ফন্ট সাইজ:
থিম:
নূরের পথে ফিরে আসো (২য় খন্ড)

১৬তম পর্ব

লেখক: নূরায়া মেহনাজ

#নূরের_পথে_ফিরে_আসা { ২য় খন্ড }

#পর্ব_১৬

#Nuraya_Mehnaz_নূরায়া_মেহনাজ

[ লেখিকার নাম ব্যতীত কপি করা নিষেধ 🚫]

সকালের সোনালি রোদ ছড়িয়ে পড়েছে ‘নূরের পল্লী’-র নবনির্মিত ভবনগুলোর ওপর। সূর্যের আলোয় ঝলমল করে উঠছে প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়াল যেন একটি স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততা থেকে অনেক দূরে, প্রকৃতির স্নিগ্ধ কোলে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে এই অনন্য জনপদ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই ওমরের অক্লান্ত পরিশ্রম, চৌধুরী সাহেবের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সবার দোয়া ও প্রচেষ্টায় নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

চারপাশজুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানক্ষেত। সেখান থেকে ভেসে আসা শীতল বাতাসে মিশে আছে ভেজা মাটির সোঁদা সুবাস। দূরে পাখিদের কিচিরমিচির আর গাছের পাতায় মৃদু বাতাসের দোলা মিলিয়ে জায়গাটিকে যেন এক টুকরো প্রশান্তির নীড়ে পরিণত করেছে।

যে ভূমিতে একদিন কেবল স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছিল, আজ সেই মাটিতেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এমন এক আশ্রয়, যেখানে ইনশাআল্লাহ অসহায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁইই পাবে না, বরং দ্বীনের আলো, শিক্ষা, ভালোবাসা ও মানবিকতার ছায়াতেও বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

হায়াত আজ গর্ভাবস্থার অষ্টম মাসে পা দিয়েছে। দিন দিন তার চলাফেরা আরও ধীর হয়ে এসেছে। সামান্য হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠে, তবু মুখমণ্ডলে ফুটে উঠেছে এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি। মাতৃত্বের পবিত্র ঔজ্জ্বল্য যেন তাকে এক স্বর্গীয় সৌন্দর্যে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। তাকে দেখলেই মনে হয়, মহান আল্লাহর এক অমূল্য আমানতকে বুকে ধারণ করে আছে সে।

ডা. তাসনিম বারবার কঠোরভাবে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিবারের সবাইও চেয়েছিল, হায়াত যেন অকারণে কোথাও না যায়। কিন্তু আজ সে নিজেই অনুরোধ করেছিল একবার ‘নূরের পল্লী’ দেখে আসবে। যে স্বপ্নের জন্য তারা এত সংগ্রাম করেছে, যে স্বপ্নের পেছনে এত দোয়া, এত ত্যাগ আর এত পরীক্ষা লুকিয়ে আছে, সেই স্বপ্নকে নিজের চোখে আরেকবার দেখতে চেয়েছিল সে।

হায়াতের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে ওমর তাকে নিয়ে এল সেখানে। তবে এক মুহূর্তের জন্যও তাকে নিজের থেকে দূরে যেতে দিল না।

মেঠো পথ ধরে ধীরে ধীরে হাঁটছিল তারা। ওমর হায়াতের হাত নিজের হাতে ধরে রেখেছিল, যেন সামান্য আচরও তার স্ত্রীর গায়ে না লাগে। কখনো পথের ছোট্ট গর্ত এড়িয়ে চলতে বলছে, কখনো আবার থেমে জিজ্ঞেস করছে,

— "ক্লান্ত লাগছে না তো? একটু বসবেন?"

হায়াত শুধু মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।

ওমরের চোখে তখন এক অপার্থিব মমতা আর ভালোবাসা। সে বারবার স্ত্রীর দিকে তাকাচ্ছিল, আর মনে মনে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছিল। এই নারী শুধু তার জীবনের সঙ্গী নন; সে তার ঈমানের শক্তি, তার দুআর সাথি এবং তাদের অনাগত সন্তানের মা। তাই হায়াতের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি হাসি আর প্রতিটি নিঃশ্বাস আজ ওমরের কাছে অমূল্য এক আমানতের মতো।

‘নূরের পল্লী’র একপাশে নির্মিত হয়েছে একটি দীর্ঘ একতলা ভবন। ভবনটি সাজানো হয়েছে এমনভাবে যাতে অসহায়, বিধবা ও সহায়-সম্বলহীন নারীরা সেখানে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প, সেলাই, পোশাক তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। উদ্দেশ্য একটাই যেন তারা কারও কাছে হাত না পেতে, সম্মানের সঙ্গে নিজের জীবিকা অর্জন করতে পারেন।

অন্যপাশে তৈরি করা হয়েছে ছোট্ট কিন্তু দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ। তার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে একটি হিফজখানা, যেখানে ছোট ছোট শিশুরা কুরআনুল কারিম হিফজ করবে এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা লাভ করবে। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা নির্মল পরিবেশ যেন পুরো জনপদটিকে এক প্রশান্তির আবরণে ঢেকে রেখেছে।

আমিনা আপু সেদিন কয়েকজন এতিম ও অসচ্ছল কিশোরীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে কাজের অগ্রগতি দেখছিলেন। হায়াতকে আসতে দেখেই মেয়েগুলোর মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

তারা ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে এসে হায়াতকে ঘিরে দাঁড়াল। কেউ মুগ্ধ চোখে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, কেউ আবার লাজুক ভঙ্গিতে তার হিজাব ধরে রইল। তাদের নিষ্পাপ চোখে ছিল অফুরন্ত কৌতূহল, মমতা আর আপনজনকে কাছে পাওয়ার এক নির্মল আনন্দ।

হায়াত স্নেহভরা হাসি দিয়ে একে একে সবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। সেই মুহূর্তে তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন একজন মমতাময়ী বড় বোন কিংবা স্নেহশীলা মা নিজের সন্তানদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন।

মেয়েগুলোর মধ্য থেকে সাত-আট বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে লাজুক ভঙ্গিতে সামনে এগিয়ে এল। তার বড় বড় নিষ্পাপ চোখ দুটি কৌতূহলে ভরা। সে কিছুক্ষণ হায়াতের উঁচু পেটের দিকে তাকিয়ে থেকে সরল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

— "আপু, আপনার পেটের ভেতরে কি আমাদের জন্য একটা নতুন বন্ধু আছে?"

মেয়েটির নিষ্পাপ প্রশ্ন শুনে চারপাশে মৃদু হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ল।

হায়াতও মুচকি হেসে নিচু হয়ে মেয়েটির মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিল। তারপর ভালোবাসা মেশানো কণ্ঠে বলল,

— "হ্যাঁ, সোনা। আল্লাহ চাইলে খুব শিগগিরই ও এই পৃথিবীতে আসবে। তখন তোমাদের সঙ্গেই খেলবে, তোমাদের সঙ্গেই কুরআন শিখবে, পড়ালেখা করবে আর একসঙ্গে বড় হবে। তবে তার আগে তোমরা সবাই ওর জন্য দোয়া করবে, যেন আল্লাহ ওকে সুস্থ রাখেন, নেককার বানান এবং দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দান করেন।"

ছোট্ট মেয়েটি আনন্দে মাথা নেড়ে বলল,

— "আমি আজ থেকেই আমাদের নতুন বন্ধুর জন্য দোয়া করব।"

মেয়েটির সরল কথায় উপস্থিত সবার মুখেই হাসি ফুটে উঠল।

আমিনা আপু কিছুক্ষণ হায়াতের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখে আনন্দের সঙ্গে কৃতজ্ঞতার অশ্রুও চিকচিক করছিল। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বললেন,

— "হায়াত, একটা সময় তুমি জীবনের কঠিন অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটেছ। কিন্তু দেখো, আল্লাহ তাঁর রহমতে আজ তোমাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন, যেখানে তুমি শুধু নিজের জীবনই বদলাওনি; বরং অসংখ্য অসহায় মেয়ের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছ।"

তিনি মৃদু হেসে আরও বললেন,

— "মহান আল্লাহর দরবারে আন্তরিক তাওবা কত বড় নেয়ামত, তা তোমার জীবন দেখলেই বোঝা যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি পাপ থেকে তাওবা করে, সে যেন এমন ব্যক্তি, যার কোনো পাপই ছিল না।' (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২৫০)।"

আমিনা আপু স্নেহভরে হায়াতের হাত নিজের হাতে নিয়ে বললেন,

— "তাই কখনো অতীতের কারণে নিজেকে ছোট করে দেখবে না। আল্লাহ যখন একজন বান্দার তাওবা কবুল করেন, তখন তিনি তার জন্য নতুন পথ খুলে দেন। আজ তোমার জীবনও সেই রহমতেরই এক সুন্দর সাক্ষ্য। তোমার চরিত্র, তোমার ধৈর্য আর তোমার ঈমান এসবই আজ অনেক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। আল্লাহ তোমাকে এই নেক পথে অটল রাখুন। আমীন।"

আমিনা আপুর কথাগুলো শুনে হায়াতের চোখ ভিজে উঠল। সে নিঃশব্দে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে নিজের রবের শুকরিয়া আদায় করল। তার হৃদয়ে তখন একটাই অনুভূতি—আল্লাহর রহমত কখনো কোনো আন্তরিক তাওবাকারীর জন্য বন্ধ হয় না।

পল্লীর পেছনে বিস্তীর্ণ আমবাগানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন রহমান কাকা। বয়সের ভারে তাঁর শরীর কিছুটা ন্যুব্জ হলেও চোখের সতর্কতা এতটুকুও কমেনি। হাতে একটি দূরবীন নিয়ে তিনি চারপাশের প্রতিটি গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে বিপদ সবসময় প্রকাশ্যে আসে না; অনেক সময় তা নীরবেই কাছে এগিয়ে আসে।

রহমান কাকা খুব ভালো করেই জানতেন, রোহান এখন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আর কোণঠাসা শত্রুই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। কারণ যখন একজন অপরাধী বুঝতে পারে তার সব পথ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছে, তখন সে শেষ চেষ্টা হিসেবে আরও ভয়ংকর ও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

তাই তিনি এক মুহূর্তের জন্যও অসতর্ক হতে রাজি নন। তাঁর দৃষ্টি বারবার পল্লীর প্রতিটি প্রবেশপথ, চারপাশের গাছপালা আর দূরের মেঠোপথে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। যেন সামান্যতম অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

তিনি মনে মনে শুধু দোয়া করছিলেন,

"হে আল্লাহ, আপনি এই পল্লীকে, এর প্রতিটি মানুষকে এবং ওমরের পরিবারকে আপনার বিশেষ হেফাজতে রাখুন। শত্রুর সব ষড়যন্ত্র তাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিন। নিশ্চয়ই আপনিই সর্বোত্তম রক্ষাকারী।”

এদিকে রোহান খবর পেয়েছে আজ ওমর ও হায়াত ‘নূরের পল্লী’ পরিদর্শনে আসবে। পুলিশ তার খোঁজে শহরজুড়ে তল্লাশি চালালেও সে ছদ্মবেশ ধারণ করে শহরের বাইরে এই নিরিবিলি গ্রামীণ এলাকায় আত্মগোপন করে আছে।

একের পর এক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় তার ক্রোধ এখন চরমে। প্রতিশোধের আগুন তাকে অন্ধ করে দিয়েছে। নিজের মনে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজই শেষবারের মতো এমন একটি আঘাত হানবে, যা ওমর কোনোদিন ভুলতে পারবে না।

পল্লীর পেছনের নিচু সীমানাপ্রাচীরের আড়ালে ছদ্মবেশে লুকিয়ে ছিল তার দুই সহযোগী। চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে করতে তারা রোহানের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। কিছুক্ষণ পর ফোনের ওপাশ থেকে রোহানের কণ্ঠ ভেসে এলো,

— "মনে রেখো, আমার লক্ষ্য ওমর নয়। ওর সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকেই ভেঙে দিতে হবে। এমনভাবে কাজ করবে, যেন ওর জীবনের সুখ-শান্তি মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। কোনো ভুল যেন না হয়।"

কথাগুলো বলেই রোহান ফোন কেটে দিল।

প্রাচীরের আড়ালে নেমে এল চাপা নীরবতা। দূরে ‘নূরের পল্লী’র ভেতরে শিশুদের হাসির শব্দ আর মানুষের কোলাহল শোনা যাচ্ছিল, অথচ সেই শান্ত পরিবেশের অদৃশ্য ছায়ায় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র।

কিন্তু রোহান বুঝতেই পারেনি তার প্রতিটি পদক্ষেপ অনেক আগেই রহমান কাকার নজরে ধরা পড়ে গেছে। আমবাগানের ঘন ছায়ার আড়াল থেকে রহমান কাকা দূরবীন চোখে লাগিয়ে প্রাচীরের পাশে লুকিয়ে থাকা সন্দেহজনক লোকগুলোর গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তাদের আচরণ দেখেই তিনি নিশ্চিত হয়ে গেলেন বিপদ খুব কাছেই।

তিনি আর সময় নষ্ট না করে মোবাইল ফোনটি বের করলেন। আগে থেকেই নির্ধারিত গোপন সংকেতটি পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিয়োজিত টিমের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। বার্তা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোনটি সাইলেন্ট করে আবার চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলালেন। রহমান কাকা জানতেন, এখন সামান্য অসতর্কতাও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই তিনি নিজেও দ্রুত নিরাপদ একটি অবস্থান নিলেন, যাতে প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে ওমর ও হায়াতকে সতর্ক করতে পারেন কিংবা শত্রুর পরিকল্পনা নস্যাৎ করার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।

তাঁর ঠোঁট নীরবে নড়ছিল। তিনি বারবার দোয়া করছিলেন,

"হে আল্লাহ, আপনি সত্যের পথে চলা এই মানুষগুলোর হেফাজত করুন। শত্রুর সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিন। নিশ্চয়ই আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকারী।"

চারদিকে তখনও সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও অদৃশ্যভাবে শুরু হয়ে গেছে সত্য আর অন্যায়ের মধ্যকার আরেকটি কঠিন লড়াই।

দুপুর গড়িয়ে আসতেই সবাই মসজিদের প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবে বলে ঠিক করল। চারদিকে এক প্রশান্ত নীরবতা বিরাজ করছিল। কেউ গাছের ছায়ায় বসে গল্প করছিল, কেউবা নীরবে তাসবিহ পড়ছিল। হঠাৎ সেই শান্ত পরিবেশে এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেল।

পল্লীর পেছনের আমবাগানের দিক থেকে মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি বিদ্যুৎগতিতে ছুটে এলো। তাদের চলাফেরা এতটাই দ্রুত ছিল যে, প্রথমে কেউ কিছু বুঝে উঠতেই পারল না। একজনের হাতে ছিল ক্ষতিকর রাসায়নিকভর্তি একটি স্প্রে ক্যান, আর অন্যজনের হাতে চকচকে ধারালো অস্ত্র।

তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই—হায়াত।

চারপাশে মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।

— "ধরো! ধরো!"

— "আল্লাহ! ওরা কারা?"

চারদিক থেকে চিৎকার ভেসে উঠতেই পরিবেশ মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল হয়ে গেল। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে ওমর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। বজ্রগতিতে এগিয়ে এসে হায়াতের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরকে তার জন্য ঢাল বানিয়ে দিল। দুই হাত প্রসারিত করে সে স্ত্রীকে নিজের আড়ালে সরিয়ে নিল। তার চোখে তখন ভয় নয়, ছিল একজন দায়িত্বশীল স্বামীর অটল সাহস। গর্জে উঠে সে বলল,

— "হায়াত! আপনি একদম আমার পেছনে থাকুন!"

ওমরের সেই বজ্রকণ্ঠ চারপাশের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে ছড়িয়ে পড়ল। তার চোখ স্থির হয়ে রইল হামলাকারীদের দিকে। আজ নিজের প্রাণের বিনিময় হলেও হায়াত ও তাদের সন্তানেে কোনো বিপদ হতে দেবে না।

আর ঠিক তখনই আমবাগানের দিক থেকে আরেকটি ছায়ামূর্তি দ্রুত তাদের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করল…

#চলবে_ইনশাআল্লাহ 🦋

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন