᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟎5
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
ক্যাসেলের বিশাল হলঘরে পা রাখতেই দিলরুবা অনুভব করল এক জমাটবদ্ধ নিস্তব্ধতা। বাইরের জগতের সমস্ত কোলাহল, বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ কিংবা নিজের দ্রুত হতে থাকা নিশ্বাস—সবকিছু যেন এই দরজার ওপারে এসে থেমে গেছে। এখানকার বাতাস অস্বাভাবিক রকমের শীতল, কিন্তু তাতে সেই ঘ্রাণটা এখন অনেক বেশি তীব্র। রক্ত আর হাজার হাজার তাজা গোলাপের সেই সুবাস যেন সরাসরি তার মস্তিষ্কে এক ধরণের নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে।
দিলরুবা তার ব্যাগ থেকে সেই প্রাচীন বইটি বের করল না, কারণ তার আর কোনো গাইডের প্রয়োজন নেই। তার শরীরের ভেতরকার সেই 'পিউর ব্লাড' এখন এক অস্থির ছন্দে নেচে উঠছে। তার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা বৈদ্যুতিক স্পন্দন বয়ে যাচ্ছে, যা তাকে সামনের দিকে এগোতে বাধ্য করছে। এই আকর্ষণটা শারীরিক নয়, বরং অনেকটা আত্মিক—যেন তার অস্তিত্বের অর্ধেক অংশ এই প্রাসাদের কোনো এক অন্ধকার কোণে কয়েক শতাব্দী ধরে বন্দি হয়ে আছে।
সে যখন মার্বেল পাথরের তৈরি বিশাল সিঁড়িটার দিকে তাকাল, দেখল প্রতিটি ধাপের পাশে রাখা ব্রোঞ্জের পাত্রে নীল আগুন জ্বলছে। কোনো কাঠ বা তেল নেই, কেবল নীল শিখাগুলো শূন্যে দুলছে।
সে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল। যত সে ওপরে উঠছে, সেই অদৃশ্য আকর্ষণটা ততই প্রবল হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে, কোনো এক অদেখা চুম্বক তার হৃদপিণ্ডকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তার পা দুটো নিজের অজান্তেই যেন মেঝের ওপর ভেসে চলেছে।
করিডোরের দুই পাশে ঝুলে থাকা বিশাল সব আয়না। দিলরুবা যখন সেই আয়নাগুলোর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, সে লক্ষ্য করল আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি পড়ছে না। তার বদলে আয়নাগুলোতে ভেসে উঠছে এক কুয়াশাচ্ছন্ন গোলাপ বাগান। সে বুঝতে পারল, এই ক্যাসেলটা সাধারণ কোনো বাস্তুবিদ্যার নিয়ম মেনে চলে না; এটি এক মায়াবী জগত।
হঠাৎ সে এক বিশাল ওক কাঠের দরজার সামনে এসে থামল। দরজাটা অলংকৃত রূপোর কারুকাজে ভরা। এই কক্ষটির ওপার থেকেই সেই তীব্র আকর্ষণটা আসছে। দিলরুবার আঙুলের ডগাগুলো কাঁপছে। সে যখন দরজার হাতলটা স্পর্শ করল, তার শরীর দিয়ে এক তীব্র ঝটকা বয়ে গেল। এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো, সে এই পৃথিবীতে নেই। সে যেন এক অনন্ত নক্ষত্রবিথীর মাঝে ভাসছে।
সে দরজাটা ধাক্কা দিয়ে খুলল।
ভেতরে কোনো মানুষ নেই। বড় একটা লাইব্রেরি ঘর, যার সিলিং পর্যন্ত বইয়ের তাকে ঠাসা। ঘরের মাঝখানে একটি বড় ডেস্ক, আর তার ওপর রাখা একটি প্রাচীন খাতা। কিন্তু দিলরুবার নজর সেদিকে গেল না। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে রইল ঘরের এক কোণে থাকা একটি বিশাল পোরট্রেইটের ওপর।
