নিদা-এ-জুলমাত
(অন্ধকারের ডাক)
হিরো: সিনিয়র অফিসার আয়াজ রিজভি
👑 ইম্পায়ার অব আজরাক (ভালো জ্বিনের রাজ্য)
বাদশাহ: কায়জার আজরাক
রানী: আয়াত আজরাক
হিরোয়িন: প্রিন্সেস আয়রা আজরাক
👑 ইম্পায়ার অব জাহরাক (অশুভ জ্বিনের রাজ্য)
বাদশাহ: জাবির জাহরাক
রানী: নাজওয়া জাহরাক
ভিলেন: প্রিন্স জাইদান জাহরাক
গল্পের শুরু...
আয়াজ রিজভি এমন একজন মানুষ, যে কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি, জ্বিন কিংবা অদৃশ্য জগতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। তার কাছে পৃথিবীর সবকিছুর উত্তর লুকিয়ে আছে যুক্তি আর প্রমাণের মাঝে।
তার নেশা, তার ভালোবাসা—সবকিছুই তার দায়িত্ব। নিজের কাজের প্রতি সে অসম্ভব ন্যায়পরায়ণ। আর এই নিষ্ঠা ও সাহসের কারণেই খুব অল্প বয়সে সে হয়ে উঠেছে একজন সফল পুলিশ অফিসার।তার নাম শুনলেই অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি হয়। কারণ আয়াজ রিজভির হাত থেকে রেহাই পায় না।
অন্যদিকে...
জ্বিন রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সমৃদ্ধ রাজ্য হলো ইম্পায়ার অব আজরাক। এটি চাঁদের রাজ্য নামে পরিচিত। এই রাজ্যের যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু নীলের অপূর্ব সমারোহ। আজরাক শব্দের অর্থ—নীল। এই রাজ্যের রাজকুমারী হলো আয়রা আজরাক। আয়রা অর্থ—আলো।
সত্যিই সে আজরাক রাজ্যের আলো। তার ঘন নীল চুল, ধবধবে সাদা ত্বক আর কোমল হৃদয় তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে। তার মন তুলোর মতো নরম ও পবিত্র। সে কখনো পৃথিবীতে পা রাখেনি। তার বয়স প্রায় চারশো বছর হলেও তাকে দেখতে একেবারে ২২-২৩ বছরের এক তরুণীর মতো লাগে।
জ্বিন রাজ্যের অন্য প্রান্তে রয়েছে আরেকটি ভয়ংকর সাম্রাজ্য... ইম্পায়ার অব জাহরাক। যেখানে সাধারণ জ্বিনদের মাঝেও রয়েছে নিষ্ঠুরতা, প্রতিহিংসা, দ্বন্দ্ব আর হিংস্রতা। তাদের চেহারাতেও ফুটে ওঠে অন্ধকারের ছাপ। এই রাজ্যের প্রতিটি জ্বিনের চোখ যেন ভয়ংকর লাল আগুনের মতো।
যে রাজ্যের সাধারণ জ্বিনরাই এতটা ভয়ংকর, সেই রাজ্যের যুবরাজের নিষ্ঠুরতা কল্পনা করাও কঠিন। সে হলো— প্রিন্স জাইদান জাহরাক। এক অভিশপ্ত নাম।তার বয়স প্রায় সাতশো বছর। তার চরিত্রের অন্ধকার দিকের কোনো সীমা নেই। মানুষের জগতের প্রতি তার এক ভয়ংকর আকর্ষণ রয়েছে, বিশেষ করে মানবকন্যাদের প্রতি।
প্রথম দিকে সে প্রতি তিন মাস পরপর পৃথিবীতে আসত এবং নিজের নৃশংসতার শিকার বানাত একেকজন মেয়েকে। প্রতিটা মেয়ের সাথে খারাপ আচারন করে পরবর্তীতে তাদেরকে রক্তশূন্য করে মেরে ফেলতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নিষ্ঠুরতা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
কিন্তু জাইদানের আরেকটি গোপন আকাঙ্ক্ষা ছিল... আয়রা আজরাক। শুরু থেকেই তার নজর ছিল আজরাক রাজ্যের রাজকুমারীর ওপর। কিন্তু দুই রাজ্যের মাঝে থাকা তীব্র শত্রুতা ও দ্বন্দ্বের কারণে সে কখনো সরাসরি আয়রার কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
জাইদান দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় পুরো জ্বিন রাজ্যের অধিকাংশ মেয়ে জ্বিন তার প্রতি আকৃষ্ট। এমনকি আয়রার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী জাহারাও তার মায়ায় পড়ে যায়। আর সেই দুর্বলতাকেই নিজের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জাইদান...জাইদান ধীরে ধীরে জাহারার দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। তার মিষ্টি কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ভয়ংকর পরিকল্পনা।
সে জাহারাকে রাজি করায় আয়রাকে নিয়ে পৃথিবীতে যাওয়ার জন্য। কারণ সে জানত, পৃথিবীর জগতে আয়রা একা ও অসহায় হয়ে পড়বে। তখন তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা আরও সহজ হবে। জাহারা নিজের সবচেয়ে কাছের বান্ধবীর বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে আয়রাকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে।
কিন্তু জ্বিন রাজ্য থেকে পৃথিবীতে আসা এত সহজ নয়। জ্বিন রাজ্যে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য রয়েছে বিশেষ এক নিয়ম। প্রতিটি জ্বিনের কাছে থাকে এমন কিছু বিশেষ বস্তু, যা পোর্টালের চাবি হিসেবে কাজ করে। তেমনি আয়রার কাছেও ছিল একটি বিশেষ পেন্ডেন্ট। যে পেন্ডেন্টের মাধ্যমে সে জ্বিন রাজ্য ও পৃথিবীর মধ্যকার পথ অতিক্রম করতে পারত।
জাইদানের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহারা ছলনা করে আয়রার কাছ থেকে সেই পেন্ডেন্টটি নিয়ে নেয়। তারপর আয়রাকে পৃথিবীতে একা রেখে সে ফিরে যায় জ্বিন রাজ্যে। কিন্তু সে জানত না... এই ছোট্ট একটি বিশ্বাসঘাতকতাই বদলে দেবে দুই জগতের ভবিষ্যৎ। কারণ সেই পোর্টালের চাবি যদি কোনো মানুষের হাতে চলে যায়, তাহলে সেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জ্বিন রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে।
যে মানুষ কখনো জ্বিন, ভূত কিংবা কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস করেনি, তাকেই এবার মুখোমুখি হতে হবে এমন এক সত্যের, যা তার সমস্ত বিশ্বাসকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।
একদিকে জাইদানের অন্ধকার পরিকল্পনা... অন্যদিকে পৃথিবীর অচেনা জগতে আটকে পড়া অসহায় আয়রা... আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা যুক্তিবাদী পুলিশ অফিসার আয়াজ রিজভি... এখন কী হবে আয়রার? জাইদান কি সফল হবে তার ভয়ংকর উদ্দেশ্যে? আয়াজ কি কখনো বিশ্বাস করবে এমন এক জগতের অস্তিত্ব, যাকে সে এতদিন অসম্ভব বলে ভেবে এসেছে? নাকি ভালোবাসা, রহস্য আর অন্ধকারের এই সংঘর্ষে জন্ম নেবে এক নতুন ইতিহাস?
নিদা-এ-জুলমাত
একটি গল্প—
যেখানে মিলবে ভালোবাসা ও রহস্য,
মানব ও জ্বিনের অসম্ভব বন্ধন,
কালো জাদুর অন্ধকার,
সাসপেন্স, থ্রিল এবং এক অজানা ফ্যান্টাসির জগৎ।
_____ফারহানা ইসলাম