᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 13
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
শহরের পেন্টহাউসের কাঁচের দেয়াল ছাপিয়ে বাইরের নিওন আলো যখন ড্রয়িংরুমে এসে পড়ছে, তখন দিলরুবা তার পুরনো স্টেথোস্কোপটা হাতে তুলে নিল। রিভান তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে—তার পরনে এখন দামী ব্ল্যাক টাক্সেডো, কিন্তু চোখের সেই প্রাচীন রাজকীয় হিংস্রতা আধুনিক পোশাকেও ঢাকা পড়েনি। সে একদৃষ্টিতে দিলরুবার প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করছে।
❝তুমি কি সত্যিই ওই সাদা অ্যাপ্রনটা আবার পরতে চাও?.?..❠
রিভানের কণ্ঠস্বর নিচু এবং বিষাক্ত। সে দিলরুবার ঘাড়ের ওপর দিয়ে ঝুঁকে এসে তার গলায় সেই স্টেথোস্কোপটা নিজের হাতে পরিয়ে দিল। তার শীতল আঙুলের স্পর্শ দিলরুবার চামড়ায় কাঁটা দিয়ে উঠল।
❝মানুষের ওই পচা ক্ষত আর কান্নাকাটির মাঝে তুমি কী পাও, যা আমি তোমাকে দিতে পারছি না?.?..❠
❝আমি একজন ডাক্তার, এ্যারোন। মানুষের সেবা করা আমার পরিচয়, কেবল তোমার শয্যাসঙ্গিনী হওয়া নয়।❠
দিলরুবা আয়নার দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে বলল। সে তার পুরনো হসপিটাল—'সিটি সেন্ট্রাল মেডিকেল'-এ ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রিভান হঠাৎ এক ঝটকায় দিলরুবাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ধরল। তার দুহাতে দিলরুবার বাহু এমনভাবে চেপে ধরল যে সেখানে আঙুলের ছাপ বসে গেল।
❝মনে রেখো, তুমি ওখানে যাচ্ছ কেবল আমার দয়ায়। হসপিটালের প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরা আমার নিয়ন্ত্রণে। যদি কোনো মানুষ তোমার হাত স্পর্শ করার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই হাত আর তার শরীরে থাকবে না।❠
দিলরুবা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে জানে রিভানের এই 'অবসেসিভ প্রোটেকশন' তাকে নিশ্বাস নিতে দিচ্ছে না, তবুও সে মানুষের ভিড়ে ফিরতে চায়।
পরদিন সকালে দিলরুবা যখন হসপিটালে ঢুকল, সে অনুভব করল বাতাসটা অনেক বেশি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকল না। সে লক্ষ্য করল হসপিটালের গেটে দুজন বডিগার্ড দাঁড়িয়ে আছে যারা সাধারণ মানুষ নয়—তাদের চোখ রিভানের মতো রক্তিম না হলেও তারা রিভানের সেই গোপন বাহিনীর অংশ।
পেশেন্ট দেখার মাঝখানে হঠাৎ দিলরুবার কেবিনে ঢুকলেন একজন নতুন সার্জন—ডক্টর আরিয়ান মালিক। সে দেখতে অত্যন্ত সুদর্শন এবং তার ব্যক্তিত্বে এক ধরণের উজ্জ্বলতা আছে যা দিলরুবাকে অনেকদিন পর হাসতে বাধ্য করল।
❝ডক্টর দিলরুবা? আমি আরিয়ান। আপনার রিসার্চ পেপারগুলো আমি পড়েছি, আপনি সত্যিই একজন জিনিয়াস।❠
আরিয়ান হাত বাড়িয়ে দিল হ্যান্ডশেক করার জন্য।
দিলরুবা ইতস্তত করে হাতটা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখনই সে অনুভব করল তার হাতের সেই হীরের ব্রেসলেটটা (যা রিভান পরিয়ে দিয়েছিল) প্রচণ্ড গরম হয়ে উঠেছে। এটি রিভানের সতর্কবার্তা। দিলরুবা জানত, রিভান হয়তো এখন তার পেন্টহাউসে বসে কোনো স্ক্রিনে এই দৃশ্যটা দেখছে এবং তার রাগে হয়তো কাস্টিং টেবিলটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
দিলরুবা হাতটা সরিয়ে নিল।
❝ধন্যবাদ ডক্টর আরিয়ান। আমরা রাউন্ডে যাওয়ার সময় বিস্তারিত কথা বলব।❠
সেদিন লাঞ্চ ব্রেকে দিলরুবা যখন হসপিটালের ছাদে একটু একা সময় কাটাতে গেল, হঠাৎ এক দমকা হাওয়া বইল। সেই পরিচিত চন্দন আর বরফের ঘ্রাণ। রিভান সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখের লাল আভা এখন সূর্যের আলোকেও হার মানাচ্ছে। সে এক পলকে দিলরুবার সামনে এসে তার টুঁটি চেপে ধরল, কিন্তু তাতে আঘাত করার বদলে ছিল এক চরম কামাতুর দখলদারি।
❝ওই মানুষটা কে?❠
রিভান দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করল। তার এক হাত এখন দিলরুবার কোমরের নিচে, যা তাকে নিজের শরীরের সাথে পিষে ধরছে।
❝সে তোমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল কেন? আমি কি তোমাকে বলিনি যে তোমার এই হাসি কেবল আমার জন্য সংরক্ষিত?.?..❠
❝ও কেবল একজন সহকর্মী, এ্যারোন! তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছ!..❠
দিলরুবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল।
রিভান দিলরুবাকে ছাদের দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। সে তার ঠোঁট দিলরুবার কানের কাছে নিয়ে এল।
❝হ্যাঁ, আমি পাগল। তোমার এই পিউর ব্লাড আর এই শরীর আমাকে পাগল করে দিয়েছে। যদি ওই ডক্টর আরিয়ান তোমাকে আবার ছোঁয়ার চেষ্টা করে, তবে আমি তার হৃদপিণ্ডটা ছিঁড়ে তোমার সামনে এনে রাখব।❠
রিভান দিলরুবার সাদা অ্যাপ্রনটা এক টানে খুলে ফেলল। হসপিটালের ছাদের সেই খোলা আকাশের নিচেই সে দিলরুবাকে এক উন্মত্ত চুম্বনে গ্রাস করল। এটি প্রেম নয়, এটি ছিল তার আধিপত্যের ঘোষণা। রিভান বুঝিয়ে দিল যে হসপিটালের করিডোরেও দিলরুবা নিরাপদ নয়—সে যেখানেই যাক, রিভানের এই 'ডার্ক অবসেসন' তাকে ছায়ার মতো তাড়া করে বেড়াবে।
হসপিটালের সেই ঘটনার পর পেন্টহাউসে ফিরে আসাটা ছিল এক বিভীষিকা। রিভানের ভেতরের সেই প্রাচীন দানবটা এখন ঈর্ষায় জ্বলছে। সে ভাবতেও পারছে না যে অন্য কোনো পুরুষের কণ্ঠস্বর দিলরুবার কানে মধু ঢালছে। পেন্টহাউসের বিশাল হলরুমে রিভান যখন দিলরুবাকে তার বাহুবন্ধনে নিতে চাইল, দিলরুবা এক ঝটকায় নিজেকে সরিয়ে নিল।
রিভানের হাত শূন্যে থমকে গেল। তার চোখে যেন রক্ত নেমে এসেছে। সে ধীরপায়ে দিলরুবার দিকে এগিয়ে এল, তার প্রতিটি পদক্ষেপ মেঝের মার্বেলে আগুনের মতো বিঁধছে।
❝তুমি আমাকে স্পর্শ করতে বাধা দিচ্ছ?❠
রিভানের কণ্ঠস্বর এখন নিচু গর্জনের মতো।
❝ওই তুচ্ছ মানুষের হাসির জন্য তুমি আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছো?❠
❝না এ্যারোন, আমি তোমাকে বাধা দিচ্ছি কারণ আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।❠
দিলরুবা তার গলার সেই স্টেথোস্কোপটা সরিয়ে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
❝তুমি আমাকে দখল করেছ, আমাকে বন্দি করেছ—কিন্তু তুমি আমার স্বামী নও। আমাদের কোনো সামাজিক বা পবিত্র বন্ধন নেই। তাই বিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি আর আমার কাছে আসতে পারবে না।❠
রিভান হো হো করে হেসে উঠল—সে হাসি ছিল শয়তানের হাসির মতো নিষ্ঠুর। সে এক ঝটকায় একটা দামী কাঁচের টেবিল উল্টে দিল।
❝সামাজিক বন্ধন? পবিত্রতা? আমি এক ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স, দিল! শতাব্দীর পর শতাব্দী আমি যা চেয়েছি, তা নিজের করে নিয়েছি। তোমার এই ঠুনকো মানবিক নিয়ম আমার ওপর প্রয়োগ করার দুঃসাহস দেখিয়ো না!❠
সে দিলরুবার চুল মুচড়ে ধরে তার মুখের খুব কাছে নিয়ে এল।
❝আমি এখনই তোমাকে আমার করে নিতে পারি। তুমি জানো আমার শক্তি কতটা।❠
❝তবে তাই করো!❠
দিলরুবা নির্ভীক চোখে তাকিয়ে বলল।
❝একজন ধর্ষক হিসেবে আমাকে দখল করো। কিন্তু জেনো, সেদিন থেকে ডক্টর দিলরুবা হানিফ তোমার জন্য চিরতরে মৃত হয়ে যাবে। তুমি পাবে কেবল একটা প্রাণহীন দেহ।❠
রিভান স্তব্ধ হয়ে গেল। তার হাত কাঁপছে। সে দিলরুবাকে পাগলের মতো ভালোবাসে, আর সেই ভালোবাসার সাথে মিশে আছে এক ভয়ংকর আসক্তি। সে তাকে হারাতে পারবে না। সে দিলরুবাকে ছেড়ে দিয়ে দেওয়ালে এক প্রচণ্ড ঘুষি মারল, যার ফলে দেওয়ালটা ফেটে চৌচির হয়ে গেল।
❝বিয়ে?❠
রিভান ফিসফিস করে বলল, তার পিঠ দিলরুবার দিকে।
❝তুমি বিয়ে চাও? ঠিক আছে। আমি তোমাকে এমন এক বিয়ে দেব যা এই পৃথিবী এর আগে কোনোদিন দেখেনি। না কোনো চার্চে, না কোনো মসজিদে—তোমার বিয়ে হবে ভ্যাম্পায়ারদের সেই প্রাচীন 'ব্লাড-বন্ড' রীতিতে, যেখানে সাক্ষী থাকবে স্বয়ং মৃত্যু।❠
রিভান ফিরে তাকিয়ে দিলরুবাকে দেখল। তার চোখে এখন আসক্তির সাথে মিশেছে এক ধরণের জেদ।
❝প্রস্তুত হও দিলরুবা হানিফ। তিন রাত পর পূর্ণিমা। সেদিন রাতে এই শহরের প্রতিটি মানুষ জানবে তুমি কার। আমি তোমাকে এমন এক শৃঙ্খলে বাঁধব, যা থেকে মৃত্যুও তোমাকে মুক্তি দিতে পারবে না। ওই ডক্টর আরিয়ান কিংবা এড্রিয়ান—কেউ তোমার ওপর ছায়াও ফেলতে পারবে না।❠
রিভান ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, কিন্তু তার আগে সে দিলরুবার ঘরে এক হাজার লাল গোলাপ পাঠিয়ে দিল, যার প্রতিটি পাপড়িতে রিভানের নিজের রক্ত মাখানো ছিল। সে তার হবু স্ত্রীকে এভাবেই বরণ করে নিতে চাইল—এক ভয়ংকর এবং অন্ধকার ভালোবাসার মাধ্যমে।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
শহরের সেই পেন্টহাউসের নিস্তব্ধতা ভেঙে রিভানের অট্টহাসি যেন এক অশুভ সংকেত দিয়ে গেল। দিলরুবার শর্ত রিভানকে ক্ষিপ্ত করলেও তার ভেতরের আদিম পুরুষটি এক ধরণের চ্যালেঞ্জ খুঁজে পেল। সে বুঝতে পারল, এই 'পিউর ব্লাড' মানবীকে কেবল শরীর দিয়ে নয়, এক অলঙ্ঘনীয় আত্মিক শৃঙ্খলে বাঁধতে হবে।
তিন দিন ধরে পুরো মেগাসিটি এক অদ্ভুত থমথমে কুয়াশায় ঢাকা পড়ে রইল। রিভান তার সমস্ত শক্তি আর সম্পদ দিয়ে এই বিয়ের আয়োজন করেছে। এটি কোনো সাধারণ উৎসব নয়; এটি হলো 'ব্লাড অ্যান্ড ভেলভেট'—যেখানে মানুষের পবিত্রতা আর ভ্যাম্পায়ারের অন্ধকার এক বিন্দুতে এসে মিলবে।
বিয়ের মহিমান্বিত আয়োজন ও স্থান হিসেবে বাছাই করা হয়েছে শহরের উপকণ্ঠে পাহাড়ের ওপর একটি পরিত্যক্ত গথিক ক্যাথিড্রাল। রিভানের আদেশে রাতারাতি সেই গির্জার ভেতরটা বদলে ফেলা হয়েছে। হাজার হাজার কালো এবং লাল মোমবাতি জ্বলছে, যাদের সুগন্ধে মিশে আছে কস্তুরী আর প্রাচীন চন্দন। গির্জার ক্রুশগুলো সরিয়ে সেখানে রিভানের পারিবারিক সিলমোহর—একটি ডানাওয়ালা মানব ছায়া আর তরবারির চিহ্ন খোদাই করা হয়েছে।
দিলরুবাকে সাজানোর জন্য রিভান প্যারিস থেকে সেরা ডিজাইনারদের আনেনি, বরং তার ক্যাসেল থেকে নিয়ে এসেছে প্রাচীন পরিচারিকাদের, যারা আসলে ছায়াশরীরী ডাইনি। তারা দিলরুবাকে এক বিশেষ গাউন পরিয়ে দিল।
এটি ছিল তুষারশুভ্র রেশমের ওপর রক্তবর্ণের সূক্ষ্ম কারুকাজ করা। এর ওড়না বা ঘোমটাটি ছিল প্রায় দশ ফুট লম্বা, যা মেঝেতে থাকা রক্তবর্ণ গোলাপের পাপড়িগুলোকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
রিভান তাকে পরিয়ে দিল তার পূর্বপুরুষদের 'হার্ট অফ দ্য ভ্যাম্পায়ার' নামক একটি রুবি লকেট। এটি পরার সাথে সাথে দিলরুবা অনুভব করল তার রক্ত যেন আরও দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছে।
বিয়ের রাত। পূর্ণিমার চাঁদ আজ অস্বাভাবিক লাল। দিলরুবাকে যখন গির্জার ভেতরে নিয়ে আসা হলো, সে দেখল দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে রিভানের 'শ্যাডো গার্ডস'। তাদের সবার হাতে রূপোর মশাল।
বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিভান। তার পরনে কালো ভেলভেটের শেরওয়ানি ধাঁচের একটি পোশাক, যার কলারগুলো সোনার সুতোয় কাজ করা। তার চোখের সেই লাল আভা আজ যেন আরও প্রগাঢ়। রিভানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত অবয়ব—যিনি এই বিয়ের পাদ্রী। তিনি একজন 'জীন-হিউম্যান হাইব্রিড', যিনি আরবী এবং হিব্রু ভাষায় নিকাহর মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারেন।
রিভান দিলরুবার হাত ধরল। তার স্পর্শ আজ আগুনের মতো গরম। পাদ্রী মন্ত্র শুরু করলেন।
❝হে আধিপত্যের মালিক, আজ এক নশ্বরের সাথে এক অমরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। এই বন্ধন রক্তের, এই বন্ধন প্রাণের।❠
পাদ্রী দিলরুবাকে প্রশ্ন করলেন,
❝ডক্টর দিলরুবা হানিফ, আপনি কি এই ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স রিভান ক্রিমসনকে আপনার চিরকালীন স্বামী হিসেবে কবুল করছেন?.?..❠
দিলরুবা রিভানের চোখের দিকে তাকাল। সেখানে কোনো দয়া নেই, আছে এক সর্বগ্রাসী আসক্তি। সে জানত, এখান থেকে ফেরার পথ নেই।
❝কবুল করলাম।❠
সে ক্ষীণ স্বরে বলল।
রিভানের পালা আসতেই সে বলল,
❝আমি কেবল কবুল করছি না, আমি এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি—দিলরুবা হানিফ আজ থেকে আমার আত্মার অর্ধাংশ। মৃত্যুও আমাদের আলাদা করতে পারবে না।❠
বিয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে কোনো আংটি বদল হলো না। রিভান একটি স্বর্ণখচিত ছুরি দিয়ে তার নিজের হাতের তালু সামান্য চিরে ফেলল। সেই কালচে রক্ত সে দিলরুবার হাতের আঙ্গুলে লেপ্টে দিল।
❝এটি আমার রাজকীয় সিলমোহর। আজ থেকে তোমার শিরায় আমার নাম খোদাই করা রইল।❠
এরপর রিভান দিলরুবার কবজিতে মেহেন্দির মতো করে নিজের রক্ত দিয়ে একটি বিশেষ চিহ্ন এঁকে দিল। সেই রক্ত দিলরুবার চামড়া শোষণ করে নিল, আর সাথে সাথে দিলরুবা অনুভব করল এক অমানুষিক শিহরণ। তার কানে রিভানের কণ্ঠস্বর যেন প্রতিটি রক্তবিন্দুর সাথে অনুরণিত হতে লাগল।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হতেই রিভান এক ঝটকায় দিলরুবাকে কোলে তুলে নিল। সে তাকে নিয়ে চলল গির্জার ওপরের সেই বিশেষ কক্ষে, যেখান থেকে আকাশের লাল চাঁদ দেখা যায়।
রিভান দিলরুবাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে তার ওপর ঝুঁকে পড়ল। সে তার দাঁতগুলো বের করে দিলরুবার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
❝এবার কি আমি তোমাকে স্পর্শ করতে পারি, আমার দিল!.!... আজ থেকে তুমি আইনত এবং আত্মিকভাবে আমার। এখন থেকে তোমার প্রতিটি নিশ্বাসের হিসাব আমি নেব।❠
রিভান দিলরুবার ঘাড়ের সেই রক্তিম লকেটটি সরিয়ে সেখানে নিজের দাঁত দিয়ে আলতো করে চাপ দিল। তবে এবার আর কোনো যন্ত্রণা নয়, ছিল এক অসহ্য সুন্দর মাদকতা। সে দিলরুবার ঠোঁটে এমন এক গভীর চুম্বন দিল যা তাদের দুই জগতের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিল।
❝তুমি আমার স্বাধীনতা কেড়ে নিলে এ্যারোন।❠
দিলরুবা কাঁদতে কাঁদতে হাসল।
❝স্বাধীনতা তুচ্ছ, আমার দিল। আমি তোমাকে আমার রাজত্ব দিলাম। আজ থেকে এই শহর তোমার পায়ের নিচে, আর তুমি আমার বুকের ভেতর বন্দি।❠
রিভান তার শার্ট খুলে ফেলে দিলরুবাকে এক নিবিড় আর তীব্র আলিঙ্গনে আবদ্ধ করল।
সেই রাতে চাঁদ সাক্ষী ছিল এক অলৌকিক বিয়ের—যেখানে এক ডাক্তার তার খুনিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিল, আর এক পিশাচ খুঁজে পেল তার আত্মার একমাত্র মুক্তি।
ক্যাথিড্রালের সেই প্রাচীন কক্ষটি এখন নীল মোমবাতির আলো আর চন্দনের গন্ধে মাতাল হয়ে আছে। বাইরে লাল চাঁদটা মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়লেও ঘরে রিভানের চোখের রক্তিম আভা পুরো পরিবেশকে এক আদিম উত্তেজনায় ভরিয়ে দিয়েছে। রিভান দিলরুবাকে সেই বিশাল রাজকীয় শয্যায় শুইয়ে দিয়ে তার ওপর ঝুঁকে পড়ল। আজ আর কোনো বাধা নেই, কোনো সামাজিক শৃঙ্খল নেই—দিলরুবা এখন আইনত এবং আত্মিকভাবে রিভানের অর্ধাঙ্গিনী।
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
–চলবে—?.?...
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