#অপরিপক্ক
#পর্ব_২২
#যাজিবা_জাবিন
#গ্রামীন_প্লটে_লেখা_সামাজিক_রোমান্টিক_গল্প
(⛔ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ⛔ চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)
_______________
ফজরের নামাজের পর হৃদয়ে নেমে আসে এক অপার্থিব প্রশান্তি। চারদিকে তখন ভোরের কোমল আলো ধীরে ধীরে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়ে। শিশিরভেজা ঘাসের ওপর সূর্যের প্রথম সোনালি রশ্মি যেন মুক্তোর দানার মতো ঝলমল করে। দূর থেকে ভেসে আসে পাখিদের সুমধুর কলতান, আর হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ধানক্ষেত প্রকৃতির নীরব সঙ্গীত রচনা করে। মেঠোপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, সৃষ্টিকর্তার অসীম কুদরতের সবই যেন একসাথে। ফজরের ইবাদতের প্রশান্তি আর ভোরের নির্মল সৌন্দর্য একাকার হয়ে হৃদয়কে ভরে তোলে কৃতজ্ঞতা, শান্তি ও আত্মিক পরিতৃপ্তিতে। এমন পবিত্র সকালে প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন আল্লাহর অশেষ নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
"মুক্তাগাছা রাজবাড়ী"
ভোরের নামাজ শেষে মসজিদের পঁয়ষট্টি বছর বয়সী মুয়াজ্জিন মিজান মোল্লা প্রতিদিনের মতো আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে করতে মেঠোপথে পা বাড়াল। হাতের আঙুলে অবিরাম তাসবিহ ঘুরছে। প্রতিদিন এভাবে হাঁটতে হাঁটতে সে বর্গা দেওয়া ধানের জমিগুলো পরিদর্শনে যায়। বর্ষার মৌসুম, ক্ষেতে অতিরিক্ত পানি জমে ফসলের ক্ষতি হয়ে যাবে কি না—এই চিন্তায় তার কপালে মৃদু ভাঁজ। রাজবাড়ীর উত্তর পাশে তার বেশ কিছু ধানের জমি আছে, আর ঠিক তার পাশেই রয়েছে কাল কচুর এক মস্ত বড় ক্ষেত। ময়মনসিংহের এই কাল লতিরাজ কচুর সুনাম দেশজুড়ে। এর লতি আর কন্দ এতটাই সুস্বাদু যে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশের বাজারে এর ব্যাপক কদর রয়েছে। আর এই জনপ্রিয়তার কারণেই মিজান মোল্লা প্রতি মৌসুমে নিজের কয়েক কাঠা জমিতে বেশ যত্ন করে এই কাল কচুর আবাদ করে।
গতকালই তার বাড়িতে বড় বোন আমেনা বেগমের আগমন ঘটেছে। নামাজের উদ্দেশ্যে যখন সে মসজিদের দিকে আসছিল, তখন বোনের কাছে জানতে চেয়েছিল দুপুরে কী খেতে মন চায়। বোন সস্নেহে জানিয়েছিলেন তার প্রিয় কচুর বড়া আর চ্যাপা শুটকি দিয়ে লতি-কাঁঠালের বিচির তরকারির কথা। প্রিয় বোনের সেই আবদার মেটাতেই আজ ফজরের নামাজ শেষে সোজা কচু ক্ষেতের দিকে হাঁটা ধরল মিজান মোল্লা।
তবে সে ভাবতেও পারেনি যে এমন একটা বিশ্রী দৃশ্য তার চোখে পড়বে। মিজান মোল্লার ছোট বোন শিরিনা খাতুনের মেয়ে রহিমা খাতুন স্বামীপরিত্যক্তা ও আশ্রয়হীন। বহু বছর আগে মামারা দয়া করে নিজেদের এক টুকরো জমিতে তাকে একটা ঘর তুলে আশ্রয় দিয়েছিল। সেই রহিমার মেয়ে চাঁদনীকে তারা ধুমধাম করে বিয়েও দিয়েছিল। কিন্তু যৌতুকের দাবিতে স্বামী তাকে তালাক দেয়। এরপর সেই মেয়ে যখন রাজবাড়ীর নাচনেওয়ালি হিসেবে যোগ দিল, তখন মোল্লা বাড়ির এতকালের সম্মান এক মুহূর্তে মাটির সাথে মিশে গেল। মোল্লারা নিজেদের আভিজাত্য ও ইজ্জত বাঁচাতে রহিমার সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করল। তবে মৃত ছোট বোন শিরিনার বাপের বাড়ির ওয়ারিশি স্বত্বের কারণে রহিমার মাথার ওপর থেকে আশ্রয়ের ছাদটুকু তারা কেড়ে নেয়নি ঠিকই, কিন্তু আগের মতো কোনো প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা বা আত্মীয়তার পরিচয় আর রাখা হয়নি।
লোকমুখে শোনা যায়, সেই চাঁদনী এখন আর তার মায়ের সাথেও থাকে না। রাজবাড়ীর নর্তকীদের জন্য বরাদ্দ করা ছোট্ট মাটির এক কুঠুরিতে সে একা বাস করে।
আজ ভোরবেলা মিজান মোল্লা যখন কচু ক্ষেতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীর পেছনের আমবাগানের সংক্ষিপ্ত পথটি ধরেছিল, ঠিক তখনই সে মাসুদ ও চাঁদনীকে একসাথে হাঁটতে দেখে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। রাজবাড়ীর পেছনের বাগানের ঠিক মাঝখানে একটা পুরোনো দীঘি আছে। গভীর বাগানের ভেতরে হওয়ায় এই দীঘির পাড়ে সাধারণ মানুষের আনাগোনা এমনিতেই কম, আর ভোরবেলা তো একেবারেই থাকে না। চাঁদনী ও মাসুদ—দুজনই দীঘিতে গোসল সেরে, হাতে সাবানের কৌটা আর ভেজা কাপড় নিয়ে ওদিক থেকে হেঁটে এসে সোজা চাঁদনীর ঘরে ঢুকল।
মুহূর্তেই মিজান মোল্লার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। মাসুদ যে গত রাতটা এখানেই কাটিয়েছে, তা বুঝতে আর বাকি রইল না তার। কিন্তু সে যতদূর জানে, মাসুদ তো বরিশালের কর্ণকাঠী ইজ্জতুল আলিম মাদ্রাসায় হাফেজি পড়ছে! সেই ছেলে কীভাবে একজন নাচনেওয়ালির ঘরে রাত্রিযাপন করতে পারে? ছিঃ! আর ভাবতেই পারছে না সে। এটাও কি সম্ভব? এই নষ্ট মেয়েটা শেষমেশ মাদ্রাসার একটা দ্বীনদার ছাত্রকেও ছাড়ল না!
তীব্র ক্ষোভ আর অপমানে মিজান মোল্লার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগল। সে এমনিতেই উচ্চ রক্তচাপের রোগী, হঠাৎ মাথায় প্রচণ্ড চাপ অনুভব করল; যেন চারপাশটা ঝাপসা হয়ে আসছে। এই কলঙ্কিত সংবাদ তার বোন জানতে পারলে কী দশা হবে? আর সে নিজেই বা এই সত্য বোনের কাছে গোপন রাখবে কীভাবে? এখানে যে শুধু বোনের শ্বশুরবাড়ির মর্যাদা নয়, তাদের নিজেদের বংশের সম্মানও জড়িয়ে আছে। একবার যদি এসব জানাজানি হয়, তবে সমাজের মানুষ তাদের মুখে থুতু দেবে। মোল্লা বাড়ির এতকালের অহংকার ধুলোয় মিশে যাবে।
*********************
"বীরপুর"
সকালে ভাতের সাথে টমেটো আর কাঁচামরিচ দিয়ে ছোট মাছের চচ্চড়ি রেঁধেছে খালেদা খাতুন, সাথে আছে শুকনো পাটশাক ভাজি। খালেদা ঘরের বারান্দায় শীতলপাটি বিছিয়ে তার ওপরই সকালের খাবার বাড়ছিল। বাদল মাস্টার খেয়েদেয়েই স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। স্কুলে এখন অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে, তাই তিনি বেশ তাড়াহুড়ো করেই মুখে ভাত তুলছেন। খাওয়ার এক ফাঁকে ওনার দৃষ্টি চলে গেল ছেলে মিলনের ঘরের দিকে। সকাল থেকেই ওনার চোখে পড়েছে একটা অদ্ভুত ব্যাপার—তার দাদি শাশুড়ি ঘষেটি বেগম মিলনের বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলির সাথে নিচু স্বরে কী যেন ফিসফিস করছেন। তবে বাবা কিংবা শ্বশুর হয়ে তো আর ঘরের এসব অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে সরাসরি নাক গলানো যায় না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ব্যাপারটা ওনাকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে। দেওয়াল ঘড়িতে তখন সকাল আটটা ছাপ্পান্ন। এখন তো অন্তত ছেলের ঘুম থেকে ওঠা উচিত। বউ না হয় বয়সে ছোট, কিন্তু ছেলে তো আর ছোট নয়!
খালেদা খাতুন যখন স্বামীর পাতে আরও এক চামচ ছোট মাছের চচ্চড়ি তুলে দিচ্ছিল, ঠিক তখনই বাদল মাস্টার নিচু গলায় স্ত্রীকে বলে উঠলেন:
বাদল: পুত একখান বিয়াইছো খানেবজ্জত
সরলমনা খালেদা খাতুন হঠাৎ স্বামীর এই কথার কারণ বুঝতে পারল না। সে অবাক দৃষ্টিতে স্বামীর মুখের পানে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল;
খালেদা: আন্নে এইতা কতা কইতাছুইন কেলা, আমার পুতে কি বজ্জাতি করলো? হুনি
বাদল: চোহে দেহনা, এখন বাজে কয়ডা? ঐ ইত্তুদুলা মাইয়াডারে লইয়া এহনো তোমার পুতে হুইতা আছে কিবা? খানেবজ্জত দেইহাই এখনো হুইতা আছে।
খালেদা খাতুন হঠাৎ করেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে মুচকি হেসে স্বামীর পানে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল;
খালেদা: পুতে খানেবজ্জাত হইলে, পুতের বাপেও খানে খানে খানেবজ্জাত আছে। পুতেরে বয়সের কালে বাপ বজ্জাতি করছে দেইহাই বজ্জাত পুত বিয়াইছি।
স্ত্রীর এমন রসাত্মক ও বাঁকা কথা শুনে বাদল মাস্টার যেন মুখের ভাত চিবোতেই ভুলে গেলেন। তিনি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ভাবলেন—তার এই সহজ-সরল বউ এত ঘোরানো কথা রাতারাতি কোত্থেকে শিখল? মুখের গ্রাসটুকু কষ্টেসৃষ্টে গিলতে গিলতে বাদল মাস্টার মনে মনে এই চাতুর্যের সম্পূর্ণ দোষ তার দাদি শাশুড়ি ঘষেটি বেগমের ঘাড়ে চাপাতে লাগলেন। নিশ্চিত এই বুড়ির কুন্ত্রণাতেই সরল খালেদা এমন পাকা পাকা কথা বলতে শিখেছে!
____________________
বাদল মাস্টার স্কুলে চলে যাওয়ার পর ঘষেটি বেগম ও কলি দুজনে ভাত খেতে বসল। এতক্ষণ তিনি নাতি আর তার বউকে একটু একা থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে ভাতের থালায় হাত দেওয়ার আগে ঘষেটি বেগম একটি শক্ত মাটির ঢেলা মিলনের ঘরের দরজার দিকে ছুড়ে মারলেন। এর আগে তিনি বারবার কলিকে বলেছিলেন দরজায় গিয়ে ধাক্কা দিতে। কিন্তু ভাইয়ের ভয়ে কলি রাজি হচ্ছিল না। আর ঘষেটি বেগম সম্পর্কে বড়মা হওয়ায় তিনিও নিজে যেতে পারছিলেন না,দাদি আথবা নানি হলে এতক্ষণে কখন গলা চিরে ডাক শুরু করে দিত। তা তো পারবেনা তাই এটাই ছিল মিলন ও রেবেকার ঘুম ভাঙানোর তৃতীয় উপায়।
গত রাতে কী ঘটেছে, তা জানার জন্য ঘষেটি বেগমের ভীষণ কৌতূহল। যদি ঘটনাটি তাঁর ধারণামতো হয়ে থাকে, তাহলে তিনি খুবই খুশি হবেন। তবে রেবেকার শারীরিক অবস্থার দিকটাও তো লক্ষ্য রাখা উচিত। ছোট্ট মেয়েটার কোনো শারীরিক সমস্যা হয়েছে কি না, এখন সে কেমন আছে—সেটাও তো দেখার বিষয়।
ঘষেটি বেগম নাতনি খালেদাকে দিয়ে দুটি মুরগির ডিম ও দুটি হাঁসের ডিম সিদ্ধ করিয়েছিলেন। মুরগির দুটি ডিম রেবেকার জন্য, আর হাঁসের দুটি ডিম মিলনের জন্য। কিন্তু এতবেলা হয়ে গেলো ওরা কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছিল না। বিষয়টি ঘষেটি বেগমকে ক্রমেই বিরক্ত করে তুলছিল। শেষ পর্যন্ত আর ধৈর্য রাখতে না পেরে তিনি একটি শক্ত মাটির ঢেলা তুলে মিলনের ঘরের দরজার দিকে ছুড়ে মারলেন।
কলি তা দেখে হতবাক হয়ে বলে;
কলি: বড়মা কি করতাছুইন,মিয়াভাই চেতবো তো
ঘষেটি: চুপ থাহ তুমি কতা কইয়োনা আর। কহন তনে দোয়াইলাম হাতাইলাম কইলাম ওগোর দুয়ারে গিয়া টুহা দিতে দিছি? দেও নাই ওহন চুপ থাহ।
কলি: আমার ডর লাগে মিয়াভাইরে
ঘষেটি: ঢংয়ের ডর দেহাইয়ো না শয়তান মাইয়া,মিলন কি দেখবার আইতো কেডায় টুহা দিছে
কলি: তবও
ঘষেটি: হ হ বুঝছি এহন কতা না কইয়া খাও
ঘষেটি বেগমের গলার তেজ দেখে কলি আর কোনো কথা বলল না। আর খালেদার চোখে তার দাদি যা করেন, তাই-ই সঠিক। তাই সেও এ বিষয়ে কোনো কথা বলল না। তারপর কিছু সময় কেউ আর কথা বলল না,ঘষেটি বেগম সহ বাকিরাও চুপচাপ ভাত খাচ্ছে আর মিলনের দরজা খুলার অপেক্ষা করছে।
_________________
দরজায় হঠাৎ জোরে কিছুর আঘাত লাগার শব্দ হতেই রেবেকার গভীর ঘুমে হালকা চিড় ধরল। তবে তখনও তার চোখের পাতা খুলল না। চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে কিছু সময়, তবে মস্তিষ্ক একটু সজাগ হতেই তার উদাম পেটে কেমন অদ্ভুত অনুভব করল, তার পেটের ওপর যেন একরাশ উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে। এবং সেটা ক্রমশই বারছে, সেই তাপ নরম ত্বকে এমনভাবে লেগে ছিল, কিছুক্ষণের মধ্যে সেই স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করল এতক্ষণ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকলেও, এই অস্বস্তিকর অনুভূতি আর দরজার শব্দ মিলিয়ে মুহূর্তেই তার ঘুম পুরোপুরি কেটে গেল। সে ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসল। চোখ খুলেই বিছানার ডান পাশে তাকিয়ে ঘুমন্ত মিলনকে দেখতে পেল। তবে তার মুখমণ্ডল অস্বাভাবিক রকম লালচে হয়ে আছে।
রেবেকার চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল। বিয়ের পর থেকে প্রতিদিনই সে দেখেছে, মিলন তার আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়ে। কিন্তু আজ দৃশ্যটা একেবারেই ভিন্ন। লোকটা এখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার একটি হাত রেবেকার নরম পেটের ওপর পড়ে আছে, আর সেই হাতের অস্বাভাবিক উত্তাপেই যেন রেবেকার ত্বক জ্বলে উঠছিল।
মুহূর্তের মধ্যেই রেবেকার মনে শঙ্কা জেগে উঠল। সে তাড়াতাড়ি মিলনের গালে হাত রাখল। ছোট হলেও সে জানে, শরীরে জ্বর এলে এমনই গরম লাগে। আতঙ্কিত রেবেকা, মিলনের গালে ,কপালে হাত দিয়ে তার শরীরে তাপমাত্রা পরোক্ষ করল,হে সত্যিই প্রচুর জ্বরে গা জ্বলে যাচ্ছে মিলনের। বিচলিত রাবেকা মিলনের গালে হাত রেখে নরম স্বরে ডাকলো;
রেবেকা: এ এই যে, হুনতাছুইন? চোখ খুলুইন। আন্নের শইল তো জরে পুইড়া যাইতাছে। এই উডুইন না, চোক মেলুইন না।
জ্বরে কাঁপছে মিলন। শরীর যেন কাঁটা দিয়ে উঠছে বারবার, গা টাও উদাম তার,কোন কাঁথা নেই, রেবেকা এইদিক ওদিক তাকিয়ে কাঁথার খোঁজ করে,না বিছানায় কাঁথা নেই, গতরাতে তোষক পরিবর্তন এর সময় কাঁথাটা কোথায় রেখেছে রেবেকা লক্ষ্য করেনি, যদি লক্ষ্য করতো তাহলে দেখতে পেত ঢেক্সুর উপরে কাঁথা রাখা। তবে এই মুহূর্তে সে সব মাথায় আসলো না তার, বাধ্য হয়ে অবুঝ রেবেকা তার শাড়ির আচল দিয়ে যতোটা পারলো মিলনের উদাম বক্ষ ঢেকে দিলো , তার পরে পুনরায় নরম কন্ঠে ডাকলো;
রেবেকা:আন্নের কি খুব শীতে ধরতাছে, কাঁথা ডা যে কই গেলো
চিন্তিত সুর রেবেকার তবে মিলন কথা বললো না,চোখ বন্ধ করেই রইলো।
গতকাল সারাটা দিনই থেমে থেমে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে তাকে। তার ওপর শহরে যাওয়া-আসার ঝক্কিও কম নয়।
বীরপুর থেকে ময়মনসিংহ সদরে যেতে হলে আগে ট্রেন ধরতে হয়। লোকাল ট্রেনের অসহনীয় ভিড় ঠেলে কোনোমতে উঠতে পারলেই যেন যুদ্ধের প্রথম ধাপ শেষ। তারপর একের পর এক দোকান ঘুরে পাইকারি দামে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, আর তৈরি করা পেটিকোট-ব্লাউজ কিনে বস্তাভর্তি মাল নিয়ে আবার সেই একই ভিড়ের ট্রেনে ফিরতে হয়। যেদিন দোকানের জন্য মাল আনতে শহরে যেতে হয়, সেদিনটা মিলন আর দোকানের কর্মচারীর জন্য ভীষণ পরিশ্রমের হয়ে ওঠে।
তার ওপর গতকাল সারাক্ষণই ছিল বৃষ্টি। শহর থেকে ফেরার পথে ভিজে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরেছিল মিলন। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। রেবেকার সঙ্গে
ঘ নি ষ্ঠ মুহূর্ত কাটানোর তাড়নায় তাকে দ্বিতীয়বার পুকুরে নেমে গোসলও করতে হয়েছিল। বৃষ্টিতে ভেজা শরীর, তারপর আবার পুকুরের ঠান্ডা পানি—সব মিলিয়ে শরীর আর ধকল সইতে পারেনি।
ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। আজ মিলনকে কাবু করে ফেলেছে কাঁপুনি-ধরা তীব্র জ্বর।
কাঁধে কারও হাতের মৃদু স্পর্শ পেয়ে মিলনের ঘুম ভেঙে গেল। তবু ক্লান্ত শরীর আর জ্বরের ভারে চোখের পাতা যেন খুলতেই চাইছিল না। অনেক কষ্টে সামান্য চোখ মেলে সে দেখতে পেল—রেবেকা তার মুখের কাছে ঝুঁকে আছে।
মিলন আবার চোখ বন্ধ করল। সিগারেটের পোড়া তার কালচে ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে হাসি। ধীরে ধীরে বাম হাত বাড়িয়ে সে রেবেকার কোমর জড়িয়ে ধরল, তারপর তাকে নিজের উষ্ণ বুকে টেনে নিল।
রেবেকার মুখের কাছে মুখ এনে মিলন মৃদু, ক্লান্ত কণ্ঠে কিছু বলতে চাইল—
মিলন: সোনা বিবি, একখান চুমা দেও না
রেবেকা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল মিলনের দিকে। তার কণ্ঠে মিশে থাকা সেই আদরভরা আবদার শুনে এক মুহূর্তের জন্য যেন থমকে গেল সে। এই অবস্থাতেও মানুষটা এমন কথা বলতে পারে,ভাবতেই তার বিস্ময় কাটছিল না। জ্বরে মিলনের শরীর পুড়ে যাচ্ছে, চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, অসুস্থতার ভারেও যেন রেবেকার প্রতি তার মায়া আর টান একটুও কমেনি।
মিলন: কই বিবি, চুমা দিলা না? দেও না। আমি যেমনে তুমারে চুমাই হেমনে দেও? বিবি দেও একখান।
প্রথম দিকে স্পষ্ট ভাবে বললেও পরের দিকে অস্পষ্ট হয়ে যায় তার কণ্ঠ। তার বু ক টা এত গরম, সেই বুকের সাথে লেপ্টে থেকে যেন রেবেকার গা-টা পুড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে রেবেকার কান্না পাচ্ছে খুব। মিলনের হাতের বাঁধন আগের থেকে আলগা হয়ে গেছে। শরীরটা দুর্বল হয়ে গেছে।
রেবেকা তার বুক থেকে উঠতে চাইল। জ্বরের ঘোরেই মিলন অনুভব করে তাকে আবারও ধরতে চাইল, তবে এবার আগের থেকে হালকা হাতের স্পর্শে।
মিলন: বিবি, যাইয়ো না। আমারে থুইয়া যাইয়ো না। তোমরে ছাড়া আমি কিবা থাকবাম? থাকবার পারতাম না তো। বহুত কষ্ট হয় যে, বুকডা পুড়ে।
জ্বরের ঘোরে শুয়ে থাকা মিলন অবশেষে তার মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা আশঙ্কাগুলো রেবেকার কাছে প্রকাশ করতে শুরু করল। অসুস্থতার সময় মানুষ কখনো কখনো মনের গোপন কথাগুলো সহজেই বলে ফেলতে পারে। মিলনও যেন এই মুহূর্তে নিজের অজান্তেই একে একে বলতে লাগল তার চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছা আর আকাঙ্ক্ষার কথা—যেসব কথা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় কোনোদিনই রেবেকাকে বলা হয়ে ওঠেনি।
মিলনের কথাগুলো নীরবে শুনতে শুনতে রেবেকার মনও ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এল। সে আর উঠতে চাইল না মিলনের বুক থেকে। চুপচাপ তার বুকেই রয়ে গেল,
কথার গভীরতা কতোটুকু বোঝলো কিনা কে জানে; তবে সে মনোযোগী শ্রোতার মত মন দিয়ে শুনতে লাগল মানুষটার বুকের ভেতর জমে থাকা অপ্রকাশিত কথাগুলো।
মিলন: বিবি, তুমি আমার চান্দ। তুমি থাকলে আমার ঘরডা তোমার আলোয় কোনায় কোনায় ভইরা থাহে। তুমি যহন বাপের বাড়িত যাও, আমার ঘরে আমাবইস্যার রাইতের মতন অন্ধাইর নামে। হেই আন্ধাইর আমারে বহুত পীড়া দেয়। হেই পীড়া সহ্য করবার চাই না আমি সোনা। তুমি আমারে থুইয়া যাইয়ো না কেমন।
আদর মাখা কন্ঠে অনুরোধ করে বলল কথাটা সে, চোখ দুটো তখনও বন্ধ।
মিলনের কথাগুলো শুনতে শুনতে ছোট্ট রেবেকার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শিহরণ জেগে উঠল। এত গভীর মায়া, এত নিঃশর্ত টান—মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো, সব থেমে গেছে, শুধু মিলনের কণ্ঠের শব্দটুকুই চারপাশে ছড়িয়ে থাকুক। রেবেকা কান দুটো মিলনের কথা শোনার জন্য খাঁড়া রেখেই,তাকিয়ে রইল মিলনের কালচে ঠোঁট দুটোর দিকে।
মিলন: বিবি, যানো তুমি? আমি আগে কুনো দিন প্রেম-পিরিত বুঝতাম না। গুলনাহার আমার পিছন পিছন ঘুইরা এই-সেই বহুত কথা কইতো। কাইন্দা দুনিয়া ভাসাইতো বার বার আমার পাউ ধরতো ওরে বিয়া করবার লাইগা অনুরোধ করতো। আমি কিছুতেই বুঝবার পারতাম না ওয় কি করে। একদিন তো বহুত রাইতে আমার ঘরে আইয়া হাজির। হেয় নাহি বিয়া ছাড়াই আমার লগে জামাই-বউ এর ঘ নি ষ্ঠ সংসার করবো। তহন আমি তার গালে একখান চর দিচ্ছিলাম। তহন ওর কি কান্দন! কাইন্দা কইছিলো, আমি নাহি ওর ভালোবাসা। আমারে লইগা নাহি ওর আকর্ষন টের পায় নিজের মইধে,আমারে ছাড়া নাহি ওয় নিজের শইল- মন কাউরেই দিবার পারতো না। আমি নাহি ওরে খুব খারাপ ভাবে নিজের দিকে টানি। আমার লাইগা নাহি ওর কাপড় খুলবার আপিত্তি নাই। হেই কতা হুইনা তো আমার মাতায় র ক্ত উইডা পরছিলো। তহন আমি হেই রাইতে ওর চুলের মুঠি ধইরা আরো কয়ডা চর বসাইছি। চুল মুঠি ধরেই টাইনা-ছেছড়াইয়া ঘর তনে বাইর করছি।
রেবেকার কপাল কুঁচকে যায় এই কথাগুলো শুনে। গুলনাহারের কথা তা সহ্য হলো না, সে মিলনের বুক থেকে আবারও উঠতে চাইল, কিন্তু মিলন দিলো না। চোখ বুঁজেই বেজার মুখে আপত্তি প্রকাশ করল।
মিলন: আহ্ বিবি, নইড়ো না। শান্ত থাহো। হুনো, আমি কি কই। তহন আমি বুঝবার পারতাম না প্রেম-পিরিত কি। কিন্তু এখন আমিও বুঝি বিবি, এডি কি। এখন আমিও গুলনাহার যা যা আমারে লইয়া ভাবতো, আমিও তোমারে লইয়া ভাবি।
রেবেকা মিলনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে অপলক, আর তার বলা কথাগুলো বুঝার চেষ্টা করছে, তাকে নিয়ে ভাবে এই কথাটা যেন ভালো লাগলো তার, একটু আগে গুলনাহারের কথা শুনে যেই বিরক্তকর অনুভূতি অনুভব করেছিল সেটি এখন তার মধ্যে নেই, কুঁচকানো কপালটাও সরল হয়ে গেল।
মিলন: আমি তোমার উপর খুব আকর্ষন টের পাই বিবি। সারাদিন পর বাড়িত আইয়া তোমারে বুকে জড়াইয়া নিবার লাইগা আমার আত্মা ফাত ফাত করে। তুমি হাসলে আমার কলিজা ঠান্ডা হয়, আর তুমি কানলে আমার কলিজার পানি হুগাইয়া যায় সোনা। একমাত্র তুমিই এমন মাইয়া যারে ধরতে, আদর করতে আমার কোনো সংকোচই অনুভব হয় না সোনা। সব শেষে আমিও এইডাই বুঝলাম বিবি, আমি তোমারে ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি বিবি। একমাত্র তুমিই আমারে তোমার প্রতি খুব খারাপ ভাবে টানো। খুব খারাপ ভাবে বিবি,যেই খারাপ ভাবে কেউ আমারে টানবার পারেনাই হেই খারাপ, একদম আবু দুবাই হইবার মতো খারাপ সোনা।
কথাটা বলতে বলতে রেবেকাকে জড়িয়ে ধরা হাতের বাঁধন শক্ত করলো মিলন,চেপে ধরল রেবেকাকে।
রেবেকার কাছে আজ তার অসুস্থ শরীরের দুর্বল মুহূর্তে কিছুটা সজ্ঞানে, কিছুটা আবেগে মনের দরজা যেন সম্পূর্ণ খুলে গেল। মিলনের প্রতিটি কথায় রেবেকা অনুভব করল এক ধরনের নির্ভরতা, এক ধরনের গভীর ভালোবাসা, যা মুখে বলা যায় না—শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়।
তার চোখের কোণে অজান্তেই জমে উঠল মমতার জল। মিলনের প্রতি অভিমান, দ্বিধা আর সমস্ত দূরত্ব যেন ধীরে ধীরে গলে যেতে লাগল। সে নীরবে শুধু শুনে গেল।
চৌদ্দ বছর বয়সী রেবেকা। ভালোবাসার গভীর অর্থ, সম্পর্কের জটিলতা কিংবা প্রেমের সূক্ষ্ম অনুভূতি,এসব বোঝার মতো পরিপক্বতা এখনও তার হয়ে ওঠেনি। তবু মিলনের প্রতি তার এক অদ্ভুত টান জন্মেছে। তা এই মুহূর্তে মিলনের নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করাতে রেবেকাও কিছু অনুভব করলো। মানুষটা বাড়িতে ফিরলে তার মন ভালো হয়ে যায়, একটু আড়াল হলেই অকারণ অস্থিরতা তাকে গ্রাস করে। মিলনের হাসি, কথা, যত্ন আর উপস্থিতি যেন অজান্তেই রেবেকার ছোট্ট পৃথিবীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আমরা গুলনাহার যে মিলনকে বিয়ে করতে পাগল ছিল তা শুনলে, অদ্ভুত রকম ভাবে শরীরটা জ্বলে তার।মন বলে মিলন তার স্বামী শুধু তার।
সে হয়তো এখনও ভালোবাসার নাম জানে না, কিন্তু অনুভূতিটা নিঃশব্দে তার হৃদয়ে শিকড় গেড়ে বসেছে। সেই টানের ভাষা রেবেকা নিজেও বোঝে না; শুধু এটুকুই জানে, মিলনকে কাছে পেলে তার মন শান্ত হয়ে যায়, আর দূরে গেলেই বুকের ভেতর কেমন এক অচেনা শূন্যতা নেমে আসে।
চোখ বন্ধ রেখেই মিলন আবার মৃদু স্বরে ডাকল
মিলন: বিবি...
ডাকটি কানে পৌঁছাতেই রেবেকা এক মুহূর্তও দেরি করল না। নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়িয়ে বলল, "বিসমিল্লাহ"। তারপর পরম মমতায় ঝুঁকে এসে,নিঃশব্দে সে নিজের অধর মিলনের উত্তপ্ত অধরের ভাঁজে ডুবিয়ে দিল। সেই স্পর্শে ছিল না কোনো তাড়াহুড়ো, ছিল শুধু স্নেহ, মায়া আর নিঃশব্দে জানিয়ে দেওয়া এক গভীর আপনত্বের আশ্বাস।
পরম সুখে, শান্তিতে, উত্তেজনায় মিলন রেবেকার ঘাড় শক্ত করে চেপে ধরে গোঙানি দিয়ে ওঠে অধরের ভাঁজই। শক্ত করে নিজের অধর দ্বারা আঁকড়ে ধরে রেবেকার অধর জোড়া। শক্ত চুম্বন শেষ হচ্ছে না যেন। মিলন ছাড়তেই চাইছে না। অসুস্থতায় আবেগ বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে তার। ততক্ষণে রেবেকার শাড়ির আঁচল বু ক থেকে সরে গেছে। মিলন ঠোঁট ছেড়ে গলায় নামলো। গলায় ঠোঁট চেপে শক্ত চুম্বনের দ্বারা দাগ তৈরি করছে। মিলনের এসব স্পর্শ তো নতুন না রেবেকার জন্য। মিলনের অবাধ্য স্পর্শের সঙ্গে ঠোঁটের বিচরণ বাড়লো। মিলনের স্পর্শে রেবেকার শরীরের যে অংশে তার হাত ছুঁয়ে যাচ্ছিল, সেখানটুকু যেন জ্বলে উঠছিল। তবে কেন জানি রেবেকার কোনো প্রতিক্রিয়া করতে ইচ্ছা করলো না। সে মিলনের সোহাগ নিঃশব্দে সহ্য করে নিল।
তবে গত রাতের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অচেনা, অজানা এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল রেবেকা। নিজের কোনো উপলব্ধি ছিল না; ছিল শুধু অন্যের মুখে শোনা কিছু খণ্ডিত বর্ণনা আর কল্পনার ভয়। অজানা কোনো বিষয়কে নিজের চোখে দেখার আগে যেমন মনে অকারণ আতঙ্ক জন্মায়, ঠিক তেমনই এক অস্থিরতা তাকে গ্রাস করেছিল।
তার ওপর কলির মুখে শোনা স হ বা সের ভীতিকর বর্ণনা, ঘষেটি বেগম আর আমেনা বেগমের দ্রুত সন্তান নেওয়ার চাপ—সব মিলিয়ে তার কিশোরী মন এক অসহনীয় মানসিক চাপে ডুবে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তে মিলনের সোহাগও তার কাছে ভালোবাসার স্পর্শ হয়ে ধরা দেয়নি; বরং মনে হয়েছিল, বুঝি কোনো ভয়ংকর ঘটনার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে সে। সেই অজানা ভয়, দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপে পড়েই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে গিয়েছিল।
কিন্তু আজকের মুহূর্তটি ভিন্ন। জ্বরে কাতর মিলনের কোমল কণ্ঠ, স্নেহমাখা সম্বোধন, মমতা আর নিঃশর্ত আশ্বাস ধীরে ধীরে রেবেকার বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত ভয় গলিয়ে দিচ্ছে। সে অনুভব করতে শুরু করেছে—ভালোবাসার মধ্যে জোর নেই, আছে বিশ্বাস; অধিকার নেই, আছে আপন করে নেওয়ার নিশ্চয়তা। মিলনের প্রতিটি মমতাভরা শব্দ তার মনের গভীরে সুপ্ত হয়ে থাকা কোমল অনুভূতিগুলোকে একে একে জাগিয়ে তুলছে।
শরীর দুর্বল, বেশিদূর আগাতে পারলো না মিলন। আস্তে করে ছেড়ে দিলো তার বিবিকে। কণ্ঠনালীর ওপরে যেখানে শক্ত চুম্বন বসিয়েছিল, সেখানে বেগুনি দাগ পড়ে গেছে রেবেকার। মিলন সেখানে আঙুল ছুঁয়ে দেখে। রেবেকার মুখমণ্ডলে লালচে আভা ছড়িয়েছে। মিলনের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না রেবেকা। দৃষ্টি তার এলোমেলো। মিলন ঠোঁট প্রসারিত করে হাসে। গলায় তার তৈরি দাগটায় আঙুল বুলিয়ে বলে;
মিলন: দুক্কু লাগছে বিবি?
রেবেকার সহজ স্বীকারোক্তি
রেবেকা: হুম, অনেক।
মিলন: তাইলে কও নাই যে?
রেবেকা: কইলে কি হুনতাইন!
এ পর্যায়ে মিলন ঠোঁট কামড়ে হাসে, বলে;
মিলন: হুনতাম না?
রেবেকা: না, আন্নে কইতাইন "সহ্য কইরা লও বিবি, অভ্যাস কইরা লও"।
মিলন: হা হা হা।
রেবেকার কথা শুনে মিলন শব্দ করে হাসে। সেই হাসি দেখে রেবেকাও লাজুক হাসলো।
চলবে...............