ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিপক্ক

২১তম পর্ব

লেখক: যাজিবা_ জাবিন

#অপরিপক্ক 

#পর্ব_২১ 
#যাজিবা_জাবিন 
#গ্রামীন_প্লটে_লেখা_সামাজিক_রোমান্টিক_গল্প
 ⚠️প্রাপ্তবয়স্ক 
ছাড়া সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে পড়বেন ⚠️ 
(⛔ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ⛔ চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)
___________________________
চারদিকে গভীর অন্ধকার। আকাশে মেঘের ভার, মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের ক্ষণিক ঝলকানিতে ভিজে ওঠে গাছপালা, কাঁচা রাস্তা আর মাটির ঘরের ছনের চাল। ঘরের চালের বৃষ্টির পানি টুপটাপ শব্দ কখনো মৃদু, কখনো ঝমঝম করে নেমে আসে। ঞঞদূরে কোথাও ব্যাঙের অবিরাম ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা সুর আর বাতাসে দুলতে থাকা বাঁশঝাড়ের শোঁ শোঁ শব্দ মিলে তৈরি করে এক স্বাভাবিক রাতের সঙ্গীত।
দূরে থেকে পাখি ডাক ভেসে আসছে, হয়তো প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে পাখির বাসা ভেঙে গেছে।
ভেজা মাটির গন্ধ বাতাসে মিশে আছে। পুকুরের জলে বৃষ্টির ফোঁটা বৃত্ত তৈরি করে, আর তাল, নারকেল কিংবা আমগাছের পাতায় জমে থাকা পানি টুপটুপ করে নিচে পড়ে। এমন রাতে সময় যেন ধীরে বয়ে যায়। তবে আজকের চিত্রটি মিলনের জন্য অন্যরকম হয়ে উঠেছে, অবিশ্বাস্য ভাবে খুব জটিল পরিস্থিতিতে পরেছে সে। কি করবে কি বলবে ২৯ বছর বয়সী পুরুষ টা বুঝতে পারছে না, শুধু এটুকু উপলব্ধি করতে পারছে যে যেটা সে করতে চেয়েছিল সেটা ভুল। সত্যিই কি ভুল? নাকি তার ক্ষেত্রেই সমস্ত কিছুতে সামাজিকতার বাহিরে গিয়ে আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? কেন অন্য সকল পুরুষের মতো তার ক্ষেত্রে সবকিছু সহজ হচ্ছে না? নাকি সহজ কিছু সহজে তার ভাগ্যে জোটবে না? 
উদাম গায়ে,লুঙ্গি কোনা উঁচু করে দুদিক দিয়েই কোমরে গুজেছে, তার প্রশস্ত বুকজুড়ে অবিরাম বৃষ্টির ফোঁটা নীরব ছন্দে ঝরে পড়ছে। সে পুকুরপাড়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন,আঙুলের ফাঁকে ধরা জ্বলন্ত বিড়ি থেকে ধোঁয়ার সরু রেখা ভেজা বাতাসে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দুটি চোখ নিবিড়ভাবে স্থির পুকুরঘাটের দিকে।
তার চোখদুটি সামান্য কুঁচকানো চোখের মণিতে ঝলসে ওঠে দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও সংযত আবেগের মৃদু আভা,যেন প্রতিটি চাওয়ায় অগণিত না-বলা গল্পের অনুরণন।
মিলন চোখের পাতা দুটো বন্ধ করে বিড়িতে শেষ বারের মতো একটা টান দিলো।ভাবলো জীবনের কঠিন হিসাব নিকাশ এই মুহূর্তে এখানেই থামানো যাক। 
মিলন পুকুরে নামলো, পুকুর ঘাটে আগে থেকেই পড়েছিল রেবেকার পরনের কাপড়,সেটি হাতে তুলে নিলো মিলন। কাপুরটি পুকুরের পানিতে ভিজিয়ে বাংলা সাবান লাগিয়ে ধুয়ে নিলো ভালো করে। তারপর নিজেই নেমে গেল পানিতে, এতক্ষণ অবিরাম বর্ষণে ভিজেও তাঁর দেহের উত্তাপ এক বিন্দুও ম্লান হয়নি।
না কমেছে কামুক চাওয়া, হৃদয়ের দহন; প্রিয় স্ত্রীর সঙ্গ পাওয়ার আকুলতা অন্তরে অবিরাম স্পন্দিত হচ্ছিল।পানিতে গলা অব্দি ডুবে থাকলো বেশ কিছু সময়।
ওভাবে দাঁড়িয়ে থেকেই মিলন দেখতে পরছে,
হারিকেনের আবছা আলোয় জানালার ধারে নিঃশব্দে বসে থাকা তার ভীরু বিবির আশঙ্কায় কাঁপতে থাকা অবয়ব। মিলনের বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো, দুহাত দ্বারা মাথার চুল খামচে ধরলো সে, এই অপরিপক্কতার সমাপ্তিরেখা কোথায়। 
ঘরের জানালা খোলা হারিকেনের হলদে আলোটা দিপ দিপ করে জ্বলছে,খাটের উপরটা ফাঁকা, রেবেকার বিয়েতে বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া বিছানার তোষক চাদরসহ প্যাঁচিয়ে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে।খাটের মাচার ওপরে জানালার পাশে রেবেকা বসে আছে, খুব দুর্বল অনুভব করছে সে, একটু আগেই বৃষ্টির মধ্যে ঠান্ডা পুকুরের পানিতে গোসল করেছে তাই শরীরটা ঠান্ডা প্রচুর,তার মধ্যে ঠান্ডা আবহাওয়া, জানালা দিয়ে আসা বৃষ্টির ছিটার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস গায়ে পড়তেই তার অঙ্গটা মৃদু কেঁপছে। মিলনের পুকুরে গোসলের শব্দ জানালা দ্বারা তার কানে স্পষ্টই আসছে। হয়তো তার কান দুটো সেদিক টায় স্থির, তাতেই যেন তার শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে ভয়ে।কারন এই মুহূর্তে সে মিলনকে ভয় পাচ্ছে খুব।
______________________________
তখন মিলনের অতিরিক্ত ঘনিষ্টঠতা, দৃঢ়, বলিষ্ঠ রুক্ষ হাতের তীব্র স্পর্শ যা হঠাৎ অনুভূত করে ভয়
আশঙ্কা মিলিয়ে তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছিল। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এসেছিল, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছিল। সে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলে কখন যে বিছানায় মূত্রত্যাগ করে ফেলে, সে নিজেই বুঝতে পারেনি।
মিলন যখন বুঝতে পারে রেবেকার বিষয়টি; তখন
ঘরের নিস্তব্ধতা আরও ভারী হয়ে উঠল। লজ্জা, ভয় আর অসহায়ত্ব একসঙ্গে গ্রাস করে রেবেকা কে। চোখ বেয়ে নীরবে অশ্রু ঝড়ছিল ,তা ধীরে ধীরে ব্যথাতুর কান্নায় রূপান্তরিত হচ্ছিল। চৌদ্দ বছরের রেবেকার তখন মনে হচ্ছিল এক দৌড়ে সেখান থেকে ছুটে পালাতে, তাতে সামনের মানুষটির অবস্থা যাই হক না কেন।
মিলন অনেক সময় ওভাবেই স্তব্ধ হয়ে বসেছিল, তার দৃষ্টি ছিল হারিকেনের নিভু নিভু আলোয় আবদ্ধ। কক্ষে তখন রেবেকা গুনগুনিয়ে কান্নার শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দই হচ্ছিল না। কাঁদছিল সে কাঁপা গলায় বিলাপের সুর বারবার বলছিলো, নিজের বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা।কিছু হলেই তার বিবির এই একটাই কথা !
যা মিলনের কাছে খুব যন্ত্রণাদায়ক, মনে হচ্ছিল কেউ তার কানে গরম সিসা ঢেলে দিচ্ছে।এক ঝটকায় অতীতের ঘটনা মনে পরলো মিলনের, 
বিবি বিহীন তার রাতগুলো কতোটা হাহাকারে কেটেছিল। কিভাবে তাকে ফিরিয়ে এনেছে সব এক এক করে চোখের সামনে ভাসছিল।
হঠাৎ করেই মিলনের খুব ভয় হচ্ছে,তেমন ঘটনা পুনরাবৃত্তির হবেনা তার তো কোন গ্যারান্টি নাই, যেখানে তার বিবি অবুঝ স্পষ্টবাদী,কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে কেন কাঁদছে, কেন‌ই বা বাপের বাড়ি যেতে চাইছে, তাহলে নিশ্চিত এই পরিস্থিতির ঘটনা অন্যদের সম্মুখে চলে আসে, তখন লজ্জায় কোথায় মুখ লুকাবে মিলন, তাছাড়া রেবেকা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও দেখা যাবে,এই ঘটনা নিয়ে সবাই তাদের মজা উড়াবে।
তখন রেবেকাই তাকে প্রশ্ন করবে,বলবে;
আমি না হয় অবুঝ ছিলাম কিন্তু আপনি তো বিজ্ঞ ছিলেন এমন একটা ঘটনা হতে দিলেন কেন ? তখন মিলন সেই প্রশ্নের উত্তর কি বলবে !
;বিবি তোমাকে কাছে পেতে আমি উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলাম, ম রে যাচ্ছিলাম, কোন বিবেক কাজ করছিলো না! ছিঃ 
এক মুহূর্তে কত কিছু ভেবে ফেললো সে ! নিজের ভাবনাগুলোর ওপর নিচে আশ্চর্য হচ্ছিলো মিলন!
কিন্তু বিষয়গুলো ভেবে কিছু সময় আগের হাস্য উজ্জ্বল চঞ্চল আবেগি মিলন, পুরোপুরি গাম্ভীর্যের আবরণ নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করলো, আবেগ,অনুভূতি,চাওয়া-পাওয়া খাতা বন্ধ করে একপাশে রেখে। দায়িত্বশীল পুরুষ রুপে নিজের তুলে ধরলো।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে, রেবেকাকে সাহস দিতে সহজ গলায়, কিছুটা বানানো কথাই রেবেকাকে বলে দিলো;
মিলন::* কাইন্দোনা বিবি এঢি সহজ বেপার,সব জামাই-ব‍উ এর মধ্যেই হয়।সব বেডাগো বিবিরাই প্রথমবার এমন করে এইনো ডরের কিছুই নাই।
মিলনের কথা শুনে রেবেকা কান্না থামলো সময় নিয়ে,তবে উঠে বসেনি, ওভাবেই পরে ছিল, রেবেকা মিলনের বলা কথাটাই ভাবছিল হয়তো,তা বুঝতে পারে মিলন,তবে বেশি ভাবতে না দিয়ে পুনরায় বলে। 
মিলন::* আরে উঢো এহন,ল‌ও দিঘীর পাড়ে,মেঘ কমছে মনে হয়।
রেবেকা আস্তে ধীরে উঠে বসলো এই পর্যায়, ব্লাউজ গায়ে নেই, উদাম বক্ষ, চোখ আটকায় সেথায়, মিলনের ঘোর লাগছে পুনরায়, ইচ্ছা করছে কাছে গিয়ে ছুঁয়ে দিতে, তবে নিজের আবেগকে শক্তভাবে আটকায় সে এক প্রকার টেনে হিঁচড়ে অন্যথায় মুখ ঘুরিয়ে নিল তার চোখ ঝাপসা হচ্ছে, চোখে জলন অনুভব করছেন, হয়তো নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভেতরের আকাঙ্ক্ষা টাকে দমিয়ে রেখেছে বলেই।অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে, দুই অধর সামান্য ফাঁক করে সে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। পুনরায় নরম সুরে বললো:
মিলন::* বিবি কাপড়ঢা শ‌ইলে পেচাও ঠিক ক‌ইরা,মেঘ কমছে ল‍ও গোসল ক‌ইরা আই।
কথাটা বলতে বলতেই মিলন কোনা চোখে পর্যবেক্ষণ করে রেবেকা কে,ভয়ে কাঁপছে মেয়েটা, কাঁপা হাতে গায়ের কাপড় টেনে ঠিক করছে,সত্যিই ভয়ে আছে রেবেকা তাই তো কথা বলছে না কোনো।
ভীতু রেবেকা কে একটু সময় দিলো মিলন,আর কথা বলবো না, বিছানা থেকে নেমে লুঙ্গি ঠিক করতে করতে ঢেক্সুর উপর থেকে বিড়ির পেকেট তুলে দরজা দিকে গেল,কাঠের দরজাটি খুলে চৌকাঠে দাঁড়িয়ে দুই ঠোঁটের মাঝে বিড়ি রেখে দিয়াশলাই জ্বালিয়ে বিড়ি ধারিয়ে টানতে থাকলো মিলন, ওভাবেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে মনকে শান্ত করার চেষ্টা চালালো।
গুনে গুনে তিনখানা বিড়ি শেষ করলো তবে, রেবেকা বের হলো না, মিলন যেন এখানেও ধৈর্যশীলতার পরীক্ষা দিচ্ছে, ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। চতুর্থ বিড়ি শেষের দিকে রেবেকা চৌকাঠে পৌঁছায়, তাকে আসতে দেখে মিলন চৌকাঠ ছেড়ে বারান্দায় নামে।
কোনা চোখে বিবির পানে তাকিয়ে লক্ষ্য করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাতছে। মিলন বুঝতে পারলে তার করা কীর্তিকলাপের কারণে কোথাও আঘাত পেয়েছে। একটু বিচলিত হয়ে রেবেকার দিকে এগোলো মিলন 
মিলন::* বিবি কুনো লাগছে দেহি 
রেবেকা মিলনকে তার কাছে আসতে দেখেই চমকে যায়, ধরতে দেওয়া তো দূর সে পিছিয়ে যায় ফলে দরজার কাঠের সাথে মাথায় টোকা লাগে,ভয়ে রেবেকা পুনরায় কান্না করে। মিলন হতবিভর হয় দেখে তার বিবির কান্না, তার বিবি কি তাকে প্রত্যাখ্যান করছে,তার কাছে যাওয়া আদর স্পর্শ সবকিছু কি প্রত্যাখ্যান করে দেবে, এসব কি এতই সহজ,তবে কি একটুতেই আমার শান্তি শেষ।
মিলন ভয় হলো, সে নিজের অনুভূতিকে বাঁধ মানাতে পারল না। এক অদৃশ্য টানে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল রেবেকার কাছে। তাকে প্রত্যাখ্যান করার কোন সুযোগ না দিয়ে, আবেগভরা দৃষ্টিতে রেবেকার মুখখানি নিজের দু’হাতের মাঝে তুলে নিয়ে, মৃদু স্বরে উচ্চারণ করল
“বিসমিল্লাহ।” মুখটা রেবেকার মুখের কাছে নিয়ে,একের পর এক চুম্বনে ভরিয়ে দিলো রেবেকার মুখমণ্ডল।মিলনের ভেতরের অস্থিরতা যেন আরও বেড়ে উঠল, তবু সে থামল না।নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বললো;
মিলন::* বিবি ও বিবি, আমার সোনা বিবি, তুমি আমারে ডরাইয়ো না সোনা, তুমি আমার বিবি তো,আর জামাই-বিবির ভিতরে এঢি হ‌ইবোই তো, হগলের লগেই হয়, এঢিই তো আদর-সোহাগ বিবি।তোমার প্ররথম তাই ডরাইতাছো ,আর কাইন্দ না, তোমার ইচ্ছা না থাকলে আমি আর এমন সোহাগ করতাম না,তাও তুমি আমার কাছ থাইকা দূরে থাইকো না।
কথাগুলো বলেই মিলন আবার রেবেকার অশ্রুসিক্ত মুখের গভীর আবেগে একের পর এক চুম্বন আঁকে।রেবেকার কম্পিত শরীরের অস্থিরতাকে উপেক্ষা করে মিলন তাকে নিজের দৃঢ় বাহুর বন্ধনে জড়িয়ে ধরল। রেবেকা নিজেকে ছাড়াতে চায়, তবে পারলো না, তার কোমল অধর মিলন নিজের অধরের ভাঁজে আঁকড়ে ধরলো। ততক্ষণে ছাড়লো না যতক্ষণ না রেবেকা তার সাথে একটু কথা বললো।
_______________________________
মিলন গোসল সেরে ফিরেছে, ধোয়া লুঙ্গি আর কাপড় বারান্দায় মেলে দিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে, ফাঁকা বিছানায় তাকিয়ে দেখে এক পলক, তখন রেবেকা কে বারান্দায় দাঁড় করিয়ে বিছানার তোষক আর চাদর নামিয়ে মাটিতে রেখে গিয়েছিল মিলন,কালকে দিনে কিছু একটা বেবস্থা করতে হবে, আজকের রাতটা পার হক কোন ভাবে। রেবেকা তখনো বিছানার কোনায় বসেছিল মিলন তার দিকে তাকিয়ে ছোট্ট বাক্যে বলল। 
মিলন::* জানলাঢা লাগাইয়া দেও এহন, তোমার কি এহন শীত লাগতাছে না?
রেবেকা উত্তরের শুধু নীরব মাথা নাড়ায়, মিলনের কথা মতো জানালা বন্ধ করে দেয়।
মিলন কথাটি বলেই পাশের কক্ষে চলে যায়, সেখান মোটা ষাঁড়ের বস্তায় রাখা ছিল তার বিছানার আগের তোষক টা , যেটা বিয়ের পর বিছানা থেকে উঠিয়ে রেখে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ি থেকে দাওয়া তোষক খাটে পেতেছে তাই। আজকে ভাগ্যক্রমে পুনরায় সেটা কাজে লাগলো। মিলন তোষক হাতে শোবার কক্ষে আসতেই রেবেকা বিছানা ছেড়ে দাঁড়ায়, মিলন বিছানা গোছাচ্ছে আর জোরে জোরে হাচ্ছি দিচ্ছে, সেই শব্দে রেবেকা চমকে উঠছে। রেবেকা দেখলো লোকটা বারবার হাতের উল্টো পাশ দিয়ে নাক ডলছে।
তখন ওভাবে জাপটে ধরে আদর করায়, রেবেকা কাঁপতে থাকা শরীর আর ভয়ের ভার বুকের মধ্যে চেপে রেখেই কথা বলেছে ,ছোট্ট করে অস্পষ্ট সুরে বলেছিল:
;শীতে ধরতাছে ছাড়ুইন।
শুধু এটুকুই মিলন তাকে ছেড়ে দিয়েছিলো।
বিছানা ঠিকঠাক পাতা শেষ করে মিলন বলে:
মিলন:: হুইতা পরো বিবি, আমার ঘুমে ধরছে।
বলতে বলতেই মিলন বিছানায় নিজের স্থানে শুয়ে পরে, মূলত সে চাইছে না রেবেকার সাথে এই মুহূর্তে বেশি কথা বলে,তার ভয় বাড়িয়ে দিতে তাই সহজ হওয়ার জন্য নিজে একাই শুয়ে পড়লো। যাতে রেবেকা ও স্বাভাবিকভাবে নিঃসংকোচে অন্যান্য দিনের মতো তার পাশে শুয়ে ঘুমাতে পারে।
মিলন উল্টো পাশ ফিরে শুয়ে ছিলো, হারিকেনের আলোতে মাটির দেয়ালে রেবেকার ছায়া পরেছে,মেয়েটি তখনো বসেই আছে মিলন‍ও ওই ভাবেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার ছায়াবিবির দিকে। রেবেকা বেশ কিছু সময় বসেছিল, মিলন ধরতে পারছে না রেবেকার মনোভাব।
তবে কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মিলনের ভাবনায় সঠিক হলো,একটু বুঝি ভয় কাটলো তার বিবির।তন্দ্রায় আচ্ছন্ন রেবেকা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নিত্যদিনের ন্যায় বিছানায় নিজের স্থানে গা মিশিয়ে দিলো।তার একহাত উঠে গিয়েছে মিলনে উদাম উদরের, বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্যভাগ। মিলন নিঃশব্দে নিজের নিম্নাধর দাঁতে চেপে ধরল,চোখ বুজে সে এক অস্থির দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করল।এতক্ষণ যেন তার বক্ষে এক অদৃশ্য পাহাড়ের ভার চেপে ছিল।রেবেকার সামান্য স্পর্শেই যেন এতক্ষণ বক্ষে চেপে থাকা অদৃশ্য ভার নেমে গেল,মুহূর্তেই তার বক্ষ হালকা হয়ে উঠল।সে বিরবির করে "বিসমিল্লাহ" আওরালো; অপরিসীম স্নেহে সে নিদ্রামগ্ন বিবির হাতখানি সযত্নে নিজের মুঠোয় তুলে নিল। পরম মমতায় ঠোঁটের কাছে এনে একের পর এক স্নেহচুম্বনে ভরিয়ে দিল। চোখ বুজে সেই কোমল হাতখানি নিজের গাল ও মুখমণ্ডলে বুলিয়ে নিলো, যেন এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি অনুভব করল সে। তারপর ধীরে ধীরে হাতটি নিজের উদরের ওপর স্থাপন করে বলিষ্ঠ বাহুর মৃদু আলিঙ্গনে আগলে রাখল। হৃদয়ের সমস্ত অস্থিরতা যেন মুহূর্তেই প্রশমিত হলো। অতঃপর এক গভীর প্রশান্তির আবেশে সে নিঃশব্দে চোখ বুজে রইল।
মিলনের জন্য এই সামান্য প্রশান্তিটুকুই প্রয়োজন ছিল; নয়তো রাতটি তার কাছে অনন্ত দীর্ঘতায় প্রসারিত হতো। চোখ বুজে সে ভাবল, রেবেকার অপরিপক্ক সরলতাই যেন অপ্রত্যাশিতভাবে পরিস্থিতিকে সহজ করে দিয়েছে। আবার সেই সঙ্গে তার মনে হলো—অপরিপক্ব বয়স অনেকটা কেরোসিনের শিখার মতো; মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে, আবার সামান্য বাতাসেই নিমেষে নিভেও যায়।
*****************************
"মুক্তাগাছা রাজবাড়ী"  
একসময় বৃষ্টির শেষ ফোঁটাটিও নিঃশব্দে মাটির বুকে হারিয়ে গেল। ধীরে ধীরে আকাশের কালো মেঘ সরে যেতে লাগল। যেন প্রকৃতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বুকের ভার নামিয়ে রাখল।  
মুহূর্তের মধ্যেই আকাশজুড়ে একে একে জ্বলে উঠল অসংখ্য তারা। ধোয়া-মোছা নির্মল আকাশে তাদের আলো আরও উজ্জ্বল, আরও গভীর হয়ে উঠল। ভেজা পাতার ডগায় জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটাগুলো তারার আলোয় মুক্তোর মতো ঝিলমিল করতে লাগল। চারদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা—শুধু দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক, আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধে ভরে থাকা রাত।  
রাজবাড়ীর অতিথি বিদায় নিয়েছে চাঁদনী ঘর ছেড়ে। কিন্তু চাঁদনীর বুকের ভেতরটা যেন অদৃশ্য এক ঝড়ে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। এত দিন পর মাসুদকে সামনে দেখেও একটি কথাও বলতে পারল না সে। তার কাছে যাওয়া নিয়েও কেমন একটা সংশয় অনুভব হচ্ছে, যা আগে হয়নি। কেমন একটা অপরাধবোধ আঁকড়ে ধরে রেখেছে তার পথ। কেন? মাসুদ তাকে ভালোবাসার কথা বলেছিলো, বিয়ে করবে বলেছে তাই! হ্যাঁ হয়তো বা। এসব আকাশকুসুম স্বপ্ন সে দেখে না। দিব্যি দিন চলছে, পয়সাও উপার্জন হচ্ছে। খেয়ে পরে বেঁচে আছে এটাই তো অনেক।
রাত আরও গভীর হলো। গ্রামের মানুষজন নিশ্চয়ই গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। অনেকক্ষণ দ্বিধায় থাকার পর চাঁদনী ঘরের দুয়ার খুললো। কেন জানি তার মন বলছে মাসুদ এখানেই আছে। চাঁদনীর মনের কথা সঠিক প্রমাণিত করে দিল মাসুদ। চাঁদনীর মাটির ঘরের পেছনে বকুল ফুল গাছটার নিচে মাসুদ বসে আছে। কাকভেজা তার অঙ্গ। দীর্ঘ সময় প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরেও সে চাঁদনীর বাড়ি ত্যাগ করেনি। প্রচুর অভিমান আর জেদ ধরে ওভাবে বসে ছিল মাসুদ।  
চাঁদনীকে দেখে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে উঠে দাঁড়ালো মাসুদ। দুজনেই কিছুক্ষণ নীরব। মাসুদ মৃদু স্বরে বলল।
*মাসুদ::* তুই এহনো দেহি আগের মতন আছোস চাঁদনী। খালি তর চোখ দুইডা আগের তেনে বেশি কষ্টের কতা কওয়া শিখছে।
চাঁদনী মলিন হেসে মাথা নাড়ল। বুঝতে পারে অত্যাধিক রাগে আছে মাসুদ। তবে এই রাগের যথাযথ কোন কারণ খুঁজে পেল না চাঁদনী। তার জীবিকার পথ যে কী, দিনযাপন আর অন্নসংস্থানের জন্য তাকে কত কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চলতে হয়—সে সবই মাসুদের অজানা ছিল না। চাঁদনীর জীবনের প্রতিটি দুঃসহ অধ্যায় সম্পর্কে সে অবগত। তবে সবকিছু জেনেও তবে এত অভিমান কিসের? চাঁদনীও মাসুদের মতোই তার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল।
*চাঁদনী::*আমার মতন নাচনেওয়ালির চোহে সুখ মানায় কি, মাসুদ।
মাসুদ এক পা এগিয়ে এসে দাঁত কটমট করে বলে;
*মাসুদ::* আমি আইজও তরে বিয়া করবার চাই। মাইনষে কী কইলো, তা লইয়া আমি কি বইয়া আছি। আমার কুনো ডর নাই।
চাঁদনীর ঠোঁট কাঁপছে। হাসি ঝিলিক ওঠে ঠোঁটে, কিন্তু চোখ বেয়ে নেমে এল অশ্রু।
*চাঁদনী::* তুই সমাজের কতা ভাবছ না, কিন্তু সমাজ তরে ছাড়তো না। আইজকা আমারে ঘরে তুলবি, কাইলকা আমার পরিচয় দিবার যাইয়া তর ইজ্জতে লাগবো। অপমান হবি। একদিন হেই অপমানের ভারে তুই আমারে ঘৃণা করা শুরু করবি। আমি হেই দিনের অপেক্ষায় বাঁচবার চাই না। এর চেয়ে ভালা যেমনে আছি থাহি।  
দাঁত কটমট করে মাসুদ বলে;
*মাসুদ::* একশ বেডার লগে হুইতা
*চাঁদনী::* হেরা কেউ আমার অন্তর ছুইবার পারে নাই। তর আমার ঠোঁট বেশি পছন্দ। তাই এইনো আমি কাউরেই ছুইবার দেই না। এইনো খালি তুই ছুইবি।
চাঁদনীর কথা শুনে মাসুদের অস্থির লাগছে। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
*মাসুদ::* তুই বিশ্বাস কর। আগে আমি তর কাছে মজা করবার আইতাম, কিন্তু সেই মজা এহন পিরিতের রুপ ধরছে। পিরিত কি মাইনষের পরিচয় দেইখা হয়?
চাঁদনী বোঝে এই একই অনুভূতি তাকেও তাড়া করে বেড়ায়। তবে সে প্রকাশ করার সাহস পায়নি। চাঁদনী ধীরে উত্তর দিল,
*চাঁদনী::* না হয় না, কিন্তু দুনিয়া পিরিতের নিয়মে চলে না। চলে মাইনষের বানাইন্না নিয়মে। রাইত এখনো বহুত বাকি। আয় ঘরে আয়।
মাসুদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। নড়ে না, কথাও বলে না। চাঁদনী খুব সাহস করে মাসুদের হাত আঁকড়ে ধরে বলে।
*চাঁদনী::* শইল তো বহুত ঠান্ডা হইছে। শইলডা গরম করন লাগবো। আয় আমার লগে।
চাঁদনী নীরবে মাসুদের হাত ধরে নিজের ছোট্ট মাটির ঘরে নিয়ে এলো। মাসুদের বৃষ্টিভেজা অবসন্ন দেহের দিকে গভীর মমতা আর নিভৃত আকুলতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল চাঁদনী। নীরবে তার ভেজা জামাটি আলতো হাতে খুলে রাখল। সে অনুভব করল, এমন নিবিড় টান, এমন অনুচ্চারিত অনুভূতি তার হৃদয়ে কেবল মাসুদের জন্যই জাগে—অন্য কারও জন্য নয়। চাঁদনী মনে মনে ভাবল, এ-ই কি তবে পিরিতের টান? যদি হয়ও, তবে সে অনুভূতির কথা উচ্চারণ করার দুঃসাহস তার নেই। নীরব থাকাই যেন তার নিয়তি। দিন যেভাবে বয়ে যাচ্ছে, সেভাবেই না হয় বয়ে যাক—সব পিরিতের পরিণতি তো মিলন হয় না; কিছু পিরিত গোপনেই থাকুক।  
মাসুদ ক্লান্ত দেহ নিয়ে কাঠের চৌকিতে শুয়ে পড়ল।  
ঘরের প্রদীপটি নিভিয়ে দিতেই চারদিকে নেমে এল গভীর অন্ধকার। বাইরে ভেজা রাতের নীরবতা, আর ভেতরে দুইটি ক্লান্ত হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস—কোনো শব্দ নয়, কোনো প্রতিশ্রুতিও নয়; শুধু নীরব উপস্থিতিতে তারা একে অপরের বেদনা, ভয় আর অপূর্ণ ভালোবাসাকে আশ্রয় দিল। ধীরে ধীরে চাঁদনী মাসুদের নিকট নিজেকে বিলীন করতে মরিয়া হল। কামুক নারীর স্পর্শে মাসুদ নিজেকে হারিয়ে ফেললো গভীর থেকে গভীরে।
**************************
"মরিচারচর"
ভোরের প্রথম প্রহরে, যখন আকাশে আলো আর অন্ধকারের মিতালি, ঠিক তখনই দূর মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসে আজানের সুমধুর ধ্বনি। সেই আহ্বান যেন নিস্তব্ধ প্রকৃতির বুকে ঢেউ তোলে, শিশিরভেজা বাতাসে ছড়িয়ে দেয় এক অপার্থিব প্রশান্তি। মনে হয়, সমস্ত ক্লান্তি, সব দুঃশ্চিন্তা এক নিমেষে মিলিয়ে গেছে অদৃশ্যের অতলে। হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন তখন নীরবে সাড়া দেয় সেই পবিত্র আহ্বানে, আর আত্মা অনুভব করে স্রষ্টার সান্নিধ্যের এক অনির্বচনীয় শান্তি।
প্রতিদিনের মতো আজও ভোরের আলো ফোটার আগেই আসমানীর ঘুম ভেঙে গেল। খবিরুন নেসা তখনও গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে সে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। মাটির চুলায় রাতভর নিভে থাকা কয়লার এক টুকরো হাতে নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে ধীর পায়ে পুকুরঘাটে এসে দাঁড়াল।  
এই বাড়িতে ঘসেটি বেগম ছাড়া তার থাকতে ভালো লাগে না। মূলত ঘসেটি বেগমের জন্যই সে এই বাড়িতে থাকছে-খাচ্ছে, কিন্তু ঘসেটি বেগম যে বীরপুরে গিয়েছে, ফেরার নাম নিচ্ছে না। আসমানী তো সঙ্গে যেতে চেয়েছিল, ঘসেটি বেগমও সঙ্গে নিতে রাজি ছিল, কিন্তু মাঝখান থেকে হাসমত সওদাগর তাকে আটকে দিল। তা অবশ্য তার কারণেই।  
সেই রাতে মিলনকে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার প্রস্তাবের পর থেকেই হাসমত আর আসমানীকে আগের মতো স্নেহের দৃষ্টিতে দেখছে না। সেখানে বীরপুরে যেতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।  
মিলনের কথা মতো হাসমত সওদাগর তলে তলে তার বিয়ের জন্য পাত্র দেখছে, তবে আসমানী বিধবা বলে বিয়ের কথা আগাচ্ছে না।  
তবে আসমানীর খুব করে ইচ্ছা করছে বীরপুর যেতে। ছোটবেলা থেকে সেখানকার অনেক কথা শুনেছিল, কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি। মনটা ছটফট করছে তার। মনে মনে আসমানী সিদ্ধান্ত নিলো, হাসমত সওদাগরের কাছে আরেকবার বীরপুর যাওয়ার অনুমতি চাইবে। যদি না বলে তো সে কাউকে কিছু না বলে একাই চলে যাবে।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই আসমানীর হাত থেকে কয়লার টুকরোটি নিঃশব্দে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল। ধীর পায়ে সে পুকুরঘাটে নেমে এলো। দুই হাত একত্র করে স্বচ্ছ জল তুলে মুখে ছিটিয়ে দিল। সকালের স্নিগ্ধ বাতাসে মিশে থাকা শীতল পানির পরশে মুহূর্তেই এক অপার্থিব প্রশান্তি নেমে এলো তার মনে। অজান্তেই চোখ দুটি বুজে এল।  
কিন্তু সেই প্রশান্তির আড়ালেই চোখের পাতাজুড়ে ভেসে উঠল এক মনোহর পুরুষের মুখচ্ছবি। সে চোখ খুলল না; যেন চোখের পাতার অন্তরালেই সেই প্রতিচ্ছবিকে আটকে রাখতে চাইল। জানত, চোখ খুললেই হয়তো সে হারিয়ে যাবে—তবু ক্ষণিকের সেই মায়াময় উপস্থিতিকে ধরে রাখার বৃথা প্রয়াস চালিয়ে গেল আসমানী।  
ওযু শেষ করে আসমানী নীরবে ঘরে ফিরে এলো। জানালার ফাঁক গলে আসা ভোরের কোমল আলোয় সে জায়নামাজে দাঁড়াল। নামাজ শেষ করে দু'হাত তুলে রবের দরবারে মুনাজাতে ডুবে গেল।  
নিজের জন্য কোনো অবাধ্য কিংবা নিষিদ্ধ কামনা সে করল না। স্বার্থপরের মতো নিজের সুখও চাইল না। তবে বুকের গভীরে যে শূন্যতা এতদিন ধরে নীরবে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে, তার জন্য প্রার্থনা করতে তো কোনো নিষেধ নেই।  
************
একটু আগেই ফজরের নামাজ শেষ করেছে ঘসেটি বেগম। ঘরের বারান্দায় বসে চানাচুর-মুড়ি খাচ্ছে সে। তার পাশে কলি বসে আছে, তবে সে মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছে না। এমনিতেই তার গ্যাসের সমস্যা হয়, আর এখন তো সে গর্ভবতী।  
খালেদা খাতুন রান্নাঘরের মাটির চুলায় আগুন ধরিয়েছেন। মৃদু আঁচে জ্বলে ওঠা সেই চুলার ওপর তিনি সযত্নে ভাতের পাতিলটি বসিয়ে দিলেন। বেশিরভাগ সকালে এই কাজ রেবেকা করে, তবে আজ সে এখনো ঘর থেকে বের হয়নি। খালেদা *লক্ষ্য* করলো আজ তার ছেলে মিলনও ঘর থেকে বের হয়নি। ছেলে বউয়ের ব্যাপার তাই বেশি দূর না ভেবেই খালেদা খাতুন রান্নায় মনোযোগ দিলো।
ঘসেটি বেগম আর কলি একে অপরের দিকে *চাওয়াচাওয়ি* করছে। দুজনের দৃষ্টি ঘুরেফিরে মিলনের ঘরের দরজার দিকে আবদ্ধ হচ্ছে। গতরাতে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার তাগিদ অনুভব করতেই কলি বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল। তার সাথে ঘসেটি বেগমও। তখন তারা মিলনের ঘরের আলো জ্বলতে দেখেছে। মধ্যরাতে ওই সময় আলো *জ্বলার* ব্যাপারটা তাদের দুজনকে অন্য কিছু ভাবাতে বাধ্য করছিলো। এখন মিলনের ঘরের বারান্দায় মেলে রাখা মিলনের ভেজা লুঙ্গি ও রেবেকার কাপড় তাদের ধারণাকে আরও দৃঢ় করে দিল। তখন আর বুঝতে বাকি রইল না, গভীর রাতেই তারা দুজনে গোসল সেরেছে।  
স্বামী-স্ত্রীর গভীর রাতে একসঙ্গে গোসল করার অর্থ কী, তা আর তাদের বুঝতে বাকি রইল না। অব্যক্ত ইঙ্গিতটি নীরবেই স্পষ্ট হয়ে উঠল। তারা দুজনেই একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হাসি হাসলো।
চলবে.............

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন