🚫ডার্ক রোমান্স🚫
#আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে
লেখা: #রুদ্র_রায়_রূপায়ন
পর্ব সংখ্যা - ১৬
.
⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️
রুমের মধ্যে রেডি হচ্ছে চিত্রা ৷ আর তাকে রেডি হতে সাহায্য করতেছে মিথি ৷ চিত্রা শাড়ি পরতে পারে নাহ । তার জন্য মিথি তাকে শাড়ি পরিয়ে দিতে সাহায্য করতেছে ।
চিত্রা একটা গাড় সবুজ আর এ্যাশ কালারের সংমিশ্রণে গর্জিয়াস জর্জেট শাড়ি পড়েছে ৷ শাড়িটার দুই পাড় জুড়ে সুন্দর করে জরি সুতার কাজ করা । আর পুরো জমিন জুড়ে সুন্দর করে জরি সুতায় ফুল উঠানো । বেশ সুন্দর শাড়িটা ।
মিথি বেশ এঁটেসেটে সুন্দর করেই শাড়িটা পরিয়ে দিয়েছে চিত্রাকে । যাতে করে চিত্রার শাড়ি পরে হাঁটা-চলা করতে তেমন কোনো সমস্যা না হয় ৷ শাড়ি পড়ানো শেষ হলে মিথি চিত্রার মুখে হালকা মেকাপ, ঠোঁটে লিপস্টিক, আর চোখে কাজল দিয়ে দে । চিত্রা দিতে মানা করলেও মিথি একপ্রকার জোর করেই দিয়ে দেয় । তারপর চিত্রার চুলগুলো খুব সুন্দর করে গুছিয়ে শক্ত করে খোঁপা করে দেয় । তবে আজকে কানের পাশ দিয়ে কোনো চুল বের করে রাখে নাহ । আর পুরো মাথা জুড়ে কোথাও কোনো অবাদ্ধ চুলেদেরও বিচরন নেই । সব চুল গুলোই একেবারে মাথার মধ্যে আটশাট হয়ে চেপে আছে । মিথি এবার চিত্রার উন্মুক্ত গলায় একটা সুন্দর ন্যাকলেস, আর কানে এয়ারিং পরিয়ে দেয় ৷ তারপর কিছুক্ষণ চিত্রার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের হাত থেকে দুটো বালা খুলে চিত্রার বাম হাতে পরিয়ে দেয় ।
চিত্রা বালা দুটোর দিকে চোখ রাখে । বালা দুটো স্বর্ণের । খুব বেশি মোটা না । তবে অনেক সুন্দর । বালা দুটোর উপরে সুন্দর করে ডায়মন্ড খচিত সাদা চকচকে পাথর বসানো। যেটা সবচেয়ে বেশি নজর কারতেছে ।
চিত্রার সাজগোজ একেবারে কমপ্লিট ।
মিথি কিছুক্ষণ চিত্রার দিকে মুগ্ধতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলে উঠে,
-বাহ্হ ! আমার ননদটাকে কতো সুন্দরই না দেখাচ্ছে ৷ একেবারে রূপকথার রাজ্যের পরীদের মতো । এখন শুধু কারো নজর বা লাগলেই হলো । ”
চিত্রা আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে দেখতে দেখতে অসন্তুষ্ট স্বরে জবাব দেয়,
-ভাবি তুমিও না, সবসময় শুধু বেশি বেশি বলো ।”
মিথি আয়নার মধ্য দিয়ে চিত্রার দিকে তাকিয়ে তেজি গলায় বিরোধীতা করে বলে,
-কোথায় বেশি বেশি বলি ? যাচ্ছো তো বিয়ে বাড়ি ৷ যাও আগে ! দেখিও বিয়ে বাড়ির সবাই যদি তোমার দিকে তাকিয়ে না থাকলো, তাহলে আমাকে আসে বলিও । তারপর দেখবো, আমি বেশি-বেশি বলতেছি, নাকি কম-কম বলতেছি । ”
চিত্রা আয়নার দিক থেকে মিথির দিকে ঘুরে । আর মিথির দুইগাল টেনে দিয়ে মিষ্টি হেসে বলে,
-হইছে, আর তোমাকে কিচ্ছু বলতে হবে নাহ ভাবি । তোমার ননদ অনেক সুন্দর, তোমার ননদ রূপকথার রাজ্যের পরীদের মতো আর বিয়ে বাড়িতে সবাই শুধু তোমার ননদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ! এবার খুশি তো? ”
মিথি হেসে দিয়ে বলে উঠে,
-হে, খুব খুশি । ”
তাদের দুজনের কথার মাঝে চিত্রার ফোনে মেসেজ আসে ৷ চিত্রা বিছানার উপর থেকে ফোনটা তুলে দেখে শাওনের মেসেজ- “নিচে আয়, ওয়েট করতেছি”
চিত্রা বিছানা থেকে নিজের পার্স ব্যাগটা নিয়ে মিথিকে বলে রুম থেকে বেরিয়ে যায় । মিথিও চিত্রার পেছন পেছন আসে নিজের রুমে চলে যায় ৷ নিচে গিয়ে চিত্রা জাহানারা বেগম কে বাই জানিয়ে তারাহুরো করে বাইরে চলে যায় ।
