᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟎6
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
হসপিটালের করিডোরে নার্স সারার চিৎকার যেন এক ধারালো ছুরির মতো নিস্তব্ধতা চিরে দিল। মর্গের বরফশীতল ঘর থেকে একটা আস্ত মৃতদেহ উধাও হয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। দিলরুবা লক্ষ্য করল, খবরটা শোনার পর ডক্টর এড্রিয়ানের চোখে কোনো বিস্ময় নেই, বরং সেখানে এক ধরণের তৃপ্তি খেলা করছে—যেন ঠিক যা হওয়ার কথা ছিল, তা-ই হয়েছে।
দিলরুবা কোনো কথা না বলে দ্রুত মর্গের দিকে ছুটল। তার পিউর ব্লাড আবার তার শিরার ভেতর চঞ্চল হয়ে উঠছে। সে যখন মর্গের ভারী লোহার দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল, এক ধাক্কায় একরাশ হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস তাকে গ্রাস করল। সেখানকার প্রতিটি ড্রয়ার বন্ধ, কেবল সেই বিশেষ ড্রয়ারটি হাঁ করে খোলা—যেখানে সেই রক্তহীন লোকটির দেহ রাখা ছিল।
মর্গের সাদা টাইলসের মেঝেতে কোনো ধস্তাধস্তির চিহ্ন নেই। কিন্তু দিলরুবা যখন নিচু হয়ে মেঝেটা খুঁটিয়ে দেখল, তার নীল চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ধরা পড়ল এক অদ্ভুত রেখা। ওটা কোনো সাধারণ কাদা বা ধুলো নয়—ওটা এক ধরণের সূক্ষ্ম ধূলিকণা, যা থেকে সেই পরিচিত রক্তাক্ত গোলাপের ঘ্রাণ আসছে।
❝আপনি যা খুঁজছেন ডক্টর হানিফ, তা হয়তো এই জগতে নেই।❠
এড্রিয়ানের কণ্ঠস্বর তার ঠিক পেছন থেকে ভেসে এল।
দিলরুবা ঘুরে দাঁড়িয়ে কঠিন স্বরে বলল, ❝আপনি কি জানেন বডিটা কোথায় গেছে? আপনি তো কাল সারারাত এখানেই ছিলেন!❠
এড্রিয়ান ধীর পায়ে খোলা ড্রয়ারটার দিকে এগিয়ে গেল। সে তার দস্তানা পরা হাত দিয়ে ড্রয়ারের ভেতরটা স্পর্শ করল। ❝রক্তহীন শরীরগুলো বেশিক্ষণ মৃত থাকে না ডক্টর। তাদের যখন 'উৎস' থেকে দূরে রাখা হয়, তারা নিজেরাই তাদের প্রভুর কাছে ফেরার পথ খুঁজে নেয়। যাকে আপনি মৃত ভেবেছিলেন, সে হয়তো কেবল এক দীর্ঘ ঘুমের অপেক্ষায় ছিল।❠
দিলরুবা শিউরে উঠল।
❝তার মানে আপনি বলতে চাইছেন... সে বেঁচে উঠেছে?❠
এড্রিয়ান উত্তর না দিয়ে ড্রয়ারের ভেতর থেকে একটা লাল পাপড়ি তুলে নিল। ওটা সেই রক্তাক্ত গোলাপেরই অংশ। ❝মিস্টহ্যাভেনে কোনো কিছুই চিরকাল মরে থাকে না। বিশেষ করে যখন আপনার মতো একজন 'পিউর ব্লাড' এই শহরের মাটিতে পা রাখে, তখন ছায়ারাও শরীর ফিরে পায়।❠
দিলরুবা আর সেখানে দাঁড়াল না। সে বুঝতে পারল এড্রিয়ানের সাথে কথা বলা মানেই গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাওয়া। সে দ্রুত হসপিটালের ছাদে উঠে এল। ভোরের আলো এখন অনেকটা পরিষ্কার। আকাশ থেকে সেই রক্তাভ ভাবটা কেটে গেছে, কিন্তু কুয়াশা এখনো বনের কিনারায় জমাট বেঁধে আছে।
ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে দিলরুবা বনের দিকে তাকাল। তার মনে হলো, বনের ভেতর থেকে একজোড়া চোখ তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সে একা নয়। এই শহরে তার প্রতিটি পদক্ষেপ কেউ একজন আগে থেকেই লিখে রেখেছে।
হঠাৎ তার পকেটে থাকা ফোনটা কেঁপে উঠল। তার মা মিসেস জেসিকার নম্বর থেকে একটা মেসেজ এসেছে:
❝দিলু, ঘরে ফিরিস না। ওরা আমাদের কটেজটা ঘিরে ফেলেছে। বনের সেই পুরনো গির্জায় চলে যা, ওখানে তোর বাবার একটা গোপন সিন্ধুক লুকানো আছে। কেবল তোর রক্তই ওটা খুলতে পারবে।❠
মেসেজটা পড়েই দিলরুবার রক্ত হিম হয়ে এল। তার পরিবার বিপদে। সে বুঝতে পারল, ক্যাসেল থেকে রিক্তহস্তে ফিরে আসলেও সে আসলে একা ফেরেনি—সে নিজের সাথে করে এক অলৌকিক ধ্বংসের সংকেত নিয়ে এসেছে।
সে হসপিটালের ছাদ থেকে নিচের দিকে তাকাল। দেখল এড্রিয়ান পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে আবার সেই নীল চশমাটা চোখে পরছে। সে যেন জানত দিলরুবা এখনই পালাবে।
দিলরুবা আর সময় নষ্ট করল না। সে পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে হসপিটালের সীমানা পেরিয়ে বনের সেই গভীর অন্ধকারের দিকে ছুটল। তার পেছনে হসপিটালের সাইরেন বাজছে, কিন্তু তার কানে বাজছে কেবল সেই প্রাচীন সুর—যা তাকে বনের সেই পরিত্যক্ত গির্জার দিকে ডাকছে।
সে জানে না সেই সিন্ধুকে কী আছে, কিন্তু সে অনুভব করতে পারছে যে তার পিউর ব্লাড-এর আসল ক্ষমতা এখন প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায়। বনের বাতাস তাকে জাপটে ধরছে, আর গোলাপের সেই মাদকতাময় ঘ্রাণ তাকে দিশেহারা করে দিচ্ছে। সে ছুটছে, আর তার প্রতিটি পদক্ষেপে বনের লতাগুলো সাপের মতো নড়ে উঠছে।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
বনের বুক চিরে দিলরুবা যখন ছুটছে, তখন মিস্টহ্যাভেনের আকাশ আবার ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে। কুয়াশাগুলো এখন আর কেবল স্থির নেই, সেগুলো যেন জীবন্ত সাপের মতো তার পায়ের চারপাশ দিয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। তার অ্যাপ্রনটা ডালপালার ঘষায় ছিঁড়ে গেছে, কিন্তু সেদিকে তার খেয়াল নেই। তার পুরো মনোযোগ এখন বনের সেই পরিত্যক্ত গির্জার দিকে।
পাইন বনের গভীরতম অংশে, যেখানে আলো পৌঁছাতেও ভয় পায়, সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই জরাজীর্ণ গির্জা। গির্জাটির চূড়ায় থাকা ক্রুশটি বহু আগেই ভেঙে পড়েছে, আর পুরো কাঠামোটি এখন বুনো লতা আর রক্তাক্ত গোলাপের ঝাড়ে ঢাকা। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, গির্জার চারপাশের কয়েক হাত জায়গার ভেতর কোনো কুয়াশা নেই—যেন এক অদৃশ্য সুরক্ষা কবচ একে ঘিরে রেখেছে।
দিলরুবা গির্জার ভারী কাঠের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। ভেতরে বাতাসের ঝাপটায় মোমবাতিগুলো জ্বলে ওঠার কথা ছিল না, কিন্তু সে পা রাখতেই বেদির ওপর রাখা ধুলোমাখা শৌখিন মোমদানিতে নীল শিখা দাউদাউ করে জ্বলে উঠল।
ঘরের এক কোণে, ধুলোর স্তূপের নিচে একটি পাথরের স্ল্যাব নজরে এল। দিলরুবা তার হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ধুলো সরাতেই দেখল সেখানে তার বাবার সেই পরিচিত সীলমোহর—যার কথা বইতে লেখা ছিল।
স্ল্যাবের ঠিক মাঝখানে একটি সরু গর্ত।
সে কোনো দ্বিধা না করে তার পকেট থেকে সেই রূপোর সিরিঞ্জটা বের করল। কিন্তু তারপর সে ভাবল, সিরিঞ্জ নয়—তার নিজের রক্তই এখানে চাবিকাঠি। সে তার আঙুলের ডগাটা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরল। গাঢ় নীলচে আভা মেশানো এক ফোঁটা 'পিউর ব্লাড' গর্তটির ভেতর পড়ল।
সাথে সাথে গির্জার মেঝেতে এক কম্পন শুরু হলো। পাথরের স্ল্যাবটি দুভাগে ভাগ হয়ে নিচে নেমে গেল এবং সেখান থেকে উঠে এল একটি কালো কাঠের ছোট সিন্ধুক। সিন্ধুকটির গায়ে কোনো তালা নেই, কিন্তু তার ওপর রাখা আছে একটি প্রাচীন খঞ্জর, যার বাঁটটি হীরায় মোড়ানো।
দিলরুবা সিন্ধুকটি খুলতেই তার ভেতরে দেখল—একটি পুরনো ম্যাপ, একটি লকেট আর একটি আধপোড়া চিঠি। চিঠিটি তার বাবার হাতের লেখা। সে কাঁপাকাঁপা হাতে চিঠিটি পড়তে শুরু করল:
❝দিলরুবা, যদি তুমি এই চিঠি পড়ছ, তবে বুঝে নিও মিস্টহ্যাভেনের ছায়ারা জেগে উঠেছে। তোমার শিরার ওই পিউর ব্লাড কেবল এক উপহার নয়, ওটা এক অভিশাপ। যারা গোলাপের ক্যাসেল পাহারা দেয়, তারা তোমাকে দেবীর মতো পূজা করবে না, বরং তোমাকে শৃঙ্খলিত করবে। এই লকেটটি পরবে—এটি তোমার শরীরের ঘ্রাণকে ধামাচাপা দেবে। আর মনে রেখো, যাকে তুমি 'কুয়াশায় ঢাকা ছায়া' বলে অনুভব করছ, সে তোমার রক্ষক নয়... সে তোমার চিরকালীন মালিক হতে চায়।❠
দিলরুবা লকেটটি তুলে নিল। ওটা পরার সাথে সাথে সে এক অদ্ভুত শীতলতা অনুভব করল। তার ভেতরের সেই চৌম্বকীয় টান এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তার মানে, এই লকেটটি রিভানের সেই অদৃশ্য প্রভাব থেকে তাকে রক্ষা করবে।
হঠাৎ গির্জার বাইরে থেকে কারো অট্টহাসি ভেসে এল। দিলরুবা দ্রুত সিন্ধুকটি নিয়ে আড়ালে লুকাল। গির্জার ভাঙা জানালা দিয়ে সে দেখল, বনের সেই কুয়াশা থেকে ডক্টর এড্রিয়ান বেরিয়ে আসছে।
কিন্তু এবার তার পরনে ডাক্তারদের অ্যাপ্রন নেই। সে পরে আছে এক দীর্ঘ কালো ভেলভেটের আলখাল্লা। তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে হসপিটাল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া সেই রক্তহীন মৃতদেহটি। কিন্তু এখন সে আর মৃত নয়—সে এখন এড্রিয়ানের আজ্ঞাবহ এক পিশাচ।
❝দিলরুবা হানিফ, লুকোচুরি শেষ করার সময় হয়েছে!❠
এড্রিয়ান গির্জার দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।
সে ভেতরে ঢুকতে পারছে না, যেন এক অদৃশ্য দেয়াল তাকে বাধা দিচ্ছে।
❝তোমার বাবা খুব চালাক ছিলেন, কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে পিউর ব্লাড-এর গন্তব্য সবসময় তার প্রভুর পায়ের কাছে।❠
এড্রিয়ান তার হাত নাড়তেই তার পেছনের সেই পিশাচটি গির্জার সুরক্ষাবলয় ভাঙার চেষ্টা করল। গির্জার দেওয়ালগুলো থরথর করে কাঁপতে শুরু করল।
দিলরুবা লকেটটা শক্ত করে ধরল। সে বুঝতে পারল, গির্জার এই সুরক্ষা বেশিক্ষণ টিকবে না। তাকে এখন লড়তে হবে। কিন্তু সে একাই নয়। তার ব্যাগে থাকা সেই খঞ্জরটি এখন এক তীব্র নীল আলো বিকিরণ করছে।
সে যখন খঞ্জরটি হাতে নিল, তখন সে অনুভব করল তার পিউর ব্লাড তার শরীরের প্রতিটি পেশিকে লোহার মতো শক্ত করে তুলছে। সে এবার আর পালানোর পথ খুঁজছে না। সে দরজার দিকে ঘুরে দাঁড়াল, তার নীল চোখের সেই রক্তিম বিন্দুটি এখন আগুনের পিণ্ডের মতো জ্বলছে।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
গির্জার ভেতরটা এখন এক রণক্ষেত্রের পূর্বাবাস দিচ্ছে। ধুলোমাখা বাতাসের ভেতর নীল আগুনের শিখাগুলো উন্মত্তের মতো কাঁপছে। এড্রিয়ান ডার্কউড—যার শান্ত ডক্টর মূর্তির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক প্রাচীন অন্ধকার—এখন তার আসল রূপে গির্জার পবিত্র সীমানার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তার ফ্যাকাশে ঠোঁটে এক পৈশাচিক হাসি, আর তার কালো চোখ দুটো যেন আগুনের কয়লার মতো জ্বলছে।
গির্জার দেওয়ালগুলো যখন পিশাচটার প্রবল আঘাতে ধসে পড়তে শুরু করল, দিলরুবা পিছু হটল না। সে অনুভব করতে পারছে, তার বাবার রেখে যাওয়া সেই লকেটটি তার ঘাড়ের কাছে বরফের মতো শীতল হয়ে আছে, যা তাকে রিভানের ওই মায়াবী টান থেকে আড়াল করে রেখেছে। কিন্তু সামনের বিপদটা বাস্তব এবং প্রাণঘাতী।
❝দিলরুবা, তুমি কি সত্যিই মনে করেছিলে মিস্টহ্যাভেনের মতো এক অভিশপ্ত শহরে আমি কেবল চিকিৎসা করতে এসেছি?❠
এড্রিয়ান তার দীর্ঘ কালো আলখাল্লাটা সামলে নিয়ে আরও এক পা এগিয়ে এল। সুরক্ষাবলয়ের অদৃশ্য দেওয়ালটা এখন নীল স্ফুলিঙ্গ ছড়াচ্ছে।
❝শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমি তোমার মতো এক 'পিউর ব্লাড'-এর অপেক্ষা করেছি। ওই ক্রিমসন প্রিন্স তোমাকে কেবল তার সংগ্রহের একটি পুতুল বানিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু আমি... আমি তোমার ওই নীল রক্ত দিয়ে এক নতুন সাম্রাজ্য গড়তে চাই!❠
এড্রিয়ানের কণ্ঠস্বরে এখন আর কোনো মানবিকতা নেই। এটি এক আদিম ভিলেনের হুঙ্কার। সে তার হাতটা সামনের দিকে প্রসারিত করল, আর তার নখগুলো মুহূর্তের মধ্যে কয়েক ইঞ্চি লম্বা আর ধারালো হয়ে উঠল।
দিলরুবা সেই প্রাচীন খঞ্জরটা আরও শক্ত করে ধরল।
❝তুমিই তবে মর্গের ওই লোকটাকে মেরেছিলে? তুমিই তার রক্ত শুষে নিয়েছিলে?❠
এড্রিয়ান অট্টহাসি দিয়ে উঠল।
❝ওটা তো কেবল একটা পরীক্ষা ছিল ডক্টর। আমি দেখতে চেয়েছিলাম, তোমার ওই 'Bloodtouch' ক্ষমতা কতটা শক্তিশালী। কিন্তু তুমি দয়া দেখিয়ে তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের ক্ষমতার উৎসটা আমার সামনে পরিষ্কার করে দিলে। এখন, হয় তুমি নিজে থেকে আমার কাছে ধরা দাও, নয়তো এই পবিত্র গির্জা তোমার সমাধি হবে!❠
ঠিক তখনই গির্জার ছাদটা মড়মড় শব্দে ভেঙে পড়ল। সেই পিশাচটি—যাকে দিলরুবা হসপিটালে মৃত ভেবেছিল—এখন এক বিকট গর্জন দিয়ে গির্জার ভেতর লাফিয়ে পড়ল। তার শরীর থেকে পচা মাংসের গন্ধ বেরোচ্ছে। সে দিলরুবার দিকে তেড়ে এল।
দিলরুবা তার ডাক্তারী জীবনের সমস্ত ভয় দূরে ঠেলে দিয়ে নিজের ভেতরের সেই অবদমিত শক্তিকে মুক্তি দিল। সে যখন খঞ্জরটি দিয়ে পিশাচটার বুকে আঘাত করল, তার হাত থেকে এক তীব্র নীল রশ্মি ঠিকরে বেরোলো। খঞ্জরটি পিশাচের শরীরে বিঁধতেই সেটা ছাইয়ের মতো ধূলিসাৎ হয়ে গেল। কিন্তু এই শক্তির প্রয়োগে দিলরুবার নিজেরও প্রচুর এনার্জি খরচ হলো; সে হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসে পড়ল।
❝চমৎকার!❠
এড্রিয়ান ধীর পায়ে গির্জার ভেতর ঢুকল। সুরক্ষাবলয়টা ভেঙে গেছে।
❝তোমার রক্তে যে এত তেজ, তা আমি কল্পনাও করিনি। কিন্তু তুমি ক্লান্ত, দিলরুবা। একা তুমি আমাকে হারাতে পারবে না।❠
এড্রিয়ান যখন দিলরুবার চুলের মুঠি ধরে তাকে টেনে তোলার জন্য হাত বাড়াল, ঠিক সেই মুহূর্তে বনের গভীর থেকে এক অমানুষিক গর্জন ভেসে এল। গির্জার চারপাশের সেই রক্তাক্ত গোলাপের লতাগুলো যেন হঠাৎ পাগল হয়ে উঠল। সেগুলো সাপের মতো গির্জার জানালার ভেতর দিয়ে ঢুকে এড্রিয়ানের হাত পা বেঁধে ফেলতে লাগল।
এড্রিয়ান যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। গোলাপের প্রতিটি কাঁটা এখন আগুনের মতো উত্তপ্ত। সে বুঝতে পারল, এই আক্রমণ তার জন্য নয়—এটি এই বাগানের আসল অধিপতির সংকেত।
দিলরুবা অস্পষ্ট চোখে দেখল, গির্জার সদর দরজায় কুয়াশা ভেদ করে একটি অবয়ব ফুটে উঠছে। সে এখনো তাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না, কিন্তু সেই হিমশীতল রাজকীয় উপস্থিতি তাকে জানিয়ে দিচ্ছে—ক্রিমসন প্রিন্স তার সম্পত্তিকে রক্ষা করতে চলে এসেছে।
এড্রিয়ান রক্তমাখা মুখ নিয়ে দিলরুবার দিকে তাকিয়ে ঘৃণাভরে বলল,
❝আজ হয়তো আমি হেরে যাচ্ছি, কিন্তু মনে রেখো দিলরুবা—আমি যা শুরু করেছি, তা শেষ না করে থামব না। রিভানের ছায়া তোমাকে বেশিদিন আগলে রাখতে পারবে না।❠
এড্রিয়ান এক ঝটকায় গোলাপের লতাগুলো ছিঁড়ে জানালার ওপারে অন্ধকারের অতলে ঝাঁপ দিল। গির্জাটা আবার নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল। দিলরুবা নিস্তেজ হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে, তার চোখের সেই রক্তিম বিন্দুটি এখন ম্লান হয়ে আসছে।
সে অনুভব করল কেউ একজন তার পাশে এসে বসেছে। একটি দীর্ঘ কালো হাত তার কপালে রাখা ঘামগুলো মুছে দিচ্ছে। সেই হাতের স্পর্শে কোনো উত্তাপ নেই, কিন্তু তাতে এক অমোঘ নিশ্চয়তা আছে।
দিলরুবা চোখ খুলে দেখার চেষ্টা করল, কিন্তু কুয়াশা আর ক্লান্তিতে তার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এল। সে শুধু শুনতে পেল সেই চেনা গম্ভীর ফিসফিসানি—
❝তুমি অনেক সাহসী হয়ে উঠেছ, আমার পিউর ব্লাড। কিন্তু এড্রিয়ানের বিষ থেকে তোমাকে বাঁচাতে হলে আমাকে এখন তোমাকে সেই রক্তাক্ত বাগানের ভেতরেই নিয়ে যেতে হবে।❠
দিলরুবা অনুভব করল তাকে কোলে তুলে নেওয়া হয়েছে। সে আর বাধা দিল না। মিস্টহ্যাভেনের এই ভয়ঙ্কর রাত আর এড্রিয়ানের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে বাঁচতে সে এখন সেই অন্ধকারের কাছেই আত্মসমর্পণ করল, যাকে সে এতদিন ভয় পাচ্ছিল।
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
চলবে—?..?...
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