয়ে বলে উঠে,
-ভাইয়া ফুচকা খাবো! ”
শাওন গাড়ির গতি স্লো করে কিছুটা অবাক হয়ে চিত্রার উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
-চারপাশে এতোগুলো দোকান রেখে তোর নজর গেলো ফুটপাতের ওই ফুচকাওয়ালার ভ্যানে।” বলে কিছুটা থেমে পেছনে মাথা ঘুরিয়ে চিত্রার দিকে তাঁকিয়ে আবারও সামনের দিকে তাঁকায়। আর বলে উঠে,
- ওসব ভালো নাহ ! ওগুলা খেতে হয় নাহ। ”
চিত্রা সেই কথার কোনো রকম পাত্তা দেয়না । সে আবারও আবদারের সুর টেনে বলে উঠে,
-খাবো প্লিজজজ….”
শাওন আর কিচ্ছু বলে নাহ । চিত্রা মুখ ফুটে একটা অবদার করেছে তার কাছে, সে কি সেটাকে অমান্য করতে পারে? এতোটা ক্ষমতা কি শাওনের আছে? আর না কখনো ছিল?
শাওন গাড়িটা সাইট করে ব্রেক করে । তারপর চিত্রার হাত ধরে তাকে নিয়ে যায় ফুচকার দোকানের কাছে।
দোকানদারকে উদ্দেশ্য করে ফুচকা দেওয়ার হাক ছাড়ে। দোকানদার কিছুক্ষণের মধ্যে ফুচকা রেডি করে চিত্রার হাতে দিলে সে সেগুলো তৃপ্তির সাথে খায়। খাওয়ার মাঝে শাওনকে খেতে বললে- শাওন নাক মুখ ছিটকে না করে দেয় । চিত্রা আর জোর করে না।
এরপর চিত্রার খাওয়া শেষ হলে, শাওন ফুচকার দাম মিটিয়ে একটা চকলেটের দোকানে গিয়ে কিছু কিটক্যাট আর ডেইরি মিল্ক নিয়ে নেয়। নিজের দু’পকেটে দুটো করে চারটা চকলেট ভরে নিয়ে বাকি গুলো চিত্রাকে দেয়। আর জিজ্ঞেস করে আর কিছু খাবে কি নাহ।
চিত্রা মাথা ঝাঁকিয়ে না করে দেয়। যার অর্থ সে আর কিছু খাবে নাহ। এরপরে তাঁরা আবারও গাড়িতে উঠে, বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
.
চিত্রা আর শাওনের বাড়ি আসতে আসতে প্রায় রাত সাড়ে ৮টা বেজে যায়।
সোফায় বসে পায়ের উপর পা তুলে গল্প করতেছেন জাহানারা বেগম, শাহনাজ চৌধুরী আর ফাহমিদা চৌধুরী ।
তার পাশেই চিত্রা, ইনায়া, জান্নাত আর আয়াত নিজেদের মধ্যেই গল্প করতেছে আর একটু পর পর খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠতেছে।
শাওন উপর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে । আয়াতের পাশে এসে বসতেই আয়াত শাওনের কোলে উঠে বসে । শাওন তার পকেটে ভরে রাখা চকলেট গুলো বের করে আয়াতকে দেয়। আয়াতের চোখে খুশির ঝিলিক বয়ে যায় ।
কেননা- একটু আগেই শুধু চিত্রা বাইরে থেকে আসার পর শাওনের কিনে দেওয়া চকলেট থেকে ইনায়া, জান্নাত আর আয়াতকে দুটো করে চকলেট দেয়।
আয়াত দাঁত বের করে হাঁসতে হাঁসতে জান্নাতকে দুইহাতে ধরে রাখা চকলেট গুলো দেখিয়ে বলে উঠে,
-দেখ আপু, আমার কাছে অনেক চকলেট ! আমি তোমাকে একটাও দিব নাহ। ”
জান্নাত আয়াতের দিকে তাকিয়ে মুখে ভেংচি কাঁটে বলে উঠে,
-লাগবে নাহ! আমার কাছেও আছে, আমিও তোকে দিব নাহ। ”
জান্নাতের মুখ ভেংচানো দেখে আয়াত নিজেও জান্নাতের উদ্দেশ্যে মুখ ভেংচায় ।
তারপর শাওনের মুখের দিকে গভীর চাহনিতে তাকিয়ে আধো-আধো স্বরে বলে,
-ভাইয়া তুমি শুধু চিত্রা আপুকে নিয়ে কেন ঘুরতে গেছো? আমাকে কেন নিয়ে যাওনি ? ”
আয়াতের কথা শুনে শাওন একগাল হেঁসে ফেলে । তার মাথার চুল এলোমেলো করে দিয়ে বলে উঠে,
