গোধূলির_গাঙচিল
(মার্ডার মিস্ট্রি সাসপেন্স থ্রীল)
পর্ব-২
মহাসড়ক এ পুলিশ আটক করেছে সন্দেহভাজন তিনটি ট্রাক।শতাব্দী পৌঁছাতেই শুরু হলো চেকিং। প্রথম দুটি ট্রাকে বিশেষ কিছু পাওয়া গেলো না তবে শেষ ট্রাকটিতে তাজা রক্তের ছাপ স্পষ্ট।
অবাক করা ব্যাপার হলো চালের বস্তার স্তুপের মধ্যে সদ্য খুন করা একটি মেয়ের লা*শ।যার পেটের অংশে
গুরুতর জখম এর ছাপ স্পষ্ট। রক্তে মেয়েটির সমগ্র শরীর মাখা ।
শতাব্দী এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো লা*শটির পাশে, মেয়েটির বয়স ১৮ কিংবা বেশি হলে ২০ হবে হয়তো।কি বীশ্রী ভাবেই না খুন করা হয়েছে!
ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি পাঠানো হলো, শতাব্দী পুলিশ স্টেশনের দিকে গাড়ি ঘুরালো। গ্রেফতার করা হয়েছে ট্রাক ড্রাইভারকে।
ড্রাইভারের ভাষ্যমতে তাদের ট্রাকগুলোতে মাল লোড করাই থাকে, তাদের কাজ শুধু ফ্যাক্টরি থেকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া। সুগন্ধা রাইচ মিল থেকেই সে সবে ট্রাক নিয়ে বের হয়েছে।
শতাব্দী জুনিয়র অফিসার আবিরকে খোঁজ করতে বললো সুগন্ধা রাইচ মিলে। মেয়েটি কে? এতো রাতে রাইচ মিলের ট্রাকে তার লাশ পাওয়া গেছে, তাহলে খুনি হয়তো ওই মিলের কোন কর্মচারী কিংবা লেবারদের কেউ হতে পারে।
__________________
“তোরা একটা কাজও কি ঠিক ভাবে করতে পারিস?? আজ তিন দিন হলো, যত টাকা লাগে নে, যা চাস সব পাবি কিন্তু আমার ওকে চাই।” (কায়সার রিয়ান)
কল কেটে রাগে জিদে টেবিলে ঘুষি মারলো সজোরে, এ একটা মেয়ে তার জীবনটা আর কত জটিল করবে? হঠাৎ এমন উধাও হয়ে যাওয়ার কি কারণ? কাউকে ভালোবাসাটা অপরাধ? নাকি বড়লোক বলে ভালোবাসা তাদের থাকে না? তাদের মন থাকে না?
কায়সার রিয়ান, কায়সার গ্রুপের অধিপতি। বছরের এ সময়টাতে কাজের চাপ থাকে প্রচুর তার উপরে এ উটকো যন্ত্রণা আর নেয়া যাচ্ছে না।
অফিস রুমের সোফায় বসে একের পর এক ড্রিংক করে যাচ্ছে সে।
___________________
শতাব্দী মর্গে দাঁড়িয়ে লাশটির সামনে। ফরেনসিক বিস্তারিত বলছেন খুনের বিষয়ে, মেয়েটিকে ছুড়ি দিয়ে অনিয়মিত ভাবে অসংখ্য আঘাত করা হয়েছে। এটা কোন সাধারণ কিংবা স্বাভাবিক মানুষের কাজ হতেই পারে না।মেয়েটির উপরে খুনির হয়তো খুব ক্ষোভ ছিলো এজন্যই এমনটা করেছে অথবা খুনি কোন মানুষিক রোগে আক্রান্ত।শতাব্দী বেশ কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইলো। মেয়েটির সাথে কারো কি এমন শত্রুতা থাকতে পারে? যে তাকে এভাবে আঘাত করা হয়েছে?
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ছুড়ির আঘাতের আগেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। মেয়েটির দেহে সায়ানাইড পুশ করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে খুনি পরিপক্ব হাতে খুব সাবধানে খুন করেছে।আগে থেকেই যে মানুষটা মৃত তার উপরে এতটা হিংস্রতা কেন দেখানো হবে? শতাব্দী কিছুতেই মিলাতে পারছে না।
খুন করার উদ্দেশ্য ঠিক কি হতে পারে? এর সাথে সুগন্ধা রাইচ মিলের কি সম্পর্ক? এটা কি কেবল মেয়েটির সাথে শত্রুতা থেকে নাকি সিরিয়াল কিলিং এর প্রথম খুন? সাইকো কিলার? তবে এ শহরের সামনে ঘোর বিপদ।
সব চিন্তা ভাবনা তখনই গুলিয়ে গেলো যখন শতাব্দী জানলো মেয়েটি সাড়ে তিন মাসের প্রেগন্যান্ট ছিলো।
দুটি প্রাণ একসাথে বলি হয়ে গেলো!
______________________
সকাল সাড়ে আটটা, রিয়ান এলোমেলো ভাবে পরে আছে সোফায়। আজমল আলম ( কায়সার গ্রুপের উকিল) যার উপস্থিতিতে কিছুটা বিরক্ত হলো রিয়ান। বিরক্তির স্বরেই বললো, আমি তো বলেছি ছোট খাটো ঝামেলা গুলো নিয়ে আমাকে ডিস্টার্ব করবে না।
আজমল আলম ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে বললেন, স্যার কায়সার গ্রুপের আন্ডারে যে সুগন্ধা রাইচ মিল, সেখানে তিনটি ট্রাক আটক করেছে পুলিশ।
এবার রিয়ান বেশ বিরক্ত হলো, ভ্রু কুচকে বললো,মাত্র তিনটে ট্রাক? এজন্য তুমি এতো হাইপার হচ্ছো? কি আর চাইবে? টাকা দিয়ে মিটমাট করে ফেলো।
আজমল আমল তৎক্ষনাৎ বললেন, না স্যার এতো সামান্য কোন বিষয় হলে তো আসতাম না। ওই তিনটা ট্রাকের একটাতে একটি মেয়ের লাশ পেয়েছে পুলিশ। রাইচ মিলের কর্মচারীদের জিজ্ঞেসাবাদ করছে।
রিয়ান বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, মেয়ের লাশ??
কে মেয়েটি?
“স্যার মেয়েটির ফেইস ভেরিফাই করেছে পুলিশ, সে সুরভী প্রীতি হক।আমাদের হেড অফিসের জেনারেল ম্যানেজার।”
প্রীতি? একমুহূর্তে নিসাড় হলো রিয়ানের সম্পূর্ণ পৃথিবী। কোন এক গোলকধাঁধায় ডুব দিলো মস্তিষ্ক। প্রীতি? যে মেয়েটাকে খুঁজতে বিগত তিনটে দিন সে পাগলপ্রায়, সে মেয়েটিকে খুন করা হয়েছে? দুচোখ ধোঁয়াসায় আচ্ছন্ন। নিজ কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তার।
একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে আজমল আলম কে সাথে নিয়েই ছুটলো পুলিশ স্টেশন।
___________________
শতাব্দী আনমনা হয়ে বসে আছে অফিসকক্ষে, রিমির প্রবেশে সে চোখ তুলে তাকালো।
“ম্যাম কেসটা কেমন জটিল ঠেকছে না? মেয়েটি কায়সার গ্রুপেই কাজ করতো, লাশটাও ওই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত ট্রাক থেকেই আমরা পেয়েছি।তাহলে এটা কি সম্ভব না? যে খুনি ওই গ্রুপেরই কেউ হবে?”
শতাব্দী মাথা নেড়ে বললো হ্যা সম্ভাবনা আছে।অনেক কিছুই হতে পারে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি হচ্ছে মেয়েটি গর্ভবতী। আর খুনির আক্রশ এবং আঘাতের চিহ্ন থেকে স্পষ্ট সে হয়তোবা কিছুতেই চায় নি মেয়েটির বাচ্চা পৃথিবীতে আসুক।
“ম্যাম তাহলে তো খুনী মেয়েটির প্রেমিক ও হতে পারে।”
শতাব্দী মাথা নেড়ে বললো হ্যা হতে পারে।
আবির কক্ষে প্রবেশ করেই স্যালুট করলো, তারপর বললো
“ম্যাম খুনটা সুগন্ধা রাইচ মিলের ফ্যাক্টোরির পিছনের খালি স্থানে করা হয়েছে। ওই রোডে তেমন যান চলাচল নেই, এমনকি কর্মীরাও ওদিকটায় তেমন যাতায়াত করে না।
সেখানে এ ঘড়িটি পাওয়া গেছে।”
এবার শতাব্দী একটু হাসলো, অন্তত একটা ক্লু তো পাওয়া গেলো৷ খুনি যতই সাবধান, বুদ্ধিমান হোক না কেন কোন না কোন ক্লু রেখেই যাবে।
“ম্যাম সিসিটিভি ফুটেজে খুনিকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে খুন করতে, তবে খুনির মুখ দেখা যায় নি। এই সে ফুটেজ।”
শতাব্দী আবিরকে খোঁজ লাগাতে বললো ঘড়িটির সম্পর্কে। আর রিমিকে বললো ফুটেজ চালিয়ে দিতে।
__________________
রিয়ান পুলিশস্টেশনে এসে হন্তদন্ত হয়ে ছুটলো শতাব্দীর কক্ষে। রিমি ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো, অনুমতি ব্যতিত সে এভাবে প্রবেশ করলো কেন?
আজমল আলম বললেন, আমরা শতাব্দী ম্যামের সাথে কথা বলতে চাই। ইনি কায়সার গ্রুপের বস, কায়সার রিয়ান।
শতাব্দী ইশারা করতেই রিমি চলে গেলো তাদের প্রবেশানুমতি দিয়ে।
রিয়ানের মুখশ্রী দেখেই শতাব্দী আঁচ করলো কিছুটা।
জিজ্ঞেস করলো, মি.কায়সার আপনি নিজে এখানে?
গম্ভীর কন্ঠে রিয়ান বললো, “ম্যাম আমি লাশটি দেখতে চাচ্ছি। “
শতাব্দী অবাক হওয়ার ভানকরে বললো, “স্বয়ং কম্পানির মালিক সামান্য এক কর্মচারীর জন্য ছুটে এসেছেন?”
______________
মর্গে প্রীতির লাশ দেখে আতকে উঠলো রিয়ান। মেয়েটির ডানহাত আকরে হতবিহ্বল হয়ে বসে রইলো ছেলেটি।
মেয়েটির নিথর দেহ রিয়ানের আত্মাকে যেনো হিম শীতল করে দিচ্ছে। একি সবটাই ভ্রম? প্রীতি, প্রীতিকে কে খুন করলো?
মেয়েটি গর্ভবতী জেনে রিয়ানের দুনিয়া ওলট-পালট হয়ে গেলো! এ সন্তান, এ সন্তান তো তাদের দুজনের।তবে প্রীতি তাকে বললো না কেন? গাল গড়িয়ে অনবরত জল পরছে তার।
আজমল আলম ছেলেটিকে ছোট থেকে দেখছে, কখনো এতটা ভেঙে পরতে দেখে নি তাকে৷ তার মতো স্ট্রং একজন মানুষ এভাবে কাঁদছে? তাও একটা মেয়ের জন্য?
রিয়ান কিছুতেই মর্গ থেকে আসতে চাইলো না, কিছুটা জোর করেই তাকে বাসায় নিয়ে আসলো আজমল আলম। শতাব্দীও নিশ্চিত করেছে খুনিকে নিয়ে কোন তথ্য পেলে জানাবে।
______________
সম্পূর্ণ রাস্তায় রিয়ান নিশ্চুপ হয়ে রইলো। এতবড় সত্য মানতে পারছে না সে।প্রতিনিয়ত তাকে তাড়া করছে তাদের স্মৃতিগুলো। প্রীতির মতো নিষ্পাপ একটি মেয়েকে কেন কেউ খুন করবে? যে বা যারাই খুন করুক তারা জানে না প্রীতি এ কায়সার রিয়ানের কলিজা ছিলো।
প্রীতির বাবা শাহজাহান হক ছিলেন কায়সার গ্রুপের বিশ্বস্ত ম্যানেজার। লোকটি সেবার স্ট্রোক করে বিছানায় পরলো।
প্রীতি তখন দ্বাদশের ছাত্রী সামনেই তার এইসএসসি পরীক্ষা। শান্ত শিষ্ট মেয়েটি পরপর তিন দিন এসে বসে ছিলো কায়সার গ্রুপের মেইন ব্রাঞ্চে, তবে দেখা করতে পারে নি রিয়ানের সাথে।
এর দুদিন পরে বাসার গেটে এসে উপস্থিত সে। দারোয়ানরা কোনভাবেই তাকে ঢুকতে দিচ্ছিলো না, তবে রিয়ানের অনুমতিক্রমে ঢুকতে দেয়া হলো মেয়েটিকে।
মেয়েটিকে সোফায় বসতে বলে তার ঠিক বিপরীতমুখী হয়ে বসলো রিয়ান। নাম জিজ্ঞেস করাতে মেয়েটি মেঝেতে দৃষ্টি রেখেই বললো সুরভী প্রীতি হক।তবে সবাই সুরভী বলেই ডাকে।
মেয়েটির কথা বলার ধরণে মুছকি হাসলো রিয়ান। বয়সে তার থেকে আট নয় বছরের ছোট হবে মেয়েটি। তবুও প্রথম দেখায় হঠাৎ এক মুগ্ধতা কাজ করলো পরিপক্ব মনে।
মেয়েটিকে অবাক করে দিয়ে স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্য বজায় রেখে জিজ্ঞেস করলো, প্রীতি বলো তুমি কি বলতে চাও?
প্রীতি অবাক চোখে তাকালো একবার রিয়ানের দিকে, একজন পরিপাটি সুদর্শন পুরুষ। তারপর দৃষ্টি নিচু করে বললো, আসলে বাবা অসুস্থ, প্যারালাইসড হয়ে গিয়েছে ডান পাশের অংশ।কিছুই তেমন করতে পারেন না।আমাদের পরিবার এ আমার আর কেউ নেই বাবা ছাড়া।
কথা বলতে বলতে মেয়েটির চোখ ছলছল করে উঠলো।
কিছুটা নিচু স্বরে বললো, আমি এখানে একটা কাজের জন্যই এসেছি। আমি জানি কায়সার গ্রুপে কাজ করতে অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হয়, তবুও এসেছি।আমি রান্না থেকে শুরু করে সব কাজ পারবো। আপনি শুধু আমাকে যেকোনো একটা কাজ যদি দিতেন।
রিয়ান ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা কয়েকটা প্রশ্ন করি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে উত্তর করতে হবে।সঠিক উত্তর করতে পারলে ভেবে দেখবো।
চমকিতে তাকালো প্রীতি, বড় করে একবার নিশ্বাস নিয়ে বললো, জ্বি।
“কারো একাডেমিক রেজাল্ট খুব ভালো তবে তার কাজের প্রতি অনীহা এবং সে দায়িত্বপরায়ন নয় তবে কি তাকে জব দেয়া উচিত?”
কিছুক্ষণ ভেবে প্রীতি বললো, “আমি বললো না! অধিক সার্টিফিকেটধারী হতে অধিক ট্যালেন্টেড, কর্তব্যপরায়ন এবং দায়িত্ববান কর্মচারী বেশি জরুরি। কারণ কাজের ফিল্ডে সার্টিফিকেট কেউ দেখবে না, স্টার্টিজি টাই আসল। “
“যদি এমন হয় কোন কর্মচারী বেশ অনেক বছর ধরে কাজ করছে তবে সে কম্পানির সাথে বিট্রে করে কম্পানির ডাটা বিক্রি করেছে এবং ধরাও পরেছে! তখন তুমি কি করবে?”
“আমি তার ওই মাসের বেতন কেটে নিবো এবং সামনের তিনমাস অর্ধেক বেতন দিবো। আরেকটা সুযোগ দিবো তার ভুল সুধরে নেয়ার।”
“কেন সুযোগ দিবে?”
“এর দুটো কারণ, প্রথমত সে এতোবছর বিশ্বস্ত ছিলো তাহলে হঠাৎ কেন বিশ্বাসঘাতকতা করবে,? এ ব্যাপারে সুষ্ঠ কোন তথ্য পাওয়ার আগ অবদি তাকে সুযোগ দিবো এবং এটাও পরীক্ষা করবো সে একই অন্যায় দ্বিতীয় বার করে কিনা। আর দ্বিতীয় কারণটি হলো, এতো বছর সে আমাদের সাথে কাজ করেছে অর্থাৎ আমাদের কাজের ধরণ সে বেশ ভালো করে জানে। দাবা খেলায় আমার চালগুলো যদি প্রতিপক্ষের আগেই জানা থাকে তবে আমি ভালো খেলেও জিততে পারবো না।ঠিক তেমনি তাকে যদি সুযোগ দিয়েই সংশোধন করা যায় তবে এইতো ভালো।”
রিয়ান হাসলো।মেয়েটি এভাবে বিচক্ষণতার সাথে উত্তর করবে তা সে আশা করেনি। বেশ ইম্প্রেসিভ এন্সার। এ যাবত কালে কোন ইন্টারভিউতেই কেউ এভাবে উত্তর করে নি।
রিয়ান গম্ভীর কন্ঠে বললো, কনগ্রাচুলেশন মিস প্রীতি। আপনার বাবার পোস্টেই জয়েন করবেন।কাল থেকেই শুরু করুন, এ মাসের ক দিন শিখুন কিভাবে কাজ করতে হবে।
সেদিন মেয়েটির মুখের সে প্রাণবন্ত হাসিতে ছিলো একরাশ সম্মান, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা। ভালোবাসা হয়তো ছিলো না।
চলবে.........
তারিন_ভূঁইয়া_মুনা