আজকে পূজার বিয়ে । পূজা হচ্ছে একজন সনাতন ধর্মের মেয়ে । চিত্রা কখনো সনাতন ধর্মের মানুষের বিয়ে দেখেনি। তাই পূজার বিয়েটা নিয়ে তার অনেক আগে থেকেই বেশ আগ্রহ । পূজার সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকেই সে মাঝে মধ্যে পূজাকে বলতো- তার বিয়েতে সে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার পাশে বসে থেকে সবকিছু দেখবে । পূজা তখন চিত্রার কথায় হেঁসে দিতো । আর আজ সত্যি সত্যি পূজার বিয়ে ।
পূজা তার বিয়েতে শাওনকেও ইনভাইট করে । কারণ চিত্রার সাথে তার বন্ধুত্ব হওয়ার পর শাওনের সাথেও বেশ ভালোই সম্পর্ক গড়ে উঠে৷ আর তার থেকেও বড় কথা হলো তারা কোনো ধরনের বিপদে পরলেই শাওন তাদের সর্বদাই সাহায্য করে । শাওন চিত্রাকে যেমন সব বিপদ থেকে রক্ষা করতো, তেমনি পূজা আর ছোঁয়ার বিপদে আপদেও কোনোদিন পিছ-পা হতো না ।
চিত্রাদের বাড়ির গেটের সামনে শাওন কালো রঙের বিএমডব্লিউ গাড়িটা দাড় করিয়ে, গাড়ির দরজার সাথে হেলান দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বুকের উপর দুইহাত ভাজ করে গেটের দিকে তাকিয়ে আছে । পরনে তার এ্যাশ কালারের কোর্ট-প্যান্ট, কালো-সু, চোখে কালো সানগ্লাস আর হাতে একটা গোল্ডেন কালারের ঘড়ি । যাকে বলে একেবারে ফর্মাল লুক । পা থেকে মাথা অবদি পুরো শরীর জুড়েই আভিজাত্যের ছোয়া । তার মুখ দেখলেই যে কেউ বলে দিবে- কোনো রাজার ঘরে বেড়ে উঠা রাজপুত্র সে ।
এই লুকে মানুষটার পুরো মুখ জুড়ে অন্যরকম এক মাধুর্যতা কাজ করতেছে । চিত্রা শাওনের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে যায় ৷
চিত্রা মাঝে মাঝে ভাবে, এই মানুষটা এতো সুন্দর কেন? ছেলে মানুষদের বুঝি এতো সুন্দর হতে হয়? সৌন্দর্য তো মেয়েদের ভূশন! সেখানে এই ছেলে একাই পৃথিবীর সকল সৌন্দর্য নিয়ে বসে আছে । বিষয়টা কি মানা যায়?
চিত্রার কাছে এবার তার ভাবি মিথির বলা কথাটা ফিকে মনে হলো । তার মনে হলো বিয়ে বাড়িতে সবাই চিত্রার দিকে নয়, শাওনের দিকে তাকিয়ে থাকবে । কেননা- শাওনের সৌন্দর্যের কাছে চিত্রার তার নিজের সৌন্দর্যকে খুব সামান্যই মনে হলো ।
গাড়িতে হেলান দিয়ে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে চিত্রাদের গেটের দিকে তাকিয়ে আছে শাওন । হঠাৎ চিত্রাকে শাড়ির কুঁচি গুলো হাত দিয়ে উঁচিয়ে ধরে গেট পেরিয়ে তার দিকে আসতে দেখলে সে সোজা হয়ে দাঁড়ায় । শাওন অপলক চিত্রার দিকে তাকিয়ে থাকে ৷ চিত্রার দিক থেকে কিছুতেই চোখ সরাতে পারে নাহ সে ।
অপরদিকে চিত্রাও শাওনের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসতেছে । চিত্রা যখন একেবারে শাওনের সামনে এসে দাড়ায় তখন শাওনের হুস ফিরে । সে চোখ থেকে কালো সানগ্লাসটা খুলে নেয় । আর চিত্রার দিকে কিছুক্ষণ ভ্রু-জোড়া কুঁচকে তাকিয়ে থাকে । তার মনে হচ্ছে চিত্রার সাজের মধ্যে কোথাও একটা কমতি আছে । আর সেই কমতিটা কি সেটাই শাওন চিত্রার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেছে ।
কিছুক্ষণের মধ্যে শাওন তার কাজে সফল হলে একটা বিশ্বজয়ের হাসি দেয় । তারপর চিত্রার থেকে চোখ সরিয়ে গাড়ির দরজাটা খুলে দেয় । চিত্রা গিয়ে গাড়িতে বসে পরলে শাওন দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে, নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ে ।
