আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1
#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
আয়াত কে পাওয়া যাচ্ছে না প্রায় একমাস হয়ে গেল। আদিয়ান চৌধুরী আশিয়ান চৌধুরী আহিয়ানাকে খুজার জন্য সব রকম চেষ্টা করেছে কিন্তু আহিকে খুজে পায় নি। আয়াজ ও কম চেষ্টা করে নি । ও ও পায় নি। তবে ওরা নিজেরা নিজেরা চেষ্টা করেছে পুলিশের সাহায্য নেয় নি। কারন আয়াত সবকিছু প্লান করেই এসেছিল । ও ওর কেবিনে একটা চিঠি রেখে এসেছিল।আর চিঠিতে বলে এসেছিল ওকে যাতে কেউ না খোঁজে আর পুলিশের সাহায্য যেনো না নেয়। ও আবার ফিরে আসবে। কিন্তু পুলিশের সাহায্য নিলে কোন দিনই আর ফিরবে না। আয়াত আগে কোন বাসায় থাকতো সেটাও কেউ জানে না। এমন কি রোজাও না। তবে আয়াজ যখন আয়াতের ওপর নজর রেখেছিল তখন ওকে একটা গলি দিয়ে যেতে দেখেছিল। কিন্তু ও ভেতরে যায় নি তাই জানেনা কোথায় থাকতো ও । ও ঐ গলিতে গিয়ে আয়াতের খোঁজ করেছে কিন্তু কেউ আয়াতের খবর দিতে পারে নি। আয়াত এখন পুরোপুরি সুস্থ ও একটা রুমে বসে আছে । তখন ওর কাছে একটা কল এলো ও কল উঠিয়ে সালাম দিল।
"আসসালামু আলাইকুম!"
ওপর পাশ থেকে বলল,,
"ওয়ালাইকুমুস সালাম!"
"এখন কি আপনার সময় হয়েছে ভার্সিটি যাওয়ার।"
"হুম আজই যাবো ভাবছি। আমার পরিবার এমন কি আয়াজ ও অনেক খুঁজেছে আমায়। আমি এদিকে সব সামলে নিয়েছি। আর নিজেকে তৈরি ও করে নিয়েছি। আর খবর ও পেয়েছি। মিস্টার জে.কে কয়েকদিনের মধ্যেই তার নতুন ডিল করবে । আর ভার্সিটি থেকেই কেউ সাহায্য করছে তাকে। তাই ভার্সিটি যেতেই হবে।"
"হুম তবে আমাদের এখন থেকেই এলার্ট থাকতে হবে। সবসময় নিজেদের তৈরি রাখতে হবে।"
"হুম তবে তার আগে আরো কিছু কাজ আছে।"
"ওকে এখন তুমি বলো তুমি তো অন্য হিসাবে ভার্সিটি জয়েন করতে পারতে টিচার ও তো হতে পারতে তাহলে।"
"দুটো কারনে আছে এখানে। এক সে যেনো আমায় দূর্বল ভাবে। এতো দিনে সে আমার সব খোঁজ খবর নিয়ে ফেলেছে। আর দুই ,ভার্সিটির টিচার হয়ে গেলে আমি সবার সাথে খোলামেলা ভাবে মিসতে পারতাম না। আর সব দিকে নজর রাখাও সহজ হতো না।"
"তা অবশ্য ঠিক বলেছো।" যাই হোক তোমার ফাইভ থেকে সেভেনে উঠার কাহিনী কিন্তু জোস।"
"এটা কি রকম কথা। তবে যাই বলো আশিকের সাথে ঝগড়া করে হলেও ওর জন্য আমি দু'বছর এগিয়ে গিয়েছি। আর আজ এরকম একটা জায়গায় রয়েছি। যা কতো জনে কল্পনাও করতে পারবে না।
ফ্লাসব্যাক,,
আয়াত তখন সবে ক্লাস ফাইভে উঠল। ও ছিল সবসময় কর ফাস্ট গার্ল। আর সেকেন্ড ছিল আশিক। ও ছোটবেলা মানে ক্লাস ওয়ান থেকেই আয়াতের কম্পিটিটর ছিল। আশিক সবসময় চাইতো আয়াত কে হাড়িয়ে ও ফাস্ট বয় হওয়ার জন্য। ও জানতো আয়াত থাকতে ও কখনো ফাস্ট হতে পারবে না। তাই ও ওর বাবাকে বলে ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়।ওর বাবা ছিল স্কুলের কমিটি সদস্য তাই ও সহজেই ভর্তি হতে পারে। ও ভর্তি হয়েই আয়াতের সামনে গিয়ে বলে,,,
"ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল হলে কি হবে। এখন তো তুই আমার থেকে নিচের ক্লাসে পরিস। আমি তোর সিনিয়র তাই আমাকে বড় ভাই বলে সম্বোধন করবি। আর আমাকে সম্মান করবি। "
তখন আয়াত বলল,,
"তুই তো আর নিজের দক্ষতায় গিয়ে সিক্সে ভর্তি হস নি। তোর বাবা আমাদের স্কুলের কমিটি সদস্য তাই হতে পেরেছিস। আর তোকে কি বড় ভাই হিসেবে সম্মোধন করবো হাসালি।"
এইভাবেই ওদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। মারামারি পর্যন্ত যেতে থাকে তখন রোজা আর অনিক মিলে ওদের মারামারি থামায়। তারপর আয়াত প্রতিজ্ঞা করে ও আশিকের থেকে উপর ক্লাসে পরবে। ও বাড়ি এসেই ওর দাদুভাই কে সব বলে সব শুনে তিনি আয়াত কে সমর্থন করে। এমনিতেও আয়াতের সবকিছুই আহনাফ চৌধুরী পালন করতো। ও সেভেনে ভর্তি হতে যায় কিন্তু টিচার রা প্রথমে না করলেও পরে আহনাফ চৌধুরীর কথায় রাজি হয়ে যায়।
_______________
বর্তমানে,,
ওপাশের লোকটি বলে ,,
"তবে এখানে তোমাদের দুজনের জন্য মাঝখান দিয়ে অনিক আর রোজার ভালো হয়। কারন ওরা ছিল থার্ড আর ফোর্থ গার্ল বয় । ওদের দুজনের মধ্যে ফাস্ট বয় অনিক ছিল। তারপরে তো অনিক ওখানে থেকে চলেই আসে তাই রোজা হয় ফাস্ট গার্ল। বলতে হবে সবথেকে ভালো রোজার জন্যই হয়েছিল।"
"তা অবশ্য ঠিক বলেছো। ওহ হো আমি তো অনিক কে বলতে ভুলেই গেছি যে আয়াজ ই ওর শত্রু নামের বন্ধু হার্টফুল।"
"তোমাদের নাম চয়েজ করে দিয়েছিল কে?
"অনিক আর আমরা এক পার্কে খেলা করতাম। একসাথে খেলতে খেলতে বন্ধু হয়ে গেলাম। অনিক আমাকে প্রথম দেখেছিল একটা হার্ট শেপ আঁকানো ফুলহাতা গেন্জি তে। তাই ও আমাকে হার্ট বলে ডাকতো। অনিক হার্ট বলে ডাকতো দেখে আয়াজ ওকে হার্টলেস বলে ডাকতো কারন হার্ট তো ওর মানে আমি ছিলাম আয়াজের বেস্ট ফ্রেন্ড। আর আয়াজ আমাকেও হার্টলেস বলে ডাকতে শেখায়। আর আমি যেহেতু আয়াজের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম । আয়াজ অনিককে হার্টলেস বলে ডাকতো দেখে অনিক আয়াজকে হার্টফুল বলে ডাকতো। এভাবেই আমাদের নামকরণ হয়।"
"ইন্টারেস্টিং স্টোরি। আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই তোমার স্টোরি গুলো শুনে।"
"তুমি সব জানো তবুও আমার থেকে বারবার শুনো।"
"তোমার মুখ থেকে তোমার স্টোরি গুলো শুনতে ভালো লাগে তাই।"
"ওকে আল্লাহ হাফেজ আবার পরে কথা হবে। আজ ভার্সিটি যেতে হবে।"
"ওকে আল্লাহ হাফেজ।"
বলেই লোকটি ফোন কেটে দিল। আয়াত অনিক কে ফোন করে কি একটা বলল। আর ভার্সিটির জন্য রেডি হয়ে গেল। আজ আবার ওর প্রিয়জনদের মুখোমুখি হবে।
___________________
আয়াজ মন খারাপ করে ওর বন্ধুদের সাথে দাড়িয়ে আছে। আয়াত কে হাড়ানোর পর থেকেই ও মনমরা হয়ে থাকে সবসময়। আফিয়া সব শুনে অনেক অবাক হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ও আয়াতকে খুব একটা দেখতে পারতো না। ও ফিরে এসেছে শুনে মন খারাপ হলেও আবার হাড়িয়ে গেছে শুনে খুব খুশি হয়েছে। ওরা একসাথে আড্ডা দিচ্ছিল তখন একটা ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট এসে আয়াজ কে একটা চিরকুট দেয়। আয়াতের বন্ধুরা ভাবে কোন মেয়ে হয়তো আয়াজ কে লাভ লেটার পাঠিয়েছে। তাই দেখে ফারহান বলল,,
"আরে আয়াজ দেখ খুলে তোকে কেউ লাভ লেটার দিয়েছে। বাহ মেয়েটার সাহস আছে বলতে হবে। "
আয়াজ বিরক্ত হয়ে বলল,,
"ফারহান তুই চুপ করবি। কে না কে দিয়েছে আমার এসব ভালো লাগে না।"
তখন সজীব বলল,,,
"খুলে তো দ্যাখ আগে কেউ প্রয়োজনীয় কিছু লিখে দিয়েছে কিনা। আয়াত ও তো দিতে পারে।"
এ কথা শুনে আয়াজ তাড়াতাড়ি চিরকুট টা খুলল সত্যি যদি তার জানপাখি দিয়ে থাকে। ও চিরকুট এ লেখা দেখলো।,,
ডিয়ার হার্টফুল,,
আমরা ছোটবেলায় বন্ধু হলেও এখন শত্রু হয়েছি। আমার কাছে তোমার হার্ট ছিল না বলে তুমি আমায় হার্টলেস বলে ডাকতে। আমি ও তোমায় সে কারণে হার্টফুল বলে ডাকতাম। কারন তোমার কাছে হার্ট ছিল। তুমি যখন চলে গিয়েছিলে আমি তোমায় অনেক মিস করতাম। হার্ট কে নিয়ে ঝগড়া গুলো সবথেকে বেশি। তারপর তো আমিও হার্টের থেকে আলাদা হয়ে যাই। এতো দিন পর্যন্ত আমি তোমাদের খুব মিস করতাম। কিন্তু যখন জানতে পারলাম তুমি আমার ছোটবেলার হার্টফুল। তাই তোমার বন্ধুত্ব করতে চলে এলাম। আমি তোমার আবার বন্ধু হতে চাই ! হবে কি আমার বন্ধু?
ইতি,
তোমার ছোটবেলার বন্ধু নামক শত্রু হার্টলেস।
আয়াজ চিরকুট টা পরেই ওর মুখে হাসি দেখা গেল। এদিকে ওকে হাসতে দেখে সজীবরা কিছুই বুঝতে পারলো না। আয়াজ মুচকি হেসে ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলো। ,,,
"কে দিয়েছে এটা?"
"ঐ যে নীল রঙের শার্ট ওয়ালা ভাইয়া টা।"
ও দেখতে পেল একটা নীল রঙের শার্ট পরা ছেলে উল্টো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাঠের মাঝখানে। ও দৌড়ে গিয়ে ছেলেটাকে নিজের দিকে ফেরালো। ও ছেলেটার মুখ দেখে চমকালো। ও বলল,,,
"অনিক তুই, তুই সত্যিই হার্টলেস।"
অনিক মাথা নাড়ালো। তা দেখে আয়াজ ওকে জড়িয়ে ধরলো। এদিকে ভার্সিটির সকলে তো অবাক কারন ভার্সিটির সকলেই জানে ওরা দুজন শত্রু। ওদের দুজনকে এভাবে দেখে সকলেই টাস্কি খেল।সব থেকে বেশি আয়াজের বন্ধুরা। ওরাও সবাই ওর দিকে এগিয়ে গেল। আয়াজ বলল,,
"আমিও তোকে ভিষন মিস করেছি হার্টলেস।"
"আমি চিরকুটে কি বলেছিলাম আমার বন্ধু হবি কিনা।"
"আগের মতো থাকলে হতাম না কিন্তু তোকে দেখে মনে হয় তুই আসলেই চেঞ্জ হয়েছিস। তাই বন্ধু হওয়াই যায়।"
"এখন কিন্তু আর হার্টকে নিয়ে ঝগড়া হবে না। কারন আমার হবু বউ আছে।"
অনিকের কথায় আয়াজের মুখে মুহূর্তে অন্ধকারে ছেয়ে গেল। ওর অবস্থা বুঝতে পেরে অনিক বলল,,,
"কিরে হঠাৎ চুপ হয়ে গেলি যে!"
"সেসব কথা বাদ দে এখন তুই বল তুই আমাকে চিনলি কিভাবে।"
"হার্ট বলেছে।"
"কি আহি বলেছে কবে? ওহ আচ্ছা তারমানে সেদিন আহির মার খেয়ে হেসে হেসে কথা বললি তুই আগেই জানতিস যে আয়াত ই আহি।"
"হুম আমিও জানতাম না। সেদিন ই জানতে পারি ও হার্ট।ওর জন্যই নিজেকে পরিবর্তন করতে পেরেছি। তবে ও তখন বলে নি যে তুই ই হার্টলেস। বলেছে তো আজকে।"
"কি আজকে! আহিকে তো একমাস ধরে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে তোকে বলল কেমনে কোন ভাবে তুই কি জানতি।"
"আরে রিল্যাক্স আমি জানি না ও কোথায় সকাল বেলা ফোন দিয়ে বলল তোর কথা । বাকি কিছু বলার আগেই ও কল কেটে দিয়েছে। পরে ট্রাই করলাম বন্ধ বলল।"
এতক্ষন হা করে আয়াজের বন্ধুরা ওদের দেখছিল। তা দেখতে পেয়ে আয়াজ ওদের কে বলল অনিক ওর ছোটবেলার বন্ধু। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা সহজ হয়ে গেল। ওরা একসাথে বসে আড্ডা দিতে লাগলো।
_____________________
আজ একমাস পর আয়াত ভার্সিটি এলো। সবসময় বোরকা পরলেও আজ ও কালো রঙের লং কুর্তি সাদা প্লাজু মাথায় সাদা হিজাব। আর জুতো পরে এসেছে প্রতিদিনের তুলনায় ওকে অনেকটা আলাদা লাগছে। তবে আজ মাক্সটাও যুক্ত করেছে। যার কারণে অনেকেই চিনতে পারছে না। ও পুরনো সেই স্কুটি চালিয়ে ভার্সিটি ঢুকলো। সবাই ওকে দেখে না চিনলেও ওর স্কুটি দেখে বুঝতে পেরেছে এটাই আয়াত। ওকে দেখতে পেয়ে আয়াজ ইশরাত রোজা অহনা এগিয়ে এসেছে। অহনা স্কুটি পার্ক করে সামনে আসতেই সকলকে দেখলো অহনা তো দৌড়ে গিয়ে আয়াত কে জরিয়ে ধরলো আর বলল,,,
"আহি আপু তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে আবার জানো সবাই তোমাকে কতো খুঁজেছে।"
"আরে পাগলি আমার একটা কাজ ছিল সেটা করতেই গিয়েছিলাম।"
"সেটা কি আমাদের এখানে থাকলে করতে পারতে না। সেই অসুস্থ শরীর নিয়ে সবাইকে না বলে হসপিটাল থেকে ওভাবে চলে গেলে। তুমি জানো বড় বাবা আশিয়ান ভাইয়া কতো কান্না করেছে।"
"আমি একদম ঠিক আছি আর এই দ্যাখ আমার হাত পা মাথা সব ঠিক হয়ে গেছে। এবার কান্না বন্ধ কর।"
অহনা আয়াত কে ছেড়ে দিল। তখন ইশরাত আয়াত কে জরিয়ে ধরে বলল,,,
"আহি আপু কেমন আছো তুমি। এরকম কেউ করে।"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো। আর আমার সবকিছু এমন ই ভালো লাগে হুটহাট করে।"
"আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। "
রোজা আর আয়াজ শুধু দেখেই যাচ্ছে আয়াত কে কিছু বলছে না। তা দেখে আয়াত আয়াজ কে বলল,,,
"পুরোনো বন্ধুকে ফিরে পেয়ে আপনার কথা বন্ধ হয়ে গেছে নাকি মিস্টার আয়াজ।"
আয়াজ আয়াতের কথার উত্তর দিল না। খুব অভিমান করেছে আয়াজ। এরকম কেউ করে কিভাবে পাগলের মতো খুঁজেছে আয়াজ। আজকে এভাবে আসায় ও খুশি হয়েছে ঠিকই কিন্তু প্রকাশ করবে না। ও মুখ ঘুরিয়ে রইল। তা দেখে আয়াত বলল,,,
"খুশিতে যদি কারো কথা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আর আমার কি করার আছে। তবে শুনে রাখুন কেউ আমার সাথে কথা না বললে কিন্তু আমিও তার সাথে কথা বলব না।"
আয়াজ এবার মুখ খুলে বলল,,,
"যে আমাদের সকলকে টেনশনে ফেলে ঐ অবস্থায় চলে যেতে পারে তার সাথে আর কি কথা থাকতে পারে। "
"অভিমান হয়েছে বুজি!"
আয়াজ আর কোন কথা বললো না। চুপ থেকে বুঝালো যে সে সত্যিই অভিমান করেছে। আয়াত সেসব না মেখে রোজার কাছে গেল। আর বলল,,
"আসসালামু আলাইকুম মিস রোজা?"
সালাম দিলে কি কোন মুসলিম চুপ থাকতে পারে তাই ও বলল,,
"ওয়ালাইকুমুস সালাম। আর কোন কথা যেনো আমার সাথে না বলা হয়। "
"আচ্ছা ঠিক আছে।" বলেই আয়াত হাঁটা ধরলো। ওরা অবাক চোখে আয়াত কে দেখছে। এমনিতে তো ও চলে গিয়ে ভুল করেছে। তার ওপর আবার ও ই সবাইকে এটিটিউড দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে ওরা সবাই ভুল করেছে ওঁর সাথে। আসলে ওরা কেউ আয়াত কে বুঝতে পারে না। আয়াত চলে যাচ্ছে দেখে রোজা ওর দিকে দৌড়ে গিয়ে বলল,,,
"কিরে কথা বলতে বারন করলাম বলে ওখান থেকে আমার সাথে কথা না বলেই চলে এলি। তুই এমন কেন ভুল তুই করলি আবার এটিটিউড ও তুই দেখাচ্ছিস।"
"আমার মা আমাকে একবার বলেছিল তোকে এখন যেনো আমি আর না দেখি। তাই শুনে আমি বাড়ি থেকে চলে এসেছিলাম। তাহলে বোঝ আমি কিরকম।"
"তোকে বোঝা আমার সাধ্য নয়। আমার কেন কারোর ই নয়।"
"হুম বুঝতে পেরেছিস এখন চুপ থাক।"
"আমাকে বলে গেলে কি হতো আমি তো তোর বেস্ট ফ্রেন্ড তাইনা।"
"সেসব কথা বাদ দে এখন বল আরাভের সাথে প্রেম করছিস কিরকম।"
"তুই এটাও জানিস। তুই জানিস কি করে।"
"আমি জানি কি করে সেটা বাদ দে। এখন বল প্রেম চলছে কিরকম।"
"আর প্রেম! ঐ শুধু একটু আধটু কথা হয় মেসেঞ্জারে।"
"আচ্ছা ভালোই তো।"
"কিন্তু ওর সম্পর্কে কিছুই জানি না আমি।"
"সময় হোক তারপর সব জানতে পারবি। আগে প্রেমটা ঠিক টাক করে নে।"
"ওকে।"
_________________
ওরা কথা বলতে বলতে ক্লাসে চলে গেল। এদিকে আফিয়া তো রাগে গজগজ করছে। আয়াত আবার ফিরে এসেছে ও যদি ফিরে আসে তাহলে ও কোনদিনই ওর কার্য হাসিল করতে পারবে না। এমনিতে তো ও আয়াত কে জব্দ করতে পারবে না। তাই ও আয়াতের স্কুটির চাকার হাওয়া বের করে দিল। সেটা ও ছাড়া আর কেউ দেখলো না। সবাই তো সবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত তাই কে কি করলো তাতে কারো যায় আসে না। এদিকে আয়াজ আদিয়ান চৌধুরীকে ফোন করে আয়াতের ভার্সিটি আসার ব্যাপারটা জানিয়ে দিল। অহনা আগেই আশিয়ান কে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে। ওরা আসছে বলে জানালো। আজ আয়াজ ইশরাত অহনা কেউ ক্লাস করবে না। ওরা ক্লাস করবে না দেখে অনিক সজীব ফারহান ওরাও করবে না বলে জানালো। আফিয়ার এসবে ইন্টারেস্ট নেই তবুও ওদের সাথে দাঁড়িয়ে রইল।ওরা সবাই মিলে চৌধুরী পরিবারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। তখন ফারহান বলল,,,
"আহি তোর সাথে কথা বলল না কেন?"
"আমি বললাম না তাই। চৌধুরী তো তাই অনেক ইগো বুঝলি তো।"
"যাই হোক ও এতদিন ছিল কোথায়! সবাই তো কতো খুঁজলো। কিন্তু পেল না কেন বলতো আবার একমাস পর কোথা থেকে উদয় হলো।"
"ওযে কখন কি করে সেটা ও ছাড়া আর কেউ জানে না।"
"রহস্যময়ী মহিলা।"
ইশরাতের এমন কথায় সবাই হেসে উঠল। তখন আয়াজ বলল,,,
"একদম ঠিক বলেছিস তুই রহস্যময়ী মহিলা। ধুর ঢং দেখিয়ে কথা বললাম না দেখে কিছু জানাও হলো না।"
তখন অহনা বলল,,
"হু তখন ইগো দেখালো নিজে আবার বলে চৌধুরীদের ইগো বেশি।"
"তুই চৌধুরী দেখেই তোর গায়ে লাগছে তাই না।"
"তা তো লাগবেই।"
তখন সজীব বলল,,,
"এই দ্যাখ তোরা প্রিন্সিপাল স্যার কিভাবে তাড়াহুড়ো করে কোথাও যাচ্ছে।"
"সত্যি তো!"
__________________
প্রিন্সিপাল স্যার গিয়ে আয়াতের ক্লাসের সামনে থামলো। ক্লাস টিচার কে বলল আয়াত কে ডেকে দিতে। তখন আয়াত বের হলো। ও বের হতেই রেজওয়ান আহমেদ বলল,,,
"তোর ফোন কোথায়?"
"মানে ফোন দিয়ে কি হবে । ফোন তো আমার কাছেই। ক্লাস করছিলাম দেখে ফোন সাইলেন্ট ছিল।
"সেসব পরে দেখা যাবে নে কথা বল।"
ও ফোনটা নিয়ে কানে ধরলো তখন যা শুনলো তাতে ওর খুব রাগ হলো। ও রেগে গিয়ে বলল,,,,
"তোমরা সব রাস্তা ব্লক করো আমি এখনি আসছি। "
ও ফোনটা রেজওয়ান আহমেদের কাছে দিয়ে দৌড়ে ওর ব্যাগ নিয়ে এলো ক্লাস থেকে। ওর অবস্থা দেখে সবাই অবাক হলো। ও ব্যাগ থেকে ফোন নিয়ে কাউকে ফোন দিল। ও দৌড়ে দৌড়ে আসছে। ওদের ক্লাসটা দু তালায় আয়াজরা সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পেল। ও ফোনটা নিয়ে বলল,,
"কোনভাবেই আজ যেনো পালাতে না পারে । আজ ওর কাছে পঞ্চাশ টা মেয়ে রয়েছে। আজ যদি গাড়িটা একবার আমাদের হাতে থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে আমরা মেয়েদের কে বাঁচাতে পারবো না। সবাই সবকিছু নজরে রাখো। "
ও দৌড়ে ওর স্কুটির কাছে গেল স্কুটি সোজা করতেই ও দেখলো কেউ ওর স্কুটির টায়ার পাংচার করে দিয়েছে। ও স্কুটি টাকে একটা লাথি মেরে কাউকে কল দিয়ে বলল,,,
"তুমি কোথায় তাড়াতাড়ি বাইক নিয়ে ভার্সিটি আসো। একটু ও যেনো দেরি না হয়। পাঁচ মিনিট টাইম দিলাম তোমায়। "
তখন চৌধুরী বাড়ির সকলে ভার্সিটি ঢুকলো। সবাই আয়াতের দিকে এগিয়ে আসতে নিল। তখন একটা লেটেস্ট মডেলের বাইক এসে আয়াতের সামনে থামলো। এটাই সেই বাইক যেটা আয়াজ দের সাথে রেস করেছিল। আয়াজ রা সবাই অবাক হলো। এত তাড়াতাড়ি কি হতে কি হচ্ছে কারো মাথায় আসছে না। আর এটাও সেদিন কার পানি দিয়ে ছিল যে ছেলেটা সেই ছেলেটা। বাইক থেকে নেমে এসে বাইকারটা বলল,,
"তোমাকে এখন পাচারকারীর অপারেশন এ নয় এখন হসপিটালে যেতে হবে।"
"মানে ?"
"নানাভাই ঢাকায় এসেছিলেন তোমার সাথে দেখা করার জন্য কিন্তু উনার এখানে এসে এক্সিডেন্ট হয়। হার্টের ভেতরে একটা কাচ ঢুকে গেছে। এটা খুব রিস্কি অপারেশন তাই তোমাকেই করতে হবে।" আর বেশি দেরি করা চলবে না তাহলে আমরা নানাভাই কে হাড়িয়ে ফেলব।"
"তোমায় কে বলল।"
"তোমার ফোনটা বাড়িতেই ফেলে এসেছিলে। আমি সেই খবর দিতেই আসছিলাম তোমায়। তুমি তো আজ শুধু কাজের ফোন টাই নিয়ে এসেছো।"
"এবার দুটো দিক সামলাবো কি করে। দুটো কাজ ই জরুরি।"
"ডক্টর এ.এ.সির কাছে কোন কিছু অসম্ভব নয়। দুটোই তুমি ভালোভাবে সামলাতে পারবে। আর আমি এদিক টা দেখছি। তুমি নানাভাই কে দেখো।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।তবে সাবধানে।"
~চলবে,