ফন্ট সাইজ:
থিম:
যতনে রাখিব তারে

৪৩তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া জান্নাত সুমী

#যতনে_রাখিব_তারে

#পর্ব_৪৩

#লেখনিতে_সুরাইয়া_জান্নাত_সুমী

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

অবশেষে বিচারক মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মামলার রায় ঘোষণা করলেন। চেয়ারম্যানের ছেলে ও তার বন্ধুদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হিমেল রহমানের চোখে খুশির ঝলক দেখা গিয়েছিল। লোকটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মেহরিমা ও তাহসিনের প্রতি। তারা যদি সংবাদমাধ্যমে এই কুচক্রী মানুষদের নিয়ে করা ভিডিওটা না দিত তাহলে হয়তো এত তারাতাড়ি মামলার নিষ্পত্তি ঘটতো না।

তাহসিন মেহরিমাকে নিয়ে কোর্টের বাহিরে খোলা জায়গায় এসে বসল। তৈমুর মৃদুলাকে নিয়ে যাবে তাদের বাসায়। তাই আপাতত মৃদুলার জন্য চিন্তা নেই। মেহরিমা ক্লান্ত ভঙ্গিতে বেঞ্চে মাথা এলিয়ে দিয়ে তাহসিনের দিকে তাকালো। যে ফোনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে। মেহরিমা গুতো দিয়ে তাহসিনকে ডাকলেও সারা পেল না। সে চোখ ছোট ছোট করে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। ফোন কানে ধরে তাহসিন রাগ মিশ্রিত কন্ঠে বলল,

"তৈমুর! তুই আমার মেয়েকে নিয়ে আবারও বাইক রাইডে যাচ্ছিস? তোকে কাছে পেলে জ্যান্ত পুতে ফেলব আমি। আগেরবার আমার মেয়েটার হাত পায়ের যা তা অবস্থা হয়েছিল ছিলে গিয়ে। আমার সামনে তো তোকে আসতেই হবে তৈমুর। তখন একটা মার ও মাটিতে পড়বে না। আমার বাড়ির খাবার তোর জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে বলে দিলাম। তোকে সারাজীবন রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাঁচতে হবে।"

তৈমুর ফোনের ওপাশ থেকে বলল,

"তোকে কে বলল সারাজীবন আমাকে রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাঁচতে হবে? সামনের মাসেই তোর বউয়ের ফুলটুসি বোন নিষ্পাপকে বিয়ে করে নিব দেখবি। তোকে দাওয়াত ও দিব না। শুধু আমার কুট্টুস ভাতিজিকে নিব সঙ্গে। তোদের বাদ দেওয়া হলো। এবার রাখত ব্রো। ডিস্টার্ব করছিস কেন বল তো? মৃদুলাকে নিয়ে আমি ধীরেই বাইক চালাই।"

তাহসিনের কপাল কুচকে আসল। সে তেরছা কন্ঠে বলল,

" সিরিয়াসলি! তোর কি মনে হয়? তোর মতো বুড়োর সাথে আমার শালির বিয়ে দিব? তুই চিরকুমার হয়ে মরবি তৈমুর। তোর কপালে বিয়ে নেই। আমার শালির কথা তো মাথা থেকেই ঝেড়ে ফেল। ও বড় হতে হতে তুই কবরে চলে যাবি।"

"ব্রো তুই আমার ফুলটুসিকে নিয়ে এভাবে বলতে পারিস না। আমি মরলে ওকে বিয়ে করেই মরব। বুড়ো হলেও তোর শালিকেই বিয়ে করব বুঝলি তো? আমার কথা মিলিয়ে নিস। তোর শালি শুধুমাত্র আমার বউ হবে।"

"হু, তোর কল্পনাতেই। আর এসব কেমন ভাষা? ফুলটুসি কি? তুই কি রাস্তার বখাটে ছেলে? এই আমার মেয়েকে জলদি আমার কাছে দিয়ে যা। তোর মতে হতচ্ছাড়ার সাথে মিশলে আমার মেয়েটাও না আবার তোর মতে হারে বজ্জাত হয়। বাবা হয়ে সেসব আমার সইবে না।"

মেহরিমা কপালে হাত চেপে দুই জাত শত্রুর কথোপকথন শুনছে। এরা বন্ধু না শত্রু তা তার মাথায় আসে না। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ষোলো আনা তবে স্বীকার করতে রাজি না। আবার ঘুরেফিরেও বেড়ায় একসাথে। মেহরিমার মন চাইল গাছের সাথে মাথা ঠুকে অক্কা পেতে। এদের প্রতিদিনের একি কাহিনি দেখতে দেখতে সে এখন বিরক্ত বোধ করছে। তাহসিনের কথার প্রতিত্তোরে তৈমুর ফোনের ওপাশ থেকে বলল,

"এই নে তোর মেয়ে কথা বলবে।"

তৈমুর মৃদুলার হাতে ফোন ধরিয়ে দেয়। তাহসিন গলা খাঁকারি দিয়ে মোলায়েম কন্ঠে বলল,

"চাচ্চুকে নিয়ে জলদি বাসায় যাও আম্মু। তোমার মাম্মাকে নিয়ে আমিও এখন রওনা হব।"

মৃদুলা মুখ ফুলিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,

"পাপা? তুমি চাচ্চুকে হারে বজ্জাত বললে কেন? আমার চাচ্চু তো গুড বয়। খালামুনিকে আমার চাচ্চু কত্ত লাভ করে তুমি জানো? চাচ্চু আমাকে বলল তুমি নাকি ভিলেন হয়ে যাচ্ছো? আমার পাপা গুড বয়। একদম ভিলেন হবে না কেমন?"

তাহসিন কোনোমতে নিজেকে শান্ত করে মৃদুলাকে বলল,

"তোমার চাচ্চুর কাছে ফোনটা দাও তো আম্মু।"

মৃদুলা তৈমুরের কাছে ফোন দিলে তার কান ঝাঁঝিয়ে উঠে। তাহসিন চিৎকার করে বলে,

"তুই আমার মেয়েকে এইসব কি শেখাচ্ছিস বেয়াদব? একবার আমার হাতের নাগালে আয় শুধু। তোর মাথার সবগুলো চুল একটা একটা করে ছিঁড়ব আমি। তোর লাভ এর আমি গুষ্টিরপিণ্ডি চটকাবো।"

তৈমুর ফোনটা কান থেকে দূরে সরিয়ে খট করে কেটে দিল। এই টেপ রেকর্ডার এখন বন্ধ হবার নয়। তাই সে নিজেই আঙুল চালিয়ে বন্ধ করে দিল।

মৃদুলাকে সামনে বসিয়ে তাকে ছোট্ট হেলমেট টা পড়িয়ে দিয়ে নিজেও হেলমেট মাথায় দিয়ে বাইকে উঠে বসল। মৃদুলা সামনের রাস্তায় আঙুল তাক করে চিৎকার করে বলল,

"লেটস গো ফর সাম ফান, চাচ্চু। ইট'স অ্যামেইজিং। আই লাভ ইট।"

তৈমুর মৃদুলার সাথে সুর মিলিয়ে বলল,

"চাচ্চু অলসো লাভস ইট, সোনা মা।"

বাইক হাওয়ার গতিতে চলতে শুরু করে। মৃদুলা একটু পরপর আনন্দে চিৎকার করে এটাসেটা বলছে। তার চাচ্চুর সাথে সে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে।

তাহসিন মাথার চুল খামচে ধরে। এই তৈমুরকে নিয়ে তাকে প্রতিদিন কিছু সময় ডিপ্রেশনে থাকতে হয়। মেহরিমা ভ্রু কুঁচকে তাহসিনকে বলে,

"আপনার মনে হচ্ছে না, দিন দিন খারুচ হয়ে যাচ্ছেন আপনি? তৈমুর ভাইয়ার সাথে এমন কেন করেন বলেন তো? ওসব তো এমনিই মজা করে বলে। কোথায় আমাদের আট নয় বছরের নিষ্পাপ আর কোথায় চব্বিশ বছরের তৈমুর ভাইয়া। আপনিও বেশি রিয়েক্ট করে ফেলেন।"

তাহসিন হতাস বদনে তাকায় অর্ধাঙ্গিনীর পানে। তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে বলে,

"তুমি ওই মিচকে শয়তানকে এখনো চেনোনি। ওর হারে হারে শয়তানি। আর তোমার বোন নিষ্পাপ, যে পরিমাণ চকলেট পাগলী! দেখা যাবে চকলেটের লোভ দেখিয়ে, ওই তৈমুর কবুল টাও বলিয়ে ফেলেছে তাকে দিয়ে। আঙ্কেলকে ফোন করে বলতে হবে, তার মেয়েকে যেন সাবধানে রাখে। আর ওই বাড়িতেও আর ঢুকতে দেওয়া যাবে না ওকে। ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে দুই দিন পরপর ওই বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া ঘোচাচ্ছি আমি।"

মেহরিমা মুখ ফস্কে বলে ফেলে,

"কুল ব্রো কুল!"

মেহরিমা মুখে হাত চেপে ধরে সহসা। তাহসিন মাথা চাপড়ে বলে,

"দেখলে? তোমার মধ্যেও ওই বেটার স্বভাব চলে এসেছে। আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে তোমরা। অতিশয় আমার দেখা পাবে পাবনায়। তখন সেখানে গিয়েও বলে এসো,

কুল ব্রো কুল, সেন্টারফ্রুট চাবাও। হাহ!"

মেহরিমা মুখ থেকে হাত সরিয়ে বলে,

"আরেহ এতো উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেছে।"

তাদের কথার মাঝেই একজন মহিলা এসে তাহসিনকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"তোমাকে চেনা চেনা লাগছে। আমার চেনা একজনের সাথে অনেক মিল পেলাম তোমার চেহারায়। তাই আর থাকতে না পেরে সরাসরি কথা বলতে চলে এলাম। বিরক্ত করলাম নাকি?"

তাহসিন মাথা তুলে ভদ্রমহিলার দিকে তাকায়। ভদ্র ছেলে তাহসিন গুরুজন সামনে রেখে বসে থাকতে পারল না। উঠে দাঁড়িয়ে মুখে ভদ্রতার হাসি এঁটে বলল,

"কিন্তু আপনাকে তো আমি চিনি না। কখনো দেখেছি বলেও তো মনে হচ্ছে না। কার সাথে মিল পাচ্ছেন আমার?"

ভদ্রমহিলা মুচকি হেসে বলল,

"আচ্ছা সেসব বাদ দাও। তোমার নাম?"

তাহসিন উত্তর দিল,

"তাহসিন সিকদার।"

ভদ্রমহিলার মুখ এবারে আগের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল দেখালো। সে বলল,

"সিকদার বংশ? আমি যদি ভুল না হই, তাহলে তুমি ইব্রাহিম সিকদারের ছেলে?হুবহু বাবার মতোই দেখতে হয়েছো দেখছি।"

তাহসিন অবাক হলো। ভদ্রমহিলা তার বাবার নাম কিভাবে জানলো? সে প্রশ্ন করল,

"আপনার পরিচয় টা? আমার বাবাকে চিনেন কিভাবে?"

তাহসিনের প্রশ্নের বিপরীতে তিনি বললেন,

"তুমি আমাকে চিনবে না। তুমি অনেক ছোট থাকতে আমাদের দেখা হয়েছিল। আমি শিমলা। তোমার মায়ের চাচাতো বোন। তোমার শিমলা খালা।"

তাহসিন চিনতে পারল না। তবুও মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলল,

"জ্বি আচ্ছা। আমাদের বাসায় চলুন? ঘুরে আসবেন নাহয়।"

"না, না! আমার ওতো সময় আছে নাকি বাবা? এখানে কাজে এসেছিলাম। তোমার সাথে দেখা হয়ে ভালো লাগল। আমার তো এখনো গা শিউরে ওঠে তোমার মায়ের বিয়ের দিনের ঘটনা মনে পড়লে। সেদিন যদি ইব্রাহিম ভাই নিজেকে মুক্ত করে আসতে না পারত সময় মতো, তাহলে কেলেঙ্কারির হয়ে যেত। সে কি কান্ড! তার ছোট ভাই ফোন দিয়ে বলেছিল, আমি ইব্রাহিম। আপনার মেয়েকে বিয়ে করব না। আহারে! আমার রুহানির বাপ টা ইব্রাহিম ভাইরে ভুল বুঝে মারা গেল। তোমার ওই বদমাশ চাচাটাই তো ছিল নষ্টের মূল। ভালোই হয়েছে অকালে পুড়ে মরেছিল। তা নাহলে আরও কতজন ওর জন্য বিপদে পড়ত কে জানে!"

তাহসিন এসব গীবত পছন্দ করে। আর না তো সমালোচনায় সামিল হতে সে আগ্রহী। তাই শিমলাকে তার কথা শেষ না হতেই থামিয়ে দিয়ে বলল,

"এসব কথা আমি জানি। তো চলুন? যাওয়া যাক আমাদের বাসায়?"

শিমলা এক গাল হেসে বলল,

"ভবিষ্যতে কোনো একদিন যাবো বাবা। আজ আসি। ভালো থেকো। পাশে কে? তোমার কলিগ নাকি?"

অবশেষে নিজের দিকে কারো চোখ পড়ল ভেবে মেহরিমার নিজেকে ধন্য মনে হলো। এত এত কথা বলার পরে অবশেষে তাকেও যে ভদ্রমহিলা লক্ষ্য করেছেন এটাই তো অনেক। সে বাঁকা চোখে তাকায় তাহসিনের দিকে।

তাহসিন মুখে প্রানবন্ত হাসি ফুটিয়ে বলল,

"জ্বি, আমার কলিগ এডভোকেট মেহরিমা চৌধুরী।"

শিমলা মুখ গোল করে বলল, "ওওও!"

তাহসিন ঠোঁটের হাসি চওড়া করে বলল,

"কলিগের পাশাপাশি তার আরো একটা পরিচয় আছে। আমার ওয়াইফ, এডভোকেট মেহরিমা চৌধুরী।"

মেহরিমার মুখে এবার হাসির ঝলক দেখা গেল। প্রাণবন্ত হাসি। তাহসিনের এবার সাতখুন মাফ হলো। তাকে একটু আগে পাত্তা না দেওয়ার শাস্তি মোচন হলো।

--------------------------------------------

তৃপ্তিদের বাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে আছে নিশাত। তৃপ্তির আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সে। ফর্সা চেহারায় চোখের নিচে থাকা কালো দাগ আর উসকোখুসকো চুলে কেমন যেন বেমানান লাগছে। হয়তো অনেকদিন যাবত শান্তিতে ঘুমোতে পারেনি আর নাহয় চিন্তায় তার এই হাল। একত্রিশ বছর বয়স পার হতে চলল আর সে চার বছর যাবত বউ ছাড়া দেবদাসের ভুমিকা পালন করছে। সে আর সইতে পারে না এই বিরহ। সে এখন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। ভালোবাসার মরণব্যাধি ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করেছে সর্বাঙ্গে। এমনকি মন মস্তিষ্ক পুরোটাই এখন এই মরণব্যাধি ভালোবাসার দখলে। তৃপ্তির মা তৃপ্তিকে বকতে বকতে রান্নাঘরে ছুটলেন। জামাই এসেছে ভালোমন্দ কিছু তো রান্না করতেই হবে। নিশাত আর বসে থাকতে পারে না। আর কত ধৈর্য্য ধরবে সে? এতটা প্রায়শ্চিত্ত করেও কি তৃপ্তির মন পাওয়া যাবে না? তারা দু'জনেই তো ভুলের পথে চলেছিল। তৃপ্তি অতিশয় তার ভুল বুঝতে পেরেছিল আর সে দেরিতে। সেই দেরি করার মাশুল তাকে কড়াইগন্ডায় শোধ করতে হচ্ছে। আর কতটা পুরলে সে শান্তির দেখা পাবে? এতটুকুই কি যথেষ্ট নয়? এভাবে কি জীবন চলতে পারে?

ধুপধাপ পা ফেলে নিশাত সিড়ি বেয়ে তৃপ্তির রুমের সামনে যায়। দরজা বন্ধ করে তৃপ্তি ভেতরে বসে আছে। এতগুলো বছরেও একটু কথা বলার তৃষ্ণা সে মেটাতে পারল না।

নিশাত ক্লান্ত ভঙ্গিতে হাত বাড়িয়ে দরজায় খটখট করে মৃদু আওয়াজ করে। শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে মুখ ফুটে বলে,

"তৃপ্তি দরজা খোলো। আজকে তোমাকে ছাড়া এ বাড়ি থেকে এক পা ও নড়ছি না। তারাতাড়ি বের হও প্লিজ। আরেহ আমার ভুল হয়ে গেছে। আর কতটা শাস্তি দিবে? এবারে কি ক্ষমা করা যায় না? আমি প্রতিদিন আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করি জানো? যাতে করে আমাদের কোল জুড়ে আমাদের না দেখা সন্তানের মতোই আরও কয়কে ডজন সন্তান আল্লাহ আমাদের রহমত সরুপ দান করেন। এই তৃপ্তি বের হও। দেখো? আমি ভীষণ ক্লান্ত। আর কি করলে তুমি আমার সাথে যাবে? গলায় দড়ি নেব? নাকি তোমাদের বাড়ির ছাঁদ থেকে লাফ দেবো বলো? যা বলবে তাই করব।"

নিশাত আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। চোখ ফেটে কান্নাগুলো অশ্রু হয়ে ঝড়তে থাকে। সে আবারও বলল,

"বিশ্বাস করো তৃপ্তি আমি সেদিন ইচ্ছে করে তোমাকে ধাক্কা দেইনি। আর না তো আমি জানতাম তোমার গর্ভে আমার অনাগত সন্তান। এই তৃপ্তি! ক্ষমা করা যায় না?"

খট করে দরজা খোলার আওয়াজ হয়। নিশাত নিজেকে সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলে তৃপ্তি তাকে ধরে। নিশাত কিছু বুঝে ওঠার আগেই তৃপ্তি নিশাতের দু গালে সপাটে কয়েকটা চড় লাগিয়ে দেয়। নিশাত তৃপ্তির হাত দুটো মুঠোবন্দি করে বুকের সাথে চেপে ধরে। তৃপ্তি চোখের অশ্রু বিসর্জন দিতে দিতে বলে,

"তোমার জন্য, শুধুমাত্র তোমার জন্য আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি। কোন মুখ নিয়ে এসেছো আমার সামনে? চলে যাও তুমি। চলে যাও এখান থেকে। আমি আজও তোমার মুখ দেখতে চাই না। তোমাকে দেখলেই আমার কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়।"

নিশাত মাথা উঁচু করে বড় একটা নিঃশ্বাস নেয়। তার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। সে তৃপ্তিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। তৃপ্তি নিজেকে ছাড়াতে চাইলে নিশাত তাকে জোর করেই ধরে রাখল। বলল,

"এবার বাড়ি চলো তৃপ্তি। তোমার যেমন তার জন্য কষ্ট হয় তেমনি আমার কষ্টটাও কোনো অংশে কম নয়। প্রতিদিন গুমরে মরি আমি। আমাকে উদ্ধার করো এবারে। দয়া করে। দয়া করে চলো আমার সাথে। এবারে ফিরিয়ে দিলে আমি আর বাঁচতে পারব না। দয়া করো।"

চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

[আর একটা পর্ব, আর তারপরই তাদের সাথে আপনাদের যাত্রা শেষ। এই শেষ সময়টুকুতে নিজেদের অনুভুতিগুলো স্মৃতি হিসেবে রেখে যান যতনে রাখিব তারে'র নাম করে। তাদের নিয়ে যা অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে আপনাদের মনে তাই নাহয় বলে যান?]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন