ফন্ট সাইজ:
থিম:
ইফ আই লুজ ইউ

সমাপ্ত পর্ব

লেখক: ফারহানা ইসলাম

১১•

__এ্যাাাা! শখ কত? আমার এত দিনের ভালোবাসা পূর্ণতা পেল, আর আমি নাকি তাকে ডিভোর্স দেব?
কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই জিয়ার পুরো শরীর যেন জমে গেল। সে একদৃষ্টিতে অন্ধকারে বসে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইল। বুকের ভেতরটা ধকধক করছে। কণ্ঠটা... এই কণ্ঠটা তার ভীষণ পরিচিত। এতটাই পরিচিত যে ভুল হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।
কিন্তু... না! এটা কীভাবে সম্ভব? ইয়াশ তো কোরিয়াতেই ছিল। সবাই তো তাই বলেছিল। তাহলে এখানে...? জিয়া নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না। কয়েক সেকেন্ড সম্পূর্ণ নিশ্চুপ বসে থাকার পর কাঁপা হাতে ধীরে ধীরে নিজের ঘোমটাটা সরিয়ে নিল। তারপর খুব আস্তে পেছন ফিরে তাকাতেই তার নিঃশ্বাস যেন বুকের মাঝখানেই আটকে গেল।
বিস্ময়ে তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। মুখ হাঁ হয়ে রইল। মনে হচ্ছিল, সময়টা যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে গেছে। সামনেই বসে আছে... ইয়াশ। সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসি। চোখে দুষ্টুমির ঝিলিক। আর ঠোঁটের কোণে সেই আত্মতৃপ্তির হাসি, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা আজ সে জিতে ফেলেছে।
জিয়া অবিশ্বাসে প্রায় চিৎকার করেই বলে উঠল,
__তুই?
ইয়াশ ভ্রু নাচিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে মুচকি হেসে উত্তর দিল,
__কেন? অন্য কাউকে আশা করেছিলি?
জিয়া এখনো যেন বাস্তবে ফিরতে পারেনি। সে একবার নিজের চোখ কচলাল, আবার ইয়াশের দিকে তাকাল।ননা... এটা কোনো স্বপ্ন নয়। লোকটা সত্যিই ইয়াশ।
সে হতবাক গলায় বলল,
__তুই... আমার বাসরঘরে কী করছিস?
ইয়াশ আরাম করে খাটের হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে বসল। ঠোঁটের কোণের হাসিটা আরও চওড়া হয়ে গেল।
__সেসব পরে বলব। তার আগে বল, তুই কাকে ভালোবাসিস?
প্রশ্নটা শুনে জিয়া অপ্রস্তুত হয়ে গেল। এতক্ষণ যে মানুষটাকে দেখে সে বাকরুদ্ধ হয়ে ছিল, সেই মানুষটাই এখন এমন প্রশ্ন করছে! সে চোখ সরিয়ে নিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
__আ... আছে কেউ একজন। তোকে বলব কেন?
জিয়ার উত্তর শুনে ইয়াশ নাটকীয় ভঙ্গিতে দুই হাত মাথার পেছনে রেখে ধপ করে খাটে শুয়ে পড়ল।তারপর বুকভরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
__ইয়া আল্লাহ! জীবনে একজনকেই ভালোবাসলাম, তাকেই বিয়ে করলাম... আর সেই বউ বাসর রাতেই আমাকে ডিভোর্স দিতে চায়! সে নাকি অন্য কাউকে ভালোবাসে। 
কথাগুলো এমন অসহায় সুরে বলল যে অন্য কেউ হলে হয়তো সত্যিই বিশ্বাস করে ফেলত। কিন্তু জিয়া তাকে ছোটবেলা থেকেই চেনে। ছেলেটার এই ওভারড্রামা নতুন কিছু নয়। তবুও তার মাথায় এখনো একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
'ইয়াশ এখানে কেন?'
সে বিরক্ত গলায় বলল,
__তোর ওভারঅ্যাক্টিং বাদ দে। আমার হাজবেন্ড কোথায়?
কথাটা শুনে ইয়াশ এক লাফে উঠে দাঁড়াল। তারপর ইচ্ছা করেই পুরো রুমে একবার চোখ বুলিয়ে দেখল।ডানদিকে তাকাল। বাঁদিকে তাকাল। আলমারির পেছনেও উঁকি দেওয়ার অভিনয় করল।
তারপর নিজেকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে অবাক হওয়ার ভান করে বলল,
__আমাকে ছাড়া এখানে আর কাউকে দেখতে পাচ্ছিস?
জিয়া চারপাশে একবার তাকিয়ে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল।
__না...
ইয়াশ এবার মুচকি হেসে ধীরে ধীরে তার একেবারে সামনে এসে বসল। দুজনের মাঝখানে এখন মাত্র হাতখানেক দূরত্ব। জিয়ার বুকের ধুকপুকানি যেন আরও বেড়ে গেল।
ইয়াশ নিচু গলায় বলল,
__তোর কাবিননামা দেখবি?
জিয়া অবাক হয়ে ঢোক গিলল। তার চোখে-মুখে স্পষ্ট প্রশ্ন। ইয়াশ আবার ম্যাজিশিয়ানের মতো দুই হাত নাড়িয়ে গম্ভীর মুখে বলল,
__গিলিগিলি ছু... জিয়ার কাবিননামা বের হ!
 ইয়াশ বালিশের দিকে ইশারা করে রহস্যময় ভঙ্গিতে বলল,
__ওই বালিশটা একটু সরিয়ে দেখ তো।
জিয়া কপাল কুঁচকে কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বালিশটা সরাতেই নিচে একটি ফাইল দেখতে পেল। কৌতূহলী হয়ে ফাইলটা হাতে তুলে খুলতেই তার দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল কাবিননামার পাতায়।
পাতার একপাশে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা—
বর: ইয়াশফি শাহারিয়ার মাহাদি
কনে: কিম জিয়া
শব্দগুলো পড়তেই জিয়ার চোখ যেন ঝাপসা হয়ে এল। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে বুকটা অসহনীয় কষ্টে ভারী হয়ে ছিল, সেখানে হঠাৎ করেই অদ্ভুত এক উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল। তার আঙুল কাঁপছে, ঠোঁট কাঁপছে, চোখ বেয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরছে।
সে বিশ্বাসই করতে পারছে না... সত্যিই কি সে স্বপ্ন দেখছে? বারবার নিজের চোখ মুছে আবার নামটা পড়ল। না...একটুও ভুল দেখছে না। তার স্বামী... ইয়াশ!
পরমুহূর্তেই আর নিজেকে সামলাতে পারল না। কাগজগুলো বিছানার ওপর ফেলে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে এক লাফে ইয়াশকে জড়িয়ে ধরল। মেয়েটা শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।
__ইয়াশ...!
কাঁদতে কাঁদতেই তার বুক ভিজিয়ে ফেলল। ইয়াশ দু'হাত দু'পাশে ছড়িয়ে অসহায় মুখে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে নাটকীয় গলায় বলে উঠল,
__হায় আল্লাহ! আমার সঙ্গে তো বিরাট চিটিং হইছে!
জিয়া কান্নার মাঝেই থেমে গেল। ইয়াশ আবার বলতে লাগল,
__একটা স্বাভাবিক মেয়ে বিয়ে করার কত শখ ছিল! শেষে না বুঝেই একটা ফুলটাইম পাগলকে বিয়ে করে ফেললাম। এই দেখো! এক মিনিট আগেও ডিভোর্স চাইছিল, এখন আবার আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে!
জিয়া সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসল। নাক টেনে চোখ মুছতে মুছতে বলল,
__আমি... পাগল?
ইয়াশ গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ল।
__একশো ভাগ। এই তো একটু আগে কাঁদছিলি। এখন হাসছিস। আবার কাঁদছিস। পাঁচ সেকেন্ড পর হয়তো আমাকে মেরেও বসবি। এসব সুস্থ মানুষ করে?
জিয়া ঠোঁট ফুলিয়ে রাগী চোখে তাকাল।
__খুব বেশি কথা বলছিস কিন্তু!
__আরে, সত্যি কথাই তো বলছি।
জিয়া এবার নিজের মাথায় হাত চাপড়ে হঠাৎ থমকে গেল।
__ওয়েট... ওয়েট... ওয়েট...
সে ধীরে ধীরে ইয়াশের দিকে তাকাল। তারপর বিস্মিত গলায় বলে উঠল,
__আমি তোকে... হাগ করলাম?
__হুম।
__নিজে থেকে?
__হুম।
__ইসসস!
পরের মুহূর্তেই সে ধাক্কা দিয়ে ইয়াশকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিল।
__বের হয়ে যা! এক্ষুনি আমার রুম থেকে বের হয়ে যা!
ইয়াশ অবাক হওয়ার ভান করে চারপাশে তাকাল।
__তোর রুম?
__হ্যাঁ! আমার রুম।
__করেকশন...
সে আঙুল তুলে বিছানা, আলমারি, রুমের চারপাশ দেখিয়ে মুচকি হেসে বলল,
__এটা এখন আমাদের রুম, মিসেস শাহারিয়ার।  
জিয়া চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।
__আমি তোকে আমার হাজব্যান্ড হিসেবে মানি না।
__ও আচ্ছা?
__হ্যাঁ! তোরা সবাই মিলে আমার সঙ্গে চিটিং করেছিস। যদি জানতাম তোর সঙ্গেই আমার বিয়ে হচ্ছে, তাহলে জীবনেও এই বিয়ে করতাম না।
ইয়াশ আরাম করে বিছানায় শুয়ে দুই হাত মাথার নিচে রেখে বলল,
__তাই নাকি? তাহলে কাকে বিয়ে করতি শুনি?
জিয়া মুখ ঘুরিয়ে নিল।
__মাই উইশ!
একটু থেমে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
__যা... তোর ইয়ে-রিনের কাছেই যা।
ইয়াশ ভুরু কুঁচকে অবাক হওয়ার ভান করল।
__আমার ইয়ে-রিন?
__হ্যাঁ, তোর ইয়ে-রিন।
__ও আবার আমার হলো কবে?
জিয়া রাগে গাল ফুলিয়ে বলল,
__কেন? জুন ওপ্পার রিসেপশনের দিন তুই না ওকে বলছিলি— "অনেক... অনেক... অনেক বেশি ভালোবাসি"?
কথাটা শুনে ইয়াশ কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে রইল।তারপর হঠাৎ নিজের কপালে চাপড় মেরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
__হায় আল্লাহ...!
সে ধীরে ধীরে উঠে এসে জিয়ার সামনে দাঁড়াল।তারপর আলতো করে একটা গাট্টা মারল জিয়ার কপালে।
__আউচ!
জিয়া কপাল চেপে ধরল।
__মারলি কেন?
ইয়াশ অসহায় মুখে বলল,
__তুই কানে অর্ধেক শুনিস, আর বাকি অর্ধেক নিজের মাথা দিয়ে বানিয়ে ফেলিস।
__মানে?
__মানে, আমি ইয়ে-রিনকে প্রপোজ করছিলাম না। আমি ওকে আমার ভালোবাসার মানুষটার কথা বলছিলাম।  
 
জিয়া ভ্রু কুঁচকে অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
__তোর ভালোবাসার মানুষ?
ইয়াশ মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।
__হুম।
ইয়াশ হালকা হেসে দুই হাত বুকের ওপর ভাঁজ করে বলল,
__না। তবে আমার ভালোবাসার মানুষটা একটু বুদ্ধু।
জিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
__ও... তাই নাকি? তা কে সেই ভাগ্যবতী?
ইয়াশ উত্তর না দিয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ জিয়ার দিকেই তাকিয়ে রইল। তার চোখে এমন এক কোমলতা ছিল, যেটা দেখে জিয়ার বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। সে অস্বস্তি লুকাতে চোখ সরিয়ে নিল।
__কী হলো? এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
ইয়াশ ধীরে ধীরে তার আরও একটু কাছে এগিয়ে এলো।নদুজনের মাঝখানের দূরত্বটুকু মুহূর্তেই অনেক কমে গেল।
তারপর নিচু স্বরে বলল,
__একটা প্রশ্নের উত্তর দিবি?
জিয়া অকারণেই নার্ভাস হয়ে গেল।
__কী... প্রশ্ন?
__আমার জন্য কখনো কাঁদছিস?
প্রশ্নটা শুনে জিয়া থমকে গেল। সে কী বলবে বুঝে উঠতে পারল না।
মুখ ঘুরিয়ে ফিসফিস করে বলল,
__না।
ইয়াশ ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি টেনে বলল,
__মিথ্যা।
__মিথ্যা না।
__তাহলে রিসেপশনের দিন কাঁদছিলি কেন?
জিয়া সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করল,
__আমি... আমি এমনি কেঁদেছিলাম।
__ও আচ্ছা!
ইয়াশ দুষ্টু হেসে বলল,
__তাহলে আমাকে কিস করার পর অজ্ঞানও এমনি হয়েছিলি?
জিয়ার গাল মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল। সে তোতলাতে লাগল,
__ও... ওটা...
__হুম? বল।
__দুর্বলতার জন্য।
__শুধু দুর্বলতার জন্য?
__হ্যাঁ!
ইয়াশ মাথা নেড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
__আহারে! আমি তো ভাবছিলাম আমার জন্যই না খেয়ে না ঘুমিয়ে কাঁদতে কাঁদতে দুর্বল হয়ে অজ্ঞান হয়েছিলি।
জিয়া বালিশটা তুলে সজোরে ইয়াশের গায়ে ছুঁড়ে মারল।
__একদম ফাজলামি করবি না!
ইয়াশ হেসে বালিশটা ধরে ফেলল।
__এই রাগটাই তো আমার সবচেয়ে ভালো লাগে।
জিয়া ভেংচি কেটে বলল,
__আমার কিছুই তোর প্রিয় না।
ইয়াশ এবার ধীরে ধীরে তার সামনে এসে দাঁড়াল।তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,
__কে বলেছে?
এক মুহূর্ত থেমে আবার বলল,
__তোর রাগ, তোর জেদ, তোর কান্না, তোর হাসি...
তার চোখে চোখ রেখে মৃদু হেসে বলল,
__এমনকি তোর পাগলামিগুলোও আমার ভীষণ প্রিয়।
কথাগুলো শুনে জিয়ার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল। সে জোর করেই মুখ শক্ত করে বলল,
__নাটক করিস না।
ইয়াশ মুচকি হেসে উত্তর দিল,
__আমি নাটক করছি না।
সে আরও একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
__আমি শুধু আমার বউকে সত্যিটা বলছি।জিয়ার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই ধুকপুক করে উঠল।
কী এক অদ্ভুত অনুভূতি তাকে ঘিরে ধরেছে। এতদিন ধরে যার মুখ থেকে এই কথাগুলো শোনার জন্য সে অজস্র রাত কেঁদেছে, আজ সেই মানুষটাই নির্দ্বিধায় তাকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিচ্ছে।
তবুও মুখে রাগী ভাব বজায় রেখে সে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
__হুহ! কে কার বউ? আমি এখনো তোকে হাজব্যান্ড হিসেবেই মানি না।
ইয়াশ নাটকীয় ভঙ্গিতে নিজের বুকে হাত রেখে বলল,
__এই কথা শুনে আমার হৃদয়টা ভেঙে খানখান হয়ে গেল।
জিয়া চোখ উল্টে বলল,
__ড্রামাবাজ কোথাকার!
ইয়াশ হেসে এক পা সামনে এগিয়ে এল।
__ঠিক আছে, হাজব্যান্ড মানিস না। কিন্তু কাবিননামায় তো আর ভুল লেখা নেই। আইন অনুযায়ী, সমাজ অনুযায়ী, ধর্ম অনুযায়ী—তুই এখন আমার বউ।
জিয়া সঙ্গে সঙ্গে পাশের বালিশটা তুলে তার দিকে তাক করল।
__আর একবার বউ বললে কিন্তু মাথা ফাটিয়ে দেব।
ইয়াশ দুই হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করল।
__আচ্ছা আচ্ছা... বলব না।
জিয়া বালিশটা নামিয়ে রাখতেই ইয়াশ ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে আবার বলল,
__ওয়াইফি...
__ইয়াশ!
জিয়া চিৎকার করে আবার বালিশটা ছুড়ে মারল।
এবার ইয়াশ হেসে হেসেই সেটা লুফে নিল।
__এই রাগটা না... উফ! কত কিউট লাগে!
__আমাকে কিউট বলবি না।
__আচ্ছা, তাহলে কী বলব?
ইয়াশ মাথা কাত করে কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল,
__সুন্দরী?
জিয়া মুখ ফিরিয়ে নিল।
__না।
__পরী?
__না।
__আমার ফেইরি?
জিয়া এবার আর নিজের হাসিটা চেপে রাখতে পারল না। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
ইয়াশ সেটা দেখেই বিজয়ীর হাসি হাসল।
__তুি হেসেছিস।
জিয়া তাড়াতাড়ি মুখ শক্ত করে ফেলল।
__আমি হাসিনি।
__অবশ্যই হেসেছিস।
__না।
__হ্যাঁ।
__না।
__হ্যাঁ।
দুজনেই কয়েক সেকেন্ড একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ করেই দুজন একসঙ্গে হেসে ফেলল। ঘরের ভারী পরিবেশটা মুহূর্তেই হালকা হয়ে গেল। হাসি থামতেই ইয়াশ আবার ধীরে ধীরে জিয়ার দিকে এগিয়ে এল।
এবার তার চোখে সেই দুষ্টুমির পাশাপাশি অন্যরকম এক গভীরতা।
নিচু গলায় বলল,
__একটা কথা বলব?
জিয়া সন্দেহভরা চোখে তাকাল।
__কী?
__রাগ করবি না তো?
__আগে বল।
ইয়াশ মুচকি হেসে উত্তর দিল,
__জুন হিয়্যুং-এর রিসেপশনের দিন তুই একটা কিস করে পালিয়ে গিয়েছিলি...
সে একটু থামল। তারপর চোখে চোখ রেখে হাস্কি গলায় বলল,
__সেই অসমাপ্ত হিসাবটা আজকে মিটিয়ে নিতে চাই।
ইয়াশের শেষ কথাটা শুনতেই জিয়ার চোখ দুটো বিস্ফারিত হয়ে গেল। সে এক লাফে বিছানার একেবারে কোণায় সরে গিয়ে দু'হাত সামনে তুলে বলল,
__স্টপ! একদম আমার কাছে আসবি না।
ইয়াশ ঠোঁট চেপে হাসি আটকে রাখার চেষ্টা করল।
__কেন?
__কারণ... কারণ তোর মতলব ভালো না।
__আমার মতলব?
ইয়াশ নিজের বুকে হাত রেখে অবাক হওয়ার ভান করল।
__আমি তো খুবই ভদ্র মানুষ।
জিয়া নাক সিটকে বলল,
__হ্যাঁ! একটু আগে থেকেই তো দেখছি কত ভদ্র!
ইয়াশ ধীরে ধীরে আরও এক পা এগিয়ে এল।
__আরে বউ—
__বউ বলবি না!
__আচ্ছা... ম্যাডাম।
__এটাও না।
__তাহলে?
জিয়া কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল,
__জিয়া বলবি।
ইয়াশ মাথা নেড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
__নিজের বউকে নাম ধরে ডাকতে আমার কেমন যেন লাগে।
জিয়া বালিশটা শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল।
__সেটা আমার সমস্যা না।
ইয়াশ এবার বিছানায় উঠে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
তারপর দুষ্টু হেসে বলল,
__ঠিক আছে। তাহলে আজ একটা নতুন নাম রাখি।
জিয়া সন্দেহের চোখে তাকাল।
__কী নাম?
__মিসেস ঝগড়ুটে।
__ইয়াশ!
__আচ্ছা আচ্ছা...
__মিসেস রাগী?
__ইয়াশ!
__মিসেস পাগলি?
জিয়া এবার সত্যিই বালিশটা ছুড়ে মারল।নইয়াশ হেসে সেটা লুফে নিল।
__দেখলি? আবার প্রমাণ হয়ে গেল তুই রাগী।
জিয়া দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
__একদিন সত্যি সত্যিই তোকে খুন করে ফেলব।
ইয়াশ একটুও না ঘাবড়িয়ে উত্তর দিল,
__কোনো সমস্যা নেই। তোর হাতেই মরতে রাজি আছি।
কথাটা শুনে জিয়ার মুখের রাগ মুহূর্তেই একটু নরম হয়ে গেল। সে মুখ ঘুরিয়ে ফিসফিস করে বলল,
__আজব একটা মানুষ!
ইয়াশ আলতো হেসে তার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর খুব আস্তে বলল,
__আজব না... অনেক দিনের অপেক্ষা শেষ হয়েছে।
__মানে?
__জানিস, ছোটবেলা থেকে কতবার ভেবেছি—একদিন যদি তুই সত্যিই আমার পাশে এভাবে বসে থাকিস, তাহলে কী করব।
সে একটু হেসে আবার বলল,
__আজ সেই দিনটা এসেছে। তাই একটু বেশি খুশি হয়ে গেছি।
জিয়া চুপ করে তার কথা শুনছিল। অভিমান এখনও পুরোপুরি যায়নি, কিন্তু বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে।
তবুও মুখে ভাব নিয়ে বলল,
__ আমাকে ভয় দেখিয়ে খুশি হয়েছিস তাই তো? 
ইয়াশ দুষ্টু হেসে উত্তর দিল,
__না। শুধু আমার ওয়াইফকে একটু সারপ্রাইজ দিলাম। 
__আবার ওয়াইফ!
__আচ্ছা... শেষবার বললাম।
সে দু'হাত তুলে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করল।
__প্রমিস।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে খুব আস্তে বিড়বিড় করে বলল,
__আমার সুন্দর ওয়াইফ...
জিয়া সঙ্গে সঙ্গে পাশের আরেকটা বালিশ তুলে তার দিকে ছুড়ে মারল। ঘরজুড়ে আবারও তাদের খুনসুটি আর হাসির শব্দ ছড়িয়ে পড়ল।
---------
দৌড়াদৌড়ি শেষে হাঁপাতে হাঁপাতে জিয়া একটা বালিশটা বুকে জড়িয়ে বসে আছে। আর ইয়াশ তার দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে আছে। জিয়ার চোখে-মুখে স্পষ্ট সতর্কতার ছাপ। সে সন্দেহভরা দৃষ্টিতে ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বলল,
__শোন... তুই আবার কী ভাবছিস?
ইয়াশ ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে বলল,
__ভাবছি না...
একটু থেমে চোখ টিপে বলল,
__প্ল্যান করছি।
জিয়ার বুকটা ধক করে উঠল।
__কী প্ল্যান?
ইয়াশ ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এসে নিচু স্বরে বলল,
__পেইন্ডিং হিসাবটার কথা।
কথাটা শুনেই জিয়ার গলা শুকিয়ে গেল। সে ঢোক গিলে তাড়াতাড়ি দু'হাত নিজের বুকের ওপর আড়াআড়িভাবে রেখে বলল,
__দূরে সর!  
ইয়াশ মুচকি হেসে মাথা কাত করল।
__কেন? হঠাৎ করে কিস করার অধিকার কি শুধু তোরই আছে?
জিয়া এবার সত্যিই ভয় পেয়ে গেল। তার গলাটা কেঁপে উঠল।
__ইয়াশ... দেখ, ভালো হবে না কিন্তু!
ইয়াশ আর কোনো উত্তর দিল না। বরং ধীরে ধীরে আরও কাছে এগিয়ে এলো। জিয়া চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল।
মনে মনে ভাবল,
"এই বুঝি কিস করবে..."
কয়েক সেকেন্ড কেটে গেল। কোনো অনুভূতি নেই, কোনো স্পর্শ নেই, চারপাশ একদম নীরব। সে আস্তে আস্তে একটা চোখ খুলল, তারপর আরেকটা।
দেখল, ইয়াশ তার সামনে নেই। বরং বিছানার অন্য পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ফোন নিয়ে কী যেন করছে।
জিয়া অবাক হয়ে বলল,
__এই! কী করছিস?
ইয়াশ কোনো উত্তর দিল না। ফোনের স্ক্রিনে কয়েকটা ট্যাপ করেই হঠাৎ ক্যামেরাটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে মুচকি হেসে বলল,
__হ্যালো, গাইজ!
জিয়া প্রথমে কিছুই বুঝতে পারল না।
পরের মুহূর্তেই ফোনের স্ক্রিনে বড় বড় করে ভেসে উঠল—
🔴 LIVE
তার চোখ প্রায় কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো।
__ইয়া... ইয়াশ! তুই... তুই লাইভে আছিস?
ইয়াশ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলল,
__হ্যালো, এভরিওয়ান! আজকে আমি আর আমার ওয়াইফ আমাদের বাসর ঘর থেকে লাইভে এসেছি।
এক মুহূর্তের মধ্যেই ভিউয়ার বাড়তে শুরু করল। দশ হাজার... পঁচিশ হাজার... পঞ্চাশ হাজার...এক লাখ... সংখ্যাটা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। জিয়া পুরোপুরি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সে তাড়াহুড়ো করে মুখ দু'হাতে ঢেকে ফেলল।
__ইয়াশ! তুই পাগল হয়ে গেছিস?
কিন্তু ইয়াশ যেন কিছুই শুনছে না। সে হেসেই বলল,
__গাইজ! আপনারা তো সবাই আমার ওয়াইফকে চেনেন। কিম জিয়া। যার জন্য আপনারা অর্ধেক ছেলে রাত জেগে স্টোরি দেন, পোস্টে হার্ট রিঅ্যাক্ট দেন, আর ক্রাশ লিখে কমেন্ট করেন।নকিন্তু...
সে নাটকীয়ভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
__আমার সঙ্গে বিরাট ধোঁকা হয়েছে।
জিয়া চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
__ইয়াশ! এক্ষুনি লাইভ বন্ধ কর!
ইয়াশ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আবার বলল,
__আপনারা এতদিন ফিল্টার দেওয়া সুন্দর সুন্দর ছবি দেখেছেন। কিন্তু আমি? আমি তো রিয়েল ভার্সন পেয়েছি। চলুন... আজকে আপনাদেরও রিয়েল ভার্সন দেখাই।
কথাটা বলেই সে ক্যামেরাটা ঘুরিয়ে একদম জিয়ার মুখের সামনে নিয়ে এল।
কান্নায় নষ্ট হয়ে যাওয়া মেকআপ... এলোমেলো চুল... রাগে ফুলে থাকা মুখ... সবকিছুই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ইয়াশ মুখ গম্ভীর করে বলল,
__দেখেন গাইজ! বিয়ের আগে দেখাইছে পরী... আর বিয়ের পরে পাইছি... আমার ব্যক্তিগত ডাইনি!
দুই সেকেন্ড নীরবতা। তারপর...
__ইয়া... শ!
জিয়ার এমন বজ্রকণ্ঠে চিৎকারে পুরো রুম কেঁপে উঠল। সে ঝড়ের বেগে বিছানা থেকে নেমে ইয়াশের দিকে তেড়ে এল। ইয়াশও বুঝে গেল, এবার প্রাণ নিয়ে পালানোই একমাত্র উপায়। সে তাড়াতাড়ি লাইভ বন্ধ করে দরজার দিকে দৌড় দিল।
আর তার ঠিক পেছনেই— রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে, ভারী বিয়ের লেহেঙ্গা সামলাতে সামলাতে, হাতে বালিশ নিয়ে দৌড়াচ্ছে জিয়া। সারা বাড়ি তখনও অতিথিদের হাসি-আনন্দে মুখর। আর কিম পরিবারের নতুন বর-বউ... বাসর রাতেই শুরু করে দিয়েছে তাদের চিরচেনা ঝগড়া আর দুষ্টুমির নতুন অধ্যায়।ইয়াশ প্রাণপণে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে, আর তার ঠিক পেছনেই ভারী লেহেঙ্গা সামলাতে সামলাতে বালিশ হাতে দৌড়াচ্ছে জিয়া।
__ইয়াশ! আজকে তোকে আমি ছাড়ব না!
ইয়াশ হেসে বলল,
__আগে ধর, তারপর ছাড়বি!
দু'জনের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ড্রয়িংরুমে বসে থাকা সবাই অবাক হয়ে তাকাল। মিসেস হারিন কপালে হাত দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
__হায় আল্লাহ! বাসর রাতেও এদের ঝগড়া বন্ধ হলো না!
মি. নাভিদ শাহারিয়ার হেসে উঠলেন।
__ওদের থামানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। ছোটবেলা থেকে এভাবেই তো আছে।
মিসেস নাদিয়া মুচকি হেসে বললেন,
__ঝগড়া যত বেশি, ভালোবাসাও তত বেশি।
এদিকে ইয়াশ দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ থেমে গেল।জিয়াও গতি সামলাতে না পেরে সোজা গিয়ে তার বুকের সঙ্গে ধাক্কা খেল। ইয়াশ এক হাত দিয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরল, যেন সে পড়ে না যায়। দু'জনের চোখ একসঙ্গে এক হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্তের জন্য চারপাশটা যেন একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
ইয়াশ খুব আস্তে বলল,
__এভাবে সারাজীবন আমার সঙ্গেই ঝগড়া করবি তো?
জিয়ার চোখ ভিজে উঠল। সে আলতো করে ইয়াশের শার্ট মুঠো করে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল,
__শুধু একটা শর্তে...
__কী শর্ত?
__কখনো... কোনোদিন... আমাকে ছেড়ে যাবি না।
ইয়াশ মৃদু হেসে তার কপালে আলতো একটা চুমু এঁকে দিল।
__মৃত্যু ছাড়া কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
জিয়া চোখ বন্ধ করে ইয়াশের বুকে মাথা রেখে দিল।তারপর মৃদু হেসে বলল,
__সত্যিই আমি একটা বোকা ছিলাম। ভাবছিলাম, তোকে হারিয়ে ফেলেছি।
ইয়াশ তার মাথায় হাত বুলিয়ে উত্তর দিল,
__বুদ্ধু... তুই হারানোর আগেই আমি তোকে নিজের করে ফেলেছি। শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল।
দূরে কোথাও আতশবাজির আলোয় রাতের আকাশ রঙিন হয়ে উঠল। নতুন এক জীবনের শুরু হলো তাদের। হয়তো সামনেও ঝগড়া হবে, অভিমান হবে, মারামারি হবে, একজন আরেকজনকে জ্বালাবে, পরিবারে তাদের নিয়ে বিচারসভাও বসবে।
তবুও একটা জিনিস কোনোদিন বদলাবে না—তারা কখনো একে অপরের হাত ছেড়ে যাবে না।
ভালোবাসা সব সময় নীরব হয় না। কখনো কখনো ভালোবাসা প্রকাশ পায় ঝগড়ায়... রাগে... অভিমানে... আবার একটুখানি হাসিতে। সেই ছোট্ট ছোট্ট মুহূর্তে হয়তো তাদের ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা লুকিয়ে ছিল।
-----------
ইয়াশ: বুদ্ধু... তুই বুঝলি না কেন আমি শুধু তোকে ভালোবাসি?
জিয়া: সত্যিই আমি একটা বোকা। আই থট আই লস্ট ইউ...
ইয়াশ: নেভার! উইদআউট ডেথ, নো ওয়ান ক্যান সেপারেট আজ। 
দু'জনেই একসঙ্গে মুচকি হেসে আকাশের দিকে তাকাল। পূর্ণিমার চাঁদটা যেন আজ তাদের ভালোবাসার নীরব সাক্ষী হয়ে রইল।
------------------- সমাপ্তি -------------------
(আমার দ্বারা সফট রোমান্টিক গল্প খুব একটা হয় না। আমি সাধারণত থ্রিলার, ডার্ক বা ফ্যান্টাসি ধরনের গল্প লিখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবুও আপনারা এই গল্পটাকে এত ভালোবাসা দিয়েছেন, এতটা আপন করে নিয়েছেন—এর জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা। 🤍 অনেক অনেক ভালোবাসা রইল আমার সব বাটারফ্লাইদের জন্য। 🦋🤍)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে সমাপ্ত পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন