#নিকাহ্ (৯)
#ফিজা_সিদ্দিকী
লাল রঙের শাড়িটা পরে ঘরের মধ্যে দূরন্ত পায়ে আনচান করছে তৃষা। ছোটো আয়নাটা কোনোভাবে মনমতো দাঁড় করাতে পারছে না সে। আয়না ঠিকমতো রাখতে না পারলে সাজগোজ করবে কীভাবে? তাই এটা ওটা দিয়ে আয়নাটা কোনোরকমে জায়গামতো দাঁড় করাতে ব্যস্ত সে। পায়ে রুপার সরু একটা নূপুর। হাঁটার তালে তালে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে তার ছন্দে।
রায়েফ ঘরে ঢুকলো। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো একবার ঘরের এপার থেকে ওপার পায়চারী করতে থাকা লাল শাড়ি পরা নববধূ সাজে মেয়েটার দিকে। রাগভারী কন্ঠে বলল,
"কোনো সমস্যা?"
"আয়নাটা কোনোভাবেই ঠিকমতো দাঁড় করাতে পারছি না। ওদিকে সবাই ডাকাডাকি করবে কিছুক্ষণ পর। এখন আমি তৈরী হব কীভাবে?"
রায়েফের পরণের কালো পাঞ্জাবিটা ঘামে ভিজে চুপচুপে। দেখে মনে হচ্ছে বেশ বড়সড় কোনো কাজ সেরে এসেছে সে। ঘরে ঢুকতেই পাঞ্জাবীটা খুলে আলমারি থেকে অন্য একটা কালো পাঞ্জাবী গায়ে জড়ালো সে। এরপর চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে থাকা তৃষার হাত থেকে ছোট আয়নাটা নিয়ে আধখোলা জানালার পাশে দাঁড়ায়। আয়নাটা বুকের কাছে এমনভাবে ধরে যেন সেটাতে স্পষ্ট নিজের অবয়ব দেখতে পায় তৃষা। কৃতজ্ঞতার চোখে রায়েফের দিকে তাকিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানানোর আগেই বরাবরের মতো রাশভারী কন্ঠে সে বলে ওঠে,
"দশ মিনিট। এই দশ মিনিটের মধ্যে আপনার সাজগোজ সেরে ফেলুন। খুব বেশি সাজার প্রয়োজন নেই।"
শেষের কথাটা একটু ধীরে বললেও তৃষার কান অব্দি পৌঁছালো। সে তাড়াহুড়ো করে শাশুড়ির দেওয়া গয়নার বাক্সটা খুলল। সেখানে রূপালী রঙের বেশ কিছু রাজকীয় নকশার গয়না। গয়নাগুলো হাতে তুলে নেড়েচেড়ে দেখছে তৃষা। চোখে মুখে তার জিজ্ঞাসা।
"এগুলো খাঁটি রূপার গয়না।"
"স্বর্ণ পরে না কেউ?"
"এ দেশে জন্মের পর শিশুদের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হয় পেট চালানোর তাগিদে।"
তৃষা এরপর আর কিছু বলল না। রায়েফের এটুকু কথায় সোমালিয়া নামক দেশের আর্থিক অবস্থার কথা বেশ খানিকটা আঁচ করতে পেরেছে সে। তাই চুপচাপ খুশিমনে কানে একজোড়া ঝুমকা পরতে পরতে রায়েফকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"আন্টি আপনাকে খুঁজছিলেন। আচার না মানার জন্য বেশ রাগারাগিও করছিলেন।"
রায়েফ ভ্রু কুঁচকে ফেলল সাথে সাথে। বলল,
"কিসের আচার?"
"ওইযে, সাতদিন একটা করে অলঙ্কার পরানোর কথা ছিল।"
"আমি মানিনা এসব। এইযে, আপনি আজ যে গহনাগুলো পরছেন এগুলোও আজকের পর আর কখনও পরবেন না। অনুষ্ঠান শেষ হলে ফিরিয়ে দিয়ে আসবেন মায়ের কাছে।"
তৃষা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। গয়নাগুলো মায়ের বলেই বোধহয় সে চায়না এগুলো অন্য কারোর কাছে থাকুক। তার সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালো তৃষা।
কোমরবিছার হুকটা আটকে গেছে কোমরের কাছে। তৃষা চেষ্টা করল হাত বাড়িয়ে সেটা খোলার। কিন্তু হলো না। অতঃপর হতাশ চোখে রায়েফের দিকে তাকালো। রায়েফের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল। আয়নাটা টেবিলে রেখে এগিয়ে এসে তৃষার পিছনে দাঁড়ালো। আলতো হাতে কোমরবিছাটা খোলার বদলে একটানে হুকটা ছুটালো। তৃষা অবাক চোখে একপলক তার দিকে আর একপলক কোমরের কাছে বেশ অনেকখানি ছিঁড়ে যাওয়া শাড়িটার দিকে তাকালো। কেমন যেন এক খারাপ লাগায় ভেতরটা বুঁদ হয়ে পড়ল তার। ভার হয়ে ওঠা বুকটা কেঁপে উঠলো কেমন করে যেন। এই বুঝি কেঁদে ফেললো সে।
"আপনার দশ মিনিট শেষ। চাইলে গোলাপি শাড়িটা পরতে পারেন।"
ব্যাস এটুকু কথা বলেই ঘর ছাড়ল রায়েফ। তৃষা ঠাঁয় তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার পানে। না কোনো অপরাধবোধ না কোনো অনুতপ্তভাব। বরং কেমন কঠোর যেন লোকটার আচরণ। জীবনের আচমকা ঘুরে যাওয়া এই মোড়ে লোকটাকে মেনে নেওয়া উচিৎ কি তার? কিন্তু না মেনে উপায় কী? জোর করে হলেও শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়েছে তাদের। আল্লাহ আর আল্লাহর বিধানকে বরাবরই বড্ড ভয় পায় সে। স্বামীকে মেনে না নিয়ে আল্লাহকে নারাজ করার স্পর্ধা দেখাবে কীভাবে সে? যতই লোকটা অন্যায় করুক, অপরাধ করুক, অবমাননা করুক, তাই বলে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ তো বদলে যায়না।
পরণের শাড়িটা বদলে ফেলেছে তৃষা। রায়েফের কথামত গোলাপি রঙের শাড়িটা পরে সবেমাত্র কুঁচিটা ঠিকঠাক করছে, এমন সময় ঘরে এসে হানা দেয় নূর। চঞ্চল, সর্বদা হাসিখুশি থাকা মেয়েটা খুব সহজেই আপন করে ফেলতে পারে মানুষকে। তবে নূরের সমস্যা আছে কিছু। বয়সের দিক থেকে আঠারো হলেও মানসিক দিক থেকে বয়স তার এখনো দশ এগারো বছরের বাচ্চার মতো। কথাগুলোও স্পষ্ট নয়, টেনে টেনে তুতলে কথা বলে। মেয়েটাকে দেখলে আফসোস হয় তৃষার। গায়ের রং চাপা হলেও ত্বকে অসামান্য এক উজ্জ্বলতা। একবার তাকালেই যে কেউ মায়ায় পড়ে যেতে বাধ্য।
নতুন একটা জামা পরে গুটি গুটি পায়ে নূর এগিয়ে এলো তৃষার কাছে। একগাল হেসে দিয়ে বলল,
"সাজবো। সাজিয়ে দাও না, পুতুল বউ!"
সেই প্রথমদিন থেকেই তৃষাকে পুতুল বউ বলে ডাকে নূর। নূরও বেশ আদর আহ্লাদ করে তার ননদকে কাছে টেনে নেয়। নানা রকম গল্প শোনায় তাকে। এই বাড়িতে সকলেই অল্প কথা বলা মানুষ, একমাত্র নূর ছাড়া। তাই বেশিরভাগ সময়টাই নূরকে সাথে রাখার চেষ্টা করে তৃষা।
নূরের কোমর অব্দি চুলগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে বেঁধে দিয়ে এরপর তাকে হালকা করে সাজিয়ে দেয় তৃষা। নূর চুপচাপ শান্তভাবে বসে সাজতে সাজতে আচমকা বলে ওঠে,
"শাড়ি ভাইয়া দিয়েছে না? জানি, জানি। গোলাপী রং ভাইয়া খুব পছন্দ করে।"
নূরের কথা শুনে হঠাৎ করে কিছু একটা মনে হলো যেন তৃষার। তাই আচমকা প্রশ্ন করে বসলো নূরকে,
"আর লাল? লাল রং পছন্দ করেন উনি?"
"লাল রং দেখলে খুব রেগে যায় ভাইয়া। এজন্য আমার একটাও লাল রঙের জামা নেই।"
বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলল নূর। তৃষার কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ। তার শাড়িটা এমনভাবে নষ্ট করে দেওয়া তবে কি ইচ্ছেকৃত ছিল!
সর্দার বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান এই প্রথম। তাই গ্রামের সব মেয়ে মানুষের আমন্ত্রণ আজ। ডেগচি ডেগচি তরি তরকারি নামছে বড় চুলা দিয়ে। রায়েফ মাঝে মধ্যে এসে তদারকি করছে সেসবের। আবার কোথায় যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে। ফিরে আসছে কিছুক্ষণের মধ্যেই। তাকে উপস্থিত দেখে আশেপাশের লোকজনও নিজ ভাষায় বেশ কানাঘুষা করে বলছে,
"এই প্রথম সর্দার এসব আচার অনুষ্ঠানে নিজে দাঁড়িয়ে সব করছে। নাহলে জীবনেও তাকে এসবে দেখেছ?"
"সে আর বলতে? গত মাসে যে গরীব মেয়েটার বিয়ে হলো, সেসব তো সর্দারের টাকায় হলো সব। কিন্তু সে না অনুষ্ঠানে গিয়েছে, না সেখানের খাবার খেয়েছে।"
"সর্দার মানুষ ভালো হলেও যে রাগী, বাবাহ্! আমি তো ভাবতাম বিয়ে শাদী করবে না।"
"পাশের গ্রামের ওই মেয়েটা কিন্তু সুন্দর মতো ছিল। সর্দারের ছেলেবেলার সাথী ছিল মেয়েটা। আমি তো ভাবছিলাম, ওদের বিয়ে হবে মনে হয়। দুই বংশের তো ভাব ভালই।"
আচমকা রায়েফকে দেখে তারা নিজেদের মধ্যে কথোপকথন থামিয়ে তাকে সালাম দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আবার নিজেদের কাজে।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ হয়ে বিকাল হওয়ার উপক্রম। আচার অনুষ্ঠান সন্ধ্যার মুখোমুখি সময় থেকে শুরু হবে। মহিলারা মিলে নাচ গান আর কী কী যেন করবে নিজেদের মধ্যে। রায়েফ এখনো খাওয়া দাওয়া করেনি। তৃষাকে তার শ্বাশুড়ি খেয়ে নিতে বলছে অনেকক্ষণ ধরে, কিন্তু সেও খায়নি এখনো। বরং লাজ লজ্জা ভেঙে অবশেষে তাকে জিজ্ঞাসা করেই বসলো,
"উনি কোথায়?"
ইরিনা মৃদু হাসলেন। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তিনি আঙুলের ইশারা করে বললেন,
"ওপারে অশ্বশালা আছে। তার পাশে বড় একটা মাঠ দেখছ? তোমার উনিকে এই মুহূর্তে ওখানেই পাওয়া যায়।"
শাশুড়ির কথার ধরন দেখে লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেলল তৃষা। ইরিনা ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। সেদিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তৃষা পা বাড়ালো বাড়ির ডানপাশে, খানিকটা দূরে একটা উঁচু পাঁচিল দেওয়া ঘর আর তার সাথে বেশ বড়সড় মাঠ। মাঠের চারপাশে বড় বড় গাছ। যেন গাছগুলো প্রহরীর মতো মাথা উঁচিয়ে রক্ষা করছে বাড়িটাকে।
পা টিপে টিপে তৃষা এগিয়ে গেল সেখানে। পাঁচিলের আড়ালে দাঁড়িয়ে মুখ বাড়াতেই দেখলো গায়ের পাঞ্জাবিটা একপাশে মাটিতে ফেলে উদোম শরীরে দাঁড়িয়ে রায়েফ। উল্টোপিঠ ফিরে দাঁড়িয়ে একটা বিশাল কালো ঘোড়ার সাথে কী যেন করছে। ঘোড়াটা অনুগতের মতো মালিকের শরীরে মুখ ঘষছে, কখনও বা সামনের দুই পা উপরে তুলে হুঙ্কার দিয়ে উঠছে, কখনও একগুচ্ছ লোমশ লেজ নাড়াচ্ছে।
"ওখান থেকে বেরিয়ে আসুন, শাড়িতে ধুলো লাগছে।"
আচমকা রায়েফের কর্কশ কণ্ঠস্বর শুনে ধ্যানভঙ্গ হলো তৃষার। তাড়াহুড়ো করে সরে দাঁড়ালো সে পাঁচিল থেকে। খানিকটা ভয়ও পেয়েছে বোধহয় তার এমন আচমকা আওয়াজে। তৃষাকে এখনও নিগূঢ় দৃষ্টিতে এদিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে রায়েফ তার দিকে ফিরল। দুইহাত দুইদিকে মেলে তৃষার কাছাকাছি আসতে আসতে স্বভাবসুলভ গুরুগম্ভীর অথচ কেমন যেন গমগমে কন্ঠে বলে উঠলো,
"লুকিয়ে লুকিয়ে কী দেখছেন? আমাকে উপেক্ষা করে ওই ঘোড়ার দিকে তাকালে আমার হিংসে হবে। অতঃপর অনুমতি দিলাম, আমাকেই প্রাণভরে দেখতে পারেন।"
রায়েফের তীক্ষ্ণ সবুজাভ চোখের মণিতে চোখ পড়তেই বুকটা কেঁপে উঠল তৃষা। বেড়ে গেল হৃদস্পন্দন আচমকা। লোকটা এখন তার মুখোমুখি। উদোম শরীরে এই প্রথম দেখলো সে মানুষটাকে। বলিষ্ঠ পেশিবহুল শরীরের প্রতিটা খাঁজ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। শ্যামলা ত্বকের পেটানো দেহে মাংসপেশিগুলোকে কেউ যেন যত্ন করে বসিয়েছে, এরপর কাদা মাটির মতো করে লেপে সুসজ্জিত করেছে। একটা পুরুষের দেহ এত আকর্ষণীয় হয় বুঝি! লজ্জা, আড়ষ্টতা ভিড় করেছে তার চোখে মুখে। সাথে সাথে দৃষ্টি নামিয়ে ফেলল সে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
"খা..বে.. ন না?"
"আপনি খেয়েছেন?"
তৃষা মাথা নেড়ে না বলতেই পাঞ্জাবিটা গায়ে জড়িয়ে রায়েফ ঘোড়াটার লাগাম টেনে অশ্বশালায় তুলে দিল। এরপর ফিরে এসে পা বাড়ালো বাড়ির দিকে। তৃষাও পা বাড়ালো তার পিছু।
অন্দরমহলে ঢুকতেই তারা মুখোমুখি হলো ইরিনার সাথে। ইরিনা ব্যস্ত পায়ে অনুষ্ঠানের জায়গায় যাচ্ছিলেন। রায়েফ সাথে সাথে তাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"আমাদের খাবারটা ঘরে পাঠিয়ে দিও।"
ইরিনা থমকে দাঁড়ালেন। ঘুরে রায়েফের দিকে তাকিয়ে বললেন,
"তুমি খাবে?"
"হুম"
"এতদিন তো দুপুরের খাবার কখনও বাড়িতে খাওনি!"
"এতদিন কেউ আমার জন্য এভাবে না খেয়ে অপেক্ষা করেনি। "
রায়েফ ঘরে ঢুকে পড়ল সাথে সাথে। ইরিনার ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। তৃষার দিকে একপলক তাকিয়ে তিনি আবারও পা বাড়ালেন নিজের কাজে। শাশুড়ির দৃষ্টিতে কী এমন ছিল, কে জানে? তৃষা বড্ড লজ্জা পেয়ে বসলো।
দুজনে একসাথে ঘরে বসে খাওয়া শেষ করলো। আজকে রান্নাটা বেশ তৃপ্তি নিয়ে খেল তৃষা। বাঙালী খাবারের মতো ভাত, ডাল, আলু ভাজা আর মাংসের ঝোল। খাওয়া শেষে রায়েফ আবারও বেরিয়ে পড়ল কোথায় যেন।
রাত আটটা। সন্ধ্যা হতে না হতেই একগাদা মানুষের মাঝে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। এরপর একে একে সবাই সর্দারের বউ দেখলো। নাচ, গান, বাজনা সব হলো। এরপর ধীরে ধীরে আসর ভেঙে চলে গেল যে যার কাজে। তৃষা ঘরে ঢুকে শাড়ি বদলে ফেলেছে। গোসল দিয়ে আরামদায়ক একটা শাড়ি পরে অজু করে এসেছে। এরপর বিছানার একপাশে জায়নামাজ বিছিয়ে সারাদিনের কাযা নামাজ আদায় করছে।
রায়েফ ফিরল কিছুক্ষণের মধ্যেই। নামাজরত তৃষার দিকে একপলক তাকিয়ে আলমারি থেকে পোশাক নিয়ে বেরিয়ে গেল আবারও। একেবারে গোসল করে ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে বিছানায় পিঠ এলিয়ে দিলো।
"এইযে, শুনছেন?"
চোখের উপর আড়াআড়িভাবে হাত রেখে বিছানায় শুয়ে ছিল রায়েফ। তৃষার ডাক শুনে চোখ মেলে তাকালো তার দিকে। সারাদিনের ধকলে ক্লান্ত শরীরটা খানিকটা নড়াচড়া করে বলল,
"শুনছি।"
"বিয়ের রাতে একসাথে নামাজ পড়তে হয়।"
"আমি নামাজ পড়তে পারিনা।"
"আমি শিখিয়ে দেব।"
তৃষার কন্ঠে উৎফুল্লতা ফুটে উঠল। রায়েফ তার সমস্ত উৎফুল্লতায় পানি ঢেলে উল্টোপাশ ফিরে শুতে শুতে বলল,
"এটা পড়ে লাভ কী? লাভ লসের যুৎসই হিসেব দিলে বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখতে পারি।"
"আল্লাহর ইবাদত করার জন্য লাভ ক্ষতি দেখতে হয়না। তবুও যদি ফলাফল জানতে চান, তাহলে বলব, আল্লাহর বরকত ও রহমত কামনা করে দাম্পত্য জীবনের সূচনা করা। এই নামাজে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই শয়তানের বদনজর থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আল্লাহর কাছে দুয়া করে তাদের মধ্যেকার বোঝাপড়া যেন সুন্দর হয়। দুজনের মাঝে মিল- মহব্বত বাড়ে যেন।"
রায়েফ চট করে তৃষার দিকে ফিরল। চমকপ্রদ কন্ঠে বলে উঠলো,
"মহব্বত চাইছেন?"
তৃষা থতমত খেল। লোকটাকে বলল কী আর সে বুঝলো কী? তবে তার দ্বিতীয়বার কিছু বলার আগেই উঠে বসলো রায়েফ। খানিকটা আমতা আমতা করে বলল,
"অজুটা শিখিয়ে দেবেন?"
তৃষা মৃদু হেসে নামাজপাটির এককোনা মুড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। রায়েফকে সঙ্গে নিয়ে গোসলখানায় প্রবেশ করল সে। এক জগ পরিষ্কার পানি হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে তার হাতে ঢেলে দিতে দিতে যত্ন করে সব নিয়মকানুন শিখিয়ে দিতে লাগল।
#চলবে...
আপনারা যারা গল্পটা পড়েছেন তারা প্লীজ গল্পটা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা করুন। মতামত দিন বিভিন্ন গ্রুপে। ভালো লাগলেও বলুন, না লাগলেও বলুন। অন্তত নিজেদের মতামত তো দিন! এতে আর পাঁচটা মানুষ জানুক গল্পটা সম্পর্কে।
আমার পাঠকের থেকে এটুকু এক্সপেক্ট তো করতেই পারি, তাইনা?