ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিপক্ক

১৯তম পর্ব

লেখক: যাজিবা_ জাবিন

#অপরিপক্ক 

#পর্ব_১৯
#যাজিবা_জাবিন 
#গ্রামীন_প্লটে_লেখা_সামাজিক_রোমান্টিক_গল্প 
(⛔ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ⛔ চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)
____________________
সারারাতের বৃষ্টির পর বৈশাখের ভোরে গ্রাম যেন অন্য এক রূপে ধরা দেয়। গরমে ক্লান্ত প্রকৃতি হঠাৎই হয়ে ওঠে সজীব ও প্রশান্ত। ভেজা মাটির গন্ধে বাতাস হয়ে ওঠে আরও তাজা, চারদিকে ছড়িয়ে থাকে নতুন জীবনের আভাস। কাঁচা পথের ধুলা ধুয়ে গিয়ে নরম কাদায় রূপ নেয়, গাছের পাতাগুলো ধুয়ে-মুছে চকচকে সবুজ হয়ে ওঠে।
বৈশাখের সকালের হাল্কা রোদ মেঘের ফাঁক গলে নরম আলো ছড়ায়, যেন প্রকৃতি একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। কোথাও কোথাও কোকিলের ডাক ভেসে আসে, আবার ভেজা বাতাসে মিশে থাকে আম-কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধ। চারপাশে এক অদ্ভুত শান্তি—গরমের মাঝে বৃষ্টির এই স্বস্তি যেন গ্রামের প্রতিটি কোণে এনে দেয় এক প্রশান্ত, স্নিগ্ধ অনুভূতি।
 
আমেনা বেগম ফজরের আজানের ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়েই, মাসুদ সহ রওনা হয়েছে নিজের বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে, খালেদা খাতুন আর ঘসেটি বেগম তাকে বাড়ির আঙিনায় অব্দি এগিয়ে দিতে এলো, মাসুদ সাদা পাঞ্জাবি সাদা লুঙ্গি মাথায় সাদা টুপি পরে দাদির কাপড়ের থলেটা হাতে নিয়ে আগে আগে হাঁটছে,কলির সবে মাত্র ঘুম ছুটেছে সে দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায় দাদির চলে যাওয়া তার মোটেও ভালো লাগছে না তবে গত কালকের ঘটনাতে সে ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। রেবেকা মিলন এখনো ঘরেই, তাদের দরজা বন্ধ, সুন্দরীর মা উঠানে বসে আছে সে চলে যাবে রেবেকার সাথে দেখা করার জন্য বসে আছে।
ঘসেটি বেগম আমেনা বেগমের পেছনে যেতে যেতে আমেনা বেগম কে বলে :
ঘসেটি::: মাওই মা সাবধানে যান, বাপের বাড়ির তনে সুবুদ্ধি অর্জন করেই ফিইরা আইয়েন।
আমেনা বেগম এর গা জ্বলে গেলো তার কথায়, তার বাড়িতে এসে তাকেই কথা শুনানো হচ্ছে, খালেদা খাতুন দাদীকে ইশারা করে চুপ থাকতে বলে, কিন্তু ঘসেটি বেগম তা শুনলে তো, বহু বছরে একটু কথা শোনানোর সুযোগ পেয়েছে এত সহজে ছেড়ে দেবে। 
ঘসেটি::: বুঝলেন তো মাওই , মানুষ যা যা করে তার কিছু কিছু নজিরা আল্লাহ বাইচা থাকতেই দেহায়,তাই কর্ম করার আগে ভাইবা বুইঝা করন লাগে। পুতেরে তো আঙ্গুলের ইশারায় কম নাচান নাই, আমার নাতনিরেও কম সাতান নাই ( জ্বালান নাই) তয় দেহের নাতিরে পারলেন না।
আমেনা::: বৌ তোমার বু রে কতা কম ক‌ইবার ক‌ও, আমি কিন্তু এক্কারে যাইতাছিনা,এই বাইত কিন্তু তোমার থাহুন লাগবো, আমি ফিরলে তোমার খবর আছে ক‌ইলাম।
মাসুদ তা শুনেই দাঁড়িয়ে পরলো, ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো দাদির দিকে, নাক মুখ কুঁচকে বলল:
মাসুদ::: আমার আম্মারে শাসাইয়া কিছু ক‌ইয়ো না বু আমার ক‌ইলাম সহ্য করার ক্ষমতা নাই ভাইজানের মতো,দেহা যাইবো মুক্তাগাছায় না নিয়ে অন্যহানে ফালাইয়া রাইখা আহুম
এই কথা শুনে ঘসেটি বেগম হো হো করে হেসে উঠলো, আমেনা বেগম তাজ্জব বনে গেল ছোট নাতির কথায়। মন খারাপ করে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো: 
আমেনা:::: ও মায় মায় গো কাগোরে কোলে পিঠে কইরা বড় করলাম গো,না খাওয়াইয়া তোগরে খাওয়াইছি গো আইজ এই কথা হুনার লাইগা গো ,আমার মরন হয় না কেন গো ‌।
মাসুদ::: হ হ‌ইছে হ‌ইছে নাকে কান্দন লাগতো না, কিছু হ‌ইলেই এই এক কতাই ক‌ও,আর কিছু নাই ক‌ওয়ার,হাত ধরো রাস্তায় পেক অনেক আছাড় খাইয়া প‌ইড়া কোমড় ভাঙ্গলে ,বিছনায় হাগবা মুতবা,তহন তোমার গু-মুত পরিষ্কার করার দায়িত্ব আবার আমার আম্মার ঘাড়ে পারবো ।
কথাটা বলেই দাদির হাত ধরে হাঁটা ধরলো মাসুদ।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মিলন দেখলো দাদির চলে যাওয়া, রেবেকা কাচুমাচু হয়ে বসে আছে বিছানায়,সে বাহিরে যেতে চাইছিল কিন্তু মিলন বলেছে একটু পরে যেতে, মিলন আমেনা বেগম এর যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল, এখন রেবেকা তার সামনে না পরলেই ভালো, দাদির সাথে দেখা হলে যদি গতকালকের কথা মনে পড়ে যায় রেবেকার। তখন যদি আবার চলে যাওয়ার কথা বলে। মিলন যতটুকু চিনে তার বিবিকে বেশি সময় এক বিষয় তার বিবি মনে রাখেনা, বয়স কম বলেই হয়তো কুটিলতা-জটিলতা,খারাপ লাগা গুলো নিজের ভেতরে ধরে রাখতে পারেনা।
দাদির জন্য মন খারাপ লাগছে মিলনের,শতো হক দাদি ভালোবাসে তাকে, বৃদ্ধ মানুষ অসুস্থতা লেগেই থাকে তার, যত্নে না থাকলেই ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হয়, কিন্তু এই বয়সেও তার দাদির জ্ঞান অপরিপক্ক হয়ে আছে,কি দরকার ছিলো সম্পর্কগুলো এত জটিল করার। কোথায় সবার সম্পর্ক সে এক সুতায় বেঁধে রাখবে তা না করে উল্টোপাল্টা কাজ করে বসে থাকে। মিলন ভেবে ফেলেছে সাত দিন পর গিয়ে নিয়ে আসবে আমেনা বেগম কে। রেবেকা ততদিনে এইসব ভুলে যাবে, তাকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য সে তো আছেই।
রেবেকা:::: দোর খুলতাইন না, আমার মুতে ধরছে আর কতো চাপাইয়া রাহুম।
মিলনের ধেন ছুটে গেল, রেবেকা কথা শুনে 
মিলন:::: এতো জোরে চাপছে আগে ক‌ও নাই কেন, এডি আটকে রাখলে কিডনিতে সমস্যা হয় বিবি 
রেবেকা:::: আন্নেই তো দোর খুলবার দিতাছুইন না 
মিলন:::: তয় তুমি ক‌ইবা না পাগল 
কথাটি বলতে বলতে গিয়েই দরজা খুলে দিল মিলান 
মিলন::: যাও জলদি এমনিতেই অসুস্থ তুমি,আর কহনো এমন করবা না 
রেবেকা:::: আচ্ছা 
রেবেকা ঘরে থেকে বের হয়ে বাড়ির পশ্চিমের দিকে হাঁটা ধরে আর মিলন পুকুর পাড়ে, সকালে গোসল করে দোকানে যায় সে।
সুন্দরীর মা উঠানে বসে দুজনকে দুদিকে যেতে দেখল, রেবেকা ফিরে আসতে সুন্দরীর মা তাকে জিজ্ঞাসা করে 
সুন্দরীরমা:::এহন শ‌ইলডা ভালা 
রেবেকা একগাল হেসে বলে 
রেবেকা::: হ ভালাই
সুন্দরীরমা মুক্তা বেগমের বানানো বাঁশের তৈরি চুরি জোড়া রেবেকার হাতে দিল, রেবেকা তা দেখে খুশি হয়ে বললো
রেবেকা::: দাদিরে ক‌ইবা, আমার লাইগা তালপাতার পাখা বানাইয়া পাডাইতে, আগেরডা ভাইঙ্গা গেছে,এখন তো গরম পরবো মেলা, পাখা ছাড়া চলবো না।আর আম্মারে ক‌ইও ঘরের উত্তর দিকে যে আম গাছ আছে ঐ গাছের আম পাকলে আব্বারতাই দিয়া পাডাইবার,ঐ গাছের আম হেগোর জামাই মেলা ভালা পায়,পাকনা আম দিয়া দুধ দিয়া ভাত খা‌ইতে পছন্দ তার।
সুন্দরীরমা হাসলো রেবেকার কথায়, মনে মনে ভাবলো খালেদা খাতুনের কথাই ঠিক,রাগের মাথায় চলে যাওয়ার কথা বললেও সে ভুলেই গেছে,কি সুন্দর স্বামীর পছন্দের খাবারের কথা বলছে উৎসাহ নিয়ে। এটাই হচ্ছে সংসার জীবন।
রেবেকার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল সুন্দরী মা।
খালেদা খাতুন তখন রান্না ঘরে ছিল,সব শুনেছে সে। রেবেকা তখন রান্না ঘরে এসে শাশুড়ির পাশে বসে বললো:
রেবেকা:::: আম্মা আইজ আমি রান্ধি,আন্নে ক‌ইয়া দেইন কেমনে কি রান্ধুন লাগবো।
খালেদা খাতুন এক গাল হেসে বলে:
খালেদা::: তোমার শ‌ইলেরডা ভালা হ‌ইলে রাইন্ধো
বৌ, না পাক শ‌ইলে রান্ধোন লাগেনা, এক্কেবারে গা-গোছল দিয়াই রান্ধাবান্ধা ক‌ইরো
রেবেকা হাতের আঙ্গুলে কাপড়ের আঁচল পেচাতে পেচাতে বলে
রেবেকা::: কাইল রাইতে বৃষ্টিতে নাইছি আম্মা, আর কাইল থেইকা আমার শ‌ইল ভালা, আমি রান্ধি আন্নে দেহাই দেন।
বিনা সংকোচে রেবেকা কথাটি বলে দিল তার শাশুড়িকে, মিলন তখন গোসল করে এসে উঠানে দাঁড়িয়ে লুঙ্গি রোদে মেলে দিচ্ছিল, রেবেকা বলা কথাটা সে স্পষ্ট শুনতে পারলো, তা শুনা মাত্রই মিলনের কান দুটো গরম হয়ে উঠেছে, পাক্কা চৌদ্দ দিন পর সুস্থ হয়েছে রেবেকা। মিলনের ভেতরে কেমন একটা উত্তেজনা কাজ করছে, মিলন ঘরে গিয়ে বিছানায় বসে পরলো,আজ নতুন দোকানের মাল আনতে শহরে যাওয়া লাগবে, না হলে মিলন কিছুতেই আজ দোকানে যেতো না।
রেবেকা রান্না করছে দেখে ঘসেটি বেগম কপাল কুঁচকে তাকায় খালেদা খাতুনের দিকে, ইশারায় দুজনের কথা আদান প্রদান হয়,ঘসেটি বেগম সন্তুষ্টের হাসি হাসলো, তাদের ধারণা অনুযায়ী মরিচার চর থেকে যে বড় হুজুরের পানি পারা এনেছে এটা তারোই কামাল,কাল কয়েক বার সেই পানি ঘসেটি বেগম খাইয়েছে রেবেকা কে।
এ ঘটনায় পরিপেক্ষিতে হুজুরের পানি পরার উপর তাদের বিশ্বাস আরো শক্তপোক্ত হলো।মিলন নিজেও তাই ভাবছে।
****************************
অনেকদিন পর আগের মত আজকে সকালে রেবেকা মিলনকে ভাত বেড়ে দিলো হাসি মুখে,সাথে কলিও খাচ্ছে, আবহাওয়া ঠান্ডা তাই পাখার বাতাস দরকার পরছে না,মিলন খাবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে দেখে তার পছন্দের সব খাবার রেঁধেছে রেবেকা।নোনা ইলিশ ভুনা, ডালের বড়া, জামআলু ভর্তা আর হাঁসের ডিম ভাজা দিয়ে রেবেকা থালা সাজিয়ে তার সামনে রেখেছে। মিলন ভাত মুখে তুলে, রেবেকা কে উদ্দেশ্য করে বলে:
মিলন:::: এতো কিছু রান্ধার কি দরকার ছিল বিবি,ব‌ইয়া না থাইকা তুমিও খাও
রেবেকা::: আচ্ছা 
রেবেকা ভাত খাওয়া শেষ করলো সবার শেষে, মিলন তখন ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে তার অপেক্ষায়। সেই ঘুম থেকে উঠে বাহিরে বের হয়েছে,এখনো একবার ঘরে আসলো না মেয়েটা, বোঝেনা এখনো ঘরে স্বামী যে তার অপেক্ষায় আছে।
ঘসেটি বেগম বারান্দায় বসে কাঁচা সুপারি কাটছিল, বিজ্ঞ ঘসেটি বেগম বুঝতে পারলো মিলনের অস্থিরতা সে যেভাবে একদৃষ্টিতে রেবেকার দিকে তাকিয়ে আছে।
রেবেকা যখন এঁটো থালা বাটি নিয়ে পুকুরের দিকে হাটা ধরে তখন ঘসেটি বেগম তাকে থামিয়ে দেয়ে বলে:
ঘসেটি:::: মিলন বৌ এডি এহন রাহো তোমার হোওরি ধুইবোনে, অনেকক্ষণ ধইরাই রান্ধাঘরে তুমি, রাইন্ধা বাইরা খাওয়াইছো এখন ঘরে যাও।
রেবেকা::: বড়মা আমি ধু‌ইয়া আনি 
ঘসেটি:::: না রাহো ঘরে যাও 
রেবেকা শুনলো কথা, হাত ধুয়ে ঘরের দিকে হাঁটা ধরলো, মিলন তাকে আসতে দেখে বিছানায় গিয়ে বসে পরে। রেবেকা ঘরে ঢুকেই সরাসরি মিলনের সামনে এসে দাড়িয়ে বলে:
রেবেকা:::: আন্নে যে মেলার তে কিছু অনলাইন না আমার লাইগা !
মিলন রেবেকার আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে বলে:
মিলন:::: হেই কতা এহন মনে পরলো কেন?
রেবেকা:::: কলি আফার গলায় তরমুজ বিচির মালা পরছে দেখছুইন, হের সোয়ামি কিনা পাডাইছে।
মিলন:::: হের সোয়ামি ভালা যে তাই পাডাইছে 
রেবেকা কপাল কুঁচকে তাকালো মিলনের দিকে, অন্য সব সময়ের থেকে মিলনকে একটু আলাদা লাগছে তার কাছে, কথাও বলছে কেমন ভার ভার।
রেবেকা:::: কি হ‌ইছে আন্নের এইবা কতা ক‌ইতাছুইন যে 
মিলন:::: কিবা কতা ক‌ইতাছি,সত্য তো ক‌ইলাম কলির সোয়ামি ভালা তাই হগল জিনিস কিনা পাডায় 
রেবেকা:::: আন্নেও তো বহুত জিনিস কিনা আনুইন আমার লাইগা 
মিলন:::: তাইলে তো হ‌ইলোই, তোমার সোয়ামিও ভালা,নাকি ভালা না?
রেবেকা একগাল হেসে বলে 
রেবেকা:::: আমার সোয়ামিও ভালা 
মিলন রেবেকার হাত ধরে এক ঝটকায় নিজের কাছে এনে, বিসমিল্লাহ বলে রবেকার গালে কামড়ে ধরে
রেবেকা:::: আহহহহ্ দুক্কু লাগতাছে কামড়ান কে !
মিলন অ শ্লী ল ভাবে রেবেকা কে চেপে ধরে নিজের সাথে বলে:
মিলন:::: শ‌‌ইলেরডা ভালা হ‌ইয়া গেছে তোমার বিবি
রেবেকা::: হুম 
শুনেই মিলন আরো বেসামাল হয়ে ওঠে, রেবেকার শাড়ির আঁচল সরিয়ে মুখ গুঁজে গলায় 
রেবেকা:::: আস্তে ধরুইন না
মিলন:::: আমি শহরে যাইতাছি ফিরতে রাইত হ‌ইবো বিবি, আমার আইতে যতোই দেরি হোক তুমি কিন্তু ঘুমাইবা না, আমার লাইগা অপেক্ষা করবা মনে থাকবো বিবি।
রেবেকা:::: হ মনে রাহুম
মিলন রেবেকার ঠোঁটে শক্ত চুমু খেয়েই তাকে ছাড়লো।
রেবেকা:::: আইজ এতো জোরে চুমা দিলেন কেন,ঠোঢ জ্বলতাছে আমার।
মিলন:::: এহন তে চুমু জ্বলার মতোই দিমু।
রেবেকা:::: না লাগতো না আমার 
মিলন:::: আমার লাগবো
তা শুনে রেবেকা কাঁদো কাঁদো মুখে মিলনকে দেখে,
মিলন ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে:
মিলন:::: কলির জামাই তরমুজ বিচির মালা পাডাইছে মেলায় তে,আর আমি যে আমার বিবির লাইগা দুই ব্যাগ ভইরা সদাই পাতি করছি তা কি আমরা বিবি যানে।
রেবেকার কাঁদো কাঁদো মুখে মুহুর্তেই বড় হাসি স্থান পেলো এই কথা শুনে ।
রেবেকা:::: হাছা ক‌ইতাছুইন
মিলন খাটের অপর প্রান্তে রাখা ব্যাগ দুটোর দিকে ইশারা করে বলে: 
মিলন:::: নিজেই দেইহা ল‌ও
কথাটা বলে মিলন ছাড়ে রেবেকার কোমর, রেবেকা ছুটে ব্যাগ দুটোর কাছে, মিলন লুঙ্গির কাছা থেকে বিড়ির প্যাকেট বের করে বিড়ি ঠোঁটে রেখে, রেবেকা ব্যাগের ভেতর থেকে প্রথমেই জামাই-বউ এর মাটির পুতুল জোড়া বের করে,খুশি হয়ে বলে:
রেবেকা:::: কি সুনদর জামাই-ব‌উ দেখছেন, জামাই বউ খেলাডা চমৎকার জমবো, ঠিক না।
মিলন ঠোঁট কামড়ায় রেবেকার কথা শুনে, বিড়ি টানতে টানতে রয়ে সয়ে জবাব দেয়
মিলন:::: খেলা চমৎকারভাবে জমানোর লাইগাই তো তোমারে রাইতে ঘুমাইবার বারন করলাম বিবি।
রেবেকা:::: কেন আন্নে কি আমার লগে খেলবাইন?
মিলনে এগিয়ে গিয়ে রেবেকাকে টেনে তুলে দাঁড় করায়, পুনরায় শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে রেবেকার ঠোঁটে পরপর কয়েকটা চুমা বসিয়ে বলে:
মিলন:::: হুম, তুমি যতো দূর খেলতে পারো ততদূর খেলবাম সোনা।
______________________________
পরকীয়া চার অক্ষরের একটা শব্দ হলেও,
পরকীয়া ধীরে ধীরে একটি সংসারের ভেতরের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর নিরাপত্তাবোধকে ভেঙে দেয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে আস্থা ও সম্মান থাকা দরকার, তা নষ্ট হয়ে যায় এবং সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে শুধু দু’জন মানুষই নয়, সন্তানরাও মানসিকভাবে_পারিবারিকভাবে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
আমেনা বেগম এর বোনের মেয়ে রহিমা খাতুন,
রহিমার সংসারটা একসময় ছিল হাসি-খুশি আর স্বপ্নে ভরা। ছোট ছোট সুখ, স্বামীর সাথে গল্প, আর সন্তানের মুখের হাসিতেই তার পৃথিবী সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে, যখন সে বুঝতে পারে তার স্বামীর জীবনে অন্য কারো উপস্থিতি এসেছে।
প্রথমে রহিমা বিশ্বাস করতে চায়নি। নিজের মনকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছিল—হয়তো সে ভুল ভাবছে। কিন্তু আচরণের পরিবর্তন, দূরত্ব আর অবহেলা তাকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। স্বামীর সাথে কথোপকথন কমে যায়, ঝগড়া বাড়তে থাকে, আর সেই আগের ভালোবাসা যেন কোথাও হারিয়ে যায়।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় তাদের সন্তানরা। তখন রহিমার বড় মেয়ে চাঁদনীর বয়স তখন নয় বছর আর ছোট দুই ছেলের বয়স ছয়_চার ।
ঘরের অশান্তি, ঠান্ডা সম্পর্ক আর প্রতিদিনের তর্ক-বিতর্ক তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। রহিমা নিজেও দিশেহারা হয়ে পড়ে—একদিকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে নিজের সম্মান আর মানসিক শান্তির প্রশ্ন।
শেষ পর্যন্ত সেই সংসার আর টেকে না। ভেঙে যায় একসময়কার গড়ে তোলা স্বপ্নগুলো। স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে যায় বাপের বাড়ি, সেখানেও বেশিদিন ঠাঁই হয় না তার, তারপর মায়ের অনুরোধে মামার বাড়িতেই আশ্রিতা হয়ে থাকেন রহিমা। তিন সন্তানের বোঝা কমাতে দশ বছর বয়সেই চাঁদনীকে বিয়ে দিয়ে দেয় তার বয়সের পাঁচ গুণ বড় এক পুরুষের সঙ্গে। সেখানেও সুখ হয়না মেয়েটার, যৌতুকের জন্য নানান ভাবে অত্যাচার করা হতো তাকে, আশ্রিতা রহিমা মামার বাড়ি থেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে নিজের নিজের আর দুই ছেলের খরচ জোগাড় করতো। যৌতুক তো দূরের কথা,নিয়ম অনুযায়ী দুই ঈদে মেয়ের বাড়ি বাজার করে পাঠানোর সামর্থ্য তার ছিল না। চাঁদনী দেখতে সুন্দরী, রহিমা ভেবেছিল বয়সে বড় লোকের সাথে বিয়ে হলে তার মেয়ে আদরে থাকবে, চাঁদনীর জামাই বিয়ের জন্য নিজেই পাগল হয়েছিল, চাঁদনীর রূপ দেখে। 
তবে বেশিদিন সেই পাগলামি টিকে থাকে নি, কামনার মোহ কেটে যেতেই বের হয়ে আসে তার আসল রূপ,চাঁদনীকে শারীরিকভাবে অনেক অত্যাচার করত সে, মারধর করত চাঁদনীর ফর্সা চামড়ায় তার দাগ মাসের পর মাস তাজা থেকেছে। রহিমা বেগম সব সহ্য করে মেয়েকে পড়ে থাকতে বলতো তখন স্বামীর সংসারেই, রহিমা তখন একটা কথাই বলতো মেয়েকে, স্বামী মারধর করে আবার প্রয়োজনে, আদর করবে পরকীয়ায় লিপ্ত তো হয়নি তোর বাপের মতো।
চাঁদনী তখন মায়ের কথায় সহ্য করে পরে থেকেছে সেই সংসারে।
তারপর আড়াই বছরের সংসারের ইতি টেনে মুখে মুখে তিন তালাক বলে,চাঁদনীর জামাই বাড়ি থেকে বের করে দেয় চাঁদনী কে। জানা গেছে সাতদিন পরেই যৌতুক নিয়ে বিয়ে করেছে লোকটা। সেসব ঘটনাও দু'বছর পার হয়ে গেছে , চাঁদনীর এখন পনেরো বছর, বিবাহিত চাঁদনীর শরীরের গঠন বেশ আকর্ষণীয়।
আর সেই চাঁদনী সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে মাসুদ গতো বছর চাঁদনীর সাথে সম্পর্কের লিপ্ত হয়ে যায়, প্রতিশ্রুতি দেয় যে কোন মূল্যে সে তাকে বিয়ে করে বাড়িতে তুলবে। এসব কথা চাঁদনী হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে, তার মত মেয়েকে কেউ বিয়ে করে আর ঘরে তুলবে না।
রহিমা বেগম নিজের পেট চালাতে হিমশিম খায় দুই ছেলে নিয়ে, সেখানে চাঁদনী হচ্ছে বাড়তি ঝামেলা, তাই মেয়েকে নিজের মতো করে ছেড়ে দিয়েছে। চাঁদনী এখন জমিদার বাড়ির জলসায় নাচ গান করে নিজের পেট চালায়। অনেক সময় তাকে পরপুরুষ নিয়ে দরজা বন্ধ করতেও হয়।
আমেনা বেগমের বাপের বাড়ি পৌঁছাতে সন্ধ্যা হলো, মাসুদ দাদিকে রেখে ছুটলো জমিদার বাড়ির জলসায় চাঁদনীর কাছে, যাওয়ার আগে বেশ পরিবর্তন করে নিলো , লুঙ্গির সাথে মিলনের ঘর থেকে চুরি করে আনা একটা কালো শার্ট গায়ে জড়িয়ে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে বের হয়ে গেল। সকালে ঘসেটি বেগমের কাপড়ের থলি থেকে সত্তর টাকা চুরিও করেছে। সেই টাকা দিয়ে চাঁদনীর জন্য লাল চুড়ি কিনেছে, শার্ট চুরি করতে গিয়ে মিলনের ঘরে রাখা কাপড়ের বস্তা থেকে লাল রঙের একটা কাপড় এনেছে সে। আজ রাতে লাল কাপড় লাল চুড়ি পরিহিত চাঁদনীকে মন ভরে দেখবে মাসুদ, উত্তেজনায় গলা শুকিয়ে যাচ্ছে তার, এখন শুধু চাঁদনীর দর্শন পাওয়ার অপেক্ষা।
চলবে..........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন