ফন্ট সাইজ:
থিম:
আলগোছে ভালোবাসি সিজন 1

২৫তম পর্ব

লেখক: আজরিনা জ্যামি

আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1 

#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি 
অনাফের মাথায় বন্দুক ঠেকানোর জন্য সবাই ভয় পেয়ে গেল । সবাই নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে পরলো। সবাই চেয়ার ছেড়ে ওঠার জন্য বন্দুক ধারী লোকগুলো সবার দিকে বন্ধুক তাক করলো।আর নিজের জায়গায় থাকতে বলল। সবাই নিজের জায়গায় বসে পড়ল। সবাই আয়াতের দিকে তাকালো কিন্তু আয়াত এখনো নিশ্চুপ।সে নিজের মতো খেয়েই যাচ্ছে। সেটা দেখে সবাই অবাক হলো। সবাই ভয়ে সেটিয়ে গেল সত্যি যদি আনাফকে গুলি করে দেয়।আয়াত একবার আনাফের দিকে তাকালো।আনাফের চোখে মুখে কোথাও ভয়ের রেশ দেখা গেল না। বরং সে বিরক্ত মুখে বলল,,
"আমার অনেক কিডন্যাপ হওয়ার শখ ছিল। তাই বলে তোমরা খাবারের মধ্যে ডিস্টার্ব করবে this is not fair bro? খাবারের মধ্যে ডিস্টার্ব আমার একদম পছন্দ না। কি সুন্দর বিরিয়ানির ভেতরে থাকা লেগপিসটা খাচ্ছিলাম কিন্তু তোমরা আমাকে খেতে দিলে না। এখন ছাড়ো আমাকে খেতে দাও খাওয়ার পর তারপর আবার ধরো হুদাই খাওয়ার ভেতর ডিস্টার্ব।"
আনাফের কথা শুনে সবাই অবাক হলো। ওর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আছে অথচ ও ভয় পাচ্ছে না। তখন বন্দুক ঠেকানো লোকটি বলল,,
"আমি যে তোর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আছি তোর ভয় হচ্ছে না।"
"ভয় হবে কেন এরকম সিচুয়েশন এ থাকার আমার খুব ইচ্ছা ছিল।কতো মুভিতে দেখি বাচ্চাদের মাথায় এভাবে বন্দুক ধরে রাখে গুন্ডারা আমার অনেক দিনের শখ ছিল এরকম সিচুয়েশন এ নিজেকে দেখার ।তাই এখন তো আমি বিষয়টা ইনজয় করছি। "
তখন আশিয়ান বলল,,,
"তোমরা কেন এসেছো এখানে প্লিজ ওকে ছেড়ে দাও।"
এতক্ষন আয়াত চুপ করে থাকলেও এখন বলল,,
"ওকে ছাড়ো আর বলো তোমাদের মোটিভ কি?"
"তোমাদের কাছে যা আছে সবকিছু দিয়ে দাও।"
বন্দুকধারীর কথা শুনে আয়াত বলল,,
"তোমাদের দেখে তো প্রফেশনাল রবার মনে হচ্ছে না। বন্দুক ধরে আছো অথচ হাত কাঁপছে। আবার বাচ্চাটার কথায় রেগেও গেলে না।"
একথা শুনে সবাই তার দিকে তাকালো। সবাই দেখল সত্যি তার হাত কাঁপছে। তখন লোকটি বলল,,,
"কাউকে আঘাত করার ইচ্ছা আমাদের নেই। শধু জিনিস গুলো হলেই হবে। তাই বেশি কথা না বলে সব দিয়ে দাও।"
তখন আনাফ বলল,,
"আরে আমার কাছে কিছু নেই।আমি বাচ্চা কি না তুমি বরং আমাকে ছেড়ে দাও।"
"চুপ একদম চুপ তোকে ছাড়ার জন্য ধরেছি নাকি তুই চুপ থাক। একদম কথা বলবি তো এই গুলি দিয়ে তোকে শেষ করে ফেলবো।"
তখন আয়াত বলল,,
"ওকে ছেড়ে দাও। ওর যদি কিছু হয় তাহলে কিন্তু খারাপ হয়ে যাবে।"
"এতক্ষন শান্ত ভাবে বলছিলাম কাজ হচ্ছিল না। আর বলছিলে আমরা কেন রেগে যাচ্ছি না। এখন যখন রেগে কথা বলছি ওমনি আমাদের থ্রেট দিচ্ছো। এই তোরা দাঁড়িয়ে দেখছিস কি সবার থেকে ওদের জিনিস নিয়ে আয়। আর একজন একজন করে সব টাকা নিয়ে আয়।"
বাকি লোকগুলো সবাই ওদের কাছে যেতে ধরলো।তখন আয়াত আনাফ কে ইশারা করলো। ও আয়াতের ইশারা বুঝতে পেরে ওর পেছনে থাকা লোকটাকে ধাক্কা মারলো। আচংকা ধাক্কায় লোকটা পরে গেল। লোকটা এরকম কিছু একদম আশা করে নি। লোকটা পরে যেতেই আয়াত দৌড়ে গিয়ে বন্দুক টা ধরলো আর হাতে নিয়ে বুঝতে পারল নকল বন্দুক তাই আয়াত বলল,,
"ভাইয়া ,আয়াজ তোমরা দাঁড়িয়ে আছো কেন ওদের ধরো এগুলো সব নকল বন্দুক।"
ছেলেরা সবাই ওদের আটকালো। আসলে ওদের কাছে সব নকল বন্দুক সবাইকে ভয় দেখানোর জন্য এনেছিল। ক্যাফেতে ওরা ছাড়া আর কেউ নেই। আয়াজ চারটার পর থেকে ক্যাফেটা বুক করেছিল
রাত আটটা পর্যন্ত। এখন সারে সাতটা বাজে তাই আর অন্য কেউ নেই। বন্ধুকধারী লোকরা ছিল পাঁচজন। সবাই মিলে পাঁচজন কে ধরলো। সবার মুখে মাস্ক পরা ছিল। সবার মাস্ক সরানো হলে দেখা গেল একজন ছাড়া আর সবার বয়স প্রায় সেম বাইশ কি তেইশ হবে। তখন আশিয়ান বলল,,
"আমি পুলিশ কে ইনফর্ম করছি কিছুক্ষণ পরেই এসে ওদের নিয়ে যাবে।"
তখন বন্দুকধারী একজন লোক বলল,,
"প্লিজ ভাইয়া পুলিশ ডাকবেন না। আমরা বাধ্য হয়েই এরকম একটা কাজ করেছি।"
তখন আয়াজ বলল,,
"বাধ্য হয়ে ডাকাতি করছো লাইক সিরিয়াসলি এখন ধরা পরে গিয়েছো বলে এরকম বলছো। আর তোমাদের লজ্জা করছে না এরকম বয়সে এইসব করছো। দেখে তো ভালো ঘরের ছেলেই মনে হচ্ছে।অথচ দিনে দুপুরে ডাকাতি করছো।
"সত্যি বলছি ভাইয়া আমরা বাধ্য হয়েই করেছি।"
তখন আয়াত বলল,,
"আহ আয়াজ থামো এখন তোমরা বলো কেন এরকম করছিলে। অবশ্য তোমাদের দেখে আমার প্রথমেই সন্দেহ হয়েছিল কারন তোমরা প্রফেশনাল দের মতো কাজ করছিলে না। তোমাদের হাত ও কাঁপছিল।"
"আপু আমরা এই কাজটা করতে চাইনি। আসলে আমাদের এক বন্ধুর মায়ের খুব খারাপভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছে। মাথায় খুব জোরে আঘাত পেয়েছে।ডাক্তার বলেছে খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন না করলে আর বাঁচানো যাবে না। আমার ঐ বন্ধু টা খুব গরিব তাই মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছে না। আর ওর মা ছাড়া ওর আর কেউ নেই । রাস্তায় কিছু লোক আন্টিকে হসপিটালে নিয়ে আসলে তখন ডাক্তার ওর মায়ের কথা জানায়। ও কি করবে বুঝতে পারছিল না তাই আমাদের বলে হেল্প করতে কিন্তু আমরা তো এখনো পড়াশোনা করছি আমাদের কাছে টাকা থাকবে কোথা থেকে । আর আমাদের বাড়ির অবস্থাও ভালো না। তাই আমরা সবাই মিলে প্ল্যান করি কিছু করার। বিকেলে আমাদের এক বন্ধু এই রেস্টুরেন্টে এসেছিল তখন ক্যাফে কর্তৃপক্ষ জানায় এটায় এখন বাইরের মানুষ এলাউ না। কোন বড়লোক বাড়ির ছেলে নাকি এটা পুরোটা বুক করেছে। তাই শুনে আমাদের জানায় আমরাও সবাই মিলে প্ল্যান করি কারন আপনারা যেহেতু বড়লোক সবার কাছেই দামি ফোন বা ঘড়ি থাকবে আমরা সেগুলো বিক্রি করে টাকা ম্যানেজ করতে পারবো। সত্যি বলছি আমাদের কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।
তখনি ওদের মাঝে থাকা একটা ছেলে কেঁদে উঠলো আর বলল,,
"ওরা সত্যি বলছে আমার মায়ের চিকিৎসার টাকার জন্যই ওরা এসব করছে।"
ওদের কথায় সকলের খুব মায়া লাগলো।তখন আয়াত আনাফের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাখা ছেলেটা কে বলল,,
"ওরা সত্যি বলছে ওদের চোখে ওদের সত্যিটা দেখা যাচ্ছে। তবে এটা বলো তুমি নকল বন্দুক আনাফের মাথায় ঠেকালে কেন?
"আমি ভেবেছিলাম কোন বাচ্চার মাথায় বন্দুক ঠেকালে আপনারা ভয় পেয়ে যাবেন আর সবকিছু তাড়াতাড়ি করে বের করে দিবেন। কিন্তু,,
"কিন্তু আমি তো ভয় পেলাম ই না সাথে বাচ্চাটাও পেলনা। আসলে পাবে কিভাবে তোমরা তো আর সত্যি কোন ডাকাত নও।আর আমার জান অনেক ব্রেভ। যাই হোক তোমার বন্ধুর মায়ের এক্সিডেন্ট হয়েছে কখন?
"এই তো তিনটার দিকে।"
"এমনিতে সারে চারঘন্টা পার হয়ে গেছে। কত টাকা লাগবে ?
"পাঁচ লক্ষ টাকা।"
এ কথা শুনে আয়াজ বলল,,
"আমি টাকা দেব।
একথা শুনে সকলে ওর দিকে তাকালো। আয়াজের কথায় আয়াত খুশি হলো কারন এখন ও চাইলেও সবার সামনে টাকা দিতে পারবে না। তাও ও ভেবে রেখেছিল বাইরে বেরিয়ে গার্ডের মাধ্যমে টাকা দেবে ওদের। কিন্তু সব তো আয়াজ ই করলো আয়াতের ব্যাপারটা খুব ভালো লাগলো।তখন আশিয়ান বলল,,
"তুই ও কি আহির মতো ওদের কথা বিশ্বাস করেছিস নাকি। ওরা তো মিথ্যেও বলতে পারে। "
"আহি কি বলল শুনলে না ওদের চোখ দেখো ওদের চোখেমুখে ওদের সত্যতা প্রকাশ পাচ্ছে। আর কেউ কি তার মাকে নিয়ে এরকম কথা বলতে পারে। "
আসলেই ওদের দেখে মনে হচ্ছে না ওরা মিথ্যে বলছে।
তখন একটা ছেলে বলল,,
"ভাইয়া বিশ্বাস করুন আমরা মিথ্যে বলছি না। আমরা সব সত্যি বলছি।"
"তোমরা চিন্তা করো না। আমি টাকা দেব দেখবে আন্টি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।
 তখন আয়াত বলল,,
"ধন্যবাদ আয়াজ তুমি বরং ওদের সাথে যাও আমরা ভাইয়ার সাথে বাড়ি চলে যাচ্ছি। এমনিতে অনেক সময় পার হয়ে গেছে এরপর তো আন্টির আরো বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আর সবাইকে এটাও বলছি তোমরা এরপর থেকে এরকম আর কোন কাজ করবো না।
তখন সবাই বলল,,
আমরা কথা দিচ্ছি এরকম কাজ আর কখনো করবো না।
আয়াজ ছেলেগুলো কে নিয়ে রওনা দিল হসপিটালের উদ্দেশ্যে। তখন আশিয়ান বলল,,
"আহি তুই!"
" ভাইয়া প্লিজ এখন বাড়ি চলো।"
তখন নাফিজা বলল,,
"আহ আশিয়ান আহি যা বলছে শুনো না এখন চলো আমরা বাড়ি যাই।"
"হুম চলো।"
তখন আয়াত বলল,,
"অনিক তুমি একটু রোজাকে আর ইশরাত কে বাড়ি পৌঁছে দিও।"
তখন আয়াত বলল,,
"নো টেনশন হার্ট আমি পৌছে দেব।"
"আচ্ছা ঠিক আছে আমরা তাহলে আসি আল্লাহ হাফেজ। আর তোমরা সবাই শুনো আজ এখানে যা যা হলো বাড়িতে বলার দরকার নেই।অযথা সবাই টেনশন করবে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে আল্লাহ হাফেজ।"
আয়াতরা সকলে নিজেদের গন্তব্যে চলে গেল। আয়াত আনাফের হাত ধরে আছে। আশিয়ান গাড়ি চালাচ্ছে নাফিজা ওর পাশে কোলে নিশান। পেছনে আয়াত আনাফ আর অহনা। আসলে আয়াত একটু ভয় পেয়ে গেছিল যখন আনাফের মাথায় বন্দুক ঠেকালো কিন্তু যখন দেখতে পেল ছেলেটার হাত কাঁপছে তখন বুঝতে পারলো আসলে ছেলেরা ওর কোন ক্ষতি করবে না। আর ও বন্ধুক ভালোভাবেই চেনে ওর দেখে মনে হয়েছিল নকল তবুও চেক করে তবেই সিওর হয়ে সবাই কে জানালো। তবে এতকিছুর মাঝে ও খেয়াল করেছে সবার মুখে অপরাধ বোধ দেখা গেলেও একজনের মুখে ছিল না। ও কাউকে মেসেজ দিল ছেলেটাকে উঠিয়ে আনার জন্য সবার অগোচরে ও ছবি তুলে নিয়েছিল।সবাই বাড়িতে ফিরে এলো আয়াতের কথা মতো কাউকে কিছু জানালো না। সবাই যে যার মতো তার কাজ করে ঘুমিয়ে পরলো।
_____________________
একটা ছেলে চেয়ারে হাত পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। তার সামনে বসে আছে একটা লোক মুখে মাস্ক পরনে হুডি কেউ বলতে পারবে না এই হুডির ভেতর মেয়ে না ছেলে কেউ বুঝতে পারবে না। সেই লোকটা আর কেউ না সেটা হচ্ছে আয়াত। আয়াত খুব আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছে। ছেলেটাকে অনেক মারা হয়েছে সব জায়গা দিয়ে রক্ত পরছে। আয়াত এই নিয়ে দুবার লোকটাকে জিজ্ঞেস করল,,
"তোকে কে পাঠিয়ে ছিল? আজ রেস্টুরেন্টে আসার কি মতলব ছিল বল। কেন হামলা করলি।
তখন ছেলেটা বলল,,
"বিশ্বাস করো আমি কিছু করিনি। আমি তো ওদের সাহায্য করতে এসেছিলাম।
"আবারো মিথ্যে আমি একদম মিথ্যা কথা পছন্দ করি না।"জ্যাক!জ্যাক! "বলে ডাকতেই একটা গার্ড এলো আয়াতের কাছে। তারপর আয়াত বলল,,
"দেখো ও কিছু বলছে না। তুমি একটু ওর জন্য গরমের ব্যবস্থা করো।"
"জি ম্যাম।
তখনি দুটো রড আনা হলো যা কিনা এতক্ষন আগুনে ধরে রাখা হয়েছিল আর এখন সেটা কমলা রং ধারন করেছে। এগুলো দেখে সেই ছেলেটার আত্মা কেঁপে উঠলো। তখন জ্যাক ওর দিকে রড দুটো নিয়ে এগুতে থাকলো। তখন ছেলেটা চিৎকার করে বলল,,,
"বলছি বলছি প্লিজ আমাকে আর কিছু করো না।"
"ওকে বল ও কিছু করবে না।"
"আমাকে ছোটখাটো গুন্ডা বলতে পারো নেতাদের আর বড় বিসনেসম্যানরা আমাকে দিয়ে সব খারাপ কাজ করায়। কাউকে মেরে ফেলা কাউকে উঠিয়ে আনা এগুলো। বস আমাকে তোমার আর ছোট বাচ্চাটার ছবি দিয়েছিল তোমাদের ওপর নজর রাখতে। তোমার ছবি আগেই দিয়েছিল শুধু বাচ্চাটার ছবি কাল পাঠিয়েছে।আর বলেছে আজ এমন কিছু করতে যাতে তোমরা ভয় পেয়ে যাও। আর তোমার হাতে তো গুলি চালানোর অর্ডার ও ছিল। যাতে ভয় পেয়ে তুমি এখান থেকে চলে যাও। 
"বাববাহ জানের কথা তার কাছে চলে গেছে আর যাবে নাই না কেন। আমাদের বাড়িতে তার গুপ্তচর আছে কিনা। আচ্ছা যাই হোক তারপর বলো।"
"আমি তোমাদের ওপর নজর রাখছিলাম। তখন জানতে পারি মিস্টার আয়াজ তোমাকে প্রপোজ করবে এটা অবশ্য বস ই আমাকে বলেছিল। তাই তো আজকেই কিছু না কিছু করতে বলেছিল। আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তখন রাস্তার ধারে ঐ ছেলেগুলোর কথা শুনি। তখন আমি গিয়ে তোমাদের কথা বলি আর টাকার কথাও বলি যে এভাবে আমরা টাকা পেতে পারি ওখান থেকে। মূলত ক্যাফেতে যা হয়েছে সব আমিই প্ল্যান করি। ছেলেগুলোর খুব টাকার দরকার ছিল। প্রথমে রাজি না হলেও পরে কোন উপায় না পেয়ে রাজি হয়ে যায়। সবার নকল বন্দুক থাকলেও আমার কাছে একটা আসল বন্দুক ছিল। তখন যখন পরিস্থিতি বিগরে যায় তখন আমি বন্দুক টা বার করতেই যাচ্ছিলাম কিন্তু মাঝখানে এসে আমাকে ধরে ফেলে আর আমি কিছুই করতে পারি না।
"একজন মানুষ কে মেরে ফেলতে অব্দি পারো আবার নিজেকে ছোটখাটো গুন্ডা বলতে লজ্জা লাগলো না।" 
"প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও। এমনিতে তোমার লোক আমাকে অনেক মেরেছে। আর মারলে আমি মরে যাবো।"
"আমি কি বলেছি তোকে বাঁচতে দেব।"
"প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও। আমার বউ বাচ্চা আছে। আমি চলে গেলে ওদের কি হবে। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো"
"কাউকে মারার সময় বা তুলে আনার সময় এগুলো মনে থাকে না। বাই দ্য ওয়ে তোর বসের নাম কি?"
"আমি বসের নাম জানিনা। উনাকে আমি একবার দেখেছিলাম আর কোনদিন দেখিও নি। উনি কখনো আমাদের নাম বলে নি। শুধু ফোনে কাজের কথা বলতো সব আর আমি তার কথামতো সব করতাম।সব তো বলেই দিলাম এবার তোমরা আমাকে প্লিজ ছেড়ে দাও।"
"লোকটার ছবি দেখলে চিনতে পারবি।"
"হ্যা চিনতে পারব।"
আয়াত একটা ছবি বের করে দেখালো। তখন লোকটি বলল,,,
"হ্যা হ্যা এই লোকটাই এই লোকটাই আমাকে এসব করতে বলেছে। 
"জানতাম তুমিই হবে কারন তুমি ছাড়া আর এ কাজ কে করতে পারে। অপেক্ষায় থাকো তোমার সব আসায় পানি ফেলে আমি তোমাকে শেষ করবো। প্রত্যেকটা অপরাধের শাস্তি দেব তোমায়। গেট রেডি মিস্টার 
জা ****** শেখ।উপস্্্ সরি তুমি তো আবার খান।
"এবার প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও।"
"ছেড়ে দেব কিন্তু একটা শর্ত আছে।"
"কি শর্ত বলো আমি সব শর্তে রাজি।"
"বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু আমি যা বলবো তাই করবে। আমার ইনফরমেশন ও তাকে দেবে যা আমি বলে দেব।আর তার সবকিছু আমাকে বলবে তার প্ল্যান কি সব বুঝতে পেরেছো। তবে বেশি চালাকি একদম না। আমার লোক সবসময় তোমার ওপর নজর রাখবে। যদি একটু এদিক ওদিক হয় তাহলে তুমি ও শেষ সাথে তোমার বউ বাচ্চার ও।"
"আমি রাজি আমি কিছুই করবো না। তুমি যা বলবে তাই করবো।"
"ওকে জ্যাক ওকে হসপিটালে ভর্তি করিয়ে আসো। আর খবরদার আমার ব্যাপারে তাকে কিছু বলার চেষ্টা করেছো তো ওখানেই তোমার The end....
"আমি কিছু করবো না।"
"গুড ভেরি গুড।"
বলেই আয়াত ওখান থেকে বেরিয়ে গেল। আর বাড়িতে এসে দেখলো আনাফ কাচুমাচু হয়ে শুয়ে আছে। তা দেখে আয়াত মুচকি হেসে ওর ওপর কম্বল দিয়ে নিজেও শুয়ে পরলো। কিন্তু ওর ঘুম আসছে না তখন ওর ফোনে একটা মেসেজ আসলো তা দেখে আয়াত মুচকি হাসলো। আয়াজ মেসেজ করেছে,,
"রাত জেগে ফোনে কথা বলতে না পারি ঘুমানোর আগে ছোট মেসেজ তো করতে পারি জানপাখি। Good night Janpakhi,,have a sweet dreams..."
আয়াত ও মেসেজ পাঠালো,, Good night...
আয়াতের মেসেজ দেখে আয়াজ খুব খুশি হলো। আয়াত ওর রিপ্লাই করেছে। তা দেখে ও আবার লিখলো,,
"আজ ক্যাফেতে এতকিছু হলো অথচ তোমার মুখে ভয় দেখতে পেলাম না। এদিকে আনাফের মাথায় বন্দুক দেখে আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।"
"ভয় সবাই পায় কেউ দেখায় কেউ দেখায় না। যাইহোক এখন আর ভালো লাগছে না এখন ঘুমাবো। কাল দেখা হবে। আর তোমাকে আবারো ধন্যবাদ ঐ ছেলেটাকে হেল্প করার জন্য।"
"তারা যদি বন্ধুর মায়ের জন্য ডাকাতি করতে পারে তাহলে আমি এটুকু করতে পারবো না। মানুষ হয়ে যদি মানুষের সাহায্য করতে না পারলাম তাহলে কিসের মানুষ। তাছাড়া ওদের টাকা নেই তাই ওরা এরকম করছে আমার তো আছে তাই আমি করলাম।"
"এটা কিন্তু তোমার নিজের টাকা না এগুলো সব ফুপার টাকা।"
"এনি চান্স তুমি কি আমাকে খোটা দিচ্ছো তুমি জানো বাবার কম্পানি তে আমার চল্লিশ পার্সেন্ট শেয়ার আছে। আমিও অফিসের একজন বস। শুধু অফিসে গিয়ে বসি না এই যা তবে মাঝে মাঝে বসি। বুঝতে পারলে।"
"হুম বুঝলাম গুড নাইট।"
বলেই আয়াত ফোনটা রেখে আজকের কথা ভাবতে লাগলো। এদিকে আয়াজ চেয়েছিল আয়াতের সাথে আরো কিছু সময় চ্যাটিং করতে কিন্তু ওর আশায় পানি ফেলে আয়াত গুড নাইট জানিয়ে চলে গেল। তাই আয়াজ ও গুড নাইট লিখে ঘুমানোর চেষ্টা করলো। একসময় ঘুমিয়েও পরলো।
_______________
আরেকটা নতুন দিনের আগমন। আয়াত প্রতিদিনের ন্যায় আনাফকে উঠিয়ে নামাজ আদায় করে সূর্যের আলো ফুটতেই নিচে নেমে এলো। বাইরে কিছুক্ষন হাঁটাহাঁটি করলো। ভেতরে এসে জানতে পারলো আজ অহনার মামাবাড়ি থেকে লোক আসবে। সবাই সকাল থেকেই ব্যস্ত এদিকে কাল আয়াত আয়াজ কে ওর পরিবার নিয়ে আসতে বলেছিল তারাও নাকি আজ আসবে। মানে দু বাড়ি থেকে আত্মীয় আসবে। সবাই খুব ব্যস্ত ।আয়াজরা কেন আসছে সেটাও সবাই জানে সবাই আয়াতের জন্য খুব খুশি। আজ আয়াতরা ভার্সিটি যাবে না। আশিয়ান তো সকাল বেলা উঠেই সবাইকে কালকের আয়াজের প্রপোজের কথা জানিয়ে দিয়েছে। সে কথা শুনে আয়াত একটু লজ্জা পেল। আনাফকে আজ আর কিছু বলতে হয় নি। আঁখি চৌধুরী আগে থেকেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল।ওরা সবাই চা খাচ্ছিল আর গল্প করছিল। তখন আয়াত বলল,,,
"তোমরা কিন্তু কালকে চোরের ব্যপারটার কথা আমাকে জানাও নি। কে চুরি করেছিল?"
তখন আশিয়ান বলল,,,
"তুই ঠিক বলেছিলি ঐ দুজুনের মধ্যে থেকেই একজন করেছিল। আমরা অফিসে যাওয়ার পর তোর কথা মতো আমি ওদের দুজনকে খুঁজি কিন্তু একজন কে পেলেও আরেক জনকে পাই নি। অনেক ক্ষন অপেক্ষা করার পরও সে তখন এলো না। তখন আমি ওর নাম্বারে কল করলাম কিন্তু ফোন বন্ধ বলল। আমরা বুঝতে পারলাম সেই ই চুরি করেছে। তাড়াতাড়ি পুলিশ কে ইনফর্ম করলাম। কিন্তু পুলিশ ধরার আগেই পালিয়েছে তবে পুলিশ বলেছে ঠিক ধরে ফেলবে ইনশাআল্লাহ।"
"ধরতে পারলেই ভালো পাঁচ কোটি টাকা কম এমাউন্ট তো নয়।"
"হুম।"
ওরা সবাই অন্য কথায় মশগুল হয়ে গেল। আজ মোনা চৌধুরী খুব ব্যস্ত কারন তার বাপের বাড়ির লোক আসবে। আয়েশা চৌধুরীর কিচেনে যাওয়া মানা তবুও আজ তিনি গেছে। আঁখি চৌধুরী আর নাফিজা ওদের হেল্প করছে। দুপুরের দিকে কলিংবেল বাজল আয়াত দরজা খুলে যাকে দেখতে পেল তাকে সে মোটেই আশা করে নি আজ!,,,,
~চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন