᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟏𝟎
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
ল্যাবের ধ্বংসাবশেষের ওপর দিয়ে কালচে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। এড্রিয়ান দেখল, তার তৈরি বিষাক্ত ভাইরাস রিভানের এক ফুৎকারে ছাই হয়ে গেছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় ধাক্কা হলো রিভানের এই অভাবনীয় পরিবর্তন। যে প্রিন্স শতাব্দী ধরে কেবল রক্ত আর ক্ষমতার উপাসনা করেছে, সে আজ এক মানবীর মোহে নিজের আদিম সত্তাকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।
রিভান দিলরুবাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে তার দুপাশে হাত রাখল। তার বিশাল ছায়া এখন দিলরুবার অস্তিত্বকে গ্রাস করে ফেলেছে। ল্যাবের লাল ইমার্জেন্সি লাইটগুলো রিভানের ফ্যাকাশে মুখে এক ভৌতিক আভা তৈরি করেছে। সে দিলরুবার গলার সেই ছড়ে যাওয়া জায়গায় নিজের আঙুল বোলাল—যেখানে লকেটটি ছিল। তার স্পর্শে কোনো কোমলতা নেই, আছে এক অবর্ণনীয় অধিকারবোধ।
❝তুমি কাঁদছ কেন, দিলরুবা?❠
রিভানের কণ্ঠস্বর এখন ফিসফিসানি নয়, ওটা যেন এক সম্মোহনী আদেশ।
❝এই শহর, এই ল্যাব, তোমার এই তুচ্ছ মানবজীবন—সবকিছুই তো আজ ছাই হয়ে গেল। এখন তোমার জগতে কেবল আমিই অবশিষ্ট। এটা কি তোমার জন্য আনন্দদায়ক নয়?❠
দিলরুবা রিভানের চোখের দিকে তাকাল। সেই নীল চোখের গভীরে এখন আর কোনো মায়া নেই, সেখানে এক অতল গহ্বর—যা তাকে টেনে নিতে চাইছে।
❝তুমি আমাকে বাঁচাচ্ছ না এ্যারন, তুমি আমাকে ধ্বংস করছ। তুমি আর এড্রিয়ানের মধ্যে তফাত কোথায়?❠
রিভান অট্টহাসি দিয়ে উঠল। সেই হাসি ল্যাবের প্রতিটি ভাঙা কাঁচের টুকরোকে যেন নতুন করে কাঁপিয়ে দিল।
❝তফাত আছে। এড্রিয়ান তোমাকে ব্যবহার করতে চায় তার ক্ষমতার জন্য। আর আমি? আমি তোমাকে চাই কারণ তোমার প্রতিটি রক্তবিন্দু আমার শত বছরের পিপাসার একমাত্র উত্তর। আমি তোমাকে মুক্তি দেব না দিলরুবা। আমি তোমাকে আমার অন্ধকারের রাজপ্রাসাদে সোনার খাঁচায় বন্দি করে রাখব। তোমার ওই নীল আগুন কেবল আমার কক্ষকে আলোকিত করবে।❠
ঠিক তখনই এড্রিয়ান এক বিকট চিৎকার করে তার হাতের সেই রাসায়নিক গান থেকে শেষ বুলেটটি ছুঁড়ল। কিন্তু রিভান এবার আর নড়ল না। সে কেবল তার ডান হাতটা শূন্যে তুলে ধরল। বুলেটটি রিভানের হাতের কয়েক ইঞ্চি সামনে এসে মাঝবাতাসেই স্থির হয়ে গেল।
❝তোমার সময় শেষ, এড্রিয়ান❠
রিভান অত্যন্ত শান্ত কিন্তু হিমশীতল গলায় বলল।
সে তার হাতের মুষ্ঠি শক্ত করল, আর সাথে সাথে সেই বুলেটটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এড্রিয়ানের দিকেই ফিরে গেল।
এড্রিয়ানের গায়ে সেই নিজেরই তৈরি বিষাক্ত রাসায়নিক লাগতেই তার শরীর থেকে নীল ধোঁয়া বের হতে শুরু করল। সে যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
❝রিভান... তুমি... তুমি বুঝতে পারছ না... ওই মেয়ে তোমাকে শেষ করে দেবে... ওর রক্তে অভিশাপ আছে...❠
রিভান এড্রিয়ানের দিকে ফিরেও তাকাল না। সে দিলরুবাকে এক ঝটকায় নিজের পাজাকোলে তুলে নিল। দিলরুবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু রিভানের বাহুদ্বয় এখন ইস্পাতের শিকলের চেয়েও শক্ত।
❝এখন থেকে মিস্টহ্যাভেনের সেই ক্যাসেলই হবে তোমার পৃথিবী।❠
রিভান দিলরুবার কপালে তার ঠোঁট ছোঁয়াল—যেখানে সে নিজের রক্তিম চিহ্ন এঁকে দিয়েছিল।
❝সেখানে কোনো ল্যাব নেই, কোনো আধুনিক শহর নেই। সেখানে কেবল তুমি থাকবে, আর তোমার চিরকালীন মালিক হিসেবে আমি থাকব। আমি তোমাকে ঘৃণা করতে শিখিয়েছি, এখন আমি তোমাকে শেখাব কীভাবে এই অন্ধকারকে ভালোবাসতে হয়।❠
রিভান ল্যাবের ভাঙা জানালা দিয়ে শূন্যে লাফ দিল। রাতের কালো আকাশ আর নিওন আলোর শহরটা দিলরুবার চোখের সামনে থেকে ঝাপসা হয়ে গেল। সে অনুভব করল রিভানের সেই বরফশীতল আলিঙ্গন—যা তাকে রক্ষা করছে না, বরং তিলে তিলে তার আত্মাকে শৃঙ্খলিত করছে।
সে রিভানের কাঁধে মাথা রেখে শেষবারের মতো শহরের নিওন আলোগুলোর দিকে তাকাল। সে জানত, মডার্ন সায়েন্সের ডক্টর দিলরুবা হানিফ আজ রাতে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেল। এখন যা অবশিষ্ট আছে, তা হলো এক ভ্যাম্পায়ার প্রিন্সের সর্বনাশা আসক্তির একমাত্র শিকার।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
ক্যাসেলের সেই গথিক দেয়ালগুলোর ভেতর যখন রিভান দিলরুবাকে নিয়ে ফিরে এল, তখন পুরো আকাশটা এক অলৌকিক নিস্তব্ধতায় ডুবে গেছে। রিভানের ডানাগুলো যখন সংকুচিত হলো, সে দিলরুবাকে নামিয়ে দিল তার সেই বিশাল শয়নকক্ষে—যেখানে প্রতিটি আসবাব প্রাচীন আভিজাত্য আর ভয়ের মিশ্রণে তৈরি। মেঝের কালো মার্বেলে মোমবাতির নীল শিখাগুলো যেন দিলরুবার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় কাঁপছিল।
রিভান দিলরুবাকে সরাসরি মেঝের ওপর নামাল না, বরং তাকে সেই বিশাল ভেলভেটের বিছানায় এক প্রকার অবজ্ঞার সাথেই ছুঁড়ে দিল। সে ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে কক্ষের বিশাল দরজাগুলো সজোরে বন্ধ করে দিল। সেই শব্দের প্রতিধ্বনি দিলরুবার হৃদপিণ্ডে এক চরম বিপদের সংকেত পৌঁছে দিল।
❝আবার সেই বন্দিশালা...❠
দিলরুবা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, তার অবিন্যস্ত চুলগুলো ফ্যাকাশে কপালে লেপ্টে আছে।
রিভান তার ওভারকোটটা খুলে একপাশে ছুঁড়ে ফেলল। তার সাদা শার্টের হাতার নিচে শিরাগুলো এখন কালো আগুনের মতো ফুটে উঠেছে। সে দিলরুবার দিকে এগিয়ে এল, তার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন এক আদিম শিকারির হিংস্রতা। সে বিছানার ওপর ঝুঁকে এসে দিলরুবার দুই হাত তার মাথার ওপরে চেপে ধরল।
❝বন্দিশালা নয়, দিলরুবা—এটি তোমার সিংহাসন।❠
রিভানের কণ্ঠস্বর এখন এক নিচু গর্জনের মতো।
❝বাইরের ওই নশ্বর জগত তোমার যোগ্য ছিল না। এড্রিয়ান তোমাকে মারতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তোমাকে অমর করে রাখতে চাই... আমার হাতের তালুতে একটি রক্তিম রত্নের মতো।❠
রিভান তার এক হাত দিয়ে দিলরুবার মুখটা উঁচিয়ে ধরল। তার চোখের মনিতে এখন কোনো মানবিকতা নেই, আছে এক অন্তহীন তৃষ্ণা।
❝তুমি ভেবেছিলে শহরের নিওন আলোয় নিজেকে লুকিয়ে ফেলবে? তুমি কি জানো না, তোমার ওই পিউর ব্লাড-এর সুগন্ধ আমার নাকে হাজার মাইল দূর থেকেও পৌঁছে যায়? আমি তোমাকে প্রতিটা মূহূর্তে অনুভব করেছি। তোমার প্রতিটি নিশ্বাস ছিল আমার কানে এক একটি চাবুকের আঘাত।❠
রিভানের অবসেসন এখন এক পাগলামির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সে দিলরুবার কানের লতিতে দাঁত দিয়ে সামান্য চাপ দিল, যা দিলরুবাকে ব্যথায় কুঁকড়ে দিল কিন্তু একই সাথে এক নিষিদ্ধ শিহরণে অবশ করে ফেলল।
❝এ্যারোন, তুমি আমাকে ঘৃণা করতে শিখিয়েছিলে... এখন তুমি কী করছো?"❠ দিলরুবা দুর্বল গলায় আর্তনাদ করল।
❝আমি তোমাকে ঘৃণা করতে শিখিয়েছিলাম যাতে তুমি শক্তিশালী হও। আর এখন আমি তোমাকে ভালোবাসতে শেখাব—আমার মতো করে।❠
রিভান পৈশাচিক হাসি দিল।
❝আমার ভালোবাসা মানে অধিকার। আমার ভালোবাসা মানে তোমার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চিতে আমার সিলমোহর খোদাই করে দেওয়া। আজ থেকে এই কক্ষের বাইরে তোমার কোনো অস্তিত্ব নেই। সূর্য তোমার জন্য নিষিদ্ধ, আকাশ তোমার জন্য মৃত।❠
রিভান হঠাৎ তার নিজের হাতটা তার তীক্ষ্ণ দাঁত দিয়ে চিরে ফেলল। তার কালচে রক্ত টপটপ করে পড়তে লাগল দিলরুবার ঠোঁটের ওপর।
❝পান করো, দিলরুবা। আমার এই শতাব্দী প্রাচীন অন্ধকারকে তোমার নিজের ভেতরে গ্রহণ করো। আমাদের রক্ত যখন এক হয়ে মিশে যাবে, তখন এই মহাবিশ্বে কোনো শক্তিই তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না।❠
দিলরুবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু রিভানের উন্মাদনা তাকে স্তব্ধ করে দিল। রিভান তার শরীরের পুরো ওজন দিলরুবার ওপর ছেড়ে দিল, তার ঠোঁট এখন দিলরুবার ঠোঁটের খুব কাছে। সে এক হাত দিয়ে দিলরুবার চুলগুলো মুচড়ে ধরল যাতে সে মুখ সরাতে না পারে।
❝তুমি আমার নেশা, আমার অভিশাপ❠ রিভান ফিসফিস করে বলল।
❝আমি তোমাকে মুক্তি দেব না, আমি তোমাকে ধ্বংসও হতে দেব না। আমি কেবল তোমাকে নিজের ভেতরে বিলীন করে নেব।❠
ক্যাসেলের বাইরে ঝড় শুরু হয়েছে। বজ্রপাতের আলোয় দেখা গেল রিভানের ছায়াটি এখন দানবীয় রূপ নিয়েছে। সে কেবল এক ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স নয়, সে এখন এক আদিম রাক্ষস যে তার সর্বস্ব দিয়ে নিজের শিকারকে আগলে ধরেছে। দিলরুবা অনুভব করল তার চেতনার শেষ বিন্দুটি ম্লান হয়ে আসছে। সে ঘৃণা করছিল এই সম্রাটকে, কিন্তু তার শরীরের পিউর ব্লাড রিভানের এই পাশবিক আকর্ষণের কাছে অদ্ভুতভাবে হার মেনে নিচ্ছে।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
ক্যাসেলের বাইরে ঝোড়ো বাতাস পাথরের দেয়ালে আছড়ে পড়ছে, কিন্তু রিভানের শয়নকক্ষে এখন এক শ্বাসরুদ্ধকর নিস্তব্ধতা। মোমবাতির নীল শিখাগুলো থরথর করে কাঁপছে। রিভানের উন্মত্ত আসক্তি এখন আর কোনো শব্দ বা আদেশের সীমায় আটকে নেই; তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে আছে শতাব্দীর পুঞ্জীভূত তৃষ্ণা আর এক ভয়ংকর অধিকারবোধ।
বিছানার কোমল ভেলভেটের ওপর দিলরুবাকে চেপে ধরে রিভান তার শার্টের বোতামগুলো এক ঝটকায় ছিঁড়ে ফেলল। তার ফ্যাকাশে কিন্তু লোহার মতো শক্ত বুকের ছোঁয়া দিলরুবার শরীরে এক বৈদ্যুতিক প্রবাহের মতো খেলে গেল। রিভানের দুচোখে তখন নীল আগুনের লেলিহান শিখা। সে দিলরুবার হাত দুটো তার মাথার ওপর এমনভাবে শৃঙ্খলিত করে ধরল যে এক ইঞ্চি নড়ার ক্ষমতাও তার রইল না।
❝তোমার এই উষ্ণতা আমার পাথুরে শরীরকে পুড়িয়ে দিচ্ছে, দিলরুবা।❠
রিভানের কণ্ঠস্বর এখন এক আদিম তৃষ্ণায় গাঢ় হয়ে এসেছে।
সে দিলরুবার ঘাড়ের সেই রক্তিম চিহ্নের ওপর তার ঠোঁট রাখল। তার শীতল ঠোঁট আর উত্তপ্ত জিহ্বার ছোঁয়ায় দিলরুবা এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণাময় সুখে চোখ বুজে ফেলল। রিভান ধীরে ধীরে নিচে নেমে এল। তার তীক্ষ্ণ দাঁতগুলো দিলরুবার গলার পাশের নরম চামড়ায় আলতো করে বসে গেল—রক্ত পান করার জন্য নয়, বরং তার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চিতে নিজের মালিকানা খোদাই করার জন্য।
রিভান তার অন্য হাত দিয়ে দিলরুবার পোশাকের বাকি অংশটুকু ছিঁড়ে আলাদা করে দিল। ল্যাম্পের ম্লান আলোয় দিলরুবার ফর্সা ত্বক এখন এক নিষিদ্ধ শিল্পের মতো চকমক করছে। রিভানের আঙুলগুলো দিলরুবার উরুর ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে ওপরে উঠে এল, তার প্রতিটি স্পর্শে ছিল এক পাশবিক দম্ভ। সে দিলরুবাকে কোনো মানুষের মতো নয়, বরং এক পরম আরাধ্য দেবীর মতো ভোগ করতে চাইল—যার ওপর কেবল তারই অধিকার।
❝আমাকে ঘৃণা করো দিলরুবা, কিন্তু আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা স্বপ্নেও ভেবো না।❠
রিভান তার নিজের রক্তে মাখা ঠোঁট দিয়ে দিলরুবার ঠোঁট দুটোকে পিষে ফেলল।
সেই গভীর চুম্বনে কোনো কোমলতা ছিল না, ছিল কেবল এক আদিম ক্ষুধা। রিভান তার শরীরের পুরো ওজন দিলরুবার ওপর ছেড়ে দিয়ে তার দুপায়ের মাঝখানে নিজের জায়গা করে নিল। দিলরুবা অনুভব করল রিভানের সেই বরফশীতল শরীরটা এখন আগুনের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তার পিউর ব্লাড যেন রিভানের স্পর্শে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে, তার শিরায় শিরায় এক অলৌকিক দহন শুরু হয়েছে।
রিভান যখন দিলরুবার শরীরের গভীরে প্রবেশ করার উপক্রম করল, তখন তার চোখের সেই লাল বিন্দুটি পুরো মণি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। সে নিচু হয়ে দিলরুবার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
❝আজ রাতে তোমার আত্মা আমার অন্ধকারের সাথে মিশে এক হয়ে যাবে। কাল সকালে যখন তুমি জাগবে, তুমি আর কোনো মানুষ থাকবে না... তুমি হবে এই অভিশপ্ত রাজত্বের একমাত্র সম্রাজ্ঞী।❠
দিলরুবা রিভানের পিঠে নিজের নখ বসিয়ে দিল। যন্ত্রণায় আর সুখে তার মুখ দিয়ে এক অস্ফুট আর্তনাদ বেরিয়ে এল। রিভান তার আক্রমণাত্মক গতি বাড়াল, তার প্রতিটি পেশি এখন এক অমানুষিক শক্তিতে টানটান। অন্ধকার এই ঘরে কেবল তাদের দ্রুত নিঃশ্বাসের শব্দ আর রিভানের পৈশাচিক গোঙানি প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
সেদিন রাতে ক্যাসেলের প্রতিটি দেয়াল সাক্ষী রইল এক নিষিদ্ধ মিলনের—যেখানে প্রেম ছিল না, ছিল কেবল এক ভ্যাম্পায়ার প্রিন্সের সর্বগ্রাসী আসক্তি আর এক 'পিউর ব্লাড' মানবীর চূড়ান্ত সমর্পণ।
রিভান দিলরুবাকে তার বাহুবন্ধনে এমনভাবে পিষে ফেলল যেন সে তাকে নিজের শরীরের ভেতরেই লুকিয়ে ফেলতে চায়। ভোরের ধূসর আলো যখন ক্যাসেলের বিশাল জানালা দিয়ে চুঁইয়ে ভেতরে ঢুকল, ঘরটি তখনো সেই নিষিদ্ধ দহনের গন্ধে ভারী হয়ে আছে। দিলরুবা যখন চোখ খুলল, সে অনুভব করল তার শরীরটা যেন পাথর হয়ে আছে। বিছানার চাদরগুলো অবিন্যস্ত, আর তার শরীরের প্রতিটি কোষে রিভানের সেই পাশবিক স্পর্শের চিহ্ন।
কিন্তু রিভানের রক্ত তার শরীরে মিশে গেলেও, দিলরুবা অনুভব করল তার হৃদপিণ্ড এখনো সেই মানুষের মতোই ধুকপুক করছে। তার ভেতরের 'পিউর ব্লাড' রিভানের পৈশাচিক শক্তিকে গ্রহণ করেছে ঠিকই, কিন্তু নিজের মানবিক সত্তাকে বিসর্জন দেয়নি। সে ভ্যাম্পায়ার হয়নি—সে এখনো সেই রক্তমাংসের মানুষই রয়ে গেছে, যার শিরায় বইছে এক অভিশপ্ত তেজ।
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
—চলবে—?.?...
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