᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟏𝟏
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
রিভান বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে দিকে তাকিয়ে ছিল। তার পরনে কেবল একটি ঢিলেঢালা রেশমি পাজামা। তার সুঠাম পিঠে দিলরুবার নখের গভীর আঁচড়গুলো তখনো তাজা। সে ঘুরে তাকাল। তার চোখের সেই লাল আভা এখন কিছুটা শান্ত, কিন্তু আসক্তিটা আগের চেয়েও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সে এগিয়ে এসে বিছানার ধারে বসল এবং দিলরুবার গালে হাত রাখল।
❝তুমি জেগে উঠেছ, আমার দিল।❠ রিভানের গলায় এক ধরণের তৃপ্তির সুর।
❝এখন থেকে তোমার ক্ষুধা হবে আমার মতো। তোমার এই ফ্যাকাশে ঠোঁট এখন কেবল রক্তের অপেক্ষায় তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকবে।❠
রিভান পাশ থেকে একটি রূপোর পানপাত্র তুলে নিল। তাতে টলমল করছে তাজা লাল রক্ত। সে পানপাত্রটি দিলরুবার ঠোঁটের কাছে ধরল।
❝নাও, পান করো। তোমার নতুন জীবনের প্রথম ভোজ।❠
দিলরুবা এক তীব্র ঘৃণায় মুখ সরিয়ে নিল। রক্তের সেই কাঁচা গন্ধ তার পাকস্থলীতে এক ধরণের বিতৃষ্ণা জাগিয়ে তুলল। সে সজোরে রিভানের হাতটা সরিয়ে দিল, যার ফলে পানপাত্রটি ছিটকে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। লাল রক্তগুলো কালো মার্বেলের ওপর ছড়িয়ে পড়ল।
❝আমি কোনোদিন রক্ত খাব না, এ্যারোন!..❠
দিলরুবা চিৎকার করে উঠল, তার কণ্ঠে তখনো মানুষের দৃঢ়তা।
❝তুমি আমার শরীর দখল করতে পারো, আমার আত্মাকে শৃঙ্খলিত করতে পারো, কিন্তু আমাকে পিশাচ বানাতে পারবে না। আমি মানুষ ছিলাম, আর মানুষ হিসেবেই মরতে চাই।❠
রিভানের মুখ মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকার হয়ে গেল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে এল এবং সে দিলরুবার চুল মুচড়ে ধরে তাকে নিজের খুব কাছে টেনে নিল। তার বরফশীতল নিশ্বাস দিলরুবার ঠোঁটে ধাক্কা খেল।
❝মানুষ?❠
রিভান পৈশাচিক হাসি দিল।
❝মানুষেরা দুর্বল, তারা পচে যায়। আমি তোমাকে অমরত্ব দিয়েছি, আর তুমি ওই তুচ্ছ মানবিকতাকে আঁকড়ে ধরে আছ? এই রক্ত তোমার শরীরের প্রয়োজন, দিলরুবা। যদি তুমি না খাও, তবে তোমার ওই পিউর ব্লাড তোমাকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।❠
❝তবে তাই হোক!❠
দিলরুবা রিভানের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলল।
❝পুড়ে ছাই হওয়া ভালো, কিন্তু তোমার মতো অন্যের প্রাণ কেড়ে নেওয়া রাক্ষস হওয়া নয়।❠
রিভান ক্ষোভে ফেটে পড়ল। সে এক ঝটকায় দিলরুবাকে বিছানা থেকে টেনে তুলে ঘরের বিশাল আয়নার সামনে দাঁড় করাল।
❝দেখো নিজেকে! তোমার চোখের ওই লাল বিন্দুটা এখন আর মানুষের নয়। তুমি নিজেকে অস্বীকার করতে পারো, কিন্তু তোমার রক্তকে পারবে না। তুমি যতবার ক্ষুধার্ত হবে, ততবার এই রক্ত তোমাকে আমার দিকে টেনে আনবে।❠
সে দিলরুবাকে সজোরে জড়িয়ে ধরল। তার আলিঙ্গনে কোনো ভালোবাসা ছিল না, ছিল এক ধরণের অবসেসিভ জেদ। সে দিলরুবার ঘাড়ে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল।
❝তুমি রক্ত খাবে না? ঠিক আছে। তবে মনে রেখো, তোমার এই জেদ তোমাকে অসহ্য যন্ত্রণার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যখন তোমার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে, যখন তুমি এক ফোঁটা রক্তের জন্য আর্তনাদ করবে, তখন তুমি হামাগুড়ি দিয়ে আমার কাছে আসবে। আর সেদিন আমি তোমাকে নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচাব, কিন্তু তার বিনিময়ে তোমার শেষ মানবিক সত্তাটুকুও আমি কেড়ে নেব।❠
রিভান তাকে মেঝের ওপর অবজ্ঞার সাথে ছেড়ে দিল এবং ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিল। বাইরে থেকে তালা পড়ার শব্দ এল।
দিলরুবা একা অন্ধকার ঘরে পড়ে রইল। তার শরীরের প্রতিটি শিরা এখন এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় কাঁপছে। সে বুঝতে পারল, রিভান তাকে ভ্যাম্পায়ার বানাতে না পারলেও তাকে এক জীবন্ত নরকের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সে রক্ত খাবে না—এটিই এখন তার একমাত্র যুদ্ধ। কিন্তু তার নিজের রক্তই যখন তার শত্রু হয়ে দাঁড়াবে, তখন সে কীভাবে টিকে থাকবে??.?...
রিভানের সেই প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের পর ক্যাসেলের ভেতরটা এখন এক থমথমে নিস্তব্ধতায় ঢাকা। তালাবদ্ধ ঘরে দিলরুবা একা, মেঝের শীতল পাথরে মাথা রেখে সে নিজের হৃদস্পন্দন অনুভব করার চেষ্টা করছে। শরীরের ভেতরের সেই 'পিউর ব্লাড' এখন এক অদৃশ্য বিষের মতো তাকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তৃষ্ণাটা কেবল গলার নয়, ওটা যেন আত্মার এক আদিম চিৎকার। কিন্তু সে সংকল্পবদ্ধ—মানুষের রক্ত সে কোনোভাবেই স্পর্শ করবে না।
কয়েক ঘণ্টা পর দরজার তালা খোলার শব্দ হলো। দিলরুবা শরীর সোজা করে বসার চেষ্টা করল, কিন্তু প্রচণ্ড দুর্বলতায় তার মাথা ঘুরে উঠল। রিভান ভেতরে ঢুকল। এবার তার হাতে কোনো রক্তের পাত্র নেই, বরং তার সারা শরীরে এক ধীরস্থির আভিজাত্য। সে এসে জানালার ভারী মখমলের পর্দাগুলো সরিয়ে দিল। গোধূলির ম্লান আলো এসে পড়ল দিলরুবার ফ্যাকাশে মুখে।
রিভান ধীরপায়ে এগিয়ে এসে দিলরুবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। তার চোখে সেই পৈশাচিক হিংস্রতা এখন নেই, সেখানে জায়গা করে নিয়েছে এক গভীর এবং নীরব অবসেসন। সে দিলরুবার ঠান্ডা হয়ে যাওয়া হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল।
❝তোমার জেদ অনেক বড়, দিলরুবা।❠ রিভানের কণ্ঠস্বর এখন মখমলের মতো মোলায়েম, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে এক অলঙ্ঘনীয় আদেশ।
❝তুমি ভাবছ তুমি লড়াই করছ, কিন্তু তুমি আসলে নিজের শরীরকে তিলে তিলে ধ্বংস করছ।❠
❝আমি মানুষ হয়েই মরতে চাই, এ্যারোন। তোমার এই অন্ধকারের জগত আমাকে টানছে না।❠
দিলরুবা শুকনো গলায় বলল।
রিভান একটু হাসল। সে পকেট থেকে একটি প্রাচীন সোনার শিশি বের করল। শিশিটির ঢাকনা খুলতেই এক অদ্ভুত সুগন্ধ ঘর ভরে গেল—তাতে রক্তের সেই কাঁচা গন্ধ নেই, বরং কোনো বুনো ফুলের মাদকতা মেশানো।
❝আমি জানি তুমি রক্ত খাবে না। তাই আমি বাগানের সেই নীল গোলাপের নির্যাস নিয়ে এসেছি, যা শত বছর আগে আমার মা ব্যবহার করতেন যখন তার ভেতরের মানবিকতা তৃষ্ণায় হাহাকার করত।❠
রিভান শিশিটি দিলরুবার ঠোঁটের কাছে ধরল।
❝এটি রক্ত নয়, এটি কেবল তোমার ওই 'পিউর ব্লাড'-কে শান্ত করার এক ঔষধ। এটি পান করো, নইলে তুমি আজকের রাত পার করতে পারবে না।❠
দিলরুবা দ্বিধা নিয়ে রিভানের চোখের দিকে তাকাল। রিভান এবার জোর করল না, কেবল শান্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সেই দৃষ্টিতে এক বিচিত্র দাবি ছিল—যেন সে দিলরুবাকে মরতে দেবে না, কারণ দিলরুবা ছাড়া তার এই মহাকালের যাত্রায় আর কোনো উদ্দেশ্য অবশিষ্ট নেই।
দিলরুবা কয়েক ফোঁটা পান করল। সাথে সাথে তার শিরায় শিরায় চলা সেই দহন কমতে শুরু করল। এক অদ্ভুত প্রশান্তি তাকে গ্রাস করল। রিভান তার আঙুল দিয়ে দিলরুবার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা কয়েক ফোঁটা নির্যাস মুছে দিল। তার স্পর্শে এখন এক ধরণের গভীর অধিকারবোধ, যা হিংস্রতার চেয়েও বেশি ভয়ংকর।
❝তুমি আমার অবাধ্য হও, তাতে আমার আপত্তি নেই।❠
রিভান দিলরুবার কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। তার নিশ্বাস এখন দিলরুবার গাল স্পর্শ করছে।
❝কিন্তু তুমি নিজেকে শেষ করে দেবে, তা আমি হতে দেব না। তুমি যেখানেই যাবে, আমার ছায়া তোমাকে আগলে রাখবে। তুমি ঘৃণা করো আমাকে, কিন্তু মনে রেখো—তুমি যতবার নিজের ক্ষতি করবে, ততবার আমি তোমাকে বাঁচাতে তোমার স্বাধীনতা আরও কেড়ে নেব।❠
রিভান তাকে এক নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরল। এই আলিঙ্গনে কোনো পাশবিক লালসা ছিল না, ছিল এক ধরণের দমবন্ধ করা আসক্তি। দিলরুবা অনুভব করল, সে রিভানের এই মায়ার জালে আরও বেশি জড়িয়ে পড়ছে। রিভান তাকে মারছে না, কিন্তু সে তাকে তিলে তিলে এমনভাবে নিজের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে যে একদিন হয়তো দিলরুবা নিজেই তার কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
রিভান তার চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে সরাসরি চোখের দিকে তাকাল।
❝আজ রাতটা তুমি আমার পাশে থাকবে। কোনো শিকল নেই, কোনো তালা নেই। শুধু তুমি আর আমি। দেখি, তোমার মানুষের মন কতক্ষণ আমার এই অন্ধকারের সাহচর্য সহ্য করতে পারে।❠
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
ক্যাসেলের পাথুরে বারান্দায় গোধূলির আলো মিলিয়ে গিয়ে এখন নীলচে আঁধার নেমেছে। রিভান দিলরুবাকে আগলে ধরে সেই বিশাল জানালার সামনে নিয়ে গেল, যেখান থেকে পুরো মিস্টহ্যাভেন উপত্যকা দেখা যায়। উপত্যকাটি এখন কুয়াশায় ঢাকা, যেন এক মৃত স্বপ্ন। রিভানের হাত এখনো দিলরুবার কোমরে শক্ত করে জড়ানো—এমনভাবে যেন সে এক মুহূর্তের জন্যও তাকে নিজের দৃষ্টির আড়াল হতে দিতে চায় না।
❝এই নিস্তব্ধতা কি তোমার অসহ্য লাগছে, দিলরুবা?.?..❠
রিভান ফিসফিস করে বলল। তার ঠোঁট এখন দিলরুবার কানের লতি স্পর্শ করছে। রিভানের গলার স্বর এখন আর কোনো আদেশ নয়, বরং এক আদিম মন্ত্রের মতো।
❝বাইরের জগতটা এখন তোমার জন্য বিষাক্ত। কিন্তু এই ক্যাসেলের ভেতর সময় থমকে আছে... কেবল তোমার জন্য।❠
দিলরুবা নীল গোলাপের নির্যাসের প্রভাবে এখন কিছুটা শান্ত, কিন্তু তার ভেতরকার মানবিক সত্তা এখনো রিভানের এই অত্যধিক অধিকারবোধের কাছে হার মানতে নারাজ। সে রিভানের বলিষ্ঠ বাহুর বেষ্টনী থেকে নিজেকে সামান্য ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
❝সময় থমকে থাকা মানেই তো মৃত্যু, এ্যারোন। আমি বাঁচতে চাই, এই পাথুরে প্রাসাদের দেওয়ালগুলোর বাইরেও একটা জগত আছে।❠
দিলরুবা ম্লান গলায় বলল।
রিভান হঠাৎ দিলরুবাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ধরল। তার চোখের মনিতে সেই লাল আভা এখন এক ধরণের সম্মোহনী মায়ায় রূপান্তরিত হয়েছে। সে তার দীর্ঘ ফ্যাকাশে আঙুলগুলো দিলরুবার গালে বুলিয়ে দিল। রিভানের স্পর্শে এখন আর কোনো রুক্ষতা নেই, বরং এক ধরণের তীব্র 'অবসেসিভ' রুক্ষতা।
❝তোমার জন্য ওই জগত আর নেই। তোমার মা নেই, তোমার পরিচয় নেই। আছে কেবল আমি।❠
রিভান তার অন্য হাত দিয়ে দিলরুবার চুলের মুঠি আলতো করে ধরল, যাতে সে চোখ সরাতে না পারে।
❝আমি তোমাকে ঘৃণা করতে শিখিয়েছি যাতে তুমি বাইরের শত্রুর মোকাবিলা করতে পারো। কিন্তু এখন আমি চাই তুমি আমার এই অন্ধকারকে নিজের ঘর মনে করো। তুমি কি অনুভব করতে পারছ না? তোমার পিউর ব্লাড আমার সান্নিধ্যে কতটা শান্ত হয়ে আছে?❠
রিভান নিচু হয়ে দিলরুবার কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। সেই স্পর্শে এক ধরণের শীতল আরাম ছিল। সে দিলরুবাকে কোলে তুলে নিয়ে সেই বিশাল বারান্দার আরামকেদারায় গিয়ে বসল। দিলরুবাকে সে নিজের বুকের ওপর এমনভাবে শুইয়ে দিল যেন সে কোনো ছোট শিশু—যে কেবল তার কাছেই নিরাপদ।
❝আজ রাতে আমরা কোনো যুদ্ধ করব না,❠
রিভান তার বড় ডানাটা দিয়ে দিলরুবাকে ঢেকে দিল, যেন বাইরের ঠান্ডা বাতাস তাকে স্পর্শ করতে না পারে।
❝আজ রাতে আমি তোমাকে শোনাব এক অভিশপ্ত রাজপুত্রের গল্প, যে শতাব্দী ধরে এক মানবীর জন্য অপেক্ষা করছিল—যে মানবী তাকে ঘৃণা করবে ঠিকই, কিন্তু ছেড়ে যেতে পারবে না।❠
দিলরুবা রিভানের বুকের ওপর কান রাখল। সেখানে কোনো হৃদস্পন্দন নেই, কিন্তু এক ধরণের অদ্ভুত উষ্ণতা সে অনুভব করতে পারল। রিভান তার আঙুল দিয়ে দিলরুবার হাতে নিজের নখ দিয়ে আঁকা সেই পুরনো দাগগুলো মুছে দেওয়ার মতো করে মাসাজ করতে লাগল। রিভানের এই শান্ত অথচ প্রগাঢ় আসক্তি দিলরুবাকে এক ধরণের ঘোরের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। সে বুঝতে পারল, রিভানের হিংস্রতার চেয়ে তার এই 'মায়াবী নিয়ন্ত্রণ' অনেক বেশি বিপজ্জনক।
ঠিক তখন বনের গভীর থেকে এক করুণ চিৎকার ভেসে এল। রিভানের শরীর মুহূর্তের মধ্যে শক্ত হয়ে উঠল। তার চোখের মনিতে আবার সেই শিকারির দৃষ্টি ফিরে এল।
❝এড্রিয়ান?❠
দিলরুবা আঁতকে উঠে রিভানের শার্ট আঁকড়ে ধরল।
রিভান একটু হাসল, কিন্তু সেই হাসিতে কোনো দয়া ছিল না।
❝না, এড্রিয়ান নয়। সে এখন নিজের ক্ষত সারাতে ব্যস্ত। ওটা কেবল এক অবাধ্য আত্মা, যে আমার সীমানায় প্রবেশ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তুমি ভয় পেয়ো না... আমার ছায়া থাকতে তোমার কেশাগ্র স্পর্শ করার ক্ষমতা কারও নেই।❠
রিভান দিলরুবার চিবুকটা উঁচিয়ে ধরে তার ঠোঁটে এক নিবিড় কিন্তু দীর্ঘ চুম্বন আঁকল। এই চুম্বনে রক্তের স্বাদ ছিল না, ছিল কেবল এক অনন্তকালের মালিকানা দাবি করার জেদ। দিলরুবা অনুভব করল, সে রিভানের এই অদ্ভুত মায়ার জালে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে।
বারান্দার সেই নিস্তব্ধতা হঠাৎ এক ভারী কুয়াশায় ছেয়ে গেল। রিভানের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ দিলরুবা অনুভব করল, রিভানের শরীর এখন আর আগের মতো শীতল নয়; ওটা যেন এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, যা ফাটবার অপেক্ষায় থমকে আছে। রিভান তাকে নিজের বুক থেকে আলাদা করল না, বরং তার বাহু আরও শক্ত করে দিলরুবার পিঠের ওপর চেপে ধরল।
রিভানের তীক্ষ্ণ নজর বনের সেই কুয়াশাচ্ছন্ন পথের দিকে। সে জানত, মিস্টহ্যাভেনে তার অনুমতি ছাড়া বাতাসের পাতাও নড়ে না, অথচ আজ কেউ একজন তার সীমানা লঙ্ঘন করেছে। সে দিলরুবার কানের কাছে নিচু স্বরে বলল,
❝ভেতরে যাও, দিলরুবা। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখবে।❠
❝এ্যারোন, কী হয়েছে? ওই শব্দটা কিসের ছিল?❠
দিলরুবা উদ্বিগ্ন হয়ে রিভানের হাত আঁকড়ে ধরল। তার মানবিক মন এখনো বিপদের আঁচ পেতে ভয় পায়।
রিভান একটু হাসল—এক নিষ্ঠুর কিন্তু আশ্বস্ত করার মতো হাসি। সে দিলরুবার ঠোঁটে এক পলকের জন্য নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল।
❝কিছু না, কেবল একদল কীটপতঙ্গ পথ ভুলে ড্রাগনের গুহায় ঢুকে পড়েছে। আমি ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি আমার এই তলোয়ারটা কাছে রাখো।❠
সে তার কোমরে থাকা সেই কালো তলোয়ারটি দিলরুবার হাতে দিল। তলোয়ারটি দিলরুবার ছোঁয়ায় এক নীলচে আভা ছড়াতে লাগল। রিভান এক নিমেষে বারান্দা থেকে অন্ধকারের গভীরে মিলিয়ে গেল।
দিলরুবা ঘরে ফিরে এল, কিন্তু তার মন অস্থির। সে জানালার পাশ দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখল, ক্যাসেলের বিশাল লোহার গেটের সামনে কয়েকটা ছায়া নড়াচড়া করছে। তারা সাধারণ পিশাচ নয়। তাদের পরনে আধুনিক যুদ্ধের পোশাক, হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র যা থেকে এক ধরণের অতিবেগুনী রশ্মি বের হচ্ছে।
এড্রিয়ান হয়তো নিজে আসেনি, কিন্তু সে তার 'ভ্যাম্পায়ার হান্টার' বাহিনীকে পাঠিয়েছে।
হঠাৎ কক্ষের দরজাটা দড়াম করে খুলে গেল। দিলরুবা ভয়ে তলোয়ারটা উঁচিয়ে ধরল। কিন্তু দরজায় দাঁড়িয়ে আছে রিভান নয়, বরং সেই বিলিয়নেয়ার ভিক্টর ভন—যাকে সে শহরের ল্যাবে দেখেছিল। ভিক্টরের চোখে এখন আর সেই ভদ্রতা নেই, সেখানে এক আদিম লালসা আর ক্ষমতা দখলের নেশা।
❝ডক্টর আরিয়া, আপনি কি সত্যিই ভেবেছিলেন এই প্রাচীন পাথরের দালানে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারবেন?❠
ভিক্টর হাসল। তার হাত থেকে এক ধরণের রুপোলি জাল বের হচ্ছে।
❝রিভান আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। সে এখন নিচে এড্রিয়ানের পাঠানো বাহিনীর সাথে ব্যস্ত। আমি এখানে এসেছি আমার প্রাপ্যটা বুঝে নিতে—আপনার ওই পিউর ব্লাড।❠
ভিক্টর এক অলৌকিক গতিতে দিলরুবার দিকে এগিয়ে এল। দিলরুবা রিভানের দেওয়া তলোয়ারটি সজোরে চালাল। নীল বিদ্যুৎ আর রুপোলি জালের সংঘর্ষে পুরো ঘরে আগুন লেগে গেল। দিলরুবা বুঝতে পারল ভিক্টর সাধারণ মানুষ নয়; সে একজন 'রুগ' ভ্যাম্পায়ার, যে অনেকদিন ধরে রিভানের এই সাম্রাজ্যের দিকে নজর রাখছিল।
❝সরো আমার সামনে থেকে!❠
দিলরুবা চিৎকার করে উঠল। তার রাগে তার চোখের সেই লাল বিন্দুটি পুরো মণি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
ঠিক সেই মুহূর্তে রিভান আবার ঘরে ফিরে এল। তবে এবার সে একা নয়। তার সারা শরীর রক্তে মাখামাখি, কিন্তু সেই রক্ত তার নিজের নয়। তার হাত দুটো এখন দীর্ঘ নখে রূপান্তরিত হয়েছে। সে এক পলকে ভিক্টরের টুঁটি চেপে ধরল এবং তাকে দেয়ালের সাথে এমন জোরে আছড়ে মারল যে দেয়ালটি ধসে গেল।
❝আমার সম্পত্তিতে হাত দেওয়ার সাহস তোমার হলো কীভাবে, ভিক্টর?❠
রিভানের কণ্ঠস্বর এখন নরকের গর্জনের মতো।
সে ভিক্টরের দিকে তাকাল না, বরং দিলরুবার দিকে এক পলক দেখে নিল সে ঠিক আছে কি না। রিভানের এই 'প্রোটেক্টিভ' রূপ দিলরুবাকে একদিকে যেমন অভয় দিল, অন্যদিকে তার ভেতরে এক শিহরণ জাগিয়ে তুলল। রিভান ভিক্টরের একটা হাত মটকে দিল এবং তাকে ক্যাসেলের জানালা দিয়ে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিল।
রিভান দিলরুবার সামনে এসে দাঁড়াল। তার চোখে তখনো সেই খুনের নেশা। সে দিলরুবার হাত থেকে তলোয়ারটা নিয়ে নিল এবং তার রক্তাক্ত হাত দিয়ে দিলরুবার গাল স্পর্শ করল।
❝তুমি ভয় পেয়েছিলে?❠
সে ফিসফিস করে বলল। তার কণ্ঠস্বর এখন কাঁপছে—ভয়ে নয়, বরং দিলরুবাকে হারানোর এক তীব্র আশঙ্কায়। সে দিলরুবাকে সজোরে নিজের সাথে জাপটে ধরল।
❝আমি কাউকে তোমাকে ছুঁতে দেব না। এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও তুমি আমার ছায়ার নিচেই থাকবে।❠
রিভান দিলরুবাকে বিছানায় বসিয়ে দিল এবং নিজে তার পায়ের কাছে মেঝেতে বসল। সে দিলরুবার হাতে নিজের মাথা রাখল—এক বিশাল সম্রাট যেন তার একমাত্র দুর্বলতার কাছে নতি স্বীকার করছে। এই 'অবসেসিভ' ভালোবাসা দিলরুবাকে বুঝিয়ে দিল, সে রিভানের কাছে কেবল এক শিকার নয়, সে রিভানের অস্তিত্বের একমাত্র আলো।
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
—চলবে–?.?..
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