-তুই তো তখন পড়তে বসছিলি তাই তোকে আর ডাকিনি । কেউ পড়তে বসলে তাকে কখনো বিরক্ত করতে হয় নাহ! ”
শাওনের কথা আয়াতের কতটা বোধগম্য হলো তা বুঝা গেলো না! কিন্তু ছেলেটা যে মন খারাপ করে মুখটা কালো করে শাওনের কোলের উপরে বসে আছে, তা বেশ বুঝা গেলো । তার মানে বুঝা যায়, শাওনের বলা কথা তার মোটেও পচ্ছন্দ হয়নি।
শাওন সেটা বুঝতে পেরে আয়াতের পেট বরাবর দু'হাত দিয়ে জরিয়ে ধরে, তার গালে একটা চু*মু খায়। বলে উঠে,
-আমার আয়াত সোনাকে আমি কালকেই ঘুরতে নিয়ে যাবো । পাক্কা প্রমিজ! ”
আয়াতের রাগ করে রাখা গোমরা মুখে আবারও হাঁসি ফুটে উঠলো। গলায় উৎসাহ নিয়ে বলে উঠলো,
-সত্যি! ”
শাওন আয়াতের আরেক গালে চু*মু খেয়ে বলে উঠে,
-একদম ! ”
এরিমধ্যে বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন ইশতিয়াক চৌধুরী আর ইমরান চৌধুরী । আয়াত ইমরান চৌধুরীকে দেখা মাত্রই শাওনের কোল থেকে নেমে দৌঁড়ে গিয়ে ইমরান চৌধুরীর কোলে চড়ে বসে । ইমরান চৌধুরী শত ক্লান্তির পরেও পরম আবেশে ছেলেকে কোলে নিয়ে দুগালে ভালোবাসার পরশ একে দেয় । আর ছেলেকে কোলে নিয়েই নিজের ঘরে চলে যায় ।
ইশতিয়াক চৌধুরী আর ইমরান চৌধুরী বাড়ি আসাতে বাড়ির গিন্নিরা টেবিলে খাবার সাজানো শুরু করে ।
জাহানারা বেগমও এগিয়ে গিয়ে তাদের কাজে হাত লাগায় । দুপুরের দিকে তিনি অবশ্য কবিরকে ফোন দিয়ে জানায় যে তারা আজ বাসায় যাচ্ছে নাহ । তিনি তাদেরকে নিতে আসতে মানা করেন। যার কারণে কবির তাদেরকে আর নিতে আসেনি । তবে জাহানারা বেগম কবিরকে এমনিতে আসতে বললে সে না করে দেয়। বলে যে তারা যেদিন বাসায় আসবে সেদিন তাকে ফোন দিতে। সেদিনই একেবারে গিয়ে তাদেরকে নিয়ে আসবে । এরপরে তিনি আমজাদ আহমেদকে ফোন দিয়েও ভালো মন্দ কথা বলেন ।
চৌধুরী ম্যানশনে উপস্থিত সকলে মিলে রাতের খাবার শেষ করে । এরপরে সবাই সোফায় বসে টুকটাক গল্প শুরু করে । গল্পের একপর্যায়ে ইশতিয়াক চৌধুরী জানায়- কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিল সম্পন্ন করার জন্য তাকে কিছুদিনের জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে । আর কাল সকাল ৬টায় তার ফ্লাইট । তিনি শাওনের উদ্দেশ্যে বলেন- কাল সকালে যাতে তাকে এয়ারপোর্ট অবদি এগিয়ে দেয় । শাওনও বাধ্য ছেলের মতো মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় ।
.
পরেরদিন সকাবেলা, বেলা বাজে প্রায় ১০টা !
চিত্রা শাওনের বাইকের পেছনে বসে তার কাঁধে একহাত রেখে ভার্সিটির গেট পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে আর লক্ষ করে….
.
চলবে…
⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️
🚫🚫 গল্পটা শুধু প্রাপ্তবয়স্ক আর মুক্তমানদের জন্য উন্মুক্ত । গল্পে ধীরে ধীরে রোমান্টিকতার বিষয়টা একটু বেশি আর গভীর হবে । তাই যাদের এসব পচ্ছন্দ নয়, তারা দয়াকরে এড়িয়ে চলবেন। 🚫🚫
সবার কাছ থেকে গঠনমূলক মন্তব্য আশা করতেছি ।
গল্পটা কেমন হচ্ছে দয়াকরে জানাবেন… 🙏💛