🚫ডার্ক রোমান্স🚫
#আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে
লেখা: #রুদ্র_রায়_রূপায়ন
পর্ব সংখ্যা - ০৯
.
⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️
আজকে কবির আহমেদ আর মিথিলা হোসেন মিথির গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ।
চিত্রাদের দু'তলা বিশিষ্ট ছোট্ট বাড়িটা বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে । দু’তলা বাড়ির ছাঁদ থেকে একেবারে নিচ পর্যন্ত রং বেরঙের ঝাড় বাতিতে মোড়ানো । বাড়ির ভিতরে আর বাইরে বেশ সুন্দর করে ফুল, রং বেরঙের কাপড়সহ আরও অনেক সৌন্দর্য-বর্ধক জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছে ।
আমজাদ আহমেদের একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা । কোনো কিছুতে বিন্দুমাত্রও কমতি রাখেননি ।
তবে তিনি আনোয়ার হোসেনকে কোনো এক ভালো কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুই পরিবার মিলে একসাথে বিয়ের কাজটা সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন । কিন্তু আনোয়ার হোসেন দ্বিমত পোষণ করেন। কারণ আনোয়ার হোসেন তার বড় মেয়ের বিয়ে নিজ বাড়ি থেকেই ধুমধাম করে দিতে চান । এটা তার বহুদিনের স্নপ্ন। তাই আমজাদ আহমেদও আর জোর করেনি ।
ইতিমধ্যে কবিরকে বেশ আনন্দের সাথে ধুমধাম করে হলুদ মাখানো হয় । বেশ কিছু আত্নীয় স্বজনরাও অলরেডি চলে এসেছে চিত্রাদের বাড়িতে । আর বাকি গুলো হয়তো কাল আসবে । চিত্রা তার প্রিয় দুই বান্ধবী ছোঁয়া আর পূজাকেও ইনভাইট করেছে । তারা বিয়ের দিন আসতে চাইছে ।
চিত্রার মামার বাড়ি থেকে চিত্রার ছোট মামি ফাহমিদা চৌধুরী, জান্নাত, আয়াত আর শাওন এসেছে । ইরফান চৌধুরী কাল আসবেন। অপরদিকে শাহনাজ চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী আর ইনায়া আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গেছেন । তারা বিয়ের দিন একেবারে কনের সাথে চিত্রাদের বাসায় আসবেন বলে জানিয়েছেন । শাহনাজ চৌধুরীর একমাত্র ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে যাওয়াটা তার একান্তই কাম্য ৷ তাই তিনি নিজের ভাইয়ের বাসাতেই গেছেন । তবে শাওন যায়নি তাদের সাথে । শাহনাজ চৌধুরী শাওনকে তাদের সাথে যেতে বললে, সে ডিরেক্ট না করে দেয়। কারণ সে তার মামার বাসায় গিয়ে মামাতো বোনের শিকার কিছুতেই সাজতে চায় নাহ। ইনায়াও অবশ্য যাইতে চায়নি। তবে শাহনাজ চৌধুরী তাকে কিছুটা জোর করেই নিয়ে গেছেন নিজের সাথে ।
.
এখন মিথিদের বাসায় কবিরের গায়ে মাখানো হলুদ নিয়ে যাওয়ার পালা ।
চিত্রা, জান্নাতসহ চিত্রাদের আরও কিছু কাজিন সবাই মিলে রেডি হচ্ছে মিথিদের বাসায় হলুদ নিয়ে যাওয়ার জন্য ।
চিত্রা আজকে কাঁচা হলুদ রঙের একটা সুন্দর গাউন পড়েছে ৷ তবে সেদিনের মতো ওতো বেশি ভাড়ি নয় এটা। সিম্পলের মধ্যে কিন্তু গর্জিয়াস । লম্বা শখশখে স্লিকি চুল গুলোর দুপাশ থেকে কিছু চুল নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর একটা ক্লিপ দিয়ে আঁটকিয়ে দেয় । আর বাকি গুলো পুরো পিঠ জুড়ে ছেড়ে রাখে ।
জান্নাতও চিত্রার সাথে মিলিয়ে কাঁচা হলুদ রঙের একটা গাউন পড়েছে ।
যেহেতু আজকে হলুদ সন্ধ্যা, তাই এখানে উপস্থিত সকলেই হলুদ রঙের জামা পরেছে। কেউ কাঁচা হলুদ রঙের তো কেউ একেবারে গাড় হলুদ রঙের ।
চিত্রারা সকলে রেডি হয়ে নিচে আসে । চিত্রার চোখ যায়, কাঁচা হলুদ রঙের পাঞ্জাবি সাথে সাদা প্যান্ট পরিহিত শাওনের উপর । সে কিছু মানুষকে হলুদের জন্য সাজানো উপহার গুলো সাবধানে গাড়িতে তুলার নির্দেশ দিচ্ছে ।
সকলে রেডি হয়ে নিচে আসলে, যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় তারা ।
শাওনের গাড়িতে বসেছে জান্নাত চিত্রা আর তার দু’জন কাজিন । বাকি সবাই আরেকটা গাড়িতে ।
শাওন গাড়ির পিছনের ডিকিটা ঠিক মতো লাগিয়ে দিয়ে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসে । গাড়ির লুকিং গ্লাসে চোখ জোড়া রেখে শান্ত তবে গভীর গলায় ডেকে উঠে,
-চিত্রা, তুই সামনের সিটে আয়।”
জান্নাত আর চিত্রাসহ তার দুজন কাজিন মিলে ওরা পিছনের সিটে বসে নিজেদের মতো গল্পে মজে ছিল। শাওনের কথায় চিত্রাসহ তারা সবাই শাওনের দিকে তাকায় ।
চিত্রার মধ্যে কোনো হেলদোল না দেখে শাওন আবারও ডেকে উঠে,
-কি হলো, আমি কি বললাম শুনিসনি?”
চিত্রা শাওনের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বলে উঠে,
-আমি পিছনেই বসি ভাইয়া। এখানেই ঠিক আছি।”
শাওন সামনের দিকেই দৃষ্টি রেখে লুকিং গ্লাসে চিত্রাকে ভালো মতো দেখে নেয় । চিত্রাও সামনের দিকেই তাকিয়ে ছিল । শাওন এবার কন্ঠে কিছুটা ক্রোশ নিয়ে বলে উঠে,
-সামনে আসতে বলছি তোকে চিত্রা! চুপচাপ সামনে আয় । ”
চিত্রা এবার সিটে গা এলিয়ে দেয় । আর জেদের সুরে বলে,
-আমি সামনে বসবো না ভাইয়া। আমি পিছনে এদের সাথেই বসবো ! ”
শাওন নীরবে ঘাড় ঘুরিয়ে চিত্রার দিকে একপলক তাকায় । তারপর একটা বড় নিশ্বাস ছেড়ে শীতল গলায় বলে,
-আচ্ছা ঠিক আছে !” বলে গাড়ি থেকে নেমে যেতে যেতে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
-তোরা একটু থাক। আমি ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিচ্ছি ৷”
কথাটা শেষ করে গাড়ির দরজা সজোরে বন্ধ করে দিয়ে, বাড়ির ভিতরের দিকে হাঁটা শুরু করে শাওন । গাড়িতে উপস্থিত বাকি তিনজন ব্যক্তি একবার শাওন তো একবার চিত্রার দিকে তাকাতেই ব্যস্ত । চিত্রা জানালা দিয়ে হালকা মাথাটা বের করে, শাওনের উদ্দেশ্যে কিছুটা উঁচু গলায় প্রশ্ন ছাড়ে,
-ড্রাইভার কেন ভাইয়া ? আর আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আপনি যাবেন না নাকি ?”
শাওন যেতে যেতে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দেয়,
-নাহহ! ”
চিত্রা অবাক হয় । আবারও প্রশ্ন ছুঁড়ে,
-নাহ মানে? কেন যাবেন না ভাইয়া ?”
শাওনের ছোট জবাব,
-ইচ্ছে নেই তাই। ”
চিত্রা এবার ভীষণ অবাক হয় । মানুষটার হঠাৎ কি হলো তার মাথায় আসে নাহ। সে গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত পায়ে শাওনের সামনে গিয়ে পথ আঁটকিয়ে ধরে । চোখে চোখ রেখে দৃঢ়কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-কেন যাবেন নাহ আপনি ?”
শাওন হাঁটা থামিয়ে সামনে দাঁড়ানো চিত্রার দিকে তাঁকায়। আর ঠান্ডা গলাতে শান্তভাবে জবাব দেয়,
-আমার যাওয়া না যাওয়া নিয়ে হঠাৎ করে তুই কেন এতো মাথা ঘামাচ্ছিস? আমার যাওয়া না যাওয়াতে তোর কি কোনো যায় আসে? ”
শাওনের কথাতে চিত্রা বেশ অপ্রস্তু হয়ে পড়ে । সাথে অবাকও! কিন্তু কিছু বলে নাহ ৷ চিত্রা বুঝতে পারে- শাওন বারবার তাকে সামনে বসতে বলার পরও, সে সামনে না বসাতে রেগে গেছে ।
শাওন চিত্রাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে, চিত্রা শাওনের হাত টেনে ধরে তাকে আঁটকিয়ে দেয় । শাওন পেছনে ফিরে চিত্রার দিকে দৃষ্টি রাখে ।
চিত্রা করুণ চোখে শাওনের দিকে তাকিয়ে থাকে। শাওন ঠান্ডা গলাতেই জিজ্ঞেস করে,
-কি চাই? ”
চিত্রা ছলছল চোখ নিয়ে করুন স্বরে বলে,
-চলুন না ভাইয়া!”
চিত্রার এমন করুণ চাহনি উপেক্ষা করার মতো সাধ্য শাওনের নেই । তার মনের মধ্যে যে অল্প সল্প রাগের আর্বিভাব হয়েছিল, তা চিত্রার করুণ চোখের চাহনিতেই গলে জল। শাওন চিত্রার কাছে দু-পা এগিয়ে আসে। চিত্রার চোখ থেকে গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পরার আগেই তা নিজের হাত দিয়ে মুছে দেয় । তারপর চিত্রার একহাত ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে আসে। শাওন গাড়ির দরজা খুলে দিলে চিত্রা গিয়ে বসে পড়ে । শাওন এসে ড্রাইভিং সিটে বসে। তারপর নিজের বসা সিট থেকে চিত্রার দিকে কিছুটা ঝুঁকে তার সিট বেল্টটা লাগিয়ে দেয় । চিত্রা লক্ষ করে শাওনের নাকে-মুখে মৃদু মৃদু ঘামেরা জমে আছে । সে গাড়ির সামনে রাখা টিসু বক্স থেকে টিস্যু বের করে শাওনের মুখের ঘামের কণা গুলো মুছে দেয়।
শাওন সিট বেল্ট ঠিক করতে করতে চিত্রার দিকে তাঁকিয়ে নিরবে হেঁসে দেয়। অতঃপর চিত্রার সিট বেল্ট বেঁধে দিয়ে নিজের সিট বেল্ট ঠিকমতো বেঁধে গাড়ি চালানো শুরু করে ।
চিত্রার বাকি কাজিনদের গাড়িটা বেশ কিছুক্ষণ আগেই ছেড়ে দিয়েছিল । যার কারনে হয়তো ওরা অনেকটা পথও অতিক্রম করে ফেলেছে ।
শাওনের গাড়ির পেছনে বসে থাকা তিনজন ব্যক্তি গল্প আর হাঁসিতে মত্ত । কিন্তু চিত্রা! সে সামনে চুপচাপ বসে আছে। কোনো কথা বলতেছে নাহ। শুধু একটু পরপর শাওনের দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে । আর শাওন তো গাড়ি চালাতে চালাতেই কিছুক্ষণ পরপর চিত্রার দিকে তাকাচ্ছে।
বেশ কিছুটা সময় পর তারা মিথিদের বাসায় চলে আসে। ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা বাজে ।
চিত্রারা সবাই মিলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে না করতেই মাহি দৌড়ে এসে হামলে পড়ে শাওনের একহাত জরিয়ে ধরে । আর গদগদ হয়ে বলা শুরু করে,
-ভাইয়া তোমরা এসে পড়েছো? আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো তোমাদের ? ”
দিলো তো এই মেয়ে চিত্রার মাথাটা গরম করে । চিত্রা জানতো এই মেয়ে এমন কিছুই করবে। দেখতেছে এসে পড়েছে, তারপরও জিজ্ঞেস করতেছে- ভইয়া তোমরা এসে পড়েছো? আর তো আর আসতে যদি কোনো সমস্যাই হতো, তাহলে কি সবাই এতো সহি সালামতে আসতে পারতো? যতসব ফাউল প্রশ্ন। হুদাই কি দরকার আছে এমন প্রশ্ন করার । আর এতোজনকে বাদ দিয়ে, শুধু শাওনকেই কেন প্রশ্ন করতে হবে ওর! স্বাদে কি আর ঢংগী মেয়ে বলি একে !’ এসব ভাবতে ভাবতেই চিত্রার নাক মুখ বিরক্তিতে কুঁচকে যায়। মাহির করা কান্ডে শাওন যতটা না বিরক্ত হয়েছে, তার থেকে বেশি বিরক্ত হয়েছে মনে হয় চিত্রা। চিত্রা মাহির দিকে এমন চোখ করে তাকিয়ে আছে, যাতে করে মনে হচ্ছে মাহিকে নিজের দু’চোখ দিয়েই ভ’ষ্ম করে দিবে সে । শাওন মাহিকে কিছু বলতেছে না দেখে চিত্রার বিরক্ত আর রাগ যেন দ্বিগুণ পরিমাণে বেড়ে যায় । কিন্তু চিত্রা সেটা নিজের ভিতরেই রাখে। বাইরের কাউকে কিচ্ছুটি বুঝতে দেয় নাহ ।
শাওন একপলক চিত্রার দিকে তাকায় । তারপর মাহির কাছ থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে, বেরস গলায় জবাব দেয়,
-নাহ! কোনো সমস্যা হয়নি।” বলে সামনের দিকে এগিয়ে সোফায় হলুদের কণে সেজে বসে থাকা মিথির সাথে কিছু কথা বলে, পাশে বসা ইনায়াকে জিজ্ঞেস করে,
-ইনায়া, আম্মু কোথায়? ”
ইনায়া শাওনকে একটা ঘরের দিকে তাক করে বলে উঠে,
-আম্মু মামানিদের ঘরে ভাইয়া । ”
শাওন নিরবে সেই ঘরের উদ্দেশ্যে চলে যায়। চিত্রা দৌঁড়ে এগিয়ে এসে মিথিকে জড়িয়ে ধরে। মিষ্টি হেঁসে বলে উঠে,
-বাহ্হ… ! আমার ভাবিটাকে তো সেই মিষ্টি লাগতেছে । ”
চিত্রার ভাবি সম্মোধনে মিথি কিছুটা লজ্জা পায়। চিত্রা এবার মিথিকে ছেড়ে দিয়ে তার কানের দুপাশে হাত নেড়ে নজর তাড়ানোর মতো করে বলে,
-কারো নজর না লাগুক । ”
হেঁসে উঠে মিথি সাথে ইনায়াও। মিথি চিত্রার একহাত টেনে তাকে তার পাশে বসিয়ে দিয়ে মিষ্টি করে বলে উঠে,
-তোমাকেও খুব সুন্দর লাগতেছে বনু। একেবারে পরীর মতো। ”
চিত্রা হেঁসে দেয় । পাশে বসা ইনায়ার উদ্দেশ্যে বলে,
-তুমি কেন আমাদের বাসায় গেলা না ইনায়া? ”
ইনায়া সরল চোখে তাঁকায় চিত্রার দিকে। কিছুটা আফসোসের সুরে বলে,
-আমি তোমাদের বাসাতেই যেতে চেয়েছিলাম আপু। কিন্তু আম্মু জোর করে এখানে নিয়ে আসছে। ”
অপর পাশ থেকে মাহি খোঁচা মেরে বলে উঠে,
-সবাই কি শুধু তোমাদের বাসাতেই যাবে নাকি? আমাদের বাসায় কি কেউ থাকবে নাহ? ”
মাহির কথায় চিত্রা তার দিকে তাঁকায়। যদিও মাহির সাথে কথা বলার বিন্দুমাত্র আগ্রহ তার মধ্যে নেই, তবুও মুখের মধ্যে মিষ্টি একটা হাঁসি ফুটিয়ে বলে উঠে,
-সেটা না আপু। ইনায়া যদি শাওন ভাইয়ার সাথে আমাদের বাসায় যেতো তাহলে ও ভাইয়ার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান এটেন্ড করে, আমাদের সাথে এখন তোমাদের বাসাতে আসতে পারতো । আর এখানে এখন মিথি আপুর হলুদের অনুষ্ঠান এটেন্ড করতো । তাহলে ইনায়াকে আর কোনো কিছুই মিস করতে হতো নাহ । আর পরে নাহয় আমাদের সাথে না গিয়ে এখানেই তেমাদের বাসায় থেকে যেতো । এই জন্যই বললাম আরকি! ”
চিত্রার কথা শুনে মাহি আর কিছু না বলে মুখ বাঁকিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো । এই মেয়েটা কিছুতেই চিত্রাকে সহ্য করতে পারে নাহ। যখনি চিত্রাকে তার আশেপাশে দেখে তখনি কেমন যেন একটা ভাব ধরে থাকে। কেন এমন করে চিত্রা নিজেও বুঝতে পারে নাহ ।
মাহি আর চিত্রা সমবয়সী হওয়ার পরেও চিত্রা সবসময় মাহিকে আপু বলেই সম্মোধন করে । চিত্রার মনে হয় এতে করে যেন মেয়েটা আরও বেশি ভাব ধরে তার সামনে।
পাশ থেকে মিথি চিত্রার একহাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে নরম স্বরে বলে,
-তুমি মাহির কথায় কোনো কিছু মনে করো না বনু। ও এমনি ! ”
চিত্রা মিথির ধরে রাখা হাতের উপর নিজের আরেক হাত রেখে বলে উঠে,
-আরে নাহ আপু ! আমি কিছু মনে করিনি ৷” বলে আবারও মিথিকে আলগা করে জরিয়ে ধরে ।
.
কিছুক্ষণ পর মিথির হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হলে, চিত্রা, জান্নাত আর ইনায়া সবাই মিথির গায়ে হলুদ ছোঁয়ায় ৷ সবাই কিছুক্ষণ নাচ গানে মত্ত হয় ৷ হই-হূল্লোর করে ।
তারপরে খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে, সবার সাথে কুশলদানি শেষ করে আবারও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় ।
তখন প্রায় রাত ১১টা বাজে। সকলে নাচা-নাচি করার কারনে বেশ ক্লান্ত। যার কারণে গাড়ি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই ঘুমিয়ে পরে । পিছনে জান্নাতসহ বাকি দুজনও ঘুমে বিভোর। শাওন ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি চালাচ্ছে আর আড়চোখে চিত্রাকে দেখতেছে ৷ মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে । মাঝে মাঝে গাড়ির ধাক্কার কারনে তার মাথাট বারবার একবার এপাশে তো একবার ওপাশে হেলে গিয়ে গাড়ির জানালার সাথে বারি খাচ্ছে । শাওন এবার গাড়িটা একটু ব্রেক করে। চিত্রার ঘুমন্ত নিষ্পাপ মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে । কপালে পরে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে, কপালের মাঝ বরাবর একটা গাড়ভাবে চু’ম্ব’ন এঁকে দেয় । তারপর চিত্রার সিট বেল্টটা আলগা করে দিয়ে তার কাঁধে চিত্রার মাথাটা রাখে ।
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আবারও চালানো শুরু করে । গাড়ির জানালাটা হালকা খোলা থাকার কারণে জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকা বাতাসে চিত্রার খোলা এলোকেশী চুল গুলো বারবার শাওনের চোখে মুখে আছড়ে পরে । একটা মিষ্টি ঘ্রাণ গিয়ে শাওনের নাকে প্রবেশ করে। শাওন নাক টেনে জোড়ে শ্বাস নিয়ে গভীরভাবে সেই ঘ্রাণটা অনুভব করার চেষ্টা করে । প্রশান্তিতে চোখ জোড়া হালকা বুঝে নেয় সে । প্রিয়সীর মাদকতায় মুহূর্তেই বেসামাল হয়ে পড়ে সে । হঠাৎ চিত্রা ঘুমের মধ্যেই কিছুটা নড়েচড়ে নিজের একটা হাত শাওনের বুক বরাবর তুলে রাখে, যা শাওনকে আরও ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়।
এই মুহূর্তে শাওনের গাড়ি চালানোতে বেশ অসুবিধে হচ্ছে । সে কিছুতেই গাড়ি চালানোতে মনোযোগ দিতে পারতেছে নাহ। আর পারবেই বা কি করে! নিজের এতোটা কাছে ভালোবাসার মানুষটা থাকলে কি কোনো মানুষই সহজে ঠিক থাকতে পারে? নাকি অন্য কোনো কাজে নিজের মনোনিবেশ ধরে রাখতে পারে?
কিন্তু তবুও শাওন নিজেকে যথাসম্ভব সংযত রেখে, খুব সাবধানতার সহিত গাড়ি চালাচ্ছে ।
.
চিত্রাদের বাসায় আসতে আসতে বেশ রাত হয়ে যায় । চিত্রারা বাসায় চলে এসেছে কিন্তু তবুও কারো ঘুম ভাঙ্গার নাম নেই । পুরোটা রাস্তা তারা ঘুমিয়েই এসেছে । শাওন বাড়ির সামনে গাড়িটা ব্রেক করে চিত্রাকে তার সিটে ঠিকঠাক ভাবে বসিয়ে দিয়ে প্রায় পনেরো মিনিট ধরে তার দিকে তাকিয়ে আছে । ঘুমের মধ্যেও মেয়েটাকে কি মায়াবীই না লাগছে । শাওনের কিছুতেই চিত্রাকে ডেকে তার ঘুমটা নষ্ট করার ইচ্ছা হচ্ছে নাহ। তার মনে হচ্ছে এভাবেই সারাটা রাত সে চিত্রার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকুক। কিন্তু তা কি আর সম্ভব। তবে- পেছনের সিটে জান্নাতরা না থাকলে হয়তো, শাওন এই অসম্ভবকেও সম্ভব করতো!
বেশ অনেকটা সময় তাকিয়ে থাকার পর শাওন আবারও চিত্রার কপালে নিজের ঠোঁট জোড়া ছোঁয়ায় । তারপর মৃদুস্বরে ডেকে উঠে,
-চিত্রা !”
চিত্রার মধ্যে কোনো নড়চড় নেই । শাওনের ডাকটা হয়তো চিত্রার কান পর্যন্ত ঠিকভাবে পৌঁছাতেই পারেনি । শাওন দ্বিতীয়বার ডেকে উঠে,
-চিত্রা….”
চিত্রার মধ্যে এবারও কোনো রেসপন্স নেই । শাওন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে । তারপর চিত্রার গাল আর উন্মুক্ত গলা জুড়ে নিজের দু’আঙ্গুল স্লাইড করতে থাকে। কেঁপে উঠে চিত্রা। শরীরের প্রতিটা লোম মুহূর্তেই খাড়া হয়ে যায় তার। তা দেখে শাওন হেঁসে দেয় । চিত্রা নিভু নিভু করে চোখ খুলে তাঁকায় । শাওন নিজের সিটে ঠিকভাবে বসে পরে । আর চিত্রার দিকে দৃষ্টি রেখে বলে উঠে,
-আমরা বাসায় চলে এসেছি মেডাম। এতো ঘুমালে চলবে! ”
চিত্রা ঘুমু ঘুমু চোখ জোড়া নিয়েই শাওনের দিকে তাঁকায় । শাওন একবার পেছন ফিরে তাঁকায়। পেছনে দেখে তিনজনে একে অপরের উপর ভর দিয়ে গভীর ঘুমে বিভোর।
শাওন এবার সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে গাড়ির হর্নটা চেপে ধরে । গাড়ির হর্নের শব্দে ধর-ফরিয়ে উঠে তিনজনেই । চিত্রারও ঘুম ঘুম ভাব কেটে যায়। শাওন লুকিং গ্লাসে একবার পেছনে দেখে সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
-আমরা বাসায় এসে পড়েছি । এখন যাও রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো । তবে গাড়িতে ঘুমাতে চাইলে ঘুমাতে পারো। আমি গেলাম। ” বলে শাওন গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে চলে যায়।
চিত্রারা গাড়ি থেকে নেমে কোন মতে বাসার ভিতরে গিয়ে যে যেখানে জায়গা পায় সেখানেই শরীর এলিয়ে দিয়ে দেয় ঘুম।
বাড়ির আত্নীয় স্বজনসহ সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত ২টা অবদি কারো জেগে না থাকারই কথা । তারউপর আবার সারাদিনের ক্লান্তি ৷
কিছুক্ষণ পর শাওন উপর থেকে নেমে রান্নাঘরে ফ্রীজের পানি নিতে আসে । আর দেখতে পায় সবাই যে যার মতো যেখানে সেখানে শুয়ে আছে ।
শাওন রান্নাঘরে গিয়ে ফ্রীজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে নিজের পিপাসা মেটায়। তারপর সিঙ্গেল সোফার মধ্যে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পরা চিত্রার দিকে তাকিয়ে হেঁসে দেয় । তার কাছে এগিয়ে আসে। ঘুমন্ত অবস্থাতেই কোলে তুলে নেয় তাকে। আর হাঁটা শুরু করে চিত্রার রুমের দিকে । সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে শাওন চিত্রাকে তার রুমে ঠিকমতো শুইয়ে দিয়ে পায়ের জুটো জোড়া খুলে দেয় । কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে থেকে, মুখ জুড়ে ভালোবাসার পরশ একে দেয় । তারপর রুমের এসিটা অন করে, নিরবে রুম থেকে বেরিয়ে যায় । আর যাওয়ার সময় ফাহমিদা চৌধুরীকে ডেকে জন্নাতসহ বাকিদেরকেও ডেকে রুমে নিয়ে আসতে বলে ।
.
তখন বাজে সন্ধ্যা ছয়’টা ।
শেওরানি পরে বিয়ের সাজে রেডি হচ্ছে কবির। আর তাকে সাহায্য করতেছে শাওন….
.
চলবে…
⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️
🚫🚫 গল্পটা শুধু প্রাপ্তবয়স্ক আর মুক্তমানদের জন্য উন্মুক্ত । গল্পে ধীরে ধীরে রোমান্টিকতার বিষয়টা একটু বেশি আর গভীর হবে । তাই যাদের এসব পচ্ছন্দ নয়, তারা দয়াকরে এড়িয়ে চলবেন। 🚫🚫
“রি-চেইক দেওয়া হয়নি ! ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ”