ফন্ট সাইজ:
থিম:
যতনে রাখিব তারে

৪৪তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া জান্নাত সুমী

#যতনে_রাখিব_তারে

#অন্তিম_পর্ব

#লেখনিতে_সুরাইয়া_জান্নাত_সুমী

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

"হ্যালো, খালামুনি? ভালো আছো? মৃদুলা মিস ইউ সো মাচ। আমি তোমার জন্য কান্না করেছি জানো? পাপা আর মাম্মা অনেক দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি তোমার কাছে চলে যাবো। তখন পাপা আর মাম্মা আমার জন্য কান্না করবে।"

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে মৃদুলা থামলো। তাহসিন আর মেহরিমা একে-অপরের দিকে তাকালো হতাশ বদনে। শানায়ার কাছে কল করে নালিশ দিচ্ছে সে বাবা মায়ের নামে। শানায়া মনোযোগ দিয়ে শুনলো মৃদুলার কথা। মৃদু হেসে সে বলল,

"খালামুনিও তোমাকে খুব মিস করছি সোনা। কালকেই মিনহাজকে বলব তোমাকে এখানে নিয়ে আসতে। তুমি আর কান্না করো না কেমন? তা নাহলে খালামুনি তো খুব কষ্ট পাবো। মৃদুলা তো গুড গার্ল তাই না সোনা? পাপা আর মাম্মাকে খুব বকে দিব।"

মৃদুলা নাক টেনে বলল,

"আচ্ছা ঠিক আছে খালামুনি। বেশি করে বকে দিয়ো কেমন? এবার রাখো। আমি তৈমুর চাচ্চুর সাথে কথা বলব। গুড বাই।"

মৃদুলা নিজেই কল কেটে দিয়ে তৈমুরের নাম্বারে কল লাগাল। তৈমুর কল রিসিভ করলে মৃদুলা পুনরায় নাক টানল। সে চোখ ছোট ছোট করে তার বাবাকে বলল,

"আমার নাকটা মুছে দাও পাপা। সর্দি এসেছে। দেখেছো? আমি কতটা কান্না করেছি।"

হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে তাহসিন উঠে টিস্যু নিয়ে আসল। মেয়ের নাকে টিস্যু চেপে ধরে মুছে সর্দি মুছে দিয়ে প্রাণপ্রিয় স্ত্রীর পাশে গিয়ে বসল। মৃদুলা সব রাগ অভিমানের কথা তার চাচ্চুকে বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

তাহসিন মেহরিমার কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে বলল,

"কেন এমনটা করো বলো তো? ফ্রিজে আইসক্রিম অবশিষ্ট ছিল তিনটা। তুমি কি করলে? মেয়ের সামনে দুটো সাবাড় করে তার আইসক্রিম টাও অর্ধেক খেয়ে নিলে। এখন তার অভিমান অভিযোগ কয়েকদিন পর্যন্ত বজায় থাকবে। বোকা বউ থেকে বাচ্চা বউ এ কনভার্ট হয়েছো দেখছি। এখন আবার ব্যাগ ভর্তি করে আইসক্রিম নিয়ে আসলাম। সেগুলো দুজনের একজন ও ছুঁয়ে দেখছো না।"

মেহরিমা তাহসিনের একটা হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে তার আঙুলের ভাঁজে আঙুল গলিয়ে তার কাঁধেই মাথা রাখল। পরম শান্তিতে চোখ বুঁজে আসে মেয়েটার। কালকে শুক্রবার ছুটির দিন। তবে মেহরিমা দুই দিনের জন্য অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিল। মৃদুলার স্কুল ও বন্ধ।

তাহসিন সকালে গিয়েছিল অফিসে। মেহরিমার কথায় এগারোটা পার না হতেই তাকে বাড়িতে আসতে হয়েছে। চঞ্চল মেয়েটার খেয়াল রাখা এতটাও সহজ না। সারাদিন বায়না করতে থাকে। একটু কিছু হলেই মুখ ফুলিয়ে রাখবে। আর বাঁধ ভাঙা চোখের জল তো আছেই। মেহরিমাকে হিমসিম খেতে হয় মৃদুলাকে সামলাতে। তাহসিন বাসায় আসার পর নিজেও জেদ ধরে মৃদুলাকে কাঁদিয়ে দিয়েছে তার আইসক্রিম খেয়ে নিয়ে। এখন তাহসিন সামলাক তার আদরের মেয়েকে। খুব বেশি ব্যস্ততার জন্য মৃদুলার বয়স যখন আরও কম ছিল, তখন প্রয়োজনে তাকে শানায়া বা তার নানু বাড়িতেও রাখা হয়েছিল। সকলের আদরে আদরে বড় হয়েই এখন এতটা জেদ অভিমান করতে পটু মৃদুলা।

ক্লান্ত স্ত্রীর মাথায় আদুরে ভাবে হাত বুলিয়ে দিতে থাকল ধৈর্য্যশীল তাহসিন সিকদার। হঠাৎ মেহরিমা ডুকরে কেঁদে ওঠে। তাহসিনের পেট জড়িয়ে ধরে ডুকরে কাঁদার জন্য তার শরীর থেকে থেকে কেঁপে ওঠে। সঙ্গে তাহসিনের ও।তাহসিন উদ্বিগ্ন হলো স্ত্রীর কান্নার কারণ জানার জন্য।

"কি হয়েছে বউ পাখি? কাঁদছ কেন বলো তো? খারাপ লাগছে? আমাকে বলো কি হয়েছে? ক্লান্ত লাগছে? এই মেহরিমা? মৃদুলার মাম্মা? বলবে না?"

মেহরিমা নাক টানে। ভাঙা গলায় বলে,

"ভালো লাগছে না। কিছুই ভালো লাগে না। আপনার এই বুকটাতে মাথা রাখলে প্রচন্ড শান্তি লাগে। কাজের প্রেশারে আর মৃদুলাকে সামলাতে সামলাতে নিজের জন্য কোনো সময়-ই থাকে না। অনেক বেশি ক্লান্ত লাগে। কিচ্ছু ভালো লাগে না।"

তাহসিন মনোযোগ দিয়ে শুনল সবটুকু। মেহরিমাকে সামলাতে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

"তুমি চাইলে কাজ থেকে বিরতি নিতে পারো। তোমার যেমনটা ভালো লাগে তেমনটাই করতে পারো। আমি তোমাকে কখনো কোনো কিছুর জন্য জোর করিনি। আমার হাত পা সব ঠিকঠাক আছে। সংসার সামলানোর জন্য যতটুকু আয় প্রয়োজন তার থেকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের রিজিকে একটু বেশিই দিয়েছেন। তুমি নাহয় আমার ঘরণী হয়ে থেকো। কি বলো? আমি জানি গৃহিণীদের সারাদিন অনেক ধকল সহ্য করতে হয়। তাই যতটুকু সময় পাব ততটুকু সময়ই নাহয় আমার একান্ত ঘরণীর খেদমত করব। চলবে না?"

মৃদুলা কথা বলতে বেলকনিতে গিয়েছিল। রুমে এসে মাকে কাঁদতে দেখে সেও ঠোঁট উল্টে শব্দ করে কেঁদে দেয়। দৌড়ে বাবা মায়ের কাছে ছুটে এসে তাদের মাঝখানে জায়গা করে নেয়। মায়ের চোখমুখে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,

"মাম্মা তুমি কাঁদছিলে কেন? তুমি কান্না করলে তো মৃদুলারও ভিষণ কান্না পায়। কেঁদো না মাম্মা। এরপর থেকে আমার আইসক্রিম টাও তোমাকে খেতে দিব। তবুও কান্না করো না মাম্মা।"

ছোট্ট মৃদুলা ভাবছে আইসক্রিম নিয়ে এমন আচরণ করায় মা হয়তো কষ্ট পেয়েছে। আর তাই তার এতো কান্না। অবুঝ মস্তিষ্ক এতকিছু বুঝল না। যা বুঝল তা নিতান্তই বাচ্চা মনের চিন্তাধারা। মনে মনে ভেবে নিল সে। মাকে আর কোনো কষ্ট দিবে না। মায়ের বাধ্য মেয়ে হয়ে থাকবে। তাহলে হয়তো তার মাম্মা আর কষ্ট পাবে না। কষ্ট না পেলে তো কান্নাও করবে না। মায়ের বুকে মাথা রেখে চুপটি করে জায়গা নিল মৃদুলা। মেহরিমার কান্নামাখা মুখশ্রীতে এক পশলা হাসির দেখা মিলল। তাহসিনের দিকে তাকালো সে। যে কিনা স্ত্রী আর মেয়েকে নয়ন ভরে দেখছে। এত সুখ সে রাখবে কোথায়। আল্লাহ তায়ালা তার ঘরে দু দুটো রহমত দান করেছেন। তাহসিনের মনে হলো তার মতো ভাগ্যবান পুরুষ পৃথিবীতে খুব কম আছে। যার সংসারে এমন স্ত্রী সন্তান রয়েছে সে নিশ্চিন্তেই একজন সৌভাগ্যবান পুরুষ। একজনের চোখে অশ্রু দেখলে আপনা আপনি অপরজনের চোখে অশ্রু আসাই তার প্রমাণ হয়তোবা। কাঠখোট্টা তাহসিনের চোখেও কিছুটা অশ্রু ভীড় জমালো।

স্ত্রী এবং সন্তানের চোখ থেকে অশ্রু মুছে দিল পরম যত্নে। সেই সঙ্গে মা মেয়ে দুজনেও তাহসিন নামক সুপুরুষ টার চোখের অশ্রু মুছে দিল ঠোঁটের কোণে প্রাণবন্ত হাসি ফুটিয়ে। মৃদুলা তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,

"পাপা, ঘুমাব না? ঘুম পেয়েছে তো। ঘুম পাড়িয়ে দাও।"

তাহসিন মৃদুলাকে কোলে তুলে নিল। বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মেহরিমার কাছে এসে তার হাত ধরে টেনে তুলল।

একপাশে মেয়ে আর অপরপাশে স্ত্রী দু'জনেই দুই পাশ থেকে তাহসিনকে জাপ্টে ধরেছে। মৃদুলার ঘন ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সে এখন ঘুমে কাঁদা।

বাবাকে ছেড়ে সে এখন তার পাশে থাকা ছোট্ট কোলবালিশটার উপর পা তুলে দিয়েছে। তাহসিন তাদের মাঝখান থেকে উঠে বসল। মেহরিমার দিকে একবার তাকিয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো।

মেহরিমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে আচানক তাকে পাঁজা কোলে তুলে নিল। মেহরিমা ঘাবড়ে গিয়ে তাহসিনের গলা জড়িয়ে ধরল। মৃদুলার দিকে একপলক তাকিয়ে সুধাল,

"কি হয়েছে আপনার? আপনার মতলব ভালো ঠেকছে একদম। আমায় নামিয়ে দিন না! মেয়েটার ঘুম ভেঙে গেলে? ছাড়ুন বলছি।"

তাহসিন মেহরিমার কানের কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"কিচ্ছু হবে না। আমাদের রুমে যাচ্ছি ম্যাডাম। অনেকদিন হলো আলাপ হয় না ঠিকঠাক। আজকে একটু আলাপ করি? অনেক আলোচনা সমালোচনাও তো শুনতে হবে নাকি? চলুন ম্যাডাম দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।"

অতঃপর কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে অগ্রসর হলো নিজেদের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। মেহরিমার পুরো শরীর হিম হয়ে আসল। স্বামী নামক এই পুরুষটার সান্নিধ্যে আসলে পাল্লা দিয়ে বুকের ধুকপুক শব্দটা ধীরে ধীরে বেড়েই চলে।

--------------------------------

"বাবা, তারাতাড়ি উঠছো না কেন? পুরান ঢাকায় যেতে যে যথেষ্ট সময় লাগে তা কি তোমার অজানা? উফ! তোমাকে নিয়ে আর পারা যায় না। বাবা জলদি ওঠো বলছি।"

নিষ্পাপ তার বাবার রুমে এসে জানালার কপাট খুলে দিয়ে পর্দাগুলো সরিয়ে দিল। বাহির থেকে এবারে খানিক আলো রুমটায় প্রবেশ করল। অন্ধকারে ছেয়ে থাকা রুমটা আলোর সান্নিধ্যে এসে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। নিষ্পাপ রুমের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে রাখতে জাহিদ চৌধুরীকে উঠতে বলল।

তার কথায় জাহিদের হেলদোল না দেখে সে বলল,

"নিষ্পাপ অপেক্ষা করছে বাবা৷ আমাদের দেরি হলে রাগ করবে না বুঝি? তোমার প্রিয়তমা কষ্টে জর্জরিত হয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। আর তুমি কিনা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছ। কি আশ্চর্য!"

ওমনি নিষ্পাপের কানে হুরমুর করে বিছানা থেকে নামার শব্দ আসলো। এইতো এখন উঠলেন তিনি। নিষ্পাপ দুইদিকে মাথা নাড়িয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। জাহিদ বিছানায় বসে মাথায় হাত চেপে। হঠাৎ এভাবে ওঠায় মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠল। সাদা পাকা চুলগুলোয় হাত বুলিয়ে জাহিদ ভাবল, নিষ্পাপ তো সতেরো বছর বয়সী কিশোরী কন্যায় রয়ে গেল। কিন্তু সে যে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ আরো কত বছর হায়াত লিখে রেখেছেন কে জানে! আজকাল ভীষণ অস্থির হয়ে থাকে মন মস্তিষ্ক। ছোট্ট নিষ্পা বড় হয়ে যাচ্ছে। তার মাথায় এখন কত দায়িত্ব। তবে মেয়েটার বয়স কম হলেও বেশ বুঝদার। ভালোমন্দ বুঝতে পারা সবই তার নাগালে।

জাহিদ আর কিছু না ভেবে ফ্রেশ হয়ে নিল। একেবারে রেডি হয়ে সে ড্রয়িংরুমে এসে বসল। সায়ন্তী বেগম নিষ্পাপকে খাইয়ে দিচ্ছে। বাড়ির ছোট সদস্য যে, আদর তো একটু বেশিই পাবার কথা। আর সে যদি হয় জাহিদের নয়নের মণি তাহলে তো কথাই নেই।

জাহিদ চৌধুরী ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসল। নিজেও দুপুরের খাবারটা খেয়ে নিল তৃপ্তি সহকারে।

জয়ন্তী বেগম বাটিতে করে পায়েস এনে দিল নিষ্পাপের সামনে। সঙ্গে তৃপ্তিকেও আওয়াজ তুলে ডাকলেন।

চঞ্চল পায়ে দোতলা থেকে সায়ানকে নামতে দেখা গেল। সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়ে তাকে দারুণ দেখাচ্ছে। এমনিতেও সে যা পড়ে তা সব সময় মানানসই হয়।

সায়ন্তী বেগম সায়ানকে তারাহুরো করতে দেখে বললেন,

"এত ব্যস্ততা কিসের? আজকে তো অফিস থেকেও ছুটি নিয়েছো শুনলাম। কোথায় যাবে?"

সায়ান হাসফাস করতে করতে বলল,

"সময় নেই আম্মু। জলদি যেতে হবে। দোয়া করো যাতে জলদি বাড়িতে ফিরতে পারি।"

সায়ন্তী বেগমের ভ্রদ্বয় সহসা কুচকে আসলো। সে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলল,

"ছুটি নিয়েছো ঠিক আছে। কোথাও যেতে হবে না। আজ বরং বিশ্রাম নাও।"

সায়ন্তী বেগমের কথা শেষ হওয়ার আগেই সায়ান বেড়িয়ে গেছে বাড়ির দরজা পেড়িয়ে।

সায়ন্তী বেগম চেয়ার ছেড়ে উঠে বড় দরজাটার কাছে এসে দাঁড়ালেন। দেখতে পেলেন সায়ান ইতিমধ্যে চঞ্চল পা ফেলে বাড়ির মূল ফটক পেড়িয়ে চলে যাচ্ছে।

-------------------------

তাহসিন মেহরিমাকে নিয়ে পাশেই একটা দোকানে গিয়েছে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কেনার জন্য। তৈমুর মৃদুলাকে নিয়ে বাস আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। তৈমুর তাহসিনদের এগিয়ে দিয়ে যেতে এসেছে। তারা গ্রামের বাড়িতে যাবে। মৃদুলা তৈমুরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "কোলে নাও চাচ্চু। পায়ে ব্যথা করছে। আর দাঁড়িয়ে থাকব না।"

তৈমুর মৃদুলাকে কোলে তুলে নিল। জিজ্ঞেস করল,

"চাচ্চুকে মিস করবে তো সোনা মা?"

মৃদুলা উপর নিচ মাথা ঝাকিয়ে বলল,

"অনেক বেশি মিস করব চাচ্চু।

তৈমুরের মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি আসলো। পকেট থেকে সেন্টারফ্রুট বের করে একটা মৃদুলার মুখে দিয়ে অন্যটা নিজের মুখে পুড়ে চাবাতে লাগল সে। যদিও বাচ্চাদের এমন কথা জিজ্ঞেস করা উচিত নয়। তবুও সে জানতে আগ্রহী। সে প্রশ্ন করল,

"তুমি তোমার পাপা আর মাম্মার মধ্যে কাকে বেশি ভালোবাসো সোনা মা?"

মৃদুলা চোখ ছোট ছোট করে তার চাচ্চুর দিকে তাকাল। বলল, "উমম, কাকে বেশি ভালোবাসি?"

তৈমুর উপর নিচ মাথা দুলালে মৃদুলা বলল,

"এটা সিক্রেট। আমার পাপা আর মাম্মা ছাড়া কেও জানে না। তাই কানে কানে ফুসফুস করে বলতে হবে।"

তৈমুর মৃদুলার ভুল ধরে বলল,

"ওটা ফুসফুস নয় সোনা মা। ফিসফিস বলে।"

মৃদুলা চোখ পিটপিট করে বলে,

"মৃদুলা যখন বলেছে ফুসফুস তারমানে ফুসফুস-ই। তুমি ছোট তাই বুঝবে না। এবার কানে কানে ফুসফুস করে বলি শোনো।"

তৈমুর হার স্বীকার করল। মৃদুলা তৈমুরের কান দু'হাতের সাহায্যে ঢেকে ফিসফিস করে বলল,

"আমি আর মাম্মা দু'জনে মিলে পাপাকে ভালোবাসি। পাপা আর আমি মাম্মাকে একটু বেশি ভালোবাসি। আর পাপা আর মাম্মা দু'জনেই আমাকে অনেক বেশি বেশি ভালোবাসে। একদম সমান সমান।"

তৈমুর বাকরুদ্ধ হলো। সে ভেবেছিল মৃদুলা একজনের নাম বলবে। কিন্তু তার চিন্তাধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মৃদুলা তার উত্তরটা অন্যভাবে দিয়ে দিল। ঠিকই তো! যেখানে একটা সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে বাবা মা দু'জনের গুরুত্বই রয়েছে। সেখানে কাকে বেশি ভালোবাসো এটার উত্তরে একজনের নাম কেন আসবে? মৃদুলা ভেবে পায় না সে কাকে বেশি ভালোবাসে। বাবার কথা বলতে গেলে মায়ের মুখটা ভেসে ওঠে আর মায়ের কথা বলতে গেলে বাবার ক্লান্ত মুখশ্রীটা ভেসে ওঠে কল্পনাতে। মৃদুলা তখন দ্বিধায় পড়ে যায়। তাই তো সে এভাবে অভিনব কৌশলে এই প্রশ্নের উত্তরটা দেয় চুপিসারে। মৃদুলা ও তার বাবা মা এই নিয়ে একদিন বৈঠকে বসেছিল। তখন তার বাবা তাকে এই উত্তরটা শিখিয়ে দিয়েছে।

বাস এসে পড়েছে। তৈমুর মৃদুলাকে তাহসিনের কোলে তুলে দেয়। তাদের থেকে বিদায় নিয়ে সে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। এইতো সুযোগ বাবার সাথে সব ভুল বোঝাবুঝি চুকিয়ে নেওয়ার। দুই দিনের দুনিয়ায় এত রাগ অভিমান পুষিয়ে রেখে লাভ কি?

তাহসিনদের বাড়িতে আসতে বেশ রাত হয়ে গেল। তবে কোনোকিছু পরিষ্কার করার ঝামেলা নেই। তাহসিন আগেই একজনকে বলে রেখেছিল যাতে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে তাদের বাড়িটা পরিষ্কার করে রাখে।

বাড়ির মূল ফটকের সামনে এসে তারা তিনজন দাঁড়ায়।

উঠানে জ্বলজ্বল করা বৈদ্যুতিক লাইটের আলোয় বাড়িটা সম্পূর্ণ পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। মৃদুলার হুস নেই। সে বাবার কাঁধে মাথা এলিয়ে দিয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

মেহরিমা মৃদুলার হাত আলতোভাবে ঝাঁকিয়ে বলল,

"মৃদুলা? চোখ খুলো মাম্মাম। দেখো আমাদের বাড়িতে চলে এসেছি।"

"ডেকো না। কালকে দেখে নিবে এখন ঘুমাক।"

কথাটা বলে তাহসিন মেহরিমার বাহু চেপে ধরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। চারিপাশের বড় বড় ফুল গাছ গুলোয় প্রচুর ফুল ধরেছে। অদূরেই একটা আম গাছ দেখা যাচ্ছে। মেহরিমা মুচকি হাসলো। তার সেই আম পাতার নূপুরের কথা মনে পড়ে গেল।

মেহরিমাকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে তাহসিন তাকে টেনে তাদের রুমটায় নিয়ে আসল। বাড়িটা নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাহসিনের। মাঝে মাঝেই এখানে তাদের আাসা হয়। তাই স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্যই তাহসিনের এমন ভাবনা। ততক্ষণে মৃদুলা জেগে উঠেছে। চোখ পিটপিট করে সে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিয়ে ঘুম মিশ্রিত কন্ঠে বলল,

"আমরা কি এসে গেছি পাপা?"

মেয়েকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে তাহসিন তাকে জানালো তারা সত্যি তাদের বাড়িতে এসে গেছে। মৃদুলার ঘুম উবে গেল। সে খাট থেকে নেমে দাঁড়ালো। অবুঝ গলায় বলল,

"তাহলে চলো বাহির থেকে ঘুরে আসি?"

"না মা, এখন তো রাত। তাই আমরা কালকে বাহিরে ঘুরতে যাব।"

মেহরিমা মৃদুলাকে কোলে নিয়ে বলল,

"আমরা এখনি রাত্রি বিলাস করতে বাহিরে যাচ্ছি। আপনিও আসুন।"

"ফ্রেশ হয়ে নাও আগে।"

"আচ্ছা আসুন তাহলে।"

তাহসিন তাদের দুজনকে নিয়ে হাতমুখ ধুয়ে আসলো কলপাড় থেকে। সকলে এসে বারান্দায় বসল। একেকজনের মনে একেকরকম ভাবনা। তবে সেই ভাবনাগুলো আবার একে-অপরকে ঘিরেই।

তাহসিনের কিছু একটা মনে পড়তেই সে তড়িঘড়ি করে রুমে গিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মাথায় আবার আসল। মেহরিমা আর মৃদুলার সামনে এসে বসল সে। বলল,

"তোমাদের পা এগিয়ে দাও দেখি।"

মেহরিমা চোখ পিটপিট করে তাকালো তার স্বামীর দিকে। সে আন্দাজ করতে পেরেছে কি হতে পারে। মৃদুলার পা আর তার পা সামনে এনে হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালো সে। বলল,

"দেখুন, পায়ের নূপুর গুলো এখনো চকচক করছে। আপনি আবারও নূপুর গড়িয়ে নিয়ে এসেছেন তাই না? পাঁচ বছরে মা মেয়ের কতগুলো নূপুর জমা হয়েছে বলুন তো?"

তাহসিন মাথা চুলকে বলল,

"জমা হয়েছে হতে দাও, সমস্যা কোথায়? আমারও তো কিছু শখ আছে তোমাদের ঘিরে। এবার চুপটি করে বসে থাকো দেখি।"

তাহসিন মেহরিমার পা থেকে আগের নূপুরগুলো খুলে রাখল। তার নিয়ে আসা নতুন নূপুর জোড়া পড়িয়ে দিল। মেহরিমার দিকে একপলক তাকিয়ে মেয়ের দিকে তাকালো। যে কিনা চাতক পাখির ন্যায় মুখ ফুলিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। মৃদুলার চোখ হাত দিয়ে ঢেকে তাহসিন মেহরিমার পায়ে ফটাফট কয়েকটা চুমু দিল।

মেহরিমা লজ্জায় শেষ। এই লোকটা এত বেশি অসভ্য হচ্ছে কেন কে জানে! তাহসিন মুচকি হাসল। মেয়ের চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে তার পায়েও নূপুর পড়িয়ে দিল আগের গুলো খুলে রেখে। মৃদুলা মুখ ফুলিয়ে বলল,

"তুমি মাম্মাকে আগেই নূপুর পড়িয়ে দিলে কেন?"

তাহসিন বুঝতে পারল না কি জবাব দেওয়া উচিত। তবে মৃদুলাকে উস্কে দিতে মেহরিমা বলল,

"কারণ তোমার পাপা আমাকে বেশি ভালোবাসে।"

মৃদুলা ঠোঁট উল্টে কান্না করে দিল। তার বাবা তাকে বেশি ভালো না বেসে তার মাকে কেন বেশি ভালোবাসে এটা ভেবেই তার কান্নার আওয়াজ বাড়ল। মেহরিমা শব্দ করে হাসল মেয়ের কান্ড দেখে।

তাহসিন হাত বাড়িয়ে মৃদুলাকে কোলে তুলে নেয়।

আর বলে,

"কে বলল তোমার মাম্মাকে আমি বেশি ভালোবাসি? আমি তো আমার ছোট্ট সোনামণিকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। তাই না প্রিন্সেসের মাম্মা?"

মেহরিমা মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো। এবারে মৃদুলা একটু থামল। তাহসিন হাত বাড়িয়ে মেহরিমাকে টেনে তার পাশে এনে বসাল। তাহসিনের বাহু জড়িয়ে ধরে তার কাঁধে মাথা রাখল মেহরিমা।

তাহসিন মেয়ের ললাটে স্নেহের পরশ একে স্ত্রীর ললাটে পরপর কয়েকবার অধর ছুঁইয়ে বলল,

"ধন্যবাদ আমার সুখেরা। আমার জীবনের সুখ হয়ে আসার জন্য।"

---------------------------------

বধূ বেশে নিজের ঘরে বসে রয়েছে রেশমা। একটু পরেই সে অন্য ঘরের ঘরণী হয়ে যাবে। চিরচেনা এই নীড়ে আর আগের মতো থাকা হবে না। বিধাতা তার ভাগ্যটা একটু পরিবর্তন করলে কি এমন ক্ষতি হতো এটা ভেবেই তার মনটা আজ ভীষণ শোকাহত। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হৃৎস্পন্দনটা বেড়েই চলেছে। দেয়ালে টিকটিক শব্দ করতে থাকা ঘড়ি টার দিকে তাকাল রেশমা। কয়টা বাজে? চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে আসায় তা টের পেল না সে। মনের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তে সে এখন হীনমন্যতায় ভুগছে। তার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। বিধাতা তার মনে একজন নিষ্ঠুর মানবের জন্য এত কেন অনুভূতি দিলেন কে জানে? সে তো ফিরতি ভালোবাসা পাবে বলে ভালোবাসেনি। তবুও মনটা কেন যে এত আনচান করছে! বিধাতার কাছে প্রশ্ন রইল রেশমার। মনটা আহাজারি করে উঠল সেই নিষ্ঠুর মানবকে একপলক দেখার জন্য।

নেশাগ্রস্তের ন্যায় সে বিছানায় বসে ঢুলছে।

পরনের লাল শাড়িটা গায়ে চকচক করছে। রুমে সে ব্যতীত দ্বিতীয় কেও নেই। নিজের নিঃশ্বাসের শব্দটা নিজের কাছেই কেমন বিদঘুটে লাগছে।

আচ্ছা, সেও কি একখানা চিঠি লিখবে? নাহ! ওসব রেশমার পোষায় না। দেখা যাবে দুইটা শব্দ লিখেই সে ধৈর্য্যহারা হয়ে গেছে। ধৈর্য্য শব্দ এখন আর তার সাথে যায় না। সে এখন অধৈর্য্য। বড্ড বেশি অধৈর্য্য। জাত কূল ভুলে সে প্রেমে পড়ে বড্ড বেশি পাপ করেছে বোধহয়।

তার এতসব ভাবনা চিন্তার মাঝেই দরজা খোলার আওয়াজ পেল সে। কে আসল তা চোখ তুলে তাকিয়ে দেখার প্রয়োজন বোধ করল না। দরজা আটকানোর শব্দে এবার রেশমার ঘোর কাটল পুরোপুরি।

খুব চেনা পরিচিত কন্ঠস্বরের মালিকটি ডাকল,

"রেশমা?"

চোখ দুটো বুঝি আরেকটু ঘোলাটে হলো। সে চোখ তুলে তাকাবে না। কল্পনায় বারবার এসে তাকে ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়ালেই তো উধাও হয়ে যাবে। আজ সে বড্ড অভিমানী। তাকাবে না ওই শুভ্র পুরুষের দিকে। কেন তাকাবে? সে তো তাকে কষ্টে জর্জরিত করে একা ছেড়ে দিয়েছিল। সে তাকাবে না। চোখ তুলে একপলক দেখে মনের তৃষ্ণা মেটানোর আকাঙ্খা কেমন যেন মলিন হয়ে গেল। তবুও একটা চিন্তা মাথাতে বড্ড পীড়া দিল। এখন চোখ তুলে না তাকালে যদি বড্ড বেশি দেরি হয়ে যায় তখন? সে অকাম করে বসেছে। তার সাক্ষী এখন হাতের মুঠোয়। কিছুক্ষণ পরই বিয়ের লগ্ন। তাকে নিতে আসবে লোকজন। টানাপোড়েন নিয়ে সে চোখ তুলে তাকালো। শুভ্র পুরুষটা চাতক পাখির ন্যায় তার দিকেই তাকিয়ে। তার চোখেমুখে বিস্ময়ের ছাপ। সে কি ব্যথিত? তাকে কষ্ট দিয়ে সে কি এখন নিজেও খানিক কষ্ট অনুভব করছে?

কেন এসেছে সে? এই অন্তিম মুহুর্তে ধূ ধূ মরুভূমির মাঝে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে নামার বৃথা চেষ্টা করতে বুঝি?

সায়ান চোখ ভরে সম্মুখে থাকা শ্যামলা বর্ণের রেশমাকে দেখল। টুকটুকে লাল শাড়িতে অন্যের বধূ হওয়ার জন্য বুঝি প্রহর গুনছে মেয়েটা। কি আশ্চর্য! শেষ মুহুর্তে সে তো শুধু একপলক দেখতে এসেছিল মেয়েটাকে৷ মনটা হাহাকারে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগল। এতগুলো বছর তো সে আড়ালেই ছিল।

জাত কূল ভুলে সেও তো কত আগেই প্রেমে পড়েছিল এই নারীর। অনুভূতি মলিন করার আশাতেই তো এতগুলো বছর দূরে থাকা। মেয়েটা ভালো আছে তো? বিয়ের দিন চোখমুখ উজ্জ্বল থাকার বদলে এমন মলিন দেখাচ্ছে কেন তাহলে? সে উল্টো ঘুরে ঘরের দরজা খুলে দিল।

বের হতে যেতে চেয়েও অসার পা নিয়ে আগাতে পারল না শক্তি জুগিয়ে। বাহিরে মানুষের আনাগোনা আর গানবাজনার শব্দটা বেড়েই চলেছে।

সায়ানের মনকে শান্ত করতে রিনরিনে কন্ঠে রেশমা বলে উঠল,

"চলে যাচ্ছেন?"

সায়ান তড়িৎ গতিতে পিছু ফিরে তাকালো। গলা থেকে স্বর বের হতে চাইছে না। মনে হচ্ছে কেও টিপে ধরেছে গলাটা।

তবুও রেশমাকে মনঃক্ষুণ্ন না করে সে উত্তর দিল,

"একপলক দেখার আশাতেই এসেছিলাম। তোমাকে বিরক্ত করতে চাইনি। দুঃখিত।"

রেশমার প্রচন্ড রাগ লাগল। সে বিছানা থেকে ঢুলুঢুলু পায়ে এগিয়ে আসল সায়ানের কাছে। কোনো বার্তা ছাড়াই চেপে ধরল তার শার্টের কলার। জবাবদিহি চাইল,

"কেন এসেছেন আমার জীবনের অন্তিম মুহুর্তে? একবুক হাহাকার নিয়ে যাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারি এই আশাতেই? একজনকে মনে রেখে অন্যজনকে জীবনে জড়িয়ে তাকে ধোকা দিব কি করে আমি? জানেন? আমি না তৃপ্তি সহকারে বি'ষ খেয়ে নিয়েছি।"

সায়ান আঁতকে উঠলো। রেশমার বাহু চেপে ধরে বলল,

"কি করেছো তুমি? বি'ষ খেয়েছো? এই মেয়ে তুমি পাগল হয়েছো? এটা কি করেছো তুমি?"

রেশমা ছেড়ে দিল সায়ানকে। পুনরায় বিছানায় গিয়ে বসল সে। সায়ানের দিকে তাকালো নয়ন ভরা অশ্রু নিয়ে।

সায়ানের বুকটা ছলাৎ করে উঠল।

সে এগিয়ে আসল রেশমার কাছে। বলল,

"এমনটা কেন করলে রেশমা?"

রেশমার মুখ থেকে ফেনা গড়িয়ে পড়তে শুরু করল। নিজেকে সামলাতে সে বিছানায় মাথা পেতে শুয়ে পড়ল। অস্ফুটস্বরে বলল,

"ওইযে? কথায় আছে ভালোবাসলাম তো মরলাম।"

সায়ানের বুকে ব্যথা শুরু হলো। নিঃশ্বাস যেন আটকে আসতে লাগল। বুকে হাত চেপে ধরল সে। পাঁচ বছরে দু’বার স্ট্রোক করা ছেলেটার বুক মোচড় দিয়ে উঠল অসহনীয় যন্ত্রণায়। তাল সামলাতে না পেরে ছটফট করতে থাক রেশমার উপরে পড়ে গেল সে। অন্তিম মুহুর্তে প্রেয়সীকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরল ছেলেটা।

আর কোনো কথা নেই। নেই কারো সাড়াশব্দ। উভয়েই ক্লান্ত মুখে পড়ে রইল একে-অপরের মাঝে। মিশে গেল হয়তো তাদের আত্মা দুটো। দুজনের হৃৎস্পন্দনটা খানিক বাজল তাল মিলিয়ে। অতঃপর, একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে পৃথিবীর সামান্য অক্সিজেন শুষে নেওয়ার পর তাদের দেহখানি আর তা গ্রহণের উপযোগী থাকল না।

— সমাপ্ত —

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন