🚫ডার্ক রোমান্স🚫
#আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে
লেখা: #রুদ্র_রায়_রূপায়ন
পর্ব সংখ্যা - ২৯ (অন্তিম পর্ব)
.
⚠️গল্প কপি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ⚠️
❝ তিন বছর পর ❞
অফিস থেকে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরে শাওন । তখন ঘড়িতে রাত এগারোটা বাজে । পরনে তার কালো রঙের প্যান্টের সাথে ইন করা সাদা শার্ট । যার বুক বরাবর পরপর তিনটা বোতাম খোলা রাখার কারণে বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী শাওনের উঁচু-নিচু অমসৃণ বুকটা বেশ দৃশ্যমান । মাথা ভর্তি উসকো-খুসকো চুল আর দুগাল ভর্তি খোচা-খোচা দাঁড়ি । এক হাতে খুলে রাখা কালো রঙের কোট । চোখে মুখে ক্লান্তি আর বিরক্তির ছাপ ।
শাওন একহাতে শরীর থেকে খুলে রাখা কোট ধরে রেখে, অন্যহাত দিয়ে সিঁড়ির হাতল ধরে নিজের রুমের দিকে যেতে থাকে ।
ক্লান্ত পা-জোড়া নিয়ে রুমের দরজার কাছাকাছি আসলে শাওনের কানে ভেসে আসে চিত্রার কিছু অস্থির গলার আওয়াজ,
-আম্মু আর কান্না করে না সোনা । পাপা এখনি চলে আসবে মা । তুমি একটু আমার কোলে আসো । আমি তোমাকে আদর করে দেই আর গল্প শুনাই ৷ দেখবে পাপা খুব তারাতাড়ি চলে আসবে । ”
আবিরার কান্না জড়ানো আধো-আধো গলার আওয়াজ ,
-না আমি যাবো নাহ ! পাপা ছালা আমি কালো কোলে যাবো না । পাপা কই ? তুমি পাপা কে আসতে বলো । আমি পাপা যাবো ! ”
অসহায় চিত্রা প্রায় এক ঘন্টা ধরে মেয়েকে বুঝানোর চেষ্টা করতেছে ! কিন্তু বাবা পাগল মেয়ে তার কোনো কথা বুঝতে নারাজ । তার পাপা লাগবে মানে লাগবেই । এখনি লাগবে ।
এতটুকু বাচ্চার এতো পরিমাণ জেদ, যা বলার বাইরে । তার জেদের কাছে শাওন আর চিত্রার জেদকেও তুচ্ছতম মনে হয় ।
চিত্রা আবারও আদুরে গলায় বলে,
-পাপা চলে আসবে তো মা । তুমি ততক্ষণে লক্ষ্মী মেয়ের মতো মায়ের কোলে আসো । পাপা আসলে তখন পাপার কোলে চলে যাবা । আর পাপা আসে যদি তার প্রিন্সেস কে এভাবে কান্না করতে দেখে তাহলে তো পাপা অনেক বেশি রাগ করবে । অনেক বেশি বকা দিবে । তখন ! ”
চিত্রার কথায় আবিরা কান্না থামিয়ে চিত্রার মুখের দিকে ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে তাকায় । কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সে আবারও হাত পা ছুড়তে ছুড়তে কান্না করতে থাকে , আর আঁতকে উঠা গলায় বলে,
-নাহ, আমাল পাপা চাই । পাপা কোথায় । আমি পাপা যাব । পাপা এনে দাও । ”
হাত পা ছুড়ে একনাগাড়ে কেঁদেই চলেছে আবিরা ৷ মেয়ের দিকে অসহায় চোখে তাকায় চিত্রা । হাজার চেষ্টা করেও সে মেয়েকে বুঝাতে অক্ষম । সেই কখন থেকে- পাপা কই , পাপা যাব, পাপাকে এনে দাও, বলে কান্না শুরু করেছে মেয়েটা ! থামার যেনো কোনো নামই নেই । চিত্রার এবার ভিষণ মায়া হয় । মাতৃত্ববোধে হু-হু করে উঠে বুক ৷ সে অসহায় চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে ।
.
শাওন আর চিত্রার মেয়ের নাম রাখা হয়েছে - “আবিরা চৌধুরী নূর” ।
নূরের মতোই সুন্দর তার মুখশ্রী । টকটকে ফর্সা মুখে ঘন পাপড়িযুক্ত ধূসর রঙের দুটো চোখ, সরু চিকন ছোট্ট নাক, পালতা গোলাপি রঙের দুটো টসটসে উষ্ণ ঠোঁট আর মাথায় বাউন কালারের চুল । চুলগুলো বেশ বড়, যা পেছনে সুন্দর করে ঝুঁটি আকারে বেঁধে রাখা হয়েছে ।
আবিরার চোখ দুটো চিত্রার মতো টানা-টানা হলেও দেখতে একেবারে শাওনের মতো হয়েছে । পুরো মুখাবয়ব একেবারে শাওনের কপি । বেশ আদুরে আর কিউট একটা মেয়ে । দেখলেই মনে হয় একটু আদর করে দেই ।
শাওন আর চিত্রার তো পুরো দুনিয়া তাদের মেয়ে আবিরা । পুরো চৌধুরী ম্যানশনের আস্ত একটা প্রাণ সে । কি সুন্দর আধো-আধো স্বরে কথা বলে ! পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে ছোট দুখানা পা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে ! খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠে ৷ আবার পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেলে মায়াময় সুরে কান্না করে । ই’সস তা দেখতেও কি যে ভালো লাগে । একেবারে মন ভরিয়ে দেয় ।
রুমের দরজা ঠেলে দু-পা ভেতরে প্রবেশ করে শাওন । রুমের ভেতরে আসতেই তার চোখ পড়ে ফ্লোরের মধ্যে হাত-পা ছুঁড়ে কান্না করা তার কলিজার টুকরা একমাত্র মেয়ের দিকে ।
কান্নারত মেয়েকে দেখে শাওনের পুরো ক'লিজা কেঁপে উঠে । কপালে সুক্ষ কিছু ভাঁজ পরে ।
দরজা খোলার শব্দে চিত্রা আর আবিরা সেদিকে তাকায় । আবিরা দরজার সামনে শাওনকে দেখা মাত্রই কান্নার গতি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় । কি মিষ্টি সেই কান্না । কি মায়াময় সেই কান্নার সুর ।
মেয়ের কান্না শুনে শাওনের বড্ড মায়া হয় । মুহুর্তেই তার সকল ক্লান্তি ভেনিস হয়ে যায় । চোখে মুখে আসে ভর করে একঝাঁক চাঞ্চল্যতা । সে দ্রুত পায়ে মেয়ের কাছে এগিয়ে আসে । মেয়ের সামনে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে । পরম আবেশে মেয়েকে কোলে তুলে নেয় । আবিরা শাওনের গলা জরিয়ে ধরে পাপা বলে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে । মেয়ের এমন বাঁধ ভাঙ্গা কান্না দেখে শাওনের দুনিয়া থমকে যায় । বুক ভাড় হয়ে আসে । চোখে মুখে অসহায়ত্ব ভর করে । সে মেয়েকে কোলে নিয়ে ফ্লোরের মধ্যে পা গুটিয়ে বসে পড়ে । একহাত মেয়ের পিঠের উপর রেখে, আরেক হাত মাথায় রাখে । সযত্নে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভীষণ আদুরে গলায় বলে,
-প্রিন্সেস, কান্না করতেছো কেন সোনা । পাপা চলে এসেছে তো মা । কি হয়েছে বলো পাপাকে ! ”
আবিরা কোনো কিছু বলে নাহ । সে শাওনের গলা জরিয়ে ধরে একনাগাড়ে কেঁদেই চলেছে ।
শাওন মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে-বুলাতে আবারও আদুরে গলায় বলে,
-মাম্মা কি হয়েছে বলো পাপাকে ? ”
আবিরা এবারও কোনো উত্তর দেয় নাহ । সে শাওনের গলা শক্ত করে জরিয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদেই চলেছে ।
মেয়ের কান্নায় শাওন ব্যথিত হয় ৷ সরল দৃষ্টিতে চিত্রার দিকে তাকায় । জিজ্ঞেস করে,
-কতক্ষণ ধরে কান্না করতেছে ও ? ”
চিত্রার সরল জবাব,
-এক ঘন্টার বেশি হয়ে যাচ্ছে কান্না করার । সেই কখন থেকে থামানোর চেষ্টা করতেছি ! বুঝাচ্ছি ! কিন্তু আমার কথা শুনলে তো ! ”
শাওন রাগী চোখে তাকায় চিত্রার দিকে । ধমকের সুরে উচ্চ আওয়াজে বলে,
-এক ঘন্টা ধরে মেয়ে কান্না করতেছে ! তাও তুই আমায় একটাবারের জন্যও ফোন করলি না কেন ? ব্রেণ আজকাল কোথায় থাকে তোর ? সবকিছু কি তোকে আগে থেকেই বলে রাখতে হবে ? ”
চিত্রা সরল চোখে মুখ কাচুমাচু করে শাওনের মুখের দিকে তাকায় । কিন্তু কিছু বলে নাহ ।
শাওন চিত্রার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে । গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করে,
-মেয়ে এভাবে কান্না করতেছে কেন ? ভয় দেখিয়েছিস নাকি মেরেছিস ? ”
শাওনের কথায় এবার যেন চিত্রা তেলে-বগুনে জ্বলে ওঠে । এমনিতেই এতোক্ষণ ধরে মেয়েকে মধুর কন্ঠে আদরের সাথে বুঝাতে বুঝাতে তার জীবন অতিষ্ঠ ! তার উপর আবার এই ছেলে বলে কি ! সে নাকি মেয়েকে ভয় দেখিয়েছে ! মেরেছে ! চিত্রার ভীষণ রাগ হয় । সে শাওনের উদ্দেশ্যে ক্রোধ নিয়ে বলে উঠে,
-আপনার ননীর পুতুল মেয়েকে কখনো মারতে বা ভয় দেখাতে হয় নাকি ? সে তো বাপ দুলালী । পাপা পাগল । একবার যদি পাপার কথা মাথায় আসে, তাহলে আর দিন দুনিয়া কিচ্ছু তার মাথায় থাকে নাকি ? সব তো ভুলে যায় । তখন শুধু এক গান- পাপা কই ? পাপা এনে দাও,পাপা যাব ! পাপা কই? পাপা এনে দাও, পাপা যাব !
পুরো বাপ পাগল একটা মেয়ে ।
কি সুন্দর খাইয়ে দাইয়ে ঘুম পাড়ানোর জন্য নিয়ে আসলাম, কিন্তু মহারানীর তার বাপের কথা মনে পড়ে গেলো । ”
শাওন চিত্রার দিকে সরল চোখে তাকায় । চিত্রা ঝামটা মেরে শাওনের দিক থেকে মুখ সরিয়ে নিয়ে উঠে দাড়ায় । আর বিছানার কাছে যেতে যেতে রাগী গলায় বলে,
-থাকেন আপনারা বাবা মেয়ে মিলে । আমার আর কি দরকার । আমি থাকলেই কি ! বা না থাকলেই কি ! ”
চিত্রা গিয়ে বিছানার এক কোণায় উল্টোপাশে মুখে করে শুয়ে পড়ে । শাওন অসহায় চোখে চিত্রার দিকে তাকিয়ে থাকে ।
বেচারা শাওন এখন কাকে আগে শান্ত করবে? আদরের মেয়েকে ? নাকি ক’লিজার বউকে ?
শাওন চিত্রার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আবিরার দিকে তাকায় । মেয়ের মাথায় গাড় করে চু'মু খায় । আবিরার কান্না এখন অনেকটাই থেমে গেছে । শাওন মেয়ের মাথাটা টেনে চোখের সামনে ধরে ।
কপালে চু’মু খায় । আদুরে গলায় বলে,
-আর কান্না করে না প্রিন্সেস । পাপা চলে এসেছে তো ! পাপা এখন তার প্রিন্সেসকে অন্নেক আদর করবে । ”
আবিরা কান্না থামিয়ে শাওনের মুখের দিকে তাকায় । অনেক সময় ধরে কান্না করার কারণে মেয়েটার ছোট ছোট ধূসর রঙের চোখ দুটো একেবারে ফুলে উঠেছে ।
শাওন মেয়ের চোখের কোণায় জমে থাকা পানির ফোঁটা গুলো মুছে দেয় ৷ মুচকি হেঁসে আবিরার গালে আর নাকে নিচের উঁচু নাকটা ঘষে দেয় । খিলখিলিয়ে হেঁসে উঠে আবিরা । এতোক্ষণে যেন শাওনের জীবে জল আসে । হৃদয়টা শান্ত হয় ৷ সে শান্তি অনুভব করে ।
শাওন মিষ্টি করে বলে,
-এবার বলো তো মাম্মা ! কান্না করতেছিলা কেন ? পাপার কথা মনে পড়তেছিল বুঝি ? ”
আবিরা আধো-আধো স্বরে অভিযোগ জানায়,
-তুমি কোথায় থাকো পাপা ? তুমি আমাল কাছে থাকো না কেন ? তুমি আমাকে একা লেখে কোথায় যাও সবসময় ? ”
মেয়ের অভিযোগে হেঁসে দেয় শাওন । মেয়ের কপালে আবারও ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে বলে,
-এইতো সোনা, পাপা এখন তোমার কাছেই আছে । পাপা আর তার প্রিন্সেসকে রেখে কোথাও যাবে নাহ সোনা । পাপা এখন সবসময় তার প্রিন্সেসের কাছে থাকবে । প্রিন্সেসকে অনেক আদর করবে । ”
আবিরা মিটিমিটি চোখে শাওনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । শাওন আবিরার নাকের উপরে চু'মু খেয়ে মিষ্টি করে বলে,
-প্রিন্সেস এবার পাপাকে একটু আদর দিয়ে দাও তো সোনা ! পাপা প্রিন্সেসের আদর চায় । ”
আবিরা তার ছোট্ট নরম তুলতুলে কোমল হাত দুটো শাওনের খোচাখোচা দাঁড়ি যুক্ত দুই গালে রাখে । মুখ বাড়িয়ে শাওনের কপাল, নাক আর দুইগালে নিজের ছোট্ট উষ্ণ পাতলা ঠোঁট জোড়া ছুঁইয়ে দেয় । শাওন একবুক শান্তিতে মৃদু হেঁসে উঠে । সে নিজেও মেয়েকে পরম আবেশে বুকের মধ্যে জরিয়ে নেয় ৷ ফ্লোরে বসা থেকে উঠে দাড়ায় । আর বিছানার দিকে যেতে যেতে মেয়ের উদ্দেশ্য বলে,
-প্রিন্সেসের মাম্মা তো এখন অনেক রেগে আছে । চলো এবার তোমার মাম্মাকে একটু আদর করে দাও । ”
আবিরা ঘোর বাঁধা ঘোষণা করে থমথমে মুখ করে বলে উঠে,
-নাহহ ! মাম্মা পঁচা । মাম্মাকে আদর দিব নাহ । ”
শাওন মেয়ের দিকে তাকায় । আলতো স্বরে মিষ্টি করে বলে,
-এভাবে বলতে হয়না সোনা । প্রিন্সেসের মাম্মাম অনেক ভালো । আর প্রিন্সেসের মাম্মাম পঁচা হলে কি পাপাকে এমন একটা পিন্সেস উপহার দিতো ? দিতো না তো ? ”
আবিরা বুঝদার বাচ্চার মতো মাথা দু'দিকে নাড়িয়ে না অর্থ বোঝায় ৷ শাওন মিষ্টি হেঁসে আদুরে গলায় বলে,
-হুম সোনা । মাম্মাম অনেক ভালো । আর মাম্মাম তার প্রিন্সেসকে অনেক ভালোবাসে ৷ চলো এখন মাম্মামকে একটু আদর করে দিবা । ”
বাবার বাধ্য মেয়ে সবকিছু নিমেষেই বুঝে ফেলে ৷ আর লক্ষ্মী মেয়ের মতো মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানায় । শাওন মুচকি হাঁসে । সে আবিরাকে নিয়ে বিছানায় বসে । আবিরা গিয়ে শুয়ে থাকা চিত্রার গালে চু’মু খায় । শাওনও শুয়ে থাকা চিত্রার গালে চু’মু খায় । কিন্তু চিত্রা কিছু বলে না । সে চুপচাপ শুয়ে থাকে ।
শাওন এবার বিছানার মধ্যে আধশোয়া হয়ে হেলান দিয়ে আবিরাকে নিজের বুকের মধ্যে শুইয়ে দেয় । আদুরে গলায় বলে,
-অনেক রাত হয়ে গেছে প্রিন্সেস । এখন তো ঘুমানোর সময় । তুমি ঝটপট ঘুমিয়ে যাও তো সোনা । পাপা তোমাকে আদর করে দিচ্ছে । ”
আবিরা শাওনের বিস্তৃত বুকের উপর গুটিশুটি হয়ে শুয়ে থাকে । শাওন মেয়েকে একহাতে আগলে রেখে একহাতে পরম যত্নে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে ।
মেয়েকে বুকের মধ্যে জরিয়ে নেওয়াতে শান্তিতে ভরে উঠে শাওনের বুক । তার পুরো শরীর জুড়ে শীতলতা ছড়ায় । মুগ্ধ হয় ।
এই মেয়ে এখন তার প্রাণভোমরা । পাগলের মতো ভালোবাসে শাওন তার মেয়েকে । মেয়ের সামান্য পরিমাণ কিছু হলেও পাগল হয়ে যায় সে । মেয়ের মুখ না দেখলে তার দিন কাটে না । মেয়ের মুখের আধো-আধো স্বরে পাপা ডাক না শুনলে সে শান্তি পায় না ।
মেয়েও বাবা বলতে একেবারে পাগল । বাবার কাছে থাকলে যেন তার আল্লাদ আর জেদ গুলো দ্বিগুণ বেড়ে যায় ।
কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে আবিরা । শাওন মেয়ের কাপলে গাড় করে চু'মু দিয়ে মেয়েকে স-যত্নে বিছানায় শুইয়ে দেয় । খুলে ফেলে তার শার্ট । চিত্রার কাছে এগিয়ে যায় । চিত্রাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিজের দিকে মুখ করে ঘুরিয়ে নেয় । চিত্রা তখনও চোখ জোড়া বন্ধ করে আছে । ঘুমায়নি, কিন্তু চোখে মুখে রাগ স্পষ্ট । শাওন চিত্রার মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাঁসে ৷ চিত্রার কপালে গাড় করে চু'মু দিয়ে বলে উঠে,
-ক'লিজা রাগ করেছিস ? ”
চিত্রা কিছু বলে না । সে চোখ জোড়া বন্ধ রেখেই চুপ করে থাকে । শাওন চিত্রাকে বুকের মধ্যে জরিয়ে ধরে অসহায় গলায় বলে,
-জানিস তো মেয়ের প্রতি আমি কতটা দূর্বল । মেয়ের কান্না আমার একদম সহ্য হয় নাহ । মেয়ের চোখে জল দেখলে আমার মাথায় আর কিচ্ছু থাকে নাহ । আমি সবকিছু ভুলে যাই । বুকে যন্ত্রণা হয় । নিজেকে আমার তখন বড্ড উন্মাদ মনে হয় । তুই প্লিজ রাগ করিস না ক'লিজা । ”
চিত্রা বন্ধ চোখ জোড়া খুলে শাওনের মুখের দিকে তাকায় ৷ শাওনের ঠোঁটে হাঁসি ফুটে । সে নিজের হাতের বাঁধন শক্ত করে বলে উঠে,
-মেয়েকে তো আদর করলাম ৷ এখন তাহলে একটু মেয়ের মাকে আদর করা যাক ! কি বলিস ক’লিজা ! ”
চিত্রা শাওনের কাছ থেকে সরে আসার জন্য জোর করতে করতে ভরাট গলায় বলে উঠে,
-লাগবে না আপনার মেয়ের মাকে আদর করতে । ”
শাওন দুষ্টু হেঁসে বলে,
-তা বললে কি আর হবে নাকি ক’লিজা ? মেয়ের মাকে আদর না করলে মেয়ের বাবা থাকবে কি করে ? আর মেয়ের বাবার একশ’টা কন্যা সন্তানের স্বপ্ন পূরণ হবেই বা কি করে ? তাই আর কোনো কথা হবে না । এখন যা হবে সব শুধু প্যাকটিকালি হবে । ”
শাওন চিত্রাকে বিছানার নিচে ফে’লে নিজে চিত্রার উপরে উ’ঠে প’ড়ে । শাড়ির ভাঁ’জ দিয়ে চিত্রার উদরে হাত গলিয়ে দেয় । চিত্রা কেঁপে উঠে । রাগী গলায় বলে,
-কি করছেন কি ? পাশে মেয়ে শুয়ে আছে । সেদিকে খেয়াল আছে আপনার ? ”
শাওন চিত্রার গ’লায় মুখ ডু’বি’য়ে ঘোড় লাগা গলায় বলে,
-মেয়ে এখন গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে ক'লিজা । এই ফাঁকে মেয়ের বাবা মেয়ের মাকে একটু আদর করে নিক । ”
চিত্রার রাগী গলায় বলে,
-আপনি মনে হয় দিনকে দিন সত্যি-সত্যি পাগল হয়ে যাচ্ছেন চৌধুরী সাহেব ! ”
শাওনের স্বাভাবিক জবাব,
-ঘরে এতো সুন্দর হ’ট আর সে’ক’সি বউ থাকলে পাগল না হয়ে কি আর কোনো উপায় আছে । ”
চিত্রা শাওনের বুকে মৃদু বাড়ি দেয় । শাসনের সুরে বলে,
-মুখে যা আসে তাই বলে । নির্লজ্জ মানুষ একটা । ”
শাওন হেঁসে দেয় । দুষ্টু স্বরে জবাব দেয়,
-প্রতিটা পুরুষই তার বউয়ের কাছে নির্লজ্জ ক'লিজা । কেউ একটু বেশি আর কেউ কম । তবে আমি একটু বেশিই নির্লজ্জ । চল আজকে আরও একটু বেশি নির্লজ্জ হয়ে যাই । ”
যেই বলা সেই কাজ । শাওন চিত্রার গলা ছেড়ে ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নেয় । বেশ কিছুক্ষণ পর ঠোঁট জোড়া ছেড়ে গলা বেয়ে উদরে নেমে আসে ৷ রাজত্ব চালায় চিত্রার ছোট্ট শরীরে । আর পাড়ি জমায় এক অনন্য সুখের রাজ্যে । যেই সুখের সাগরে ভাসতে গিয়ে চিত্রার দুই চোখ দিয়ে আজও দুই ফোটা উষ্ণ জল গড়িয়ে পরে । ব্যাথাময় সুখ অনুভব হয় ৷ বুকের মধ্যে সজোরে ঢিপঢিপ আওয়াজ হয় । শ্বাস-প্রশ্বাস গভীর হয় । লজ্জায় মুখ রঙিন হয় । আর পরিশেষে মুখ লুকায় সেই ব্যাথাদায়ক পুরুষের বিস্তৃত বুকে ।
শাওন চিত্রাকে জরিয়ে রেখে একটা শান্তির শ্বাস ছাড়ে । তার হৃদয় তৃপ্ত হয় । মন শান্ত হয় । পুরো শরীর জুড়ে মুগ্ধতা ছড়ায় । ভালোলাগায় আর প্রশান্তিতে ছেয়ে যায় পুরো মন ।
.
শাওন বিছানার মাঝ বরাবর শুয়ে মেয়েকে পরম আবেশে নিজের বুকের উপর তুলে নেয় । আর কলিজার টুকরা মেয়ের কপাল জুড়ে ভালোবাসার পরশ একে দেয় ।
অপর পাশে প্রিয় বেগমের মাথা নিজের বুকের উপর রেখে তাকে একহাতে জরিয়ে নেয় ।
কপালে গাড় করে ঠোঁট ছুঁইয়ে প্রশান্তিময় গলায় বলে উঠে,
-আমার জীবনের সেরা দুটো প্রাপ্তি এখন আমার বুকে । আমার ভালোবাসারা । আমি অস্তিত্ব । আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ।
মাঝে-মাঝে আমি তোমাদের মা মেয়েকে দেখলে পাগল হয়ে যাই চিত্রা । এতোটা ভালোবাসি কেন আমি তোমাদের ? তোমাদেরকে দেখলে এতোটা শান্তি কেন হয় আমার ? কেন শরীর মন জুড়ে এতো বেশি মুগ্ধতা ছড়ায় ? কেন এতোটা সুখ-সুখ অনুভব হয় ? কেন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হয় ?
কেন মনে হয় যে পৃথিবীর সবচেয়ে অমূল্য দুটো রত্ন শুধু আমার কাছেই আছে ! যারা কিনা একান্তই আমার । যাদের মালিকানা শুধুমাত্র আমি ৷ যদের উপর শুধুমাত্র আমার অধিকার ।
এতো সুখ ! এতো সুখে তো আমি পাগল হয়ে যাবো ক'লিজা । তোমরা মা-মেয়ে মিলে যে আমায় একেবারে সুখের সাগরে ভাসিয়ে রেখেছো । মাঝে-মাঝে তো আমি তোমাদের মা-মেয়েকে ব্যতীত পুরো পৃথিবীকেই ভুলে বসি !
আমি তোমাদেরকে বড্ড ভালোবাসি ক'লিজা । নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি তোমাদেরকে । ”
চিত্রা নড়েচড়ে আয়েশ করে শাওনের বুকে মাথা রাখে । একহাত শাওনের বুকের উপর শুয়ে থাকা মেয়ের উপর দিয়ে শাওনকে আকড়ে ধরে । শাওনের উন্মুক্ত বুকে গাড় করে চু’মু খায় । মিষ্টি কন্ঠে বলে উঠে,
-আমিও আপনাকে ভালোবাসি চৌধুরী সাহেব । অনেক বেশি ভালোবাসি । এই পৃথিবীতে আপনার মতো করে কখনোই কাউকে ভালোবাসিনি ৷ আর না বাসবো ! আপনি আমার সকল পূর্ণতার কারণ চৌধুরী সাহেব । আপনিই আমার সকল ভালো থাকার কারণ ! সুখে থাকার কারণ ! বেঁচে থাকার কারণ ! আপনাকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি । এক পৃথিবী সমান ভালোবাসি চৌধুরী সাহেব । ”
শাওনের শরীর জুড়ে শীতল হাওয়া ছড়ায় । শান্তিতে আর মুগ্ধতায় ভরে উঠে মন আর মস্তিষ্ক । সে পরম আবেশে চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয় । চিত্রাকে আরেকটু নিজের সাথে শক্ত করে জরিয়ে ধরে তার পুরো মুখে ভালোবাসার পরশ একে দেয় । আর স্নিগ্ধ সুন্দর কন্ঠে বলে,
-ভালোবাসি ক'লিজা । খুব বেশি ভালোবাসি । এই জনম, মৃত্যু পরের জনম, প্রত্যেক জনমে আমার কেবল তোকে লাগবে । হে ক'লিজা ❝ #আমার_শুধু_তোকেই_লাগবে ❞ । প্রত্যেক জনমে শাওনের শুধু চিত্রাকে লাগবে ।
কেননা, শাওনের অস্তিত্বই যে চিত্রা ।
ভালোবাসি প্রিয় বেগম । ভালোবাসি আমার বাচ্চার মাকে । ভালোবাসি আমার সুখের রাজ্যের রাণীকে । ভালোবাসি আমার প্রিয় বেগমকে । ভালোবাসি শুধুমাত্র আমার জন্য সৃষ্টি হওয়া চিত্রাকে । খুব বেশি ভালোবাসি । এক পৃথিবী সমান ভালোবাসি । ”
.
শাওনের বিস্তৃত বুক জুড়ে পরম আবেশে শুয়ে আছে ছোট্ট আবিরা আর চিত্রা । মা মেয়ের একমাত্র সুখের ঠিকানা । যেখানে নেই কোনো দুঃখ ! নেই কোনো কষ্ট ! নেই কোনো ক্লান্তি ! নেই কোনো বিরক্ত ! নেই কোনো মলিনতা !
আছে শুধু সুখ আর একঝাঁক প্রশান্তি ।
শাওন পরম আবেশে মা এবং মেয়েকে নিজের বুকের মধ্যে বট বৃক্ষের মতো আগলে রেখেছে ।
কি সুন্দর, কি মনোরম, কি মায়াময়, কি প্রশান্তিদায়ক, কি মুগ্ধতার, কি সুখের সেই দৃশ্য । দেখলেই শরীর, মন, প্রাণ, হৃদয় সব যেন জুড়িয়ে যায় । শরীর জুড়ে ভালোলাগার শীতল হাওয়া বয়ে যায় । মন শান্ত হয় ! মুগ্ধ হয় !
ভালোবাসা ! এমন ভালোবাসা সত্যি দেখতেও ভীষণ ভালো লাগে । মনে শান্তি জাগায় । মুগ্ধতা ছড়ায় ।
ভালো থাকুক, সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক পৃথিবীর সকল ভালোবাসারা । ভালো থাকুক সবাই ।
______________“সমাপ্ত”______________
❝ যাক, অবশেষে গল্পটা শেষ হলো । জানি না শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটা কেমন হয়েছে ? কেমন লিখেছি ? আসলেই ভালো হয়েছে কি না ? আপনাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি কি না ? সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারছি কি না ?
তবে- ধন্যবাদ ৷
কারণ আপনারা শুরু থেকে আমাকে সাপোর্ট করে গেছেন বলে আজ আমি গল্পটা সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পারলাম । নাহলে হয়তো মাঝপথেই আমাকে হাল ছেড়ে দিতে হতো । নিজের অনুভূতি গুলোকে নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখতে হতো । একটা কথা কি জানেন- অধিক অনুভূতিপ্রবণ আর আবেগপ্রবণ মানুষদের কাছে নিজের অনুভূতি আর আবেগ গুলো প্রকাশ না করে নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখাটা সত্যি খুব কষ্টের ৷
যাইহোক- আপনাদের ভালোবাসায় আমি বরাবরই মুগ্ধ । ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে ! আমাকে এতোটা ভালোবাসা দেওয়ার জন্য, আমার পাশে থাকার জন্য ।
অনেক বেশি ধন্যবাদ । আশা করি আগামীতেও এভাবেই পাশে থাকবেন ।
আর নতুন লেখক হিসেবে গল্পে হয়তো অনেক ভুল ত্রুটি হয়েছে, সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো । সকলের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা রইলো’💛 ❞
১৯ আগস্ট, ২০২৬
- রুদ্র রায় রূপায়ন