আলগোছে_ভালোবাসি সিজন 1
#লেখিকা_আজরিনা_জ্যামি
আয়াত দরজা খুলেই দেখতে পেল অহনার মামার বাড়ির লোকদের সাথে আয়াতের নিজের বড়মামার ছেলে নিবিড় এসেছে। ও তো নিবিড় কে দেখে পুরো হতভম্ব হয়ে গেছে। তখন অহনার মামি বলল,,,
"তুমি নিশ্চয়ই আহিয়ানা!"
এ কথা শুনে আয়াতের হুস ফিরল। অহনা ওর পেছনেই ছিল। তাই অহনা বলল,,
"হ্যা মামি ও ই আহিয়ানা আপু।"
আয়াত সালাম দিল,,
"আসসালামু আলাইকুম ! কেমন আছেন আপনারা?
তখন অহনার মামা বলল,,
"ওয়ালাইকুমুস সালাম।" আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
"জি আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি। আপনারা বাইরে কেন, ভেতরে আসুন। "
আয়াতের কথা শুনে সবাই ভেতরে আসলো। আয়াত নিবিড় কে ইশারা করলো এখানে কেন এসেছে। তাই নিবিড় ও ইশারা করলো সারপ্রাইজ। সত্যি আয়াত ভিশন সারপ্রাইজ হয়েছে । ও আর কিছু বলল না। আয়াতের মতো আনাফ ও অবাক হয়েছে। আয়াত ইশারা করে দিল আনাফকে যাতে কিছু উল্টাপাল্টা না করে। তা দেখে আনাফ ও চুপচাপ সব দেখতে লাগলো। অহনার মামারা ছিল একভাইবোন অহনার নানা নানি অনেক আগেই মারা গেছে। অহনার মামা মামির একটা ছেলে আর একটা মেয়ে। ছেলেটার পড়াশোনা শেষ আর মেয়েটা অহনার সাথে পড়াশোনা করছে। ওরা সবাই সিলেট থাকে। ওরা গিয়ে সবার সাথে কুশল বিনিময় করলো।তখন আদিয়ান চৌধুরী নিবিড় এর দিকে ইশারা বললেন,,
"এ কে? একে তো ঠিক চিনলাম না।"
তখন অহনার মামা বলল,,
"ও হলো নিবিড় আমার ছেলে মুহিবের বেস্ট ফ্রেন্ড। ওদের তো পড়াশোনা শেষ। ফ্রি ছিল তাই আমাদের সাথে একটু ঘুরতে এলো। এমনিতেও দুজনে দুজনকে ছাড়া একদম থাকতে পারে না। দু'জনে সবসময় একসাথে ঘুরতে বের হয়। তখন মুহিব কে বললাম তোর ফুপির বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।তখন ও বলল নিবিড় এলে তবেই যাবে। নাহলে নাকি সে আসবে না। এত বড় হয়েছে তবুও বাচ্চামো গেল না।"
"বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে বাচ্চামো কখনো যায় না। তা নিবিড় তোমার বাড়িও কি সিলেট।"
"না আংকেল আমার বাড়ি তো বরিশাল।আসলে আমি আর মুহিব একি কলেজে পরতাম সেখান থেকেই বন্ধুত্ব এখন বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেছি।
বরিশাল এর কথা শুনে আয়েশা চৌধুরীর বুকটা ছ্যাত করে উঠলো। আদিয়ান চৌধুরীও একটু নড়েচড়ে উঠলো। কিন্তু প্রকাশ করলো না। আয়াত আর নিবিড় তাদের অবস্থা বুঝতে পারলো। আয়াত কথা ঘুরোনোর জন্য বলল,,,,
"অহনা ইশরাত কে ফোন দিয়ে দেখতো ওরা কতদূর।'
এ কথা শুনে আশিয়ান বলল,,
"ইশরাতের নাম দিয়ে আয়াজের খবর নেওয়া হচ্ছে বুঝি। "
এ কথা শুনে আয়াত একটু লজ্জা পেয়ে বলল,,
"আহ ভাইয়া হচ্ছে টা কি। এখানে সবাই বড়রা আছে।"
তখন নাফিজা বলল,,
"এই আমার ননদ কে জালাচ্ছো কেন?" একদম জ্বালাবে না বলে দিলাম।"
"জো হুকুম মেরে রানী! এই অহনা তুই কল করতো।"
তখন আনাফ বলল,,
"অহনা আপুর মামারা সেই সিলেট থেকে চলে এলো। আর সতিন ঢাকায় থেকেও আগে আসতে পারলো না।"
এ কথা শুনে আশিয়ান বলল,,
"আসলে আনাফ কি হয়েছে বলো তো তোমার সতিন এতদিন ওর মামার বাড়িতে বেড়াতে আসতো। আর আজ হবু বউ মানে হবু শ্বশুর বাড়িতে আসছে বিয়ের পাকা কথা বলতে। তাই হয়তো পার্লার থেকে ফেসিয়াল করে আসছে। সবথেকে সুন্দর দেখাতে হবে তো তাই।"
এ কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।তখন পেছন থেকে আওয়াজ আসলো,,,
"মোটেই না আশিয়ান ভাইয়া। আমি এমনিতেই সুন্দর আমার আর ফেসিয়াল করে লাভ নেই। আসলে মাঝ রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়েছিল তাই লেট হলো।"
এ কথা সবাই পেছনে তাকালো। আয়াজের পরিবার এসে গেছে। আয়াজ আজ কালো রঙের স্যুট প্যান্ট পরেছে। চুলগুলো স্পাইক করেছে। গালে চাপ দাড়ি দেখতে মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে।ওর পরিবারের সাথে আফিয়া আর ওর মাও এসেছে। কিন্তু আজও আফিয়ার বাবা আসে নি।সবাই এসে সবার সাথে কুশল বিনিময় করলো। আয়াত ওদের দেখে ওপরে চলে গেল। আয়াজ এসে মুহিব আর নিবিড়ের সাথে আলাপ করলো। ইরফানের বউ আর নাফিজা মিলে গল্প করতে লাগলো। অহনা ইশরাতের সাথে।আর পাখি নিশান কে নিয়ে খেলতে লাগলো।আয়াজ একফাকে আনাফের কাছে এসে বলল,,,
"কি মাই ডিয়ার সতিন আমাকে কেমন লাগছে?আজ কিন্তু আমি তোমার ড্রেস কপি করিনি!
"ভালোই লাগছে তবে কি যেনো নেই নেই লাগছে। আর আমি তো এখনো রেডিই হয় নি। তবে ভাবছি আমিও এই কালো স্যুট ই পারবো। জানের দুইটা জামাই একি ড্রেসআপ। ব্যাপার টা সুন্দর না।"
"হ্যা সুন্দর আচ্ছা তুমি ও তাহলে কালো স্যুট~ই পরো। তোমার জান ও তো মনে হয় কারো পরবে তখন আমাদের তিনজনেরই ম্যাচিং হবে। এখন বলো আমার কি নেই নেই লাগছে।"
"চোখে চশমা ওটা পরলে তোমাকে একদম আমার মতোই লাগবে।"
"আরে আমি কি তোমার মতো কানা নাকি।"
"কি বললে?"
"না মানে আমার তো তোমার মতো এতো সুন্দর গোল চশমা নেই। তাই পরতে পারি নি।"
"তুমি আমার টা পরো।"
"তোমার এত পিচ্চি চশমা আমার চোখে লাগবে না।"
"তাও ও তো ঠিক।"আচ্ছা তোমার পরতে হবে না। তবে আমার চশমা পরলে তোমাকে অনেক কিউট লাগতো।"
"আচ্ছা তাই নাকি তাহলে দাও দেখি কিউট লাগে কিনা।"
"না বাবা থাক তুমি আবার আমার চশমা ভেঙে ফেলবে। এই চশমাটা আমার ফ্রেবারিট।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।এখন তুমি যাও রেডি হয়ে আসো।"
"হুম যাচ্ছি।"
আনাফ চলে গেল রেডি হতে। কিছুক্ষণ পর আনাফ আর আয়াত রেডি হয়ে নিচে নামলো। আনাফ আয়াতের হাত ধরে আসছে। আনাফ ওর কথা মতো কালো স্যুট প্যান্ট পরেছে।আর আয়াত কালো গ্ৰাউন আর কালো হিজাব। আয়াতের ফর্সা গায়ে কালো রং টা দারুন মানিয়েছে। তবে আজ আর আয়াত চশমা পরে নি।ও নিচে আসতেই আলেয়া খান আয়াতের হাত ধরে বললেন,,
"মাশাআল্লাহ আমার মেয়েটাকে আজ অনেক মিস্টি লাগছে।'
কেন জানি আজ আয়াতের ভিশন লজ্জা লাগছে। ও চোখ তুলে ঠিকমতো তাকাতে পারছে না। কি একটা অদ্ভুত অনুভুতি। আয়াজ তো সেই কখন থেকে আয়াতের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। তা দেখে ইনাফ বলল,,
"মাই ডিয়ার সতিন মুখটা বন্ধ করো নয়তো মাছি ঢুকে যাবে।"
একথা শুনে সবাই হেসে ফেললো। আয়াতের সাথে আয়াজ ও লজ্জা পেল এখন। এদিকে আফিয়ার তো গা একদম জ্বলে যাচ্ছে এদের আদিখ্যেতা ওর ভালো লাগছে না।ওতো ছোটবেলা থেকেই আয়াজ কে ভালোবাসে। কিন্তু আয়াজ ওর ভালোবাসা বুঝলো না। কাল যখন শুনলো আয়াজ আয়াত কে প্রপোজ করেছে।তখনি ও ছুটে গিয়ে আয়াজ কে ওর মনের কথা বলেছে। কিন্তু আয়াজ ওর কথা শুনেনি ওকে রিজেক্ট করে দিয়েছে।তবে ওকি এমনি এমনি আয়াত কে ছেড়ে দেবে কখনো না। আফিয়া এগুলোই ভাবছিল তার মাঝে পাখি এসে আনাফকে বলল,,
"এই তুমি কে?"
আনাফ একটু ভাব নিয়ে বলল,,
"আমি হচ্ছি আহিয়ানা চৌধুরীর জান আনাফ চৌধুরী। আর তোমার আয়াজ চাচ্চুর সতিন।আমার বউকেই তোমার চাচ্চু বিয়ে করতে চলেছে।"
"কিন্তু আমি তো জানি সতিন মেয়েদের বলে কিন্তু আমার চাচ্চু তো ছেলে তাহলে।"
"আরে আমি তো জানি না ছেলেদের কি বলে তাই তো সতিন বলি। আচ্ছা বাদ দাও তোমার ছোট মাথায় এগুলো ঢুকাতে হবে না।"
তখন আলেয়া খান বললেন,,,
"তাহলে এটাই সেই ছেলে যার কথা তোরা বাড়িতে বলেছিলি!"
তখন ইশরাত বলল,,,
"হ্যা মা এটাই সেই ছেলে আমাদের জাতির পিচ্চি দুলাভাই।আর সৌভাগ্য বশত ভাইয়ার সতিন।"
তখন অহনার মামা বলল,,
"ওকে তো ঠিক চিনলাম না।আসার পর থেকে দেখছি জিজ্ঞেস করবো করবো করে করা হচ্ছে না।"
"ও হচ্ছে আনাফ। আহিয়ানা এতদিন ওদের সাথেই ছিল।"
"ওহ আচ্ছা।দেখে তো অনেক হাসিখুশি বাচ্চা মনে হচ্ছে।"
"হ্যা ওরকমি সবাইকে দুদিনেই আপন করে নিয়েছে। আচ্ছা এখন খাওয়া দাওয়া করা যাক লাঞ্চ এর সময় হয়েছে।"
তখন আয়েশা চৌধুরী বললেন,,,
"হুম আমি সব রেডি করেছি তোমরা বসে পড়।"
সবাই সম্মতি জানালো। অনেক লোক ছিল বলে আগে সব ছেলেদের বসানো হলো। একসাথে চৌদ্দ জন খাওয়া যায় এমন ভাবেই আহনাফ চৌধুরী টেবিল বানিয়ে ছিলেন । আদিয়ান চৌধুরী রা তিন ভাই আশিয়ান ইরফান আয়াজ আসাদ খান অহনার মামা মুহিব নিবিড় সকলে খেতে বসলো। আফিয়া আর ইশরাত কেও ওদের সাথে বসানো হলো। আর সবাই পরে খাবে। শুধু আহিয়ানা মানে আহনাফ চৌধুরীর চেয়ারটাই ফাঁকা আছে। কারন ঐ চেয়ারটাতে আহনাফ চৌধুরী আয়াত কে ছাড়া আর কাউকে বসার অনুমতি দেয় নি।তাই ও চেয়ারে অন্য কেউ বসার দুঃসাহস ও করেনি। তবে সবাই আনাফ কে বলেছিল তাদের সাথে বসতে আয়াত ও বলেছিল আনাফ ও চেয়ারটায় বসে খেতে পারে। কিন্তু আনাফ বলেছে ও ওর জানের সাথে পরে খাবে। ছেলেদের খাওয়া হয়ে গেলে মেয়েরা সকলে গেল। আয়াত প্রতিদিনের মতো আনাফকে খায়িয়ে নিজে খেলো। খাওয়া শেষ করে ইশরাত বলল,,
"আহি আপু তুমি যে আজ চশমা পরো নি। আমি তো খেয়াল ই করিনি ।তাই তো বলি কিছু একটা মিসিং লাগছে। তোমার চোখে সমস্যা হচ্ছে না।"
"আসলে ওটা আমি চোখের জন্য না।মাথা ব্যাথার জন্য পরি। আসলে মাথায় আঘাত লাগার জন্য মাঝে মাঝে আমার মাথা ব্যাথা করে। তাই ডক্টর চশমা পরতে বলেছে।তাই পরি কাল থেকে মাথা ব্যাথাটা একটু কম তাই পরছি না।"
"ওহ আচ্ছা বাই দ্য ওয়ে তোমাকে কিন্তু চশমা ছাড়া অনেক সুন্দর লাগছে।"
তখন আনাফ বলল,,
"সুন্দর লাগলেও কিউট লাগছে না। চশমা যারা পরে তাদের কিউট লাগে।"
তখন আয়াজ বলল,,,
"চশমা পরে কিউট লাগে ঠিক আছে কিন্তু কানা তো কানাই।
"এই সতিন তুমি আমায় কি বললে।"
এ কথা শুনে আয়াজ বলল,,
"আব কিছুনা। কিউট বলেছি।"
তখন আনাফ ওখান থেকে চলে গেল। আয়াত ওর মন খারাপের কারন টা বুঝতে পারলো। আসলে আনাফ চশমা ছাড়া হালকা দেখতে পেলেও স্পষ্ট দেখতে পায় না। ও চলে গেল দেখে আয়াজ বলল,,
"ও চলে গেল কেন? আরে আমি তো মজা করছিলাম।"
তখন আয়াত বলল,,
"সবকিছু নিয়ে সবসময় মজা করতে হয় না আয়াজ। জানের জন্মের সময় কি কম্পিকেশন ছিল তাই জানের চোখে একটু প্রব্লেম হয় সবকিছু দেখতে পেলেও স্পষ্ট কিছু দেখতে পায় না। তার জন্য ও চশমা ব্যবহার করে। ও সবসময় নিজেকে চশমা পরে কিউট বলে কারন ও নিজেকে শান্তনা দেয় যে ও ঠিক আছে।"
"সরি আমি বুঝতে পারি নি। আমি এখনি গিয়ে ওর সাথে কথা বলছি।"
"ইটস্ ওকে।তার দরকার নেই। আমি দেখছি। আর তোমার এটা নিয়ে গিল্ট ফিল করার দরকার নেই। তুমি তো বুঝে বলো নি আমি ওর মুড ঠিক করছি।একটু পরে জান নিজে এসেই বলবে সতিন আমিও তোমাকে চশমা পরিয়ে কিউট বানাবো।"
"আচ্ছা ঠিক আছে আমার তরফ থেকে একটা সরি বলে দিও ঠিক আছে।"
"হুম বলবো।"
আয়াত ওখান থেকে চলে গেল আনাফকে খুঁজতে। আনাফ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আয়াতদের বাগানে একটা আমগাছ আছে সেখানে গেল। আনাফের পেছন পেছন আরো আয়াত ছাড়া আরো একজন গেল। আনাফ মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে ছিল।সে গিয়ে আনাফের ঘাড়ে হাত রেখে বলল,,,
"কি হলো আনাফ আজান চৌধুরীর এটুকুতেই এত মন খারাপ।"
তখন আনাফ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে বলল,,,
"নিবিড় ভাইয়া আজান ভাইয়া আমাকে কানা বলল। হ্যা আমি চশমা ছাড়া স্পষ্ট কিছু দেখতে পাই না। তাই বলে আমাকে এভাবে বলবে।"
হ্যা সে লোকটা আর কেউ না। সেটা হচ্ছে নিবিড়। তখন নিবিড় হাঁটু গেড়ে বসে বলল,,,
"আয়াজ ভাইয়া তোমার সাথে মজা করেছে। আয়াজ ভাইয়া তোমাকে ওভাবে বলতে চায় নি।"
"কিন্তু বলেছে তো।"
তখন পেছন থেকে আওয়াজ আসলো,,,
"সব মানুষ যে পারফেক্ট হবে এটা কিন্তু না।। হ্যা জান তুমি হয়তো চশমা ছাড়া দেখতে পাও না। তাই বলে কেউ কিছু বললে এভাবে মন খারাপ করতে হবে। অন্যের কথায় কান দিয়ে নিজে মন খারাপ করার কোন মানে হয়। তাছাড়া আয়াজ তোমাকে ইচ্ছে করে কিছু বলে নি। মজার ছলে বলেছে।"
নিবিড় পেছনে তাকিয়ে আয়াত কে দেখতে পেল। তখন নিবিড় বলল,,
"আয়াত একদম ঠিক বলেছে আনাফ। তুমি প্লিজ আর মন খারাপ করে থেকো না।"
"জান তুমি তো জানো আমাকে কেউ কানা বললে আমার ভালো লাগে না।"
"কিন্তু তোমাকে চশমা পরলে যে কতটা কিউট লাগে।সেটাতো তোমার আয়াজ ভাইয়া জানেই না। আমার দেখা সব থেকে কিউট বাচ্চা, হচ্ছো তুমি।আর বুজদার বাচ্চাও তুমি যদি অবুঝের মতো মন খারাপ করে বসে থাকো তাহলে কি করে হবে।"
তখন নিবিড় বলল,,
"একদম ঠিক।"
"আসলে আমি নিবিড় ভাইয়ার সাথে কথা বলার জন্য এরকম করলাম। আমি জানি তো আমার মন খারাপ হলে নিবিড় ভাইয়া ঠিক আমার পেছনে আসবে। আমি তো সব বুঝি এটুকু তে আনাফ আজান চৌধুরীর মন খারাপ হয় না। "
"নিবিড় ভাইয়ার সাথে কথা বলার এত তাড়া কিন্তু নিবিড় ভাইয়া তো আজ তোমাদের বাড়ি ছেড়ে যাবে না।"
"তুমি সত্যি বলছো আর আমি তো ভেবেছিলাম আজই চলে যাবে। তাইতো এরকম করলাম।নাহলে তো করতাম না । ইশশ্ আমার পুরো অভিনয়টা ওয়েস্ট হলো।"
"সরি আমি বুঝতে পারি নি।"
তখন আয়াত বলল,,,
"এখন ভেতরে যাওয়া যাক। এভাবে আমাদের তিনজন কি একসাথে দেখলে সবাই সন্দেহ করতে পারে।"
তখন নিবিড় বলল,,
"আয়াত তোর সাথে আমার কথা আছে।"
"আসার আগে যখন বলো নি। তাহলে এখন আর কিছু বলতে হবে না। এখন লেট হচ্ছে সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। জান চলো।"
আয়াত আনাফের হাত ধরে চলে গেল বাড়ির ভেতরে। নিবিড় অসহায় চোখে ওদের যাওয়া দেখলো। নিবিড় বুঝতে পারল আয়াত রেগে আছে। আয়াত সত্যি রেগে আছে।সবাই না বলে হুটহাট চলে আসে। রাগ হওয়ার ই কথা। আয়াত আনাফ কে বলল আয়াজ ওকে সরি বলেছে। আনাফ গিয়ে আয়াজ কে বলল,,
"বুঝলে সতিন আমি কানা হলেও চশমায় কিন্তু আমাকে অনেক কিউট লাগে। এই চশমা টাই আমার কিউট নেস বাড়িয়ে দিয়েছে বুজলে।"
তখন আয়াজ বলল,,
"সরি মাই ডিয়ার সতিন। আমি তো মজা করছিলাম এরপর থেকে আর করবো না।প্রমিস।"
"ইটস্ ওকে।" ওরা অন্য কথায় মজে গেল। নিবিড় যে বাইয়ে গেছিল সেটা কেউ জানতেই পারলো না। তবে মুহিব বুঝতে পারলেও বলল না। আসলে মুহিব নিবিড়ের জন্যই এখানে এসেছে নাহলে এখন ওর এখানে আসার ইচ্ছা ছিল না। সব ছোটদের ওপরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এখন বড়রা সবাই মিলে তারিখ ঠিক করবে। আফিয়া খেয়ে দেয়েই চলে গেছে ওর এসব আদিখ্যেতা ভালো লাগছে না। অবশ্য যেয়ে ভালোই হয়েছে নাহলে আবার কি করতো কে জানে।সবাই যেতেই তখন আদিয়ান চৌধুরী বললেন,,,
"আসাদ তোমার বড় ভাই এলো না।"
তখন আসাদ খান বললেন,,
"আসলে ভাইয়া এখনো লন্ডন থেকে ফেরে নি। ওখানে কিসের ঝামেলা হয়েছে। তবে আয়াজ দের এঙ্গেজমেন্ট এর অনুষ্ঠানে আসবেই বলেছে। "
"তিনি কি কিছু বলেছে ডেটের ব্যাপারে।"
"হুম উনি বলেছে এঙ্গেজমেন্ট পনেরো দিন পর করতে আর বিয়ে তার দুই মাস পর তারিখ করতে।"
"কি পনেরো দিন পর এঙ্গেজমেন্ট আর তার দুই মাস পর । কিন্তু এরকম কেন?"
"ভাইয়া তো তাই ই বললো।কি জানি আমি তো কিছু জানি না। কিন্তু তোমরা তো জানোই ভাইয়া যা বলবে তাই হবে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে। বুঝতে পেরছি তাহলে ঐ কথায় রইল। পনেরো দিন পর তাহলে এঙ্গেজমেন্ট।"
"হুম।"
"আয়েশা সবাইকে মিস্টি মুখ করাও"। আয়েশা চৌধুরী মিস্টি নিয়ে এলেন। সবাই মিস্টি খেয়ে আড্ডা দিতে লাগল।
এদিকে ছাদে সবাই এসেছে সবাই আয়াত আর আয়াজ কে স্পেস দেওয়ার জন্য ছাদের একটা কর্নার ছেড়ে দিয়েছে। আয়াত আর আয়াজ ওখানেই আছে। বাকিরা অন্য পাশে। দুজনেই চুপ করে আছে মৌনতা ভেঙে আয়াজ বলল,,
"জান পাখি তুমি খুশি তো পনেরো দিন পর আমাদের এঙ্গেজমেন্ট।"
"তুমি জানলে কিভাবে?"
"সকাল বেলা বাবা চাচ্চুর সাথে কথা বলছিল তখন চাচ্চু বলেছে পনেরো দিন পর এঙ্গেজমেন্ট আর তার দুই মাস পর বিয়ে।"
"এরকমটা কেন?"
"জানিনা তুমি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দাও নি।"
"আমাকে দেখে তোমার কি মনে হয়।"
"তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি ভিশন খুশি কিন্তু তুমি প্রকাশ করতে চাইছো না।"
আয়াত মুচকি হেসে বলল,,,
"বাহ তুমি তো আমাকে ভালোই বুঝতে পারো। আচ্ছা তুমি বলো তুমি খুশি তো?
"আমি যে কতটা খুশি তুমি ভাবতেও পারবে না। তুমি জানো কাল বাড়িতে গিয়ে আমি ডান্স করেছি। আমার সারা পৃথিবী কে ইচ্ছে করছে চিৎকার করে বলতে,,, তোমরা দেখতে পাচ্চো আমার জান পাখি আমার হবে।আমার ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে। আর সবকিছুর সাক্ষী থাকবে তোমরা।"
"সত্যি পূর্ণতা পাবে তো?"
আয়াতের কথায় আয়াজের বুকটা ধক করে উঠল। আয়াজ আয়াতের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"কি বলছো তুমি?"
"আব কিছু না। যদি মনে করো আমাদের পূর্নতা আসার আগেই তোমার জান পাখি তোমার থেকে হাড়িয়ে গেল।তাহলে কি করবে।"
"তাহলে আর কি করবো আরেকটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে নেব।"
আয়াজ আসলে মজার ছলে আয়াতের প্রশ্নের উত্তর দিলো। আয়াত আয়াজের মুখ পানে তাকালো। ওর চোখটা একটু ছলছল করে উঠলো। আয়াত জানেনা ওর সাথে কি হবে তবুও কথার ছলে ও আয়াজ কে বলল কিন্তু আয়াজের কথায় ওর বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। সত্যি কি তার ভালোবাসার মানুষ অন্য কারো হবে। আয়াজ আয়াতের দিকে তাকিয়ে দেখলো আয়াত নির্বাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।তা দেখে আয়াজ বলল,,,
"জান পাখি ডোন্ট সিরিয়াস। আমি মজা করছিলাম। আসলে তুমি নেগেটিভ কথা বলছিলে তাই ওরকম বললাম। তুমি হাড়িয়ে গেলে আমিও হাড়িয়ে যাবো। কারন আমি ছোটবেলা থেকেই তোমাকে ভালোবাসি।আমার ভালোবাসা এত ঠুনকো নয় যে তুমি না থাকলে আমি অন্য কাউকে নিয়ে জীবন সাজাবো। বাই দ্য ওয়ে আমি তোমাকে ভালোবাসি বললেও তুমি কিন্তু আমাকে এখনো ভালবাসি বলো নি।"
তখন আয়াত মুচকি হেসে বলল,,,
"বলবো সঠিক সময় এলে তোমাকে বলবো। তবে তোমার আর আমার ভালোবাসার শর্ত কি দিয়েছি আমি মনে আছে।"
"হুম মনে আছে "বিশ্বাস!"
"তুমি কখনো আমায় অবিশ্বাস করবে না তো।"
"কখনো তোমায় অবিশ্বাস করবো না।"
"যদি কোনদিন আমার ব্যাপারে অন্য কিছু শুনে তুমি আমাকে অবিশ্বাস করো বা ভুল বুঝো তাহলে কিন্তু সেদিন ই আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। "
"জান পাখি আমি কখনো তোমায় অবিশ্বাস করবো না।আর যদি তোমার ব্যাপারে কিছু শুনি তাহলে তখন সবার আগে তোমায় এসে জিজ্ঞেস করবো। "
তখনি আশিয়ান এলো ওখানে। আর ওদের কথা ওখানেই থেমে গেল।আশিয়ান বলল,,,
"কিরে তোদের কথা হলো। নিচে ফুপা ডাকছে এখন নাকি বাড়ি চলে যাবে।"
তখন আয়াজ বলল,,
"হুম হয়েছে চলো।"
সবাই নিচে এলো। আর সবার থেকে বিদায় নিয়ে আয়াজরা চলে গেল। অহনার মামারা থাকবেন দুদিন। আয়াজরা যেতেই ছোটদের সবাইকে সব জানানো হলো। সবাইকে অনেক খুশি এতকিছুর মাঝেও আয়াত একটু চিন্তিত হয়ে পরলো। সবাই আড্ডা টাড্ডা দিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরল। অহনার মামাদের জন্য গেস্ট রুম পরিস্কার করা হয়েছে।উনারা সবাই গেস্টরুমে গেল শুতে। আয়াত আনাফকে ঘুম পাড়িয়ে ছাদে এলো। ও এসেই ছাদের রেলিং ধরে চোখ বন্ধ করলো। তখন নিবিড় এসে ওর পাশে দাঁড়ালো। আয়াত কারো উপস্থিতি টের পেল আর বুঝতে পারলো এটা নিবিড় তাই ও চোখ বন্ধ রেখেই বলল,,
"এখানে আসার কি খুব দরকার ছিল নিবিড় ভাইয়া।"
তখন নিবিড় বলল,,
"ছিল বলেই তো এলাম। তোকে একা ছাড়তে সবাই ভয় পায়। তাই তো তোর জান ভাইয়া বলল তোর কাছে আসতে।"
"ভয় তাইনা! সবাই আমাকে নিয়ে ভয় পায় অথচ দেখো আমিই ভয় পাই না।"
" তোর বিয়ের ডেট কবে সেটা বুঝতে পারছিস তো।"
"হুম বুঝতে পেরেছি আমাকে শেষ করার দিনই আমার বিয়ের ব্যবস্থা। কিন্তু পনেরো দিন পর তো একটা সুযোগ আছে আমাদের হাতে।"
"হুম সেদিন আমি বাহানা দিয়ে আবার আসবো মুহিব কে নিয়ে।"
"তুমি আর মুহিব ভাইয়া সত্যি বেস্ট ফ্রেন্ড তো।"
আরে ভাই হ্যা। আমরা কলেজ লাইফের বেস্ট ফ্রেন্ড। "
"ওহ আচ্ছা "
"তোর ভয় হচ্ছে না আয়াত অবশ্য তোর ভয় পাবার তো কোন কথা নয়। কারন যে ছোট বয়সেই তার দাদুভাই আর ফুপি কে প্ল্যান করে বাঁচাতে পারে তার কাছে নিজেকে বাচানো খুব একটা কঠিন কাজ নয়।"
"আমি একা কোথায় বাচালাম। আমার সাথে আরো দুজন আমাকে হেল্প করেছে। একজন ভালোবাবা আরেকজনের নামটা পরে বলবো। সবাই তাকে ভিলেন ভাবে তাই এখন আর নাম বললাম না সুযোগ বুঝে সঠিক সময় বলবো।"
~চলবে,,