# হৃদয়ের বিচ্ছেদ
#লিখিকা হুমাইয়া
সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার জন্য ডাকাডাকি করছে মরিয়ম বেগম। এই নিয়ে পাঁচ বারের মতো ডেকে গেলেন তিনি তবুও ঘুম থেকে ওঠার কোনো নাম নেই । আবার ও ডাকতে গেলেন ,,," ভাবনা" এই ভাবনা এবার ঘুম থেকে না উঠলে বিছানায় পানি ঢেলে দিবো। সেই কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি তোর না আজ ক্লাস আছে নয়টাই। ওই শুনছিস?
ভাবনা ঘুম ঘুম চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে আম্মু আর পাঁচ মিনিট ঘুমই।মরিয়ম বেগম রেগে গেলেন,, ঘড়ি দেখছিস কত বাজে ৮:২০ বাজে। ভাবনা বিছানা থেকে নেমে বলে আরে আম্মু আরও আগে ডাকবানা কত দেরি হয়ে গেলো৷ এবার আরও রেগে গেলেন মরিয়ম বেগম,, তোকে সেই কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি তুইতো উঠিস না আর এখন আমার দোষ।তুই এবার আমার কাছে মার খাবি। মায়ের হাতের মার খাওয়ার ভয়ে দ্রুত ফ্রেশ হতে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে কলেজ ড্রেস পরে হিজাব পরে নিলো ভাবনা। এর মাঝে খাবার নিয়ে এলেন মরিয়ম বেগম। এদিকে আই খাইয়ে দেই। না আম্মু খাবনা এখন সময় নেই।না খেলে শরীর খারাপ করবে আই অল্প করে খাইয়ে দেই। আচ্ছা দেও,, পাঁচ লোকমা খাওয়ার পরে ব্যাগ নিয়ে দৌড় দেয় ভাবনা আম্মু আর সময় নেই দেরি হলে স্যার বকা দিবে। এখন যায় ক্যানটিনে খেয়ে নিব।মরিয়ম বেগম হতাশ হলেন এটা নিত্যদিনের নিয়ম হয়ে গেছে।
গাড়িতে উঠে বসে ভাবনা ড্রাইভার কে তাড়াতাড়ি যেতে বলে। কলেজে ঢুকে সোজা ক্লাসে এসে দেখে হ্যাপি আগে থেকে ওর জন্য জায়গা রেখেছে । হ্যাপি হলো ভাবনার বেস্ট ফ্রেন্ড স্কুল জীবন থেকে।এই ভাবনা আজকে ও দেরি করে এলি কেনো রে । আর বলিস না আজকে ও ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলে তাই। হাহাহা তুই যে ঘুম কাতুরে মেয়ে শশুর বাড়িতে গিয়ে এভাবে ঘুমলে তোর শাশুড়ী তোকে খুন্তি দিয়ে বাড়বে বলবে মাগো কি মেয়ে বিয়ে করে আনল আমার ছেলে। শোন আমি বিয়ে করলে এমন একজনকে করবো যার হয়তো মা মারা গেছে নয়তো এতিম দেখেনিস। ক্লাসে স্যার আসায় ওরা দুজনেই চুপ হয়ে যায়।
ক্লাস শেষে রুমের বাইরে দাড়িয়ে কথা বলছিলো অনেকে। বর্তমানের আবহাওয়া কিছুই বলা যায়না এই রোদ তো এই বৃষ্টি। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রুমের বাইরে এসে দাড়ায় ভাবনা, হ্যাপি, জেরিন। এইভবনের সামনের দিক টাই গ্যারেজ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কিছু ছেলে দৌড়ে গ্যারেজের ভিতর দাড়ায়। এই হ্যাপি দেখনা ওই ছেলেটা লুঙ্গি পরে কলেজে আসছে 😊। আরেব্ববাস ছেলে টাকে তো খুব সুন্দর লাগছে। সাদা শার্ট আবার নিচে লুঙ্গি ভাই এ যদি আমার জামাই হতো 🫣। এই তোর ওনাকে কি দেখে পছন্দ হলো হ্যা? অবশ্য তোর তো সব ছেলেকেই ভালো লাগে এবার নতুন কি।ক্লাসে চল স্যার আসার সময় হয়ে গেছে ।ক্লাস শেষে হ্যাপি বলল দোস্ত সত্যি আমার ছেলে টাকে খুব পছন্দ হয়ছে।যদি ওর সাথে প্রেম করতে পারতাম।জীবনটা ধন্য হয়ে যেতো।
চুপ যা মেরি দোস্ত --- আর কত প্রেম করবি জীবনে।
তুই যে কি বলিস না ভাবনা কত মানে কি আরও করবো এরকম সুন্দর ছেলে পেলে। আচ্ছা করিস এখন চুপ কর। ওদের কথা শুনে জেরিন বলে ওঠে কিরে ভাবনা হ্যাপি আবার কার প্রেমে পড়লো। ভাবনা- আরে দেখলিনা তখন বৃষ্টির মাঝে কিছু ছেলে এসে গ্যারেজে দাড়ালো তার মধ্যে লুঙ্গি পরা সাদা শার্ট পরা ছেলেটা তার প্রেমে পড়ছে। ওটা তো হৃদয় ভাইয়া আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে পড়ে এবারের পরিক্ষারর্থী।অনেক ভালো স্টুডেন্ট স্যাররা অনেক পছন্দ করেন ওনাকে। হ্যাপি ভাবনার হাতটা চেপে বলে উঠে নামটা ও কি কিউট আহারে যদি আমার বয়ফ্রেন্ড হতো। ভাবনা বলে উঠলো তোরা থাক আমি গেলাম কি শুরু করলি তোর সাথে থাকা যাবেনা
ছুটি শেষে হ্যাপি আর জেরিন কে বিদায় দিয়ে ভাবনা আইসক্রিম কিনতে গেলো। দোকানে ঢুকে একটা কোণ আইসক্রিম নিয়ে টাকা দিয়ে বের হতে জাবে তখন ধাক্কা লেগে হাত থেকে আইসক্রিম টা পড়ে গেলো। না চাইতেও মুখ থেকে বেরিয়ে গেলো কোন পাগলরে তোর কি চোখ নেই আমার সাথে ধাক্কা খেলি গেলোতো আমার আইসক্রিম টা পড়ে। আইসক্রিম টা তুলে সামনে তাকিয়ে দেখে হৃদয় দাড়িয়ে আছে। এই পিচ্চি তোমার চোখ নেই, দেখে চলতে পারোনা আর কি মুখের ভাষা কোন এয়ারে পড়ো তুমি। স্যারদের বলবো তাদের ছাত্রী কী সুন্দর মানুষের সাথে কথা বলে। ভাবনা মনে মনে ভাবলো যেটুকু শুনেছি তাতে স্যারদের সাথে ভালোই সম্পর্ক আছে,, তাই এখন চুপ করা টাই শ্রেয়। কোনো কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো। হৃদয় পেছন ফিরে তাকিয়ে রইলো।
এর মাঝে কেটে গেছে ২ দিন ভাবনা কলেজে যায়না আজ বৃহস্পতিবার তাই কলেজে যাবে বলে তৈরি হচ্ছে। কলেজে প্রবেশ করার সময় ভাবনার চোখ যায় সামনে কামিনী ফুল গাছের নিচে হৃদয় আরও কিছু ছেলে বসে আছে।তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটা ছেলে ডেকে ওঠে এই মেয়ে দাড়াও,,, ভাবনা দাড়িয়ে বলে আমাকে বলছেন? ছেলেটা হেসে বলে ওঠে হ্যা শুনে যাও। তাড়াতাড়ি বলুন দেরি হলে স্যার ক্লাসে ডুকতে দিবে না।ছেলেটা বললো একটা কাজ করতে পারবা..?
কী কাজ,,, ছেলেটা বললো তুমি হ্যাপির ফ্রেন্ড না। হ্যা তো,,,, এই চিঠিটা হ্যাপিকে দিবা বলবা হৃদয় দিছে ছুটির সময় ক্যানটিনে দেখা করতে বলবা ওকে। ভাবনা চিঠিটা হাতে নিয়ে ক্লাসে যেতে যেতে ভাবলো কেমন ছেলে বাবা একদিন হলোনা দেখলো আর আজকেই প্রেম পত্র পাঠিয়ে দিলো দিক বাবা আমার কি। হ্যাপি তো অনেক খুশি হবে।
কিন্তুু ভাবনার পেছনে কি ঘটে গেলো তা অজানায় রয়ে গেলো।
এই ফাহিম তুই মিথ্যা বললি কেনো?ফাহিম বললো ভাই ওই দিন দেখেই আমার পছন্দ হয়ে গেছে তাই তোর কথা বললাম দেখিস পাখি হাজির হয়ে জাবে। হৃদয় উঠে দাড়ালো থাক তোরা আমার কাজ আছে।
সামনে এক্সাম আর এদের কোনো টেনশন নাই।ফালতু সময় নষ্ট করে।
হৃদয় ছোট বেলা থেকে শান্ত শিষ্ট যত বড় হচ্ছে ও তত বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়াতে যেনো আর ও নিশ্চুপ আরও গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে।
ভাবনা ক্লাসে এসে দেখে হ্যাপি আসেনাই। ভাবনার রাগ হলো প্রেমকুমারী আসবেনা বললে আমি ও আসতাম না। এখন একা একা কি করবো এর মাঝে জেরিন এসে বসে ওর পাশে। কীরে কি এত ভাবছিস। আরে তুই কখন এলি,, এইতো মাত্র তুই তো গভীর চিন্তায় মগ্ন ছিলি কেমনে বুঝবি।
আরে জানিস কি হয়ছে..! আরে না বললে কেমনে জানবো,, ও হ্যা তাইতো। হ্যাপির ক্রাশ মানে লুঙ্গি ভাইয়া ওনি প্রেম পত্র দিছে। লুঙ্গি ভাইয়া আবার কে,,,? আরে চিনলি না ওই ছেলেটা হৃদয়।
আরে কী সব বলিস উনার কি সুন্দর একটা নাম আছে। বাট হ্যাপি তো আজ আসে নাই। ভাবনা বলল সেটাই তো আর কাল তো কলেজ বন্ধ। জেরিন বললো বাসাই যেয়ে ওকে ফোন দিয়ে বলিস। হুম ঠিক বলছিস।
হৃদয় হাঁটতে হাঁটতে ভাবতেছে কীভাবে এক্সামের ফি জমা করবে। এমনিতে আগের মাসে টিউশনি একটা বাদ হয়ে গেছে। নতুন টিউশন খুজতে হবে। কলেজ থেকে বেরিয়ে চায়ের দোকানে আসে চা খাইতে। চা খাওয়া শেষে বাসাই যাওয়ার পথে একটা দেয়ালে নতুন টুলেট দেখে। সেখানে নাম্বার ও ঠিকানা দেওয়া আছে। হৃদয় নাম্বার টা তুলে ফোন দেয়। প্রথম বার রিং হয়ে কেটে যায় একটু পরে আবার দেয় এবার ও কেটে যায় । পরে ফোন দিবে হয়তো ব্যাস্ত আছে তাই ভেবে ফোনটা পকেটে রেখে দেয়।