ফন্ট সাইজ:
থিম:
আব্রাহাম সিকান্দার মির্জা

১৪তম পর্ব

লেখক: কামরুল ইসলাম মাহিন

#আব্রাহাম_সিকান্দার_মির্জা

#কামরুল_ইসলাম_মাহিন
#পর্বঃ১৪ (মিষ্টিময় মূহুর্ত স্পেশাল পর্ব)
​
শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে গাড়িটা এসে থামল একটা বিরাট ব্রিজের গোড়ায়। সামনেই প্রকাণ্ড নদী, রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে যার বুক চিরে সোঁ সোঁ শব্দে বয়ে চলেছে বিশাল পানির স্রোত। ব্রিজে ওঠার ঠিক আগের মোড়টা দিয়ে নদীর পাড়ে নামার একটা ঢালু রাস্তা চলে গেছে, আব্রাহাম গাড়িটা ঘুরিয়ে ঠিক সেই নির্জন রাস্তার একপাশে এনে ব্রেক কষল। ​গাড়ি থামতেই ইশতি বড় বড় চোখ করে আব্রাহামের দিকে তাকাল। কিছুটা বিরক্ত আর বেশ খানিকটা নার্ভাস গলায় জিজ্ঞাসা করল, “এখানে কেন নিয়ে এলেন এত রাতে? কত বাজে খেয়াল আছে আপনার?”
​আব্রাহাম স্টিয়ারিং থেকে হাত সরিয়ে ইশতির দিকে ঘুরল। আবছা আলোয় তার ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বাঁকা অথচ নেশালো হাসিটা ফুটে উঠল। সে সিটে একটু হেলে বসে নিচু কণ্ঠে বলল, “তখন যে বললাম, কানে পৌঁছায়নি কিউটি? তোমায় নিয়ে প্রেম করতে এসেছি।”
​ইশতি মুখটা শক্ত করে বলল, “এই মাঝরাতে নদীর পাড়ে কেউ প্রেম করতে আসে?”
​“আব্রাহাম মির্জা আসে,” আব্রাহাম গাড়ির লক খুলে দিতে দিতে গম্ভীর রসালো গলায় বলল, “এত কথা বলো কেন তুমি? নামো, নেমে দাঁড়াও।”
​ইশতি কিছু বলার আগেই আব্রাহাম নিজে গাড়ি থেকে নেমে এল। তারপর ঘুরে এসে ইশতির পাশের দরজাটা খুলে সরাসরি তার একটা নরম হাত নিজের শক্ত মুঠোয় পুরে নিল। ইশতিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দরজাটা লক করে দিল সে। ​আব্রাহাম ইশতির হাত ধরে ধীর পায়ে নদীর পাড়ের দিকে হাঁটতে শুরু করল। চারপাশটা বড্ড নিঝুম, শুধু নদীর পানির বয়ে চলার একটানা শব্দ। ইশতি অবাধ্যের মতো হাতটা ছাড়ানোর মৃদু চেষ্টা করতে করতে বারবার প্রশ্ন করল, “কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়? বলুন না!”
​আব্রাহাম কোনো জবাব দিল না। সে শুধু আড়চোখে তার ‘স্পাইসি চিলি’র দিকে তাকিয়ে এক চিলতে ধূর্ত হাসি হাসল। ​হঠাৎ করেই আব্রাহাম ইশতির একদম পেছনে এসে দাঁড়াল। ইশতি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্রাহামের দুটো বড়, উষ্ণ হাতের তালু এসে শক্ত করে চেপে ধরল ইশতির দুটো চোখ। আচমকা অন্ধকারে ইশতি ভড়কে গিয়ে বলল, “এ কী! চোখ বন্ধ করছেন কেন? ছাড়ুন, আমি পড়ে যাব তো!”
​“পড়তে দেব না ওয়াইফি, এই হাত দুটো থাকতে তোমায় পড়তে দেব না,” আব্রাহাম নিজের চওড়া বুকটা ইশতির পিঠের সাথে ঠেকিয়ে, চোখ দুটো ওভাবেই চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, “আমার সাথে পা মেলাও। জাস্ট ট্রাস্ট মি।”
​আব্রাহামের গায়ের চেনা সুবাস আর সেই ঘোর লাগা কণ্ঠস্বরে ইশতি কেমন যেন অবশ হয়ে গেল। সে আর আপত্তি না করে আব্রাহামের কথামতো অন্ধের মতো ধীর পায়ে এগোতে লাগল। কিছুটা দূর এগিয়ে যাওয়ার পর নদীর পানির শব্দটা আরও স্পষ্ট হলো। ঠিক তখনই আব্রাহাম আচমকা ইশতির চোখ থেকে নিজের হাত দুটো সরিয়ে নিল। ​চোখ দুটো মুক্ত হতেই ইশতি প্রথমে চরম বিরক্তি নিয়ে চোখের পাতা মেলেছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই সামনের দৃশ্যটা সটান তার চোখের ওপর ভেসে উঠতেই সে মুগ্ধতায় একদম স্তব্ধ হয়ে গেল! তার মুখ থেকে আর কোনো শব্দ বের হলো না।
​জায়গাটি ছিল ঠিক নদীর একদম কিনারা। পাড়ের যে অংশটায় এসে জলতরঙ্গগুলো মৃদু আঘাতে আছড়ে পড়ছে, সেখানটা ছোট ছোট নুড়ি পাথরে ছেয়ে আছে। আশেপাশে কোনো জঙ্গল বা গাছগাছালির বালাই নেই, ধু ধু করছে চারপাশ। কিন্তু ঠিক নদীর একদম কিনার ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি মাত্র বিশাল গাছ। গাছটি কৃষ্ণচূড়া গাছ! এই ফাঁকা, নির্জন নদীর পাড়ে এমন একটি রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ফুল গাছের উপস্থিতি পুরো জায়গাটির সৌন্দর্যকে এক লহমায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ​তবে সবচেয়ে মায়াবী লাগছিল জায়গাটার সাজসজ্জা। সেই বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ছোট ছোট রঙিন আলোর টুনি লাইট দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃদু বাতাসে যখন ফুল আর পাতাগুলো দুলছিল, তখন সেই আলোছায়ার খেলা দেখতে অদ্ভুত লাগছিল। আর সেই আসল গাছটির চারপাশটা ঘিরে বসানো হয়েছে কিছু কৃত্রিম রঙিন ফুল গাছ, যা এই উন্মুক্ত বালুকাময় প্রান্তরটিকে একটা স্বপ্নের বাগানে রূপ দিয়েছে। ঠিক মাঝখানটাতে সুন্দর করে সাজানো একটি টেবিল আর দুটো চেয়ার পাতা, যার ওপর কৃত্তিম, মানে লাইট লাগানো নকল মোমবাতির আলোয় চকচক করছে টেবিল।
​খোলামেলা আকাশের নিচে মোহময় ঠাণ্ডা বাতাস আর নদীর পানি বয়ে চলার সেই হালকা ছন্দময় শব্দ, সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন এই পৃথিবীর বাইরের কিছু। আজ সারাদিন অফিসের বাঘা বাঘা মাফিয়া আর প্রজেক্টের ঝামেলা সামলানোর ফাঁকে ফাঁকেও, আব্রাহাম ফোন করে করে তার অনুগত লোকদের দিয়ে নিজের নির্দেশনা মেনে এই রূপকথার মতো পরিবেশটি তৈরি করিয়েছে। শুধুমাত্র তার এই ওয়াইফিটার মন ভালো করার জন্য। ​ইশতি যখন পুরো দৃশ্যটা দেখে বিস্ময়ে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক তখনই আব্রাহাম পেছন থেকে আরও এক কদম এগিয়ে এল। সে নিজের তপ্ত অবয়বটা ইশতির পিঠের সাথে সম্পূর্ণ মিশিয়ে দিল। তারপর নিজের মুখটা আলতো করে নিচু করে, ইশতির কানের লতিটা নিজের ঠোঁট দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে ছুঁয়ে, এক চরম ঘোর লাগা, গভীর ও নেশালো কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
​“দিস ইস ফর ইউ মাই ওয়াইফ!”
আব্রাহামের সেই তপ্ত ফিসফিসানি আর কানের লতিতে ঠোঁটের মৃদু ছোঁয়া ইশতির পুরো শরীরে যেন এক তীব্র অবশ করা স্রোত বইয়ে দিল। নদীর দিক থেকে আসা ভেজা বাতাস তার চুলগুলোকে উড়িয়ে এনে আব্রাহামের মুখে ফেলছিল। ইশতি জাদুর টোনার মতো ওভাবেই কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তার ভেতরটা এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেও, পরমুহূর্তেই সে নিজেকে সামলে নিল। এত সহজে এই জেদি লোকটার কাছে নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ​ইশতি একটু শক্ত হয়ে আব্রাহামের হাতের বাঁধন থেকে নিজেকে সামান্য সরিয়ে নিল। মনের ভেতরের বিস্ময়টা লুকিয়ে মুখে একটা কৃত্রিম গাম্ভীর্য এনে বলল, “আপনি একটা আস্ত পাগল, মিস্টার মির্জা। এই মাঝরাতে নদীর পাড়ে এসে এসব করার কোনো মানে আছে?”
​“মানে আছে কিউটি,” আব্রাহাম আলতো করে ইশতিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। এবার দুজনের চোখাচোখি হলো। কৃত্রিম আলোর মৃদু আভা ইশতির ফর্সা মুখে পড়ে এক মায়ার সৃষ্টি করেছে। আব্রাহাম তার বুড়ো আঙুল দিয়ে ইশতির নিচের ঠোঁটটা আলতো করে ছুঁয়ে দিল।
​সে গভীর চোখে ইশতির চোখের দিকে তাকিয়ে একদম নিচু স্বরে বলল, “সারাদিন দুনিয়ার বুকে আমি যতই কঠোর আর ব্যস্ত থাকি না কেন, দিনশেষে আমার এই অশান্ত মনের একমাত্র শান্তি তো তুমি। তোমার এই অহংকারী মুখটা না দেখলে এই মির্জার যে রাতে ঘুম আসে না, ওয়াইফি।”
​আব্রাহামের মুখে এমন তীব্র, আকুল কথা শুনে ইশতির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। এই লোকটা এতটা প্রভাবশালী আর গম্ভীর, অথচ তার সামনে এলেই কেমন এক তৃষ্ণার্ত প্রেমিকের মতো অধিকার খাটাতে আসে। ইশতি বুক ভরে একটা শ্বাস নিয়ে নিজের মনের মুগ্ধতাটুকু চেপে রাখল। সে আব্রাহামের চওড়া বুকের দিকে তাকিয়ে একটু বাঁকা হেসে বলল, “আপনার এই মিষ্টি কথায় গলে যাওয়ার মতো মেয়ে আমি নই, মিস্টার মির্জা। আর আপনাকে তো আগেই বলেছি, আমি আপনার ‘ওয়াইফি’ নই।”
​আব্রাহাম হালকা শব্দ করে হেসে উঠে। সেই গমগমে হাসির শব্দ নদীর পানির কলতানের সাথে মিশে এক অদ্ভুত সুর তৈরি করল। সে ইশতির এই দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টাটা বেশ উপভোগ করছে। ​আচমকা নিচু হয়ে সে ইশতির দুই হাঁটুর নিচে হাত দিয়ে তাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিল!
​“আরেহ! কী করছেন? নামান আমায়! একদম জংলি একটা!” 
ইশতি ভড়কে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে আব্রাহামের শক্ত গলাটা জড়িয়ে ধরল। তার চোখ দুটো রাগে আর লজ্জায় বড় বড় হয়ে গেল।
​“বউয়ের অবাধ্যতা ভাঙতে একটু জংলি হতেই হয়, স্পাইসি চিলি,” 
আব্রাহাম ইশতিকে কোলে নিয়েই ধীর পায়ে টেবিল-চেয়ারটার দিকে এগিয়ে গেল। ইশতির শরীরের হালকা ওড়নাটা তখন বাতাসে উড়ছে। ​সে ইশতিকে অত্যন্ত আলতো করে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। ইশতি চেয়ারে বসেই নিজের ওড়না ঠিক করে নিয়ে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে বসল, যেন সে ভীষণ বিরক্ত। কিন্তু তার মনের ভেতর তখনো আব্রাহামের চওড়া বুকের তপ্ত স্পর্শের কাঁপন থামেনি। ​আব্রাহাম নিজে না বসে, টেবিলের ওপর রাখা একটা তাজা লাল গোলাপ তুলে নিল। গোলাপটি ইশতির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নেশালো গলায় বলল, 
“মুখটা ঘুরিয়ে রাখলেও এই আলোর চেয়ে তোমার ওই মুখটাই বেশি জ্বলজ্বল করছে, কিউটি। এখন বলো, তোমার এই হাজবেন্ডটাকে একটা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করার সৌভাগ্য কি দেবে, নাকি আবার কোলে তুলে জংলিগিরি শুরু করব?”
​আব্রাহামের এই রূঢ় অথচ রসালো ধমকিতে ইশতি বুঝল, এই লোকের সাথে জেদ করে লাভ নেই। সে একটু গম্ভীর ভাব নিয়ে গোলাপটা আব্রাহামের হাত থেকে টেনে নিল, কিন্তু নিজের চুলে গুঁজল না, টেবিলের ওপর রেখে দিল।​“বেশি বাড়াবাড়ি করছেন আপনি। ঠিক আছে বসুন, কিন্তু ডিনার শেষ করেই আমাকে বাড়ি দিয়ে আসবেন। কোনো রকম অসভ্যতা আমি সহ্য করব না,” 
ইশতি বেশ শান্ত দৃঢ় গলায় নিজের সীমানাটা টেনে দিল।​আব্রাহাম টেবিলের ওপাশের চেয়ারটায় বসতে বসতে তার সেই চিরচেনা, ধারালো বাঁকা হাসিটা হাসল। সে চেয়ারে আরাম করে হেলান দিয়ে বসে তার গভীর, তৃষ্ণার্ত চোখ দুটো ইশতির ওপর স্থির করল আর বলল,
​“শর্ত মঞ্জুর হলো, মিসেস মির্জা। তবে মনে রেখো... আব্রাহাম সিকান্দার মির্জা কোনো ডিল কখনো লস করে না। আজ ডিনার করাচ্ছি, এর বদলে আমার ওই ঠোঁটের পাওনা হিসাবটা কিন্তু আমি ঠিকই উসুল করে নেব... হোক না সেটা অন্য কোনো সময়ে।”
​আব্রাহামের এমন খোলামেলা আর তীব্র আকর্ষণে ভরা কথায় ইশতি আর জবাব দিল না, সে চোখ নামিয়ে টেবিলের প্লেটের দিকে তাকাল। বাইরে সে যতই শান্ত আর কঠিন থাকার ভিলকি দেখাক না কেন, নদীর ধারের এই মোহময় বাতাস আর সামনে বসে থাকা এই পুরুষালি মানুষটার উপস্থিতি তার মনের দেওয়ালে যে ফাটল ধরাতে শুরু করেছে, তা সে নিজেও টের পাচ্ছিল হয়তো।
বেশ কিছুক্ষণ নীরবতার মাঝে ডিনার শেষ হলো। ইশতি শান্তভাবে খাওয়া-দাওয়া করলেও তার নজর এড়ায়নি যে, আব্রাহাম নিজে খাওয়ার চেয়ে বেশি সময় তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। সেই গভীর চোখের চাউনি থেকে বাঁচতেই ডিনার শেষ করে ইশতি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। সে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল একদম নদীর কিনারায়, যেখানে পানির ছোট ছোট ঢেউগুলো নুড়ি পাথরের ওপর আছড়ে পড়ছে।
মোহময় বাতাস যেন এখানে আরও বেশি বেগবান। সেই দমকা বাতাসে ইশতির কোমর ছাড়িয়ে প্রায় হাঁটু ছুঁইছুঁই করা অবাধ্য সিল্কি চুলগুলো উড়তে শুরু করেছে। আকাশে মেঘের আড়ালে চাঁদটা লুকোচুরি খেলছে, আর কৃত্রিম আলোর মৃদু আভা ইশতির পিঠে এসে পড়েছে। সে চোখ বন্ধ করে নদীর এই গম্ভীর সোঁ সোঁ শব্দ আর শীতল হাওয়াটা উপভোগ করছিল।
​ঠিক তখনই পেছন থেকে কোনো শব্দ না করেই এগিয়ে এল আব্রাহাম। ইশতি কিছু বুঝে ওঠার আগেই, এক জোড়া শক্ত এবং চওড়া বাহু পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরল তার কোমল কোমরকে। সাথে সাথে আব্রাহাম নিজের ভারী অবয়বটা ইশতির পিঠের সাথে সম্পূর্ণ লেপ্টে দিয়ে নিজের থুতনিটা নামিয়ে রাখল ইশতির ফর্সা ঘাড়ের ওপর। ​হঠাৎ এই অতর্কিত নিবিড় স্পর্শে ইশতি চমকে উঠল। তার বুকের ভেতরটা ধক করে কেঁপে গেল। সে চোখ দুটো বড় বড় করে আব্রাহামের হাত দুটো ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে কাঁপা গলায় বলল, “এ কী! কী করছেন কী?”
​আব্রাহাম তার কোনো কথার জবাব দিল না, হাতের বাঁধনও আলগা করল না। সে শুধু চোখ দুটো বুজে ইশতির ঘাড়ের কাছে নিজের মুখটা ডুবিয়ে এক গভীর, দীর্ঘ তপ্ত নিশ্বাস টানল। ইশতির গা থেকে ভেসে আসা সেই তীব্র সুবাস আর চুলের মাদকতাময় ঘ্রাণ মুহূর্তের মধ্যে আব্রাহামের তুখোড় মস্তিষ্কে এক অন্য ধরনের নেশা জাগিয়ে তুলল। সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি যেন এই এক নিশ্বাসে কর্পূরের মতো উবে গেল তার। ​ইশতি যখন নিজের শরীরটাকে একটু শক্ত করে ছটফট করছে, ঠিক তখনই আব্রাহাম নিজের এক হাত ওপরে তুলল। অত্যন্ত আলতো করে, পরম যত্নে সে ইশতির ঘাড়ের একপাশের অবাধ্য চুলগুলোকে সরিয়ে একপাশে এনে রাখল, যাতে তার ফর্সা ঘাড়ের ত্বকটা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে যায়। পরমুহূর্তেই আব্রাহাম আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। সে নিজের তপ্ত ঠোঁট দুটো সরাসরি ডুবিয়ে দিল ইশতির সেই উন্মুক্ত ঘাড়ের ভাঁজে। সেখানে অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত, গভীর এক চুমু আঁকল সে।
​সেই তীব্র ও মাদকতাভরা চুমুর ছোঁয়ায় যেন দুজনের শরীরে একসাথে এক হাজার ভোল্টের বিজলি খেলে গেল! ইশতির পুরো শরীর এক চরম কম্পনে শিউরে উঠল, তার পায়ের নখ থেকে মাথা পর্যন্ত এক অবশ করা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। আব্রাহাম নিজেও সেই কম্পন টের পেয়ে ইশতির কোমরটা আরও শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরল সে। ​চুমুটা শেষ করে আব্রাহাম ইশতির কাঁধ ধরে তাকে আলতো করে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। আব্রাহাম উচ্চতায় ইশতির চেয়ে বেশ অনেকটা লম্বা। সে নিজের চওড়া বুক ফুলিয়ে ইশতির ঠিক সামনে দাঁড়াতেই ইশতি লজ্জায় আর নার্ভাসনেসে মাথা নিচু করে নিল। কিন্তু আব্রাহাম তাকে ছাড়ল না। সে নিজের ডান হাতের দুই আঙুল দিয়ে ইশতির নরম থুতনিটা ধরে আলতো করে মুখটা ওপরের দিকে উঁচু করল, যাতে ইশতি সরাসরি তার চোখের দিকে তাকাতে বাধ্য হয়। আলোয় ইশতির গাল দুটো তখন লজ্জায় লাল টমেটোর মতো হয়ে আছে।
​আব্রাহাম তার সেই গভীর, নেশালো চোখ দুটো ইশতির কাঁপতে থাকা ঠোঁট আর লাজুক চোখের ওপর স্থির রেখে একদম নিচু, গম্ভীর সুরে বলল,
​“এই অবাধ্যতা আর কতদিন, ওয়াইফি? এই চোখ দুটো যতই আমার ওপর রাগ দেখাক না কেন, তোমার এই শরীরের কাঁপুনি কিন্তু স্পষ্ট বলে দিচ্ছে... এই আব্রাহাম মির্জার ছোঁয়া তোমার মনেও ঠিক কতটা ঝড় তোলে।”
​আব্রাহামের এমন ধারালো আর তীব্র গভির কথা শুনে ইশতির ভেতরের এতক্ষণের শক্ত দেওয়ালটা যেন এক নিমেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। লোকটার কথার সত্যতা সে অস্বীকার করতে পারছিল না, আর এটাই তার লজ্জাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। সে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ে এবার সত্যি সত্যি আব্রাহামের কাছ থেকে দু-পা পিছিয়ে সরে যেতে চাইল। ​
“আপনি... আপনি বড্ড বেশি কথা বলেন...” ইশতি ফিসফিসিয়ে বলল এবং হাতটা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। ​কিন্তু আব্রাহাম মির্জার হাত থেকে এত সহজে ছাড় পাওয়া কি আর সম্ভব? ইশতি এক কদম সরতেই আব্রাহাম এক ঝটকায় ইশতির কোমর ধরে তাকে টেনে এনে আবার নিজের চওড়া, শক্ত বুকের সাথে একদম পিষে ধরল। ​ইশতির দুই হাত আব্রাহামের বুকের ওপর আটকে গেল। আব্রাহাম ইশতির মুখের একদম কাছাকাছি নিজের মুখটা নামিয়ে এনে বাঁকা হেসে ফিসফিস করে বলল,
​“সরে যাওয়ার চেষ্টাটা বড্ড কাঁচা ছিল, ওয়াইফি। সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি কিভাবে দেয়, সেটা এই আব্রাহাম মির্জার ডিকশনারিতে নেই।”
ইশতির কোমরের ওপর আব্রাহামের হাতের বাধনটা যেন আরও একটু গাঢ় হলো। সে ইশতিকে নিজের আরও কাছে টেনে আনছিল। তাদের মধ্যকার দূরত্বটা কমতে কমতে এখন মাত্র চার-পাঁচ আঙুলে এসে ঠেকেছে। আব্রাহামের নিশ্বাসের তপ্ত হাওয়া ইশতির ঠোঁটের ওপর আছড়ে পড়ছে। ইশতি কোনো প্রতিবাদ করতে পারল না, এক চুল নড়ার শক্তিও যেন তার শরীরে অবশিষ্ট নেই। সে কেমন বোকার মতো, ঘোর লাগা চোখে চেয়ে রইল আব্রাহামের ওই বিষাক্ত সুন্দর চোখ দুটোর দিকে। তার বুকের ভেতরটা তখন তীব্র গতিতে ঢিপঢিপ করছে, সেই শব্দ হয়তো এই নিস্তব্ধ রাতে আব্রাহামের কান অব্দিও পৌঁছে যাচ্ছে।
​চারপাশে শুধু নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মোহময় বাতাস। আব্রাহামের ঠোঁট দুটো যখন ইশতির কাঁপতে থাকা ঠোঁটজোড়াকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেওয়ার জন্য খুব কাছে, 
​ঠিক তখনই, কোথা থেকে যেন একটি গুলি চলল, 
”​ঠাস___!”
#চলবে..........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন