# হৃদয়ের বিচ্ছেদ
#লেখিকা :হুমাইয়া
হৃদয় ফোনটা পকেটে রেখে দেয়। বাসায় যাওয়ার জন্য একটা রিকশা ডাকে,,, এই মামা জাবেন,
হ ওঠেন।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে মাথা মুছতে ছিলো এমন সময় ফোনটা বেজে ওঠে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে সেই নাম্বার টা। ফোনটা রিসিভ করে সালাম দিলো অন্য পাশ থেকে গম্ভীর কন্ঠ ভেসে এলো।
হ্যালো কে বলছো? হ্যালো আমার নাম হৃদয় আজকে একটা টুলেট দেখলাম বাচ্ছাকে পড়ানোর। তাই ফোন দিয়েছিলাম।
ও আচ্ছা,
আমি সাহেব শিকদার, আমার ভাতিজী কে পড়াতে হবে ওখানে তো বিস্তারিত বলাই আছে। সব কথা বলে ঠিক করলেন শনিবার থেকে পড়াবে বিকাল ৪ টাই এসো এখন রাখি।
জি আচ্ছা।
ভাবনা বাড়িতে এসে গোসল করে একটা ঘুম দিয়ে ছিলো। তার জীবনে ঘুমের থেকে দামী কিছু আর নেই। ঘুম থেকে উঠে মায়ের কাছে গেলো।
আম্মু কি করো রুমে ডুকে দেখে কেউ নেই।
তাই দাদীর ঘরে গেলো। বুড়ি ও বুড়ি কি করো ওই তোরে না কইছি আমারে বুড়ি কইবি না। তাইলে কি বলবো জান পাখি 😁। কেনোরে দাদি কইতে কি তোর শরম লাগে। আচ্ছা বাদ দেও তোমারে আমার বুড়ি কইতেই ভালো লাগে। হ তা তো লাগবই শুন এখন থেইকা একটু আদব কাইদা শেখ। শশুর বাড়ি যাও ওনের তো সময় হইলো নাকি।
কি যে কউ না আপুর ইতো এখন ও বিয়ে হলোনা আর আমি তো এখন ও ছোটো।
এতো সহজে তোমাদের ঘাড় থেকে নামবোনা।
হ এর লাইগাই তোর আপুর ও যাওনের ব্যাবস্থা করতাছি।
কি বলো বুড়ি__ সত্যি
আরে হ রে তোর বাবাই তো আজ দুপুরে খাওনের সময় কইলো তোর বড় খালার ছেলে আছে ওই কি যেনো নাম ওর লাইগা আমাগো সাওদা রে চাইছে।
মাহিম ভাইয়া উনি তো কোরিয়া থাকেন।
আপুকে ওনার পছন্দ হয়ছে বাহ তাহলে তো অনেক মজা হবে বিয়েতে। দাদি কি শুনাইলা আমার তো এখন থেকে নাচতে মন চাইতেছে।
তোরে দেইখা মনে হয়তেছে বিয়া বুঝি তোর লাগছে সাওদার না।
আরে বুড়ি তুমি বুঝোনা এর পর ই তো আমার পালা নাকি🤗
থাক ও তুমি আমি এখন জাই আপুকে একটু দেখে আসে।
দাদির ঘরটা নিচ তালাই। ভাবনাদের বাড়ি টা ডুপ্লেক্স__ ভাবনা, সাওদা, আর বাকি দের রুম দোতলায়। অবশ্য ভাবনার বাবা মার রুম টা ও নিচ তালায়। নিচ তালায় মোট তিনটে রুম একটায় ভাবনার দাদি আরশি বেগম থাকেন। একটায় ওর বাবা মা থাকে অন্য টা গেস্ট রুম। মাঝ খানে ড্রয়িং রুম ডান পাশে ভাবনা মায়ের রুম তার পাশে দাদির রুম। বাম পাশে গেস্ট রুম অন্য পাশে রান্না ঘর।
ভাবনা দোতলায় এসে সাওদার রুমের দিকে যেতে গেলে শাওন ডাক দেয়। এই ভাবনা শোন
কি ভাইয়া বলো,,
তোকে বলছিনা আমাকে ভাইয়া বলবি না। আমাকে এক কাপ কফি এনে দে আম্মুরা কেউ মনে হয় বাসাই নাই মার্কেটে গেছে।
আমি তো আপুর কাছে যাচ্ছিলাম। আচ্ছা ঠিক আছে।
ভাবনা নিচে এসে কফি বানিয়ে উপরে আসে। শাওন রুমে নেই বেলকোনি তে দাড়িয়ে কার সঙ্গে যেনো কথা বলছে।
ভাইয়া আপনার কফি।
দিয়ে যা। ভাবনা কফি টা দিয়ে সাওদার রুমে এসে দেখে রুম ফাঁকা। ওয়াশরুমে মনে হয়। ভাবনা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল ঠিক করছে ঘুম থেকে উঠে আর আসড়ানো হয় নি।
কি করে কখন এলি এইতো কিছুক্ষণ আপু।
শুনলাম মাহিম ভাইয়া রা নাকি তোমাকে দেখতে আসবে।
হুম বাবাতো তাই বললো,,,
তোমার কোনো মতা মত নেই আপু। এখানে আমি আর কি বলবো বাবা যা করবে ভালোর জন্যই করবে।
হ্যা তা ঠিক। আর দেখলেইতো বিয়ে হয়ে যায় না।
তবে ভাইয়া রে দেখতে তো সুন্দর আর তুমি ও সুন্দর তোমাদের দুজনকে খুব ভালো মানাবে।
হৃদয় ছাদে আসে পানি দিতে।ছাদে অনেক ফুল গাছ এগুলো সব ঐশীর গাছ। ঐশী হৃদয়ের মামা তো বোন। ঐশী রা দুই ভাই বোন। ঐশী বড় আর ঈশান ছোট । ঐশী এবার এসএসসি পরিক্ষা দিবে। ঈশান ক্লাস 3 তে পড়ে। এ বাড়ির বেশির ভাগ কাজ ই হৃদয় করে। ভাগ্য তাকে এইখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। তার জীবনটা ও সুন্দর হতে পারতো। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি।
আকাশে দিকে তাকিয়ে হৃদয় আনমনে বলে ওঠে
" জীবন দিলে ঠিকই, সুন্দর করে বেঁচে থাকার অধিকার দিলে না " খুব বেশি ক্ষতি হতো কি আমাকে একটু সুখ দিলে।
সাওদার সাথে কথা বলার মাঝে হৃদয়ের দিয়া চিঠির কথা মনে পড়ে গেলো ভাবনার।
আপু থাকো পরে আসবানি। এইতো এলি থাক আরও একটু । না পরে আসবো এখন কাজ আসে, তোর আবার কি কাজ। তেমন কিছু না গেলাম।
ভাবনার নিজের কোনো ফোন নেই তাই সে মায়ের ফোন থেকেই কথা বলে। তখন মায়ের রুমে দেখেছিলো ফোনটা খাটের উপর আছে হয়তো নিতে ভুলে গেছে।
ফোনটা নিয়ে নিজের রুমে গিয়ে হ্যাপিকে ফোন দেয়। হ্যাপির নিজের ফোন আছে। প্রথম বার রিং হয়ে কেটে যায়,, দ্বিতীয় বার রিং হওয়ার সাথে রিসিভ করে
হ্যালো এই শয়তান তুই আজ আসলি না কেনো। জানিস কত বড় জিনিস মিস করে গেলি। তোমার ক্রাশ হৃদয় তোমাকে প্রেম পত্র দিয়েছে।
ওই কথা বলিস না কেনো?
আমি শয়তানের আম্মু বলছি 😖
এই করো তোমরা কলেজে গিয়ে। না আসলে আন্টি আমি __ থাক আমি বুঝেছি ফোনটা গেটে গেলো।
ভাবনার নিজের মাথায় একটা বাড়ি দিতে মনে ।খালি খালি আম্মু আমাকে বোকা বলেনা। আমি আগে কথা না শুনে কেনো বাল পাকনামো করতে গেলাম😔। এখন কি করি হ্যাপি তো আজ শেষ।
ভাবনা মাতায় হাত দিয়ে বসে আসে এমন সময় সাওদা রুমে ডুকে কিরে মাথায় হাত দিয়ে বসে আসিস কেনোরে। কি এত ভাবিস।
আপুরে আমি পুরাই হতাশ । কেনোরে আবার কি ঝামেলা পাকিয়েছিস কাকে বাঁশ দিলি।
আর বলোনা আপু হ্যাপিকে ওর ক্রাশ এটুকু বলে থেমে গেলো মনে মনে ভাবলো আপু যদি জানে আমি চিঠি আদান প্রদান করছি তাহলে আমাকে আবার বকা দিবে। তাই কথা ঘুরিয়ে বললো তেমন কিছুনা চলো আপু লুডু খেলি।
দুজনে লুডু খেলায় মনোযোগ দিলো।
সন্ধ্যার দিকে বাড়ির কর্তীরা এলেন মার্কেট থেকে।
ড্রয়িং রুমে আপাতত জামা কাপড় দেখার পালা চলছে। সোমবারে সাওদা কে দেখতে আসবে তাই এত কেনা কাটা বাড়ির প্রথম মেয়ে বলে কথা।
মাঝে কেটে গেছে একটা দিন
আম্মু আমি আজকে থেকে কলেজ জাবোনা একবারে মঙ্গলবারে জাবো তুমি কিছু বলবে না কিন্তু। আচ্ছা ঠিক আছে এখন খা তো ঠিক করে তারপর রুম টা পরিষ্কার করে নিবি তোর খালারা আসবে কোথাও যেনো ময়লা না থাকে নিজের রুম টা গুছিয়ে নে। আমার সময় হবে না না হলে আমি করে দিতাম। আপু তোমার বিয়ের পর আমার পালা 😊। নাজমা বেগম পাশ থেকে বলে নিজর বিয়ের কথা বলতে লজ্জা করে না আর তোকে কে বিয়ে করবে 😏 হ্যা তোর গায়ের রং তো কালো। শুধু চুল ই যা আছে কইটা এই চেহারা নিয়ে বিয়ে করার এত শখ। একটু ভদ্র হ তাইলে যদি কেউ পছন্দ করে। সাওদা সুন্দর তাই ওকে দেখার সাথে যে কারো পছন্দ হবে। মরিয়ম বেগম জায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছু বললেন না। পাশ থেকে ছোট জা বললেন ভাবি আপনি এভাবে বলছেন কেনো ভাবনা তো কালো না। শ্যামলা বরন কত ভালো লাগে ওকে দেখতে । আপনি যে ওকে কেনো পছন্দ করেন না বুঝি না।
____ আমার বিয়ে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না মেজমা।