বরাবরের মতোই চিত্রার সিটবেল্ট টা ঠিকমতো লাগিয়ে দেয় । আর নিজের সিটে বসে সিটবেল্ট লাগিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করে ।
বেশ কিছুক্ষণ পর শাওন একটা ফুলের দোকানের সামনে গাড়িটা দাড় করায় আর গাড়ি থেকে নেমে যায় ।
তারপর কিছুক্ষণ পর দুটো লাল এবং একটা সাদা গোলাপ সাথে একটা তাজা বেলি ফুলের মালা আর একটা কালো টিপের পাতা নিয়ে গাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ।
শাওন চিত্রার কাছে এগিয়ে গিয়ে, গোলাপ ফুল তিনটা তার খোঁপার ভাজে গুজে দেয় । বেলি ফুলের মালাটা চিত্রার ডানহাতে পেচিয়ে দেয় । আর কালো ছোট্ট টিপটা চিত্রার কপালের মাঝ বরাবর পরিয়ে দেয় ।
বেশ কিছুক্ষণ চিত্রার দিকে তাকিয়ে থেকে এক আমায়িক তৃপ্তির হাসি হেসে বলে উঠে,
-এবার একেবারে পারফেক্ট লাগতেছে । এতোক্ষণ ধরে শুধু এটারই কমতি ছিল । ”
চিত্রা শাওনের দিকে মুগ্ধতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে । আর তার মাথায় এসে বারবার বাড়ি খায় একটাই কথা- মানুষটা যেমন নিখুঁত, তেমনি তার করা প্রতিটা কাজও নিখুত । ”
শাওন এবার তার মুখটা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে চিত্রার কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় ৷ মিষ্টি স্বরে বলে,
-শাড়িতে তোকে অনেক সুন্দর লাগতেছে প্রিয় বেগম । একেবারে বউ বউ । শাওনের বউ । ”
চিত্রা ভেবেছিল শাড়ি পরার জন্য শাওন হয়তো তাকে গালি দিবে । কিন্তু না ! শাওন তাকে গালি না দিয়ে উল্টো প্রশংসা করলো । যার কারণে চিত্রা কিছুটা অবাক হলেও মনে মনে বেশ খুশি হলো । কিন্তু শাওনের মুখে শাওনের বউ কথাটা শুনে বেশ লজ্জা পেলো । লজ্জায় শাওনের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিলো ।
অপরদিকে শাওন চিত্রার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসতে হাসতে আবারও গাড়ি চালানোতে মনোযোগ দিলো ।
বেশ কিছুক্ষণ পর তারা পূজাদের বাসায় এসে পৌছালো । পূজাদের দো-তলা বিশিষ্ট বাড়িটাতে পুরনো দিনের ছাপ । বাড়ির দেওয়ালের খাজে খাজে করা প্রত্যেকটা নকশা জানান দিচ্ছে- এই দোতলা বিশিষ্ট বাড়িটা বহু আগে থেকে এখানে এখনো অখ্যত অবস্থায় বুক উঁচু করে দাড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে ধরে আছে ।
ডেকোরেটর দিয়ে বাড়ির আশপাশটা বেশ সুন্দর করেই সাজিয়েছে । তবুও- এই বাড়িটার সৌন্দর্যের কাছে চারিপাশের কৃতিম সাজগোছ গুলোকে যৎসামান্য মনে হচ্ছে ।
চিত্রা আর শাওন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে । বাড়ির ভেতরে থেকে শুরু করে বাইরে পর্যন্ত সবখানেই বহু মানুষের আনাগোনা ।
চিত্রা বাড়ির ভেতরের চারপাশে চোখ বুলায় । ভেতরেও সবকিছুর মধ্যে একটা ৯০-দশকের ছাপ । দেওয়ালে টাঙানো সেই পুরোনো দিনের পেইন্টিং, উপরে উঠা সিঁড়ির দুইপাশে পুরোনো দিনের দুটো বড় বড় ফুলদানি, সিঁড়ির হাতল জুড়ে পুরোনো দিনের মডেলের ছাপ, ড্রয়িং রুমের মাঝ বরাবর পুরোনো দিনের পিতলের সোফা সেট আর একটা ছোট্ট টি টেবিল । তবে সবকিছুর মধ্যেই অন্যরকম একটা স্নিগ্ধতা লুকিয়ে আছে ৷ পূজা একবার কথায় কথায় চিত্রা এবং ছোঁয়াকে বলেছিল, তারা জমিদারের বংশ । আজ চিত্রা তার প্রমান পেয়ে গেলো ।
পূজাদের বাড়ির প্রত্যেকটা জিনিস অনেক পুরোনো কিন্তু অনেক সুন্দর আর বেশ দামী । আর এখন এসব বিলুপ্ত প্রায় ৷ হয়তো টাকা দিয়েও আর এমন জিনিস কিনতে পাওয়া যাবে নাহ । কেননা এখনকার দিনে মানুষ এগুলো আর পাবে কোথায় যে কিনবে ।
পূজা আর ছোঁয়া বাড়ির বিশাল আকৃতির ড্রয়িংরুমে মধ্যখানে রাখা পিতলের সোফাটার উপরে বসে ছবি তু্লতেছিল । ছোঁয়া কিছুক্ষণ আগেই এসেছে ৷ ছোঁয়াও আজকে শাড়ি পরেছে ।
বিয়ে বাড়িতে আসার আগেই চিত্রা আর ছোঁয়া যুক্তি করে নিয়েছিল, তারা পূজার বিয়েতে দুই বান্ধবী মিলে শাড়ি পরে যাবে । আর তাদের কথা মতো দুজনেই শাড়ি পরে হাজির ।
পূজা ছবি তুলতে তুলতে চিত্রা আর শাওনকে দেখতে পেলে, সোফা থেকে উঠে চিত্রার কাছে এগিয়ে আসে । সাথে সাথে পূজার পিছু পিছু ছোঁয়াও আসে । পূজা শাওনকে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে চিত্রাকে আলগা হাতে জরিয়ে ধরে । মিষ্টি হেঁসে বলে উঠে,
-তোকে তো শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগতেছে চিত্রা ৷”
চিত্রা আগলা হাতে পূজার পিঠে হাত রেখে বলে,
-আমার থেকে তোকে এই লাল টুকটুকে বেনারসিতে অসম্ভব সুন্দর লাগতেছে । একেবারে বউ বউ পুতুলের মতো । ”
চিত্রার কথায় মুচকি হাসে পূজা । লজ্জায় তার গাল দুটো লাল হয়ে যায় ।
ছোঁয়া চিত্রা আর পূজার হাত ধরে টানতে টানতে তিন বান্ধবী মিলে স্মৃতি স্বরূপ কিছু ছবি তুলার জন্য নিয়ে যায় । আর যাওয়ার আগে শাওনকেও ছবি তুলার জন্য আসতে বলে । শাওন এগিয়ে যায় ঠিকই কিন্তু ছবি তুলে নাহ । সে তাদের থেকে কিছুটা দূরে দাড়িয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে । শাওন লক্ষ করে কয়েকটা মেয়ে বারবার শুধু তার আশপাশ দিয়ে ঘুরঘুর করতেছে, আর মাঝে মধ্যে খিলখিল করে হাসতে হাসতে তার সামনে দিয়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছে । শাওনের মাথায় কিছুই ঢুকে না । কিন্তু মেয়ে গুলোর বারবার একই কাজ করাতে শাওন খুব বিরক্ত হয় ৷
পূজাকে হলুদ মাখানো থেকে শুরু করে বউ সাজানো সবকিছু কমপ্লিট । এখন শুধু বর আসার পালা ।
লাল টুকটুকে বেনারসি, হাতে শাখা-পলা, কপাল জুড়ে লাল টিপের সাথে দুই ভ্রুর উপর দিয়ে গাল পর্যন্ত কলকা করা । মাথার উপর সুন্দর একটা সাদা মূকুট ৷ গা-ভর্তি গয়না, মাথায় টিকলি সাথে নাকে একটা বড় নথ কান বেয়ে ঝুলানো । পায়ে লাল টকটকে পায়ের আলতা । সবমিলিয়ে তাকে একেবারে লক্ষ্মী প্রতিমার মতোই সুন্দর লাগতেছে ।
পূজাদের ছবি তোলার পর্ব শেষ হলে- চিত্রা, শাওন আর ছোঁয়া মিলে খেতে যায় । পূজাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে সে জানায়, তাদের নাকি বিয়ের দিন খাওয়ার নিয়ম নেই । তাই তারাও আর জোর করে নাহ ।
তাদের খাওয়ার মাঝেই বর এসে উপস্থিত হলে, চারপাশে বর এসেছে বর এসেছে আওয়াজে রম-রমিয়ে উঠে পুরো বিয়ে বাড়ি ।
খাওয়া দাওয়া শেষ হলে, বরের জন্য সাজানো স্টেজের দিকটায় আসে চিত্রা শাওন আর ছোঁয়া । বরের স্টেজের সামনে একটা সুন্দর করে বিয়ের মন্ডপ সাজানো হয়েছে ৷ আর তার পাশেই কিছু ছেলে মেয়ে গানের তালে তালে নাচানাচি শুরু করেছে ৷
চিত্রা আর ছোঁয়া গিয়ে পূজার কাজিন বোনদের পাশে বসে আর ছেলে-মেয়েদের নাচ দেখতে থাকে ৷ যারা নাচতেছে তারা হলো সবাই বরপক্ষের ।
হঠাৎ নাচের মধ্য থেকে দুটো ছেলে চিত্রাদের কাছে এগিয়ে আসে ৷ আর তাদের সাথে সবাই কে নাচে জয়েন করার জন্য বলে । ছোঁয়া তো মনে মনে এটার অপেক্ষাতেই ছিল ৷ সে হাসতে হাসতে নাচতে চলে যায় । আর তার সাথে সাথে পূজার কাজিনরাও নাচতে চলে যায় । শুধু একাই বসে থাকে চিত্রা । সে যায় না ।
একটা লম্বা চওড়া বেশ সুদর্শন ছেলে চিত্রার কাছে এগিয়ে যায় । মুখে অমায়িক হাসি ফুটিয়ে তুলে বলে উঠে,
-মিস. আপনিও আসুন না ! আমাদের সাথে জয়েন করুন । ”
চিত্রা নাচক করে ঠোঁটের কোণে সৌজন্যতার হাসি ধরে রেখে বলে,
-না ভাইয়া ! আমি এসবে কমফোর্টেবল নাহ । ”
ছেলেটি আবারও ঠোঁটের কোণে হাসি ধরে রেখেই বলে উঠে,
-আরে চলুন নাহ! দেখুন সবাই কতো ইনজয় করতেছে । আপনিও আসুন ভালো লাগবে । ”
চিত্রা এবার কিছুটা বিরক্ত প্রকাশ করে । বিরক্তে তার চোখ মুখ কুঁচকে আসে । তবুও সে মুখের মধ্যে সৌজন্যতার হাসি ধরে রেখেই বলে,
-না ভাইয়া, মাপ করবেন ! আপনি যান না, ইনজয় করুন । ”
ছেলেটি হার মানে না । চিত্রাকে নাচতে নিয়ে যেতেই হবে, এমনি যেন একটা পণ করে এসেছে সে । ছেলেটি চিত্রার আরেকটু কাছে এগিয়ে গিয়ে চিত্রার হাত ধরতে উদ্যত হতেই শাওন ছো মেরে ছেলেটার বাড়ানো হাতটা ধরে নেয় ।
শাওন এতোক্ষণ থেকে চিত্রার পেছনে বসে ফোনে মুখ গুঁজে আড়চোখে তাদেরকে লক্ষ করতেছিল ।
শাওন ছেলেটার হাতটা ধরে রেখেই বাঁকা হেসে তার সামনে গিয়ে দাড়ায় । ঠান্ডা কিন্তু গম্ভীর গলায় দাপটের সঙ্গে বলে উঠে,
-আপনি ভুল জায়গায় আপনার হাতটা বাড়াচ্ছেন মিস্টার । এটা কিন্তু একদম ঠিক নাহ ! ”
ছেলেটা কপাল কুঁচকে শাওনের মুখের দিকে তাকায় । তার মুখে থাকা কিছুক্ষণ আগের সকল উৎসাহ মুহুর্তেই গায়েব হয়ে যায় । সে প্রশ্নাত্নক চাহনিতেই শাওনের দিকে তাকিয়ে থাকে ।
শাওন ছেলেটার দিকে তাকিয়ে মুখের মধ্যে বাঁকা হাসির রেখাটা ধরে রেখেই বলে উঠে,
-ড্যান্স করতে চান আপনি, তাই নাহ ? চলুন আমি আপনার সাথে ডান্সের সঙ্গ দিব । ” বলে ছেলেটাকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই শাওন ছেলেটার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখে টানতে টানতে সবার মাঝে নিয়ে যায় ।
ছেলেটার দুই-হাতের ভাজে নিজের হাত রেখে একবার এদিক তো একবার ওদিক করে নাচের প্রথম স্টেপ ফলো করে । তারপর ছেলেটার একহাত ধরে ঘুরিয়ে, কাধে হাত রেখে পা গুলো একবার সামনে তো একবার পিছনে করে নাচের দ্বিতীয় স্টেপটা ফলো করে ।
ছেলেটার মুখটা একেবারে চুপসে গেছে । তার গাল আর গলা বেয়ে ঘামের ফোটা গুলো গরিয়ে পরতেছে । বারবার শুকনো ঢোক গিলতেছে ।
শাওনের ঠোঁটের কোণে সেই আগের মতো বাকা হাসি । চিত্রার তো রীতিমতো চোখ জোড়া বেরিয়ে আসার উপক্রম । সে বড়বড় চোখে শাওন আর ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে । আশেপাশের বেশ কিছু উৎসূচক চাহনিও শাওন আর ছেলেটার দিকে ।
শাওন এবার নাচের তৃতীয় নাম্বার স্টেপটা ফলো করে- ছেলেটার কোমর ধরে তার কাছে টেনে আনে । আর কানের কাছে মুখ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ক্রোধের স্বরে হুমকি ছাড়ে,
-একটু আগে যেই কাজটা করতে যাচ্ছিলি, দ্বিতীয়বার এমন কাজ করার কথা ভুলেও ভাবিস নাহ । তোর ভাগ্য ভালো যে তুই ওকে ছুয়ে দিসনি । নয়তো এতোক্ষণ তোর ওই হাতটা আর হাত থাকতো নাহ ।” বলে ছেলেটার ডান হাতটা শক্ত করে চেপে মুচড়িয়ে ধরে শাওন। ছেলেটা ব্যাথায় ককিয়ে উঠে । কিন্তু কোনো আওয়াজ করে নাহ । শাওনের ঠান্ডা স্বরের ধমকেই তার ভিতর কেঁপে উঠে ৷ চোখ মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ ফুটে উঠে ৷ এমন কিছু হবে সে হয়তো আগে একটাবারের জন্যও ভাবেনি ।
শাওন আবারও শক্ত গলায় ছেলেটার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে উঠে,
-আবরার শাওন চৌধুরীর ১৪-বছর আগের বিয়ে করা বউ সে ৷ হাত লাগানো তো দূরের কথা, চোখ তুলেও ওর দিকে তাকাবি নাহ । কথাটা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নেয় । আর সাথে তোর সাথে আসা প্রতিটা ছেলের মাথাতেও ভালো করে ঢুকিয়ে দিস । নয়তো জান নিয়ে বাসায় ফেরত যেতে পারবি নাহ । ” বলে শাওন ছেলেটাকে ধাক্কা মেরে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দেয় । তাল সামলাতে না পেরে ছেলেটা দুপা পিছিয়ে যায় ৷ হাঁপাতে থাকে । ভয়ে তার পুরো মুখ চুপসে আছে । ছেলেটা আর একমুহূর্ত সেখানে না থেকে ভিড় ঠেলে বাইরে বেরিয়ে যায় ।
শাওন মুচকি হেসে আবারও চিত্রার পাশে গিয়ে বসে । চিত্রা শাওনের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসতে হাসতে বলে উঠে,
-আপনি তো ভালোই নাচতে পারেন । ”
চিত্রার কথার বিনিময়ে শাওন চিত্রার দিকে তাকিয়ে হেঁসে দেয় । হাত বাড়িয়ে চিত্রার শাড়ির আঁচল টেনে কপালে জমে থাকা ঘাম গুলো মুছে নেয় । আর সামনের দিকে দুই পা প্রসারিত করে চেয়ারে গা এলিয়ে দেয় । উপরের দিকে মুখ করে চিত্রার শাড়ির আঁচলটা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে । আশেপাশের সবাই তাদের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে । কিন্তু শাওনের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই ।
চিত্রা নিজের শাড়ির আঁচলটা টেনে নিতে চাইলে শাওন সেটা একহাতে নিজের মুখের সাথে চেপে ধরে ৷ আর ক্ষীণ স্বরে বলে,
-থাকুক এভাবেই ! ”
চিত্রা এবার সামনের দিক থেকে চোখ সরিয়ে শাওনের দিকে তাকায় ৷ আর জিজ্ঞাসূক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আগ্রহ নিয়ে বলে,
-আপনি এতোক্ষণ ধরে ছেলেটার কানের কাছে মুখ নিয়ে কি বলছিলেন ? ”
চিত্রার শাড়ির আঁচলের আড়ালেই শাওন হেঁসে দেয় ৷ আর কৌতুক করে বলে,
-ছেলেটার রূপের প্রসংশা করছিলাম। ”
চিত্রা অবাক চোখে শাওনের দিকে তাকিয়ে থেকে, অবাক স্বরেই বলে,
-আপনি কি তাহলে….”
চিত্রাকে তার কথাটা সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে শাওন তরিঘরি করে দাড়িয়ে চিত্রার মুখ চেপে ধরে ।
চোখ-মুখ কুচকে উঁচু আওয়াজে বলে উঠে,
-ওসব বাজে শব্দ একদম আমার উপর ইউজ করবি নাহ । আমি মোটেও ওসব না । ”
চিত্রা শাওনের দিকে বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে । শাওন তখনো চিত্রার মুখ চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে । আর চিত্রার মাথাটা তার কোমর বরাবর হয়ে আছে । চিত্রা উ’মমম শব্দ করলে শাওন চিত্রার দিকে তাকায় । হারিয়ে যায় চিত্রার মায়াবী চোখের গভীরে ৷ মস্তিষ্কে এসে ভর করে কিছু অবাদ্ধ ইচ্ছারা । মুহুর্তেই শাওনের চোখে মুখে ভর করে কামুক বাসনারা ।
শাওন বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর চিত্রার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নেয় । আর কানের কাছে মুখ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ঘোড় লাগানো গলায় ফিসফিস করে বলে,
-ক’লিজা তোকে কি’স করতে চাই । এক্ষুনি মানে এক্ষুনি ৷ এখান থেকে বাইরে চল প্লিজ । ”
শাওনের কথায় চিত্রা পুরো আহাম্মক বনে গেলো। সে বুঝলো না এই ছেলের মাথায় কখন কি চলে ।
কথা বলার মাঝে কেমনে কি'স করার ইচ্ছা জাগে ভাই ৷ এ কোন লেবেলের পাগল?
চিত্রা আহাম্মকের মতো শাওনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । শাওন আবারও ঘোড় লাগানো গলায় বলে উঠে,
-কি হলো বাইরে যাবি ? নাকি এখানেই সবার সামনে করবো ? ”
চিত্রা এবার থতমত খেয়ে যায় । একটা শুকনো ঢোক গিলে, মিনমিনিয়ে আওয়াজে বলে,
-আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন ? এতো এতো মানুষের সামনে এসব কি বলতেছেন । ”
শাওনের ডোন্ট কেয়ার ভাব । সে দুইহাত প্যান্টের পকেটে পুরে স্ট্রীট দাড়িয়ে বলে উঠে,
-এই জন্য তো বললাম বাইরে চল । ”
চিত্রা চারপাশে তাকিয়ে লজ্জায় আর অসস্তিতে উসখুস করতে থাকলে শাওন আবারও হাস্কিস্বরে বলে উঠে,
-কি হলো চল তারাতাড়ি ৷ আমার আর তর সইছে নাহ । নাহলে কিন্তু এখানেই শুরু করে দিব । ”
চিত্রা পড়লো মহা বিপদে । এই ছেলেটা বরাবরই চিত্রাকে এমন এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়, যা থেকে চিত্রা বেড়োতেও পারে আবার থাকতেও পারে নাহ । পরে আবার কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে বাধ্য হয়েই মেনে নিতে হয় ।
শাওন এবার চিত্রার একহাত ধরে চিত্রাকে টেনে তুলে, টানতে টানতে বাইরে নিয়ে আসে ।
বিয়ে বাড়ির সব জায়গাতেই লোকের আনাগোনা । শাওন চিত্রাকে টেনে তাদের পার্ক করা গাড়ির কাছে নিয়ে আসে । এদিকটায় কোনো মানুষ নেই। কয়েকটা গাড়ি পার্ক করা ছাড়া একেবারে ফাকা বলা যায় । শাওন গাড়ির পেছনের দরজা খুলে চিত্রাকে নিয়ে পেছনে বসে পরে । কিছুক্ষণ চিত্রার দিকে নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে- চিত্রা শাড়ির ভাঁজের মধ্য দিয়ে কোমর জুড়ে উদরে হাত রাখে । কেঁপে উঠে চিত্রা ৷ শাওন কিছুক্ষণ চিত্রার দিকে তাকিয়ে থেকে চিত্রার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায় ৷ বেশ কিছুক্ষণ পর চিত্রাকে ছেড়ে দিয়ে মাথাটা ঝুঁকে চিত্রার বের হয়ে থাকা উন্মুক্ত কোমড়ে একটা গাড় চু'মু খায় । চিত্রার পুরো শরীর হু হু করে কেঁপে উঠে৷ শাওন সিটের মধ্যে গা এলিয়ে বসে চিত্রাকে তার বুকের মধ্যে চেপে ধরে । আর ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে বলে উঠে,
-আ'হহ শান্তি ! ”
চিত্রা শাওনের বুকে মুখ গুঁজে লজ্জায় চোখ জোড়া বন্ধ করে রাখে । শাওন কিছুক্ষণ চিত্রাকে তার বুকের মধ্যে জরিয়ে ধরে থাকার পর নরম স্বরে বলে,
-প্রিয় বেগম, চলেন এবার বাইরে যাওয়া যাক ।”
চিত্রা কিচ্ছু আওয়াজ করে না । শাওন তাকে ছেড়ে দিয়ে বাইরে বের হলে চিত্রাও নীরবে শাওনের পিছু পিছু গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে ।
শাওন চিত্রার হাত ধরে আবারও বিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় ।
.
তখন রাত ২টা বাজে । পূজার বিয়ে কমপ্লিট হলে শাওন আর চিত্রা সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি আসার জন্য রওনা হয় । চিত্রা তার কথা মতো শুরু থেকে শেষ অব্দি বসে বসে পূজার সম্পূর্ণ বিয়েটা দেখেছে । বেশ ভালো লেগেছে তার ।
বিয়ে শেষে এতো রাতে তারা বাড়ি আসতে চাইলে, ছোঁয়া, পূজাসহ পূজার বাবা মা সবাই তাদেরকে নিষেধ করে । কিন্তু শাওন সবাই কে বিনয়ের সাথে না করে দেয় । আর জানায় কাল সকালে তার অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে তাই চাইলেও সে এখানে থাকতে পারবে না । তাই পরে আর কেউ তাদেরকে মানা করে না । অবশ্য চিত্রা যদি পূজার বিয়ে দেখার জন্য জেদ না করতো, তাহলে হয়তো অনেক আগেই তারা বাসায় চলে যেতো ৷
.
চিত্রাদের বাসায় আসতে আসতে প্রায় রাত ৩টা বেজে যায় ৷ চিত্রা তখন গাড়ির মধ্যে শাওনের বুকে মাথা রেখে গভীর ঘুমে বিভোর । শাওন গাড়িটা থামিয়ে চিত্রার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয় । আর চিত্রাকে পাঁজা কোলে তুলে বাড়ির উদ্দেশ্য হাটা ধরে । চিত্রা ঘুমের মধ্যেই শাওনের গলা আকড়ে ধরে । শাওন চিত্রাদের বাড়ির কলিং বেলে পরপর তিনবার চাপ দিলে ঘুমঘুম চোখে ময়নামতি এসে দরজাটা খুলে দেয় । দরজার সামনে শাওন আর চিত্রাকে দেখলে ময়নামতি রাস্তা থেকে সরে যায় ।
শাওন নীরবে উপরের দিকে হাঁটা ধরে ।
চিত্রার রুমে আসে চিত্রাকে বিছানার মধ্যে আলতো হাতে শুইয়ে দে শাওন । চিত্রাকে শুইয়ে দিয়ে তার কাছ থেকে সরে আসতে নিলে ঘুমের ঘোরেই চিত্রা শাওনকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে অস্পষ্ট স্বরে বলে,
-যাবেন না প্লিজ ৷ আমার কাছেই থাকুন। ”
চিত্রা শাওনকে শক্ত করে জরিয়ে ধরার কারনে শাওনের শরীর কিছুটা চিত্রার শরীরের উপর চেপে বসে । শাওন চাইলেও উঠতে পারে না । যার কারণে সে দুইহাতের উপর ভর করে চিত্রার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । চিত্রা আবারও ঘুমঘুম গলায় অস্ফুটস্বরে বলে উঠে,
-আমাকে ছেড়ে আপনি যাবেন না প্লিজ । আপনি আমার কাছেই থাকুন । আপনাকে ছাড়া আমার আজকাল কিচ্ছু ভালো লাগে নাহ ৷ ঠিকমতো ঘুমও পায় নাহ৷ আপনি থাকুন ! আমার কাছে থাকুন… ”
আস্তে আস্তে চিত্রার কথা গুলো তার ঠোঁটের মধ্যেই মিলিয়ে যায় । শাওন চিত্রার ঘুম জড়ানো কন্ঠের কথা শুনে নীরবে হেসে দেয় । কারন সে জানে- ঘুমের ঘোরে চিত্রা যে কথা গুলো বলতেছে, হুস থাকা অবস্থায় সেই কথা গুলো চিত্রা কখনোই শাওনকে সামনা-সামনি বলতে পারবে নাহ ।
শাওন এবার চিত্রাকে তার বুকের মধ্যে উঠিয়ে দুইহাতের বন্ধনে আবদ্ধ করে নেয় । চিত্রাও ঘুমের মধ্যেই শাওনকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে তার বুকে মুখ গুঁজে শান্তির ঘুম ঘুমাতে থাকে ।
আর এদিকে শাওন প্রশান্তির হাসি হেসে নিজের মনে আওড়াতে থাকে- “খুব শীঘ্রই তোর সকল চাওয়া গুলো পূরণ করবো প্রিয় বেগম । খুব শীঘ্রই তুই আমার বুকে মাথা রেখে শান্তির ঘুম ঘুমাবি ৷ ”
শাওন চিত্রার দিকে তাকিয়ে আপন মনে ভাবতে থাকে- খুব তারাতাড়ি বাসায় বলে এর একটা ব্যবস্থা নিতে হবে । আর কোনো অপেক্ষা নয় । এবার সব অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হবে ।
কেননা চিত্রার থেকেও যে করুন দশা শাওনের । সারাদিনটা ব্যস্ততার মধ্যে কাটিয়ে দিলেও, চিত্রা বিনা যে তার একটা রাত পুরো একযুগের সমান লাগে । এই বেদনা সে কাকে বলে বুঝাবে ।’
বেশ কিছুক্ষণ পর চিত্রার ঘুম গভীর হলে শাওন আলতো হাতে চিত্রাকে বিছানার মধ্যে শুইয়ে দেয় । মুখের উপরে পরে থাকা চিত্রার চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায় । আর চিত্রার গায়ে পাতলা চাদরটা টেনে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে চৌধুরী ম্যানশনের উদ্দেশ্য রওনা হয় ।
.
চলবে…
❝মন মেজাজ ভালো না থাকার কারণে আজকের পর্বটা লিখতে খুব বেশি বিরক্ত লাগতেছিল। প্রথমে ভাবছিলাম গল্পটা আজকে দিব না । কিন্তু পরে আপনাদের কথা ভেবে লিখে ফেললাম ৷
কি লিখছি জানি না । তবে- পর্বটা যে খুব বেশি অগোছালো ভাবে লিখছি তা খুব ভালো করেই বুঝতে পারতেছি ৷ আপনারা একটু দয়াকরে নিজ দায়িত্বে গুছিয়ে পড়ে নিবেন ।❞
⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️
🚫🚫 গল্পটা শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক আর মুক্তমানদের জন্য উন্মুক্ত । গল্পে ধীরে ধীরে রোমান্টিকতার বিষয়টা একটু বেশি আর গভীর হবে । তাই যাদের এসব পচ্ছন্দ নয়, তারা দয়াকরে এড়িয়ে চলবেন। 🚫🚫
“রি-চেইক দেওয়া হয়নি ! ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ”