#অপরিপক্ক
#পর্ব_১৮
#যাজিবা_জাবিন
#গ্রামীন_প্লটে_লেখা_সামাজিক_রোমান্টিক_গল্প
(⛔ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ⛔ চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)
__________________________
গ্রামের আকাশে সন্ধ্যার নরম আঁধার নেমে আসতেই হঠাৎ ঝমঝমিয়ে নামে মুষলধারে বৃষ্টি।
মাটির ঘরের টিনের চালায় বৃষ্টির ফোঁটা যেন তাল মিলিয়ে বাজায় এক মায়াবী সুর।
ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশ ভরে ওঠে, মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির ঝাপটা এসে ছুঁয়ে যায় উঠোন, কাঁপিয়ে দেয় নিস্তব্ধতা।
দূরে কোথাও ব্যাঙের ডাক, মাঝে মাঝে হালকা বাতাস। সেই বাতাসে হারিকেনের হলদে আলোটা দিবদিব করে নেচে উঠছে, মাটির মালসায় সরপুঁটি মাছ ভাজা দিয়ে ভাত খাচ্ছেন সুন্দরীর মা সামনেই খালেদা খাতুন বসে আছেন বেজার মুখে পাশে তার রোজিনা, বসে বসে বলছে আজকের দিনে আমেনা বেগম কি কি করেছেন রেবেকার সাথে। সব শুনে খালেদা খাতুনের খুব মন খারাপ হলো, তার শাশুড়ি আমেনা বেগম বিয়ের পর থেকেই আর উপর খবরদারি করে এসেছেন, আর এখন তার ছেলের বউকেও ছাড়ছে না।
খালেদা খাতুন গোলা থেকে একসের পরিমাণে চাল এনে দিলো রোজিনাকে, বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে,এই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই রোজিনা ছুটলো নিজের বসত ভিটার উদ্দেশ্যে।
তখন রেবেকার কথায় সুন্দরীরমা হাঁটা ধরেছিলো সেনপুর রেবেকার বাবার বাড়ির উদ্দেশ্য, রেবেকার বিষয়ে জানাতে। সেই সময় রোজিনা তার পথ আটকায়, অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে ধরে বেঁধে নিয়ে আসে তাকে, উদ্দেশ্য কোনো মতেই এই ঘটনা সেনপুর বাসিকে না জানতে দেওয়া।
বাদল মাস্টার সবকিছু শুনে এবার মায়ের উপর প্রচুর ক্ষিপ্ত হয়েছে, রাগে আমেনা বেগমেকে বলে দিয়েছে কালকেই নানা বাড়ি গিয়ে কিছু দিন থেকে আসতে, আমেনা বেগম যেতে প্রস্তুত, মিলনের হাত থেকে বাঁচার আপাতত এই একটাই উপায় আছে। অন্তত যতদিন এই ঘটনা রেস রয়ে যাবে সে আসবে না এই বাড়িতে।
_______________________
এশার আজানের একটু পর রেবেকার ঘুম ছুটলো, ঘসেটি বেগম তার পাশে বসে শরতা দিয়ে সুপারি কাটছে মনযোগ দিয়ে, রেবেকা উঠে বসলো তা বুঝেও নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তিনি, রেবেকা এদিকে ওদিকে তাকিয়ে দেখলো, আমেনা বেগমের কক্ষের পাশের কক্ষে আছে সে, যেখানে কলির বর আসলে,বরকে নিয়ে কলি থাকে। কিন্তু ও এ ঘরে কেন?
রেবেকা::::: বড়মা আমি এইনো কেন
ঘসেটি সুপারি কাটতে কাটতে বললো,
ঘসেটি::::: তহন জ্ঞান হারাইলা এই ঘরের বারান্দায়, তাড়াহুড়া কইরা তোমারে ধইরা এই চৌকিতে তুইলা মাথায় পানি ঢাললাম, হাতে পায়ে সরিষার তেল মালিশ করলাম।তহন তুমি অচেতন আছিলা, তাই তোমারে তোমার ঘরে পাঠাই নাই, ভাবছি চেতনা ফিরলে পরে একলাই যাইবা, কিন্তু এখন বাইরে যা তুফান হইতাছে কালবৈশাখী শুরু হইছে বউ।
রেবেকা খুব খুদা লাগছে সেই সকালে ভাত খাইছে, তার পরে কিছু খাওয়া হয়নি , শরীরটাও কেমন লাগছে গোসল করতে পারলে ভালো লাগতো
রেবেকা::::: বড়মা আমি গা ধুইয়া আহি,শইলডা কেমন চিপচিপা লাগতাছে
ঘসেটি::::: এহন মেঘের ভিত্তি নাইবা বৌউ জ্বর আইয়ে যদি
রেবেকা::::: আইতো না
কথাটা বলেই রেবেকা আর বসে না, কাঠের দরজা খুলে বাহিরে চলে আসে, বাহিরে অন্ধকার, মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে, বজ্রপাতের শব্দ ভেসে আসছে, মাঝেমাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে যার আলোতে উঠোন আলোকিত হচ্ছে, রেবেকা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল একটা যায়গায় , হঠাৎ তার কাছে ভেসে এলো খালেদা খাতুনের কথা, রান্নাঘরে কুপি জ্বলছে , এত ঘন বর্ষণে রান্নাঘরে তার শাশুড়ি কি করছে সেটা দেখার জন্য রেবেকা এগিয়ে যেতে লাগলো, একটু গিয়েই শুনলো
খালেদা:::: চাচী আন্নে বিজ্ঞ মানু বুঝুইন তো সব সংসারে এইতা একটু আধটু হয়,মাইয়া-বউগো এডি হজম করন লাগে,তাইলেই সংসারে শান্তি আসে,তাছাড়া আমি আমার পুতের বৌউ রে ভালা পাই হেরে যত্নে রাহি,আমার হোওরি উট্টু (একটু) এরুমই ,হেয় কাইল হের বাপের বাইর যাইতাছে একবার গেলে মাসখানেক না থেইহা আইয়ে না,আন্নে দয়া কইরা এইতা কাহিনী বেয়াই বাইত গিয়া কইননা যে (বলবেন না) হুদাই হেরা পেরেশান হইবো।
সুন্দরীর মা:::::: তহন রেবেকা যে কইলো কইবার লাইগা,ওয়তো মনে হয় থাকবার চায় না এইনো।
খালেদা::::: আরে না না চাচী আমার বৌমা ছুডো মানু, তহন রাগে কইছে এডি,হেয়তো আর বুঝেনাই,এইডি তার বাপ যানলে তারা কষ্ট পাইবো,রাগ হইবো, তহন তারে লোইয়াগেলে আর আইবার নিতো না।আগেও এরুম হইছে একবার। বিয়ার পর মাইয়া মাইনষের স্বামীর ঘরই সব, জীবনে তো কম নজিরা দেহেন নাই।
খালেদা খাতুন এর কথা শুনে সুন্দরীর মা নিজের দুঃখের কথা বলতে শুরু করল, স্বামী বেঁচে থাকতে কত সুখে ছিল, আর এখন কি অবস্থায় আছেন সেসব কথা বর্ণনা করে বলতে লাগলো, সঙ্গে কান্না আহাজারি ও করল। রেবেকা আড়ালে দাঁড়িয়ে সমস্তটা শুনলো। এসব কথা ছোট থেকে অনেকবার শুনেছি সুন্দরীমায়ের মুখে, যখন মুক্তা বেগমের সাথে দুঃখের কথা আলাপ করতো সুন্দরীর মা তখন ,রেবেকা তখন কিছু না বুঝতলেও এখন কিছু একটা উপলব্ধি করতে পারলো।
হঠাৎ রেবেকার মনে পরে গেলো মিলনের কথা, তখন মিলন রাগি কন্ঠে বারবার তাকে চুপ করতে বলছিল, মিলনের কথা ভাবতেই ভয় হচ্ছে তার, রেবেকা ভাবছে ,নিশ্চয়ই সে রেগে আছেন তার দাদির সাথে ওমন অচরনে জন্য। কিন্তু সে তো জানে না তার জন্য মিলন তার দাদিকে কুড়ালের দৌড়ানিও দিয়েছে আগে,সেই রুপে এখনো মিলনকে দেখেনি সে।
রেবেকা তাকালো তার ঘরের দিকে , দরজা বন্ধ ভেতরে কি আছে সে , রেবেকা কি যাবে ঘরে দোটানায় ভুগছে রেবেকা ,পুনরায় ঘসেটি বেগমের কাছে গেল, ভেজা শরীলে রেবেকাকে দেখে ঘসেটি বেগম বলল:
ঘসেটি::::: হায় হায় মিলন বৌ এই শইলে এহনো ভিজা কাপরে খাড়াইয়া আছো, মেঘে তো ভিজছো ভালাই,এহন ঘর ভিজাইয়ো না যাও ঘরে যাও,গিয়া কাপর বদলাও।
রেবেকা::::: বড়মা হেয় রাইগা আছে আমার উপরে?
ঘসেটি::::: কেডা মিলন?
রেবেকা::::: হুম
ঘসেটি:::::: হ তার আচরণ তো রাগ রাগ দেখছি
রেবেকা::::: আমি ঐ ঘরে যাইতাম না,আন্নে আমার লাইগা কাপড় আনবার পারবাইন
বৃদ্ধা বুঝলো রেবেকার মনের অবস্থা,তবে ঘসেটি বেগম যতোটা দেখেছে তাতে বুঝতে পেরেছে মিলন কতোটা চায় তার বিবিকে।তাই তো মিলন ঐ ভাবে রেগেছিলো
//রেবেকা জ্ঞান হারানোর পর খুব অস্থির হয়েছিল মিলন, রেবেকার হাতে পায়ে তেল মালিশ তো সেই করেছিল , তখন বারবার বলেছে কিছু হবে না তো আমার বিবির , বার কয়েক রেবেকার মুখে পানি ছিটানোর পরেও যখন দুর্বলতার কারণে জ্ঞান ফিরছিলো না,তখন দিক দিশা ভুলে পাগলের মতো ,রেগে গিয়ে আমেনা বেগমের সাদা পাকা চুলের মুঠি শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল, রাগে ফস ফস করতে করতে বলেছিল
মিলন::: চু ত মা রা নি বুড়ি কি কি খাওয়াইছোস আমার বিবিরে ,আমার বিবির কিছু হইলে তোরে জিন্দা করব দিমু
আমেনা::: ও মায়া মায়া গো মায়া,ওরে আমি কিছু করি নাইকা,ছাইড়া দে ছাইড়া দে আমারে , আমি কিছু খাওয়াই নাই রে
পরিস্থিতি তখন এতটাই খারাপ ছিল যে, বাদল মাস্টার ছেলেকে শান্ত করার জন্য,নরম কন্ঠে অনেক বুঝিয়েছেন,এমন কিছু আর হবে বলে আশ্বস্ত করেছে যেহেতু ভুলটা তার মায়ের,
বাধ্য হয়ে তার আম্মাকে বাপের বাড়িতে পাঠানোর কথা বলেছে। তাছাড়া ওনার আম্মা যে কীর্তিকলাপ করেছে এরপর যেকোনো পুরুষেরই রাগ উঠবে।তাই এমন পরিস্থিতিতে সংসার ভাঙার বদলে মাকে দূরে পাঠানোই উত্তম কাজ, অন্তত কিছু দিনের জন্য। আমেনা বেগম তখন ভয়ে কোনো কথাই বলেনি, দ্রুত কাপড় গুছিয়ে সন্ধ্যায় ভাত খেয়ে ঘরে দরজা লাগিয়েছেন বুড়ি, ভোরে কারো ঘুম ভাঙ্গার আগেই মাসুদকে নিয়ে রওনা হবে মুক্তাগাছা তার বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে, যদিও বাপ মা কেও বেঁচে নেই তবে ভাই বোন আছে। সে সবার বড় সবাই তাকে সম্মান করে যত্ন করে।
ঘসেটি বেগম সেইসব কথা বললো না রেবেকা কে, এমনিতেই মেয়েটা ভয় পেয়েছে,এখন তার স্বামীকে সেই রাগী রূপের কথা শুনলে কিভাবে নিবে কে যানে,তাই সেসব কথা বাদ দিয়ে,ঘসেটি বেগম চালাকি করে বলল:
ঘসেটি::::: মিলন তো মনে হয় বাইত নাই, আমি তারে দেহি নাই,মনে হয় কোনোহানে গেছে বৌ, তুমি তো ভিজাই গেছো নিজের ঘরে যাও কাপড় বদলাও, আমি গেলে এহন ভিজাইযা যামু
রেবেকা::::: এই রাইতে বাইত নাই কে!
