#আব্রাহাম_সিকান্দার_মির্জা
#কামরুল_ইসলাম_মাহিন
#পর্বঃ৪
[ ⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ🚫 ]
.
ইশতির হাত যখন সেই শক্তিশালী হাতটা সজোরে টেনে নিল, পরক্ষণেই সে নিজেকে আবিষ্কার করল এক বিশাল প্রশস্ত আর পাথরের মতো শক্ত বুকের ওপর। আতঙ্কে আর আকস্মিকতায় ইশতি তার চোখ-মুখ শক্ত করে বুজে ফেলল। তার বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা তখন বুনো পাখির মতো ডানা ঝাপটাচ্ছে। কিছুক্ষণ ওভাবেই চোখ বুজে স্তব্ধ হয়ে রইল সে। সে স্পষ্ট অনুভব করতে পারল, তার ঠিক ওপর থেকে কেউ একজন তপ্ত আর লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়ছে। সেই উত্তপ্ত নিঃশ্বাসের ঝাপটা ইশতির মুখের ওপর এসে আছড়ে পড়ছে বারবার। এক অদ্ভুত শীতল স্রোত বয়ে গেল তার শিরদাঁড়া দিয়ে। ইশতি এবার অত্যন্ত সন্তর্পণে আর ধীরলয়ে নিজের চোখের পাতা মেলে তাকাল। চোখ খুলতেই দেখল, কুচকুচে কালো শার্ট পরা এক দীর্ঘদেহী, সুঠাম দেহের মানুষ তার একেবারে সামনে দেয়ালের সাথে তাকে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা তার মুখের দিকে বেশ খানিকটা ঝুঁকে আছে, যেন তার প্রতিটি নিঃশ্বাসের স্পন্দন মেপে নিচ্ছে। লোকটার ঠোঁটের কোণে ঝুলে আছে এক রহস্যময় আর কুটিল বাঁকা হাসি।
ইশতি এক মুহূর্তের জন্য থতমত খেলেও পরক্ষণেই রাগে আর বিরক্তি নিজের কপাল কুঁচকে ফেলল। সে সরাসরি লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ গলায় জিজ্ঞেস করল, “হু দা হেল আর ইউ? আপনি আমাকে এভাবে চেপে ধরেছেন কোন সাহসে?”
আব্রাহাম নিশ্চুপ। তার মুখের সেই কুটিল হাসিটা যেন নিমিষেই কর্পূরের মতো উবে গেল। তার পাথরের মতো স্থির চোখ দুটো এখন গিয়ে আটকে আছে ইশতির কপালের ঠিক মাঝখানটায়। ওই জায়গাটা দেখেই আব্রাহামের ভেতরের পশুটা উন্মত্ত হয়ে উঠছে। ইচ্ছা করছে একটা ধারালো কুড়াল দিয়ে জায়গাটা কুপিয়ে একদম গুঁড়ো করে ফেলতে। কারণ, ঠিক ওইখানটাতেই কয়েক মুহূর্ত আগে ওই ছেলেটার ওষ্ঠাধর ছোঁয়া লেগেছে। কপাল থেকে আব্রাহামের নজর এবার ধীরে ধীরে নেমে এল ইশতির কাঁপতে থাকা ঠোঁটজোড়ার দিকে। রাগে ফুলে ওঠা ইশতির ঠোঁটজোড়া চেখে পড়তেই আব্রাহামের বিশাল দেহটা হালকা ঝাঁকি দিয়ে উঠল। কিছু অনুভব করলো সে, যা খুবই অবাধ্য অনুভুতি। যেন বাধ মনছে না। পরক্ষণেই চোখ বুজে একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের নিষিদ্ধ আর তপ্ত অনুভূতিকে দমিয়ে সে আবার তাকাল। তারপর নিজের শক্ত আর গমগমে করা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ছেলেটা কে?”
ইশতি ঘাবড়ে না গিয়ে বরং পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিল, “আপনাকে বলব কেন? আপনি কে?”
“আই এম ইয়োর এভরিথিং! ওসব পরে বলব, আগে বলো ছেলেটা কে?”
আব্রাহামের কণ্ঠে এখন ধৈর্যের শেষ সীমা। ইশতি দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “ওই ছেলেটা কে সেটা আমি আপনাকে বলতে যাব কোন দুঃখে? সরুন! আপনি আমাকে এভাবে আটকে রেখেছেন কেন?”
মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে আব্রাহামের ভেতরের সেই ভয়ঙ্কর সত্তা। ইশতির অবাধ্য কথাগুলো তার রাগ আর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে সবকিছু। নিজেকে কন্ট্রোল করা এখন তার জন্য প্রায় অসম্ভব। সে আচমকা ইশতির কানের পাশে দেওয়ালে একটা সজোরে থাবা মারল। হাড়কাঁপানো শব্দে ইশতি কেঁপে উঠল। আব্রাহাম দাঁতে দাঁত পিষে আরও কাছে মুখ নিয়ে এসে হিসহিসিয়ে বলল,
“ও তোমায় ওভাবে ছুঁল কোন সাহসে? কোন সাহসে ছুঁল ও?”
ইশতির এবার প্রচন্ড বিরক্তি লাগছে। সে কপাল কুঁচকে স্পষ্ট গলায় বলল, “সেটা আপনাকে বলব কেন? আর আপনি আমাকে ছাড়ছেন না কেন? কী হচ্ছে এসব? কে আপনি? আমি কিন্তু এবার চিৎকার করব!”
শুনে আব্রাহাম এক নাটকীয় বাঁকা হাসি হাসল। আর বলল, “চিৎকার করবে?”
“হ্যাঁ!”
“চিৎকার করো, তবুও বলো,ওই ছেলেটাকে এভাবে ছুঁতে দেওয়ার অনুমতি দিলে কেন?”
“আমার ইচ্ছে!”
কথাটা শোনামাত্রই আব্রাহামের রাগের পারদ চরমে পৌঁছাল। তার চোখ বারবার গিয়ে বিঁধছে ওই কপালটায়, যেখানে পুরোভ চুমু খেয়েছিল। সে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। চোখের পলকে সে ইশতির ঘাড়টা সজোরে চেপে ধরল। আকস্মিক এমন ঘটনায় ইশতি পুরোপুরি ঘাবড়ে গেছে, আতঙ্কে তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠল। সে ছটফট করে আব্রাহামের লোহার মতো শক্ত বাঁধন থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু আব্রাহামের চোখ এখন টকটকে লাল। ছয় ফিট লম্বা দীর্ঘদেহী আর পেশিবহুল এই মানুষটার সাথে ইশতির মতো পাঁচ ফুটের ছোট্ট শরীরের অধিকারিণীর শক্তিতে পাল্লা দেওয়াটা নিতান্তই হাস্যকর। সে কিছুতেই পেরে উঠল না। আব্রাহাম এক ঝটকায় তাকে টেনে নিয়ে গেল করিডোরের পাশের ওয়াশরুমের দিকে। ওয়াশরুমে এসে বেসিনের সামনে দাঁড়াল আব্রাহাম। ইশতি আয়নার প্রতিফলনে দেখতে পেল লোকটার চোখগুলো কী ভীষণভাবে টকটকে লাল হয়ে আছে। সেই রক্তাভ দৃষ্টি দেখে ইশতি এবার সত্যি ভয় পেল, তার ভেতরটা কেঁপে উঠল। আব্রাহাম সেখানে এসেই একটি রুমাল দিয়ে বেসিনের পানি যাওয়ার মুখটা শক্ত করে বন্ধ করে দিল। তারপর ট্যাপটা পূর্ণ বেগে ছেড়ে দিয়ে বেসিনে পানি ভরতে থাকল।
কী হচ্ছে বা লোকটা কী করতে চাইছে, তার কিছুই মাথায় ঢুকছে না ইশতির। সে দাঁতে দাঁত পিষে আপ্রাণ চেষ্টা করল ছাড়া পাওয়ার। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, “বজ্জাত লোক, ছাড়ুন আমায়! কোন সাহসে আমায় এভাবে ধরেছেন আপনি? আপনি জানেন আমি কে? কার মেয়ে আমি?”
আব্রাহাম থামল না। সে ইশতির কানের একদম কাছে নিজের মুখটা নামিয়ে আনল। ঠোঁটের কোণে সেই পৈশাচিক বাঁকা হাসিটা ঝুলিয়ে রেখে অত্যন্ত নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল, “রহমান খানের মেয়ে!”
মুহূর্তেই ইশতির নড়াচড়া থেমে গেল, আতঙ্কে তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠল। সে কিছুক্ষণের জন্য স্থির হয়ে আব্রাহামের মুখের দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল,
“আপনি... আপনি আমার পাপাকে চেনেন?”
“খুব ভালো করে!”
“কীভাবে?”
“সেটা পরে বুঝতে পারবে।”
আব্রাহামের কণ্ঠ এখন বরফের মতো শীতল। ততক্ষণে বেসিনটা কানায় কানায় পানিতে ভরে উঠেছে। পানির অবিরাম পতনের শব্দে ছোট ওয়াশরুমটা গমগম করছে। ইশতি আর সহ্য করতে না পেরে মরিয়া হয়ে চিৎকার করে উঠল,
“এসব হচ্ছেটা কী? কী করছেন আপনি? ছাড়ুন আমায়!”
সাথে সাথে আব্রাহাম ইশতির মাথাটা চেপে ধরল এবং কোনো সুযোগ না দিয়ে ওই বেসিনের পানির মধ্যে চুবিয়ে দিল। আকস্মিক এই হামলায় ইশতি প্রচণ্ডভাবে ছটফট করে উঠল। তার হাত-পা ছোটাছুটি করতে লাগল বাতাসের খোঁজে, কিন্তু আব্রাহাম পাষাণের মতো দাঁতে দাঁত চেপে তাকে সেভাবেই চুবিয়ে রাখল কিছুক্ষণ। বেশ কিছুক্ষণ পার হওয়ার পর সে তাকে টেনে তুলল। ইশতি তখন বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে, তার বুকটা ক্রমশ ওঠানামা করছে। সে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই আব্রাহাম নির্দয়ভাবে আবারও তাকে পানির নিচে চুবিয়ে ধরল। ইশতি আপ্রাণ হাত-পা ছুঁড়েও আব্রাহামের সেই দানবীয় শক্তির সাথে পেরে উঠল না। কিছুক্ষণ পর আবারও তাকে টেনে তুলল আব্রাহাম। এবার ইশতিকে পেছন থেকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে জাপটে ধরল সে। তারপর তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“তোমার ওই কপালে ওই ছেলেটার ছোঁয়া পড়ল কেন? তোমার মুখ ভালো করে ছাফ করতে হবে! তুমি নিজে ওকে পারমিশন দিয়েছো, এত বড় সাহস তোমার? এখন শাস্তি ভোগ করো, ‘মাই বাটারফ্লাই’!”
ইশতি কিছু বলতে গিয়েও পারল না, আব্রাহাম আবারও তাকে চুবিয়ে ধরল। এবারের সময়টা ছিল আরও দীর্ঘ, ইশতির মনে হচ্ছিল তার প্রাণটা বুঝি এবার বেরিয়ে যাবে। শরীর একদম নিস্তেজ হয়ে আসার উপক্রম হলে আব্রাহাম তাকে টেনে তুলল এবং পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ইশতি তখন ঊর্ধ্বমুখী হয়ে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। এখনো সে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছে, কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে তেজ দেখিয়ে বলল,
“এত বড় সাহস, আমাকে চুবান আপনি? বজ্জাত! আপনি প্রাণে বাঁচবেন না। আই প্রমিজ, আমার আব্বু আর আমার ভাই আপনাকে প্রানে মেরে ফেলবে!”
আব্রাহাম নিজের মাথাটা ইশতির ঘাড়ের ভাঁজে গুঁজল। ইশতি লম্বায় তার তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় তাকে বেশ ঝুঁকতে হলো। পেছন থেকে ঘাড়ের ওপর তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে সে ফিসফিস করে বলল,
“ট্রাই করে দেখতে পারো বাটারফ্লাই। কেউ যদি আমার কিছু করতে পারে, তাকে আমি বড়সড় একটা সালাম দেব।”
“লিভ মি!”
“উহু!”
“আমি ভাবতে পারছি না আপনার এত বড় কলিজা হলো কীভাবে! আমি চিনি না, জানি না, আপনি আমাকে পানিতে চুবালেন। হু দা ফাক ইউ আর?”
আব্রাহাম এবার একটু থামল। ইশতির ঘাড় থেকে মুখ না সরিয়েই সে শান্ত গলায় বলল, “ভুল বললে তুমি। চেনো আমায়। আজ আমাদের প্রথম দেখা নয়!”
ইশতি হকচকিয়ে গেল। “মানে?”
“রাতে দেখা হয়েছিল, মনে নেই?”
“কখন? কোথায়?”
আব্রাহাম ব্যঙ্গ করে বলে উঠল, “চু চু চু... মনে নেই তোমার? ছিঃ! যেই মুহূর্ত দিয়ে তুমি আমার সকল লক্ষ্যভ্রষ্ট করা শুরু করেছো, সেই মুহূর্তটাই তোমার মনে নেই? ছ্যাহ্!”
ইশতি এবার সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল। আব্রাহামের রক্তাভ চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে রাগে গমগম করতে করতে বলল, “কী করেছি আমি? আর কোথায় দেখা হয়েছে আমাদের?”
আব্রাহাম এবার ইশতির বাঁ হাতটা সজোরে উঁচু করে ধরল। ইশতির ঘড়ির সাথে প্যাঁচিয়ে আছে একটা সূক্ষ্ম সোনালী রঙের চেইন টাইপ ব্রেসলেট। সেটা দেখিয়ে আব্রাহাম ভ্রু নাচিয়ে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল,
“Whose is this?”
ইশতি ভ্রু কুঁচকে সেদিকে তাকাল। সে চিনতে পারছে না এই জিনিসটা, আর তার হাতে এল কীভাবে। তাকে নিরুত্তর দেখে আব্রাহাম আবার বলল,
“কাল রাতে আর্তনাদ করে আমার এই বুকের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে, মনে নেই? চিৎকার করে বলেছিলে আমায় বাঁচান, ওদের হাত থেকে আমায় বাঁচান! উফ, সে কী অধিকার! সে কী মায়াময় আর্তনাথ মনে হলো আমার বউটা বুকের সাথে মিশে আমায় বলছে, আমায় ওদের হাত থেকে বাঁচাও! আমায় বিভ্রান্ত করতে এতটুকুই কি যথেষ্ঠছিলো না?”
ইশতির প্রচণ্ড বিরক্তি লাগছে লোকটার কথা শুনে। সে মনে করার চেষ্টা করল কাল রাতের ঘটনা। বেশি কষ্ট করতে হলো না, কিছুক্ষণ চিন্তা করতেই সব ধীরে ধীরে ঝাপসা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠল। তবে যা মনে পড়ছে, তা কেবল তার অজ্ঞান হওয়ার আগে পর্যন্ত। তার মানে বাবা তাকে মিথ্যে বলেছে যে তারা তাকে খুঁজে পেয়েছে! সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল আব্রাহামের দিকে। অস্ফুট স্বরে বলল,
“আপনি ছিলেন ওটা?”
“ইয়েস, মাই বাটারফ্লাই!”
আব্রাহামের গলায় অধিকারবোধ। ইশতি কিছু বলতে পারল না। মনের কোণে ক্ষণিকের জন্য কৃতজ্ঞতা জাগলেও পরক্ষণেই তার মনে পড়ে গেল গত কয়েক মিনিটের লাঞ্ছনার কথা। আবারও রাগে ফেটে পড়ল সে। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
“ওসব ঠিক আছে। তবে আজকে এসব কী ছিল? আমাকে আপনি পানিতে চুবালেন কোন সাহসে?”
“তুমি অন্য কারো বুকে মিশে ছিলে কোন সাহসে, সেটা বলো আগে?”
আব্রাহামের চোখ আবার আগুনের মতো জ্বলে উঠল। ইশতি তেজ দেখিয়ে বলল, “ওটা বলার প্রয়োজন বোধ করছি না আপনাকে!”
“বলতে হবে!”
“আমি বাধ্য না!”
সাথে সাথে আব্রাহাম দাঁতে দাঁত চেপে পাশের দেয়ালের সাথে ইশতিকে সজোরে চেপে ধরল। ইশতি লম্বায় অনেক ছোট, তাই আব্রাহাম বেশ খানিকটা ঝুঁকে তার মুখের খুব কাছে মুখ নিয়ে এল। তারপর হিসহিসিয়ে বলল,
“তুমি বাধ্য! আমি যা বলব তা শুনতে তুমি বাধ্য!”
“কোন অধিকারে শাসাচ্ছেন আপনি আমায়? অধিকার নেই আপনার আমার ওপর। হু আর ইউ?”
“বললাম না, আই এম ইয়োর এভরিথিং! বাধ্য তুমি। এখন বিরক্ত লাগছে কেন? ওই রাতে আমার বুকে আছড়ে পড়ে আমার সবকিছু ওলটপালট করে দেওয়ার সময় মনে ছিল না? কীভাবে করলে তুমি বলতো? তুমি জানো আমি কে? আমার দুনিয়া ওলটপালট করার ক্ষমতা কারো নেই, জিবনে এমন বিভ্রান্ত একবার হয়েছিলাম। তবে তা অতীত৷ আর কেউ পারেনি। ভেবেছিলাম আর কেউ পারবেও না! তুমি কীভাবে পারলে? কী করে করলে?”
ইশতি কিছুই বুঝতে পারল না। লোকটার কথাগুলো তার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তার শুধু বিরক্ত লাগছে, বারবার মনে পড়ছে তাকে এই মাত্র পানিতে চুবিয়েছে এই লোকটা। সে সর্বশক্তি দিয়ে আব্রাহামের প্রশস্ত বুকে একটা ধাক্কা মারল। কিন্তু খুব একটা কাজ হলো না, তাকে সরাতে পারল না। এতটুকু শরীর নিয়ে এই পাহাড়ের মতো মানুষকে নড়ানো অসম্ভব। সে দাঁত চেপে বলল,
“আমার সামনে থেকে সরুন! আপনার এই পাগলের মতো কথাগুলো আমার সহ্য হচ্ছে না।”
“উত্তর দেবে না?”
“আরে আপনি কে হ্যাঁ? আপনাকে আমি উত্তর দেব কেন? সামনে থেকে সরুন!”
এটা বলে সর্বশক্তি দিয়ে একটা ধাক্কা মারল আব্রাহামকে। কিছুটা কাজ হলো এবার। ইশতির সর্বশক্তির সেই ধাক্কায় আব্রাহাম এবার কিছুটা পিছিয়ে গেল। বড় বড় পা ফেলে ইশতি যখন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই হাতের সেই সোনালী চেইন ব্রেসলেটটা সজোরে আব্রাহামের দিকে ছুড়ে মেরে দিয়ে গেল সে। আব্রাহাম সরলো না, ব্রেসলেটটা তার বুকে লেগে নিচে মেঝেতে পড়ে গেল। সে আলতো করে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। তার ঠোঁটের কোণে এখন এক পৈশাচিক আর মুগ্ধতার মিশেলে তৈরি বাঁকা হাসি। এই কলেজে সে মোটা অংকের ডোনেট করা শুরু করেছে আজ থেকেই, আর সেই সূত্র ধরেই তার এখানে আসা। তবে এই ডোনেশনের পেছনের একমাত্র কারণ কোনো সমাজসেবা নয়। সেটা শুধুই মেহজাবিন ইশতি।
সে দু-হাত বুকের ওপর ভাঁজ করে আয়েশী ভঙ্গিতে দাঁড়াল। ইশতির চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে আপনমনেই বিড়বিড় করে বলে উঠল,
“উফফ মাই বাটারফ্লাই! তুমি একদম সেইরকম যেমনটা আমি চাই। ন্যাকামি বিহীন তেজি। ঠিক যেন ঝাল মরিচের মতো! ইউ আর সো পারফেক্ট। ভেরি সুন আই উইল মেক ইউ মাইন! ভেরি সুন!”
#চলবে.........