গোধূলির_গাঙচিল
পর্ব-১২
শতাব্দীর মথা ঝিমঝিম করতে লাগলো, যখন সে চোখ মেলে আশপাশটা দেখলো তখন রৌদ্রময় শীতের সকাল। সকাল ঠিক নয় হয়তোবা দুপুর।মাথায় একটু চাপ দিতেই মনে পরলো রাতের কথা।শতাব্দী দ্রুত উঠে দাড়িয়ে নিজেকে ধাতস্থ করলো।কিন্তু সে স্বাভাবিক হতে পারলো না।কোন মানুষের সপ্ন কী এতটা বাস্তবিক হয়? এগুলো কী তার জীবনে ঘটেছে? তবে সে কেন মনে করতে পারছে না?
ধীরে ধীরে দরজা খুলে সে লক্ষ্য করলো সাফায়াত ঘরময় পায়চারি করছে। ছেলেটির চোখ দুটির লাল আভা স্পষ্ট। জ্বর হয়তো কমে নি।কিন্তু শতাব্দী সাফায়াতের সাথে একটি শব্দ ও বললো না, নূন্যতম ভদ্রতা দেখিয়ে জিজ্ঞেস অবদি করলো না যে —আপনার শরীর এখন কেমন? জ্বর কী একটু কমেছে?
শতাব্দী এভাবে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো যে আশেপাশে কেউ নেই।সাফায়াত শতাব্দীর সাথে কথা বলতে এগিয়ে গেলো তবে শতাব্দী তার আগেই চলে গেলো।দুশ্চিন্তায় সাফায়াতের মস্তিষ্ক জ্যাম হয়ে আছে, জ্বরের ভাব সে বুঝতে পারছে না।
____________
ঘটমান ঘটনা গুলো শতাব্দীকে ভিতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে। কেবল সে ওই মেয়েটি কিনা প্রশ্ন সেখানে না, শতাব্দীর অপরাধবোধ হয় মেয়েটিকে সাহায্য করতে না পারায়। তবে সে তো চাইলেই সাহায্য করতে পারবে না।মেয়েটির জায়গায় শতাব্দী থাকলেও হয়তো ওই একই কাজ করতো যা ওই মেয়েটি করেছে।
আচ্ছা? মেয়েটি কী ওই ঘুমের ঔষধ গুলো মিথ্যা বলে কিনেছিলো? এরপর সেগুলো দুধের সাথে মিশিয়ে বাড়ির সকলকে খায়িছিলো? নিজেই কী আগুন লাগিয়েছিলো বাড়িতে? রিফা কে বাঁচানোর দুইটা কারণ থাকতে পারে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা এবং মেয়েটি কোন অপরাধী নয়।আচ্ছা এর পর কী হলো?
কেন মনে আসছে না? শতাব্দী জানতে চায় এ গল্পের শেষটা।সে যত মস্তিষ্কে চাপ দিতে লাগলো তার চেয়েও কয়েকগুণ হারে মাথায় যন্ত্রণা বাড়তে লাগলো তরতর করে।
ফোনে রিং হতেই শতাব্দীর ঘোর কাটলো, স্বাভাবিক হয়ে সে ফোন পিক করলো, ফরেনসিক ডাক্তার এর কল।
‘হ্যালো?’
‘হ্যালো! তুমি এখন একটু আমার অফিসে আসবে?’
‘কেন?’
‘প্রীতী মার্ডার এবং সুশ্রী মার্ডারের থ্রি ডি ভিডিও তৈরি করেছি, তুমি একবার দেখে যেতে তাই।’
‘সিউর আমি এখনই আসছি।’
এ কেইস সলভ করতেই হবে। হাতে বেশি সময় নেই। খুনের সংখ্যা বারার আগেই কেইস সলভ করতে হবে।
শতাব্দী গাড়িতে বসে লুকিং গ্লাসে নিজেকে একবার দেখলো, হঠাৎ সাফায়াতের কথা মনে পরতেই সে ভাবলো,
সাফায়াত কে একটা ফোন করলে কেমন হয়! তবে তার কাছে সাফায়াতের ফোন নম্বর নেই।
________________
সাফায়াত আর সহ্য করতে পারছে না।কী এমন হয়েছিলো কাল রাতে? শতাব্দীর হঠাৎ হঠাৎ এভাবে ট্রমাটাইজ হয়ে যাওয়ার কারণটা ঠিক কী?
সাফায়াত শতাব্দীর রুমের দরজায় দাড়িয়ে ভাবছে, রুমে প্রবেশ করা ঠিক হবে কিনা? এতো বাধা নিষেধ এর তোয়াক্কা না করে সে রুমে ঢুকলো।এদিক ওদিক খুঁজেও শতাব্দীকে পেলো না।মেয়েটি ওয়াশরুমেও নেই, তবে গেলো কোথায়? ঘড়িতে তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। সাফায়াত এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো স্টাডি টেবিলের সামনে। জানালা দিয়ে শীতের মিষ্টি রদ্দুর প্রবেশ করছে। চেয়ার টেনে বসলো সাফায়াত। ভালো লাগছে—
রোদ গায়ে পরাতে। কাল রাতে শতাব্দীও তাকে রদ্দুর বলেছিলো।কথাটা মনে হতে সে মুছকি হাসলো।হঠাৎ তার চোখ পরলো টেবিলে রাখা ফাইলে।
‘সুশ্রীতা মার্ডার ফাইল’
ফাইলের উপরের পাতার ছবিটি দেখে সাফায়াত নিশ্চুপ হয়ে রইলো। সুশ্রী? এটা কী সুশ্রী?
বেশ অনেক্ক্ষণ সে ওই ছবিটির দিকে তাকিয়ে রইলো। মাথা ব্যাথাটা বাড়ছে - হয়তো জ্বরটাও বাড়ছে।সম্পূর্ণ কেইস ফাইলটা দুবার পড়লো সে।তার কী একবার মর্গে যাওয়া উচিত?
নাহ সে যাবে না।মেয়েটি কেবলই তার ভালোলাগা ছিলো। “সুন্দরী মেয়েদের প্রতি দ্রুত ভালোলাগা আসে তখন মানুষ বুঝতে পারে না ভালোলাগা ভালোবাসার ফারাকটুকু।”
এভাবে খুন হলো মেয়েটি! খারাপ লাগছে।
সাফায়াত আরও কিছুক্ষণ বসে রইলো এরপর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো। বসার ঘরে এসে দেখলো দরজা চাপানো।শতাব্দী হয়তো বেরিয়ে গেছে। সাফায়াত দরজা আটকাতে হাত বাড়াতেই, দারোয়ান এসে সালাম দিলো।
‘স্যার আসসালামু আলাইকুম।’
‘আপনি এখানে?’
‘ম্যাডাম আমারে পাঠাইছে, ধরেন।আপনারে এগুলা দিতে বললো।’
‘আচ্ছা।’
______________
দরজা আটকে দিলো সাফায়াত। নীল পলিতে দুইটি প্যাকেট। একটা ঔষধ এর আরেকটাতে দু হালি কলা। বাসায় সবসময়েই ব্রেড থাকে। সাফায়াত হাসলো।মেয়েটি তাকে নিয়ে ভাবছে এটুকুই তার জন্য যথেষ্ট।
সাফায়াত আলমিরার সামনে দাঁড়িয়ে সিক্রেট ড্রয়ার ওপেন করলো, এ ড্রয়ারের সন্ধান পাওয়া অভিজ্ঞ গোয়েন্দাদের কাছেও দুষ্কর! একটি রিভলবার সহ বেশ কিছু অস্ত্র সজ্জিত। সিক্রেট ল্যাবটব এবং একটি স্মার্ট ফোন।সাথে আছে ওয়াকিটকি আর বেশ কিছু ইম্পর্ট্যান্ট ফাইল, ডাটা উইথ পেনড্রাইভ। ফোন হাতে নিয়ে ওপেন করতেই দেখলো বেশ কিছু মিসড কল। ম্যাসেজ করা হয়েছে তাকে -
Now your turn!
___________
‘সূকন্যা চল বিয়ে করে ফেলি।’
‘কী বলছিস এসব তুই তুরাগ? আমাদের মাঝে কোন প্রেমের সম্পর্ক নেই। তাছাড়া আমার অলরেডি এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে ফুয়াদের সাথে।’
‘তাহলে কী করতে বলিস তুই?’
‘আমি প্রেগন্যান্ট।’
গলার স্বর নিচু করে বললো সূকন্যা।
তুরাগ যেনো স্থির হয়ে গেলো, তার শরীর অসাড় হতে লাগলো। কেমন হিম শীতল অনুভূতি বহিলো শিরদাঁড়া বেয়ে।
‘সুকন্যা - চ চ চল তাহলে আমরা বিয়েটা করে ফেলি।’
‘আমি ফুয়াদকে ভালোবাসি তুরাগ, এটা তুই জানিস। এর পরে এমন কথার কোন মানে হয় না কিন্তু।’
‘তোর কাছে একটা সদ্য জেগে ওঠা নিষ্পাপ প্রাণের চেয়ে ভালোবাসা বড়? এটা ভেবে দেখ আমরা দুজন বিয়ে করলে অন্তত বাচ্চাটা পৃথিবীতে আসতে পারবে।আমাদের দুজনের অচেতনে করা পাপের মাশুল না হয় আমি একাই দিলাম।’
‘তুই এবার চুপ কর।এই সব কথা আর শুনতে চাই না। সামনের মাসে আমার বিয়ে - আর এ বিয়েতে আমি কোনরূপ ঝামেলা চাই না। আশা করবো তুইও বিষয়টি ভুলে যাবি।’
‘তুই যখন এতো সহজে ভুলে যেতে পেরেছিস আমিও পারবো। তবে আমাদের ভুলের মাশুল কী গুণবে এক নিষ্পাপ শিশু?
চলি!’
______________
শতাব্দী ফরেনসিক অফিসে বসে ভিডিওটি দেখলো বার কয়েক, তার ভীষণ রকমের মাথা যন্ত্রণা শুরু হলো। সে মাথা চেপে বসে রইলো, আধো আধো চোখে সে লক্ষ্য করলো সব কেমন ঘোলাটে হয়ে পৃথিবী ঘুরছে বোধহয়।
-বাবার মতো একজন মানুষের কাছ থেকে এসব কিছুতেই আশা করে নি শতাব্দী।শাখাওয়াত শতাব্দীর মাথায় হাত বুলাতে হাত বাড়ালেও শতাব্দী দু পা পিছিয়ে গেলো। এ লোকের স্পর্শ গুলোও হয়তো ঘৃণ্য।
হঠাৎ শাখাওয়াত কঠিন অসুখে বিছানায় পরলো। শতাব্দীকে তিনি বললেন না তার কী অসুখ হয়েছে —
হয়তো ভেবেছিলেন মেয়েটি দুশ্চিন্তা করবে।
প্রতিনিয়ত শতাব্দীর নিজেকে পাগলের মতো লাগছিলো। তার মস্তিষ্কে মধ্য হতে যেনো কেউ বারবার রিমাইন্ডার দিচ্ছিলো যেন সে প্রতিশোধ নেয়।এ প্রতিশোধের আগুন নেভবার নয়। একে নেভানোর চেষ্টা করা হলে এ আগুন কয়েক গুণ শক্তিশালী হয়ে বারংবার কেবল বাড়ে।
এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলো শতাব্দীর। বাসায় একজন নার্স এসে শাখাওয়াতকে দু বেলা ইনজেকশন দিয়ে যেতেন।তিনটে করে ইনজেকশন দু বেলায় ছয় টি।যার মধ্যে দুইটা ঘুমের ইনজেকশন ও আছে।এবং এর পর টানা চার ঘন্টা শাখাওয়াত বেঘোরে ঘুমোতেন।
সকাল নটায় ইনজেকশন দেয়া হয়েছে শাখাওয়াতকে এখন ঘড়ির কাটায় কাটকাট নটা চল্লিশ।শতাব্দীর হঠাৎ কী এমন হলো সে বুঝতে পারলো না।তার হাত যেন তার নিজস্ব কন্ট্রোলে নেই, মস্তিষ্কে বারংবার কেউ একজন বলে চলেছে - শতাব্দী ধ্বংস করে দে সব। শতাব্দী সে নির্দোষ নয়।যে পুরুষ মেয়ের ফোনে নোংরা ভিডিও দেখতে পারে সে পুরুষের চোখে পৃথিবীর সকল নারীকে উলঙ্গ দেখতে লাগবে এটা অস্বাভাবিক নয়।তিনি সাধারণ মস্তিষ্কের লোক হতেই পারেন না।শতাব্দী তুই একে বাঁচিয়ে রাখিস না। তুই কী চাস তোর মায়ের মতো করে আর কোন মেয়ে গলায় ফাঁস দিক?
শতাব্দী বাম হাতে তুলে নিলো ছুড়ি। এবারের কুরবানির সময়ে শাখাওয়াত শখ করে ছুড়িটি বানিয়েছিলেন গরু জাবাই করতে। ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো সে শাখাওয়াত এর বেডের পাশে হাতে তার ছুড়িটি। তালমাতাল এর মতো হাঁটতে লাগলো সে, গলার ওড়না খানা মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে খেতে এগোচ্ছে যেন মনে হচ্ছে সে এই শতাব্দীকে আটকাতে চাইছে যে কিনা এখন হিতাহিতজ্ঞানশূন্য।
একের পর এক ছুড়ি বসালো শতাব্দী শাখাওয়াতের পেটে, যতক্ষণ তার মনে ঘৃণা, প্রতিশোধের আগুন জ্বললো ঠিক ততক্ষণ সে ছুড়ি চালালো৷ শতাব্দীর সাদা জামাটা তখন লাল রক্তে রক্তিম আকাড় ধারণ করেছে। খোলা চুলে মেয়েটির চেহারা যেন রণমূর্তি ।
তখনও শতাব্দীর ঘোর কাটে নি, সে ওয়াশরুমে গিয়ে ঝড়না ছেড়ে দিলো — সে পানিতে শরীরের অবাঞ্ছিত রক্তকণা গুলো ধুয়ে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু কেবলই তার মনে হচ্ছে রক্তের দাগ উঠার বদলে আরও সারা শরীরে ছেয়ে যাচ্ছে।
_____________
সাফায়াত ল্যাবটবে জরুরি কাজ করছিল হঠাৎ ফোন রিং হতেই দেখলো শতাব্দীর মামা রাশেদ খন্দকার এর ফোন।
‘আসসালামু আলাইকুম স্যার!’
‘ওয়ালাইকুম উচ্ছালাম।’
‘জ্বি স্যার?’
‘আমি তোমাকে কোন অফিসিয়াল কাজে ফোন করি নি। শতাব্দীকে হসপিটালাইস করা হয়েছে।’
‘হ্যা? কেন? শতাব্দীর কী হয়েছে?’
‘আমি এ্যাড্রেস ম্যাসেজ করে দিচ্ছি। তুমি চলে এসো।’
‘জ্বি।’
সাফায়াত এর মনে হচ্ছিল আজ এমন কিছু হবে। মেয়েটির উচিত ছিলো কয়েকদিন ছুটি নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করা। কিন্তু সে কখনো নিজের কথা ভাবলে তো..!
সাফায়াত দ্রুত ল্যাবটব সহ সকল ফাইল সিক্রেট ড্রয়ারে রাখলো। তখনও তার শরীরে জ্বর জ্বর ভাবটা স্পষ্ট।
________________
সাফায়াত হসপিটালে পৌঁছাতেই রাশেদ খন্দকার চলে গেলেন। আজ কাল তার শরীর বেশ খারাপ, সে চাইলেও শরীর সায় দেয় না। শতাব্দীর হাতে স্লাইন চলছে। তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেয়া হয়েছে।
রিমি এবং আবির কেবিনের সামনে দাঁড়ান ছিলো — শতাব্দী সেন্সলেস হয়ে পরায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। সাফায়াত আস্বস্ত করতেই তারা বাসায় চলে গেলো। তখন বিকেল সাড়ে চারটা বাজে ঘড়ির কাটায়।
সাফায়াতের মাথা ঘুরছে প্রচন্ড রকমের, সাথে কোন ঔষধ নিয়ে আসে নি সে। নিয়ে আসলে এখন একটা ঔষধ খাওয়া যেত।সাফায়াত টুল টেনে শতাব্দীর বেডের পাশে বসলো। এই ঘুমন্ত মেয়েটিকে সাফায়াতের কল্পনায় সেই শতবর্ষি ঘুমন্ত রাজকন্যা স্লিপিং বিউটির মতো ঠেকলো। কপালের ছোট এলোমেলো চুল গুলোকে সাফায়াত আলতো হাতে ঠিক করো দিলো। বেশ কিছুক্ষণ একধ্যানে সে তাকিয়ে ছিলো মেয়েটির লাবণ্যময়ী চেহারায়— এর পর ধীরে ধীরে তার চক্ষু যুগল বন্ধ হয়ে আসলো।
রাত তখন দুইটা সতেরো। শতাব্দী চোখ মেলে তাকালো — বাম পাশে নজর ঘুরতেই সে লক্ষ্য করলো সাফায়াত বেডে দুহাত রেখে, হাতে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমচ্ছে। চুল গুলো উশখুশ। শতাব্দীর খুব করে ইচ্ছে হলো সাফায়াতের জ্বরের অবস্থা জানতে — সে এতটা নির্দয় কীভাবে হলো? তার উচিত ছিলো সাফায়াতের খেয়াল রাখা সাথে নিজেরও।সেদিন মিস আইরিন এর প্রেসকাইব করা ঔষধ গুলো আজও বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ারে, শতাব্দী ছুঁয়ে ও দেখে নি। শতাব্দীর গাফলতির কারণেই এ কেইসটাও সলভ হচ্ছে না।
হঠাৎ শতাব্দীর খেয়াল হলো আজকের ঘটনাটি, সে শিউরে উঠলো।এরপর আরও কিছুক্ষণ সে চোখ বুঝে রইল।
সাফায়াত এর কপালে হাতের উল্টো পিঠ ঠেকালে সে বুঝতে পারলো সাফায়াতের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। শতাব্দীর শীতল স্পর্শে সাফায়াত মাথা তুলে তাকালো, ছেলেটির চোখ দুটি কেমন নিভু নিভু।
‘শতাব্দী এখন কেমন লাগছে? আপনার কী খারাপ লাগছে? ডাক্তার ডাকবো?’
‘শান্ত হন— আমাকে নিয়ে ব্যাস্ত হবেন না।আপনার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। আপনি ঔষধ নেন নি -তাইনা?’
‘আমি ঠিক আছি।’
‘কোথায় ঠিক আছেন? আমি স্বচক্ষে দেখছি আপনার অবস্থা। আপনি সরুন আমি উঠবো।’
‘কেন? আপনার কী কিছু প্রয়োজন? তাহলে আমাকে বলুন!’
‘আপনার জন্য ঔষধ নিয়ে আসছি। নড়বেন না এক চুল ও। এখানেই বসে থাকেন।’
সাফায়াত আটকাতে চাইলেও শতাব্দীকে আটকানো তার কর্ম নয়। শতাব্দী কারো মতামত, নিষেধ এর তোয়াক্কা কখনো করে না।
এ হসপিটালে শতাব্দীর আরও কয়েকবার আসা হয়েছে মামাকে নিয়ে। এখানকার সব কিছুই তার নখদর্পনে।
_____________
পনেরো মিনিটের মাথায় শতাব্দী একজন ডাক্তার সাথে করে নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো। সাফায়াতের বোধগম্য হলো না — ডাক্তার কেন? তবে কী সে নতুন রেকর্ড তৈরি করলো? রোগী হয়ে ডাক্তার ডাকার?
তবে তাকে ভুল প্রমাণিত করে এক নার্স এসে তার হাত হতে তিন টেস্টটিউব ভর্তি ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে গেলো।
ডাক্তারের সাথে টুকটাক কথা বললো সাফায়াত যদিও শতাব্দী আগে থেকেই ডাক্তারকে বলে রেখেছে।
সাফায়াত এতটুকু জ্বরে কখনো ডাক্তার দেখাতো না। কেবল সে না, কেউ কী একটু জ্বরে একজন মেডিসিন স্পেশালিষ্ট এর শরণাপন্ন হয়?
ডাক্তার সহ সকলে চলে যেতেই সাফায়ত জিজ্ঞেস করলো _
‘শতাব্দী আপনার কী হয়েছিলো?’
‘তেমন কিছু না হয়তো দূর্বলতার কারণে সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলাম।’
সাফায়াত আরও কিছু বলার আগেই শতাব্দীর ফোনে রিং বাজলো। শতাব্দী প্যান্টের পকেট হতে মুঠোফোন টি বের করলো -
‘আবার একটা খুন? একই প্যাটার্ন? আমি এখনই আসছি। লোকেশন ম্যাসেজ করো।’
চলবে?.........
তারিন_ভূঁইয়া_মুনা