ফন্ট সাইজ:
থিম:
আলগোছে ভালোবাসি সিজন 1

২১তম পর্ব

লেখক: আজরিনা জ্যামি

আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1 

#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি 

এ কথা শুনে সকলেই অবাক হয়। যারা জানেনা তারা ভাবে এই জানটা আবার কে? আয়াজ তো ভয় পেয়ে যায় তার জানপাখি কি কাউকে ভালোবাসে। তার থেকে তার জানপাখি হারিয়ে যাবে না তো। সকলেই অবাক হলেও একজনের মনে হচ্ছে কলিজা টা বেরিয়ে যাবে। তার প্রাণকে পাওয়া যাচ্ছে না। সে নিজেকে সামলাতে চাইছে কিন্তু পারছে না। আয়াত চিৎকার করে আবার বলল,,,
"আমি কোন কথা শুনতে চাই না। তোমরা এতগুলো মানুষ থাকতে আমার জান কোথায় গেল। আর এখন বলছো জানি না। আমি কিছু জানিনা আমি এক ঘণ্টার মধ্যে আমার জানের খবর চাই। আমার জানের যদি কিছু হয় তাহলে কিন্তু আমি কাউকে ছাড়বো না বলে দিলাম। আই ডোন্ট কেয়ার এনিওয়ান আমার জানকে চাই মানে চাই গট ইট।"
আয়াতের চিৎকার এতটাই জোরে ছিল যে সকলেই ভয় পেয়ে যায়। চৌধুরী বাড়ির সকলেই ওখানেই ছিল। আয়াদ দৌড়ে গিয়ে ওর ল্যাপটপ অন করলো খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা খুঁজতে লাগলো। কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না ও ওর জানকে কোন ভাবেই ট্রেস করতে পারছে না। ওর খুব ভয় হচ্ছে ও হারিয়ে ফেলবে না তো ওর জানকে ওর যদি কিছু হয় তাহলে ও বাঁচবে না। আয়াত কে দেখে যে কেউ বলবে পাগল হয়ে গেছে আয়াত। তখন আশিয়ান গিয়ে আয়াতের কাঁধে হাত রেখে বলল,,,
"কি হয়েছে আহি? তুই এতো চিৎকার করছিস কেন? আর পাগলের মতো করছিস কেন? কার কি হয়েছে।"
আয়াত চোখে পানি চলে এসেছে। ও অসহায় চোখে ওর ভাইয়ের দিকে তাকালো আর অসহায় গলায় বললো,,,
"ভাইয়া জানকে পাওয়া যাচ্ছে না।"
আয়াতের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ও কিছুই ভাবতে পারছে না। তখন ওর ফোনে আরো একটা কল আসলো। ও কল ধরে অসহায় গলায় বলল,,,
"তোমরা কোথায় ছিলে তোমরা কেউ কেন জানকে দেখে রাখলে না। তুমি জানো কাল জান আমার কাছে ফোন দিয়ে কতটা কাঁদছিল। তোমাদের তো বলেছিলাম ওকে দেখে রাখতো। তোমাদের দায়িত্ব যেমন জানকে দিয়েছিলাম তেমনতো জানের দায়িত্ব টাও আমি তোমাদের দিয়ে ছিলাম। ওর যদি কিছু হয় আমি বাঁচবো কি করে। তোমরা এতটা ইরেসপন্সিবল কি করে হলে।"
আয়াতের দু চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো। এই প্রথম আয়াত কে সবাই এভাবে কাঁদতে দেখছে। আরেফা চৌধুরীর বেলায় কাঁদলেও এতো কাঁদে নি। আয়াতের কথায় কি এমন ছিল তা কেউ জানেনা কিন্তু অনেক কষ্ট ছিল সেটা বুঝতে পারছে সকলে। জান নামক মানুষ টা কে যে অনেক ভালোবাসে সেটা বোঝা যাচ্ছে। ওখানে থাকা মেয়েদের চোখ ভরে উঠেছে। আয়াজের ও ভরে উঠেছে তবে নিজের জানপাখিকে হারানোর জন্য। আয়াতের এখন মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস টা বন্ধ হয়ে যাবে। আয়াত ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে তা দেখে আদিয়ান চৌধুরী আয়াত কে জড়িয়ে ধরলো। আর বলল,,,
"শান্ত হও আহি দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। তোমার জানকে তুমি ঠিক ফিরে পাবে। আমরা হয়তো জানিনা সে কে কিন্তু তোমার যে অনেক ভালোবাসার মানুষ সেটা বুঝতে পারছি। শান্ত হও নিজের অবস্থা দেখেছো পাগল পাগল হয়ে আছো। শান্ত হও সব ঠিক হয়ে যাবে।"
আয়াত ওর বাবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অসহায় কণ্ঠে বলল,,,
"বাবা আমার জানের যদি কিছু হয় তাহলে আমি বাঁচবো না। ওকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। এতবছর ধরে আমি ওকে আগলে রেখেছি কোন আঁচ আসতে দেই নি। আজ কতদিন হলো আমি ওর সাথে নেই বাবা ওর ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল আমারও খুব কষ্ট হচ্ছিল বাবা। ওর যদি কিছু হয় তাহলে আমি মরে যাবো বাবা।"
আয়াত কিছুক্ষণ পর ওর বাবাকে ছেড়ে দিল। চোখের পানিও মুছে ফেলল ও এক মুহুর্তের জন্য ভুলে গেছিলো ও ওর দূর্বলতা অন্যকে দেখাচ্ছে। কারো সামনে নিজের দূর্বলতা দেখানো যাবে না। তাহলে তাদের ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লাগবে। এমনিতেও দূর্বলতা প্রকাশ অনেকটা হয়েই গেছে। তবে ওর বিশ্বাস এটা নিয়ে কেউ তার কাছে বলবে না। আয়াতের হঠাৎ পরিবর্তন দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। একটু আগেই পাগলের মতো ব্যবহার করেছিল কিন্তু এখন একটা শান্ত মানব হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা দেখে আশিয়ান বলল,,,
"বোনু তুই ঠিক আছিস?"
"হ্যা ভাইয়া আমি ঠিক আছি। হঠকারিতায় সব ভুলে গেছিলাম। এখন আমি ঠিক আছি। রোজা, আয়াজ তোমরা আজ এসো আমরা অন্য কোনদিন সবাই মিলে আড্ডা দেব।"
তখন রোজা বলল,,
"সেটা নাহয় ঠিক আছে আমরা যাবো কিন্তু তোর জানটা কে ? এর আগে তো তুই তার কথা বলিস নি!"
"সে আমার খুব কাছের কেউ। সমস্যা নেই খুব তাড়াতাড়িই তাকে পেয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। তাড়াতাড়ি করতে যেয়ে সব গড়বড় করে ফেলেছি। আমি এখনি সব চেক করছি।" 
খুব কাছের কেউ শুনে আয়াজের ভেতরটা দুমরে মুচড়ে গেল। ওর ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে কিন্তু ও পারছে না। আর পারবেও না ও একটা ছেলে। আর ছেলেদের যে কাঁদতে মানা। ওর ভেতরটা কষ্টে পুড়ে যাচ্ছে। ও যে আয়াত কে সেই আগে থেকেই ভালোবাসে এখন ও যে বলা হয় নি জানপাখি আমি তোমাকে অনেক আগে থেকেই #আলগোছে_ভালোবাসি।
আয়াজ নিজেকে সামলিয়ে বলল,,
"আমরা থাকি না। রোজা বাড়ি চলে যাক আমরা তোমার জানকে খোঁজার চেষ্টা করি না।"
আয়াজের কথা শুনে আয়াত একবার আয়াজের দিকে তাকালো। ওর চোখ দেখে আয়াত বুঝতে পারল ওর ভেতরে কি হচ্ছে। তবুও আয়াত ওকে কিছু বলবে না। কারন আয়াত এখনি ওর সাথে কাউকে জরাবে না। ওর জীবনের সাথে জড়িত সব মানুষ ই ঝুঁকিতে থাকে যদিও তারা টের পায় না। সবকিছু আয়াত ই সামলে নেয়। কয়েক দিন আগেও হসপিটালে আয়েশা চৌধুরীকে কে যেন মারতে এসেছিল আয়াত ঠিক সময় তাকে দেখতে পায়। আর তাকে আটকায় আয়েশা চৌধুরী ঘুমাচ্ছিল বলে কিছুই জানতে পারিনি। আয়াতের আশেপাশে সবসময় ওর লোক থাকে আয়েশা চৌধুরীর গুলি লাগার পর তো সবাই এলার্ট ও থাকে । আয়াত তাকে ওর লোকগুলোর কাছে দিয়ে দেয়। আয়াত এতক্ষন এসব কিছু ভাবছিল। আয়াত কিছু বলছে না দেখে আয়াজ আবারো বলল,,
"কি হলো কিছু বললে না তো আমরা থাকি।"
আয়াজের কথায় আয়াতের হুস ফিরল ও বলল,,
"তোমাদের মামার বাড়ি তোমাদের ইচ্ছে হলে থাকো না ইচ্ছে হলে নাই। আমাকে জিজ্ঞেস করছো কেন?
আয়াত একটু রুড ভাবেই কথাগুলো বলল কিন্তু সবাই ভাবলো আয়াত টেনশনে আছে দেখে এমন করছে। আসলে আয়াত ইচ্ছে করেই এরকম করলো। যাতে কেউ এটা জানতে না পারে আয়াজ ওর ওপরে দূর্বল।তখন রোজা বলল,,
"মা বাবা কেউ বাড়িতে নেই। তাই আমি তোদের বাড়িতে এসেছিলাম। আমিও থাকি তাহলে।"
তখন আয়াত বলল,,
"ঠিক আছে।"
তখনি আয়াতের ফোনে একটা ফোন এলো। আয়াত তাড়াতাড়ি ফোন ধরে বলল,,
"এনি আপডেট?"
"*******
"আর ইউ সিওর হি ইজ ইন এয়ারপোর্ট ?"
"ওকে থ্যাঙ্ক ইউ!"
আয়াত ফোন রেখে দিল। তখন সবাই জিজ্ঞেস করল,কি হয়েছে কোন খবর পেয়েছিস।"
"হুম পেয়েছি সে বোধহয় আমার কাছেই আসছে।তোমরা টেনশন করো না আমি দেখছি।"
বলেই আয়াত ওখান থেকে উঠে নিজের রুমে চলে গেল। বাকি সবাই শুধু দেখেই গেলো কিছু বলতে পারলো না।আয়াত রুমে গিয়ে কাউকে কল লাগালো। কল ধরতেই ওপাশ থেকে বলল,,
"আসসালামু আলাইকুম!"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম। তুমি সব জানতে তাই না।"
"সত্যি বলছি আমরা কেউ কিছু জানতাম না। যখন শুনলাম ওকে এয়ার্পোর্টে দেখা গেছে তখন বুঝতে পারলাম ও তোমার কাছে যাচ্ছে।"
"তোমরা যদি কিছু নাই জানতে তাহলে ওকে হেল্প করলো কে?"
"আমাদের এখানে তোর নজরে থেকে কেউ কিছু করতে পারবে না। নিশ্চয়ই বাইরের কেউ সাহায্য করেছে।"
"তোমার কে মনেহয় বলো তো?"
"আমার তো মনে হয় "
আয়াত আর ফোনের ওপাশের লোক একসাথে বলে উঠে ,,,
"লিওনের পাপা হ্যা সেই সাহায্য করেছে।"
তখন আয়াত বলল,,
 কারন সে ছাড়া এই দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারবে না। আসলে ওনাকে কোনদিন টাইট দেওয়া হয় নি । তাই আমাকে ভালোভাবে চেনে না ভদ্রলোক।"
"ইংরেজ তো তাই বাঙালি দের সম্পর্কে ধারণা নেই।"
"তা যা বলেছো ফুপিমা কোথায়? সে কি সব জানতো।"
"সেও কিছু জানতো না আনাফ কে পাওয়া যাচ্ছে না শুনে সে তো হায়পায় হয়ে গেছিল তোর মতো। তোর মতো শক্ত মানুষ যখন ভেঙে পরেছিল।তাহলে ভাব তোর ফুপিমার মতো মমের পুতুলের কি অবস্থা হয়েছে।"
"জান ভাইয়া সে কোথায়?"
"সে আনাফকে খুঁজতে গিয়েছে এখনো ফেরেনি তবে সব জেনে ফোন করেছিলো। "
"আনাফের সাথে কেউ আছে কিনা?"
তখন আরেকজন ফোন নিয়ে বলল,,,
"হ্যা তার সাথে লিওনের বাবা এক বাঙালি বডিগার্ড কে পাঠিয়েছে। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য তিনি আমাদের বডিগার্ড~ই আনাফ নাকি ব্লাকমেইল করে তাকে রাজি করিয়েছে তার সাথে যেতে। তবে যাই বলো তোমার জানের মাথায় কিন্তু অনেক বুদ্ধি এতদূর তোমার কাছে গেলেও সেফটি সাথে নিয়েই যাচ্ছে। "
"আরে জান ভাইয়া দেখতে হবে না কার জামাই আহিয়ানা আয়াত চৌধুরীর জান ওরফে জামাই আনাফ আজান চৌধুরী। তাছাড়া আমি বুঝেছি কোন বডিগার্ড টা ওর সাথে আছে আমিই ওনাকে বলেছিলাম জানের সব কথা যেনো উনি শুনেন। ইনডিরেক্টলি উনি আমার কথাই শুনেছেন।"
" হুম ! কিন্তু ডায়লগটা তো তার।"
"সে জন্যই তো বললাম। আচ্ছা ফুপিমা ওখানে আছে কি?
"হুম এখানে সবাই আছে । ফোনটাও লাউডে দেওয়া সব শুনছে সে কিন্তু কিছু বলছে না। "
"বুঝতে পেরেছি সে অভিমান করেছে। তবে এখানে আমার কোন হাত নেই বুঝলে ফুপিমা!"
এতক্ষন চুপ করে থাকলেও এখন ফুপিমা কথা বলল,,,
"আমি কেন অভিমান করবো। আমি তোদের কেউ হই নাকি। আমার কথা কেউ ভাবে না। সবসময় নিজেদের মর্জি মতো চলে। আর ফ্রিতে আমাকে টেনশন দেয়।"
"তোমাকে নিয়ে ভাবার জন্য তো তোমার বাবা আছে। তিনিই ভাববেন আমরা কেন ভাবতে যাবো শুনি!"
"আমার কথা না ভাবলি বাবার কথাটা তো ভাববি! বাবার বয়স হয়েছে।"
"আরে তাকে নিয়ে ভাবার জন্য তো তুমি আছো।"তোমার জন্য তোমার বাবা আর তোমার বাবার জন্য তুমি।"
"সবসময় ফাজলামো তাইনা । তা একটু আগে টেনশনে কে তার বাবাকে জরিয়ে ধরে কাঁদছিল শুনি আমি সব জানি। তোর যে অবস্থা হয়েছিল আমি সবসময় সেই অবস্থায় থাকি বুঝতে পেরছিস।"
"হ্যা বুঝতে পেরেছি মা জননী। আর তুমি একটু শক্ত হও নিজের বাবাকে দেখো জীবনে এতো কিছু দেখেছে তবুও কি শক্ত আছে আর তুমি মমের পুতুল।"
"বাবার মতো আমি কখনোই হতে পারবো না। বাবার মতো না আছে মনের জোর না আছে ধৈর্য তুই বাবার মতো হয়েছিস তাতেই আমার হবে। তবে তুই বাবার থেকেও এক কাঠি উপরে।"
"আমাকে তেল দিচ্ছো আমাকে তেল দিয়ে লাভ নেই ব্রো। তুমি বরং টেনশন কম করো আমি এপাশে সব সামলে নেব। আর টেনশনে নিজের বিপি বাড়িও না। "
"সাবধানে থাকিস ভুলে যাস না গুলি টা কিন্তু তোকেই করতে চেয়েছিল।"
"কিছু ভুলি নি সব মনে আছে আমার সে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল। আমি তার একটা কালো ধান্দা বন্ধ করে দিয়েছি। খুশির সংবাদ হলো এটাই আমি তার কাজের ব্যাপারে জানলেও সে আমার ব্যাপারে অজ্ঞাত। সে আমাকে সাধারণ একজন ই ভাবে। এটাই আমার কাছে খুব মজা লাগে।"
"আপনার যে কিসে মজা আর কিসে আনন্দ মাঝে মাঝে আমিই বুঝতে পারি না।"
"তোমার এতো বুঝতেও হবে না। জান ভাইয়া ওদিকের খবর কি সব ঠিকঠাক।"
"এভরিথিং ইজ ফাইন।"
"ওকে খুব ভালো।তোমরা কেউ এদিকটা নিয়ে চিন্তা করো না আমি সব সামলে নেব। এখন রাখছি আল্লাহ হাফেজ।জান এসে পৌঁছালে আমি তোমাদের জানাবো। আসসালামু আলাইকুম!
বলেই আয়াত ফোন রেখে দিল। তখনি ওর রুমে কেউ নক করলো। ও গিয়ে দরজা খুলে দেখলো ওর কাকিমনি ,ওনাকে রুমে ঢুকালো আর দরজা বন্ধ করে দিয়েই ও উনাকে জরিয়ে ধরে বলল,,,
'কাকিমনি চিন্তা করো না। জান একদম ঠিক আছে আর ও আসছে আমার কাছে। এখন থেকে আমাদের সাথেই থাকবে। তবে যাই বলো না কেন ওর সাহস দেখেছো একা একাই কাউকে কিছু না বলে আমার কাছে আসবে অবশ্য কাল রাতে ও বলেছিল ও আমার কাছে আসবে কিন্তু আমি পাত্তা দিইনি। এখন নিজেই সব ম্যানেজ করে আসছে। বলতে হবে আমার জামাই আমার জান আমাকে অনেক ভালোবাসে।"
"হুম প্রথম থেকেই তো তুই তাকে আগলে রেখেছিস। তাই তোকে ছাড়া বেশি ভালোলাগে না। তুই যদি সেদিন না থাকতি তাহলে ওরা ওকে সেদিন ই মেরে ফেলতো। "
"আমি চাইনি আমার জামাই পৃথিবী দেখার আগেই আবার রবের নিকট ফিরে যাক। তবে সবকিছুর মালিক আল্লাহ তিনি চেয়েছেন বলেই আমরা সেদিন ওকে বাঁচাতে পেরেছি। "
"সেদিন তো তুই ও আহত ছিলি তোকে মারছিল তোকে তোকে তো সেদিন মেরেই ফেলতো কিন্তু হঠাৎ করে কতো গুলো মানুষ আসলো তোকে প্রটেক্ট করতে। আমি তো প্রায়ই সেন্সলেস ই ছিলাম। তাই কাউকে দেখতে পাইনি। তারা সেদিন না থাকলে তুই আমি তোর জান তিনজনেই মরে যেতাম। তারা কে ছিল আমি আজও জানি না।"
"আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিল তুমি এতো ভেবো না তো। এখন চলো তোমার ছেলের জন্য রান্না করতে হবে তো।"
আয়াত কিছু টা এরিয়েই গেল। কারন আঁখি চৌধুরী কে ও এখন সব জানাতে চায় না। 
__________________
আয়াত ওপরে আসতেই ইশরাত বলল,,,
"অহনা এই জানটা কে?"
"ও যে বলল না আপুর কাছের কেউ। আমরাও সকলে এইটুকু জানি এর থেকে বেশি কিছু জানি না। তার নাম কি? কোথায় থাকে? কি করে ? কিছু জানি না।"
তখন আয়াজ অসহায় কন্ঠে বলল,,,
"ওর কি কারো সাথে প্রেমের সম্পর্ক আছে। যাকে ও জান বলে ডাকে।"
তখন আশিয়ান বলল,,,
"অহনা সেদিন এ কথা জিজ্ঞেস করেছিল। ও বলেছিল ও এসব হারাম রিলেশনে নেই। জান কি শুধু বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড কে বলে নাকি কাছের মানুষদের ও জান বলে। তেমনই ও ডাকে।'
আয়াজের মাথায় কিছুই ঢুকছে না। এদিকে ওর ভিশন অস্থির লাগছে। তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"ও বোধহয় ওর জানকে পেয়ে গেছে।কথা শুনে তো তাই মনে হলো।"
তখন আশিয়ান বলল,,
"হুম ঠিক বলেছো বাবা। এখন তো ওপরে গেল। কাউকে কোন কথা বলার সুযোগ ই দিলো না।"
তখন আয়াজ বলল,,
"ঠিক আছে তাহলে আমরা এখন আসি আবার অন্য কোনদিন আসবো।"
"আরে কোথায় যাচ্ছিস। শুধু আয়াত নেই আমরা সবাই তো আছি। চল বসে আড্ডা দেই। আমি আছি তোর ভাবি আছে অহনা আছে রোজাও তো আছে। আয়াত ঠিক এসে পরবে। এখন তো টেনশনের কিছু নেই। ও তো ওর জানকে পেয়েই গেছে।"
আশিয়ানের কথা শুনে আয়াজ না চাওয়া সত্ত্বেও ওদের সাথে বসলো। ইশরাত ভাইয়ের অবস্থা বুঝতে পারলেও কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পর আয়াত আর আঁখি চৌধুরী কিছু নিয়ে কথা বলতে বলতে নিচে আসলো। ও এখন নিশ্চিন্ত ওর জান এখন প্লেনে রয়েছে আসতে আসতে কয়েকঘণ্টা সময় লাগবে। ওকে নিচে আসতে দেখে আশিয়ান বলল,,,
"আহি এদিকে আয়। তোর জন্য আয়াজরা তো চলেই যাচ্ছিল।"
তখন আয়াত বলল,,
"কাউকে কোথাও যেতে হবে না। এখন আমি রান্না করবো সবাই খেয়ে তারপর যাবে।"
"কি তুই রান্না করবি?"
"হ্যা করবো তো আমার জান আসছে আমাদের বাড়িতে তাই জামাই আদর তো করতেই হবে। আর জান আমার হাতের রান্না খেতে খুব ভালোবাসে। আসলে আমার জান হারায় নি আমার কাছে কাউকে কিছু না বলে আসতেছে।"
"তোর জানের নাম কি ? কি করে?"
"সেটা না হয় এলেই দেখতে পাবে। তোমরা সবাই আড্ডা দাও আমি রান্না বসাই।"
আয়াজের এখন আয়াত কে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে।কেন করছো এগুলো? কেন বারবার তোমার জানকে নিয়ে কথা বলছো। আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে। আয়াজ মুখে বলল,,
"আহি আমরা বরং অন্য একদিন আসবো আজ আসি।"
"না মিস্টার আয়াজ আজ সন্ধ্যার আগে কেউ বাড়ি ফিরতে পারবে না। আমার জান আসবে কয়েক ঘন্টা পরেই । তার সাথে দেখা করেই বাই যাবে। আমি জানি এখন যদি তুমি চলে যাও তাহলে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। তুমি যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারো তাই দেখেই যাবে। এখন কথা না বলে তোমরা আড্ডা দাও। পারলে একটু ঘুরা ঘুরি ও করতে পারো।"
"আচ্ছা ঠিক আছে আমরা নাহয় এখানেই থাকলাম।"
"গুড বয় !"
আয়াত মুচকি হেসে রান্না ঘরে চলে গেল। আয়াজ বুঝতে পেরেছে আয়াত ওকে কি মিন করে কথা বলেছে। তাই ও আর কিছু বললো না। দেখা যাক না কি হয়।আয়াত রান্না ঘরে গিয়ে ওদের জন্য কিছু স্ন্যাক আর কফি পাঠিয়ে দিল। আদিয়ান চৌধুরীরা মামারা আর ভাগ্নে মিলে অনেক আড্ডা দিল। আয়াত একা রান্না করছে না আঁখি চৌধুরী ও আছে। মোনা চৌধুরী গিয়েছিল রান্না ঘরে কিন্তু আয়াতরা ওনাকে বের করে দিয়েছে রান্না ঘর থেকে। আয়াত বলেছে,,
"কাকিমনি তুমি তো প্রতিদিনই রান্নার কাজ দেখো আজ আর তোমাকে দেখতে হবে না। "
আয়েশা চৌধুরী এখন অনেকটাই সুস্থ। কিন্তু আয়াত কড়া নিয়ম করে দিয়েছে সে যেনো রান্না ঘরে এক পা ও না দেয়। আয়েশা চৌধুরী আর মোনা চৌধুরী দূর থেকেই আয়াতদের রান্না দেখছে। রেদওয়ান চৌধুরী আজ আঁখি চৌধুরী কে খুব খুশি দেখছে। এর কারন কি তিনি সেটা জানেন না। আবার উনাকে আজকে মন খারাপ করে কাদতেও দেখেছেন যখন আয়াত কাঁদছিল উনি ভাবলেন হয়তো আয়াতের কষ্ট দেখে কাঁদছিল। তবে নিজের স্ত্রীকে খুশি দেখে তিনিও খুব খুশি। তাদের এরেন্জ মেরেজ হয়েছিল। কিন্তু তাদের দেখে কেউ বলবে না। যে তাদের এরেন্জ মেরেজ হয়েছিল তারা সবসময় একে অপরের পাশে থাকে। আঁখি চৌধুরী যখন প্রেগন্যান্ট ছিল তখন তিনি খুব খেয়াল রাখতো মাঝে মাঝে ব্যাথা করতো তখন আঁখি চৌধুরী কাঁদতেন তখন রেদওয়ান চৌধুরী ও তাকে ধরে কাঁদতেন। শুধু সব থেকে কষ্টের সময় তিনি পাশে থাকতে পারে নি। এটা নিয়ে সে এখনো আফসোস করে।এত বছরে তাদের বাচ্চা নেই তবুও তার আফসোস নেই। তার আঁখি তো তার সাথে আছে। রেদওয়ান চৌধুরী রান্না ঘরে গেলেন তার প্রানপ্রিয় স্ত্রীর কাছে। তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন আঁখি চৌধুরী হেসে আয়াতের সাথে কথা বলছে। তা দেখে তিনি বললেন,,,
"কি ব্যাপার দুজনকে আজ অনেক খুশি দেখাচ্ছে।"
এ কথা শুনে আয়াত আর আঁখি হকচকিয়ে গেল ওরা উনাকে একদম আশা করেনি। কেউ কিছু বলছে না দেখে উনি আবার বললেন,,,
"আহির না হয় জান আসছে তাই জন্য খুশি কিন্তু আঁখি তুমি এতো কিসের জন্য খুশি?"
উনিশে কিসের জন্য খুশি সেটা তো উনি এখন বলতে পারবেন না। আয়াত মশকরা করে বলল,,,
"কাকাই কাকিমনি না নতুন করে প্রেমে পরেছে তাই এতো খুশি। সেদিন মার্কেট এ গিয়েছিলাম না তখন কাকিমনি একজনের প্রেমে পরেছে। আমাকে তাই বলেছিল আর হাসছিল।"
আয়াতের কথা শুনে রেদওয়ান চৌধুরী হা করে আঁখি চৌধুরীর দিকে তাকালেন। এদিকে আঁখি চৌধুরী ও আয়াতের কথা শুনে আয়াতের দিকে তাকালো। রেদওয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"আঁখি তুমি এই বয়সে এসব! কি বলছে আহি।"
"আমি সত্যি বলছি কাকাই । তুমি তো কাজের জন্য এখন কাকিমনি কে সময় ই দাও না। তাই কাকি মনি ঠিক করেছে একটা প্রেম করবে।"
"এই বয়সে প্রেম করবে হাসালি ।"
এ কথা শুনে আঁখি চৌধুরীর মনে হয় একটু গায়ে লাগলো। উনার হাতে একটা খুন্তি ছিল তিনি খুন্তিটা উঠিয়ে বললেন,,,
"কেন আমি এ বয়সে প্রেম করতে পারিনা নাকি?"
"তোমাকে এ বয়সে পছন্দ করবে কে?"
"তুমি জানো আমাকে কলেজে থাকতে কতো ছেলে প্রপোজ করেছে। এখন ও যদি কাউকে বলি দেখবে একেবারে বিয়ে করে নেবে।
"ইশশ্ তাদের কি বাজে টেস্ট ছিল । আর কি বললে বিয়ে তোমাকে কোন পাগল বিয়ে করবে।"
"এই কি বললে তুমি?"
"যা সত্যি তাই বললাম। তুমি তো মেয়ে ছেলেরা পেছন পেছন ঘুরতেই পারে স্বাভাবিক কিন্তু আমি তো ছেলে তুমি জানো মেয়েরা প্রতিদিন আমার পেছনে লাইন ধরে দাড়াতো।"
"যেই না চেহারা নাম তার পেয়ারা। এনার পেছনে নাকি মেয়েরা ঘুরতো হাসালে। আমি না বিয়ে করলে তো তোমার কপালে বউ জুটতো না।"
"কি বললে তুমি বউ জুটতো না। তুমি জানো এখনো অফিসের মেয়েরা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।"
"দেখ আহি দেখ তোর কাকাই অফিস গিয়ে এসব করে। তিনিও মেয়েদের দেখে নাহলে বুঝলো কিভাবে মেয়েরা ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।"
আয়াত বলবে কি ওতো হেসেই যাচ্ছে। হাসতে হাসতে এখন মনে হয় পেট টাই ফেটে যাবে। ও যাস্ট একটু মজা করছিল তা থেকে এতো কিছু। ড্রয়ি্ংরুম থেকে কিচেন দেখা যায়। সকলে এতক্ষন ধরে আঁখি আর রেদওয়ান চৌধুরীর ঝগড়া দেখছিল আর হাসছিল। আয়াজ রা কখনো ওর মামাকে এভাবে দেখেনি।আজ ই প্রথম দেখলো। আয়াজ বুঝতে পারলো এসব ওর জান পাখির চাল। সবাই এটা উপভোগ করছে। আদিয়ান চৌধুরী ভিশন খুশি তার ভাইয়ের এরুপ দেখে। অনেক বছর আবার এমন দেখলো। আয়াতকে হাসতে দেখে আঁখি চৌধুরীর আর রেদওয়ান চৌধুরীর হুস আসলো আসলে তারা কেন ঝগড়া করছে। উনারা দুজনে গিয়ে আয়াতের দু কান ধরে বলল,,,
"আমাদের ঝগড়া লাগিয়ে দিয়ে এখন আবার হাসছিস তুই।"
ওদের কথা শুনে আয়াত বলল,,
"আমি তো মজা করছিলাম তোমরা সিরিয়াস ভাবে নিবে আমি ভাবতেই পারিনি।"
"তাই তো বলি আখি আমাকে ছাড়া অন্য কোন ছেলের দিকে তাকায় না সে আবার প্রেম করবে।"
"কাকাই কাকিমনি কানটা ছাড়ো এবার কিন্তু আমার কানটা ছিঁড়ে যাবে। এমনিতেই আমার জান আসছে সে যদি দেখে আমার দু কান নেই তাহলে কি ভাববে বলো তো।"
আয়াতের কথা শুনে উনারা কান ছেড়ে দিল। তারপর আয়াত বলল,,
"যাও এখন রান্নাঘর থেকে কেটে পরো।"
"এসব কি ভাষা?"
"ওসব তুমি বুঝবে না তুমি এখন রান্নাঘর থেকে যাও আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে।"
"ঠিক আছে বাবা যাচ্ছি যাচ্ছি আর তাড়িয়ে দিতে হবে না।"
রেদওয়ান চৌধুরী রান্না ঘর থেকে চলে গেল। ওরা রান্না করলো। দুপুরে আয়াত সবাইকে ডেকে খেতে দিল। কিন্তু নিজে খেলো না তার জান এলে একসাথে খাবে। সকলে বলেছিল তাকে খেয়ে নিতে কিন্তু ও কারো কথায় শুনলো না। সকলে আয়াতের রান্নার প্রশংসা করলো। তাতে ওর কিছু যায় আসে না। আয়াত রেডি হয়ে বসে আছে কখন ওর জান আসবে। সকলে ওর ছটফটানি দেখছে । আয়াতের মতো সকলেই জান নামক মানুষটির জন্য অপেক্ষা করছে। যত সময় যাচ্ছে আয়াজের ভয় বারছে যদি ও ওর জান পাখিকে হাড়িয়ে ফেলে। প্রিয়জনকে হাড়িয়ে ফেলার ভয়ের থেকে আর বোধহয় কোন ভয় বেশি হয় না। আয়াতের মতো আঁখি চৌধুরী ও ছটফট করছে কখন আসবে তার সোনামনি চাঁদের টুকরো। অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কেউ কলিংবেল বাজালো আয়াত দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললো। ও দরজা খুলেই শুনতে পেল,,
" আসসালামু আলাইকুম জান!! সারপ্রাইজ!!"
বলেই একটা আট কি নয় বছরের বাচ্চাকে দেখা গেল।কোট প্যান্ট পরে একদম ফর্মাল লুকে এসেছে বড়দের মতো।দেখতে মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে।ফর্সা গায়ের সাথে কালো সুটটা দারুন মানিয়েছে চোখে একটা গোল চশমা। আয়াজসহ বাড়ির সকলে অবাক চোখে ছেলেটাকে দেখছে। ছেলেটা আর কেউ না ছেলে টা হচ্ছে আয়াতের জান আনাফ আজান চৌধুরী। আয়াত মনে মনে অনেক খুশি হলেও উপরে গম্ভীর হয়ে রয়েছে। সে কঠিন স্বরেই বলল,,,
"ওয়ালাইকুমুস সালাম। কিন্তু আপনি কে বলুন তো?"
আয়াতের কথা শুনে আনাফ একটু হকচকিয়ে গেল।আর এটাও বুঝতে পারল কাউকে না বলে এসেছে দেখে তার জান তার ওপর রাগ করে আছে। তাই ও বলল,,,
"আমি আহিয়ানা চৌধুরীর জান ওরফে জামাই আনাফ চৌধুরী।"
আনাফের একথা শুনে আয়াতের খুব হাসি পেল বাকিদেরও পেল এত ছোট বাচ্চা বলছে কিনা আয়াতের জামাই। আয়াত কোন কথা না বলে হাঁটা ধরলো আনাফ ও পেছন পেছন হাঁটা ধরে বলল,,
"জান শুনো না প্লিজ রাগ করো না। আমি তো তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে এসেছি।"
"আপনি কে যে আপনার ওপর রাগ করবো !"
আনাফ দৌড়ে গিয়ে আয়াতের হাত ধরে বলল,,
"প্লিজ তোমার জানকে একবার জান বলে ডাকোনা।"
"আপনি আমার জান আপনাকে কে বলল আর আপনাকেই বা আমি জান বলতে যাবো কেন শুনি?"
"আমি তোমার জামাই আর জামাইদের কথা শুনতে হয় তুমি জানো না।"
এ কথা শুনে বাড়ির সকলে হেসে দিল। আয়াত কোনরকম নিজের হাসিটাকে কন্ট্রোল করলো। সবাই কে হাসতে দেখে আনাফ বলল,,,
"তোমরা সবাই হাসছো কেন? দেখছো না বউয়ের রাগ ভাঙাচ্ছি তোমাদের হাসি শুনে আমার বউ আরো রেগে যাবে। তখন আমার আরো কষ্ট করতে হবে।"
এ কথা শুনে সকলে আরো জোরে হেসে দিল। আনাফ এমন ভাবে কথা বলছে যেনো কতো দিনের পরিচয়। তখন আনাফ বলল,,
"তোমরা কিন্তু আমার কথা শুনছো না। তোমরা তো টিপস ও দিতে পারো।এবার তোমরা না হেসে বলো কিভাবে বউয়ের রাগ ভাঙাবো।"
তখন আশিয়ান বলল,,
"আপনি যদি আমার বোনের জামাই হন না মানে আহির যদি জামাই হন তাহলে তো আপনি আমার দুলাভাই হন। দুলাভাই হিসেবে আপনাকে একটা টিপস দিচ্ছি আপনি আপনার বউকে সামনে কান ধরে সরি বলুন। তাহলেই দেখবেন আপনার বউয়ের রাগ কমে যাবে।"
আশিয়ানের কথায় ইনাফ বলল,,,
আপনি তো আমার বউয়ের বড় ভাই আর বড় ভাইরা কি বোনের জামাইকে দুলাভাই বলে নাকি । তাই হোক তখন তুমি বললে তাহলে তোমার কথাই শুনি । 
এটুকু বাচ্চার এরকম বুজদার কথা শুনে সকলে অবাক হলো। আশিয়ান আর কিছু বললো না। আশিয়ান এর কথা শুনে আনাফ তাই করলো ।কান ধরে বলল,,
"সরি জান এরকম আর কখনো করবো না। প্লিজ আর রাগ করে থেকো না। প্লিজ জান রাগ করো না। আসলে তোমাকে ছাড়া থাকতে আমার ভিশন কষ্ট হচ্ছিল তাই তো চলে এলাম।"
আয়াত হাঁটু গেড়ে আনাফকে জরিয়ে ধরে বলল,,,
"তুমি জানো আমি কতোটা ভয় পেয়ে গেছিলাম যখন শুনলাম তোমাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছিল আমার আত্মা টা বোধহয় বেরিয়ে যাবে। আমারো তো কতো হচ্ছিল তোমাকে ছাড়া থাকতে। এরকম প্লিজ আর আরো না প্লিজ। তুমি জানো ফুপিমার কি অবস্থা হয়েছিল। তুমি যদি কাউকে বলে আসতে তাহলে কি কেউ বাধা দিত। আমি নিজে গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসতাম।"
আয়াতের কথা গুলো বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল ও নিজেকে সামলিয়ে আনাফ কে ছেড়ে দিল। তখন আনাফ বলল,,
"আই এম সরি এরপর থেকে এরকম আর করবো না। আসলে বউকে ছাড়া আমার একদম ভালো লাগছিল না। তাই হুট করে চলেই এলাম। আমার বউ তো দেখতে শুনতে মাশাআল্লাহ যদি কেউ নিয়ে যায় তখন আমার কি হবে। তাই সময় থাকতে থাকতেই চলে এলাম। তাছাড়া বউয়ের কাছাকাছি থাকা সুন্নত তুমি বোধহয় ভুলে গেছো।"
"ওরে পাকা ছেলে "
"তোমারই জামাই!
~চলবে,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন