উপন্যাসের নাম : মায়ার শেষ প্রহর
লেখিকা : জান্নাতুল মাওয়া
#কপি করা নিষিদ্ধ
দুমাস পর,,,
আজ জারিফ দেশে ফিরবে,, জারিফ এর মা তাই পুরো দিশেহারা,, ছেলে দুমাস পর বাড়িতে আসছে,, ওখানে কি খেয়েছেন না খেয়েছে কে জানে, তাই নিজের হাতে সমস্ত রান্না করছেন ছেলের পছন্দের ,,
রান্না শেষ হওয়ার আগেই জারিফ বাসায় চলে এসেছে,,এসেই মায়ের সাথে দেখা করে নিজের ঘরে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে নিজের খাটে শরীর এলিয়ে দিল,, শান্তি শান্তি অনুভূতি হচ্ছে,,
কিছুক্ষণ এই ভাবেই শুয়ে থেকে ওয়াশরুমের উদ্দেশ্যে রওনা হলো, প্রায় এক ঘন্টা যাবৎ গোসল সেরে আবার এসে শুয়ে পড়ল,,
জারিফ এর দেশে আসার কথা ছিল ৫ সেপ্টেম্বর তবে টুকিটাকি কাজ এবং ফ্লাইট মিছ হয়ে যাওয়ার কারণে ৮ তারিখ আসা হয়েছে,, ওদের বিয়ের তারিখটা দুমাস আগে মানে জুলাই মাসেই এংগেজমেন্টের দিন ঠিক করে দেয়া হয়েছিল সেপ্টেম্বরের 15 তারিখ ,, তাই হাতেগোনা আর কয়েকটা দিন আছে মাত্র, বিয়ের সমস্ত কাজ এই কয়েকদিনের মধ্যেই সেরে
ফেলতে হবে আর উপরে আবার শপিং হয়ে ওঠেনি,,
জারিফের ভাবনার মাঝেই দরজায় টোকা পড়লো,, দরজা খুলে সামনে না তাকিয়ে তার মাকে ভেতরে আসতে বললো, কারন সে জানতো এই সময় শুধুমাত্র তার মা আসবে এই ঘরে,,
জাকিয়া বেগম গুটি গুটি পায়ে ছেলের পেছন পেছন এসে খাটে বসলেন, ততক্ষণে জারিফ আবার বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়েছে,,
জাকিয়া বেগম বললেন,,
জারিফ কালকে বরং তুমি মেহেরিমা কে নিয়ে তোমাদের বিয়ের শপিং করে ফেলো,, হাতে আর কিছুদিন মাত্র আছে তার মধ্যে আমার যাওয়া হয়ে উঠবে না,, ভালো হবে তুমি যদি মেহেরিমা কে নিয়ে একবার যাও,,,
হুট করে জারিফ শোয়া থেকে উঠে বসলো মাকে উদ্দেশ্য করে বলল,, না মম প্লিজ আমি যেতে পারব না মেয়েলি কাজে আমাকে প্লিজ টেনো না,,,আর আমি এসব কিছু বুঝিও না,, বরং তোমার বৌমাকে নিয়ে তুমি যাও,, আমাকে এসব এ রেখোনা,,
জাকিয়া বেগম তেতে উঠলেন , পাগল হয়ে গেছো তুমি? আর যেটাকে তুমি মেয়েলি ব্যাপার বলছো কয়েকটা দিন পরে সেটাই তোমার প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে যাবে, এন্ড তোমার এটা সারাটা জীবন বয়ে যেতে হবে" আর তুমি এখন কয়েকদিনের আগে এসে বলছে এগুলো মেয়েলি কাজ ?
মায়ের রাগ বুঝতে পেরে জারিফ হুট করে উঠে দাঁড়ালো চুলের মধ্যে হাত চালিয়ে বলল বাহ মম বাহ বৌমা আসার আগেই আমার থেকে বৌমা বেশি আপন হয়ে গেলো ? আসলে কি করবে শুনি ??
জাকিয়া বেগম উঠে দাঁড়ালেন, ছেলের কান ধরে টান দিয়ে মুখ বরাবর আনলেন, কেনোনা ছেলেটা বড্ড লম্বা, তার উপর পুরুষ মানুষ কিনা ? যত তুকুই হোক মহিলা দের থেকে লম্বা তো হবেই, তার মধ্যে তার ছেলে ৬ ফুট এর উপর , মুখের সামনে এনে অন্য হাতে একটা হালকা চাপড় দিল ছেলের গালে,, দিয়ে বলল এখন বলছো বাবা ঠিক আছে বিয়ের পর বউকে কিছু বললে এই মাকেও ছাড় দিবে না খুব ভালো করে জানা আছে আমার বুঝলে,,
জারিফ ঠোঁট উল্টে বলল, হতেও পারে,, মা গেলে মা পাওয়া যাবে বউ গেলে কি বউ পাওয়া যাবে মম ??
জাকিয়া বেগম ছেলের কান ছেড়ে হালকা হেসে বলল নিচে এসো খেতে ,,,
জারিফ একটা হালকা আকাশি রঙের টিশার্ট পরে নিচে এলো,,,
টেবিলের উপর চোখের সামনে পছন্দের খাবার গুলো দেখে গপ গপ করে সব খেতে শুরু করল ,,,
জাকিয়া বেগম ছেলের কাধে হালকা চাপর দিয়ে বললো আস্তে খাও কেউ কেরে নেবে না তোমার খাবার,,
সকাল ৮:৩২ কালকেই জাকিয়া বেগম মেহেরিমার বাড়িতে জানিয়েছেন আজকে জারিফ এসে মেহেরিমা কে নিয়ে বিয়ের শপিং করতে যাবেন,,
হাজার বার বলার পরেও মেহেরিমা একা যেতে রাজি হয়নি ,,, একা যেতে হলে যাবে না মানে যাবে না,, তাই বাধ্য হয়ে ছাবিহাকে সাথে যাওয়ার জন্য বললেন,, আর কি ছাবিহা তরতর করে রেডি হয়ে গেল,,,মেহরিমা সব সময়ের মতোই বোরকা এবং নেকাপ পরে নিল,, মেয়েটা এতে বড্ড সস্তি পায়,, ছাবিহা অবশ্য বোরকা পড়ে না,, একটা কুর্তি এবং জিন্স প্যান্ট পড়ে গলায় ওড়না পেচিয়ে নিলো,,
ততক্ষণে নিচে জারিফের গাড়ি চলে এসেছে,,
ওরা রেডি তাই আর দেরি না করে বেরিয়ে পরলো
গুটি গুটি পায়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে মেহেরিমা অনুভব করল ওর বুকটা অদ্ভুতভাবে একটু বেশি উঠানামা করছে, কিন্তু কেন?? এই উত্তর ওর নিজের কাছেও নেই ! গাড়ির কাছে আসতেই গাড়ি থেকে একটি সুদর্শন পুরুষ বেরিয়ে এলো পরনে ধূষর রঙের শার্ট আর কালো পেন্ট , NIKE এর কালোর মধ্যে সাদা রঙের এক জোড়া শো,,, মাথার চুল গুলো হালকা সিল্কি হালকা কোকড়ানো কিছু চুল অবাধ্যের মতো কপালে পড়ে আছে। লোকটা কে এতে অসম্ভব সুদর্শন লাগছে,,
ওর ভাবনার মাঝে পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো জারিফ এসেই পাশে থাকা মেহেরিমার মাকে সালাম দিল এবং কুশল বিনিময় করার পর, ওর দিকে পরখ করল,,
মেয়েটির সারা শরীরে বরাবর এর মতোই কালো কালারের বোরখা,,
যার মধ্যে মায়াবী দুটো চোখ দেখা যাচ্ছে ,, অসংখ্য মায়াবী সেই চোখ, যদিও এই চোখ দেখে জারিফ এই অপরুপা মায়াবী মেয়েটির প্রেমে পড়েছিল, মনের অজান্তেই আস্তে ছোট করে বললো মেঘবরনী,,,
জারিফকে ওর দিকে এমন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেহেরিমা কিছুটা অপ্রস্তুত হলো,,
পাশে থাকা ছাবিহা বলে উঠলো, বইন তোর জামাই তো সেই দেখতে ভাই দেখিস এর মতো দেখতে যদি কোন দেবর থাকে আমার গলায় ঝুলায় দিস প্লিজ বনুুনুনুনুনুনু
শেষ শব্দটা একটু সময় নিয়ে বলল,
মেহেরিমা ওর হাত ধরেই ছিল যার দরুন ওকে জোরে চিমটি কাটতে বেশি একটা বেগ পোহাতে হলো না ,,,
ছাবিহা হঠাৎ করেই জোরে চিৎকার করে উঠলো ,,,
সবাই ফ্যাল ফ্যাল করে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে বুঝতে পেরে একটু মুচকি হাসার ভান ধরে বলল ওই না মানে একটা পিঁপড়া কামড় দিয়েছে ,,,
সবার কথাবার্তা শেষ হলে ছাবিহা, মেহেরিমা আর জারিফ গাড়িতে উঠে বেরিয়ে পড়ল শপিং মলের এর উদ্দেশ্যে,,,
রাস্তায় যেতে যেতে কেউ কোন টু শব্দটি করছে না ,,,
মাঝপথে হুট করেই জারিফ নিরবতা ভেঙ্গে বললো,,
মেহেরিমা তুমি কি এই বিয়েতে খুশি না কিংবা রাজি না ???
মেহেরিমা হকচকিয়ে উঠলো ,, অতঃপর বলল
না না এমন কেন হবে,, আমার আব্বু আম্মু যেহেতু ঠিক করেছে,, আমার তাতে কোন আপত্তি নেই,, না কখনো ছিল আর থাকবেই বা কেন ??
কিন্তু আপনার কেনো এমন মনে হলো ??
জারিফের উত্তর,,
এমনি বললাম আর কি তুমি কেমন চুপচাপ হয়ে আছো,,
মাহেরিমা বললো,,
নাহ আসলে আমার অতো কথা বলতে ভালো লাগে না,,
অতঃপর গাড়িতে পিনপতন নীরবতা ,,,
সেই নীরবতা বয়েই গাড়িটি চলল শপিং মলের উদ্দেশ্যে,,
শপিংমলে পৌঁছে ওরা তিনজন নেমে গেল ,,
মেহেরিমা ছাবিহার হাত ধরেই হাঁটছিল ,, পারলে তো ছাবিহার পেছনে চলে যেত কিংবা ছাবিহার মধ্যে ঢুকে পড়তো,,
ওর একটি ব্রাইডাল জামা কাপড়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালো,জারিফ বলল চলো ভিতরে চলো ,,
তিনজন ভেতরে এসে জামা কাপড় দেখা শুরু করে দিয়েছে, মেহেরিমার মুখে রা শব্দটি পর্যন্ত নেই, যা দেখার কিংবা করার সব ছাবিহা-ই করছে,,কোনটা পছন্দ হলো কোনটা হলো না সবকিছু দেখে শুনে বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব যেন ছাবিহার,,
যে বিয়ের করবে তার মুখে যেন কুলুপ এটে দেওয়া হয়েছে,,,
মেহেরিমার বিয়ের জন্য মেরুন কালারের একটি জামদানি শাড়ি , সাথে হাতের কবজি পর্যন্ত একটি ব্লাউজ পিস রেডিমেট ওই কিনেছে,, যাবতীয় আর যা যা লাগে সব কিছু নিয়ে ওরা বেরিয়ে পরল ব্রাইডাল দোকান টা থেকে,,এই দোকানে সব কিছুই মেয়েদের এর দরূন ওরা গেল জরিফের জন্য শেরওয়ানি কেনার উদ্দেশ্যে অন্য একটি দোকানে,, এর মাঝে অবশ্য ছাবিহাকেও জারিফ ড্রেস কিনে দিয়েছে ,,
সব কেনাকাটা করার পর শপিং মলের একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলো ওরা ,,
ওদের বসিয়ে জারিফ জিজ্ঞেস করলো কী খাবে???
মেহেরিমা যে কিছু বলবেনা সেটা জারিফ খুব ভালো করেই জানতো,,,
উত্তর করলেও ছাবিহা,,
ভাইয়া ভারী কিছু আনার দরকার নেই,, হালকা পাতলা কিছু খেয়ে আমরা চলে যাব অনেক রাত হলো বইকি আপনি না হয় সে অনুযায়ী কিছু আনুন,,
জারিফ মাথা কাত করে সম্মতি দিয়ে উল্টো ঘুরে চলে গেল,,,
জারিফের চলে যাওয়া দেখে এইবার ছাবিহা মেহেরিমার দিকে তাকালো,কন্ঠে কিছুটা ঝাঁজ নিয়ে বললো ,,
তুই কি পাগল মাথার মধ্যে কোন ব্রেন নেই তোর?? হবু জামাই এর সাথে শপিং করতে এসে এভাবে কেউ চুপচাপ থাকে অন্ততো কি খাবে সেটা তো বলতে পারতি? না, শাড়ি তোর পছন্দ হলো সেটা বললি, না অন্য কিছু লাগবে কিনা সেটা বললি, এখন খেতে এসেছি সেখানেও বলবি না যে কি খাবি ??
মেহেরিমা কিছু না বোঝার মতো করে ড্যাব ড্যাব চোখে ওর দিকে তাকিয়ে রইল,,,
ওকে চুপ থাকতে দেখে ছাবিহার রাগ আকাশ ছুঁলো,,
তবে রাগ দেখানোর আগেই জারিফ চলে এলো ,,
চুপচাপ পাশে চেয়ারে গিয়ে বসলো,,
ওরা যে টেবিলে বসেছে এই টেবিলে পাচঁটা চেয়ার পাশাপাশি বসেছে মেহেরিমা এবং ছাবিহা,, মেহেরিমার পাশেই আরো একটা চেয়ার খালি তবে লোকটা কেনো হবু বউ এর অধিকার দেখিয়ে মেহেরিমার পাশে বসলো না?? তাহলে কি আপুর কথা টাই সত্য?? জারিফ বসা তার অপর পাশের যে দুটু চেয়ার আাছে সেই গুলোর একটায় এবং তার সমস্ত মনোযোগ এখন মোবাইলের মধ্যে,,, আশেপাশে হালকা পাতলা আওয়াজ থাকলেও তারা যে টেবিলটিতে বসেছে সেখানে পিনপতন নীরবতা,,,
সেই নীরবতা ভাঙলো ওয়েটার,, এসে খাবার দিয়ে গেল,,
ওদের জন্য দুইটা পাস্তা আর জারিফের জন্য একটা ব্লাক কফি,,
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল ওরা,,,
এর পর কারো মধ্যে কোন ধরনের কোন কথা হয়নি ,,,
মেহেরিমা এবং ছাবিহাকে নামিয়ে দিয়ে জারিফ সোজা বাসায় চলে গেছে,,
চারদিন পর,,
আত্মীয় স্বজনরা আসা শুরু করে দিয়েছে,, বাড়িতে বিয়ে বিয়ে আমেজ শুরু হয়ে গেছে যার দরুণ ফাহিমা আপুও চলে এসেছে,,
বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ঠিক ১ মাস ১৫ দিন পর মানে এখন থেকে ১৫ দিন আগেই সাবিহা এই বাড়িতেই আছে কারণটা ওর কলেজ বন্ধ,,, তাই এই ১৫ টা দিন মামার বাড়িতে বেরানোর কাজ চালিয়ে গিয়েছে মেয়েটা,,এতে অবশ্য কারোর কোনো সমস্যা নেই আর থাকবেই বা কেনো???
ফাহিমা আর ছাবিহা মিলে এক প্রকার জোর করেই মেহেরিমার মেহেদী অনুষ্ঠান টা করাচ্ছে,, অনুষ্ঠানে বলতে বাসায় যারা আছে তারাই শুধু মেহেরিমা কে মেহেদি রং এর একটা কান্চিপুরাম শারি পরিয়ে বসানো হয়েছে আর দু হাত দখল করে রেখেছে ছাবিহা আর ফাহিমা,,,
বসে থাকতে থাকতে মেহেরিমার চোখে ঘুম চলে এসেছে তাই কখন যে পেছনের দেয়ালে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল মেয়েটা নিজেও জানেনা,,
ঘুম ভাঙার পর নিজেকে নিজের রুমে আবিষ্কার করে রমনী,,
হাত ভর্তি মেহেদী দুই দিকে ছড়ানো ,,, হাতের মেহেদী শুকিয়ে গেছে মানে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে,, তখনই রমনীর চোখ পরে ঘরের জালনার দিকে,, তাকিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বলে ওঠে, ইয়া আল্লাহ তারমানে সকাল হয়ে গেছে, আমি কিভাবে এতক্ষণ ঘুমালাম, একটু আলাপ ও পেলাম না ??
তখনই ওর রুমে আসে ফাহিমা এসে বলে ওঠে এতক্ষণে ঘুম ভাঙ্গার সময় হলে তোর ?
সেই কাল রাতে ঘুমিয়েছিস সেখান থেকে বাবা কোলে করে এনে এখানে শুইয়ে দিয়েছে তাও আলাপ পাশনি,, কিরে তুই ?? মানে ঘুমালে তুই পুরো মরা হয়ে যাস ? "
যাইহোক তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়, খাবার খাবি মা সেই কখন থেকে তোর জন্য খাবার বেরে রেখে দিয়েছে,, এতক্ষণে ঠান্ডা হয়ে বরফে পরিনত হয়েছে ,
বলে আর দু-দন্ড দারালো না রমনী,,
গড গড পা ফেলে রুম থেকে আরাল হয়ে গেল,,
মেহেরিমা উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলো,,
দুই হাত ভর্তি মেহেদী নাকে ছোট্ট একটি নাকফুল উজ্জল শ্যাম বর্নের নারীর নাকে কেমন মিশে আছে নাকফুলটা,,
অবশ্য সেদিন জারিফই এই নাকফুল টা কিনে দিয়েছিল,,