ছবিতে কেউ নেই—কেবল একটি খালি রাজসিংহাসন আর তার ওপর পড়ে থাকা একটি কালো রেশমী রুমাল। কিন্তু দিলরুবা যখন সেই সিংহাসনের দিকে তাকিয়ে রইল, সে অনুভব করল সিংহাসনের ওপর কেউ একজন বসে আছে। সে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না, কিন্তু সেই অস্তিত্বের ভার সে স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে। এক জোড়া অদৃশ্য চোখ যেন তাকে নিংড়ে দেখছে।
রুমের তাপমাত্রা হঠাতই আরও কমে গেল। দিলরুবার নিশ্বাস এখন সাদা ধোঁয়ার মতো বেরোচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে সে অনুভব করল, তার ঘাড়ের কাছে কেউ যেন খুব কাছে থেকে নিশ্বাস ফেলল। এক পরম উষ্ণতা আর একই সাথে হাড়কাঁপানো শীতলতা তাকে ঘিরে ধরল।
সে ঘুরে তাকাল, কিন্তু পেছনে কেউ নেই। কেবল বাতাসের এক ঝলক তার গাল ছুঁয়ে গেল। তার কানের কাছে এক অস্পষ্ট ফিসফিসানি প্রতিধ্বনিত হলো—কিন্তু সেটা কোনো ভাষা নয়, ওটা যেন এক প্রাচীন সুর। সেই সুর শোনার সাথে সাথে দিলরুবার নীল চোখের সেই লাল বিন্দুটি উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
সে অনুভব করল তার শরীরে এক অদ্ভুত ক্লান্তি নেমে আসছে, আবার একই সাথে এক আদিম শক্তির সঞ্চার হচ্ছে। সে টাল সামলাতে না পেরে সেই সিংহাসনের সামনে রাখা গালিচার ওপর বসে পড়ল। তার মনে হচ্ছে, এই প্রাসাদের প্রতিটি ধূলিকণা তাকে চেনে। সে বুঝতে পারল, তাকে এখানে কেউ ডেকে আনেনি; বরং তার নিজের রক্তই তাকে তার 'অধিপতি'র কাছে টেনে এনেছে।
সে অস্ফুট স্বরে বলল,
❝আমি জানি তুমি এখানেই আছো। আমাকে কেন এভাবে টানছ?.?..❠
কোনো উত্তর এল না। কিন্তু ডেস্কের ওপর থাকা সেই খাতার পাতাগুলো হঠাতই বাতাসের ঝাপটায় উল্টাতে শুরু করল। একটি পাতায় এসে পাতাগুলো স্থির হলো। দিলরুবা টলতে টলতে উঠে গিয়ে দেখল, সেখানে ফ্রেশ কালিতে কেবল একটি লাইন লেখা হয়েছে—যা এখনো শুকায়নি:
❝তুমি অপরিচিত নও, দিলরুবা। তুমি আমারই অর্ধেক, যা আমি বহু আগে হারিয়ে ফেলেছিলাম।❠
দিলরুবার হাত থেকে সেই নীল বোতলটি পড়ে গিয়ে ভেঙে গেল। নীল তরল আর গোলাপের পাপড়িগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল। সে অনুভব করল, তার চেতনার জগতটা ক্রমে ঝাপসা হয়ে আসছে। সে মেঝেতে ঢলে পড়ার আগে শুধু দেখল, কুয়াশার ভেতর থেকে এক দীর্ঘ কালো ছায়া তার দিকে এগিয়ে আসছে—কিন্তু তার চেহারা এখনো এক রহস্যময় অন্ধকারেই ঢাকা।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
দিলরুবার চেতনা যখন ফিরে এল, সে নিজেকে আবিষ্কার করল এক বিশাল গোলকধাঁধার মতো কক্ষে। ঘরটি অন্ধকার নয়, বরং এক ম্লান নীলাভ আলোয় প্লাবিত। সে শুয়ে আছে এক মখমলের বিছানায়, যার চারপাশ থেকে ঝুলে আছে অতি সূক্ষ্ম রেশমী পর্দা।
বাতাসে সেই রক্তাক্ত গোলাপের ঘ্রাণ এখন এতটাই তীব্র যে দিলরুবার মনে হচ্ছে সে নিশ্বাসের বদলে গোলাপের নির্যাস গ্রহণ করছে। তার শরীরের প্রতিটি শিরায় এক অদ্ভুত কম্পন—ঠিক যেমনটা কোনো ঝড়ের আগে শান্ত প্রকৃতিতে অনুভূত হয়।
দিলরুবা উঠে বসার চেষ্টা করল, কিন্তু তার শরীর যেন সীসার মতো ভারী হয়ে আছে। সে লক্ষ্য করল, তার হাতের কবজিতে থাকা এড্রিয়ানের সেই কালচে আঙুলের ছাপগুলো উধাও হয়ে গেছে। সেখানে এখন এক নিখুঁত শ্বেতশুভ্র ত্বক, যা থেকে এক মৃদু আভা বেরোচ্ছে।
সে ঘরটির চারদিকে তাকাল। আসবাবপত্রগুলো কয়েক শতাব্দী প্রাচীন, কিন্তু নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত। ঘরের এক কোণে একটি বড় আয়না, যার ফ্রেমটি রূপোর তৈরি সাপের আদলে গড়া। দিলরুবা বিছানা থেকে নেমে টলমল পায়ে আয়নাটির সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
এবার আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এ কাকে দেখছে সে? আয়নার দিলরুবার নীল চোখের সেই কেন্দ্রীয় লাল বিন্দুটি এখন ছোট একটি শিখার মতো কাঁপছে। তার ঠোঁট দুটো অস্বাভাবিক রক্তিম, যেন সে এইমাত্র কোনো নিষিদ্ধ সুধা পান করেছে।
হঠাৎ কক্ষের চারপাশের দেওয়ালগুলো যেন স্পন্দিত হতে শুরু করল। দিলরুবা আয়নায় হাত রাখতেই সে এক অদ্ভুত অনুভূতি পেল। এটি কেবল পাথরের দেওয়াল নয়; পুরো প্রাসাদটি যেন কারো হৃদপিণ্ডের সাথে তাল মিলিয়ে ধুকপুক করছে।
ধক... ধক... ধক…
প্রতিটি ধুকপুকানি দিলরুবার নিজের পিউর ব্লাড-এর স্পন্দনের সাথে মিলে যাচ্ছে। সে চোখ বন্ধ করল। সে অনুভব করতে পারছে, এই বিশাল প্রাসাদের ওপর তলায়, কোনো এক গোপন প্রকোষ্ঠে কেউ একজন বসে আছে। তার অস্তিত্ব এতটাই বিশাল যে পুরো ক্যাসেলটি তার নিশ্বাসের সাথে ওঠানামা করছে।
সে সেই অস্তিত্বকে দেখতে পাচ্ছে না, কিন্তু তার 'ঘ্রাণ' পাচ্ছে। ওটা চন্দন কাঠ আর হিমশীতল বৃষ্টির এক মিশ্রণ। দিলরুবা অনুভব করল, তার ঘাড়ের কাছে কেউ যেন অদৃশ্য হাতে তার চুলগুলো সরিয়ে দিল। এক জোড়া বরফশীতল কিন্তু মায়াবী আঙুল যেন তার ত্বকের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
দিলরুবা শিউরে উঠে আর্তনাদ করতে চাইল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বেরোলো না। সে সম্মোহিতের মতো বিড়বিড় করল,
❝তুমি কে? কেন আমার রক্তের ভেতর এভাবে মিশে আছো???..❠
ঠিক তখনই ঘরের বিশাল ব্যালকনির দরজাগুলো সজোরে খুলে গেল। বাইরের কুয়াশা এক বিশাল ঢেউয়ের মতো ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল। সেই কুয়াশার আড়ালে দিলরুবা এক দীর্ঘ ছায়া দেখতে পেল। ছায়াটি নড়ছে না, কেবল জানালার ওপারে অন্ধকারের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে।
দিলরুবা এক পা এক পা করে ব্যালকনির দিকে এগিয়ে গেল। তার পা কাঁপছে, কিন্তু সেই 'চৌম্বকীয় টান' তাকে থামতে দিচ্ছে না। সে যখন ব্যালকনির কিনারায় পৌঁছাল, দেখল নিচে অন্তহীন সেই রক্তাক্ত গোলাপের বাগান। হাজার হাজার লাল গোলাপ রাতের অন্ধকারেও আগুনের মতো জ্বলছে।
সে অনুভব করল, সেই ছায়াটি তার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার শরীরের তাপ এতটাই কম যে দিলরুবার মনে হলো সে কোনো হিমবাহের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তার ভয় লাগছে না। বরং এক গভীর শান্তি তাকে গ্রাস করছে—ঠিক যেমনটা কোনো ঘরছাড়া পাখি তার আসল নীড়ে ফিরে পেলে অনুভব করে।
পেছন থেকে একটি নিচু, গম্ভীর স্বর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের মতো ভেসে এল:
❝তোমার রক্ত চিৎকার করে বলছে তুমি কার, দিলরুবা। তুমি যতই মানুষের মুখোশ পরো না কেন, তোমার আত্মা এই গোলাপের কাঁটার মতোই অবাধ্য আর আমার এই অন্ধকারের মতোই আদিম।❠
দিলরুবা ঘুরে দাঁড়াল, কিন্তু সেখানে কেউ নেই। কেবল ব্যালকনির রেলিংয়ের ওপর পড়ে আছে একটি তাজা রক্তাক্ত গোলাপ, যার পাপড়ি থেকে টপটপ করে এক ফোঁটা নীল রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে।
সে বুঝতে পারল, ছায়াটা তাকে এখনই দেখা দেবে না। সে তাকে নিয়ে খেলছে। সে দিলরুবাকে তিলে তিলে তার নিজের সত্তার গভীর গহ্বরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ নেই। দিলরুবা সেই গোলাপটি হাতে তুলে নিল। কাঁটাগুলো তার হাতের তালু চিরে দিল, কিন্তু সে ব্যথা পেল না। তার নিজের নীল রক্ত আর গোলাপের সেই নির্যাস মিশে গিয়ে এক অলৌকিক জ্যোতির সৃষ্টি করল।
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল, মিস্টহ্যাভেনের চাঁদটা আজ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। সে বুঝতে পারল, শিকারী আর শিকারের এই খেলায় সে নিজেও এখন এক শিকারীতে পরিণত হচ্ছে।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
দিলরুবা হাতের তালুতে চুরমার হওয়া গোলাপের পাপড়িগুলো চেপে ধরে ব্যালকনির রেলিং ছাড়ল। তার ভেতরের 'পিউর ব্লাড' তখনো বিদ্রোহ করছে, কিন্তু তার যুক্তিবাদী মন—একজন চিকিৎসকের মন—তাকে বলছে যে এই সম্মোহন থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। সে এখানে যা খুঁজছিল, তা কেবল ধোঁয়াশা আর অস্পষ্ট কিছু অনুভূতির বাইরে কিছুই নয়।
সে যখন ক্যাসেলের সেই বিশাল হলঘর দিয়ে ফিরে আসছিল, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতিধ্বনি যেন তাকে উপহাস করছিল। সেই অদৃশ্য হৃদস্পন্দনটা তখনো বাতাসে ভাসছে, কিন্তু দিলরুবা এবার আর থামল না। সে বুঝতে পেরেছে, এই প্রাসাদটি তাকে সত্য দেওয়ার চেয়ে বিভ্রান্ত করতেই বেশি আগ্রহী।
সে ক্যাসেলের প্রধান ফটক পেরিয়ে যখন বাইরে পা রাখল, সেই রক্তাক্ত গোলাপের লতাগুলো আবার নিজে থেকেই দুপাশে সরে গেল। কিন্তু এবার দিলরুবা লক্ষ্য করল, গোলাপগুলো যেন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে, যেন তার চলে যাওয়াটা এই বাগান মেনে নিতে পারছে না।
সে বনের সেই পথ ধরে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল। কুয়াশা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পাতলা, কিন্তু আকাশটা এখনো সেই রক্তবর্ণ ধারণ করে আছে। সে যখন মিস্টহ্যাভেনের বড় রাস্তায় এসে পৌঁছাল, তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। শহরটা এখনো ঘুমিয়ে, কিন্তু হসপিটালের সাদা ভবনটা দূর থেকে এক বিষণ্ণ প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে।
দিলরুবা বাড়ি না গিয়ে সরাসরি হসপিটালের দিকে রওনা হলো। তার মনে হলো, যে উত্তর সে পাহাড়ে পায়নি, হয়তো তার কর্মক্ষেত্রে কোনো সূত্র লুকিয়ে আছে।
হসপিটালে ঢুকে সে সোজা নিজের কেবিনে গেল। কিন্তু দরজার কাছে পৌঁছাতেই সে থমকে দাঁড়াল। তার কেবিনের দরজার হাতলে একটি সাদা চিরকুট আটকানো। চিরকুটটিতে কোনো নাম নেই, শুধু একটি ল্যাটিন বাক্য লেখা:
❝Sanguis est Vita❠
(রক্তই জীবন)
সে চিরকুটটা মুঠো করে ঘরে ঢুকল। ঘরের ভেতর সব ঠিকঠাক আছে, কিন্তু ডেস্কে থাকা সেই ডায়েরিটা খোলা। সে ডায়েরির পাতা ওল্টাতে গিয়ে দেখল, তার লেখা 'The Bloodless' শব্দটির নিচে নতুন কেউ লাল কালিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে রেখেছে।
ঠিক তখনই পেছনের দরজায় শব্দ হলো।
❝এত ভোরে ডিউটিতে? ডক্টর হানিফ কি তবে বিশ্রাম নিতে ভুলে গেছেন?.?..❠
দিলরুবা দ্রুত ঘুরে তাকাল। ডক্টর এড্রিয়ান ডার্কউড দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পরনে সেই একই কালো শার্ট, কিন্তু এবার তার চোখে এক অদ্ভুত কৌতুক। তার হাতে একটি কফি মগ, যেখান থেকে ধোঁয়া উঠছে।
❝আপনি এখানে কী করছেন, ডক্টর এড্রিয়ান?❠
দিলরুবা তার কণ্ঠস্বর যতটা সম্ভব কঠিন করার চেষ্টা করল।
❝আমি? আমি তো কেবল নাইট ডিউটির পর একটু কফি খাচ্ছিলাম। কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি সারা রাত কোনো বিশাল যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। আপনার ওভারকোটে ওই লাল পাপড়িগুলো কিসের?❠
এড্রিয়ান এক পা এগিয়ে এল।
দিলরুবা নিজের কোটের দিকে তাকিয়ে দেখল, সেখানে সত্যিই কয়েকটা শুকনো গোলাপের পাপড়ি লেগে আছে। সে দ্রুত সেগুলো ঝেড়ে ফেলল।
❝ওটা কিছুই না। আমি পাহাড়ে হাঁটতে গিয়েছিলাম।❠
এড্রিয়ান মৃদু হাসল। সে এবার দিলরুবার খুব কাছে এসে দাঁড়াল। তার শরীর থেকে আসা সেই বরফশীতল ঘ্রাণ দিলরুবাকে আবার সেই ক্যাসেলের কথা মনে করিয়ে দিল।
❝পাহাড়ের বাতাস খুব বিপজ্জনক, দিলরুবা। বিশেষ করে যখন কেউ নিজের রক্তের ঘ্রাণ লুকিয়ে রাখতে জানে না। আপনি হয়তো ওখানে আপনার উত্তর পাননি, কারণ আপনি ভুল দরজায় কড়া নেড়েছেন।❠
এড্রিয়ান নিচু হয়ে দিলরুবার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
❝আপনার ওই পিউর ব্লাড মিস্টহ্যাভেনের পুরনো শয়তানদের জাগিয়ে তুলেছে। আপনি কি সত্যিই মনে করেন আপনি সাধারণ জীবন ফিরে পাবেন?❠
দিলরুবা এড্রিয়ানের চোখের দিকে তাকাল। সেই কালো মণি দুটোর গভীরে সে এক মুহূর্তের জন্য সেই প্রাচীন ক্যাসেলের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল। সে বুঝতে পারল, এড্রিয়ান কেবল একজন বার্তাবাহক নয়, সে আসলে প্রহরীর মতো তাকে নজরবন্দি করে রেখেছে।
হঠাৎ হসপিটালের করিডোরে চোর-পুলিশের মতো শোরগোল শুরু হলো। নার্স সারা হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এল। ❝ডক্টর! মর্গে থাকা সেই 'ব্লাডলেস' বডিটা... ওটা উধাও হয়ে গেছে!❠
দিলরুবা আর এড্রিয়ান একে অপরের দিকে তাকাল। দিলরুবা দেখল এড্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠেছে।
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
—চলবে—?.?...
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