ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার শুধু তোকে লাগবে

১৭তম পর্ব

লেখক: রুদ্র রায়

🚫ডার্ক রোমান্স🚫

#আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে

লেখা: #রুদ্র_রায়_রূপায়ন

পর্ব সংখ্যা - ১৭

.

⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️

ভার্সিটির ক্লাসের পর্ব চুকিয়ে ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে আসে চিত্রা আর ছোঁয়া । আজকে শুধু দুটো ক্লাস হয়েছে তাদের । ভার্সিটিতে জুনিয়ররা ভর্তি হওয়ার কারণে আজ নয়তো কাল, কাল নয়তো পরশু একটা না একটা অনুষ্ঠান লেগেই আছে । নবীনদের বিচরণে বর্তমানে পুরো ভার্সিটির ক্যাম্পাস জুড়ে একটা রমরমা পরিবেশ বিরাজমান ।

আর চিত্রারাও যেহেতু প্রথমবর্ষ থেকে দ্বিতীয়বর্ষে মাত্র পর্দাপন করলো, সেই সুবাদে পুরোদমে এখনো সেরকম ভাবে তাদের ক্লাস বা এ্যাসাইনমেন্ট কোনোটাই শুরু হয়নি । হয়তো আর কিছুদিনের মধ্যেই সবকিছু পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে ।

পূজা আজকে ভার্সিটি আসেনি । বিয়ে হওয়ার পর মেয়েটা প্রায় ক্লাস মিস দিচ্ছে । এটাই হয়তো স্বাভাবিক । নতুন নতুর স্বামী সংসার গুছিয়ে নিতে হয়তো একটু সময় লাগবেই ৷ তারউপর আবার নতুন বাড়িতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ারও তো একটা বিষয় আছে ।

চিত্রা আর ছোঁয়া গল্প করতে করতে ভার্সিটির গেটের সামনে আসে । চিত্রা ক্লাস শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই তার ভাই কবিরকে মেসেজ করে বলেছিল- তাকে নিতে আসার জন্য ।

চিত্রা আর ছোঁয়া গেটের সামনে আসলে দেখতে পায়, শাওন গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । শাওনকে দেখে চিত্রার ভ্রু-জোড়া কুঁচকে যায় । আশেপাশে চোখ বুলিয়ে দেখে কবির আসেনি ।

শাওন ছোঁয়ার দিকে একপলক তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাঁসি উপহার দিয়ে চিত্রার কাছে এগিয়ে আসে । চিত্রার কাঁধ থেকে ব্যাগটা নিয়ে নিজের কাঁধে নেয় । আর একহাতে চিত্রার বাহু আঁকড়ে ধরে গাড়ির দিকে হাঁটা ধরে । চিত্রা তড়িঘড়ি করে শাওনের কাছ থেকে সরে যেতে চাইলে, শাওন শক্ত করে চিত্রার বাহু আঁকড়ে ধরে ৷ ছোঁয়া অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে চিত্রা আর শাওনের দিকে ৷ শুধু ছোঁয়া একাই নাহ । আশপাশের ব্যস্ত পথচারী সহ সকলেই একপ্রকার বড়বড় চোখ করে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে ।

চিত্রা চারিপাশে চোখ বুলিয়ে এতো মানুষের উৎসূচক চাহনি দেখে অসস্তিবোধ করে । সাথে পুরো মুখশ্রী জুড়ে লজ্জারা আনাগোনা শুরু করে ।

শাওন চিত্রাকে গাড়ির কাছে নিয়ে গিয়ে গাড়ির দরজাটা খুলে বলে উঠে,

-গাড়িতে উঠ । ”

চিত্রা শাওনের দিকে তাকিয়ে ফিচেল গলায় বলে,

-ভাইয়া আমাকে নিতে আসবে । ”

শাওন কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে গাড়ির পেছনের সিটে রাখে । স্বাভাবিক স্বরেই বলে,

-কবির ভাই তোকে নিতে আসতে পারবে নাহ বলেই তো আমি আসলাম । ”

চিত্রা শাওনের দিকে প্রশ্নাত্নক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

-ভাইয়া কেন আসতে পারবে না ? ”

শাওন খুলে রাখা গাড়ির দরজাটার উপর একহাত রেখে তাতে ভর দিয়ে, চিত্রার দিকে সামান্য ঝুঁকে বলে উঠে,

-কবির ভাই এখন আমাদের বাসায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত । তাই আসতে পারবে নাহ । ”

চিত্রা কিছুটা অবাক হয় । কবির তাকে নিতে না আসে, শাওনদের বাসায় গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত ! কিন্তু কি সেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা? কবির তো কখনোই তার কাজে খেয়ালিপনা করে নাহ ! তবে কি আসলেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত তার ভাই ? চিত্রার মাথায় কিছুই ঢুকে না ।

চিত্রা আবারও শাওনের দিকে প্রশ্নাত্নক চাহনিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

-ভাইয়া কেন আপনাদের বাসায় গেছে ? আর কিসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ? ”

শাওন এবার ভরাট গলায় বলে,

-শুধু কবির ভাই নয় ! তোদের পুরো পরিবার মানে- ফুপি, ফুপা, মিথি সবাই এখন আমাদের বাসায় । আর তোকেও এখন আমার সাথে আমাদের বাসাতেই যেতে হবে । ”

চিত্রা বোকার মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে ৷ তার মাথায় ঘুরতেছে- হঠাৎ করে তাদের পুরো পরিবার শাওনদের বাসায় গেলো কেন ? কখনো তো এমন ঘটা করে পুরো পরিবার একসাথে শাওনদের বাসায় যায় নাহ । তবে আজ কেন ?

চিত্রা চুপচাপ বোকার মতো তাকিয়ে থাকলে শাওন তার মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলে উঠে,

-হ্যালো মেডাম ! আপনার ভাবনা চিন্তা শেষ হলে এবার দয়াকরে গাড়িতে উঠুন । ”

শাওনের কথায় চিত্রা নিজেকে সামলে স্বাভাবিক হয়ে, গাড়িতে উঠে বসে । শাওন দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে নিজেও গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ে ।

চিত্রার এবং নিজের সিটবেল্ট লাগিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করে ।

চিত্রারা চলে গেলে ছোঁয়াও একটা রিক্সা ডেকে উঠে পরে আর বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয় । সাথে সাথে উৎসূচক চাহনিতে তাকিয়ে থাকা পথচারীরা আবারও নিজেদের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ে ।

শাওন গাড়ি চালাচ্ছে আর থেকে-থেকে আঁড়চোখে চিত্রার দিকে তাকাচ্ছে । মেয়েটা সামনের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে ভাবনার জগতে বিভোর হয়ে আছে । কোনো কথাবার্তা নেই, নড়াচরা নেই ৷ একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে সামনে দিকে অপলক তাকিয়ে আছে । চোখের ফাতাটা পর্যন্ত ফেলতেছে নাহ ৷

শাওন চিত্রার দিকে একপলক তাকায় ৷ ড্রাইভিং-এ মনোযোগ রেখে বলে,

-তখন থেকে এতো কি ভাবছিস বল তো? ”

চিত্রার ভাবনার জগতে বিচ্ছেদ ঘটে । সে শাওনের দিকে গভীর চোখে তাকায় । আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

-আব্বু আম্মুরা হঠাৎ করে সবাই কেন আপনাদের বাসায় গেছে ? ”

শাওন চিত্রার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দেয় । চোখ জোড়া আবারও সামনের রাস্তার দিকে নিবদ্ধ করে রহস্যময়ী গলায় বলে,

- সেটা তো বাসায় গেলে নিজেই জানতে পারবি । ”

শাওনের কথায় চিত্রা সন্তুষ্ট হতে পারলো নাহ । তার মনের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রশ্নরা কিছুতেই তাকে চুপ থাকতে দিচ্ছে নাহ ।

সে এবার আবদারের সুর টেনে বলে উঠলো,

-বলুন না ! আব্বু আম্মুরা কেন গেছে আপনাদের বাসায় ? আপনাদের বাসায় আজকে কি কোনো অনুষ্ঠান আছে ? ”

শাওন তার চোখ-জোড়া সোজা সামনের দিকে গাড়ির গ্লাস ভেদ করে রাস্তার মধ্যে রেখে গাড়ি চালানোতে মনোযোগ ক্ষুণ্ণ রাখে । আর কিছুটা ধমকের স্বরে বলে,

-এতো প্রশ্ন করিস কেন বল তো? বললাম তো বাসায় গেলে সব নিজেই জানতে পারবি । ”

চিত্রা এবার চুপসে যায় । শাওনের একটা ধমকেই তার সকল আগ্রহ গায়েব হয়ে যায় । সাথে তার কোমল মনে অভিমানেরা জন্মায় । চিত্রা শাওনের দিকে থেকে চোখ সরিয়ে গাড়ির জানালার পাশে মাথা ঘুরিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে । আর কোনো প্রশ্ন করে না সে ।

শাওন গাড়ি চালানোর ফাঁকে চিত্রার দিকে একপলক তাকিয়ে মুচকি হাসে ।

কিছুক্ষণের মধ্যে তারা চৌধুরী ম্যানশনে পৌছালে একজন কালো জামা পরিহিত মানুষ দৌড়ে এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয় । শাওন গাড়ি থেকে বেরিয়ে চিত্রার পাশের দরজাটা নিজেই খুলে দেয় । চিত্রা গাড়ি থেকে বের হলে, শাওন পেছনের দরজাটা খুলে চিত্রার ব্যাগটা নিয়ে বাড়ির ভেতরের দিকে হাঁটা ধরে । চিত্রাও শাওনের পেছন পেছন ধীরপায়ে হাঁটতে থাকে ।

চিত্রা চৌধুরী ম্যানশনের চৌকাঠ মাড়িয়ে ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই ইনায়া দৌড়ে আসে তাকে জরিয়ে ধরে খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠে,

-কংগ্রাচুলেশন আপু । তুমি খুব তারাতাড়ি আমাদের ভাবি হতো যাচ্ছো । আর মাত্র একটা সপ্তাহের অপেক্ষা । আমার যে কি আনন্দ হচ্ছে নাহ ! ”

ইনায়ার বলা কথা শুনে চিত্রা যেন তাজ্জব বনে গেলো । সে ড্রয়িং রুমে বসে থাকা সকলের দিকে তাকিয়ে পাশে থাকা শাওনের দিকে একপলক তাকালো । শাওন চিত্রার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসতে হাসতে তাকে পাশ কাটিয়ে ভিতরে চলে গেলো । এবার জন্নাত এসে চিত্রাকে একপাশ থেকে জরিয়ে ধরে বলে উঠে,

-আপু এখন তুমি আমাদের ভাবি হয়ে যাবা । আমি তো তোমাকে আজ থেকেই ভাবি ডাকা শুরু করে দিবো । ইসস আমার যে কি আনন্দ হচ্ছে নাহ ৷ ”

“ড্রয়িংরুমে যদি আয়াত উপস্থিত থাকতো- এতোক্ষণে হয়তো সেও চিত্রাকে জড়িয়ে ধরে তার আধোআধো গলাতে কত কিছুই না বলতো । কিন্তু আয়াত এখন ড্রয়িংরুমে নেই । হয়তো ঘুমিয়েছে ।

ইনায়া তার উচ্চ মাধ্যমিকের পরিক্ষার পর্ব চুকিয়ে এডমিশনের প্রস্তুতি নেয় । আর সে ঢাকা মেডিকেলে চান্স পায় । মেয়েটা অনেক বেশি মেধাবী আর পরিশ্রমী । পড়াশোনা নিয়ে তার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো খামখেয়ালী নেই । আর ঢাকা মেডিকেলে কলেজে পড়ার স্বপ্ন সে অনেক আগে থেকেই বুনে আসছিল । যা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ।

অপরদিকে জান্নাত দমশ শ্রেণিতে পর্দাপন করেছে । আগের থেকে তারও পড়ার চাপ বেশ বেড়েছে । দেখতে দেখতে হয়তো তারও সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলে আসবে । আর এদিকে ছোট্ট আয়াতও দিন দিন বেশ বড় হয়ে যাচ্ছে । ”

ইনায়া আর জান্নাত চিত্রাকে ছেড়ে দিয়ে, দুইপাশ থেকে চিত্রার দুই হাত দুইজন ধরে সোফার কাছে নিয়ে যায় । শাহনাজ চৌধুরী চিত্রার একহাত টেনে নিজের পাশে বসিয়ে দিয়ে মুচকি হেঁসে বলেন,

-আমার লক্ষ্মী আম্মুটা অবশেষে তাহলে আমার ছেলের বউ হয়ে আমাদের বাসায় আসতেছে, আমাদের পুরো চৌধুরী বাড়িটাকে আলোকিত করতে । ”

শাহনাজ চৌধুরীর কথায় চিত্রার মুখটা মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলো ৷ তার কান দুটো পরিমাণের তুলনায় বেশি লাল হয়ে রীতিমতো গরম ফুটতে শুরু করেছে । চিত্রা মাথাটা নিচু করে নিচের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । একহাতে সে নিজের ওরনাটা শক্ত করে খামচে ধরে রেখেছে ।

লজ্জায় সে কারো দিকেই একপলকের জন্যও তাকাতে পারতেছে নাহ । এখানে উপস্থিত চিত্রার আব্বু-আম্মু থেকে শুরু করে সবার মুখেই হাঁসি ।

শাওন একটা পানির পট হাতে নিয়ে আসে চিত্রার পাশে ফাঁকা জায়গাটাতে ধপ করে বসে পড়লো । তারপর পানির পটের ঢাকনাটা খুলে নিজের গলা ভিজিয়ে নিলো ।

শাওন চিত্রার পাশে বসার সাথে সাথে চিত্রার পুরো শরীর শিউরে কেঁপে উঠলো । শাওন বুঝতে পারলো চিত্রা লজ্জায় আর অসস্তিবোধে কাতর হয়ে আছে । সেজন্য সে চিত্রাকে কিছুটা আসস্ত করতে চিত্রার ওরনা শক্ত করে ধরে রাখা কাঁপা-কাঁপা হাতটা নিজের একহাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে নিলো ৷

বাড়ির বড়ড়া সবাই নিজেদের মতো বিয়ের আলাপ-আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত । বিয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সময়টা যেহেতু খুব কম, তাই তারা যা করার খুব তারাতাড়ি শুরু করে দিতে চায় ।

ইকবাল চৌধুরী একমাত্র ছেলের বিয়ে খুব ধুমধামের সহিত দিবেন বলে মনস্থির করেন । ছেলের বিয়েতে কোনো কিছুতে বিন্দুমাত্র কমতি রাখতে চান না তিনি ।

আর চিত্রা আর শাওনের বিয়েটা নিয়ে যেহেতু ইকবাল চৌধুরীর বাবার খুব স্বপ্ন বা ইচ্ছা ছিল- তাই ইকবাল চৌধুরী, ইরফান চৌধুরী আর জাহানারা বেগম তারা তিন ভাই-বোন মিলে ঠিক করেন, বিয়েটা কোনো কমিউনিটি সেন্টার থেকে দেওয়া হবে নাহ । বিয়েটা দেওয়া হবে এই চৌধুরী ম্যানশন থেকেই । সবাই একেবারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিয়ের সমস্ত আয়োজন করবে । আর এই বিষয়ে আমজাদ আহমেদও কোনো দ্বিমত পোষণ করেন নাহ । তিনি চৌধুরী পরিবাররের তিন সন্তানের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সাথে সম্মতি জানান ।

বিয়ের সময় যেহেতু তারা খুব কম মানে সাত দিন নিয়েছেন, তাই ইকবাল চৌধুরী পইপই করে বলে দিয়েছেন- আজকে থেকে বিয়ে পর্যন্ত আমজাদ আহমেদরা যাতে চৌধুরী ম্যানশনেই থাকে । আর যার যা প্রয়োজনীয় জিনিস আছে সেগুলো যাতে ড্রাইভারকে বলে নিয়ে আসে । তবুও বাসায় যাওয়া যাবে নাহ ।

আর কাল থেকে তারা সবাই মিলে পুরোদমে বিয়ের সকল আয়োজন শুরু করবে । ইকবাল চৌধুরীর কথা মতো আমজাদ আহমেদ আর জাহানারা বেগমও জানান- তারা আর বাসায় যাবেন নাহ। বিয়ে পর্যন্ত তারা সবাই এখানেই থাকবেন ।

চিত্রা এখানে বড়দের মাঝে থেকে নিজের বিয়ে নিয়ে করা গল্পে লজ্জায় আর অসস্তিতে থেকে-থেকে হাসফাস করতে থাকে ।

আর মাঝে মধ্যে কেঁপে-কেঁপে উঠতেছে দেখে, শাওন জান্নাতকে ডেকে চিত্রাকে উপরে তার নিজের রুমে নিয়ে যেতে বলে । জান্নাত ও বসা থেকে উঠে চিত্রাকে শাওনের রুমে নিয়ে যায় । এতোক্ষণে মেয়েটার প্রাণে যেন পানি আসে । বুক ভরে একটা স্বস্তির নিশ্বাস নেয় ।

চিত্রা শাওনের বেডের পাশে টেবিলে রাখা পানির গ্লাসে থাকা পানিটা ঢকঢক করে খেয়ে নেয় । জোরে একটা শ্বাস ছাড়ে । জান্নাত চিত্রাকে শাওনের রুমে রেখে আবারও নিচে চলে যায় ।

চিত্রা শাওনের বেডের উপর কিছুক্ষণ নিরবে বসে থেকে, আরাম করে পা ঝুলিয়ে শুয়ে পড়ে ৷ চোখ জোড়া বন্ধ করে নিয়ে নিজেকে শান্ত করতে থাকে ।

কিছুক্ষণ পর রুমে প্রবেশ করে শাওন । চিত্রাকে শুয়ে থাকতে দেখে মুচকি হাঁসে সে । আর নিরবে বেডের কাছে এগিয়ে গিয়ে চিত্রার পাশ ঘেষে কাত হয়ে শুয়ে এক হাতে মাথার ভর ছেড়ে চিত্রার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । ভরাট গলায় বলে,

-নিচে এতো লজ্জা পাচ্ছিলি কেন বল তো? ”

হঠাৎ নিজের এতোটা কাছে শাওনের আওয়াজ শুনতে পেলে চিত্রা ভুত দেখার মতো করে নিজের চোখ জোড়া খুলে নেয় । শাওনের দিকে তাকায় । শাওন তার দিকে হাঁসি মুখে তাকিয়ে আছে । চিত্রা শুয়া থেকে উঠতে নিলে শাওন চিত্রার উপরে নিজের এক-পা তুলে দিয়ে, একহাত কোমড় বরাবর চেপে আঁকড়ে ধরে ।

চিত্রা বড়বড় চোখ করে তাকায় শাওনের দিকে । শাওন আবারও একই প্রশ্ন করে,

-নিচে তখন এতো লজ্জা পাচ্ছিলি কেন তুই? ”

চিত্রা কোনো জবাব দেয় না । শাওন এবার হাতের উপর ভর করে ধরে রাখা মাথাটা চিত্রার ঘাড়ের কাছে মুখ করে এলিয়ে দেয় । আর রিনরিনে কন্ঠে বলে,

-জানিস লজ্জা পেলে তোকে একেবারে রসগোল্লা রসগোল্লা টাইপ লাগে। গাল দুটো লাল লাল হয়ে যায় । আর তিক্ষ্ম নাকটা কেমন যেন ফুলে উঠে । অসম্ভব সুনন্দর লাগে তখন । মনে হয় তোর গাল দুটোকে কামড়ে খেয়ে ফেলি । ”

শাওনের কথা বলার জন্য তার শ্বাস প্রশ্বাস গুলো চিত্রার ঘাড়ের উপরে আছড়ে পরে । যার কারণে চিত্রার শরীরটা আবারও মৃদু কেঁপে উঠে । তারউপর শাওনের মুখে এমন কথা শুনে চিত্রার অবস্থা আরও করুন ।

শাওন নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে নিয়ে কোমল স্বরে বলে,

-আর মাত্র ৭দিন পরে তুই একেবারে আমার হয়ে যাবি চিত্রা । যদিও আজ থেকে ১৪বছর আগেই দাদু তোকে আমার করে দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ! কিন্তু অধিকারবোধটা তিনি দিয়ে যাননি । তবে আর মাত্র ৭দিন পর তোকে একেবারে সবরকম ভাবে নিজের করে পাবো আমি । জানিস এই সাত দিনের অপেক্ষাটাই আমার আর সইতেছে নাহ । মনে হচ্ছে কবে শেষ হবে এই সাত সাতটা দিন ! ”

শাওন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবারও গম্ভীর গলায় বলে উঠে,

-চিত্রা, তুই এই বিয়েতে খুশি তো? এই বিয়েটা হোক তুই মন থেকে চাস তো ? এই বিয়েতে তোর সম্পূর্ণ সম্মতি আছে তো নাহ? আমি জোর করে কোনো কিছু চাই না চিত্রা । তোর সম্মতির বিরুদ্ধে গিয়ে আমি কোনো কিছুই করতে চাই নাহ । আমি চাই এই বিয়েতে আমার মতোই তোরও সম্পূর্ণ আগ্রহ এবং ইচ্ছা থাকুক । তবে তোর কোনো অভিমত থাকলে বল আমাকে ! এই বিয়েতে যদি তোর ইচ্ছা না থাকে তুই সেটা নির্ভয়ে আমাকে বল । বাকিটা আমি দেখে নিবো । ”

হঠাৎ শাওনের আওয়াজ এবং কথা পরিবর্তন হওয়াতে চিত্রা চোখ জোড়া খুলে নেয় । চিত্রার কাছে শাওনের আওয়াজটা খুব অসহায় মনে হলো । সাথে তার বলা কথাগুলো বুকে গিয়ে আঘাত হানলো ।

চিত্রা শাওনের পাশে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে কাত হয়ে শুয়ে শাওনের মুখোমুখি হয় । নিজের একহাত শাওনের দাড়িযুক্ত গালে রাখে। শাওন চোখ মেলে চিত্রার দিকে তাকায় । ছলছল অসহায় শাওনের চোখ জোড়া । দেখলেই বুকটা হু-হু করে উঠে । চিত্রা মুচকি হেঁসে শাওনের কপালে নিজের ঠোঁট ছুইয়ে দিয়ে মৃদু স্বরে বলে,

-এই বিয়ে নিয়ে আমার কোনো প্রকার দ্বিমত বা অভিযোগ নেই ভাইয়া । এই বিয়েতে আমার সম্পূর্ণ সম্মতি বা ইচ্ছা আছে । ”

শাওনের ঠোঁটের কোণে প্রশান্তির হাঁসি ফুটে উঠে । চোখ-মুখ থেকে অসহায়ত্ব ভাব কেটে গিয়ে খুশিরা বিরাজ করে । শাওন শক্ত করে নিজের বুকের মধ্যে চেপে ধরে চিত্রাকে । আর চিত্রা শাওনের বুকে মুখ গুঁজে চুপটি করে শুয়ে থাকে ।

.

চলবে…

❝ আজকের পর্বটা ছোট হওয়ার জন্য দুঃখীত!

তবে আজকের পর্বটা এতটুকুই । বেশি লিখলে পরের পর্ব গুলো আগোছালো হয়ে যেত তখন ৷ তাই এতটুকুই পরুন ৷ ❞

⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️

🚫🚫 গল্পটা শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক আর মুক্তমানদের জন্য উন্মুক্ত । গল্পে ধীরে ধীরে রোমান্টিকতার বিষয়টা একটু বেশি আর গভীর হবে । তাই যাদের এসব পচ্ছন্দ নয়, তারা দয়াকরে এড়িয়ে চলবেন। 🚫🚫

“রি-চেইক দেওয়া হয়নি ! ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ”

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন