ফন্ট সাইজ:
থিম:
আব্রাহাম সিকান্দার মির্জা

৫ম পর্ব

লেখক: কামরুল ইসলাম মাহিন

#আব্রাহাম_সিকান্দার_মির্জা 

#কামরুল_ইসলাম_মাহিন 
#পর্বঃ৫
[ ⛔কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ🚫 ]
.
ইশতি বাড়ি এসে কিছু লুকানোর চেষ্টা করেনি। বাবার প্রিন্সেস সোজাসুজি বাবা রহমান খানের সামনে গিয়ে শুরু করেছে অভিযোগ দেওয়া। আজ একটা লোক কলেজে তাকে বেসিনে চুবিয়েছে। এগুলো সব কিছু অভিমানের সাথে খুলে বলেছে তার বাবাকে। সব বর্ননা শোনার পর রহমান খান স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন যে সেটা কে ছিল। তাদেরই মাফিয়া জর্জ আব্রাহাম সিকান্দার মির্জা। রহমান খান পুরোপুরি বুঝে গেলেন তাদের জর্জ এখন পুরোপুরিভাবে পিছনে পড়ে গেছে ইশতির। ​এসব শোনার পরে যেকোনো বাবার রক্ত মাথায় উঠে যাওয়ার কথা। কিন্তু তেমন কিছু তো হচ্ছে না। রহমান খান বুঝিয়ে সুজিয়ে নিজের মেয়েকে রুমে পাঠিয়ে দিলেন। তার মুখে কেমন যেন একটা দ্রুত বাঁকা হাসি। এই হাসির মানে কী?
​সে নিজের রুমে গিয়ে কেমন যেন তৃপ্তির হাসি হাসছেন। তার হাসি বলে দিচ্ছে যে যা সে চাইছিলেন, তা ক্রমে ক্রমে সেই দিকে আগাচ্ছে তার ইচ্ছামতো। ফোনটা হাতে নিয়ে কাউকে ফোন করলেন তিনি। কল রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে গলা ভেসে গেল,
​“কেমন আছো পাপা?”
“এইতো খুব ভালো। তুমি কেমন আছো?”
​“আই এম ফাইন পাপা!”
​কলের ওপাশে আর কেউ নয়, আছে রহমান খানের একমাত্র বড় ছেলে আরিয়ান খান। বর্তমানে লন্ডনে রয়েছে সে। মাফিয়া ওয়ার্ল্ডের আরও একজন দুর্দান্ত নেতা এবং রহমান খানের ডান হাত বলা চলে তাকে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতৃত্বের সকল কিছু লন্ডনে বসে হ্যান্ডেল করে এই আরিয়ান। তবে বাবা-ছেলে দুজনেরই কমন একটা ব্যাপার আছে, দুজনেই নিজেদের চরম চক্ষুশত্রু মনে করে তাদের মাফিয়া ওয়ার্ল্ডের জর্জ আব্রাহাম সিকান্দার মির্জাকে।
​রহমান খান অত্যন্ত হালকা আর ধূর্ত হাসির সাথে বললেন, ​“বেটা, পরিস্থিতি আমাদের মন মতো করে আগাচ্ছে আমার মনে হয়।”
​“সেটা কেমন?” 
​“আমাদের জর্জ আসক্তিতে পড়ছেন! মিটিংয়ে বসে সরাসরি আমার কাছে মেহজাবিনকে চেয়েছে! আবার আজ কলেজেও নাকি অত্যন্ত পজেসিভনেস দেখিয়েছে।”
​সবকিছু রহমান খান আরিয়ান কে বলল না। রহমান খান জানে আরিয়ানকে যদি সম্পূর্ণ কথা বলে যে আব্রাহাম ওকে পানিতে চুবিয়েছে তাহলে আরিয়ান অত্যন্ত পরিমাণে রেগে যাবে। আরিয়ান অত্যন্ত ভালোবাসে নিজের ছোট বোনকে এসব শুনে উল্টোপাল্টা কিছু করে বসবে যে এটা রহমান খান এখন চাইছেন না। তার মাথায় অন্য কিছু চলছে যেটা আরিয়ানকে সে বলবে না। বাবা হয়েও কেন এমন করছেন রহমান খান সেটা একমাত্র সে নিজেই জানেন হয়তো। শুধু বললেন পজেসিভনেস দেখিয়েছে। আরিয়ান কে যতটুকুই বলেছে রহমান খান ততটুকু শুনে ওপাশে দাঁড়িয়ে এক রহস্যময় বাঁকা হাসল আরিয়ান খান। কিছুটা তৃপ্তি মাখা স্বরে বলল,
​“ওয়াও, গুড নিউজ পাপা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের গন্তব্য বেশি দূরে নয়।”
​“ইয়া বেটা। আর তুমি ফিরছ কবে? তোমার খুব দরকার আমার এখানে!”
​“এইতো পাপা, কাল নয়তো পরশু। সবকিছু রেডি করে ফেলেছি আমি।”
​আরও কিছু জরুরি কথা বলে ফোনটা কেটে দিলেন রহমান খান। তার মুখে সেই ধূর্ত হাসিটা এখনো লেপ্টে আছে। ইশতিকে পুরোপুরি প্রিন্সেস এর মত আদর আর যত্নে বড় করেছেন সে, অথচ সেই মেয়ের সাথে আজ কলেজের ওয়াশরুমে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, তাতে কোনো ভ্রূক্ষেপই দেখা যাচ্ছে না রহমান খানের। আবার অন্য দিকে, আরিয়ান খানের নয়নের মণি হলো তার ছোট বোন মেহজাবিন ইশতি। বোনের সামান্য কষ্টে যে ছেলের আকাশ মাথায় ভেঙে পড়ে, তাকেও রহমান খান সম্পন্ন টা খুলে বললেন না। 
​তবে কি ইশতিকে আর আরিয়ানকে ঘুঁটি বানিয়ে আড়ালে কোনো বড়সড় ষড়যন্ত্রের সূচনা হচ্ছে?
______________________
আব্রাহাম নিজের ঘরে ইজি চেয়ারটায় আরাম করে বসে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে। চেয়ারটা মৃদু ছন্দে দুলছে। তার এক হাতে সিগারেট জ্বলছে, ধোঁয়াগুলো কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘরের বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে, আর সে মাঝে মাঝে একটা একটা করে টান দিচ্ছে। আব্রাহাম সম্পূর্ণ খালি গায়ে। গায়ের শক্ত পেশিগুলো স্পষ্টভাবে জেগে আছে, পেটের সিক্স প্যাক অ্যাবসে জমে আছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। হাতের বাহুগুলো সুঠাম এবং রাগে ও উত্তেজনায় হাতের রগগুলো স্পষ্ট জেগে উঠেছে। দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে সে গভীর কিছু ভাবছে সে।
​অবশ্য তার ভাবনার মাঝে ইদানীং কেবল ওই একটি মানুষই ঘুরেফিরে আসছে। সে হলো মেহজাবিন ইশতি। মেয়েটা বেশ কড়াভাবে জাদু করেছে মাফিয়া ওয়ার্ল্ডের এই জর্জের ওপর। কিছুতেই তাকে মস্তিষ্ক থেকে বের করা যাচ্ছে না। এই অনুভূতিটা আব্রাহামের কাছে বেশ বিরক্তিকর লাগছে। কেন? এমন হয় কেন? কী আছে ওই মেয়ের মধ্যে? কেন ওই মেয়েটাকে এমনভাবে দেখতে ইচ্ছে করে বারবার? কেন তার সহ্য হচ্ছে না এই দূরত্ব? ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে এখনই তুলে নিয়ে এসে নিজের কাছে বন্দি করে রাখতে! এই অদ্ভুত অনুভূতিটা খুবই অসহ্যকর ঠেকছে তার কাছে। ​সে তো কোনোদিনই এমন ছিল না। অতীতের এক ঘটনার পর থেকে সে তো মন থেকে মেনেই নিয়েছিল যে, এসব ভালোবাসা-টালোবাসা তার দ্বারা আর হবে না। কিন্তু শুধু এই একটা মেয়ে এসে তার সব উলটপালট করে দিল। তার সব নীতি, তার সব প্ল্যান, সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। আব্রাহামের মাথায় এখন আঠার মতো ঘুরে মরছে শুধু একটাই নাম মেহজাবিন। কেন যেন মনে হচ্ছে, ওকে চাই! ওকেই চাই, ওকেই লাগবে!
​এমন সময় ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলেন তার দাদু ফুলজান বেগম। বয়সের ছাপ স্পষ্ট এই প্রবীণ মহিলার মুখে-চোখে। তিনি ধীরপায়ে এসে দাঁড়ালেন আব্রাহামের পাশে। আব্রাহাম তার দিকে না তাকিয়েই টের পেয়েছে যে দাদু এসেছে। সে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে, হালকা কণ্ঠে না তাকিয়েই বলল,
​“কিছু বলবে দাদু?”
​ফুলজান বেগম হালকা করে বললেন, ​“সোনালিকার একটা ছবিও কেন সাথে আনিস নি?”
​সাথে সাথে সিগারেট টানা থেমে গেল আব্রাহামের। আর খেতে ইচ্ছে করছে না ওটা। হাতের জ্বলন্ত সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে ফেলে দিল সে। আবারও ইজি চেয়ারটায় হেলান দিয়ে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
​“ওর চেহারা বারবার দেখলে আমার সব ওলটপালট হয়ে যায়!”
​“কিন্তু নিজের কাছে তো একটা সবসময় রাখিস, তার বেলায়?”
​“লুকিয়ে রাখি, কখনো বের করে দেখি না!”
​“কিন্তু রাখিস তো ঠিকই!”
​আব্রাহাম আবারও এক তপ্ত দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়ল, কোনো উত্তর দিল না। ফুলজান বেগম একটি চেয়ার টেনে তার পাশে বসলেন। তারপর নিজের দিকে মুখ ঘুরালেন আব্রাহামের। অত্যন্ত নরম গলায় বললেন,
​“আমারও তো দেখতে ইচ্ছে করে সোনালিকাকে। একটা ছবিও নেই মেয়েটার আমার কাছে। একটা ছবি এনে দে না!”
​“উহু!”
​“কেন?”
​“তোমার কাছে থাকলে আমার বারবার তোমার কাছে গিয়ে ওকে দেখতে ইচ্ছে করবে।”
​“আর তোর মানিব্যাগে যে ছোট্ট একটা ছবি সবসময় থাকে সেটা?”
​“ওটা উল্টে রাখা, লুকানো! সহযে হাত দিই না। শুধু আমার জেদ আর প্রতিশোধের বাসনা জাগিয়ে রাখার জন্য রাখি।”
​“নিজে থেকে ওটাকে ভাঁজ খুলে দেখিস না?”
​“সহযে না। ওর মৃত্যুর প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত ওর মুখ বারবার দেখে আবারও পাগল হতে চাই না! অনেক কষ্টে নিজেকে সামলেছি দাদু, আর বেসামাল হতে চাই না!”
​এতক্ষণের সেই কঠোর, পাথরের মতো শক্ত আব্রাহামের মুখটায় এবার কেমন যেন এক তীব্র অসহায়ত্ব ফুটে উঠতে শুরু করেছে। তার কণ্ঠে এখন এক অদ্ভুত নরম ভাব। ফুলজান বেগম পরম স্নেহে তার হাতটা রাখলেন নাতির গালে। আদুরে ভঙ্গিতে বললেন,
​“ঠিক আছে, তোর দেখতে হবে না। কিন্তু আমার একটা অনুরোধ, আমাকে একটা ছবি এনে দে মেয়েটার। বড় দেখতে ইচ্ছে করে ওকে।”
​আব্রাহাম কিছু একটা ভেবে চোখ বুজে বুক চেরা এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। তারপর বলল, ​“আচ্ছা, এনে দেবো!”
ফুলজান বেগম এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং পরম মমতায় নাতির কপালে একটি চুমু খেলেন। আব্রাহাম সেই সুযোগে দু-হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তার দাদুজানকে। বুক চেরা এক দীর্ঘশ্বাসের সাথে যেন কিছুটা শান্তির খোঁজ পেল সে। ফুলজান বেগমও স্নেহের হাসি হাসলেন। কিছুটা সময় ওভাবেই নীরবে পার হওয়ার পর, ফুলজান বেগম আব্রাহামের চুলে হাত বোলাতে বোলাতে বলে উঠলেন,
​“তুই যা যা করছিস এসব বাদ দিয়ে কেন দিস না? তোর বাবার সাথে বিজনেসে মন দে।”
​“বাদ দিতে পারব না দাদু। বাবার বিজনেসে সাহায্য ঠিকই করব, কিন্তু আমার জগত থেকে সরে যাওয়া অসম্ভব।”
​“আর সোনালিকার মৃত্যুর প্রতিশোধ?”
​“ওটা আমি নিয়েই ছাড়ব!”
​এবার আব্রাহামের গলা আরও শক্ত, আরও গম্ভীর হয়ে এল। সে দাদুজানের বাঁধন হালকা করে সোজা হয়ে বসল। তার চোখ দুটোতে আবার সেই চেনা হিংস্রতা ঠিকরে বেরোচ্ছে। সে দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
​“ছাড়ব না ওদের। এক একটাকে নিজের হাতে শেষ করব! ওদের রক্তে হাত গোসল না করা পর্যন্ত আমার মনে শান্তি নেই! আমার প্রতিশোধ চাই মানে চাই। ওরা সোনালিকাকে কেড়ে নিয়েছে আমার থেকে, আমি ওদের সবকিছু কেড়ে নেব। সোনালিকা বাঁচেনি, ওরাও কেউ বাঁচবে না। ঠিক যতটা যন্ত্রণা দিয়ে সোনালিকাকে ওরা মেরেছে, তার ১০০ গুণ বেশি যন্ত্রণা দিয়ে আমি ওদের মারব। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি!”
​কথাগুলো বলতে বলতে আব্রাহাম আবার উত্তেজিত হয়ে উঠছিল, তার গায়ের রগগুলো ক্ষোভে কাঁপছিল। নাতির এই উন্মাদনা দেখে ফুলজান বেগম আর কথা না বাড়িয়ে তাকে আবারও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। তার পিঠে হাত বুলিয়ে হালকা করে সান্ত্বনার সুরে বললেন,
​“আচ্ছা, এখন শান্ত হ। তুই যা করবি করিস। কিন্তু সাবধানে, তোর যাতে আগের মতো সেই সমস্যাটা না হয়। অনেক কষ্টে নিয়ন্ত্রণ করে এনেছিস নিজের মস্তিষ্ককে।”
আব্রাহাম চোখ বুজে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। বুক ভরে কয়েকটা লম্বা লম্বা শ্বাস নিল সে। কিছুটা সময় যেতেই সে স্বাভাবিক ও শান্ত হলে ফুলজান বেগম অত্যন্ত নরম গলায় বললেন,
​“একটা কথা জিজ্ঞাসা করি?”
​“হুমম!”
​“সারাজীবন কি একাই থাকবি?”
​“প্ল্যান সেটাই ছিল, তবে......!”
​“তবে?”
​“তবে সব ওলটপালট হয়ে গেছে দাদু। কেউ একজন আমার সবকিছু ওলটপালট করে দিচ্ছে!”
​ফুলজান বেগম সাথে সাথে তাকে ছেড়ে দিয়ে ঠিক সামনের চেয়ারটায় বসলেন। তার চোখে-মুখে তখন একাধারে আশ্চর্য আর এক্সাইটেড হওয়ার গভীর অনুভূতি। এতদিন আব্রাহামকে যতবারই নতুন জীবন শুরু করার কথা বলা হয়েছে, সে রেগে ফেটে পড়েছে, তার ভেতরের সেই ভয়ঙ্কর সাইকো সত্তা বেরিয়ে এসেছে। তবে আজ যেন পুরোই ব্যতিক্রম! বুদ্ধিমতী নারী তিনি, পরিস্থিতি বুঝতে তার একটুও সময় লাগল না। তিনি স্পষ্ট বুঝে গেছেন, তার নাতির জীবনে কেউ একজন এসেছে। আর সে শুধু আসেইনি, রীতিমতো তুলকালাম ঘটিয়ে ফেলেছে। আব্রাহাম সিকান্দার মির্জার মতো মানুষের সবকিছু ওলটপালট করে দিচ্ছে, তার মানে বেশ গম্ভীর বিষয়।
​মনে মনে দারুণ এক্সাইটেড হয়ে ফুলজান বেগম নিজের চেয়ারটা আব্রাহামের আরও কাছে টেনে বসলেন। নাতির দুটো হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
​“কে সে?”
​“মেহজাবিন ইশতি।”
​“রহমানের মেয়ে?”
​“হুমমম...!”
​শুনে এবার কিছুটা চিন্তিত হলেন ফুলজান বেগম। রহমান খানের সাথে তাদের সম্পর্ক কেমন, সেটা তো কারো অজানা নয়। তিনি হালকা কপালে ভাঁজ ফেলে বললেন,
​“সহজ হবে না তো কিছুই!”
​আব্রাহাম ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল, “আরে দাদু, সহজ হবে না তোমাদের এই সাধারণ জগতে, কিন্তু আমার জগতে আমার কাছে কঠিন কিছুই নেই। আমি চাইলে আজকেই আমার জিনিস আমার কাছে তুলে আনতে পারি।”
​ফুলজান বেগম হালকা হেসে ফেললেন। নাতির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ​“শোন! অনুভূতি আর উপলব্ধি যদি সত্যি হয়, তবে জোর-জুলুমের দিকে যাবি না কিন্তু! ভালোবাসার সাথে নিজের করিস তাকে।”
​“উহু! সেই ভালোবাসা মেনে নিয়ে সহজে চলে আসার মেয়ে সে নয়, তা আজ ভালো করেই বুঝে গেছি আমি। পাক্কা ঝাল মরিচ!”
​হেসে ফেললেন ফুলজান বেগম। কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন কেন?”
​“কথায় চরম তেজ। কাউকে কোনো ছাড়াছাড়ি নেই। আর ওই তেজি পার্সোনালিটি... পুরাই একটা মরিচ! ফুল অফ মাই টাইপ!”
​নাতির মুখে এমন মুগ্ধতার কথা শুনে এবার শব্দ করেই হেসে উঠলেন ফুলজান বেগম। তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। পরম স্নেহে আব্রাহামের দুই গালে হাত রেখে, কপালে আর একটা চুমু খেয়ে আদর করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
​দাদু চলে যেতেই আব্রাহামের মুখে কেমন যেন এক পৈশাচিক আর মুগ্ধতার মিশেলে তৈরি বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। মাফিয়া জগতে তার অনেক বড় বড় লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে সবথেকে বড় লক্ষ্য হলো তার সোনালিকার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া। আর কে-ই বা এই সোনালিকা?তবে এই সব হিংস্র লক্ষ্যের মাঝে এখন আরও একটি নতুন লক্ষ্য তার স্থির হয়েছে। আর সেই লক্ষ্য আর কেউ নয়.....মেহজাবিন ইশতি!
________________
সময়টা এখন ঠিক সন্ধে হবে হবে ভাব। মানে সন্ধের কিছুটা আগের সময়। এখনো আকাশে ভালোই আলো রয়ে গেছে, সূর্যটা ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে পশ্চিম দিগন্তে। চারপাশের পরিবেশটা বেশ চমৎকার আর স্নিগ্ধ। ইশতি নিজের মনটাকে একটু হালকা করতে হাতে একটা চমৎকার দূরবীন নিয়ে ছাদে এসেছে। এমন মনোরম সময়ে তার একটা দারুণ ইচ্ছে হলো দূরবীন দিয়ে আশেপাশের সবকিছু একটু খুঁটিয়ে দেখার। খালি চোখে তো আর বেশি দূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায় না!
​সে ছাদে দাঁড়িয়ে একমনে দেখতে শুরু করল চারপাশের চেনা-অচেনা দৃশ্যগুলো। দূরবীন ঘোরাতে ঘোরাতে একসময় তার দৃষ্টি এসে ঠেকল তাদের বাড়ির সামনের রাস্তার ঠিক উল্টোপাশের দিকটায়। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি বিশাল, রাজকীয় দালান.......‘মির্জা হাউস’। ওই বাড়িটা তাদের এই খান বাড়ির চেয়ে উচ্চতায় এক ফ্লোর বেশি। অর্থাৎ, ইশতিদের ছাদে দাঁড়ালে মির্জা হাউসের শেষ তলাটা একদম সোজাসুজি চোখে পড়ে। ব্যাপারটা খেয়াল করতেই ইশতির মনে চরম বিরক্তি লাগল। কেন ওই বাড়িটা তাদের বাড়ির চেয়ে এক ফ্লোর বড় হবে? তাদের বাড়িটা কেন আরও দুই ফ্লোর বড় হলো না?
​এটা ভেবে নিজের মনেই কিছুটা ঠোঁট উল্টে অসন্তোষ প্রকাশ করল সে। বিরক্তিটা ঝেড়ে ফেলে আবারও দূরবীনটা চোখে লাগিয়ে আশেপাশে দেখতে লাগল। দেখতে দেখতেই আচমকা তার দূরবীনের দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল তাদের ছাদের ঠিক সোজাসুজি মির্জা বাড়ির সেই শেষ তলার ব্যালকনিটায়।
​ওখানে একটা আবছা অবয়ব দেখা যাচ্ছে। দূরবীনটা একটু অ্যাডজাস্ট করতেই ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে একদম পরিষ্কার বোঝা গেল। কয়েক সেকেন্ড ভালো করে দেখেই ইশতির টনক নড়ল। সাথে সাথে তার দুই ভ্রু কুঁচকে একদম এক হয়ে গেল, বুকের ভেতরটা অজানা এক ধাক্কায় কেঁপে উঠল। সে দূরবীনটা চোখের সাথে আরও শক্ত করে চেপে ধরে আনমনে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল,
​“এটা তো সেই বজ্জাত লোকটা!”
#চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন