ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোধূলির গাঙচিল

৩য় পর্ব

লেখক: তারিন ভূঁইয়া মুনা

গোধূলির_গাঙচিল 

(মার্ডার মিস্ট্রি সাসপেন্স থ্রীল)

পর্ব-৩
“ম্যাম এই কায়সার রিয়ান এর গতিবিধি কেমন অস্বাভাবিক ঠেকলো।এ মেয়েটির সাথে তার বস-কর্মচারী ব্যাতিরেকে হয়তো আরও গভীর সম্পর্ক ছিলো।”(রিমি)
শতাব্দী ঠোঁটে হাসির রেখা টেনে বললো, 
“হতেই পারে বলবো না! আমি শিউর হয়ে বলতে পারি তাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক ছিলো, এবং মেয়েটির গর্ভের সন্তানটি তার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”
“হ্যা, আমিও সেটাই ভাবছিলাম। সিসিটিভির ফুটেজে সময় দেখাচ্ছে বারোটা সাত মিনিট। এর পরে হয়তো লাশটিকে ট্রাকে রাখা হয়েছে। ”
“আমি একটা জিনিস ভাবছি, খুনি কি জেনে বুঝে ক্যামেরার সামনেই মেয়েটিকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করছিলো? পুলিশকে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিতে? নাকি এটা নিতান্তই কাকতালীয়?”
“জ্বি ম্যাম এটাও হতে পারে!”
“রিমি টিমের সকলকে এলার্ট করো, ফরিদকে পাঠাও কায়সার রিয়ানের উপরে নজর রাখতে। আর মিটিং কল করো বিকেল সাড়ে তিনটায়।”
আবির কক্ষে ডুকতেই রিমি চলে গেলো।
“ম্যাম ঘড়িটি একটা নামকরা ব্রান্ডের। এবং এ মডেলের কেবল এ একটি ঘড়িই বানানো হয়েছিলো। ডিজাইনার ওয়াচ গুলো একটাই বানানো হয়।”
“ঘড়িটি কার জন্য বানানো হয়েছে?”
“ম্যাম কায়সার গ্রুপের মালিক কায়সার রিয়ানের জন্য।”
শতাব্দী মুছকি হাসলো, তবে তার ধারণা সঠিক। লোকটিকে দেখতে যতটা ভদ্র- সভ্য মনে হয় আদোতে সে তা নয়। 
_____________
প্রীতি মেয়েটি বরাবরই নিজের দায়িত্বে অবিচল এবং একনিষ্ঠ ছিলো।যে জিনিসটি রিয়ানের সবচেয়ে বেশি নজর কারতো তা হলো মেয়েটির ভদ্র-নম্র আচরণ। অফিসের পিওন থেকে শুরু করে মেয়েটির কলিগ কেউ তাকে নিয়ে একটা বাজে কথাও রটাতে পারে নি। 
বাবার প্রতি এতোটা ভালোবাসা ছিলো মেয়েটির যা পরিমাপ করা অসম্ভব। এতসবের মাঝেই এসএসসি দিলো সে। বেশ ভালো রেজাল্ট নিয়েই উত্তীর্ণ হলো।
তবে সময়ের স্রোতে রিয়ানের মুগ্ধতা বাড়তে লাগলো। এ মুগ্ধতা শুধুই কেবল মুগ্ধতা নয় ততদিনে গভীর প্রণয়ের রূপ নিয়েছিলো তবে রিয়ান বিষয়টি বেমালুম অবহেলা করেছে।সে কাউকে কখনো ভালোবাসবে? এ অসম্ভব! তার বাবাও তার মাকে খুব ভালোবেসেছিলেন কিন্তু শেষ এ কী পেলেন? গুটি কয়েক বীশ্রী স্মৃতি আর অসহ্য যন্ত্রণা যা তাকে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে অগ্রসর করেছে।কিন্তু সে মহিলা তো এখনও দিব্যি আছে।
মন মস্তিষ্কের বিরোধে মস্তিষ্কের জয় খুব সল্প পরিসরেই হয়।রিয়ানের ক্ষেত্রে ও তাই হয়েছে। হার মেনে সেও ভালোবেসেছিলো প্রীতী নামক মেয়েটিকে।তবে কখনোই মেয়েটি এ ভালোবাসায় সায় দেয় নি।প্রত্যাখ্যান করেছে তাও না। বরাবরই সে দ্বিধায় ছিল। 
একদিন সে সরাসরি বলেছিলো, স্যার আমি আর আপনি বিস্তার ফারাক। এভাবে কোন সম্পর্ক হতে পারে না।অসম সম্পর্ক গুলোর ভবিষ্যৎ ভঙুর।আমি বামন হয়ে চাঁদ ছুঁতে চাই না। 
সেদিন রিয়ান কিচ্ছুটি বলে নি। ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করা? এতে কষ্ট হয়েছিলো ঠিক তবে এ কথাও সত্যি অসম সম্পর্কে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তবে সে তো কখনোই প্রীতিকে কষ্ট দেয়ার কথা কল্পনাতেও আনে নি। তবে?
তবুও সে প্রীতীর ডিসিশন এ রেসপেক্ট করে তার থেকে দুরত্ব বাড়িয়ে দিলো। 
ধীরে ধীরে কথা বলা কমলো, দেখা হওয়া কমলো। মাঝে মাঝে প্রীতিকে লুকিয়ে চুড়িয়ে দেখতো রিয়ান, কথা বলা কমে গেলেই কী ভালোবাসার মৃত্যু হয়?মেয়েটির চোখ বিচলিত,কেবলই অস্থিরতা এসব কী রিয়ানকে প্রত্যাখ্যান করে তার আফসোস? নাকি অন্য কিছু? 
কখনো কোন নারীর চোখের ভাষা পড়া হয় নি, তাই এ বিষয়ে আনাড়ি রিয়ান। মেয়েটির হৃদয়বাসনা ঠিক কী হতে পারে তা সে ঠাহর করতে পারলো না।
মাস চারেক আগে, বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশনের ফাইল হাতে কায়সার ভিলায় প্রবেশ করলো কায়সার রিয়ানের প্রণয়িনী। বর্ষণের বেগ এতটাই বেশি মেয়েটির শরীরে ভিজা জামা কাপড় লেপ্টে আছে।
ভেজা চুল গুলো হতে টুপটাপ পানির ফোঁটা পরছে মেঝেতে। মুখশ্রী জুড়ে বৃষ্টির ফোঁটা গুলো সুসজ্জিত যা মেয়েটির চেহারার লাবন্য বাড়িয়েছে কয়েক গুণ।
অদৃষ্টের পরিহাস এ দুই প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী মত্ত হয়েছিলো সেদিন আদিম লীলায়।দুজনের সম্মতিক্রমে যে পাপ তারা করেছিলো তাকে রিয়ান পাপ বলে গণ্য না করে কেবলই প্রণয়ের পরিণয় ভেবেছিলো। তবে অপর পক্ষ হতে তাকে বোধহয় পাপ হিসেবেই ধরা হয়েছিলো। 
রিয়ান এ বিষয়ে মেয়েটির সাথে বিস্তারিত আলাপ করার সুযোগটুকু পায় নি, প্রায় একমাস ব্যাবসার কাজে তাকে চীনে স্টে করতে হয়েছিলো। 
তবে ততদিনে তার প্রেয়সী তাকে যে ভুল বুঝতে শুরু করেছে তা তার কল্পনাতীত। সবকিছু সম্মতিক্রমে হওয়া মনে তো প্রীতীও তাকে ভালোবাসে, তাই নয় কী?
বড়লোকরা সুযোগসন্ধানী হয়, এরা কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারে না ভেবেই মেয়েটি ধীরে ধীরে সরে গেলো বহু দূরে রিয়ানের থেকে। যে দূরত্ব ঘোচানোর সাধ্য হয় নি রিয়ানের। 
অফিসে রিজাইন দিয়ে দিলো সে। তবুও রিয়ান মেয়েটির প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখতো। 
আজ থেকে তিনদিন আগে হঠাৎ মেয়েটি লাপাত্তা হয়ে গেলো মনে হলো মেয়েটির অস্তিত্ব বোধহয় কখনো পৃথিবীতে ছিলোই না।অনেক চেষ্টা করেও রিয়ান খুঁজে পেলো না তাকে। গতকাল সকালে সে জানলো মেয়েটির মৃত্যুর কথা, জানলো অনাগত সন্তানের কথা।
আর তাকে কিনা প্রীতী হত্যার আসামি করছে পুলিশ? বিষয়টি নিতান্তই হাস্যকর ঠেকলো রিয়ানের কাছে। 
টিভি মিডিয়া গুলো ইতোমধ্যে সংবাদ এর হেডলাইন করে নিউজ প্রচার করছে কায়সার রিয়ান খুনী! যে কিনা অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিলো নিজ অফিসের কর্মচারীর সাথে। যখনই মেয়েটি গর্ভবতী হলো সে মেয়েটিকে নৃশংস ভাবে খুন করলো।এ হলো নিউজের সারসংক্ষেপ। 
কনফেশন রুমে সে সব সত্যিটুকুই বললো তবুও কেন তাকে বিশ্বাস করা হচ্ছে না?
প্রশ্নের উত্তর এ শতাব্দী বললো, খুনের স্থানে আপনার ব্যাবহৃত ঘড়ি পাওয়া গেছে মি. কায়সার। তার চেয়েও বড় কথা আপনার কাছে মটিভ আছে তাকে খুন করার। 
“আমার কাছে কী মটিভ থাকবে নিজের ভালোবাসার মানুষকে খুন করার?”
“এটাইতো মটিভ। সুরভী প্রীতী হক কে আপনি ভালোবাসতেন, সে আপনাকে কখনো সায় দেন নি। মেনেও নেন নি। আপনার ভাষ্যমতে সেদিন যা হয়েছিলো সবটাই দুজনের সম্মতিক্রমে তবে এটাওতো হতে পারে আপনিই সেদিন তাকে জোরজবরদস্তি করেছেন।আপনার ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করায় আপনি তাকে ধ/র্ষ/ণ করেছেন।হতেই তো পারে?”
“মিসেস শতাব্দী! আমার উপরে মিথ্যা এলিগেশন আনছেন আপনি।”
“আমি মিথ্যা এলিগেশন আনছি? আপনি প্রুভ করুন।”
“এখানেই প্রবলেম, সে প্রুভ নেই। থাকলে আজ আমাকে এ পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয় না।”
“আপনি মিথ্যা বলছেন কেন? যে আপনি সেদিন রাতে প্রীতীকে খুঁজে পান নি? আপনি প্রীতীকে খুঁজে পেয়েছিলেন এবং তাকে গাড়ি করে রাইচ মিলের পিছনের রোড হয়ে মিলে নিয়ে যান নি? কালো হুডি পরনে ওই লোক আপনিই ছিলেন তাই না?”
“আপনি কী বলছেন এসব? আমি ওখানে ছিলাম না। ওইদিন রাতে আমি আমার অফিসরুমে ছিলাম সম্পূর্ণ সময়, আপনি চাইলে সিসিটিভি ফুটেজে চেক করতে পারেন।”
“তবে আপনার ওয়াচ ওখানে গেলো কীভাবে?”
“ওটা আমার ওয়াচ নয়, ওটা আসলে আমি প্রীতীকে গিফ্ট করেছিলাম।”
“ ঠিক আছে তাও মেনে নিলাম, প্রীতীকে সায়ানাইড দিয়ে খুন করা হয়েছে। আপনি তো খুব সহজেই সায়ানাইড জোগাড় করতে পারবেন তাই না? কারণ কায়সার গ্রুপের আন্ডারেই তো সায়ানাইডের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাত হয়.”
“ দেখুন মিসেস শতাব্দী, আপনার এতে করে তেমন কিছুই প্রুভ হয় না যে খুনটা আমিই করেছি।আপনি আমাকে হয়রানি করছেন।”
"হয়রানি? আপনার যায়গাতে অন্যকেউ হলে এখনই এনকাউন্টার করতাম। আইন আপনাদের আর কতটুকু শাস্তি ইবা দিবে? টাকার জোরে সব কিনে ফেলা সম্ভব। "
শতাব্দী আরও কিছু বলতে উদ্ধত হতেই তার ফোনটি বিকট শব্দে বেজে উঠলো, ফোন রিসিভ করতেই শতাব্দী বোকা বনে গেলো। যে ভয় সে করেছে তাই কী ঘটবে?
চলবে......
তারিন_ভূঁইয়া_মুনা

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন