ফন্ট সাইজ:
থিম:
আই ডিজার্ভ ভিলেন

পর্ব-৭

লেখক: ফারহানা ইসলাম

৭•

মুসকানের বা হাতে হঠাৎ করেই শক্ত এক হাতের টান পড়ল। টানটা এতটাই আকস্মিক ছিল যে সে ধীরে ধীরে চোখ মেলে নিজের ডান হাতটা কপালে নিয়ে গেল। নাহ্, তার তো কোথাও আঘাত লাগেনি। তাহলে রক্তটা কার ছিল…? আর গুলিটাই বা কার লেগেছে…?
কিছু বোঝার আগেই সেই শক্ত হাতের টান আরও জোরালো হয়ে উঠল। লোকটা তাকে টেনে নিয়ে দ্রুত দৌড়াচ্ছে। মুসকানও বাধ্য হয়ে তার সাথে দৌড়াতে লাগল। হাঁপাতে হাঁপাতে চোখ তুলে সামনে তাকাতেই সে থমকে গেল।
এ তো প্রফেসর সায়ান!
সায়ানের ডান হাতে শক্ত করে ধরা মুসকানের বা হাত, আর অন্য হাতে চকচকে একটা রিভলভার। মুসকান পিছনে তাকিয়ে দেখল, রিভলভারধারী ডাকাতটার হাতে গুলি লেগেছে। তাহলে কি প্রফেসর সায়ানই তাকে গুলি করেছে…? আর সেই ডাকাতের রক্তই কি তার নাক-মুখে লেগেছিল…?
কিন্তু একজন প্রফেসারের হাতের নিশানা এত নিখুঁত হয় কীভাবে…?
মুসকান আর কিছু ভাবল না। কারণ ভাবার মতো সময় এখন নেই। তিনজন ডাকাত তাদের পিছু নিয়েছে। অনেকক্ষণ দৌড়ানোর পর অবশেষে তারা একটা নির্জন স্থানে এসে থামল।
সায়ান কিছুটা চিন্তিত কণ্ঠে বলল,
___আর ইউ ওকে, মায়াবিনী…?
মুসকান গভীর শ্বাস নিয়ে বলল,
___ইয়েস, প্রফেসর। আই এম ওকে। কিন্তু আপনার কাছে রিভলভার…?
সায়ান হালকা হেসে উত্তর দিল,
___কিউটি পাই, আই এম এ ওয়েল-নোন বিজনেসম্যান অলসো। সো, এটা আমার প্রোটেকশনের জন্য রাখা।
মুসকান আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। পিছনের লোকগুলোকে আর দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু সমস্যা হলো, এখান থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা ফিরবে কীভাবে…? আর ফিরতে না পারলে থাকবেই বা কোথায়…?
চারপাশে তাকিয়ে মুসকান বুঝতে পারল তারা একটা চা-বাগানে চলে এসেছে। পাশে দু-একটা কাঠের বেঞ্চ রাখা। হয়তো শ্রমিকরা কাজের ফাঁকে এখানে বসে বিশ্রাম নেয়। এতক্ষণ দৌড়ানোর ফলে মুসকানের পায়ে ভীষণ ব্যথা করছে। তাই সে ধীরে গিয়ে একটা বেঞ্চে বসে পড়ল।
___প্রফেসর, আমরা এখান থেকে বের হব কীভাবে…?
সায়ান শান্ত গলায় বলল,
___সকাল হওয়া পর্যন্ত আমাদের এখানেই থাকতে হবে, প্রিন্সেস। ডোন্ট ওয়ারি। আমি থাকতে তোমার কোনো বিপদ হবে না।
ডিসেম্বরের গভীর রাত। চারপাশে কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা। মুসকানের গায়ে শুধু পাতলা একটা শাল। শীতে তার পুরো শরীর কেঁপে উঠছে। বিষয়টা সায়ানের চোখ এড়াল না।
সে আশেপাশ থেকে কিছু শুকনো কাঠ, খড়ি আর পাতা জোগাড় করে বেঞ্চের সামনে আগুন জ্বালালো। মুহূর্তেই আগুনের লালচে আভা চারপাশটা একটু উষ্ণ করে তুলল।
মুসকান আগুনের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল, ___প্রফেসর, সবাই তো আমাদের জন্য চিন্তা করছে।
___ডোন্ট ওয়ারি। আই অলরেডি টেক্সটেড দেম।
সায়ান গিয়ে অন্য একটা বেঞ্চে বসে পড়ল। কিছুক্ষণ নীরবতার মধ্যেই সময় কেটে গেল। শুধু আগুনের টুকটুক শব্দ আর ঠান্ডা বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
কিছুটা ইতস্তত করে সায়ান প্রশ্ন করল,
___তোমার কাছে ভালোবাসা মানে কী, মায়াবিনী…?
প্রশ্নটা শুনে মুসকান কিছুটা হেজিটেটেড ফিল করল। কিন্তু সায়ানের আশ্বস্ত দৃষ্টি তাকে সাহস দিল। সে ধীরে ধীরে বলল,
___প্রফেসর, আসলে ভালোলাগা আর ভালোবাসা এক জিনিস না। ভালো তো অনেককেই লাগতে পারে। কিন্তু ভালোবাসা সবাইকে যায় না। আমাদের অবুঝ হৃদয় তাকেই ভালোবেসে ফেলে, যে হয়তোবা অনেক অমূল্য… কিংবা তার প্রতি ভালোবাসাটা কখনো প্রকাশও করা যায় না, তা হয় নিষিদ্ধ।
মুসকান কিছুটা থামল। আগুনের দিকে তাকিয়ে আবার বলল,
___আমি এমন এক ভালোবাসার অপেক্ষায় আছি, যাকে দেখামাত্র আমার মনসহ পুরো শরীর রেসপন্স করবে যে, আমি তাকে ভালোবাসি। যার হাসি আমার হৃদযন্ত্র থামিয়ে দিতে পারবে। যার চোখে আমি আমার ধ্বংস দেখতে পাব।
সায়ানের ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটল।
___এমন কাউকে এখনো পাওনি…?
___নাহ্। তবে অপেক্ষায় আছি।
___শুধু চোখ দিয়ে না, মনের চোখ দিয়েও খুঁজো। খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবে।
মুসকান কিছুটা ইতস্তত করে বলল,
___প্রফেসর, কিছু মনে না করলে… সেম প্রশ্নটা কি আমি আপনাকে করতে পারি…?
সায়ান মুচকি হেসে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল। যেন নিজের মনের আবেগগুলো উজার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
___জানো, মায়াবিনী… আমার বাবা-মা দু’জনই বিজনেসম্যান। ছোটবেলা থেকেই তারা সবসময় কাজে ব্যস্ত থাকত। তাই আমার শৈশবটা একাই কেটেছে। তারপর আমার ছোট বোনের জন্ম হলো। ও আমার থেকে প্রায় সাত বছরের ছোট।
সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
___ছোটবেলা থেকেই আমার একমাত্র নেশা ছিল, পড়ালেখা। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি ফ্যামিলি বিজনেসও সামলেছি। কিন্তু নিজের পরিচয়ে কিছু করার ইচ্ছে থেকেই আজ আমি এখানে।
আগুনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার বলল,
___কখনো ভালোবাসার জন্য সময়ই হয়ে ওঠেনি। এই প্রফেসর হওয়ার ইচ্ছেটা ছিল আমার একটা শখ… যা আমি পূরণ করেছি। আমার জীবনটা খুব ভালোই চলছিল। কিন্তু সব বদলে গেল যেদিন আমি তোমাদের ভার্সিটিতে জয়েন করলাম।
সায়ানের কণ্ঠ আরও গভীর হয়ে এলো।
___ভার্সিটিতে ঢোকার মুহূর্তেই আমার চোখ পড়েছিল সদ্য ফোটা এক ফুলের ওপর। যার হাসি হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়। যার টানা টানা হরিণীর মতো চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় পৃথিবীর সব সৌন্দর্য বুঝি সেখানে লুকিয়ে আছে।
সায়ানের ঠোঁটে অদ্ভুত কোমল এক হাসি ফুটে উঠল।
___আমার কদম্বরী… যার সরলতা, কোমলতা, স্নিগ্ধতা আর সৌন্দর্য সব মিলিয়ে সে এক মায়াবিনী। হ্যাঁ, মায়াবিনী… আমি তোমাকে—
এতটুকু বলে সায়ান হঠাৎ পিছনে ঘুরে তাকাল। তারপর তার সামনে দৃশ্যটা দেখে মুচকি হেসে ফেলল।
মুসকান বেঞ্চে মাথা রেখে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও জানে না।
সায়ান ধীরে উঠে তার কাছে এগিয়ে এলো। আগুনের লালচে আলোয় ঘুমন্ত মুসকানকে আরও মায়াবী লাগছে। ঠান্ডা বাতাসে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখের ওপর পড়ে আছে।
সায়ান খুব আলতো করে সেই চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল,
___আমি তোমাকে ভালোবাসি, মায়াবিনী… খুব বেশি ভালোবাসি।
পরদিন সকালে তারা ক্যাম্পে ফিরে আসে। এরপর সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সবাই। দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তি নিয়ে অবশেষে তারা ঢাকায় পৌঁছায়।
বর্তমান :
ঢাকা, বাংলাদেশ। 
সময় সন্ধ্যা সাতটা।
সায়ান আজ শরীফ ভিলায় এসেছে। মুসকান আজ ভার্সিটি থেকে লিভ নেওয়ায় সকাল থেকেই তার ভীষণ চিন্তা হচ্ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত সে নিজেই মুসকানের খোঁজ নিতে চলে এসেছে।
মিসেস মাহিরা শরীফের ডাকে মুসকান নিজের রুম থেকে ড্রয়িংরুমে আসে। আজ সে ভার্সিটি থেকে বনলতাকুঞ্জে না গিয়ে সরাসরি শরীফ ভিলাতেই এসেছে।
ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই তার চোখ পড়ে সোফায় বসে থাকা সায়ানের উপর। মুসকানের পরনে পিংক হ্যালো কিটি ডিজাইনের টি-শার্ট আর ট্রাউজার। মাঝখান থেকে সিঁথি করে করা দুই বেণীতে তাকে একদম ছোট্ট বাচ্চাদের মতো লাগছে।
মুসকান ভদ্রভাবে সালাম দিল,
___আসসালামু আলাইকুম, প্রফেসর।
সায়ানও মুচকি হেসে সালামের উত্তর দিল।
তারপর কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে বলল,
___তো এখন কেমন ফিল করছো…?
মুসকানও ভদ্রভাবে উত্তর দিল,
___প্রফেসর, আলহামদুলিল্লাহ। এখন আমি ভালো আছি। বলেছিলাম না, রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবো।
সায়ান নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
___না আসলে গত বছর সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার সময় এক ঘণ্টায় একশো বিরাশি টা হাঁচি দিয়েছিলে। তো তাই আজকে খবর নিতে চলে আসলাম।
সায়ানের কথা শুনে ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সবাই হেসে উঠল।
মিসেস মাহিরা শরীফ হালকা হাসি দিয়ে বললেন, ___আসলে প্রফেসর, মুসুর ছোটবেলা থেকেই ঠান্ডার সমস্যা আছে। বেশি ঠান্ডা বা গরম কোনোটাই ওর সহ্য হয় না। ধুলাবালি তো আরও আগে না।
কিছুটা থেমে আবার বললেন,
___তোমরা গল্প করো, আমি আসছি।
তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই নাস্তা আর পানি এনে সায়ানের সামনে রাখলেন। পুরো সময়জুড়ে সায়ানের ব্যবহার এতটাই ভদ্র আর মার্জিত ছিল যে শরীফ পরিবারের সবার কাছেই সে মুহূর্তেই প্রিয় হয়ে উঠল।
কিছুক্ষণ গল্প করার পর সায়ান সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শরীফ ভিলা থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যাওয়ার আগে একবার আড়চোখে মুসকানের দিকে তাকাতে ভুলল না।
অন্যদিকে—
দুবাইয়ের কাজ শেষ করে রায়িন, ফারহান আর শিন প্রাইভেট জেটে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
ফ্লাইট টেক-অফের আগ মুহূর্তে বিনা ফারহানকে টেক্সট করে জানিয়েছিল যে আজ মুসকান বনলতা কুঞ্জে ফেরেনি।
ফ্লাইটে বসে ফারহান রায়িনের দিকে তাকিয়ে বলল, ___আজ মুসকান বনলতাকুঞ্জে ফিরেনি।
রায়িন জানালার বাইরে তাকিয়েই নির্লিপ্ত কণ্ঠে উত্তর দিল,
___সো হোয়াট…?
___নাথিং। বিনা আমাকে ইনফর্ম করেছে, তাই আমিও তোমাকে জানালাম।
বনলতা কুঞ্জের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার অনুমতি বিনা ছাড়া আর কারো নেই। তাই সে নিজের দায়িত্বই পালন করেছে।
রায়িনের শূন্য অভিব্যক্তি দেখে ফারহান আর বিষয়টা নিয়ে কথা বাড়ালো না।
দীর্ঘ যাত্রা শেষে তারা ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছাল। তখন ইতালিয়ান সময় রাত দুইটা, আর বাংলাদেশের সময় সকাল দশটা। হোটেলে পৌঁছে সবাই নিজ নিজ রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিল।
ইতালিয়ান সময় সকাল সাতটা।
হোটেলের ভিআইপি জিম রুমে ওয়ার্কআউট করছে এক পুরুষ।
তার পরনে শুধু কালো ট্রাউজার। কঠোর ওয়ার্কআউটের কারণে পুরো শরীরে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ঘামে ভেজা তার সিক্স-প্যাক মাসলগুলো আরও বেশি আকর্ষণীয় লাগছে।
বাম কাঁধ বরাবর আঁকা রয়েছে একটি ভ্যাম্পায়ার ব্যাটের ট্যাটু। আর ডান কাঁধে পাশাপাশি তিনটি গুলির দাগ।
পুরুষটি বর্তমানে ট্রেডমিলে দৌড়াচ্ছে।
ঠিক তখনই নিঃশব্দে জিম রুমে প্রবেশ করল এক রমণী। পরনে ক্রপ টি-শার্ট আর লেগিন্স। সে ধীরে গিয়ে দাঁড়াল ট্রেডমিলের পিছনে।
ট্রেডমিলে থাকা পুরুষটি পিছনে না তাকিয়েই বলল, ___আমাকে ফলো করে লাভ কী…?
রমণী স্থির দৃষ্টিতে রায়িনের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,
___এটা আমার কাজ।
রায়িন ট্রেডমিল থেকে নেমে পাঞ্চিং ব্যাগের দিকে এগিয়ে গেল। হাতে বক্সিং গ্লাভস পরতে পরতে বলল, ___ফলো না করে আমার বিরুদ্ধে প্রুফ খুঁজো।
___এখন প্রুফ খোঁজা না, প্রুফ মেটানো আমার কাজ।
রায়িনের ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল।
___ কণ্যা, আবেগ দিয়ে না, বিবেক দিয়ে কাজ করো। এই আবেগ একদিন তোমাকে ধ্বংস করে দিবে।
রমণী বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়াই বলল,
___তোমার জন্য ধ্বংস হওয়াও আমার কাছে কবুল। ভালোবাসি তোমাকে, রায়িন।
রায়িন এবার পাঞ্চিং ব্যাগে ঘুষি মারতে মারতে বলল, ___কিম সিজুকা। এক্সপার্ট ইন শুটিং অ্যান্ড তাইকোয়ানদো।
একটা ঘুষি মেরে আবার বলল, ___টিম নেম, ডেমন হান্টার। সদস্য সংখ্যা ছয়।
___কাবির আহমেদ ফ্রম পাকিস্তান। ___লিরি কেলভিন ফ্রম কানাডা। ___জন জ্যাক ফ্রম ইউএসএ। ___ইঝান খান ফ্রম বাংলাদেশ। ___মারিয়া শর্মা ফ্রম ইন্ডিয়া। ___অ্যান্ড লাস্ট ইজ ইউ।
শিজুকা হাততালি দিতে দিতে হাসল।
___That's my type, honey. উই আর অল ইন্টারপোল অফিসার্স। বাট তুমি আমাদের সবার বায়োডাটা বের করে ফেলেছো। ইউ আর টোটালি মাই টাইপ।
ঠিক তখনই ফারহান জিম রুমে প্রবেশ করল।
___রায়িন, মুসকান এখনো বনলতা কুঞ্জে পৌঁছায়নি।
___শি ইজ ইন শরীফ ভিলা।
তারপর কিছুটা থেমে প্রথমবারের মতো সিজুকার দিকে তাকিয়ে বলল,
___এন্ড মিস কিম… তোমাদের টিম লিডার নাকি বাংলাদেশের কোথাও লুকিয়ে আছে? ইতালির কাজ শেষ করে ভাবছি সরাসরি গিয়ে দেখা করব তার সাথে।
সিজুকা গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিল,
___উই ডোন্ট নো অ্যাবাউট হিম। আমরা শুধু ইনডাইরেক্টলি কমান্ড পাই। তার পরিচয় সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।
রায়িন ঠান্ডা হেসে বলল,
___আই নো। হি ইজ সাচ এ কাওয়ার্ড। তাই তো ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে আছে। কিন্তু রায়িন আল জাফির ইঁদুরকে গর্ত থেকে বের করেই শাস্তি দেয়।
___ইঁদুর… ইঁদুর...? কোথায় ইঁদুর, বস…?!
হঠাৎ জিম রুমে ঢুকেই কথাটা শুনে চিৎকার দিয়ে এক লাফে টেবিলের উপর উঠে গেল শিন।
শিনের কাণ্ড দেখে শিজুকা হেসে উঠল। রায়িন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেই শিন তাড়াতাড়ি নিচে নেমে দাঁড়াল।
ফারহান বিরক্ত হয়ে বলল,
___ভিতুর ডিম একটা। তোর কাছে পৃথিবীর কোনো ভাই নিজের বোনকে বিয়ে দিবে না।
শিন কাঁচুমাচু মুখে মুচকি হেসে রায়িনের পিছনে গিয়ে দাঁড়াল।
___সরি, বস। রাত দশটায় নিলাম শুরু হবে। তারপরের সিডিউল…?
ফারহান উত্তর দিল,
___আগামীকাল দিনে জাফির এন্টারপ্রাইজের কিছু লিগাল কাজ আছে। আর রাতে আন্ডারগ্রাউন্ডে কিছু মাফিয়াদের দেওয়া পার্টি।
এতক্ষণে শিনের নজর পড়ল শিজুকার উপর।
___ফারহান, হু ইজ শি…?
শিজুকা নিজেই উত্তর দিল,
___আই এম ভ্যাম্পায়ার কিংডম'স ফিউচার কুইন।
___ইন ইওর ড্রিম।
ফারহান সাথে সাথেই উত্তর দিল।
রায়িন এবার শিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
___কাল রাতের ইভেন্টের পর আমি আর ফারহান বাংলাদেশে যাব। এখানকার বাকি ডিলগুলো তুমি হ্যান্ডেল করবে। তারপর রাশিয়ায় ব্যাক করবে। সেখানে ধীর আর বিনার সাথে পেন্ডিং কাজগুলো শেষ করবে।
শিন চুপচাপ সব নির্দেশ মাথায় গেঁথে নিল।
ইতালিতে আসার সময় ফারহান যখন মুসকানের কথা বলেছিল, তখন রায়িন উদাসীন ভাব দেখালেও ইতালিতে পৌঁছানোর পর ঠিকই মিসেস আম্বিয়া শেখকে কল দিয়ে মুসকানের খবর নিয়েছিল।
পরের দিনই মুসকান বনলতা কুঞ্জে ফিরে আসে।
রায়িন আর মুসকানের বিয়ের প্রায় এক মাস হয়ে গেছে। এই প্রথমবার রায়িন এক মাসে দুইবার বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে হয়তো বা ছয় মাসে একবার বাংলাদেশে আসতো। 
এয়ারপোর্ট থেকে ফারহান সরাসরি জাফির এন্টারপ্রাইজের বাংলাদেশ ব্রাঞ্চে চলে গেল। আজ সেখানে মস্কোর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদের ইন্টারভিউ নেওয়া হবে।
আর রায়িন অন্য গাড়ি নিয়ে বনলতাকুঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের কাছাকাছি এসে হঠাৎ করেই তার গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল।
রাস্তার দুপাশে সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে। কারণ পাশেই আধুনিক হাসপাতাল।
সারারাত জার্নি, ক্লান্তি আর গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রায়িনের মেজাজ তখন ভীষণ খারাপ।
বিরক্ত হয়ে সে গাড়ির দরজা খুলে বাইরে বের হলো।
ঠিক তখনই হঠাৎ এক অঙ্গনা এসে ধাক্কা খেল তার বুকের সাথে।
ঘটনাটা এতটাই আকস্মিক ছিল যে মেয়েটির ঠোঁট গিয়ে ছুঁয়ে ফেলল রায়িনের বুকের বাঁ পাশ।
ঘটে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সৃষ্টি হলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বনের। 
রায়িনের মাথা মুহূর্তেই গরম হয়ে উঠল। কোনো কিছু বোঝার সুযোগ না দিয়েই সে ঝটকা মেরে মেয়েটিকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিল।
তারপর সজোরে বসিয়ে দিল একটা চড়।
মেয়েটি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে গেল।
তার পরনে ছিল বেবি পিংক আর সাদা কম্বিনেশনের থ্রি-পিস। গালে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে রায়িনের পাঁচ আঙুলের দাগ। চোখে জমেছে পানি।
কিন্তু রায়িন সেখানেই থামল না।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে উঠল,
___ইউ ফাকিং বিচ! গাড়িওয়ালা বড়লোক পুরুষ দেখলেই গায়ে পড়তে ইচ্ছে করে? তাহলে পতিতালয়েই থাকতে পারোছ। অনেক ইনকাম হবে।তোদের মত মেয়েদের রাস্তায় হাঁটার কোনো দরকার নেই!
অঙ্গনা আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। অপমান আর কান্না নিয়ে উঠে দৌড়ে চলে গেল এক নাম্বার রোডের ভেতরের দিকে।
চলবে.....
প্রথমেই দুঃখিত। জানে পর্বগুলো ছোট হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিন গল্প দেওয়ার জন্য একটু ছোটই হবে। অল্প পড় কিন্তু প্রতিদিন পড়। হ্যাপি রিডিং 🫶🥺🫶 ভালোবাসি সবাইকে 🫶🫶🫶

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব-৭ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন