ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার শুধু তোকে লাগবে

৫ম পর্ব

লেখক: রুদ্র রায়

🚫ডার্ক রোমান্স🚫

#আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে

লেখা: #রুদ্র_রায়_রূপায়ন

পর্ব সংখ্যা - ০৫

.

শাওন চিত্রাকে নিজের প্রশস্ত বুকের মধ্যে শক্ত করে জরিয়ে ধরে অন্ধকার ছাঁদের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে । পুরো ছাঁদ জুড়ে একেবারে গুমোট ধরা অন্ধকার আর পিনপতন নীরবতা। দু'জনেই চুপচাপ । মুখে তাদের কোনো কথা নেই । তবে হৃদয় জুড়ে চলতেছে এক অজানা তোলপার । যার বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ বাইরে প্রকাশ পাচ্ছে - দুজনেরই গভীর নিশ্বাস ।

শাওনের হঠাৎ এমন ব্যবহারে চিত্রা ভীষণ অবাক হয়। তার উপর এভাবে বলিষ্ঠ দু'হাতে শক্ত করে জরিয়ে ধরে থাকাতে চিত্রার মাথা একেবারে শাওনের বুকের মঝখানে গিয়ে ঠাই নেয়। শাওনের বুকের মধ্যে চলা ধুকপুকানির প্রতিটা শব্দ চিত্রা স্পষ্ট অনুভব করতে পারে ।

চিত্রার নিজেরও বুকের মধ্যে হৃদপিণ্ডটা খুব জোরে জোরে চলতে থাকে। আর নাক দিয়ে ঘন-ঘন উষ্ণ শ্বাস বের হতে শুরু করে ।

এদিকে শাওনের এতোটা কাছে থাকায় চিত্রার দম নিতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে । শাওনের বলিষ্ঠ হাতের বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় না পারছে নড়তে আর না পারছে নিজেকে ছাড়াতে। তবে কেন জানি না শাওনের বন্ধন থেকে চিত্রার নিজেকে ছাড়ানোর ইচ্ছাও করতেছে নাহ । তাই সে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য কোনো প্রকার জোর না খাটিয়ে গুটি-শুটি মেরে শাওনের উষ্ণ আলিঙ্গনের মধ্যেই লেপ্টে থাকে। শাওনের শরীরের মাতাল করা মিষ্টি ঘ্রাণ বারবার তার নাকে এসে বাড়ি খায়। যাতে করে তার নিজেকে পুরো পাগল পাগল লাগে ।

শাওন এতোক্ষণ চিত্রাকে জরিয়ে ধরে তার মাথার উপর নিজের থতুনি রেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও, এবার সে কিছুটা ঝুকে চিত্রার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয় । তার নিঃসৃত উষ্ণ শ্বাস প্রশ্বাস চিত্রার কোমল গলায় এসে আছড়ে পরে । পুরো শরীর কেঁপে উঠে চিত্রার । দু'হাতে খামচে ধরে শাওনের পিঠ। শ্বাস প্রশ্বাস আগের থেকে আরও দ্রুত থেকে দ্রুততর চলতে শুরু করে ।

কিছুটা সময় নিয়ে শাওন চিত্রার গলার মধ্যে মুখ গুঁজে রেখেই, নেশালো কন্ঠে বলে উঠে,

-প্রিয় বেগম, এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে আমি আমার নিজের বাম হাত’টাকে কিছু সময়ের জন্য একটু বিদায় জানাই । আর তার সাহায্যে করা তৃপ্তি’ময় কাজটা আমার প্রিয় বেগমের সাহায্যে করি । ” কিছুটা থেমে একটা তপ্ত নিশ্বাস ছাড়ে ! মিইয়ে যাওয়া গলায় আবারও বলে,

-কিন্তু তা সম্ভব নয় ! আর এটাই বর্তমানে আমার সবচেয়ে বড় আফসোস । চোখের সামনে এমন একটা…. ” কথাটা সম্পূর্ণ না করেই আরেকটু শক্ত করে ঠেসে ধরে চিত্রাকে। হালকা কামড় বসায় তার ঘাড়ে ।

এমনিতেই চিত্রার গলার মধ্যে মুখ গুঁজে রেখে কথা বলার জন্য শাওনের কোমল ঠোঁট জোড়া বারবার তার নরম গলাটা স্পর্শ করে,, তার উপর এখন আবার হালকা কামড় বসাতে চিত্রার পুরো শরীর বিদ্যুৎ শক খাওয়ার মতো ঝাঁকি দিয়ে উঠে । শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায় ।

শাওনের বলা কথার হকা মাথা কোনো কিছুই বোধগম্য হয় না চিত্রার । এখন এই মুহূর্তে তার বাম হাতটাকে বিদায় জানাতে চায়,কিন্তু কেন । এখানে বাম হাতের কি কাজ? আর বাম হাতকে বিদায় জানিয়েই বা কি হবে? আর তো আর বাম হাতের সাহায্যে করা কাজে চিত্রা কিভাবেই বা তাকে সাহায্য করতে পারে ? আবার বলে- সেটা বলে এখন সম্ভবও নয়!’ শাওনের মুখ দিয়ে বলা এসবের কোনো কিছুই চিত্রার মাথায় ঢুকে না। সবকিছুই যেন তার মাথার উপর দিয়ে যায়।

আর চিত্রা একটা কথা কিছুতেই বুঝতে পারে না, এই ছেলেটা তার সাথে হুটহাট কেন এমন অদ্ভুত অদ্ভুত আচরণ করে । সেকি তার বিয়ে করা বউ? নাকি প্রেমিকা! যার জন্য এমন অস্বাভাবিক আচরণ করতে দুইবার ভাবে নাহ। কেউ যদি একবার দেখে ফেলে তার করা শাওনের এই আচরণ গুলো! তখন কি হবে? আর কিই বা ভাববে তারা ?’

হঠাৎ চিত্রার মাথায় একটা প্রশ্ন খেলে যায় । যা এর আগেও বহুবার তার মাথায় এসেছে। কিন্তু কখনো সেটা প্রকাশ করা হয়নি। তবে এবার সে সকল ভাবনা চিন্তাকে একপাশে রেখে, অস্পষ্ট স্বরে জিজ্ঞেস করে,

-আপনি আমার সাথে হুটহাট কেন এমন আচরণ করেন ভাইয়া? কোনো কারণে আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন? ”

চিত্রা নিজেও জানে না সে শাওনকে কি প্রশ্ন করেছে। তবে ঘোরের মধ্যে থেকে মাথায় যা এসেছে তাই মুখ দিয়ে বলে উঠেছে।

এদিকে চিত্রার বলা কথাটা শাওনের মস্তিষ্কে এসে পৌছাঁতেই সে চিত্রাকে ছেড়ে দিয়ে দুপা সামনে এগিয়ে উল্টোপাশে মুখ করে দাঁড়ায় । চিত্রার ঘোর কাটে । সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে । নিজের করা প্রশ্নটা মনে পড়তেই, মাথা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে । তার কিছুটা সামনে শাওন দু'হাত পকেটে পুরে রেখে সটান দাঁড়িয়ে থাকে। অতঃপর চিত্রার বিপরীত পাশে মুখ রেখেই কর্কশ গলায় বলে উঠে,

-এই প্রেম ভালোবাসার চিন্তা তোর মাথায় কিভাবে আসলো রে ? ”

চিত্রা চোখ তুলে শাওনের পিছনের অবয়বের দিকেই তাকিয়ে থাকে । শাওন আবারও বলে উঠে,

-আর আমি তোকে কেনই বা ভালোবাসতে যাবো?”

শাওনের বলা কথাটা শুনে চিত্রার ভীষণ রাগ হয়। মুহূর্তেই তার মাথায় র*ক্ত উঠে বসে। সে ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠে,

-তাহলে হুটহাট এমন আচরণ কেন করেন আমার সাথে? ”

শাওন এবার চিত্রার দিকে ঘুরে দাঁড়ায় । নিজের ভ্রু-জোড়া কুঁচকে একেবারে ইনোসেন্ট একটা ফেস করে বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

-কেমন আচরণ করি? ”

চিত্রা কিছুটা দমে যায় । শাওনের প্রশ্নের উত্তরে তার কি বলা উচিত সেটা সে বুঝে উঠতে পারে নাহ। তবে শাওন যে তাকে অপ্রস্তুত করার জন্যই জেনে-বুঝে এমন একটা প্রশ্নটা করেছে, তা সে বেশ বুঝতে পারে । তবুও কন্ঠে তেজ ধরে রেখেই বলে উঠে চিত্রা,

-সেটা আপনি খুব ভালো করেই জানেন ভাইয়া । আর আমি কি আপনার বিয়ে করা বউ নাকি যে আপনি আমার সাথে যখন তখন এমন আচরণ করেন? ”

শাওনের ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাঁসির রেখা ফুটে উঠে ৷ সে চিত্রার কাছে এগিয়ে এসে তার কপালে পরে থাকা চুল গুলো কানের নিচে গুঁজে দিতে দিতে বাঁকা হেঁসে বলে উঠে,

-বউই তো! ”

চিত্রা এক ঝটকায় শাওনের হাতটা সরিয়ে দেয়৷ তার চোখ মুখ রীতিমতো রাগে লাল হয়ে গেছে । সে কন্ঠে দ্বিগুণ তেজ নিয়ে বলে উঠে,

-এসব ফালতু কথা আমাকে একদম শোনাতে আসবেন নাহ। এসব রসের কথা যান গিয়ে আপনার ওই ঢংগী প্রেমিকাকে শোনান! ”

শাওন বুঝতে পারে চিত্রা বেশ রেগে গেছে। যার কারণে এভাবে কথা বলতেছে সে । নরমালি চিত্রা কখনোই এমন করে কথা বলার সাহস করে উঠতে পারবে নাহ।

এদিকে চিত্রার বলা শেষের কথাটা শুনে ভীষণ অবাক হয় শাওন । তার ঢংগী প্রেমিকা! সে আবার কে?

শাওন বিষ্ময়কর চাহনি নিয়ে তাকায় চিত্রার দিকে । কপালে হালকা ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করে,

-আমার ঢংগী প্রেমিকা! সে আবার কে? ”

শাওনের কথায় চিত্রা যেন এবার তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে ৷ কন্ঠে আগুনের উল্কা ঝড়ার ন্যায় বলে উঠে,

-কে আবার, আপনার ওই ঢংগী মামাতো বোন মাহি। কিছুক্ষণ আগে দেখলাম তো, কেমন আপনার গায়ের উপর উথলিয়ে উথলিয়ে এসে পরতেছে সে ৷ যান গিয়ে তার সাথে ওমন ঢং করেন। ” বলে রাগে গটগট করে চলে যেতে নিলে শাওন তার হাত টেনে ধরে ৷ হেঁচকা টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। চোখে চোখ রেখে বলে উঠে,

-শোন এসব ফালতু কথা শুনতে আমার একদম ভালো লাগে নাহ ৷ আমার কোনো প্রেমিকা নেই আর না কখনো ছিল। আর মাহি শুধু আমার মামাতো বোন তাছাড়া আর কিচ্ছু না৷ ” এবার এক হাত চিত্রার গালে রেখে নরম গলায় বলে,

-এই দুনিয়ার কোনো মেয়েকেই শাওনের চাই নাহ, প্রিয় বেগম ! শাওনের শুধু তোকে চাই। তার প্রিয় বেগমকে চাই। ”

শাওন এবার চিত্রার দুগালে পরপর দুবার নিজের ঠোঁট জোড়া ছোঁয়ায় । তারপর তাকে ছেড়ে দিয়ে পিছিয়ে যেতে যেতে ঠোঁটের মধ্যে মৃদু হাঁসি ধরে রেখে কিছুটা উঁচু গলায় বলতে থাকে,

-তোকে আমি ভালো-টালো কিচ্ছু বাসি নাহ চিত্রা । কিন্তু আমার তোকে লাগবে । হে হে “আমার শুধু তোকেই লাগবে ”। তুই চাইলেও লাগবে আর না চাইলেও লাগবে । ” বলে আকাশের দিকে তাকিয়ে দু'হাত প্রসারিত করে চিৎকার করে আবারও বলে উঠে,

-শোনো পৃথিবী, কান খুলে শুনে রাখো তুমি! এই শাওনের শুধু চিত্রাকেই লাগবে ! এই শাওনের শুধু তার প্রিয় বেগমকেই লাগবে । আর সেটা যেভাবেই হোক, বা যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হোক । ”

এদিকে চিত্রা আর এক মুহূর্ত ওখানে দাঁড়িয়ে না থেকে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে ইনায়ার রুমে চলে যায় । শাওন চিত্রার যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুচকি হাঁসে । নিজের মনে মনেই আওড়ায়- প্রিয় বেগম, তুই যে আমার জন্য আসলে কি, এটা যদি তোকে একবার বুঝাতে পারতাম । তবে নিজেই সবচেয়ে বেশি শান্তি পেতাম । আর জানতে চাস নাহ, তোকে ভালোবাসি কি না ! কিছুটা থেমে প্রশান্তিময় একটা হাঁসি দেয়- নিজের থেকেও তোকে বেশি ভালোবাসি আমি । এতোটা ভালো হয়তো পৃথিবীর আর কেউ কাউকে বাসে নাহ ।’

চিত্রা রুমে এসে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পরে হাঁপাতে থাকে । আর ভাবতে থাকে- এই মানুষটা কি পাগল নাকি? কিসব আজব আর অদ্ভুত কথা বলে। ভালোবাসে না, কিন্তু আমাকেই তার লাগবে, এটা কেমন কথা। আমি কি কোনো বাজারের পণ্য নাকি। নিশ্চয়ই এই ছেলে পাগল হয়ে গেছে। আর নয়তো রাতের অন্ধকারে ছাঁদে যাওয়ার কারনে কোনো জ্বিন বা ভূত এসে ভর করেছে তার শরীরে। ’ নিজের মনে এসব ভেবে নিজে-নিজেই ভয়ে জড়সড় হয়ে যায় চিত্রা । তবুও সে ভাবনার জগতে বিভোর থেকে, আর ভাবতে ভাবতেই একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পরে ৷

তবে সেদিন আর ঘুমায় না শাওন। সে বাকি রাতটুকু ছাঁদেই কাটিয়ে দিয়ে মাগরিবের আজানের পর রুমে এসে শুয়ে পড়ে ।

.

পরদিন সকালবেলা ইশতিয়াক চৌধুরী আর ইমরান চৌধুরী খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে অফিসে চলে যায় । কবিরও খাওয়া করে এখান থেকেই অফিসে চলে যায় । আর জাহানারা বেগমের উদ্দেশ্যে বলে যায়- বিকেলের দিকে তাদের নিতে আসবে।’

এদিকে সকালের খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার কিছু সময় পর শাওনের মামি এবং তার দুই মেয়ে, তারাও বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। শাহনাজ চৌধুরী তাদেরকে বারবার থেকে যাওয়ার কথা বললেও, তারা আবারও আসবে জানিয়ে বিদায় নেয়। যাওয়ার সময় মাহি নামের মেয়েটার চোখ চারিদিকে শাওনকে খুঁজলেও তেমন কোন লাভ হয় নাহ। কারণ চারিপাশের কোথাও শাওনের কোনো অস্তিত্ব নেই ।

এদিকে মাহিরা চলে যাওয়াতে সোফায় বসে একটা স্বস্তির হাক ছাড়ে চিত্রা। মনে মনে সে বেশ খুশিই হয় ।

এখন চৌধুরী ম্যানশনে মানুষ বলতে শুধু চিত্রা, জাহানারা বেগম, শাহনাজ চৌধুরী, বাড়ির কিছু সার্ভেন্ট আর শাওন । ফাহমিদা চৌধুরী জান্নাত আর আয়াতকে নিয়ে স্কুলে গেছেন। আর ইনায়া কলেজে । সামনে তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসতেছে। যার কারণে কলেজ যাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

তবে শাওন এদিকে এখনো ঘুমে বিভোর । শাহনাজ চৌধুরী অলরেডি দু’বার ডাকতে গেলেও তেমন কোনো লাভ হয়নি ।

এবার তৃতীয় বারের মতো শাওনকে ডাকতে যায় শাহনাজ চৌধুরী । শাওনের রুমে প্রবেশ করে, উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা শাওনের কাছে এগিয়ে যান তিনি । শাওনের গায়ে মৃদু ঝাঁকি দিয়ে ডেকে উঠেন,

-শাওন ! শাওন ! উঠ না বাবা। অনেক বেলা হয়ে গেছে তো । ”

শাওনের মধ্যে কোনো প্রকার হেলদোল নেই । সে ঘুমের মধ্যেই বিভোর । শাহনাজ চৌধুরী এবার কিছুটা জোরে ডেকে উঠে,

-শাওন !”

শাহনাজ চৌধুরীর ডাক শাওনের কর্ণগোচর হতেই কিছুটা নড়েচড়ে উঠে সে । দু'হাতে বালিশ আকড়ে ধরে সেটাতে মুখ গুঁজে দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় আলসে গলায় বলে উঠে,

-উফফ আম্মু, আর একটু ঘুমাতে দাও নাহ। ”

তৃতীয় বার ডাকতে আসার পরেও শাওনের মুখ থেকে একই কথা শুনে শাহনাজ চৌধুরী বেশ চেতে যায়। ধমক দিয়ে বলে উঠে,

-কয়টা বাজে দেখেছিস একবারো ? ”

শাওন আগের মতো করেই জবাব দেয়,

-আর একটু শুধু আম্মু! প্লিজ আর বিরক্ত করো নাহ! ”

শাওনের কথায় রীতিমতো বেশ রেগে গেলেন শাহনাজ চৌধুরী । তিনি রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে রাগী গলায় বলে উঠলেন,

-তোর মামীরা অলরেডি বাসায় চলে গেছে, কবিরও অফিসে চলে গেছে।এরপর তোর ফুপিরাও বাসায় চলে গেলে ঘুম থেকে উঠে যাতে আমাকে না শুনতে হয়, তোকে কেন ডাকিনি। ” বলে বেরিয়ে যায় শাহনাজ চৌধুরী ।

শাহনাজ চৌধুরীর কথা শাওনের কানে যেতেই ধরফরিয়ে শুয়া থেকে উঠে বসে সে । আর নিজের মনেই একবার আওড়ায়- মামিরা চলে গেছে, ফুফিরাও চলে যাবে! ’

শাওন ঘুমু-ঘুমু পায়ে একঝাঁক ক্লান্তি নিয়ে নিচে নেমে আসে।

দেখে চিত্রা সিঙ্গেল সোফায় বসে মোবাইলে গেম খেলায় মত্ত । জাহানারা চৌধুরী সোফার এককোনায় বসে আছেন । আর শাহনাজ চৌধুরী রান্নাঘরে সার্ভেন্টদের উদ্দেশ্যে দুপুর আর রাতের খাবারের তাগদা দিচ্ছে ।

শাওন ঘুমু-ঘুমু পা নিয়েই জাহানারা বেগমের কাছে এগিয়ে যায় । তারপর জাহানারা বেগমের কোলে মাথা রেখে সোফার মধ্যেই ভাজ হয়ে শুয়ে পড়ে। জাহানারা বেগমের একহাত তার চুলের মধ্যে রাখে। জাহানারা বেগম মুচকি হেঁসে পরম যত্নে শাওনের চুলে বিলি কেটে দিতে শুরু করে। চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয় শাওন । চিত্রা আড়চোখে একবার শাওনের দিকে তাকিয়ে আবারও মোবাইলে মগ্ন হয়ে যায় ।

শাওন এবার ঘুম জড়ানো গলায় বেশ জোড়েই হাক ছাড়ে,

-আম্মু, আমার কফি দাও।”

চিত্রা আবারও একপলক শাওনের দিকে তাকায়। আর মনে মনে ভাবে - ইয়েয়য়… কি সুখ নবাবজাদার !’

শাওন এবার জাহানারা বেগমের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে,

-ফুপি আম্মু বললো, তোমরা বলে বাসায় চলে যাবা? ”

জাহানারা বেগম একহাত শাওনের কাঁধের উপর রেখে আরেক হাত দিয়ে চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বলে,

-হে বাবা, বিকেলের দিকে কবির নিতে আসলেই চলে যাবো । ”

শাওন তার চোখ জোড়া বন্ধ করে রেখেই তার কাঁধে রাখা জাহানারা বেগমের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় ধরে নেয় । বাচ্চাদের মতো আবদার করে বলে উঠে,

-নাহ ফুপি, তোমরা আজকে বাসায় যাবে নাহ। আর দু'টো দিন থেকে তারপরে যাবে। ”

জাহানারা বেগম মুচকি হেঁসে বলে উঠে,

-কিছুদিন পরে আবারও আসবো বাবা। আর এমনিতেও চিত্রার ভার্সিটি খোলা আছে । থাকলে শুধু শুধু ক্লাস গুলো মিস পড়বে । তার থেকে ভালো আগে ওর ভার্সিটি বন্দ দিক, তারপরে এসে থেকে যাবো। ”

এরিমধ্যে কফি নিয়ে আসে শাহনাজ চৌধুরী। শাওন উঠে বসে। কফির মগটা নিজের হাতে নিয়ে একটা চুমুক দেয়। চিত্রার দিকে একবার তাকিয়ে বলে উঠে,

-ও আমার সাথে ভার্সিটিতে যাবে ফুপি। ওর ক্লাস মিস হবে নাহ। ”

শাহনাজ চৌধুরীও তার হাতজোড় শাড়ির আঁচলের ভাজে মুছতে মুছতে সোফায় বসে বলে উঠে,

-থেকে যা না ছোট। এমনিতেও কতদিন পর আসলি। ভালো মন্দ দুটো গল্পও করা হলো না এখনো ! থেকে যা দুটা দিন। ”

জাহানারা বেগম ইকবাল চৌধুরীর থেকে ছোট হওয়ায়, তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরী তাকে ছোট-ছোট করেই সবসময় ডাকে ।

শাওন আবারও আবদার করে সুর টেনে বলে উঠে,

-থেকে যাও নাহ ফুপি! প্লিজজজ…. ”

জাহানারা বেগম চিত্রার দিকে তাকায়। চিত্রাও তার মায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে ।

তিনি এবার মুচকি হেঁসে বলে উঠে,

-আচ্ছা বাবা, থাকবো । ”

শাওন একটা বিশ্ব জয়ের হাঁসি দেয়। একহাতে জাহানারা বেগমকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে,

-ইয়েয়য়, আমার সোনা ফুপি। ”

শাওনের কান্ডে জাহানারা বেগম এবং শাহনাজ চৌধুরী দুজনেই হেঁসে দেয়। তারা জানে, ছেলেটা বরাবরই একটু জেদি আর ভীষণ পাগলাটে । তার যখন যা চাই মানে তাই লাগবে ।

মাঝে মাঝে তো তাকে দেখলে শাহনাজ চৌধুরীর মনে হয়, তার ছেলেটা এখনো সেই আগের ছোট্ট শাওনই রয়ে গেছে ।

ছেলেকে একটু বেশিই ভালোবাসেন শাহনাজ চৌধুরী ।

এদিকে শাওনের দিকে কটমট করে তাকিয়ে চিত্রা ভাবতে থাকে- কেমন ঢংগী একটা ছেলে। কি সুন্দর ঢংগী ঢংগী কথা বলে তার মাকে পটিয়ে নিলো অনায়াসেই । যেমন সে ঢংগী ছেলে, তেমনী তার ঢংগী প্রেমিকা । ” মনের মধ্যে এসব ভেবে নিজে নিজেই ভেংচি কাটে চিত্রা । বিষয়টা শাওনের নজরে পড়ে। সে চিত্রার দিকে তাকিয়ে থেকেই নিচের ঠোঁটের একপাশে কামরে ধরে। কফির কাপে চুমুক দিতে নিয়ে ফ্লাইং কিস করার মতো ঠোঁট জোড়া হালকা ভাজ করে চিত্রার উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেয়, আর টুপ করে বামচোখ মারে । শাওনের করা কান্ডে চিত্রা বিষম খায়। পাশ থেকে শাহনাজ চৌধুরী চিত্রার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

শাওন তার কফির মগটা চিত্রার উদ্দেশ্যে এগিয়ে ধরে । চিত্রা ঠিকভাবে লক্ষ্য না করেই, পানি মনে করে সেটা একচুমুকে শেষ করে দেয়। কিন্তু খাওয়ার পর বুঝতে পারে এটা পানি না, শাওনের খাওয়া কফি ছিল। কফিটা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কারণে খেতে চিত্রার তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।

শাওন চিত্রার দিকে তাকিয়ে হেঁসে দেয় । যা দেখে চিত্রা ভেতরে ভেতরে বেশ রেগে যায় ।

এরিমধ্যে সদর দরজা দিয়ে আয়াত নাচতে নাচতে ভেতরে প্রবেশ করে। আর সুর ধরে বলে উঠে,

-আমরা এসে গেছিই…! ”

আয়াতের পেছনে পেছনে জান্নাত আর ফাহমিদা চৌধুরী আসে। আয়াতের স্কুল ব্যাগ ফাহমিদা চৌধুরীর হাতে । তারা সোজা রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবারও নিচে চলে আসে। তার কিছুক্ষণ পরে ইনায়াও কলেজ থেকে চলে আসলে সকলে মিলে দুপুরের খাওয়া শেষ করে ।

.

তখন বিকাল ৫টা বাজে !

আয়াত আর জান্নাতকে তাদের হোম টিউটর পড়াতে আসলে, তারা রিডিং রুমে পড়তে বসে । ইনায়া কিছুক্ষণ আগেই কোর্চিনে চলে যায় ।

শাওন তার মা আর ফুপির কাছ থেকে চিত্রাকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেয়।

তারা অনুমতি দিলে শাওন চিত্রাকে রেডি হতে বলে নিজেও রেডি হতে চলে যায়।

শাওন রেডি হয়ে গেটের সামনে বাইকে হেলান দিয়ে ফোন চাপতেছে ।

খানিকটা সময় পর চিত্রা রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে । শাওনের সামনে এসে দাড়ায়।

শাওন ফোন থেকে মাথা তুলে একবার চিত্রার দিকে তাকাতেই তার দৃষ্টি পুরো থমকে যায়….

.

চলবে…

⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️

🚫🚫 গল্পটা শুধু প্রাপ্তবয়স্ক আর মুক্তমানদের জন্য উন্মুক্ত । গল্পে ধীরে ধীরে রোমান্টিকতার বিষয়টা একটু বেশি আর গভীর হবে । তাই যাদের এসব পচ্ছন্দ নয়, তারা দয়াকরে এড়িয়ে চলবেন। 🚫🚫

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন