ফন্ট সাইজ:
থিম:
আলগোছে ভালোবাসি সিজন 1

২৩তম পর্ব

লেখক: আজরিনা জ্যামি

আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1 

#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
আয়াজের এত ভাবনার জন্য সারারাত ঘুম~ই হলো না। ও কালকের দিনটার জন্য খুব এক্সাইটেড। ও কয়েকটা চিরকুট ও লিখেছে আয়াতের জন্য। কাল আয়াত কে সারপ্রাইজ দেবে। কিন্তু কাউকে কিছু বলা হয় নি। কাউকে কি কিছু বলা উচিৎ নাকি একাই সব প্ল্যান করা উচিৎ। কিছুই ভাবতে পারছে না তবে ওর বন্ধুদের তো বলা উচিৎ হাজার হোক সুখে দুঃখে ওরাই সবসময় পাশে থাকে এটা ওদের হক। এসব ভাবতে ভাবতেই ও ফারহান আর সজীব কে কল করে সব জানালো। সব শুনে ওরা বলল ওরা সব করবে। ওরা ওদের বন্ধুর জন্যে খুব খুশি। কি ভেবে যেন ইশরাত কেউ ডেকে এনে বলল। কারন ইশরাত ই তো সাহায্য করতে পারবে যে কি বলে আয়াত কে নিয়ে আসবে। সারারাত ছটফট করে আয়াজ রাতটা কাটিয়ে সকালে ঘুমালো। হয়তো এখন স্বপ্নেও দেখবে আয়াত কে কিভাবে প্রপোজ করছে। এত সব কিছু করছে আদও সব ঠিক হবে নাকি ভুল হবে সেটা একমাত্র রব ই জানে।
__________________
আরেকটা নতুন দিনের সূচনা। আয়ুকাল থেকে আরেকটা দিন বাদ পরলো জীবন থেকে। আজানের ধ্বনি কানে আসতেই চোখ খুললো আয়াত। চোখ খুলে ঘুম থেকে উঠার দোয়া পরলো। তারপর পাশে তাকিয়ে দেখল আনাফ ওর একহাত জরিয়ে ঘুমিয়ে আছে। কতো শান্ত লাগছে ছেলেটা কে। ও আনাফকে ঘুম থেকে ডাকতে লাগলো। আনাফ ও নিয়মিত নামাজ পরে এটার অভ্যাস আয়াত করিয়েছে। আনাফ আর ওর দাদুভাই সবসময় একসাথে নামাজ পরতো। আনাফ উঠছে না দেখে আয়াত বলল,,
"জান উঠো নামাজ পরতে হবে তো।"
"জান আরেকটু !"
"বলেছিনা নামাজের সাথে নো কম্প্রোমাইজ। তুমি যদি নামাজ না পরো তাহলে শয়তান তোমাকে ওয়াসওয়াসা দেবে খারাপ কাজ করার জন্য। খারাপ কাজ করলে তুমি তো আল্লাহর অপ্রিয় বান্দা হয়ে যাবে। তুমি কি চাও আল্লাহর অপ্রিয় হতে।"
"না আমি আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চাই অপ্রিয় বান্দা হতে চাই না। দেখো আমি উঠে পরেছি।"
"ঘুম থেকে উঠার দোয়া পরেছো?"
আরে না ভুলে গেছি এখনি পরছি,,,,,
"আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আহ্ইয়ানা বাদামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর জীবন দান করেছেন এবং তার দিকেই প্রত্যাবর্তন। 
"মাশাআল্লাহ গুড বয় এখন চলো উঠো ওযু করে নামাজ পরতে হবে তো। "
"হুম"
আয়াত আর আনাফ ওযু করে সালাত আদায় করে নিল। আয়াত আনাফ কে কিছু উপদেশ দিল। আনাফ মন দিয়ে শুনলো। আসলে ছোট বাচ্চাদের আপনি যেভাবে শেখাবেন সেভাবেই ওরা বেড়ে উঠবে। তাই বাচ্চাদের সঠিক শিক্ষা দিন। ছোটবেলায় বাচ্চারা যা শেখে সেটা কখনো তারা ভুলে না। একটু আলো ফুটতেই আয়াত আর আনাফ বাগানে হাঁটতে নামলো। আয়াত আর আনাফ বাগানে হাঁটতে লাগলো কিছুক্ষণ পর ছোটাছুটি ও করতে লাগলো ইনাফ কি যেনো করেছে তাই আয়াত ওকে ধরার জন্য পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে। এবাড়ির সকলেই নামাজ পড়ে ঘুমায় না। সকলেই প্রায় বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সকাল উপভোগ করে। কিছুক্ষণ পর আনাফ আর আয়াত বাড়ির ভেতরে ঢুকলো। আদিয়ান চৌধুরী তিন ভাই বসে চা খাচ্ছিল আর কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলছিল সাথে আশিয়ান ও আছে। মূলত অফিসের কিছু একটা নিয়ে কথা বলছে। ওরা গিয়ে সোফায় এক কোনায় বসে পরলো। আয়াত মন দিয়ে কথা শুনছিল অফিসে কি হয়েছে অফিসের টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকা গায়েব কিন্তু কে করেছে সেটা কেউ ধরতে পারছে না। সব শুনে আয়াত বলল,,,
"ম্যানেজার কে চেপে ধরো তাহলেই সব বেরিয়ে যাবে।"
এ কথা শুনে সবাই ওর দিকে তাকালো। তখন আশিয়ান বলল,,,
"আরে ম্যানেজার আংকেল আমাদের অনেক পুরোনো লোক। ত্রিশ বছর ধরে উনি আমাদের কম্পানি তে আছেন। এখন শেষ বয়সে এসে যদি উনাকে এসব বলি তাহলে ব্যাপারটা কেমন দেখায়।"
"তাহলে তোমরা বলছো সে নির্দোষ।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"ম্যানেজার খুব সৎ এতো বছর ধরে আমাদের কম্পানিতে সততার মাধ্যমেই কাজ করেছে। ওর সম্পর্কে খারাপ কোন রেকর্ড নেই।"
একথা শুনে জুনায়েদ চৌধুরী বললেন,,,
"খারাপ কোন রেকর্ড নেই তারমানে তো এটা নয় যে খারাপ হবে না। নিশ্চয়ই শেষ বয়সে এসে মনে চেয়েছে একটু ফুর্তি করতে তাই টাকা সরিয়েছে। আহি ঠিক বলছে এ ম্যানেজার ইং কিছু করেছে।"
"আরে জুনায়েদ ও কিছু করেনি আমি ওকে এমনিই জিজ্ঞেস করেছিলাম কিন্তু ও বলেছে ও নেয় নি আর এ বিষয়টি নিয়ে ও নিজেই চিন্তিত।" 
আয়াত কিছুক্ষণ ভেবে বলল,,
"তোমরা নতুন ইমপ্লোয়ি নিয়েছো কবে?"
"এই তো তিন মাসে আগে।"
"কতজন নিয়েছো?"
"দুইজন আর বাকি সব আমাদের পুরোনো ইমপ্লোয়ি "
"সে দুজন এখন কোথায়?"
"কাল তো অফিসেই দেখেছিলাম।"
"ওকে তাহলে দেখো আজ অফিসে আসে কিনা যদি আজ না আসে তাহলে বুঝবে এই দুই টার মধ্যেই সেই চোরকে পাবে।"
তখন আশিয়ান বলল,,
"তুই এতো সিওর কি করে।"
"আরে ভাইয়া সিম্পল ব্যাপারটা বুঝতে পারছো না। আমাদের কম্পানিতে সব পুরোনো ইমপ্লোয়ি তারা যদি চাইতো তাহলে আগেই টাকা নিতে পারতো। কিন্তু এতদিন আমাদের অফিসের টাকা হারায় নি। কিন্তু তারা দুজন তিন মাস হলো সবে এতেই টাকা হাড়িয়ে গেল। যদি তাদের মধ্যে কেউ চোর হয়ে থাকে।তাহলে এই তিন মাসে সে ভালোভাবে অফিসের সব অবজার্ভ করেছে কে কি করে কোথায় টাকা রাখে বা ট্রান্সফার হয়। সব দেখে রেখেছে। এখন ডিজিটাল যুগ একটু বুদ্ধি খাটিয়ে ইন্টারনেট টাকে ভালোভাবে জানলে কারো একাউন্ট থেকে টাকা নেওয়া কোনো ব্যাপার না। তারজন্য সব কিছু দেখা তিন মাস একটু বেশিই সময় হয়ে গেছে। যে টাকাটা নিয়েছে সে সব কিছু অবজার্ভ করে সুযোগ বুঝে টাকা নিয়ে নিয়েছে। বুঝতে পেরেছো ব্যাপারটা। আমি এইট্টি পার্সেন্ট পিওর টাকাটা সেই নতুন এমপ্লোয়িদের মধ্যে কেউ একজন নিয়েছে।"
তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,
"তুই ঠিক বলেছিস আহি তোর কথাটা সঠিক হতে পারে।আমরা তো এটা ভেবেই দেখি নি।"
তখন জুনায়েদ চৌধুরী বললেন,,
"আহিয়ানা বলল আর হলো নাকি। সবকিছুর ই প্রমান লাগে।"
তখন আয়াত বলল,,
"আহ হা কাকাই তুমি আমাকে সবসময় এতো আন্ডারেস্টিমেট করো কেন বুঝিনা। এতো কিছুর পরেও তোমার কি আমাকে নিয়ে কোন সন্দেহ হয়।"
তখন রেদওয়ান চৌধুরী বলল,,
"তোকে আবার মেজ ভাইয়া কবে আন্ডারেস্টিমেট করলো।"
"আরে করেছে করেছে তোমরা কেউ কিছু জানো না। আচ্ছা বাদ দাও কাকিমনি আমাকে চা দাও।"
আঁখি চৌধুরী ওখানেই ছিলেন । আয়াতের কথা শুনে তিনি আয়াতের দিকে এক কাপ চা এগিয়ে দিল। আর আনাফের সামনে গিয়ে বলল,,
"আনাফ তুমি সকালে কি খাও। জুস খাও এনে দেব।"
"না মামনি আমি সকালে তেমন কিছুই খাই না। একেবারে ব্রেকফাস্ট করি।"
তখন আয়াত বলল,,
"কাকিমনি তুমি বরং একটা টোস্ট বিস্কুট এনে ওর হাতে দাও। ও চায়ে চুবিয়ে চুবিয়ে খাক। এমনি খেলে শব্দ হয় কিনা।"
একথা বলে আয়াত একটু হাসলো । ইনাফ ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,
"জান তুমি কিন্তু সকাল সকাল আমার সাথে মজা করছো। আমি কিন্তু কিছুই বলিনি ঠিক আছে। আর আমি চা খাবো না। আমি এখনো ছোট আছি চা তো বড় মানুষেরা খায়। আমি চা দিয়ে টোস্ট বিস্কুট খাই কারন টোস্ট বিস্কুটে অনেক শব্দ হয় সেটা আমার ভালো লাগে না তাই।"
"আরে আমি মজা কোথায় করলাম আমি তো তোমাকে চা আর টোস্ট বিস্কুট দিতে বললাম। আর তুমি এখন ছোট নেই বড় হয়ে গেছো"
"তুমি বিস্কুটের শব্দের কথা বললে কেন?"
"ওটা তো আমি এমনিই বললাম তোমাকে মিন করে কিছু বলিনি।"
তখনি আঁখি চৌধুরী আনাফকে টোস্ট বিস্কুট আর চা দিল। আনাফ সেটা দেখে বিস্কুট হাতে নিয়ে চায়ের ভেতর চুবিয়ে ধরে রাখলো। যে পর্যন্ত না ওটা পুরোপুরি ভিজে যাবে তার আগে উঠাবেনা। ওর অবস্থা দেখে সকলে মিটিমিটি হাসতে লাগলো। তখন আশিয়ান বলল,,,
"টোস্ট বিস্কুটের কাহিনী কি বলতো "
"আর বলো না ভাইয়া ওর সবচেয়ে ফেভারিট বিস্কুট হচ্ছে টোস্ট বিস্কুট কিন্তু তিনি বিস্কুটের শব্দটা একদম পছন্দ করে না। তাই কখনো চায়ে কখনো কফিতে একদম নরম করে খায়। কিন্তু ওটায় কি আর রিয়েল বিস্কুটের ফিল আসে। মাঝে মাঝে কানে তুলো গুঁজে তারপর টোস্ট বিস্কুট খায়।যাতে শব্দ না শোনা যায়"
একথা শুনে সকলে হেসে ফেললো। জুনায়েদ চৌধুরী ও না চাইতেও হেসে ফেললো।তখন অহনা বলল,,
"কানে তুলো গুঁজে সিরিয়াসলি আপু।"
"হুম সিরিয়াসলি।" বলেই আনাফে দিকে তাকালো আনাফ অগ্নিচোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ও কেন এদেরকে সব বলতে গেল। আয়াত ওর দিকে তাকিয়ে একটু ভয়ে ভয়েই বলল,,,
"জান ওটা ভিজে গেছে এখন খাও।"
আনাফ কোন কথা না বলে বলল,,
"নাফি ভাবি নিশান কই?
তখন নাফিজা বলল,,,
"রান্নাঘরে মায়ের কাছে।"
"ওকে আমার কাছে একটু দাও তো।"
"কেন?"
"আরে আনোই না তারপর দেখবে!"
নাফিজা গিয়ে নিশান কে নিয়ে এলো।আর আনাফের পাশে বসিয়ে দিল। আনাফ নিশান কে বলল,,
"চাচ্চু আজ তোমায় ভেজা বিস্কুট খাওয়াবে তোমায় তুমি জানো। তুমি জানো এটা খেতে অনেক মজা। "
আনাফ একটু একটু করে নিশান কে পুরো বিস্কুট টা খায়িয়ে দিল। সুন্দর ভাবেই খায়িয়েছে। তারপর চা নিয়ে আয়াত কে দিল। আর বলল,,
"আমি এখন কিছুই খাবো না। তুমিই বলেছো খাবার অপচয় না করতে তাই বিস্কুট নিশান কে খাওয়ালাম।এখন তুমি এই ঠান্ডা চা খাবে এটা তোমার শাস্তি। আর আমার সাথে একদম কথা বলবে না। "
"জান আমি তো মজা করছিলাম তুমি সিরিয়াসলি কেন নিচ্ছো।"
"তুমি সবাইকে বললে কেন আমি কানে তুলো গুঁজে বিস্কুট খাই।"
"আচ্ছা বাবা সরি আর বলবো না। তোমার কোন সিক্রেট আমি কাউকে বলবো না।প্রমিস করছি।"
"তুমি ঠান্ডা চা শেষ করো।"
"এখনি করতে হবে।'
"তো কখন করবে শুনি !"
"আচ্ছা খাচ্ছি তো।"
বলেই আয়াত এক চুমুকে চা শেষ করে ফেললো। তা দেখে আয়াত বলল,,
"গুড গার্ল । এবার থেকে কারো সিক্রেট কারো কাছে শেয়ার করবে না ঠিক আছে।"
"জো হুকুম মেরে জান।"
"হুম ঠিক আছে মামনি এখন তুমি আমার জন্য এককাপ চা আর টোস্ট বিস্কুট নিয়ে এসো।"
একথা শুনে সকলে হাসতে নিল কিন্তু তার আগেই ইনাফ বলল,,,
"এখন যে হাসবে তাকে পাঁচ কাপ ঠান্ডা চা খাওয়ানো হবে। আর সেটা নিজ দায়িত্বে আমি খাওয়াবো।"
এ কথা শুনে সকলের হাসি ভেতরেই রয়ে গেল। নাফিজা আর অহনা হাসি চেপে রাখতে না পেরে ওখান থেকে চলে গেল নিজের রুমে গিয়ে হাসতে। আনাফ চায়ের ভেতরে বিস্কুট চুবিয়ে রেখে আয়েশ করে খাচ্ছে।মনে হচ্ছে কোন রাজা তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছে।বাকি সবাই ওকে দেখছে। আয়াত গালে হাত দিয়ে আনাফকে দেখছে। মাশাআল্লাহ ছেলেটা !এর জন্যই তো এতকিছু করা তাকে খুশি রাখতে যে আয়াত সবকিছু করতে পারে। আনাফ ও যেকোনো মুহুর্তে সকলকে হাসাতে পারে। আঁখি চৌধুরী দাঁড়িয়ে নিজের ছেলেকে দুচোখ ভরে দেখছে মনে হচ্ছে এ দেখা শেষ হবে না।
আনাফের খাওয়া শেষ হলে ও বলল,,
"জান এখন ওপরে চলো তুমি তো আবার ভার্সিটি যাবে। তার আগে দাদুভাই ফুপিমা জান ভাইয়ার সাথে কথা বলতে হবে।"
"হুম চলো।"
আয়াত আর আনাফ উপরে চলে গেল। ওরা যেতেই সকলে হেসে ফেললো। এতক্ষন খুব কষ্ট করে নিজেদের হাসিটা আটকে রেখেছিল। ও যেতেই আশিয়ান বলল,,
"আনাফ ছেলেটা একটা চমৎকার ছেলে। কিভাবে আহিকে কথার জালে ফাঁসালো আবার ওকে দিয়ে ঠান্ডা চা ও খাওয়ালো আবার এটাও জানতো আমরা হাসবো তার জন্য আবার আমাদের থ্রেট দিল। বাপরে বাপ ওর কান্ড দেখে নাফিজা আর অহনা তো চলেই গেল। "
তখন আয়েশা চৌধুরী বললেন,,,
"তা যা বলেছিস ছেলেটা আসতে না আসতেই বাড়িটাকে একদম মাতিয়ে রেখেছে। মনে হচ্ছে নিজেদের লোক সব।"
"হুম!"
"এখন যাও আটটা বাজতে চললো অফিসে যাবে তো তোমরা সবাই।"
"হ্যা যাবো তো আজ একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে। অফিসের ঝামেলার জন্য।
"আচ্ছা ঠিক আছে তোরা সবাই রেডি হয়ে আয়। আমি খাবারের ব্যবস্থা করছি।
সবাই উপরে রেডি হতে গেলো। আয়াত আর আনাফ করে সবার সাথে কিছুক্ষন কথা বললো।তারপর আয়াত রেডি হলো ভার্সিটি যাবে বলে।সবাই জানে মেয়ে এখনো ভার্সিটিতে পরে তাই যেতেই হবে। ইনাফ বলল,,,
"জান তুমি তো ভালোই ভার্সিটি লাইফ দুবার করে ইনজয় করছো। আমিও বড় হয়ে দুবার ভার্সিটিতে ভরৃতি হবো তোমার মতো। জান ভাইয়া বলেছে ভার্সিটি লাইফ নাকি অনেক মজা।"
"ভার্সিটিতে উঠো তারপর দেখতে পাবে ভার্সিটি লাইফ মজা না সাজা। এখন তো আমি বাধ্য হয়ে করছি নাহলে আমি কখনোই ভর্তি হতাম না আবার।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
ওরা দুজন নিচে আসলো। সবাই মিলে ব্রেকফাস্ট আয়াত সবসময়ের আনাফ কে খায়িয়ে দিল। ওকে খায়িয়ে দায়িয়ে ওর থেকে বিদায় নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলো অহনাকে নিয়ে। আনাফকে দেখে রাখার দায়িত্ব কাকিমনিকে দিয়ে এসেছে ওর আর চিন্তা নেই। আয়াতরা ভার্সিটি আসলো। সবকটা ক্লাস করে ও তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিন্তু অহনা আসছে না। তখন আয়াজ আর অনিক আসলো ওর কাছে।অনিক এসে আয়াত কে সালাম দিল।
"আসসালামু আলাইকুম!"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম ।আরে হার্টলেস কেমন আছো তুমি? অনেক দিন পর আবার তোমাকে দেখলাম।"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুমি কেমন আছো?
"আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি!"
"তা দিনকাল কেমন চলে পুরোনো বন্ধুদের ছাড়া।"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলে হার্টফুল আছে তো মাই বেস্ট ফ্রেন্ড ।"
"ভালো তো তা তোমার হার্টফুল এভাবে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে কেন? এমনি তো মুখে খৈ ফুটে।"
আয়াজ আয়াতের দিকে তাকিয়ে ছিল।ওর কথা বলতেই ও বলল,,,
"আসলে আমি একটা জিনিস নিয়ে একটু নার্ভাস আছি তাই।"
"কি নিয়ে নার্ভাস শুনি?"
"তোমাকে বলা যাবেনা। আচ্ছা বাদ দাও কাল কে আমাদের ঘুরতে যাওয়া ক্যানসেল হলো না। তাই আমি ভেবেছি আজ তোমাদের নিয়ে আর আমার সব বন্ধুদের সাথে একটু ঘুরবো আড্ডা দেব।"
"এখন তো শুধু বিকাল টুকুই আছে এর ভেতর কোথায় ঘুরবে।"
"কাছেই একটা ক্যাফে আছে আমরা বরং ওখানে যাবো!"
তখন অনিক বলল,,,
"হ্যা হার্ট চলো না অনেক দিন ধরে আড্ডা দেওয়া হয় না আমাদের সেই ছোটবেলার মতো।"
"আচ্ছা ঠিক আছে ওটা যখন কাছেই আছে কোন প্রব্লেম হবে না।"
তখন আয়াজ বলল,,,,
"আচ্ছা ঠিক আছে তুমি তোমার জান অহনা নাফিজা ভাবি আর নিশান চারটার সময় ওখানে পৌঁছে যেও।কালই বোধহয় ইশরাত অহনাকে বলেছে ঘুরতে যাওয়ার কথা। আমি ক্যাফের লোকেশন পাঠিয়ে দেবনি।
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
"আহি আমার একটা কথা রাখবে?"
"কি বলো না।"
আয়জের হাতে একটা শপিং ব্যাগ ছিল। একহাত পেছনে করে ছিল বলে আয়াত দেখতে পায় নি। ও হাতটাকে সামনে এনে বলল,,,
"আহি আমি তোমার জন্য একটা গ্ৰাউন আর হিজাব কিনেছি তুমি প্লিজ আজ এটা পরে আসবে!'
এ কথা শুনে আয়াতের একটু সন্দেহ হলো। ও কি করতে চাইছে ও বলল,,,
"আমার তো অনেক জামা আছে তোমার আবার গিফ্ট দেওয়ার দরকার কি। আমার লাগবে না তুমি বরং ইশরাত কে দিও।"
"আহিয়ানা কেউ কিছু হাদিয়া দিলে সেটা নিতে হয়। তুমি তো জানো রাসুল করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কারো হাদিয়া হারাম না হলে ফিরিয়ে দিতো না। তুমি তার উম্মত হয়ে এরকম করবে। আর তাছাড়া আমি ইশরাত কেউ একটা গ্ৰাউন কিনে দিয়েছি।"
"কথার জালে ফাসাচ্ছো। তুমি জানো এরকম বললে আমি নেব তাই তুমি এই কথা গুলো বললে।"
"আরে না আমি তো ফ্যাক্ট বললাম। এবার নাও"
আয়াত ওর থেকে প্যাকেট নিল। তখনি অহনা আর ইশরাত চলে এলো। ইশরাত অহনাকে সব বলে রেখেছে তাই আয়াতের হাতে প্যাকেট দেখেও কিছু বললো না।ওরা আসতেই আয়াত চলে আসতে নিল তখন আয়াজ বলল,,,
"আহি তুমি কিন্তু এই ড্রেসটাই পরে আসবে । তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে ঠিক চারটা ই আসবে মনে থাকবে অহনা তুই কিন্তু সবাইকে সময় মতো নিয়ে আসিস।"
"ঠিক আছে ভাইয়া।"
ওরা বাড়িতে চলে গেল। আয়াজ অনিক কে সব বলেছে তাই ও ও আয়াজ কে হেল্প করবে। আয়াত বাড়িতে যাওয়ার আনাফকে দেখতে পেল ওর জন্য সোফায় বসে অপেক্ষা করতে। ইনাফ দৌড়ে গিয়ে আয়াত কে জরিয়ে ধরলো। আর বলল,,,
"কখন থেকে অপেক্ষা করছি জান তুমি আসছোই না।"
"আর বলো না ঐ একটু দেরি হলো সরি।"
"আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার হাতে এটা কি!"
"ও এটা এটায় একটা গ্ৰাউন আছে আয়াজ দিয়েছে আজ বিকেলে আমরা সবাই একটা ক্যাফেতে যাবো।"
"সতিন না মানে আয়াজ ভাইয়া কি শুধু তোমায় ই গিফট করেছে নাকি অহনা অপুকেও করেছে।"
তখন অহনা বলল,,
"না আনাফ আমাকে আজ দেয় নি তবে এর আগে আয়াজ ভাইয়া অনেক গিফট করেছে।"
ইনাফ সব শুনে বিরবির করে বলল,,,
"জরুর ডালমে কুচ কালা হে। কাল সতিন বলল আমার সামনে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আজ জানকে প্রপোজ করবে। আমার কথা তার এত গায়ে লাগলো।ওকে আমিও দেখি কি কি করে সতিন ।তবে আমি তো এটাই চাইছিলাম যাতে সব তাড়াতাড়ি হয় এটা তো আমার আর জানের প্ল্যান অথচ কেউ ধরতেই পারবে না। হি হি হি। "
তখন আয়াত বলল,,,
"কি বিরবির করা হচ্ছে আচ্ছা আজ কাউকে জালাও নি তো তুমি।"
"আরে না আমি তো ভদ্র ছেলে আমি আবার কি করবো।"
তখন নাফিজা বলল,,,
"আনাফ সত্যি ভদ্র ছেলে ও কি কিছু করতে পারে না কি। বেশি কিছু করে নি নিশান কে নিয়ে খেলছিল খেলতে খেলতে মনে হলো নিশান কে একটু সাজানো দরকার । আমার ড্রেসিং টেবিলে কিছু সাজার জিনিস ছিল। সেগুলো নিয়ে নিশান কে সাজিয়েছে। চোখে কাজল দিয়েছিল এতটাই যে পুরো মুখ কালি দিয়ে ভরে গেছিল। তারওপর মাথায় চাঁদ এঁকেছিলেন ইনি উপরে পাউডার ও লাগিয়েছিল। ঠোঁটে লিপস্টিক আমার ছেলেকে আস্ত একটা পেত্নি বানিয়ে দিয়েছিল। আমার ছেলেটা আয়নায় নিজে নিজের চেহারা দেখে সে কি কান্না।"
তখন আয়াত বলল,,,
"জান এগুলো কি করেছো তুমি তো এখন বড় হয়েছো তাহলে।"
"আসলে জান নাফি ভাবির তো কোন কাজ ছিল না। আমার ও সময় কাটছিল না। আর নাফি ভাবি কাজ ও করে না। তাই নিশান কে ওভাবে সাজিয়েছি যাতে নাফি ভাবি একটু কাজ করে। আর আমারও সময়টা কেটে যাবে।
এ কথা শুনে নাফিজা বলল,,
"কি আমার কোন কাজ নেই।আর আমি কাজ করিনা।"
"করো নাই তো আমি আসার পরে তো তোমাকে কাজ করতে দেখলাম না। সব তো আমার মামনি গ্ৰুপ ই করে।"
"আহি দেখোছো তোমার জানের কথা।"
তখন আয়াত বলল,,
"আমাদের বাড়িতে তো কাজ নেই আর যা কাজ আছে সেগুলো মা কাকিমনিরাই দেখে আর ভাবি কেউ কাজ করতে দেয় না। তাই ভাবি কোন কাজ করে না। এরপর থেকে আর এরকম করবে না ঠিক আছে। এখন ভাবিকে সরি বলো।"
আয়াত নাফিজার কাছে গিয়ে বলল,,
"সরি নাফি ভাবি নিশান কে কখনো আর সাজাবো না আমি । কিন্তু আমার শখ হয়েছে তোমাকে ওভাবে একদিন সাজিয়ে দেব পেত্নি।"
"তবেরে!"
আনাফ কে আর পায় কে ও দৌড়ে ওপরে গেল। বাকি সবাই ওর কান্ডে হেসে উঠল। আয়াত মুচকি হেসে বলল,,,
"ভাবি কিছু মনে করো না ও এমনিই।"
"আরে কি যে বলো না আমি কিছু মনে করিনি । ওর কাজ আর কথাগুলো আমি ভিশন ইনজয় করি। সত্যি বলতে আমার ছেলেকে দেখে আমারি ভিশন হাসি পেয়েছিল। তোমরা বাড়িতে না থাকলে আমি বোর ফিল করি কিন্তু আজ আনাফ আমাকে একটুও বোর হতে দেয় নি। এটা ওটা বলে আমাকে হাসিয়েছে।"
"আচ্ছা বিকালে তৈরি থেকো আমরা ক্যাফেতে যাবো। আয়াজ আর ওর বন্ধুরা মিলে প্ল্যান করেছে। "
"আমাকে আয়াজ ফোন দিয়েছিল বলেছে। আমি রেডি হয়ে থাকবো।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।"
আয়াত উপরে গেল। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে সালাত আদায় করে নিল। আনাফ আগেই সালাত আদায় করেছে। ওরা নিচে গিয়ে খেয়ে নিল। আয়াত আয়াতের দেওয়া প্যাকেট টা খুললো খুলে দেখলো একটা হালকা কাজ করা হালকা নীল রঙের গাউন সাথে ম্যাচিং করে সাদা রঙের হিজাব। আয়াজ আজ পর্যন্ত আয়াত কে কালো আর সাদা রঙ ছাড়া অন্য কোন রঙের ড্রেস পরতে দেখেনি। তাই নীল রঙের ড্রেসটাই দিল। আয়াতের খুব পছন্দ হয়েছে ড্রেসটা তাই ওটাই পরলো। আনাফের নীল রঙের একটা ব্লেজার আর প্যান্ট ছিল। তাই ও আয়াতের সঙ্গে ম্যাচিং করে সাদা শার্টের উপরে হাল্কা নীল রঙের ব্লেজার আর প্যান্ট পরলো। আয়াত রেডি হলো মুখে হালকা মেক আপ ও দিল। আর চিকন ফ্রেমের চশমা। আনাফ ও ওর গোল চশমা পরে নিল। দুজনকে মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে। যে কেউ দেখে বলবে একদম কাপল সেট। ওর নিচে আসতেই দেখলো নাফিজা অহনা নিশান কে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দেখে নাফিজা বলল,,,
"মাশাআল্লাহ আপু আর পিচ্চি দুলাভাই তোমাদের দুজনকে দারুন লাগছে। একদম পারফেক্ট কাপল লাগছে। শুধু একটু ছোট বড় এই যা কিন্তু তোমাদের দুজনকে খুব ভালো লাগছে।"
তখন আনাফ বলল,,
"এখনকার যুগে ছোট বড় কোন ফ্যাক্ট না। আর আমরা তো কাপল ই তাই দুজনকে সুন্দর লাগবেই। তোমাদের ও সুন্দর লাগছে। সব থেকে বেশি সুন্দর লাগছে নিশান কে।"
তখন নাফিজা বলল,,,
"আর আমি ভাবলাম আমাকে বলবে!"
"তোমাকেও ভালো লাগছে এখন চলো ওদিকে সবাই আমাদের অপেক্ষা করছে।"
আনাফের কথায় সম্মতি জানিয়ে সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিল আয়াজের প্ল্যান করা ক্যাফের দিকে। না জানি কি হয় আজ। আয়াজ যা ভাবছে সব করতে পারবে তো নাকি আজও বলা হবে না!
 "জানপাখি তোমায় অনেক ভালবাসি আমি তো তোমায় #আলগোছে_ভালোবাসি।
~চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন