আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1
#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
"আসসালামু আলাইকুম মিস!"
আয়াত চোখ বন্ধ করে ছিল। কারো সালামে ওর মুখে হাসি দেখা গেল। ও না দেখেও কন্ঠ শুনেই বুঝে ফেলেছে কে হতে পারে। ও মুচকি হেসে চোখ খুলে বলল,,,
"ওয়ালাইকুমুস সালাম!"
"কেমন আছেন এখন ?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি শুধু একটু মাথা ব্যথা করছে। আপনি কেমন আছেন।"
"আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি।"
"তোমার হাতে ব্যথা লাগলো কি করে! নিশ্চয়ই ইচ্ছে করে নিজেকে আঘাত করেছো যাতে এখানে আসতে পারো আর তার জবাব কাউকে না দিতে হয়।"
"যে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য ইচ্ছে করে গাড়ির সামনে পরতে পারে। তার সামনে এটুকু কিছুই না।"
"এটা আমি প্ল্যান করেছিলাম ঠিকই কিন্তু এখন না আরো একমাস পর।"
"তারমানে এটা এক্সিডেন্টলি হয়েছে।"
"হুম"
"তাহলে এখন কি করবে?"
"এখান থেকে বেরোতে হবে!"
"কোন প্লান বানিয়েছো"
"হুম"
"ওকে তাড়াতাড়ি বলো আমি বাইরে বলেছি শুধু দেখেই চলে যাবো।"
আয়াত আরাভ কে ওর প্ল্যান বলল। সব শুনে আরাভ বলল,,,
"সব ঠিক আছে কিন্তু তোমার পায়ের অবস্থা বেশি ভালো নয়। হাঁটতে পারবে তো ।"
"পায়ে বেশি লাগে নি পারবো। ব্যাপারটা একটু রিস্কি হলেও করতে হবে। তাছাড়া হয়তো হাঁটতে নাও হতে পারে। তুমি আছো তো ।"
"সব ঠিক আছে।আর আহিয়ানা আয়াত চৌধুরীর কাছে এটুকু রিস্কি কোন ব্যাপার না।"
"আমি এখন ই পরিবারের কাছে ফিরতে পারতাম কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি ফিরে আসার খবরটা তার কাছে পৌঁছে গেছে। আর সে খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা করতে চাইবে। তাই আমি সব কিছু ঠিক করে তারপর ফিরবো। তাছাড়া আরেকটা অপারেশন বাকি আছে। মিস্টার জে .কে কে ধরতেই হবে। তাকে ধরতে পারলে অনেক কিছুর সুরাহা মিলবে। আর পরিবারের কাছে ফেরার আগে তাকে ধরতে হবে। কারন পরে আমি হুটহাট বেরুতে পারবো না। আর আমার পরিবারের জন্য রিস্কি হয়ে যাবে। এমনিতেও জে কে আমাকে হন্যি হয়ে খুঁজছে। বাকি কিছু তোমাকে টেক্সট করে জানিয়ে দেব। আর সবকিছু আমি ঠিক করে নেব!"
"আচ্ছা ঠিক আছে। আল্লাহ হাফেজ!"
"ওকে আল্লাহ হাফেজ। ওহ হো একমিনিট জান ফোন দিয়েছিল। তোমাকে আর আমাকে খুব মিস করছে।'
"তোমাকে ছাড়া কোনদিন থাকে নি তাই। এই প্রথম তুমি ওর থেকে এতো দূরে।"
"আমিও খুব মিস করছি। ওর ছোট ছোট বায়না। ওকে খায়িয়ে দেওয়া ওর দুষ্টুমি সব মিস করছি মূলত আমি আমার ফ্যামিলিটাকে মিস করছি। আই মিস দেম লট।"
"কাকে মিস করছো আহি?"
পেছন থেকে কারো এমন কথায় আয়াত আরাভ দুজনেই চমকে গেল। সব শুনতে পায়নি তো। আয়াত তাদের মুখ দেখে বুঝতে পারল বেশি কিছু শোনেনি শুধু লাস্টের ওয়ার্ড ছাড়া। তাই আয়াত বলল,,
"আরে মিস্টার আয়াজ যে, আপনি বাড়ি যান নি?" আর রোজা তুই।
আসলে আরাভের দেরি হচ্ছিল দেখে আয়াজ ভেতরে ঢুকলো। তাদের কি এতো মাখামাখি সেটা ও বুঝতে পারে না। সাথে রোজাও ঢুকেছে। আয়াতের উত্তরে বলল,,
"না যাই নি। তোমার সাথে তো কথাই হলো না। "
"আমার সাথে আপনার কি কোন কথা আছে বা ছিল নাকি।"
"তুমি একটা একদিনের পরিচয় হওয়া লোকের সাথে যদি কথা বলতে পারো তাহলে তো আমি তোমার পরিচিতই আর সম্পর্কে তোমার ফুপাতো ভাই আর কিছু আছে এখন বললাম না বাইরের লোকের
সামনে।"
আরাভ আর আয়াত বুঝতে পারল ও ঠিক কি মিন করতে চাইছে। তাই আরাভ মুচকি হেসে বলল,,,
"কুল মিস্টার আয়াজ । আমি শুধু দেখতেই এসেছিলাম কিন্তু মিস আয়াত একা বোর হচ্ছিলেন তাই একটু কথা বলছিলাম এই যা।"
"এবার তো আমরা এসে গেছি এখন আর আপনার থাকতে হবে না। আপনি এখন আসুন আর আহি মানে আয়াত কে দেখতে আসার জন্য ধন্যবাদ।"
"ইটস্ ওকে মিস্টার আয়াজ। আমি এমনিতেও চলেই যেতাম এখন আপনি যখন এসেছেন উনার কথা বলার সঙ্গি ও হলো তাহলে আজ আসি।" আল্লাহ হাফেজ।
তখন আয়াত বলল,,,
"একমিনিট মিস্টার আরাভ। আসলে রোজা আজকে একাই এসেছে আপনি যদি ওকে বাড়ি ড্রপ করে দেন তাহলে একটু ভালো হয়। "
বলেই আয়াত মুচকি হেসে রোজার দিকে তাকালো। এদিকে রোজা আয়াতের কথা শুনে হা করে তাকিয়ে আছে আয়াতের দিকে। আয়াত চোখ দিয়ে ইশারা করলো রোজাকে । আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস যদি হুট করে মানুষ পায়। তাহলে তার ঠিক কিরকম লাগে।সেটাই হচ্ছে রোজার সাথে। আরাভ রোজার দিকে তাকিয়ে বলল,,
"কিন্তু মিস আয়াত আমার মনে হচ্ছে মিস রোজা বোধহয় এখন আমার সাথে যেতে ইচ্ছুক না। দেখুন না কিছুই বলছে না।
আয়াত রোজার অবস্থা বুঝতে পেরে বলল,,
"কিরে রোজা যাবি তো নাকি।"
আয়াতের কথায় রোজা সম্ভিত ফিরে পেলে বলল,,
"হ্যা হ্যা যাবো তো । ওকে বাই আল্লাহ হাফেজ আমি আবার বিকেলে আসবো।"
"ওকে মিস আয়াত নিজের যত্ন নেবেন আজ তাহলে আসি আল্লাহ হাফেজ।"
বলেই আরাভ আর রোজা বেরিয়ে পরল। এখন আয়াজ আর আয়াত শুধু আছে কেবিনে। আয়াজের আরাভ আর আয়াতের ওপর খুব রাগ হলো। ওরা কেন হেসে হেসে কথা বলবে। মোট কথা আয়াজ জেলাসি ফিল করছে। ওরা বের হতেই আয়াজ বলল,,
"কি হলো বললে না তো কাকে মিস করছো।"
"আমার পরিবার কে। আসলে মিস্টার আরাভ এর সাথে আমার পরিবার নিয়ে কথা হচ্ছিল।"
"আই এম সরি জান পাখি।"
আয়াজের এ কথা শুনে আয়াত একটু অবাক হলো। ও করুন স্বরে বলল সরি মনে হলো ভেতরে ভেতরে আয়াজ খুব অনুতপ্ত কিন্তু কিসের জন্য সেটা আয়াত বুঝতে পারছে না। আর আয়াজ কেন আয়াত কে জানপাখি বলল সেটাই বুঝতে পারল না। তাই ও ভাবুক হয়েই বলল,,
"কেন?"
"তোমাকে তোমার দুঃখের সময়টা একায় তোমাকে পার করতে হয়েছে। আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম কখনো তোমার থেকে হারাবো না। কিন্তু দেখো তোমার চরম দুঃসময়ে আমি তোমার পাশে থাকতে পারি নি।"
আয়াত এখন সব বুঝতে পারল ও একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে বলল,,,
"আমার দুঃখের সাথী তো আমি আপনাকে বানাই নি। তবে হ্যা এটা বলতে পারি আপনি চলে যাওয়ার পর আমি খুব একা ফিল করতাম। কারন আপনি ছিলেন আমার খেলার সাথী আমার বেস্ট ফ্রেন্ড অবশ্য তখন আরো কয়েকজন আমার ফ্রেন্ড ছিল। কিন্তু আপনার অনুপস্থিতি আমাকে খুব পোড়াতো।"
"অভিমান করে আছো আমার প্রতি।"
"অভিমান তো একজন প্রিয়জন তার অপর প্রিয়জনের ওপর করে। আমি আপনার প্রিয়জন ছিলাম কি?"
এ কথা শুনে আয়াজের কলিজায় মোচড় দিয়ে উঠলো। সত্যিই কি আয়াত ওর প্রিয়জন নয়। নাকি ও আয়াতের প্রিয়জন নয়। ও বলল,,,
"আমি তোমার থেকে দূরে গেলে কি হবে মনটা তোমার কাছেই রেখে গিয়েছিলাম আহি।"
"আপনার মনতো আপনার উপস্থিতি আমাকে বোঝাতে পারে নি। তাহলে আপনার মন থাকায় না থাকায় আমার কি আসে যায়। আমি তো আপনাকে মিস করতাম আপনার মন কে নয়।"
"এতটা অভিমান আমার প্রতি!"
"আমি ভাইয়ার চলে যাওয়ার পর অনেক কান্না করেছিলাম আপনার মনে আছে। আপনি সেই কান্না থামিয়ে ছিলেন। আর বলেছিলেন আপনি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আপনি কখনো আমায় ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু আপনি কথা রাখেন নি। আপনি যতই বলুন আপনি আমার থেকে হারান নি। প্রকৃত পক্ষে আপনিই আমার থেকে আগে হাড়িয়েছেন।"
"আমি যেতে চাইনি পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে। "
"আমি তো কোন অভিযোগ করিনি। তাহলে আপনি কেন আমাকে এক্সপেলইন করছেন।"
"তুমি অভিযোগ করো নি ঠিক আছে। কিন্তু তুমি আমাকে ভুল বুজছো।" তখন বাবা এব্রুড এই জন্যই গিয়েছিল তখন আমাদের বিদেশের বিসনেস টার খুব খারাপ অবস্থা ছিল। ওটাকে রিকোভার করতে অনেক সময় লাগবে তাই আমাদের রেখে যেতে চান নি। তাই আমরাও উনার সাথে গিয়েছিলাম। সেই বিজনেস টাকে দার করাতে আমাদের দু বছর সময় লেগেছে। তারপর বাবা ডিসিশন নিলেন ওখানেই আরো কয়েকবছর থাকবেন। আমি অনেক বার বারন করেছিলাম কিন্তু বাবা শোনে নি। যখন শুনলাম নানাভাই আর খালামনির ডেথ হয়েছে। তার দুদিন আগেই বাবা আর মা গাড়িতে থাকা অবস্থায় এক্সিডেন্ট হয়েছিল । মায়ের এক্সিডেন্ট এ কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। তখন ঐ মুহুর্তে দেশে আসা সম্ভব ছিল না। তাই আসতে পারিনি। মা বাবা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলে আমরা আসার জন্য বায়না ধরি। তখন চাচ্চু আমাদের বলে আরো দুবছর ওখানে থাকতে । আমাদের বাড়িতে চাচ্চুর কথাই ছিল শেষ কথা। তাই আমরা আরো দুবছর ওখানে থেকে আসি। ( আয়াজ রা আয়াতের বাড়ি ছাড়ার দু মাস নয় দু বছর পরে এসেছিল। ওখানে আমি ভুল লিখেছিলাম।) আর এসেই জানতে পারি তুমি দু'বছর আগেই বাড়ি থেকে চলে গেছো। আমি তোমায় অনেক খুঁজেছি নিজের মতো করে কিন্তু পাইনি।"
তখন একটা নার্স ঢুকলো আয়াতের খাবার নিয়ে। এতোক্ষণ হয়েছে জ্ঞান ফিরেছে কিন্তু ওকে খাওয়ানোই হয় নি। নার্স এসে বলল,,
"ম্যাম আপনার খাবার সময় হয়ে গেছে। "
তখন আয়াজ বলল,,
"আমি খাবারটা খায়িয়ে দেই।"
"দরকার নেই আয়াজ।" আপু চলুন আমাকে একটু হেল্প করুন আমি ফ্রেশ হবো।"
আয়াত নার্সটার সাহায্যে রাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এলো। আয়াজ এখনো ওর কেবিনেই বসে আছে। নার্সটা আয়াত কে ভালোভাবে বসিয়ে দিল খাওয়ানোর জন্য। আয়াজ বলল,,
"আমি খায়িয়ে দেই না।"
"আমার বা হাত ভেঙে গেছে ডান হাত নয় আমি নিজে খেতে পারবো। আপনি এখন বাড়ি যান। অনেক টা সময় আমার ওপর ব্যয় হয়ে গেছে আপনার।"
"তুমি এখনো আমার ওপর রেগে আছো তাই না।" তোমাকে তো বললাম ই।"
"আমি আপনার ওপর রেগে নেই ।"
"তাহলে তুমি কি এই কয়েকদিনের জন্য আমার ওপর রেগে আছো।"
"আমি কোন দিনের জন্যই আপনারা ওপর রেগে নেই। এখন আপনি যাবেন নাকি আমি না খেয়ে বসে থাকবো।"
"না তুমি খাও আমি যাচ্ছি।"
আয়াজ চলে গেল। ও যেতেই নার্সটি বলল,,,
"সবাই আপনাকে খুব ভালোবাসে তাই না।"
"সবার এতো ভালোবাসাই তো আমাকে এখানে এনে দার করিয়েছে। বাস্তবতা খুবই কঠিন। ভালোবাসার মর্যাদা সবাই দিতে পারে না। "
"বুজলাম না আপনার কথা ।"
"সেসব কথা বাদ দিন।"
বলেই আয়াত বিসমিল্লাহ বলে আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করলো। ওর খাওয়া শেষ হতেই নার্সটা বলল,,
"আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি।"
"হ্যা করুন না।"
"আপনার পরিবারের সকলকে আমি দেখলাম কারো চোখের মনি নীল নয়। তাহলে আপনার চোখের মনির রঙ নীল কেন? ব্যাপারটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে।"
"আসলে আমার দাদুভাই এর চোখের মনি নীল ছিল। তার থেকেই আমি নাকি নীল চোখ পেয়েছি সবাই বলে।"
"আপনার দাদুভাই নীল চোখ কোথা থেকে পেলেন।"
আয়াত বুঝতে পারল নার্সটার নীল চোখের ব্যাপারটা জানার কৌতুহল অনেক। আর তার যে জিনিসে কৌতুহল বেশি সে জিনিস না জানা অব্দি তার শান্তি হবে না। তাই আয়াত বলল,,
"আমার দাদুভাই এর মা ছিল বিদেশি মহিলা। উনি আমেরিকায় থাকতেন উনার চোখের মনি নীল ছিল। দাদুভাই এর মা আর দাদুভাই এর বাবা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। মূলত দাদুভাইয়ের বাবাকে আমেরিকা পড়াতে পাঠিয়েছিলেন দাদুভাই এর দাদু । তিনি পড়াশোনা শেষ করে দাদুভাই এর মাকে বিয়ে করে সাথে নিয়ে আসেন। আর দাদুভাইয়ের মায়ের চোখের মনি নীল থাকায় দাদুভাই নীল চোখের মনি পায়। কিন্তু আমার ফুপিরা কিংবা বাবা কাকাদের কারো চোখ ই নীল রঙের হয় নি। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে আমি সেই নীল চোখটা পেয়ে গেছি। কিন্তু এটার মানে আজও কেউ বের করতে পারে নি।"
"বাহ ভারি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার তো।তবে যাই বলুন না কেন আপনার চোখের নীল মনি টা আপনাকে ভিশন মানায়। আপনাকে একদম রহস্যময় রানীদের মতো লাগে।"
"তাই নাকি।"
"হুম একদম তাই।"
___________________
আরাভ আর রোজা একসাথে গাড়িতে বসে আছে। রোজা কি দিয়ে কথা শুরু করবে বুঝতে পারছে না। দুজনেই মৌন রয়েছে। কিন্তু মৌনতা কাটিয়ে আরাভ বলল,,
"মিস রোজা আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি আমায় কিছু বলতে চান!"
তখন রোজা ফট করে বলল,,
"আচ্ছা আপনি কারো মেসেজ বা কমেন্টের রিপ্লাই করেন না কেন?"
"এটা আবার কেমন প্রশ্ন!"
আরাভের কথা শুনে রোজা বুঝতে পারল আসলে সে তাড়াহুড়োয় কি বলে ফেলেছে। এরকম প্রশ্ন কেউ কাউকে করে। এটা ভাবতে রোজার লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে। তাই ও বলল,,
"সরি আসলে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।"
"ইটস্ ওকে মিস। তা আপনি কি আমায় মেসেজ বা কমেন্ট করেন!"
এই রে রোজা বোধহয় ধরা খেয়ে গেল। ও যে রোজ নিয়ম করে ওর সব পোস্টে কমেন্ট করে। আবার মাঝে মাঝে মেসেজ ও করে। ও আমতা আমতা করে বলল,,,
"না মানে আমি মাঝে মাঝে আপনার পোস্ট দেখি তখন দেখি যারা কমেন্ট করেছে তাদেরকে আপনি রিপ্লাই করেননি। তাই ভাবলাম আপনি হয়তো কারো কমেন্ট আর মেসেজের রিপ্লাই করেন না।"
"আপনার আইডির নাম কি মিস।"
"মানে!"
"মানে সহজ আপনার ফেসবুক আইডির নাম কি?"
"রোজা আহমেদ!"
"ওকে" । আরাভ রোজার নাম দিয়ে সার্চ করলো সাথে সাথে ওর আইডি পেয়ে গেল। রোজার একটা হিজাব পড়ে দাঁড়িয়ে ছবি প্রোফাইল পিকচার দেওয়া। ও আইডিতে ঢুকেই দেখতে পেল রোজার আইডি থেকে ওকে ফেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিল। ও একসেপ্ট করে রোজাকে বলল,,,
"আপনি আজ থেকে আমার ফ্রেন্ড হয়ে গেলেন। এবার থেকে আপনার কমেন্ট আর মেসেজ আমি দেখবো। আর রিপ্লাই ও করবো ইনশাআল্লাহ।"
আরাভের কথা শুনে রোজা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। ও এতো দিন লুকিয়ে লুকিয়ে আরাভের আইডি তে কি হয় সব দেখতো কমেন্ট ও করতো এসব ভেবেই ও লজ্জা পাচ্ছে। আবার ফেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিল সেটাও আরাভ দেখতে পেল ইশ কি লজ্জা। আরাভ তো রোজার অবস্থা বুঝতে পেরে মুচকি হাসছে। আরাভ বলল,,,
"আরে মিস বি ইজি এতো লজ্জা পেতে হবে না। এখন কেউ কাউকে কমেন্ট করা টেক্সট করা ইজি ব্যাপার। তাই রিল্যাক্স ওকে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি এখন বলুন আপনি আহি না মানে আয়াতের সাথে এতো কি কথা বলছিলেন।"
আরাভ রোজার কথার মানে বুঝতে পেরে মুচকি হেসে বলল,,,
"আপনি কি জানেন আপনার বান্ধবী চমৎকার একজন মানুষ। "
"সেটা আমি জানি। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হওয়া সত্ত্বেও আমার লাইফে ওর থেকে বেশি রহস্যময় মানুষ আমি দুটো দেখি নি।
"সেটা কেন!"
"ও কখন কি করে সেটা ও ছাড়া আর কেউ জানেনা।"
রোজা আরো কিছু বলবে তার আগেই গাড়িটা থেমে যায়। আকস্মিক গাড়ি থামাতে রোজা বলল,,,
"গাড়ি থামালো কেন?"
"আপনার বাসা এসে গেছে তাই।"
রোজা বাইরে তাকিয়ে দেখলো সত্যি ই তাই। ও ওর কথায় একটু লজ্জা ও পেল। তাই ও আরাভ কে "আল্লাহ হাফেজ" বলে নেমে পরলো গাড়ি থেকে। ও যেতেই আরাভ বলল,,,
'তুমি ঠিক বলেছো রোজা, আহিয়ানা আয়াত চৌধুরীর মতো রহস্যময় মানুষ দুটো নেই। কিন্তু ও সবার কাছে রহস্যময়ী হলেও আমার কাছে একটা খোলা বইয়ের মতো।"
_____________________
বিকেল বেলা,,,
আয়াত বসে ছিল। তখন আদিয়ান চৌধুরী আর আশিয়ান চৌধুরী আয়াতের কেবিনে ঢুকলো। তা দেখেও আয়াত চুপ করে রইল। তখন আশিয়ান ওর কথা বলার জন্য বলল,,,
"আসসালামু আলাইকুম!"
একজন মুসলিম হিসেবে সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। তাই আয়াত না সত্ত্বেও বলল,,
"ওয়ালাইকুমুস সালাম।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"এখন কেমন লাগছে মা?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি!"
"তুই কি এখনো আমাদের ওপর রেগে আছিস।"
"তোমার ওপর আমার কোনদিনও রাগ ছিল না বাবা।"
"তাহলে কেন তোর মা কাকাই কাকিমনি ঐসব বলল আর তুই আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলি।"
"মা আমাকে দেখতে চাইছিল না। বলেছিল আমি যেনো তার সামনে থেকে চলে যাই। তাই চলে গিয়েছিলাম। তার থেকে বড় কথা ওরা কেউ আমাকে বিশ্বাস করে নি। আর দাদুভাই কি বলতো আমাকে সব মনে আছে আমার। দাদুভাই বলতো ,,,
"যখন তোমাকে কেউ বিশ্বাস করবে না, তখন বুঝতে পারবে তোমার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে।"
"দাদুভাই যতোদিন ছিল ততদিন পরিবারের সবাই আমাকে ইম্পোর্টেন্টস দিতো আমাকে আদর করতো আমার সকল আবদার পূরণ করতো। দাদুভাই মারা যাওয়ার পর তোমরা আমার সাথে ভালোভাবে কথা অব্দি বলতে না। তুমি বলো বাবা তুমি কি আমাকে সময় দিতে। "
আয়াতের কথা শুনে আদিয়ান চৌধুরী চুপ করে রইল। সত্যিই উনি আহনাফ চৌধুরীর মৃত্যুর পর আয়াতের সাথে সময় কাটানো না। যেখানে উনি থাকতে আয়াতের সাথে সময় কাটাতেন। সবকিছুর উর্ধ্বে ছিল তার মেয়ে ।হয়তো তিনিও কোথাও না কোথাও তার বাবার মৃত্যুর কারন হিসেবে আয়াতকেই ভাবতেন। উনি চুপ করে আছে দেখে আয়াত আবারো বলল,,,
"জানি এর উত্তর তোমার কাছে নেই।হয়তো তুমি ও বাকিদের মতো আমাকে দাদুভাই এর মৃত্যুর কারন ভাবতে থাক বাদ দাও সেসব কথা। এখন বলো ছোট কাকিমনি কেমন আছে সবাইকে দেখলাম ছোট কাকিমনিকে তো দেখলাম না।আর ছোট কাকাই কেউ তো দেখলাম না।"
"তুমি যেদিন বাড়ি থেকে চলে এসেছিলে সেদিন তোমার কাকিমনি পড়ে গিয়েছিল। আমরা কেউ বাড়িতে ছিলাম না। তোমার কাকিমনিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার বাচ্চা টা মারা যায়। এরপর থেকে তোমার ছোট কাকিমনি একটু এবনর্মাল ভাবে আচরন করে। তাই ও সবসময় বাড়িতেই থাকে। মাঝে মাঝে ওকে ডাক্তার দেখানো হয়। এবার ডাক্তার বলেছে কোথাও ঘুরিয়ে আনতে তাই তোমার ছোট কাকাই তোমার কাকিমনি কে নিয়ে বেড়াতে গেছে কক্সবাজার।তাই দেখতে পাও নি। তোমার খবর জানিয়েছি তারা আজ রাতে আসছে।
তখন আয়াত মনে মনে বলল,,
"ইশ কাকিমনি তোমার সাথে আজ আর আমার দেখা হবে না।"
তখন আশিয়ান চৌধুরী বলল,,,
"বোনু আমার সাথে কথা বলবি না।"
" আমি আপনার বোনু নাকি। কতোবার আপনাকে বলেছিলাম প্লিজ আমায় ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু আপনি আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন যদিও কারন টা তখন বুঝতে না পারলেও এখন বুঝতে পারছি । তাই আপনার ওপর আমি রেগে নেই।"
"সত্যিই!"
"হুম""তোমাদের দুজনের কাছে একটা আবদার করবো রাখবে বাবা আর ভাইয়া"
"তুই শুধু বলেই দেখনা!"
"আমার একটু এখানে ভালো লাগছে না। তোমরা আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যাবে। ছোটবেলার মতো আমার সাথে গল্প করবে।"
এ কথা শুনে ওদের দুজনের চোখে পানি এলো। আশিয়ান চৌধুরী বলল,,,
"কেন নয়।"
বলেই ওকে কোলে তুলে নিল। আদিয়ান চৌধুরী একপাশ ধরলো তবে আয়াত যেনো হাতে ব্যাথা না পায় দুজনে ওকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের বাগানে চলে গেল । বাইরে আয়েশা চৌধুরী ছিলেন আর বাকি সবাই কে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে আদিয়ান চৌধুরী। আয়েশা চৌধুরী কেউ বলেছিলেন কিন্তু তিনি যায় নি। আদিয়ান আর আশিয়ান চৌধুরীর কোলে আয়াত কে দেখে উনি বুঝতে পারলেন ওদের মধ্যে দূরত্ব টা নেই। উনি ওদের ডিস্টার্ব করতে চাইলেন না তাই হাসপাতালের মাঝেই রয়ে গেল। হসপিটালের অনেকেই ওদের তিনজনের দিকে তাকিয়ে আছে। অনেকে ওদের ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ ও হচ্ছে। সারা বিকেল টা ওরা খুব গল্প করলো। সন্ধ্যা হয়ে আসছে তখন আয়াত বায়না ধরলো ঝালমুড়ি খাবে তাই আশিয়ান গেল ঝালমুড়ি আনতে। ও যেতেই আয়াত ওর বাবাকে বলল আইসক্রিম আনতে। উনি বলল আশিয়ান কে ফোন করে বলে দেবে। কিন্তু আইসক্রিম এর দোকান টা অন্য পাশে ছিল বলে তাই তিনিই গেলেন আইসক্রিম আনতে। হাজার হোক তার মেয়ে বলেছে কিনা। আয়াত ওর ফোনটা আগেই নিজের সাথে করে এনেছিল। ওরা দুজন যেতেই ও কাকে যেনো কল করলো।
তখন কেউ এসে ওকে কোলে নিয়ে গাড়িতে বসালো। আর গাড়ি করে ও চলে গেলো। আশিয়ান আর আদিয়ান চৌধুরী আয়াত কে না পেয়ে চার দিকে খুঁজতে থাকে। আয়াতের যে অবস্থা ও তো একা হাঁটতে ও পারবে না। ওরা হসপিটালের ভেতরে বাইরে সব জায়গায় খুঁজলো কিন্তু পেলো না। ওরা কি তবে আবার ওদের আহিকে হাড়িয়ে ফেলল। আশিয়ান চৌধুরী আর আদিয়ান চৌধুরী খুব ভেঙে পরলো। মুহূর্তে সবাইকে খবর দেওয়া হলো আহিয়ানা আবার চলে গেছে। সবাই চার দিকে আহিকে খুঁজতে লাগল।
"কিন্তু যে নিজে থেকে হাড়িয়ে যায় তাকে কি কেউ খুঁজে পায়।"
~চলবে,,