ঘসেটি::::: তা আমি কইবার পারুম না। যাও যাও তোমার শইলের পানিদিয়া ঘর ভিজতাছে তো, পরে পারলে তোমার হোওড়ি কেচকেচ করবো
রেবেকা দ্রুত বের হয়ে এলো ঘর ছেড়ে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখে রান্না ঘরের দিকে,খালেদা খাতুন তখন রান্না ঘরের চৌকিতে সুন্দরীর মায়ের জন্য বিছানা পাতছে।
______________________
মাসুদ ঘরের দরজা বন্ধ করে হারিকেন জ্বালিয়ে টাকা গুনছে ঠোঁটে তাঁর জলন্ত বিড়ি,,চার আনা, আট আনা,এক পয়সা থেকে শুরু করে দশ টাকার নোট বেশ কিছু রয়েছে ,ছোট্ট একটা কাপড়ের টুকরার ভেতরে গিট মারা ছিল তা, সে সবই গুনছে আর বিড়ি টানছে,গুনা শেষ হতেই বিরক্তিতে নাকটা কুঁচকে মুখে বিরক্তিকর শব্দ তুলে বিড়বিড় করে বললো:
মাসুদ::::: ছে্ ছে্ বা ল মাত্র একশত ঊনআশি টাকা সত্তর পয়সা,এইদিয়ে রাজবাড়ির জলসা দেহুম কেমনে আর চাঁদনী ওর কাছেই বা জামু কেমনে, উফ্ চাঁদনীডারে কাছে পাওনের লাইগা শইলডা টানটান হইয়া আছে, একবছর হইছে তার সঙ্গ পাওয়ার, কিন্তু পয়সা কই পাই এহন ,ভুল ভুল ভুল হইয়া গেছে রে মাসুইদ্দা মিলাদে হাত বেশি মারা উচিত আছিল, কিন্তু কি করতাম মিয়া ভাইয়ের ডরে তা হইলো কই
বিছানায় পায়ের উপর পা তুলে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলো কি করবে, কিভাবে পয়সা জোগাড় করবে, আম্মার কাছে চাইবে, কিন্তু তার আম্মা পয়সা পাবে কোথায়,আব্বার কাছে চাইলে নানান প্রশ্ন করবে,আর ভাই তার কাছে তো চাওয়াই যাবে না,তাহলে উপায় কি?
গভীর ভাবনায় ডুবে আছে মাসুদ, কিভাবে কি হবে,সামনে এমনিতেই তার সময় খারাপ আসবে।
_______________________
বৃষ্টি আগের তুলনায় একটু কমেছে তবে গা ভিজিয়ে দেওয়ার মতোই, খালেদা খাতুন সুন্দরীর মা কে বুঝিয়ে , শুইয়ে রেখে কেবলি ঘরে ঢুকলো, বাদল মাস্টার বিছানায় শুইয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল
বাদল::::: বুঝাইয়া দিছো ঠিকঠাক কইরা
খালেদা::::: হ কইছি ,এহন আল্লাহ যানে কি করে
বাদল::::: সকালে আবার বুঝাইবা,লগে চাইল- ডাইল,আর হগল কিছু দিয়া দিবা বুঝছো এই হগল কতা বেয়ান বাইত যেন না যায়।
খালেদা:::::আন্নে এতো ভাবতাছুইন কেন, আমি আবার কমু বিয়াইন্নাকালে,তর
খালেদা খাতুন থামলো, স্বামীর সামনে সাহস করে কিছু বলতে সে ভাবে অনেক
বাদল::::: তয় কি ?
খালেদা::::: তয় মায়া এডি কি করলো,আইজকার কতা বাদ ধরলাম, হেই রাইতে বৌউ এর আবু দুবাই হইবার লাইগা, আবু দুবাই না হইবার বড়ি খাওয়াইলো !
বাদল মাস্টার নরেচরে বসলো ,বললো
বাদল::::: কি কইতাছো খুইলা কও
খালেদা::::: সরকারি বড়ি আছেনা ঐ যে পোয়াতি না হওয়ার(গর্ভধারণ রোধ করে), আবুদুবাই না হইবার লাইগা খায় হেইতা।
বাদল::::: মায়া তা পাইলো কই ?
খালেদা খাতুন এবার একটু নড়েচড়ে উঠে,কি বলবে তা নিজের মনেই গুছিয়ে নিচ্ছে, বাদল তার নিকট চেয়ে আছেন
খালেদা:::;:গুলনাহার গোর বাড়িত লুৎফা ধাত্রী আইছিলো কামালের বউয়ের আবুদুব হইবো ওরে দেখবার, আমি তহন হের তনে(কাছে )চাইয়া একপাতা বড়ি আনছিলাম, মুরগির ছাউয়ের কাইলা (ইশেরেশিয়া ব্যাকটেরিয়ার- করায় রোগ) পারছিলো তাই,ঐ বড়ি গুঁড়া কইরা গরম ভাতে মিশাইয়া খাওয়াইলে ভালা হয় তাই। মায়া কেরতে কি বুজছে,হেয় হেই বড়ি বৌউরে দিছে খাওয়াইয়া।
বাদল মাস্টার স্ত্রীর মুখে এইকথা শুনেই ধমকে উঠলো
বাদল::::: তয় তুমি মায়ারে বুঝাওনাই কেন আগে,মায়া কি বুঝছে এডি হেয় তো মিলনের আবুদুব দেখবার লাইগা করছে সব।তোমগোর এইবস বালবাত্তি পনার লাইগা আমার মায়ারে এহন বাহের বাড়িত পাডান লাগতাছে, তোমার পুতেরে এহন এডি কে বুঝায় যে মায়ার উদ্দেশ্য খারাপ আছিল না কিন্তু তরিকা ভুল আছিল।হেয় তো পারলে মায়ারে মাইরা হালায়।
স্বামীর ধমকে খালেদা খাতুন চুপসে গেল,বাদল মাস্টার কিছু সময় চুপ থেকে বললো
বাদল:::: ঐ ফহিন্নি বেডিরে ভালা কইরা বুঝাইয়া দিবা এডি যেন মনে না রাহে,লগে তোমার পুতেরে বউরেও বুঝাইবা, আমি ঝামেলা চাই না, গেছে বার জালাল মিয়া কইয়া দিছে হের মাইয়ার ঊনিশের তে বিশ হইলে আর দিতো না, তা না দিলে না দেক মাইয়ার কি অভাব দুনিয়ার কিন্তু তোমার পুতের যা ভাউ দেহি ,হেয় তার বউ ছাড়া কিছুই চোহে দেহে না, বউ না থাকলে হেয় তো বৈরাগীর বেশ ধরে, সংসারে অশান্তি চাইনা আমি তাই এই ঘটনা এইনোই শেষ করন ভালা।
কথাটা বলেই বিছানায় শুয়ে পরলো উনি, খালেদা খাতুন চুপ করে বসেই ছিল, বাদল মাস্টার তা দেখে বললো
বাদল::::: বইয়া আছো যে ,এহন কি তোমার পুতের মতো তোমারেও তেল মারতাম! হারিকেনের আলো কমাও আর হুতো এইনো আইয়া, স্বামীর প্রতি তোমার কোনো নজর নাই খাতুন হতাস আমি
খালেদা খাতুন লজ্জায় লাল হয়ে গেলো,এই বয়সেও এই লোকের কথা তাকে লজ্জায় ফেলে, সারাজীবন ধরেই এই লোকটা এমন, সারাদিন শাশুড়ি হুমকি, ধুমকি ,শাসন সহ্য করার পেছনে এই একটাই তো কারন,যা তাকে শাস্তি দেয়, একটা তো মহিলাদের জীবন,সুখ-শান্তি সব তো এখানে।
হারিকেনের আলো নিভিয়ে বিছানায় গা লাগাতেই মাস্টার জড়িয়ে ধরলো স্ত্রী কে।
বাদল::::কাছে আহো বর্ষায় ভালা শীত নামাইয়া দিছে
খালেদা::::: একখান কতা কই
বাদল::::: সংসারের প্যারা ছাড়া যা মন চায় কও
খালেদা::::: আন্নের পুত আন্নের মতই হইছে
বাদল::::: হেই কারনেই কিছু কইবার পারিনা
______________________
ভেজা গায়ে শীত করছে রেবেকার, সবাই যার তার ঘরে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পরেছে, আশ্চর্যের বিষয় হলো শাশুড়ি তাকে একবারের জন্যও খেতে ডাকেনি ,উল্টো তাকে দেখে বলেছে ঘরে যাও বৌউ। মিলনও তার খোঁজ করেনি, অসহায় বোধ করছে রেবেকা,আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না পা টিপে টিপে নিজের ঘরের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো,ভয় করছে তার মিলন কি সত্যি বাড়িতে নেই,না থাকলে একা একা ঘরে থাকতে তার ভয় করবে। হঠাৎ করেই পেছনে মাসুদের ঘরের দরজা খোলার শব্দ হলো, শব্দ শুনে রেবেকা ভয়ে ঘরে ঢুকে পরলো, মাসুদকে তার কেমন যানি লাগে,কেমন লাগে তা সে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে না, তবে অন্য সবার মত সাধারন মনে হয় না। এর পেছনে অবশ্য একটা কারণ আছে, মেয়েরা ছোট থেকেই পুরুষদের কথা বলার ধরন,তাদের তাকানোর ধরন এবং আচরণ ভালো না খারাপ তা বোঝার ক্ষমতা রাখে, রেবেকা ও তার ব্যতিক্রম না।
//_____গত বছর যখন মাসুদ বাড়ি এসেছিলো, তখন পুকুরে গোসল করতে গিয়ে লুঙ্গি সঙ্গে নিতে ভুলে যায়, পুকুরপাড় থেকেই তখন চিৎকার করে খালেদা খাতুন কে লুঙ্গি দেওয়ার জন্য ডাকে, খালেদা খাতুন তখন কাজে ব্যস্ত থাকায় রেবেকাকে বলে মাসুদ কে লুঙ্গি দিয়ে আসতে। মাসুদ এখানে থাকে না তাই ,রেবেকার সাথে মাসুদের কথা খুব কম হয়েছে, তবে সেদিন যখন রেবেকা লুঙ্গি দিতে চায় তখন মাসুদ অপত্যাশিতভাবে একটা কথা বলে বসে
মাসুদ::::: ভাউজ আন্নের এহনো শইলেরডা হয় নাই ঠিক না,হেরলাইগাই শইল এহনো এমন খড়ি কাডি কাঁচা, মিয়া ভাইয়ের পাকা হাত পরলেই সব পাইকা যাইবো।
কথাটি বলে এই মাসুদ হোব করে হেসে ওঠে।
রেবেকার কাছে সেই হাসি বিশ্রী লেগেছিল তখন।
তারপর যখন রেবেকা বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল, তখন তার দাদী মুক্তা বেগম সবার সম্পর্কে নানান কথা জিজ্ঞাসা করছিল তখন, রেবেকা মাসুদের বলা কথাটা বলতেই মুক্তা বেগম হায় হায় করে উঠে, এবং রেবেকা কে বারন করে মাসুদের কাছে না ঘেঁষতে। তারপর থেকে রেবেকা দাদির কথায় দূরত্ব বজায় রেখেই চলে এসেছে______//
মাসুদ বাহিরে বের হয়ে শব্দ করে কাঁশতে কাঁশতে পায়খানার দিকে যাচ্ছে বোধ হয়, রেবেকা ঘরের ভেতর দেখলো হারিকেনের আলো একটু জ্বলছে ,তাতে ঘরের অন্ধকার একটুও কমছে না,হারিকেন টা মাটিতে রাখা তার জন্য হয়তো,ঘরে ঠান্ডা বাতাস বইছে, জানালা খোলা, রেবেকার যখন চোখে অন্ধকার সহ্য হয়ে এলো, সে দেখতে পারলো, গোলাকার জ্বলন্ত কিছু, ভালো করে লক্ষ্য করতেই অন্ধকারের মধ্যে জানালার ধারে মিলন কে দেখতে পেলো দাঁড়িয়ে বিড়ি টানছে, রেবেকার উপস্থিতি টের পেয়েও নড়াচড়া নাই লোকটার, রেবেকাও ভয়ে কথা বলে না, আপাতত শুকনো কাপড়ের সন্ধানে পা বাড়ালো পাশের ঘরে, বহুদিন ধরে থাকতে থাকতে অভ্যস্ত সে, তাই অন্ধকারে হাতিয়েই শুকনো কাপড় পেয়ে গেল। পেটের মধ্যে খিদায় শব্দ করছে খুব,কোনো রকম কাপড় পরে ঘরে এসে দেখলো হারিকেনের আলো বাড়ানো ,তবে মিলন ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।
রেবেকা কথা বললো না কোনো চুপচাপ বিছানার দিকে যেতেই মিলন বলে উঠলো
মিলন::::: খাইয়া হুতো
রেবেকা দাঁড়িয়ে পরলো ঢেক্সুর উপরে তাকিয়ে দেখলো খারাপ রাখা
রেবেকা::::; আন্নে খাইছুন
মিলন উত্তর দেয় না, রেবেকা যানে মিলন খায়নি,এটুকু তো সে বঝেই সে একটুখানি এগিয়ে গিয়ে বললো:
রেবেকা::::: খাইতাইন না
মিলন নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বিড়িই টানছে, রেবেকা পুনরায় জিজ্ঞাসা করেই যাচ্ছে তবে মিলন কথা বলছে না।
মিলনের মাথায় ঘুরছে অন্য কিছু, তখনকার বলা তার বাবার কথা, বাবার শেখানো টোটকা।
//আমেনা বেগমের সাথে হাতাহাতি করে রেগে গিয়ে মিলন যখন বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল তখন বাদল মাস্টার তার পেছনে ছুটে তখন বাপ ছেলের মধ্যে অনেক কথা হয়, কথা কাটাকাটিও হয়, কথায় কথায় বাদল মাস্টার ছেলেকে শাসন করে অনেক উপদেশ দেয়। অনেক ঝাড়ি মারে কথাও শুনায়।
বাদল:::: বিবি কি তোমার একাই আছে দুনিয়াতে আর কারো নাই, বিবিকে শুধু আদর কইরা মাথায় তুইলো না,প্রয়োজনে মাঝে মাঝে একটু শাসন কইরো, তার সব প্রয়োজন মিটাইলেই হইবো?চাওয়ার আগেই জিনিস হাজির করলেই হইবে?তারও তো তোমার মন বোঝন দরকার, তোমার অপছন্দের কাজ না করা শিখোন দরকার, কিছু হইলেই সে কয় থাকতাম না, চইলা যামু, তায় তুমি তারে এত আদর কইরা কি অর্জন করলা?
কিছু ঊনবিংশ হলেই তোমারে ছাইড়া যাইবার চাই !! হ মানতাছি আমার মায়া সবকিছুতে বাড়াবাড়ি করে অতিরিক্ত করে, কিন্তু হেয় আমার মায়া,তারে কি মারুন যাইবো, কাডুন যাইবো ? মায়া কি তোমার আম্মারে কম জ্বালাইছে, কিন্তু এত কিছুর পরেও তোমার আম্মা কতো সরল মনের,কেন যানো কারন আমি তার সরলতা ধইরা রাখছি, প্রয়োজনে আমি তোরে শাসন করছি, আবার প্রয়োজনে আমি তারে আদর করছি। পাল্লা পাথরের দুই থালিঐ সমান রাখার চেষ্টা করছি। মায়ার স্বভাব পরিবর্তন করা আমার কাম্য না, এটা আমি পারতাম না কোনোদিন, কারন তা আমার হাতে আছিল না, কিন্তু আমার স্ত্রী রে, আমি আমার মত কইরা গইড়ে নিছি তা আমার হাতে ছিল। তাতে তো তোমার উপকারই হইছে তোমার বিবি সরল স্নেহশীল-যত্নশীল হোউরি পাইছে।তাই তোমার উচিত পাগলামী না কইরা নিজেরে সংযত রাখা। সংসরে সুখ বজায় রাখতে চাইলে, আমার এই বোঝানোটা রে টোটকা হিসেবে ব্যবহার করতে পারো তুমি,বাকি তুমি ছুডো আবু না যে তোমারে বুঝাইতে হইবো//
পুনরায় পেছন থেকে রেবেকার ঢাকে মিলনের ভাবনার ছিট ঘটলো
রেবেকা:::: হুনুইন না খাইয়া লন
এবার মিলন পেছনে ফিরে তাকালো রেবেকার দিকে,শীত করছে রেবেকার দেখে বোঝাই যাচ্ছে, বৃষ্টিতে ভিজে চুল গুলো থেকে পানি পরছে, মিষ্টি কালার সুতির কাপড় গায়ে, ফর্সা হাত দুটো আরো বেশি ফর্সা লাগছে মিলনের চোখে, লাল ঠোঁট দুটো শীতে কালচে বর্ণ ধারণ করেছে , হালকা কাপছে তা। সুন্দর গোল মুখ খানা শুকনো লাগছে ,দেখে বোঝা যাচ্ছে প্রচুর ক্ষুধা লেগেছে তার। অন্ধকারে দ্রুত ব্লাউজ পরাতে উল্টাপাল্টা বোতাম লাগিয়েছে রেবেকা যে কারণে বুকের মধ্যখানের খানিকটা অংশ দেখা যাচ্ছে, মিলন রেবেকা কে আপাতমুস্তক খেয়াল করে শুকনো ঢোক গিলে।
এই আদুরে বিড়াল ছানার মত ছোট্ট বিবি থাকে সে কি বলে শাসন করবে, যাকে দেখলে শুধু ভেতর থেকে আদর আসে আর কিচ্ছু না। এত সময় ধরে শাসন করার প্রস্তুতি নেওয়া মিলন রেবেকা কে দেখে মুহূর্তেই সব ভুলে বসল, দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে রাখা গামছা দিয়ে রেবেকার ভেজা মাথার চুল মুছতে লাগলো
মিলন::::: সোনা এই রাইতে ভিজবার গেছো কেন,এহন যদি জ্বর আহে
রেবেকা:::: খাইতাইন না
মিলন:::: খাইবার তো বিবি,চুলডি মুইছা লই আগে,কহন উঠছো তুমি
রেবেকা:::: মেলাক্ষণ হইছে
মিলন:::: এতক্ষণ মেঘে ভিজছো তুমি বিবি , তোমার না শইল ভালা না রাইতে বাইরে গেছো কে ডর নাই?
রেবেকা:::: রান্দা ঘরে আম্মা আছিল ,আন্নে কি আমার উপর রাইগা আছুইন।
মিলন:::: কেন মনে হইলো
রেবেকা:::: উহ্ আস্তে মুছুইন না চুলে মাতায় দুক্কু আমার
মিলনের মনে পড়ে গেল বিকালে রেবেকার বলা কথা, তার দাদি ওর চুল ধরে টেনেছিল, সেই বিষয় মাথায় রেখেই তো বুড়ির চুল ধরে সেও ইচ্ছামত টেনে দিয়েছে। সাহস কত মিলনের বিবির চুলে হাত দেয়। কতশত অজস্র চুমু বসিয়েছে সে এই চলে, ঘুমের মধ্যে যখন চুল এলোমেলো হয়ে তাকে বিরক্ত করে, তখন তার বিবি ঘুমিয়ে থাকে সে কতো যত্নে এক হাতে ধরে রেখেই গোটা রাত ঘুমায়, ঘুম ভেঙে দেখে যেভাবে ধরেছিল সেভাবেই আছে।সেই চুল ধরে টানে। কথাগুলো ভেবে মিলন রেবেকার ভেজা চুলে মুখ ডুবিয়ে দিলো।
বিসমিল্লাহ বলে কয়েকটা চুমু বসালো।
মিলনের এমন সহজ আচরণে রেবেকা ও সহজ হয়ে গেল, একটু আগে তার ভেতরে থাকা ভয়টা হারিয়ে গেল, তাৎক্ষণিক ঘুরে দাঁড়িয়ে মিলনের কোমর দুহাতে ছড়িয়ে ধরে আহ্লাদি কণ্ঠে বললো
রেবেকা:::: খাইতাইন না, আমার খুব খিদা লাগছে,পেডের ভিত্তি ডাকতাছে দেহুইন।
মিলন রেবেকার কালচে ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে ছিলো, রেবেকা কথাটি বলা শেষ হতেই ঠোঁটে ঠোঁট দাবিয়ে দিল মিলন, গাঢ় চুম্বনের সঙ্গেই বক্ষ ভাজে হাত বাড়িয়ে ব্লাউজের বোতাম গুলো ঠিকঠাক লাগাতে লাগলো মিলন, এসব ছোঁয়ায় রেবেকা অভ্যস্ত, অসস্থির বদলে এটাই এখন স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সে দুহাত বাড়িয়ে মিলনের গলা জড়িয়ে ধরল।
গাঢ় চুম্বনের ইতি টেনে , কপালে কপাল ঠেকিয়ে নাকে নাক ঘষে, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মিলন বিড়বিড় করে রাবেকাকে বলে:
মিলন:::: শইল ভালা হয় না কেন বিবি ?
রেবেকা:::: আমি কিভা (কিভাবে)কইতাম !
মিলন:::: তয় কেডায় কইবো ?
রেবেকা:::: আমার খিদা ধরছে
মিলন:::: আমারোও
কথাটা বলেই মিলন রেবেকার গালায় শক্ত চুমু বসালো
রেবেকা::::: ওহ্ দুক্কু লাগে
মিলন হাসলো তা শুনে কারণ সে জানতো রেবেকা এমন কিছুই বলবে, মূলত এ বাক্য শোনার জন্যই ইচ্ছা করে কামড় দিয়েছে।
মিলন রেবেকার চুল ভালোভাবে মুছে পুরো পিঠ জুড়ে ছড়িয়ে দিল যাতে দ্রুত শুকিয়ে যায়, তারপর নিজের হাতে ভাত মেখে নিজেও খেলো, রেবেকা কেও খাওয়ালো, বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে পা না রাতে নাড়াতে , তৃপ্তি করে স্বামীর হাতে ভাত খেলো রেবেকা, ভাবটা এমন যে গোটা দিন কিছুই হয়নি, মিলন রেবেকা কে দেখছে আর ভাত মেখে খাওয়াচ্ছে, মুখে তার মিষ্টি হাসি, মনে মনে মিলন আওড়ালো:
::: সবার মত বউরে যে শাসনোও করতে হবে তেমন তো কোথাও লেখা নাই, আমার বিবিরে আমি শাসন করবার পারতাম না,তারে দেখলেই আমার ভেতর তনে আদর আহে আমি আদরই করুন, বাকি রইল সুখের সংসার গড়া তা আমার বিবি আস্তে আস্তে নিজেই শিক্ষা লইব।
মনে মনে কথাগুলো বলে মিলন হাসে, টুপটুপ করে রেবেকার গালে চুমু খায় সাথে ভাত খায়।
খাওয়া শেষ হতেই ,রেবেকার চুলে হালকা করে একটা বেনুনি বেঁধে দেয় মিলন, তারপর হারিকেনের আলো কমিয়ে দিয়ে, বিবিকে বুকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো, রেবেকার গলায় মুখ খুঁজে চোখ বন্ধ করলো,যেনো দুনিয়ার সব সুখ এখানেই।
চলবে.................